বিষয়বস্তুতে চলুন

আঙ্গেলা ম্যার্কেল

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
রাষ্ট্রকে অবশ্যই সহায়তা করতে হবে এবং কোনোভাবেই সীমাবদ্ধ করা চলবে না। এই মনোভাব নিয়ে রাষ্ট্রকে হতে হবে মালী, বেড়া নয়।

আঙ্গেলা ডোরোথিয়া মের্কেল (জন্ম ১৭ জুলাই ১৯৫৪) একজন অবসরপ্রাপ্ত জার্মান রাজনীতিবিদ এবং বিজ্ঞানী। তিনি ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউের) সদস্য মের্কেল এর আগে ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিরোধীদলীয় নেতা এবং ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিডিইউের নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মের্কেল ছিলেন জার্মানির প্রথম নারী চ্যান্সেলর। চ্যান্সেলর থাকাকালীন তাঁকে প্রায়ই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘কার্যত’ নেতা এবং বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী হিসেবে অভিহিত করা হতো।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দেয়াল দিয়ে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায় না।
  • স্বাধীনতায় বসবাস করা এবং স্বাধীনতা রক্ষা করা একই মুদ্রার দুই পিঠ। কারণ স্বাধীনতার এই অমূল্য উপহার এমনি এমনি আসে না। বরং এর জন্য বারবার লড়াই করতে হয়, একে লালন করতে হয় এবং রক্ষা করতে হয়।
  • একনায়কতন্ত্রের শিকল বা নিপীড়নের বেড়ি কোনোটিই স্বাধীনতার শক্তিকে দীর্ঘকাল দমিত রাখতে পারে না।

২০০০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • অভিবাসন নিয়ে আলোচনায় আমাদের কিছু বিরোধী পক্ষ আমাদের সুদূর ডানপন্থী হিসেবে চিহ্নিত না করে পারে না, শুধু এই কারণে যে আমরা অভিবাসনের সাথে সম্পর্কিত সমান্তরাল সমাজ তৈরির বিপদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করি। প্রিয় বন্ধুরা, এটি হলো মিথ্যার চূড়ান্ত রূপ। আর এমন ভণ্ডামি মানুষের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। সেই কারণেই আমরা অভিবাসনের সুশৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধতার দাবি অব্যাহত রাখব।
    • ১ ডিসেম্বর ২০০৩ তারিখে সিডিইউ দলীয় সম্মেলনে আঙ্গেলা মের্কেল।
  • আমি বায়ুরোধী জানালার কথা ভাবছি! অন্য কোনো দেশ এত বায়ুরোধী এবং সুন্দর জানালা তৈরি করতে পারে না।
    • জার্মানি তাঁর মনে কী ধরণের আবেগ জাগায় এই প্রশ্নের উত্তরে ২৯ নভেম্বর ২০০৪ সালে 'বিল্ড' পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকার।
  • রাষ্ট্রকে অবশ্যই সহায়তা করতে হবে এবং কোনোভাবেই সীমাবদ্ধ করা চলবে না। এই মনোভাব নিয়ে রাষ্ট্রকে হতে হবে মালী, বেড়া নয়। আমাদের বিশ্বাস করা উচিত যে মানুষ সামাজিকভাবে যুক্ত হতে এবং দায়িত্ব নিতে চায়।
    • ২০ মে ২০০৬ তারিখে 'জুডডয়েচে সাইটুং' প্রকাশিত সাক্ষাৎকার।
  • এটি সত্য ইউরোপ খ্রিষ্টানদের কোনো ক্লাব নয়। তবে এটিও সত্য ইউরোপ হলো মৌলিক মূল্যবোধের একটি ক্লাব। এখানে মানবাধিকার এবং নাগরিক অধিকার প্রযোজ্য। এই মানবাধিকার এবং নাগরিক অধিকারগুলো মূলত খ্রিষ্টধর্মের মানবীয় দর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
    • ২৭ নভেম্বর ২০০৬ তারিখে ড্রেসনার ফ্রাউয়েনকির্খেতে সিডিইউের ২০তম ফেডারেল পার্টি কনভেন্টে দেওয়া ভাষণ।
  • ইরান যে পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে তা বিশ্বকে প্রমাণ করতে হবে না। বরং ইরানকেই বিশ্বকে বোঝাতে হবে যে তারা পারমাণবিক বোমা চাইছে না।
    • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রদত্ত ভাষণ।
  • তবে গণতন্ত্র মানে সবসময়ই কোনো একক সিদ্ধান্ত নয় বরং এটি সাধারণত অনেক মানুষের মতামতের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি প্রক্রিয়া।
    • ৭ নভেম্বর ২০০৭ তারিখে 'বার্লিনার সাইটুং'-এ দেওয়া সাক্ষাৎকার।
  • আমি চাই ৫০ বছর পর ইউরোপের নাগরিকরা বলুক: সেই সময় বার্লিনে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ সঠিক পথ বেছে নিয়েছিল। সেই সময় বার্লিনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল।
    • ২৫ মার্চ ২০০৭ তারিখে রোম চুক্তির ৫০তম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ।
  • শীতল যুদ্ধের অবসানের পরেও আমাদের বিভিন্ন জীবনদর্শনের মধ্যকার দেয়ালগুলো ভেঙে ফেলার দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্য কথায়, মানুষের মনের ভেতরের দেয়ালগুলো যা আমাদের এই পৃথিবীতে একে অপরকে বুঝতে বাধা দেয় তা দূর করতে হবে। এই কারণেই সহনশীলতা প্রদর্শনের ক্ষমতা এত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জীবনযাত্রা আমাদের কাছে সেরা মনে হলেও অন্যদের কাছে তা নাও হতে পারে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিভিন্ন উপায় রয়েছে। সহনশীলতা মানে অন্য মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্ম এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। তবে কোনো ভুল বোঝাবুঝি যেন না থাকে। সহনশীলতা মানে এই নয় যে "যা খুশি করা যাবে"। যারা ব্যক্তির অলঙ্ঘনীয় অধিকারের প্রতি সম্মান দেখায় না এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, তাদের প্রতি কোনো সহনশীলতা দেখানো হবে না।
    • ৪ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে আঙ্গেলা মের্কেলের বক্তব্য।
  • স্বাধীনতা হলো আমাদের অর্থনীতি ও সমাজের মূল নির্যাস। স্বাধীনতা ছাড়া মানুষের মন তার সৃজনশীল শক্তি প্রকাশ করতে পারে না। তবে এটিও স্পষ্ট যে এই স্বাধীনতা একক কোনো বিষয় নয়। এটি হলো দায়বদ্ধতার সাথে স্বাধীনতা এবং দায়বদ্ধতা অনুশীলনের স্বাধীনতা।
  • বার্লিনের 'ফ্রিডম বেল' বা স্বাধীনতার ঘণ্টা ফিলাডেলফিয়ার 'লিবার্টি বেলের' মতোই একটি প্রতীক যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা নিজে থেকে আসে না। এর জন্য সংগ্রাম করতে হয় এবং জীবনের প্রতিটি দিন একে নতুন করে রক্ষা করতে হয়।

২০১০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • অবশ্যই একসময় এমন প্রবণতা ছিল যে 'চলো আমরা বহুসংস্কৃতিবাদ বা মাল্টিকালচারালিজমকে গ্রহণ করি এবং সুখে-শান্তিতে পাশাপাশি বসবাস করি।' কিন্তু এই ধারণাটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
    • ডিসেম্বর ২০১৫ সালে বহুসংস্কৃতিবাদ সম্পর্কে মের্কেলের মন্তব্য।
  • ইতিহাস আমাদের প্রায়ই স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা থেকে উৎসারিত শক্তির পরিচয় দিয়েছে। এটি মানুষকে তাদের ভয় জয় করতে এবং প্রায় ২২ বছর আগে পূর্ব জার্মানিপূর্ব ইউরোপের একনায়কদের মুখোমুখি হতে অনুপ্রাণিত করেছিল। [...] স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দেয়াল দিয়ে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায় না। এই আকাঙ্ক্ষাই জার্মানি ও ইউরোপকে দ্বিখণ্ডিত করা লৌহ পর্দা ধসিয়ে দিয়েছিল।
    • ৭ জুন ২০১১ তারিখে ওবামা ও মের্কেলের সৌজন্য সাক্ষাৎকারে প্রদত্ত বক্তব্য।
  • আজও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থাকে কাঁপিয়ে দিতে পারে এবং পতন ঘটাতে পারে। আমরা উত্তর আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের আমূল পরিবর্তনগুলো গভীর আগ্রহ ও সহানুভূতির সাথে পর্যবেক্ষণ করেছি। স্বাধীনতা অবিভাজ্য। উত্তর আফ্রিকা হোক বা বেলারুশ, মিয়ানমার হোক বা ইরানপ্রত্যেক মানুষেরই স্বাধীনতার সমান অধিকার রয়েছে। তবুও স্বাধীনতার সংগ্রাম অনেক বেশি ত্যাগ ও প্রাণ দাবি করছে। আমার চিন্তাগুলো আমাদের সৈনিক, পুলিশ এবং সেই সব স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে আছে যারা সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। যারা স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন বাজি রাখছেন, আমি তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।
  • আমরা দেখি যে স্বাধীনতায় বসবাস করা এবং স্বাধীনতা রক্ষা করা একই মুদ্রার দুই পিঠ; কারণ স্বাধীনতার এই অমূল্য উপহার এমনি এমনি আসে না, বরং এর জন্য বারবার লড়াই করতে হয়, একে লালন করতে হয় এবং রক্ষা করতে হয়। মাঝেমধ্যে মনে হতে পারে এটি বাতচক্রের বিরুদ্ধে এক অন্তহীন লড়াই। কিন্তু দেখুন, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজ আমরা যা স্বপ্ন দেখার সাহস করি না, কাল তা বাস্তবে রূপ নিতে পারে। একনায়কতন্ত্রের শিকল বা নিপীড়নের বেড়ি কোনোটিই স্বাধীনতার শক্তিকে দীর্ঘকাল দমিত রাখতে পারে না।
  • আমরা সবাই একই নৌকার যাত্রী।
    • ৩ জুন ২০১৩ তারিখে ইউরো সংকট সম্পর্কে মের্কেলের মন্তব্য।
  • বিশ্বের শিশুদের জন্য আজ একটি ভালো দিন। সেই সব শিশু যাদের আজ শৈশব,শিক্ষা বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কোনো অধিকার নেই, তারা এই দুজন পুরস্কার বিজয়ীর (মালালা ইউসুফজাই ও কৈলাশ সত্যার্থী) মাধ্যমে একটি কণ্ঠস্বর পেয়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার এবং শোষণমূলক শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে।
    • ১০ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া।
  • আমি বুঝি কেন তাকে এটি করতে হয়; নিজেকে পুরুষ প্রমাণ করার জন্য... সে তার নিজের দুর্বলতাকে ভয় পায়। রাশিয়ার সফল রাজনীতি বা অর্থনীতি বলতে গেলে কিছুই নেই। তাদের যা আছে তা কেবল এটিই।
    • ভ্লাদিমির পুতিন সম্পর্কে মের্কেলের মন্তব্য।
  • ইসলাম জার্মানিরই অংশ।
    • ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংবাদ সম্মেলনে মের্কেল।
  • সংকটের সময়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করার জন্য যদি আমাদের ক্ষমা চাইতে হয়, তবে এটি আমার দেশ নয়।
    • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে শরণার্থী সংকট সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে।
  • শরণার্থী আগমনের জন্য আমি দায়ী কি না তাতে আমার কিছু যায় আসে না, এখন তারা এখানে আছে এটাই বাস্তব।
    • ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে সিডিইউ/সিএসইউ দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে।
  • জার্মানিতে কতজন মানুষ সীমান্ত পার হবে তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমার নেই—সত্যি বলতে জার্মানির কারও নেই।
    • ৭ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে একটি টকশোতে শরণার্থী বিষয়ক মন্তব্য।
  • আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে, একজন পুরোপুরি পর্দা করা বা বোরকা পরিহিত নারীর পক্ষে জার্মানিতে একীভূত হওয়ার সম্ভবনা নেই বললেই চলে।
    • আগস্ট ২০১৬ সালে বোরকা ও সামাজিক একীকরণ সম্পর্কে।
  • শরিয়া আইনের চেয়ে জার্মান আইন অগ্রাধিকার পায়। যেখানেই আইনগতভাবে সম্ভব, পুরো মুখ ঢেকে রাখা পর্দা বা নেকাব নিষিদ্ধ করা উচিত।
    • ৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে জার্মানিতে বোরকা নিষিদ্ধের ডাক।
  • জলবায়ু পরিবর্তন এমন একটি বিষয় যা মানবজাতি হিসেবে আমাদের নিয়তি নির্ধারণ করবে—এটি আমাদের সবার ভালো থাকাকে প্রভাবিত করবে।
    • ১৫ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে।
  • আমরা কেবল তখনই একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে পারি যদি আমরা সভ্যতার মূল্যবোধের চরম বিশ্বাসঘাতকতা অর্থাৎ হলোকাস্টের প্রতি জার্মানির চিরস্থায়ী দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকি।
    • ২৪ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে হলোকাস্ট স্মৃতি জাদুঘরে মের্কেলের ভাষণ।

১৭ নভেম্বর ২০১৬-এর যৌথ সংবাদ সম্মেলন

[সম্পাদনা]
  • বিশ্বায়নকে রাজনৈতিকভাবে একটি মানবিক রূপ দেওয়া প্রয়োজন। আমরা বিশ্বায়ন পূর্ব যুগে ফিরে যেতে পারি না। তাই শুল্ক চুক্তির বাইরেও বিস্তৃত বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • প্রতিবেশী মহাদেশ হিসেবে আফ্রিকা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আফ্রিকান দেশগুলোর উন্নয়ন আমাদের নিজেদের স্বার্থেই প্রয়োজন। জার্মান হিসেবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে আমাদের এটি নিয়ে কাজ করতে হবে।
  • ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মানিকে এটি স্বীকার করতে হবে যে এটি আমাদের জোট। আমাদের সাধারণ আটলান্টিকপার জোট যেখানে আমাদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে। কারণ দীর্ঘমেয়াদে এই জোটে আমাদের অবদানের ভারসাম্যহীনতা মেনে নেওয়া যাবে না। আমরা এই বার্তাটি বুঝতে পেরেছি এবং কাজ শুরু করেছি।
  • আমরা ক্রিমিয়া দখল এবং রাশিয়ার ইউক্রেন দখলের চেষ্টার বিষয়ে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। তারা আসলে ভূখণ্ডের অংশ দখল করেছে। আমরা এখানে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছি।
  • সন্ত্রাস এখন আমাদের শহরগুলোর দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    • ২৩ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে জার্মান বুন্দেসট্যাগে মের্কেলের ভাষণ।

২০২০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • আমরা একটি অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। একটি জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা এড়াতে আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
    • ২৮ অক্টোবর ২০২০ তারিখে কোভিড-১৯ লকডাউন সম্পর্কে।
  • আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পর ইউরোপকে তার নিজস্ব নিরাপত্তা স্বার্থ আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। দেখা গেছে যে আমেরিকা এখন আর বিনাশর্তে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত নয়।
    • ১১ অক্টোবর ২০২১ তারিখে দেওয়া মন্তব্য।

আঙ্গেলা মের্কেল সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বড় মিত্রই প্রেসিডেন্টের অবমাননা থেকে রেহাই পায়নি। ব্যক্তিগতভাবে তিনি অংশীদার রাষ্ট্র ও তাদের নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন এবং জনসমক্ষেও তা করতে দ্বিধা করেন না। যেপ্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে "অত্যন্ত অসৎ ও দুর্বল" বলার মাধ্যমে। তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন এবং জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল প্রশাসনের অপরাধ দমনে ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন। তিনি জার্মানির নেতাদের এমন এক 'ফ্রি-লোডার' হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন যারা মার্কিন উদারতার সুযোগ নেয়।
    • নামহীন, এ ওয়ার্নিং (২০১৯), পৃষ্ঠা ১৭৫।
  • আমি মনে করি যখন তিনি (মের্কেল) আশ্রয়ের অধিকারের এই নীতির ওপর গুরুত্ব দেন। তখন তিনি নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সঠিক থাকেন।
    • জার্মানির শরণার্থী গ্রহণ বিষয়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-মার্ক এরো (২০১৬)।
  • বিশ্বের অনেক জায়গায় রাজনীতিবিদরা এখন আর দাবি করতে পারেন না যে জলবায়ু সংকট গুরুত্বের সাথে নেওয়ার জন্য তাদের কাছে সামাজিক কোনো ম্যান্ডেট নেই। নাগরিকরা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং তারা একটি শক্তিশালী সরকারি পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে। এটি স্বীকার করে কিছু জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ সক্রিয়ভাবে নাগরিক সক্রিয়তাকে উৎসাহিত করেছেন। যেমন আঙ্গেলা মের্কেল যখন চ্যান্সেলর ছিলেন। তখন তিনি তরুণ জার্মানদের বলেছিলেন যাতে তারা তাঁর ওপর 'চাপ বাড়িয়ে রাখে'।
  • আঙ্গেলা মের্কেল, যিনি একজন প্রাক্তন রসায়নবিদ, ২০০৫ সালে চ্যান্সেলর হওয়ার পর থেকে জার্মানির পরিবেশ ও জ্বালানি সংক্রান্ত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে যান। যখন আমেরিকা জলবায়ু ইস্যুর নেতৃত্ব থেকে পিছিয়ে যায়, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এবং এই সমস্যা সমাধানে বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে।
  • আমার পছন্দের ব্যক্তিদের মধ্যে আঙ্গেলা মের্কেল অন্যতম। কারণ আমি মনে করি ইউরোপের কঠিন সময়ে তিনি একজন অসাধারণ ও শক্তিশালী নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন... শরণার্থী সংকটের মুখে তাঁর সাহসিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
    • হিলারি ক্লিনটন, পলিটিকো (২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬)।
  • জার্মানির আঙ্গেলা মের্কেল এবং পূর্ব ইউরোপের কিছু নেতার কাছে পুতিনের কথাগুলো ক্রমশ গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছিল। রাশিয়ার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পারমাণবিক শক্তির কারণে এটি ইউরোপীয় কূটনীতির একটি প্রধান উপাদানে পরিণত হয়েছিল। ব্রিটেন বা ফ্রান্সের পক্ষে মস্কোর সাথে যুদ্ধংদেহী আচরণ করা যতটা সহজ ছিল, জার্মানি এবং এর পূর্বে অবস্থিত নতুন উদীয়মান গণতন্ত্রগুলোর জন্য তা ততটা সহজ ছিল না। কারণ এক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান একটি বড় বিষয় ছিল।
    • সাইমন জেনকিন্স, এ শর্ট হিস্ট্রি অফ ইউরোপ (২০১৮)।
  • ২০১৫ সালে মের্কেল জার্মানিতে এক আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। গ্রিসে আসা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শরণার্থীদের ইউরোপীয় ইউনিয়ন পুনর্বাসনে ব্যর্থ হওয়ার পর, তিনি তাদের জার্মানিতে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১০ লাখের বেশি মানুষ এই সুযোগ গ্রহণ করে। এর প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। এর ফলে অতি ডানপন্থী গোষ্ঠী 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' ২০১৮ সালের নির্বাচনে তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। দীর্ঘকাল 'ইউরোপের রানি' হিসেবে পরিচিত মের্কেল প্রায় ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার উপক্রম হয়েছিলেন।
    • সাইমন জেনকিন্স, এ শর্ট হিস্ট্রি অফ ইউরোপ (২০১৮)।
  • আমরা এই বিষয়টি একের পর এক নির্বাচনের সময় আলোচনা করেছি এবং প্রতিবারই সিডিইউ/সিএসইউ সমকামীদের সমান অধিকারের বিষয়টি আটকে দিয়েছে। মিসেস মের্কেল, আপনাকে এটি বলা ছাড়া আমার উপায় নেই। এটি ছিল হতাশাজনক এবং বিব্রতকর। ২০০৫ সাল থেকে আপনি বৈষম্যকে সমর্থন করেছেন এবং সমান অধিকার অর্জনে কিছুই করেননি।
    • জোহানেস কার্স, জার্মান বুন্দেসট্যাগে সমলিঙ্গ বিয়ে নিয়ে ভোটাভুটির সময় (২৯ জুন ২০১৭)।
  • আঙ্গেলা মের্কেল এবং তাঁর সমমনা মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদরা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু আমূল পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁরা বিজ্ঞানকে গ্রহণ করেছেন এবং 'পপুলিস্ট' বা জনতুষ্টিবাদী নেতাদের চেয়ে নিজেদের দক্ষ প্রমাণ করতে মরিয়া ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'নেক্সট জেনারেশন' প্রোগ্রাম বা বাইডেনের 'বিল্ড ব্যাক বেটার' প্রোগ্রামের মতো পদক্ষেপগুলো তাঁদের এই প্রচেষ্টারই অংশ ছিল।
    • অ্যাডাম টুজে, শাটডাউন: হাউ কোভিড শুক দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি (২০২১)।
  • আমি মিসেস মের্কেল এবং নিকোলাস সারকোজিকে বুচা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাই, যাতে তাঁরা নিজের চোখে দেখতে পারেন রাশিয়ার কাছে ১৪ বছরের ছাড় দেওয়ার নীতির ফল কী হয়েছে। সেখানে গিয়ে তাঁরা যেন নিজের চোখে নির্যাতিত ইউক্রেনীয় নারী-পুরুষদের দেখে আসেন।
    • ভলোদিমির জেলেনস্কি, ৩ এপ্রিল ২০২২।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]