অ্যানা এলিজাবেথ ডিকিনসন
অবয়ব

অ্যানা এলিজাবেথ ডিকিনসন (২৮ অক্টোবর ১৮৪২ - ২২ অক্টোবর ১৯৩২) ছিলেন একজন আমেরিকান বাগ্মী এবং লেকচারার। দাসপ্রথা বিলোপ এবং নারী অধিকারের প্রবক্তা হিসেবে ডিকিনসন ছিলেন প্রথম নারী যিনি মার্কিন কংগ্রেসে রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছিলেন। খুব অল্প বয়সে একজন প্রতিভাবান বক্তা হিসেবে তিনি ১৮৬৩ সালের কঠিন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে সহায়তা করেছিলেন এবং গৃহযুদ্ধের ঠিক আগে ইউনিয়নের রাজনৈতিক ক্ষমতার বিন্যাসে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিলেন। ডিকিনসন ছিলেন প্রথম শ্বেতাঙ্গ নারী যিনি কলোরাডোর লংগস পিক, লিংকন পিক এবং এলবার্ট পিক জয় করেছিলেন এবং পাইকস পিক জয়ী দ্বিতীয় নারী ছিলেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]"লেট আস স্টর্ম দ্য স্লেভ সিস্টেম" (২৮ মে ১৮৬২)
[সম্পাদনা]নিউ ইংল্যান্ড অ্যান্টি-স্লেভারি কনভেনশন, মেলোডিয়ান, বস্টন
- বলা হয় যে আমরা মুক্তি ছাড়াই জয়ী হতে পারি। বিদ্রোহ প্রায় চূর্ণ হয়ে গেছে - আমাদের সেনাবাহিনী দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে - শেষ ঘনিয়ে আসছে যখন সব কিছু আগের মতো হয়ে যাবে। দক্ষিণ, মিস্টার লিংকন এবং রিপাবলিকান পার্টির লক্ষ্য সম্পর্কে প্রতারিত হয়ে দাসপ্রথা রক্ষায় যুদ্ধে গিয়েছিল। এখন হয়তো তারা দেখতে শুরু করেছে যে মিস্টার লিংকন শেষ পর্যন্ত দাস-শিকারীর চেয়ে খুব বেশি দূরে নন। দক্ষিণের আনুগত্য একটি কল্পনা মাত্র। আমাদের সেনাবাহিনী যত সামনে বাড়বে এটি অবশ্যই তত বাড়বে, কারণ ফাঁসি এবং আনুগত্যের মধ্যে একটি ডুবন্ত পক্ষের সমর্থকদের কাছে কেবল একটিই বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে।
- আমরা হয়তো সব জায়গায় তাদের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করতে পারি, প্রতিটি শহর ও সমুদ্রবন্দর দখল করতে পারি: তাতে কী? তারা কি দমিত হয়েছে? সামরিক শক্তি প্রত্যাহার করা হলে তারা ষাট দিনের মধ্যে আবার জেগে উঠবে। যতক্ষণ কৃণাঙ্গদের ছায়া আমাদের ব্যানারকে আচ্ছন্ন করে রাখবে, ততক্ষণ সাফল্য আমাদের শোভিত করতে পারবে না।
- কেনটাকি, যা জন ব্রাউনের মাধ্যমে মুক্তির গলায় ফাঁস লাগিয়েছিল, সে আবারও রাষ্ট্রপতি পদে থাকা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে মুক্তিকে শ্বাসরোধ করেছে!
- যুদ্ধক্ষেত্রে জেনারেল মিচেল সেই দাসদের প্রত্যাখ্যান করছেন যারা সুরক্ষার জন্য তার কাছে পালিয়ে আসছে। সব জায়গায় যারা আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে আসছে, তাদের আবার দাসত্বের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে তাদের চাবুক মারা হবে, অত্যাচার করা হবে এবং পুড়িয়ে মারা হবে।
- সেই দাসী বা সেই দাসের মায়ের যন্ত্রণার কাছে আমাদের কষ্ট কী, যাকে তার সন্তানদের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে চাবুক মারা হয়? আপনাদের পবিত্রতা কি এই লাঞ্ছিত পবিত্রতার জন্য কোনো বেদনা অনুভব করে না? - আপনাদের পিতামাতাসুলভ স্নেহ কি দাসদের ক্ষতবিক্ষত ভালোবাসার প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখায় না? আপনারা কি "মুক্ত হও" - এই কথাটি বলতে দ্বিধা করতে পারেন? ঈশ্বর দাসপ্রথাকে আমাদের হাতে দিয়েছেন একে শ্বাসরোধ করার জন্য। কেবল তারই ক্ষমতা থাকা উচিত একে আবার জীবিত করার। আসুন আমরা দাসপ্রথা ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ করি, যেমন স্মিথ ফোর্ট ডনেলসন দখল করেছিলেন। যদি রাষ্ট্রপতি আমাদের আদেশ না দেন, তবে আসুন আমরা নিজেরাই যাই।
"ইউনিভার্সাল লিবার্টি" (৭ মে ১৮৬৭)
[সম্পাদনা]- ঘটনাক্রম অবশেষে আমাদের এমন একটি প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে যাকে কেবল জনস্বার্থ বা সামরিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখা যায় না। আজ আমাদের সামনে উপস্থাপিত প্রশ্নটি হলো বিমূর্ত ন্যায় ও অন্যায়ের। রিপাবলিকান পার্টিকে অবশ্যই "বিশ্বজনীন মুক্তি"-কে স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করতে হবে যদি তারা জয়ের আশা করে, আর যদি তারা কখনো এই স্লোগান ত্যাগ করে তবে তাদের মৃত্যু অনিবার্য।
- দাসপ্রথা একটি খারাপ স্কুল শিক্ষক। কেউ অস্বীকার করে না যে এই মানুষগুলো অনেকাংশে সেন্ট মার্ক-এর বন্দীদের মতো অবস্থায় আছে, যারা অন্ধকার ও নোংরা অন্ধকূপে মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর বন্দী থাকার পর যখন সেন্ট মার্ক-এর বড় চত্বরে নিয়ে আসা হয়, তখন দীর্ঘকাল পর চোখের সামনে আসা সূর্যালোক তাদের চিরতরে অন্ধ করে দেয়। এটি আশ্চর্যের কিছু নয় যে দাসত্বের অন্ধকূপ থেকে মুক্ত হয়ে আসা এই দাসেরা যখন মুক্তির উজ্জ্বল আলোতে আসে, তখন তারা ধাঁধিয়ে যায় এবং অন্তত কিছু সময়ের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে বন্ধু ও শত্রুর মধ্যে পার্থক্য করতে ভুল করে।
- আমাদের ইতিহাস এবং আমাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস যারা প্রত্যেকেই মুক্তিকে ভালোবাসতেন কিন্তু দাসপ্রথা বজায় রেখেছিলেন; যারা প্রার্থনা করেছিলেন যে ভবিষ্যতে যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় অথচ বর্তমানের নিপীড়নকে নিরাপদ করেছিলেন এবং যারা বলেছিলেন যে আমাদের পরে যারা আসবে তারা এটি নিশ্চিত করবে।
- আজ আমরা যা চাই তা হলো মুক্তির মন্দিরটি যেন নিখুঁত এবং সম্পূর্ণভাবে নির্মিত হয়। ন্যায়ের চলার পথ একটাই, তা হলো সোজা সামনে এগিয়ে যাওয়া, সামনে যাই বাধা থাকুক না কেন।
অ্যানা এলিজাবেথ ডিকিনসন সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- অ্যানা ডিকিনসন, যখন ফিলাডেলফিয়া মিন্টে সামান্য পারিশ্রমিকে কাজ করতেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাসে পরিণত হওয়া কৃণাঙ্গ মানুষের জন্য আবেগময় ভাষণ দিতেন, তখন তাকে আপদ হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু অ্যানা ডিকিনসন যখন মঞ্চে আবেগময় ভাষণ এবং প্রগাঢ় নৈতিক একাগ্রতার সাথে দাসের অধিকারের পক্ষে কথা বললেন এবং এই কাজের জন্য রাতে ১০০ ও ২০০ ডলার পারিশ্রমিক পেতে থাকলেন; অ্যানা ডিকিনসন যখন কানেটিকাট এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার রিপাবলিকান প্রচারণায় তার বাগ্মীতাপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে উভয় রাজ্যকে শিহরিত করলেন এবং রিপাবলিকান পার্টির বিজয়ের স্বীকৃত শক্তিতে পরিণত হলেন, তখন তিনি সেই সময়ের বীরাঙ্গনায় পরিণত হলেন এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর জোন অফ আর্ক হিসেবে অভিনন্দিত হলেন।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় অ্যানা এলিজাবেথ ডিকিনসন সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।