অরবিন্দ আদিগা
অবয়ব
অরবিন্দ আদিগা (কন্নড়: ಅರವಿಂದ ಅಡಿಗ, জন্ম ২৩ অক্টোবর ১৯৭৪) একজন সাংবাদিক এবং লেখক, যার ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া উভয় দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। তাঁর প্রথম উপন্যাস, দ্য হোয়াইট টাইগার, ২০০৮ সালে ম্যান বুকার পুরস্কার জয় করে।
উক্তি
[সম্পাদনা]দ্য হোয়াইট টাইগার (২০০৮)
[সম্পাদনা]- মিস্টার প্রিমিয়ার, স্যার আপনি বা আমি কেউই ইংরেজিতে কথা বলি না, তবে এমন কিছু বিষয় আছে যা কেবল ইংরেজিতেই বলা সম্ভব।
- দ্য ফার্স্ট নাইট।
- দৃশ্যত, স্যার, আপনারা চীনারা প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন, কেবল আপনাদের কোনো উদ্যোক্তা নেই। আর আমাদের জাতি, যদিও এখানে পানীয় জল, বিদ্যুৎ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহন, স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতা, শৃঙ্খলা, সৌজন্য বা সময়ানুবর্তিতার অভাব রয়েছে, তবুও এখানে উদ্যোক্তা রয়েছে। হাজার হাজার উদ্যোক্তা। বিশেষ করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে। আর এই উদ্যোক্তারাআমরা উদ্যোক্তারা এই সমস্ত আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলো স্থাপন করেছি যা এখন কার্যত আমেরিকা চালাচ্ছে।
- দ্য ফার্স্ট নাইট।
- এখন, এমন কিছু মানুষ আছেন, আর আমি শুধু আপনার মতো সাম্যবাদীদের কথা বলছি না, বরং সব রাজনৈতিক দলেরই চিন্তাশীল মানুষদের কথা বলছি, যারা মনে করেন যে এই দেবতাদের অনেকেরই আসলে কোনো অস্তিত্ব নেই। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে তাঁদের কারোরই অস্তিত্ব নেই। শুধু আমরা আছি আর আমাদের চারপাশে আছে এক অন্ধকারের মহাসাগর। আমি কোনো দার্শনিক বা কবি নই, আমি সত্য জানব কীভাবে? এটা ঠিক যে এই সমস্ত দেবতারা খুব সামান্যই কাজ করেন বলে মনে হয় ঠিক আমাদের রাজনীতিবিদদের মতো অথচ বছরের পর বছর স্বর্গের সোনার সিংহাসনে তাঁরা পুনর্নির্বাচিত হয়েই চলেন। তার মানে এই নয় যে আমি তাঁদের সম্মান করি না, মিস্টার প্রিমিয়ার! আপনার ওই হলুদ খুলিতে এই ঈশ্বরনিন্দার ধারণা কখনো ঢুকতে দেবেন না। আমার দেশ এমন এক জায়গা যেখানে দুদিকেই তাল মিলিয়ে চলা লাভজনক: একজন ভারতীয় উদ্যোক্তাকে একই সাথে সোজাসাপ্টা এবং কুটিল, উপহাসকারী এবং বিশ্বাসী, ধূর্ত এবং আন্তরিক হতে হয়।
- দ্য ফার্স্ট নাইট।
- একজন ধনী মানুষের শরীর হলো দামী সুতির বালিশের মতো, সাদা, নরম এবং দাগহীন। আমাদের শরীর আলাদা। আমার বাবার মেরুদণ্ড ছিল একটি গিঁট পাকানো দড়ির মতো, যে ধরনের দড়ি গ্রামের মহিলারা কুয়ো থেকে জল তুলতে ব্যবহার করে; কলার বোন বা জতুকাস্থিটি তাঁর ঘাড়ের চারপাশে উঁচু হয়ে ছিল, অনেকটা কুকুরের গলার বেড় বা কল্যারের মতো; তাঁর বুক ও কোমর জুড়ে চাবুকের মারের মতো অসংখ্য কাটাছেঁড়া ও ক্ষতচিহ্ন ছিল, যা তাঁর নিতম্বের হাড় ছাড়িয়ে নিচে পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। একজন গরিব মানুষের জীবনের গল্প তার শরীরে লেখা থাকে, তীক্ষ্ণ কলমে।
- দ্য ফার্স্ট নাইট।
- ভালো কথা, মিস্টার প্রিমিয়ার: আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন যে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চার কবির সবাই মুসলমান? অথচ আপনার দেখা সমস্ত মুসলমানরাই নিরক্ষর অথবা মাথা থেকে পা পর্যন্ত কালো বোরকায় ঢাকা কিংবা উড়িয়ে দেওয়ার জন্য দালানকোঠা খুঁজছে? এটা একটা ধাঁধা, তাই না? আপনি যদি কখনো এই মানুষদের রহস্য সমাধান করতে পারেন, তবে আমাকে একটি ইমেইল পাঠাবেন।
- দ্য ফার্স্ট নাইট।
- এখানে একটি অদ্ভুত সত্য রয়েছে: একজন মানুষকে খুন করুন, আর আপনি তার জীবনের জন্য নিজেকে দায়ী মনে করবেন এমনকি সেই জীবনের ওপর নিজের একটি অধিকারবোধও তৈরি হবে। আপনি তার সম্পর্কে তার বাবা মায়ের চেয়েও বেশি জানেন; তাঁরা জানতেন তার ভ্রূণকে, কিন্তু আপনি জানেন তার মৃতদেহকে। কেবল আপনিই পারেন তার জীবনের গল্পটি সম্পূর্ণ করতে, কেবল আপনিই জানেন কেন তার শরীরকে সময়ের আগেই আগুনে ঠেলে দিতে হলো, এবং কেন তার পায়ের আঙুলগুলো কুঁকড়ে গিয়ে পৃথিবীতে আর এক ঘণ্টা বেঁচে থাকার লড়াই চালায়।
- দ্য সেকেন্ড নাইট।
- মহান ব্যক্তিটি তাঁর হাতের তালু জোড় করলেন এবং চারদিকে মাথা নত করে অভিবাদন জানালেন। তাঁর মুখাবয়ব ছিল সেই সব বিশেষ ধরনের, যা ভারতের সকল মহান রাজনীতিবিদদের থাকে। এই মুখ বলে যে সে এখন শান্তিতে আছে এবং আপনিও শান্তিতে থাকতে পারেন যদি আপনি সেই মুখের মালিককে অনুসরণ করেন। কিন্তু একই মুখ তার অঙ্গভঙ্গির সামান্য পরিবর্তনে এটাও বলতে পারে যে, সে শান্তির বিপরীত রূপটিও চেনে এবং চাইলে সে আপনার মুখটিকেও সেই রূপ দিতে পারে।
- দ্য থার্ড নাইট।
- রঙিন কাঁচ তোলা অবস্থায় ধনীদের গাড়িগুলো দিল্লির রাস্তায় কালো ডিমের মতো চলে। মাঝেমধ্যে একটি ডিম ফেটে যায় সোনার চুড়িতে ঝকঝক করা কোনো মহিলার হাত খোলা জানলা দিয়ে বেরিয়ে আসে, রাস্তায় একটি মিনারেল ওয়াটারের খালি বোতল ছুড়ে ফেলে তারপর জানলাটি আবার উঠে যায়, এবং ডিমটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।
- দ্য ফোর্থ নাইট।
- পুরনো দিল্লিতে যান, জামে মসজিদের পেছনে, এবং বাজারের খাঁচায় মুরগিগুলোকে যেভাবে রাখা হয় তা দেখুন। শত শত ফ্যাকাশে মুরগি আর উজ্জ্বল রঙের মোরগ, তারের জালের খাঁচায় শক্ত করে ঠাসা, পেটের ভেতরে কৃমির মতো গাদাগাদি করে থাকা, একে অপরকে ঠোকরাচ্ছে আর একে অপরের গায়ে মলত্যাগ করছে, শুধু একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গার জন্য ধস্তাধস্তি করছে; পুরো খাঁচা থেকে এক ভয়ানক দুর্গন্ধ বের হচ্ছে ভীত, পালকযুক্ত মাংসের দুর্গন্ধ। এই খাঁচার ওপর কাঠের ডেস্কে একজন হাস্যোজ্জ্বল তরুণ কসাই বসে আছে, যে সদ্য কেটে ফেলা মুরগির মাংস আর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখাচ্ছে, যা গাঢ় রক্তের আস্তরণে তখনও তৈলাক্ত হয়ে আছে। খাঁচার মোরগগুলো ওপর থেকে আসা রক্তের গন্ধ পায়। তারা তাদের ভাইদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চারপাশে পড়ে থাকতে দেখে। তারা জানে এরপর তাদের পালা। তবুও তারা বিদ্রোহ করে না। তারা খাঁচা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে না।
এই দেশে মানুষের সাথেও ঠিক একই কাজ করা হয়।- দ্য ফিফথ নাইট।
- ধনীদের স্বপ্ন আর গরিবদের স্বপ্ন তারা কখনো এক বিন্দুতে মেলে না, তাই না?
দেখুন, গরিবরা সারা জীবন পেটভরে খেতে পাওয়ার আর ধনীদের মতো দেখতে হওয়ার স্বপ্ন দেখে। আর ধনীরা কিসের স্বপ্ন দেখে?
ওজন কমিয়ে গরিবদের মতো দেখতে হওয়ার।- দ্য সিক্সথ নাইট।
- যে মুহূর্তে আপনি চিনতে পারবেন এই পৃথিবীতে সুন্দর কী, সেই মুহূর্তে আপনি দাসত্ব থেকে মুক্তি পাবেন।
- দ্য সিক্সথ নাইট।
- হে তরুণ ভারতীয়, তোমার বিপ্লবের বই তোমার পেটের ভেতরে রয়েছে। সেটাকে বাইরে বের করে আনো এবং পড়ো।
তার বদলে, তারা সবাই রঙিন টিভির সামনে বসে ক্রিকেট আর শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপন দেখছে।- দ্য সেভেনথ নাইট।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় অরবিন্দ আদিগা সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।