বিষয়বস্তুতে চলুন

অজিতকুমার গুহ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

অজিতকুমার গুহ (১৫ই এপ্রিল, ১৯১৪-১২ই নভেম্বর, ১৯৬৯) একজন বাঙালি শিক্ষাবিদ, লেখক ও বুদ্ধিজীবী।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • ও প্রথমে বললো, আমিও ঢাকা যাবো। তারপর কী ভেবে হঠাৎ আমার কানের কাছে এসে ফিস ফিস করে বললো, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, নুরুল আমীনের কল্লা চাই’। আমি তো অবাক! এ কী কথা এতটুকু শিশুর মুখে।
  • আমি স্তব্ধ রুদ্ধবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেম। বহুদিনের বিস্মৃতির অন্ধকারে যে ছবিটি আমার মনের মধ্যে ফুটে উঠেছিল, তা বাইশ বছরের যুবকের নয়, পাঁচ বছরের একটি ছোট্ট শিশুর। আর মনে হলো: কানের কাছে যেন ফিস ফিস করে সে বলছে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।

অজিত কুমার গুহ সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • শিক্ষক অজিত কুমার গুহ বিদ্যাদানের বাইরেও তাঁর অজস্র শিক্ষার্থীকে রুচিবান হতে এবং নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে শিখিয়েছিলেন।
  • ছাত্রদের প্রতি পরম যত্নবান শিক্ষক অজিত কুমার গুহ নিজের জাগতিক উন্নতিকে কখনো বড় করে দেখেননি। তাঁর রচনার পরিমাণ সংখ্যাগত বিচারে অপ্রতুল হলেও বাংলা সাহিত্য-সমালোচনায় উচ্চমানের পরিচয় বহন করে।
  • অধ্যাপক অজিত কুমার গুহ ছিলেন মানবিক গুণে ভাস্বর এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন শিক্ষকদের শিক্ষক।
  • অজিত কুমার গুহ ছিলেন প্রকৃত জ্ঞানসাধক। তাঁকে রেনেসাঁস মানব বললেও অত্যুক্তি হবে না। নীতির প্রশ্নে নিরাপোষ অজিত গুহ ধর্ম-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন মনুষ্যত্বের বিজয়ের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন।
  • তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভারতীয় ভাষাগোষ্ঠী বিভাগের ছাত্র ছিলেন। সেখানে উচ্চতর সংস্কৃতের পাঠ গ্রহণ করেন। আমি তাঁর সঙ্গে সংস্কৃত কাব্য নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আমার নিজের সাহিত্যকর্মের প্রয়োজনে তাঁর কাছ থেকে কালিদাসের পাঠ নিয়েছি। অত্যন্ত আধুনিক পদ্ধতিতে ও সহজ ভঙ্গিতে এবং ব্যাকরণের জটিলতার মধ্যে না গিয়ে তিনি সংস্কৃত কাব্য বুঝিয়ে দিতে পারতেন। বাংলাতেও তাঁর দক্ষতা ছিল অনবদ্য। বাংলা ভাষায় তিনি সুন্দর বক্তৃতা করতেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে অনর্গল স্বাদু বাচনভঙ্গিতে কথা বলে যেতে পারতেন। যাঁরা তাঁর বক্তৃতা শুনেছেন তাঁরা এখনও তাঁর বলার ভঙ্গির প্রশংসা করেন।
  • এদেশের সমকালীন সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অজিত কুমার গুহ এক অবিস্মরণীয় নাম। লেখক হিসেবে তিনি অতিপ্রজ ছিলেন না, আর সৃষ্টিশীল রচনা তাঁর প্রতিষ্ঠার ভিত্তিও নয়। তিনি ছিলেন রবীন্দ্র-সাহিত্যের বিশ্রম্নতকীর্তি অধ্যাপক এবং এদেশের সংস্কৃতি-চিমত্মা-নির্মাণে তাঁর অবদান ও সাফল্য ছিলো প্রশ্নাতীত। প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক, মুক্তবুদ্ধির ভাবুক হিসেবে সংস্কৃতিজগতে তাঁর মনস্বিতা ও ব্যক্তিত্বের প্রভাব ছিল বিস্ময়কর। যে-কোনো রাষ্ট্রীয়-সামাজিক বিপর্যয়ে ভাষা-আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী অজিত কুমার গুহের সাহসী অবস্থান ছিল অবধারিত।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]