অ্যাডাম রিস
অবয়ব
অ্যাডাম গাই রিস (জন্ম ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬৯) একজন আমেরিকান জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী। মহাজাগতিক অনুসন্ধানে সুপারনোভা ব্যবহারের উপর গবেষণার জন্য তিনি সুপরিচিত। তিনি ২০০৬ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানে শ পুরস্কার এবং ২০১১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- আমার মনে হয় মহাবিশ্বের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক তথ্যগুলোর মধ্যে একটি হলো এর প্রসারণ। এটা আমি কখনোই অনুমান করতে পারতাম না। এমনকি স্নাতক পর্যায়ে পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে কিছুটা জানার পর আমি ভাবতাম যে মহাবিশ্ব চিরন্তন, স্থির এবং সর্বদা সাম্যাবস্থায় থাকে। তাই স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যখন আমি জানতে পারলাম যে মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে, তখন আমি বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছিলাম। তারপর আমি জানতে পারলাম যে, যদি আমরা এই প্রসারিত মহাবিশ্বকে পরিমাপ করতে পারি, যেভাবে আমরা দরজার চৌকাঠে দাগ দিয়ে একটি শিশুর বৃদ্ধি লিপিবদ্ধ করি ... তাহলে আমরা মহাবিশ্বের বয়স নির্ধারণ করতে এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারব। এটা ছিল বিস্ময়কর! আমি বুঝতে পারলাম যে আমি এটাই করতে চাই। সেই সময় থেকে, এর প্রকৃতি নির্ধারণের জন্য প্রসারিত মহাবিশ্বের গতিপথ অঙ্কন করাই আমার নেশা হয়ে উঠেছে। তবে আমাকে এটাও যোগ করতে হচ্ছে যে: এখন আমি জানি যে মহাবিশ্ব শুধু প্রসারিতই হচ্ছে না, বরং এর প্রসারণ ত্বরান্বিতও হচ্ছে, তা জানার পর আমার নিজেকে ক্যাস্টিলের রাজা দশম আলফোনসোর মতো মনে হচ্ছে, কথিত আছে তিনি টলেমির ভূকেন্দ্রিক মডেল দেখে বলেছিলেন যে, “সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা যদি এভাবে সৃষ্টিকার্য শুরু করার আগে আমার পরামর্শ নিতেন, তবে আমি আরও সরল কোনো কিছুর সুপারিশ করতাম।”
- "My Path to the Accelerating Universe" (PDF)। Noble Lecture। ৮ ডিসেম্বর ২০১১।
- বর্তমানে আমরা টাইপ Ia সুপারনোভা বিস্ফোরণের দূরত্ব এবং লোহিত সরণ পরিমাপের মাধ্যমে মহাবিশ্বের প্রসারণের হার অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পরিমাপ করতে সক্ষম। মহাবিশ্বের প্রসারণের কারণে একটি সুপারনোভার বর্ণালীতে যে পরিবর্তন ঘটে, তা ব্যবহার করে এর লোহিত সরণ (z) পাওয়া যায়, এবং লোহিত সরণ ও দূরত্বের মধ্যকার সমীকরণ ব্যবহার করে মহাবিশ্বের প্রসারণ হার নির্ণয় করা হয়। অধিক লোহিত সরণযুক্ত এবং অধিক দূরত্বে অবস্থিত সুপারনোভাগুলো অতীতের প্রসারণ হার প্রকাশ করে, কারণ এদের আলো এমন এক সময়ে নির্গত হয়েছিল যখন মহাবিশ্ব অপেক্ষাকৃত নবীন ছিল।
- এই পরিমাপগুলোর জন্য সুপারনোভা টাইপ Ia ছিল উপযুক্ত, কারণ এটির জন্য এমন বস্তুর প্রয়োজন যা অত্যন্ত উজ্জ্বল (ফলে অনেক দূর থেকেও পর্যবেক্ষণ করা যায়) এবং অত্যন্ত সুষম (যাতে অভ্যন্তরীণ বিক্ষেপণ এই সংকেতকে ঝাপসা করে না দেয়)। সাধারণ সুপারনোভাগুলোর মধ্যে সুপারনোভা টাইপ Ia হলো সবচেয়ে উজ্জ্বল, যার উজ্জ্বলতা সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন সৌর জ্যোতিতে পৌঁছায়, এবং এর ফলে আমরা অত্যন্ত দূরবর্তী বস্তুও পর্যবেক্ষণ করতে পারি।
- "An interview with Nobel Laureate Adam Riess"। EP (Experimental Physics) Department News, CERN। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯। (সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন নিউক্লীয় গবেষণার জন্য ইউরোপীয় সংস্থার পানোস চারিটোস)
- ডার্ক এনার্জি হলো শূন্যস্থানের মহাকর্ষ, অর্থাৎ ভ্যাকুয়ামের মহাকর্ষ। আর ভ্যাকুয়াম হলো এমন একটি ধারণা যা আমরা কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় আলোচনা করি। কোয়ান্টাম বলবিদ্যা হলো আণুবীক্ষণিক স্তরের পদার্থবিজ্ঞান, অন্যদিকে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব হলো ... বৃহৎ স্তরের পদার্থবিজ্ঞান। এই দুটি তত্ত্বই চমৎকার, কিন্তু এগুলো একসাথে কাজ করে না। আমাদের কাছে মহাকর্ষের এমন কোনো কোয়ান্টাম তত্ত্ব নেই, যেখানে এই দুটিকে একত্রিত করা হয়েছে। তবে, ডার্ক এনার্জির জন্য পদার্থবিজ্ঞানের এই দুটি শাখাই ব্যবহার করা প্রয়োজন। তাই আমরা আশা করি যে, মহাবিশ্ব সেই সংযোগস্থলে প্রকৃতপক্ষে কীভাবে পদার্থবিজ্ঞানকে ব্যবহার করে তা পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে আমরা সেগুলোকে একীভূত করতে শিখবো।
- "„I'm interested in things that don't fit" – interview with Nobel laureate astrophysicist Adam Riess"। MTA (Magyar Tudományos Akadémia; Hungarian Academy of Sciences)। ৯ জুন ২০২৩।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]
উইকিপিডিয়ায় অ্যাডাম রিস সম্পর্কে বিশ্বকোষীয় নিবন্ধ