বিষয়বস্তুতে চলুন

অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
আমাদের কেবল তথ্যের ওপরই আস্থা রাখতে হবে...

অঁতোয়ান-লোঁরা দ্য লাভোয়াজিয়ে (২৬ আগস্ট ১৭৪৩ – ৮ মে ১৭৯৪) ছিলেন একজন ফরাসি বুদ্ধিজীবী ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি, যাকে আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়।


উদ্ধৃতিসমূহ

[সম্পাদনা]
  • অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর শিল্পের মূল ভিত্তি হলো সম্ভাব্যতা যাচাই করা। অর্থাৎ কোনো ঘটনা প্রমাণের পর্যায়ে পড়ে কিনা তা নিরূপণ করা। এই ধরনের হিসাব-নিকাশ যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও কঠিন। এর জন্য এমন প্রজ্ঞা বা তীক্ষ্ণ বুদ্ধির প্রয়োজন, যা সাধারণত সাধারণ মানুষের ক্ষমতার ঊর্ধ্বে। হাতুড়ে চিকিৎসক, জাদুকর, আলকেমিস্ট এবং যারা জনগণের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রতারণা করে, তাদের সাফল্যের মূল কারণ হলো মানুষের এই হিসাব-নিকাশে ভুল করা।
    • অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে এবং বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, রাপোর দে কমিজের শার্জে পার ল্য রোয়া দ্য লেকজামেন দ্যু মানিয়েটিজম আনিমাল (ইম্প্রিমারি রয়্যাল, ১৭৮৪), অনুবাদ: স্টিফেন জে গুল্ড, "দ্য চেইন অফ রিজন ভার্সাস দ্য চেইন অফ থাম্বস", বুলি ফর ব্রন্টোসরাস (ডব্লিউ. ডব্লিউ. নর্টন, ১৯৯১), পৃষ্ঠা ১৯৫
  • দেখুন, আপনার ইউরোপ ত্যাগের পর থেকে মানব জ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে (বিজ্ঞান ও রসায়নের ক্ষেত্রে) বিপ্লব ঘটে গেছে। আপনি যদি আমাদের দলে যোগ দেন, তবে আমি এই বিপ্লবকে অগ্রসর এবং সম্পূর্ণ সফল বলে গণ্য করব। রসায়নে কী ঘটছে তা আপনাকে জানানোর পর এবার আমাদের রাজনৈতিক বিপ্লব নিয়ে কথা বলা ভালো। আমরা মনে করি এটি সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
    • বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের কাছে লেখা চিঠি (২ ফেব্রুয়ারি, ১৭৯০), উদ্ধৃত: আই বার্নার্ড কোহেন, "রেভোলিউশন ইন সায়েন্স" (১৯৮৫)

এলিমেন্টস অব কেমিস্ট্রি (১৭৯০)

[সম্পাদনা]
  • আমি যখন এই কাজটি শুরু করি, আমার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ১৭৮৭ সালের এপ্রিল মাসে একাডেমি অব সায়েন্সেসের সাধারণ সভায় রসায়নের নামকরণ পদ্ধতির সংস্কার ও পরিপূরণ নিয়ে পড়া আমার স্মারকপত্রটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা। এই কাজে ব্যস্ত থাকার সময় আমি আবের দে কোঁদিয়াকের 'সিস্টেম অব লজিক' এবং তার অন্যান্য কাজের কিছু মূলনীতির যথার্থতা আগে যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালোভাবে উপলব্ধি করেছি। "আমরা কেবল শব্দের মাধ্যমেই চিন্তা করি। ভাষা হলো প্রকৃত বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি। বীজগণিত প্রতিটি অভিব্যক্তির জন্য সবচেয়ে সহজ, সঠিক এবং উত্তম উপায়ে কাজ করে। এটি একই সাথে একটি ভাষা এবং একটি বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি। যুক্তির শিল্প হলো সুবিন্যস্ত ভাষার চেয়ে বেশি কিছু নয়।"
    • পৃ. xiii
  • আমি ভেবেছিলাম কেবল একটি নামকরণ পদ্ধতি তৈরি করছি এবং রসায়নের ভাষাকে উন্নত করা ছাড়া অন্য কোনো লক্ষ্য আমার ছিল না। কিন্তু আমার অজান্তেই কাজটি ধীরে ধীরে রসায়নের মৌলিক বিষয়বস্তুর ওপর একটি গ্রন্থে রূপান্তরিত হয়ে গেল।
    • পৃ. xiv
  • জ্যামিতি এবং জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় এটি সর্বজনস্বীকৃত নীতি যে, অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে আমাদের জানা ঘটনা থেকে অজানার দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত। এভাবেই সংবেদন, পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণের ধারায় ধারণার এক ধারাবাহিক শিকল তৈরি হয়। এগুলো একে অপরের সাথে এমনভাবে যুক্ত যে, একজন মনোযোগী পর্যবেক্ষক মানব জ্ঞানের সমগ্র শৃঙ্খলার ক্রম এবং সংযোগ খুঁজে বের করতে পারেন।
    • পৃ. xv-xvi
  • আমাদের শুধুমাত্র তথ্যের ওপরই নির্ভর করতে হবে। প্রকৃতি আমাদের সামনে এগুলো উপস্থাপন করে এবং এগুলো আমাদের বিভ্রান্ত করতে পারে না। আমাদের উচিত প্রতিটি ক্ষেত্রে যুক্তিকে পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা এবং পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের প্রাকৃতিক পথ ছাড়া সত্যের অনুসন্ধান না করা।
    • পৃ. xviii
  • আমরা একটি অকাট্য নীতি হিসেবে ধরে নিতে পারি যে, শিল্প ও প্রকৃতির সকল ক্রিয়াকলাপে নতুন করে কিছুই সৃষ্টি হয় না। পরীক্ষার আগে এবং পরে পদার্থের পরিমাণ সমান থাকে। মৌলগুলোর গুণগত এবং পরিমাণগত মান অপরিবর্তিত থাকে এবং এই মৌলগুলোর বিন্যাসের পরিবর্তন ছাড়া আর কিছুই ঘটে না। এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই রাসায়নিক পরীক্ষার পুরো পদ্ধতি নির্ভর করে। পরীক্ষিত বস্তুর মৌল এবং বিশ্লেষণের ফলে প্রাপ্ত উপাদানের মধ্যে আমাদের সর্বদা একটি সঠিক সমতা ধরে নিতে হবে।
    • পৃ. ২২৬

লাভোয়াজিয়ের সম্পর্কে

[সম্পাদনা]
  • জন মেও, রবার্ট বয়েলের মতোই মনে করতেন যে বাতাস ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দিয়ে গঠিত। তিনি এটিকে দুই ভাগে ভাগ করেছিলেন। একটি হলো 'স্পিরিটাস ইগনো-এরিয়াস', যা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় এবং অন্যটি হলো এমন যা শ্বাসপ্রশ্বাস বা দহনে সহায়তা করতে অক্ষম। যেহেতু পটাসিয়াম নাইট্রেট এবং সালফারের মিশ্রণ জলের নিচেও জ্বলতে থাকে, তিনি ধরে নিয়েছিলেন যে তাঁর এই 'ইগনো-এরিয়াল' কণাগুলো লবণের মধ্যেও বিদ্যমান। এমনকি অ্যাসিডের মধ্যেও এই নতুন নীতিটি ছিল। ...১৬৭৯ সালে মাত্র চৌত্রিশ বছর বয়সে মেও মারা যান। যদি তিনি আর কিছুদিন বেঁচে থাকতেন, তবে নিঃসন্দেহে তিনি লাভোয়াজিয়েরের বৈপ্লবিক কাজের পথ প্রশস্ত করতেন এবং ফ্লোজিস্টন তত্ত্বকে তার জন্মের সময়ই নস্যাৎ করে দিতেন। তবুও তাঁর কাজ যদিও তৎকালীন সময়ের অন্যতম উজ্জ্বল এবং বিশ্বাসযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা হিসেবে স্বীকৃত ছিল। তা দ্রুত বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায় এবং আমাদের আধুনিক রাসায়নিক ব্যবস্থার বিবর্তনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
    • ফ্রান্সিস পল আর্মিটেজ, আ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি (১৯০৬) পৃষ্ঠা ২৩
  • যদিও লাভোয়াজিয়ের সাধারণত এই নীতিটির ভরের নিত্যতা সূত্র প্রবক্তা হিসেবে কৃতিত্ব পান। তবুও তাঁর আগেই অনেকে এটি কল্পনা করেছিলেন। সপ্তদশ শতাব্দীর রসায়নবিদরা বিশেষত হেলমন্ট, স্টার্কি এবং বয়েল, কোনো পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়ার আগে ও পরে পদার্থ ওজন এবং পরিমাপ করার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে শুরু করেছিলেন। যদিও তাঁদের পরিমাপের পদ্ধতি এবং যন্ত্রগুলো ততটা নির্ভুল ছিল না। ১৬২৩ সালে ফ্রান্সিস বেকন বলেছিলেন, "..যখন তারা দেখে যে কোনো বস্তু, যা আগে ইন্দ্রিয়গোচর ছিল, তা অদৃশ্য হয়ে গেছে। তখন তারা সেই হিসাব নিষ্পত্তি করবে না যতক্ষণ না তাদের দেখানো হয় যে বস্তুটি কোথায় গেছে এবং কীসে রূপান্তরিত হয়েছে।" এমনকি ৪৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দেও অ্যানাক্সাগোরাস যুক্তি দিয়েছিলেন, "গ্রিকরা ভুল করে মনে করে যে কোনো কিছু সৃষ্টি হয় বা ধ্বংস হয়। কারণ কিছুই নতুন করে তৈরি হয় না বা বিলুপ্ত হয় না। বরং সবকিছুই পূর্বের বিদ্যমান বস্তুগুলোর একত্রীকরণ বা বিয়োজন মাত্র।"
    • ম্যাডিসন স্মার্ট বেল,[১]লাভোয়াজিয়ের ইন দ্য ইয়ার ওয়ান: দ্য বার্থ অফ আ নিউ সায়েন্স ইন অ্যান এজ অফ রেভল্যুশন (২০০৫)
  • লাভোয়াজিয়েরের রসায়নের অন্যতম মৌলিক নীতি ছিল সংখ্যার ব্যবহার। বিশেষত যা আমরা আজ ভরের নিত্যতা সূত্র বলে থাকি... এই নীতিটি নির্দেশ করে যে পরীক্ষককে কেবল বিক্রিয়াকারী কঠিন এবং তরল পদার্থের হিসাব রাখলেই চলবে না বরং সমস্ত গ্যাসীয় পণ্য অর্থাৎ সমস্ত উৎপাদের হিসাবও রাখতে হবে। ...এই নিয়মটিই পরিমাণগত পরীক্ষার দিকে চালিত করে। লাভোয়াজিয়েরই প্রথম ব্যক্তি নন যিনি রসায়নে সংখ্যার ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু তিনি রসায়নের ভিত্তি হিসেবে এই গাণিতিক পরিমাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ ছিলেন। ...লাভোয়াজিয়ের যখন প্রথম এই সূত্রটি ঘোষণা করেন, তখন রসায়নবিদরা সাধারণত 'ফ্লোজিস্টন' তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন। যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় (যেমন দহন) অংশ নেয় কিন্তু যার কোনো ওজন নেই। সুতরাং, ওজনের ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে রসায়নের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং এটি দাবি করা যে রসায়নের ওজনহীন কোনো 'পদার্থ' নিয়ে কারবার নেই, তা ছিল এক আমূল পদক্ষেপ... এটি সত্যিই এক রাসায়নিক বিপ্লব ছিল।
    • আই. বার্নার্ড কোহেন, দ্য ট্রায়াম্ফ অফ নাম্বারস: হাউ কাউন্টিং শেপড মডার্ন লাইফ (২০০৫)
  • ১৭৭৪ সালে তিনি জোসেফ প্রিস্টলি মনে করেছিলেন যে তিনি নাইট্রাস অক্সাইড পেয়েছেন... ১৭৭৫ সালে তিনি গ্যাসটিকে ডি-ফ্লোজিস্টোনেটেড বাতাস হিসেবে দেখেন... যদি আমরা প্রিস্টলিকে সেই কৃতিত্ব না দেই, তবে আমরা লাভোয়াজিয়েরকেও ১৭৭৫ সালের কাজের জন্য তা দিতে পারি না... লাভোয়াজিয়ের জোর দিয়ে বলেছিলেন যে অক্সিজেন হলো অম্লত্বের এক পারমাণবিক 'মূলনীতি'... যা কেবল তখনই গঠিত হয় যখন সেই 'মূলনীতি' ক্যালরিকের সাথে যুক্ত হয়... কার্ল উইলহেম শেলেকে উপেক্ষা করলে, আমরা নিরাপদে বলতে পারি যে ১৭৭৪ সালের আগে অক্সিজেন আবিষ্কৃত হয়নি এবং আমরা সম্ভবত বলব যে এটি ১৭৭৭ সালের মধ্যে বা তারপরে আবিষ্কৃত হয়েছিল। কিন্তু... আবিষ্কারের তারিখ নির্ধারণের যেকোনো চেষ্টাই অনিচ্ছাকৃতভাবে স্বেচ্ছাচারী হতে বাধ্য। কারণ নতুন ধরনের কোনো ঘটনা আবিষ্কার করা অপরিহার্যভাবে একটি জটিল বিষয়, যার মধ্যে এটি স্বীকার করা অন্তর্ভুক্ত যে কিছু একটা আছে এবং সেটি কী।
    • থমাস স্যামুয়েল কুন, দ্য স্ট্রাকচার অফ সায়েন্টিফিক রেভল্যুশনস (১৯৬২)
  • আমরা লাভোয়াজিয়েরের প্রাথমিক পদক্ষেপটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে বাধ্য। যাঁকে জোহানেস কেপলারকে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক বলার চেয়েও বেশি যথার্থভাবে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়। রসায়নের ইতিহাসে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লাভোয়াজিয়েরের দাবি বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে: ...তাঁর সময় থেকে এবং তাঁর কঠোর পরিশ্রমের কারণে, পরিমাণগত পদ্ধতিটি রাসায়নিক তথ্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই পদ্ধতির নীতি হলো সমস্ত পরিবর্তন ও বিক্রিয়ায়, বিভিন্ন উপাদানের মোট ওজন তা মৌলিক পদার্থ হোক বা যৌগিক অপরিবর্তিত থাকে। রসায়ন বিজ্ঞান এভাবে একটি সঠিক গাণিতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই পদ্ধতির মাধ্যমে লাভোয়াজিয়ের, তাঁর নিজের এবং পূর্বসূরিদের বিশেষত প্রিস্টলি, ক্যাভেন্ডিশ এবং ব্ল্যাকের ফলাফলগুলো ব্যবহার ও বিশ্লেষণ করে দহনের পুরনো তত্ত্ব, তথাকথিত 'ফ্লোজিস্টন' তত্ত্ব ধ্বংস করতে সফল হয়েছিলেন।
    • জন থিওডোর মার্জ, আ হিস্ট্রি অফ ইউরোপিয়ান থট ইন দ্য নাইনটিনথ সেঞ্চুরি Vol.1(১৯০৩)
  • পদার্থবিজ্ঞানী লাভোয়াজিয়ের কর্তৃক ব্ল্যাকের পদ্ধতির সম্প্রসারণ ফ্লোজিস্টনের বিশুদ্ধ গুণগত তত্ত্বের পতন ঘটায় এবং রসায়নকে অনুসন্ধানের প্রকৃত পদ্ধতি ও তার প্রথম মহান পরিমাণগত আইন ভরের নিত্যতা সূত্র প্রদান করে।
    • জে. আর. পার্টিংটন, হায়ার ম্যাথমেটিক্স ফর কেমিক্যাল স্টুডেন্টস (১৯১১)
  • ভরের নিত্যতা সূত্রটি অষ্টাদশ শতাব্দীর আশির দশকে লাভোয়াজিয়ের কর্তৃক প্রথম নির্দিষ্ট আকারে প্রকাশ পায়। ফলের রসের গাঁজন প্রক্রিয়ার কথা বিবেচনা করে, যেখানে কার্বনিক অ্যাসিড গ্যাস এবং অ্যালকোহল উৎপন্ন হয়। লাভোয়াজিয়ের বলেছিলেন: "আমাদের অবশ্যই গাঁজনযোগ্য পদার্থগুলোর বিশ্লেষণ এবং প্রকৃতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ শিল্পের কাজে বা প্রকৃতির কাজে কিছুই সৃষ্টি হয় না এবং এটি একটি নীতি হিসেবে নির্ধারণ করা যেতে পারে যে প্রতিটি অপারেশনে অপারেশনের আগে ও পরে পদার্থের পরিমাণ সমান থাকে। ...কিছু পরিবর্তন এবং রূপান্তর ছাড়া কিছুই নেই। রসায়নে পরীক্ষা করার পুরো শিল্প এই নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সব পরীক্ষায় পরীক্ষককে পরীক্ষিত পদার্থের উপাদান এবং এই পদার্থগুলোর বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপাদানগুলোর মধ্যে একটি বাস্তব সমতা ধরে নিতে হয়। সুতরাং, যেহেতু আঙুরের রস থেকে কার্বনিক অ্যাসিড গ্যাস এবং অ্যালকোহল পাওয়া যায়, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে আঙুরের রস = কার্বনিক অ্যাসিড গ্যাস + অ্যালকোহল।"
    • ম্যাথু মনক্রিফ প্যাটিসন মুইর, দ্য এলিমেন্টস অফ কেমিস্ট্রি (১৯০৪)

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

কেমিক্যাল অ্যাচিভার্স-এ জীবনবৃত্তান্ত