বিষয়বস্তুতে চলুন

অভিজ্ঞতা

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

অভিজ্ঞতা বলতে সাধারণ ধারণা হিসেবে বোঝায়, কোন জিনিস বা ঘটনার জ্ঞান, দক্ষতা বা পর্যবেক্ষণ যা সেই জিনিস বা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার মাধ্যমে বা তার সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে অর্জিত হয়।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • মহৎ কার্য্য সম্পাদন করিবার পথে বহু বাধা, বিঘ্ন বর্তমান আছে সত্য, কিন্তু আমার নিজের অভিজ্ঞতা হইতে বলিতেছি যে, দৃঢ় বিশ্বাস, অক্লান্ত অধ্যবসায় এবং অদম্য উৎসাহ থাকিলে সকল বাধা বিঘ্ন দূরে পলায়ন করিবে, এই কার্য্যে সিদ্ধিলাভ করা যাইবে।
    • মেরি কার্পেন্টার, মেরী কার্পেন্টার - কুমুদিনী বসু, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
  • যিনি চারিদিকে দেখিয়া শুনিয়া জ্ঞানলাভ করিয়াছেন, তিনিই অভিজ্ঞ। অনেক দেখিলে শুনিলে যে জ্ঞান জন্মে, তাহাকে অভিজ্ঞতা বলে। অভিজ্ঞতা ভূয়োদর্শনের ফল। যিনি অনেক দেখিয়াছেন, অনেক শুনিয়াছেন, অনেক পড়িয়াছেন, তিনিই অধিক অভিজ্ঞতালাভ করিতে পারিয়াছেন।
    • ক্ষেত্রমোহন সেনগুপ্ত, উপদেশ ও শিক্ষা - ক্ষেত্রমোহন সেনগুপ্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪
  • আমাদের একটা বিশিষ্ট ধর্ম্ম আছে—সেই ধর্ম্মই আমরা অনুসরণ করি। যাহা নূতন, যাহা সরস, যাহা অনাস্বাদিন—তাহারই উপাসক আমরা। আমরা আনিয়া দিই পুরাতনের মধ্যে নূতনকে, জড়ের মধ্যে চঞ্চলকে, প্রবীণের মধ্যে নবীনকে এবং বন্ধনের মধ্যে অসীমকে। আমরা অতীত ইতিহাসলব্ধ অভিজ্ঞতা সব সময়ে মানিতে প্রস্তুত নই। আমরা অনন্ত পথের যাত্রী বটে কিন্তু আমরা অচেনা পথই ভালবাসি—অজানা ভবিষ্যৎই আমাদের নিকট অত্যন্ত প্রিয়।
    • সুভাষচন্দ্র বসু, তরুণের স্বপ্ন - সুভাষচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, শ্রীগোপাললাল সান্যাল কর্ত্তৃক সঙ্কলিত ও প্রকাশিত, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩
  • "বৈদ্যস্য চতুর্ভাগা: শাস্ত্রজ্ঞতা, দৃষ্টকর্মতা, দক্ষতা, শুচিতা।"
    • একজন উত্তম চিকিৎসকের মধ্যে থাকা উচিত — শাস্ত্রের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পবিত্রতা।
      • সুশ্রুত, সুশ্রুত সংহিতা, সূত্রস্থান, অধ্যায় ১০
  • আমার যেটুকু অভিজ্ঞতা তাতে বলতে পারি, আমাদের দেশের মূঢ় রায়তদের জমি অবাধে হস্তান্তর করবার অধিকার দেওয়া আত্মহত্যার অধিকার দেওয়া। এক সময়ে সেই অধিকার তাদের দিতেই হবে, কিন্তু এখন দিলে কি সেই অধিকারের কিছু বাকি থাকবে? তোমার লেখার মধ্যে এই অংশে আমার মনে যে সংশয় আছে তা বললেম।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রায়তের কথা, কালান্তর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯৪
  • অভিজ্ঞতা বিনা কোন কার্য্যেই সিদ্ধিলাভ করিতে পারিবে না। যাহার যে কার্য্যে জীবিকানির্ব্বাহ করিতে হয়, তাহাকে সেই কার্য্যে অভিজ্ঞতালাভ করিতেই হইবে। যাহার স্বকার্য্যে অভিজ্ঞতা নাই, তাহাকে আনাড়ী বলে; যাহার সংসারে সমাজে অভিজ্ঞতা নাই, তাহাকে বলে নির্ব্বোধ স্থূলদর্শী।
    • ক্ষেত্রমোহন সেনগুপ্ত, উপদেশ ও শিক্ষা - ক্ষেত্রমোহন সেনগুপ্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৭
  • আমাদের জেলের কষ্ট দৈহিক অপেক্ষা মানসিক বলে মনে করার আমি পক্ষপাতী। যেখানে অত্যাচার ও অপমানের আঘাত যথাসম্ভব কমে আসে, সেখানে বন্দী-জীবনটা ততটা যন্ত্রণাদায়ক হয় না। এই সমস্ত সূক্ষ্মধরণের আঘাত উপর থেকেই আসে, জেলের কর্ত্তাদের এ বিষয়ে কিছু হাত থাকে না। আমার অন্ততঃ এই রকমই অভিজ্ঞতা।
    • সুভাষচন্দ্র বসু, তরুণের স্বপ্ন - সুভাষচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, শ্রীগোপাললাল সান্যাল কর্ত্তৃক সঙ্কলিত ও প্রকাশিত, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
  • ১৮৭২ খৃষ্টাব্দে কারাগার সমূহের উন্নতি বিধান সম্বন্ধে আলোচনা করিবার জন্য ইংলণ্ডে এক অন্তর্জাতিক কংগ্রেস বসে। মেরী কার্পেণ্টার্ কারাগারের উন্নতি বিধান সম্বন্ধে তাঁহার অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করিয়া এই কংগ্রেসে এক প্রবন্ধ পাঠ করেন। এই বিষয় লইয়া যে সকল জনহিতৈষী মহাত্মাগণের সহিত তাঁহার পত্রালাপ হইয়াছিল, তাঁহাদের সহিত তাঁহার সাক্ষাৎ পরিচয় হয়। তাঁহারা সকলে মেরী কার্পেণ্টারকে সাদর অভ্যর্থনা করেন, এবং তাঁহার প্রস্তাবিত কারা-সংস্কারের বিষয় সমর্থন করেন। ইহার কিছুকাল পরে আমেরিকার কারাগারের অবস্থা পরিদর্শন করিতে তথায় গমন করেন।
    • কুমুদিনী বসু, মেরী কার্পেন্টার - কুমুদিনী বসু, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৭-৪৮
  • শিক্ষা ও অভ্যাসের তারতম্য অনুসারে ভূয়োদর্শন এবং অভিজ্ঞতার তারতম্য হইয়া থাকে। সকলে সকল বিষয়ে সমান অভিজ্ঞতালাভ করিতে পারে না। বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা, দর্শনশ্রবণাদির প্রখরতা, অনুমানসাদৃশ্যাদিমূলক জ্ঞানের সদ্ভাব, নানাস্থানে পর্যটন প্রভৃতি অভিজ্ঞতালাভের অনেক উপায় আছে। যাঁহার ভাগ্যে অধিক উপায়ের সমাগম হইবে, তিনিই অধিক অভিজ্ঞতালাভ করিতে পারিবেন।
    • ক্ষেত্রমোহন সেনগুপ্ত, উপদেশ ও শিক্ষা - ক্ষেত্রমোহন সেনগুপ্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
  • নৃত্য-নাট্য সম্বন্ধে আমাদের অভিজ্ঞতা এই যে, ভাব ও কল্পনাই এর প্রাণ, ঘটনা তার প্রতীক মাত্র; ভাব ও কল্পনার রূপকধর্মী সাঙ্কেতিক ব্যঞ্জনার উপরেই নৃত্য-নাট্যের সার্থকতা নির্ভর করে। নৃত্য-নাট্যের সরলতা, স্পষ্টতা ও বলিষ্ঠতা আমাদের কাছে স্থুলতার সামিল। আমাদের ধারণা এই যে, নৃত্যগীত সমন্বিত প্রতীক-নাট্যে এই তিনটি গুণের সমাবেশ ঘটলে ভাবের গভীরতা ব্যাহত হয় এবং অবদানের সমগ্রতা রক্ষা করা যায় না।
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতের মর্মবাণী, লেখকের কথা - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৮
  • অভিজ্ঞতালাভ করিতে হইলে, বর্ত্তমান এবং অতীত উভয় কালের ঘটনায় এবং লোকচরিত্রে নির্ভর করিতে হইবে। বর্ত্তমান কালের সকল ঘটনায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখিতে হইবে; দেশ কাল ও পাত্র, সকল দিকেই মনোযোগ রাখিতে হইবে; চক্ষু চাহিয়া চলিতে হইবে। যিনি সংসারে চক্ষু বুজিয়া বিচরণ করিবেন, তিনি অভিজ্ঞতালাভ করিতে পারিবেন না। অতীত ঘটনার জন্য ইতিহাসে নির্ভর করিতে হইবে। পূর্ব্বকালে যেরূপ সময়ে যেরূপ কারণে যেরূপ ঘটনা ঘটিয়াছে, বর্ত্তমান কালেও সেইরূপ সময়ে সেইরূপ কারণে সেইরূপ ঘটনা ঘটিতে পারে। সুতরাং অতীতের সাহায্যে বর্ত্তমান বিষয়ে অনেক অভিজ্ঞতালাভ করিতে পারা যায়।
    • ক্ষেত্রমোহন সেনগুপ্ত, উপদেশ ও শিক্ষা - ক্ষেত্রমোহন সেনগুপ্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪-৩৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]