আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা
আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা (আনু. ১৮৮০ - ১৯৭০) ছিলেন রুশ সাম্রাজ্যের কংগ্রেস, পোল্যান্ডের পিনস্কে জন্মগ্রহণকারী একজন ঔপন্যাসিক, যিনি পরবর্তীতে নিউ ইয়র্ক সিটিতে অভিবাসিত হন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- এটি একটি বিষাদময় সমাপ্তির গল্প। আর আমিও যথেষ্ট আমেরিকান হয়ে উঠেছি বিষাদময় সমাপ্তিকে ভয় পাওয়ার জন্য। তবুও আমাকে আমার সব কাজ ফেলে এটি লিখতে হচ্ছে।
- "ওয়াইল্ড উইন্টার লাভ"-এর শুরু, হাংরি হার্টস অ্যান্ড আদার স্টোরিজ-এ অন্তর্ভুক্ত।
রেড রিবন অন এ হোয়াইট হর্স (১৯৫০)
[সম্পাদনা]- একজন ভিখারিকে দশ পয়সা দিলে সে আপনাকে আশীর্বাদ করবে। তাকে এক ডলার দিলে সে আপনাকে অভিশাপ দিবে আপনার বাকি সম্পদটুকু না দেওয়ার জন্য। দারিদ্র্য হলো এমন এক থলি যার তলা ফুটো।
- খণ্ড ১, অধ্যায় ৯।
- এই প্রাচীন অতীত যেটিকে আমি যৌবনের নির্মমতায় তুচ্ছজ্ঞান ও প্রত্যাখ্যান করেছিলাম, এখন তা আমার টুঁটি চেপে ধরেছে। আমি আসলে কখনোই এটি থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারিনি। আমি কেবল তা-ই অস্বীকার করেছি যা আমার রক্ত ও অস্থিমজ্জায় মিশে ছিল। "দারিদ্র্য... একটি অলঙ্কার . . . যেন সাদা ঘোড়ার ওপর লাল ফিতা. . . ।" ওগুলো আমার বাবার কথা ছিল।
- পোল্যান্ড প্রসঙ্গে, খণ্ড ১, অধ্যায় ৯।
- ...এটি ছিল সাধারণ দয়ার এক অভিব্যক্তি, কিন্তু তা আমার ভেতরের এমন কিছু স্রোতকে আলোড়িত করেছিল যা আগে কখনোই স্পর্শ করা হয়নি। জার শাসিত রাশিয়া থেকে পিঠে বয়ে নিয়ে আসা আঘাতের পাহাড় এবং আমেরিকায় চাকরি খুঁজতে গিয়ে জমে ওঠা আঘাতগুলো অদৃশ্য হয়ে গেল। আমাকে গ্রহণ করা হয়েছে, একজন মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে.... আমি সমতার রুটি ও মদ্যের স্বাদ পেয়েছিলাম। (খণ্ড ২, অধ্যায় ১)
- "...কিন্তু আমার লেখালেখির ক্যারিয়ারের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল একটি নিষ্ঠুর লড়াই, যেন ক্ষুধার্ত শিশুদের কাছ থেকে ওটমিল চুরি করার মতো।" এমনকি ওয়েটাররাও প্লেট সরানো বন্ধ করে হাতে ট্রে নিয়ে হাঁ করে দাঁড়িয়ে শুনছিল। একটি স্বীকারোক্তি অন্যটির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। "হাংরি হার্টসের জন্য সিনেমা থেকে পাওয়া টাকা যখন আমি ব্যাংকে রাখলাম, হঠাৎ সম্পদশালী হওয়ার সেই উল্লাস বিবেকের তাড়নায় ঢাকা পড়ে গিয়েছিল: একজন ভুড়িওয়ালা মালিক যে অসহায় শ্রমিকদের শ্রম শোষণ করে এবং একজন লেখক যে গরিবদের নিয়ে লিখে ধনী হয় - তাদের মধ্যে পার্থক্য কী?" যখন হাততালি এল, আমার মনে হলো আমি অন্ধকার থেকে আলোতে বেরিয়ে এসেছি। (খণ্ড ২, অধ্যায় ৪)
খণ্ড ৩, অধ্যায় ১২: "রেড রিবন অন এ হোয়াইট হর্স"
[সম্পাদনা]- অনেক বছর আগে হলিউডে স্যামুয়েল গোল্ডউইন আমাকে বলেছিলেন যে একটি ভালো গল্প বলার জন্য আপনাকে এটি শুরু করার আগেই এর শেষ জানতে হবে। আর আপনি যদি শেষটি জানেন তবে আপনি পুরো প্লটটি একটি বাক্যে সারসংক্ষেপ করতে পারবেন। কিন্তু লেখা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে তা জানার আগেই আমি সবসময় লিখতে ঝাঁপিয়ে পড়তাম। যদি কোনো গল্প জীবন্ত হতো, তবে লিখতে লিখতেই সেটি নিজের পথ করে নিত।
- আমি কাদা এবং তারার মাঝে নিরাপত্তা খুঁজেছি, এটি খুঁজেছি হলিউডের দ্রুত অর্জিত ধন ও গৌরবে এবং ডব্লিউ.পি.এ.-এর নিরাপত্তা মজুরিতে। আমি নিজের ভেতর ছাড়া সব জায়গায় এটি খুঁজেছি। হঠাৎ আমার সেই জাহাজডুবি হওয়া নাবিকের মতো মনে হলো যাকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল, যে জানত না সে যে স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল তা ছিল মিষ্টি জল।
- ট্রেনে বসে যখন আমি আমার অপমানের মুখোমুখি হলাম, আমি দেখলাম যে হলিউড আমার সাফল্য ছিল না, আবার আমার বর্তমান দারিদ্র্য ও পরিচয়হীনতাও ব্যর্থতা নয়। আমি দেখলাম যে "সাফল্য", "ব্যর্থতা", "দারিদ্র্য", "সম্পদ" ছিল কেবল দামের ট্যাগ, বাজারের আর্থিক মূল্য যা আমাকে বছরের পর বছর ধরে মোহাচ্ছন্ন এবং বিপথে চালিত করেছিল।
- দীর্ঘক্ষণ আমি স্থির হয়ে বসে চলন্ত ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে থাকলাম এবং প্রতিটি স্বতন্ত্র আত্মার একাকীত্বের কথা চিন্তা করলাম। মানুষের একাকী সংগ্রাম, তার হাতে থাকা সাহসের সামান্য পুঁজি নিয়ে এক মহাবিশ্বের বিরুদ্ধে - যা তার আশা এবং ভয় নিয়ে কিছুই পরোয়া করে না।
- সুখের একটি উষ্ণ ঢেউ আমার ভেতরে উপচে পড়ল। আগে প্রায়ই আমি সুখী হওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু এই সুখ এখন এল বিনা আহ্বানে, অনিচ্ছাকৃতভাবে, যেন আমি যে নরকগুলোর মধ্য দিয়ে গিয়েছি সেগুলো কোনো এক গোপন দরজা খুলে দিয়েছে। যখন আমি স্বীকৃতির জন্য ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্থ হয়ে ঘুরে বেড়াতাম, তখন কেন আমার কোনো আভাস মেলেনি যে এই শান্ত আনন্দ, এই অভয়ারণ্য আমার জন্য অপেক্ষা করছে যখন আমি আবার পরিচয়হীনতায় ডুবে যাব? আমাকে দূর দেশে যেতে হয়নি, গৌরবের জন্য ঘাম ঝরাতে হয়নি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হাসির জন্য কসরত করতে হয়নি। আমি যা কিছু হতে পারতাম এবং সত্যের যে আভাসগুলো আমি সব জায়গায় খুঁজেছি, তা আমার নিজের ভেতরেই ছিল। যে শক্তি ঘাস জন্মায়, ফল পাকায় এবং পাখিকে উড়তে পথ দেখায়, তা আমাদের সবার ভেতরেই আছে। যখনই কোনো মানুষ সেই অভ্যন্তরীণ শক্তি সম্পর্কে সচেতন হয়, সে ভাগ্যের যে কোনো দুর্ঘটনা যা তার বাহ্যিক জীবনকে শাসন করে - তার উর্ধ্বে উঠতে পারে এবং নিজের পরাজয় থেকে নিজেকে বারবার নতুন করে সৃষ্টি করতে পারে। গতকাল আমি একজন আনাড়ি, একজন মূর্খ, নিজের অন্ধ বিনাশকারী ছিলাম, যা জানতাম না তার দিকে হাত বাড়িয়েছিলাম এবং কেবল অজ্ঞতার কারণে সেটিকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলাম। আজ হাজারো ব্যর্থতার জ্ঞান আমাকে আমার অন্ধকার থেকে জন্ম নেওয়া এই আলো থেকে দূরে রাখতে পারবে না; এখানে, এখন।
ব্রেড গিভার্স: এ স্ট্রাগল বিটুইন এ ফাদার অফ দ্য ওল্ড ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড এ ডটার অফ দ্য নিউ (১৯২৫)
[সম্পাদনা]- আমি রাতের খাবারের জন্য আলু ছিলা শুরুই করেছিলাম যখন আমার বড় বোন বেসি ভেতরে এল, তার চোখ জোড়া ক্লান্ত ও উদাস। সে সিঙ্কের পাশে বেঞ্চে বসে পড়ল এবং দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল।
তার দিকে এক পলক তাকিয়েই আমি বুঝলাম সে এখনও কাজ পায়নি। আমি আলু ছিলে যাচ্ছিলাম কিন্তু আমার হাত কী করছিল আমি আর জানতাম না। আমি শুধু তার ক্লান্ত চোখের অন্ধকার যন্ত্রণা অনুভব করছিলাম।
আমার বয়স তখন দশ বছর। কিন্তু সব সময় ঘরের দুশ্চিন্তা আমার হৃদয়ে ভারী হয়ে থাকত যেন আমিই মা। আমি জানতাম যে বাড়িওয়ালা সেদিন সকালে ভাড়ার জন্য এসে চিল্লাপাল্লা করে গেছে। আর পুরো পরিবার তাদের ভরণপোষণের জন্য বেসির বেতনের ওপর ঝুলে ছিল। যদি সে দ্রুত কাজ না পায় তবে সারা দুনিয়ার লজ্জা ও হাসাহাসির মাঝে আমাদের রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হবে। (শুরুর পঙক্তিমালা)
- অসীম শান্তির তারারা যেন তাদের নিরাময়কারী আলো আমার ভেতরে ঢেলে দিচ্ছিল। আমি কারাবন্দী, অসুস্থ এবং সৃষ্টির শুরু থেকে যারা কষ্টের শিকার - তাদের কথা ভাবলাম যারা শক্তির জন্য এই তারাগুলোর দিকে তাকিয়েছিল। যে যন্ত্রণার সাক্ষী এই তারারা শতাব্দী ধরে থেকেছে, তার কাছে আমার এই সামান্য দুঃখ কী? তাদের কত কাছে মনে হচ্ছিল, কত দয়ালু। আমার তিক্ত আঘাত যেন ছোট হয়ে ঝরে পড়ল। আমাকে যদি একাই এগিয়ে যেতে হয়, তবুও আমার সাথে চলার জন্য এই নীরবতা এবং উচ্চাকাশের তারারা তো থাকবে। (পৃষ্ঠা ২২০)
চিলড্রেন অফ লোনলিনেস (১৯২৩)
[সম্পাদনা]ছোটগল্প সংকলন
- শিল্পকলা সূর্যালোক এবং সৌন্দর্যের মতো মুক্ত হওয়া উচিত। একজন শিল্পীর একমাত্র প্রতিদান হলো ক্ষুধার্ত হৃদয়গুলোকে তৃপ্ত করার সুযোগ পাওয়া। ("ব্রাদার্স")
- একজন বোবা, নির্বাক মানুষ হিসেবে আমি কথা বলছি। লাখ লাখ অভিবাসীর একজন যারা একটুখানি সহমর্মিতার আশায় আপনাদের দ্বারে হৃদয় আছড়ে মরছে। ("আমেরিকা অ্যান্ড আই"-এর শুরু)
- আগামীর আমেরিকানরা, যে আমেরিকা প্রতিদিন আরও নিকটবর্তী হচ্ছে, তারা এতটাই জ্ঞানী, দয়ালু ও বন্ধুসুলভ হবে যে তাদের দ্বারে আসা শেষ আগন্তুককেও যেন তার উপহার নিয়ে বৃথা ফিরে যেতে না হয়। ("আমেরিকা অ্যান্ড আই")
- আমেরিকান ম্যাগাজিনগুলো পড়া শুরু করার পর থেকেই একটি জ্বলন্ত প্রশ্ন আমাকে দগ্ধ করছে: কেন কেবল শিক্ষিত মানুষের চিন্তাগুলোই লেখা হয়? কেন মাঝে মাঝে একজন সেবিকা বা দারোয়ান বা কয়লা শ্রমিকের চিন্তা বিশ্বের সামনে আসবে না? আমরা যারা বিশ্বের কঠোর পরিশ্রমগুলো করতে বাধ্য হই এবং স্কুলের জন্য সময় না থাকায় যাদের অজ্ঞ মনে করা হয়, আমরাও অনেক নতুন ও ভিন্ন কিছু বলতে পারতাম যদি কেবল আমাদের কথা শোনানোর সুযোগ দেওয়া হতো।
খুব কমই আমি কোনো দোকানের মেয়ে বা ধোপানিকে নিয়ে লেখা গল্প খুঁজে পেতাম। কিন্তু সেগুলো প্রকৃত গল্প ছিল না। উচ্চবিত্তরা আমাদের যেভাবে দেখে সেগুলো ছিল তারই বিকৃত ছবি। সেগুলো আমাদের মতো ছিল না। গরিবদের সম্পর্কে ধনীদের জ্ঞান যেমন অবাস্তব, ওগুলোও তেমনই ছিল। প্রায়ই আমি সেসব গুরুত্বহীন মসৃণ গল্পের সাবলীল লেখা পড়তাম এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করতাম, বলার মতো কিছুই নেই এমন অনেক শিক্ষিত মানুষ কীভাবে শব্দগুলোর এমন সহজ প্রবাহ দিয়ে সেই শূন্যতাকে ফুটিয়ে তোলে, অথচ আমি যার ভেতরে বলার মতো এত তীব্র আকুতি রয়েছে আমি কিছুই বলতে পারি না?
আমি যেন রুদ্ধ কণ্ঠস্বরে ভরা এক কারাগার ছিলাম, যা শোনার জন্য আমার মস্তিষ্কে আছড়ে পড়ছিল। যেই মুহূর্তে আমি একটি কণ্ঠস্বর শুনতে চাইতাম, আরও লাখো কণ্ঠস্বর শোনার জন্য চিৎকার করে ছুটে আসত, যতক্ষণ না আমি এতটাই উত্তেজিত ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়তাম যে কী বা কোথায় তা আর বুঝতে পারতাম না।- "অ্যান ইমিগ্র্যান্ট অ্যামাং দ্য এডিটরস"-এর শুরু।
- বসন্তের হাওয়া বইছিল। কিন্তু গেটোর অন্ধকার ছায়া থেকে বেরিয়ে আসা কেউ এমন উজ্জ্বল ও আনন্দময় বসন্তের স্বপ্ন কখনো দেখেনি। পৃথিবী আর আকাশ যেন এক অন্তহীন ছুটির আনন্দে গেয়ে উঠছিল। রেবেকা ইউডেলসনের মনে হচ্ছিল সে হঠাৎ এক রূপকথার জগতে পা রেখেছে যেখানে দুঃখ বা অসুস্থতার ছায়া নেই, যেখানে দারিদ্র্যের কালো অভিশাপ কখনো ছিল না। ("ড্রিমস অ্যান্ড ডলারস"-এর শুরু)
- স্ত্রীর শক্ত করে চেপে রাখা মুখের ওপর এক পলক তাকিয়েই রেব র্যাভিনস্কি বুঝতে পারলেন তার মাথার ওপর ক্রোধের এক প্রবল ঝড় আছড়ে পড়তে যাচ্ছে।
"নু, আমার অন্নদাতা? আমার ভাড়ার টাকা এনেছ?" দাঁতে দাঁত চেপে সে তার দিকে প্রশ্নটি ছুড়ে দিল। ("দ্য লর্ড গিভেথ"-এর শুরু)
- আমার নিজেকে এমন এক ক্ষুধার্ত মানুষের মতো মনে হয় যে প্রথমবার খাবার দেখে এতটাই বিভ্রান্ত যে সে আইসক্রিম, রোস্ট এবং মেইন ডিশ - সব এক গ্রাসেই গিলে ফেলতে চায়। যুগ যুগ ধরে রাশিয়ায় আমার লোকজনের কণ্ঠস্বর ছিল কোণে পড়ে থাকা ঝাড়ুর লাঠির মতো। তাদের যা কিছু চিন্তা বা অনুভূতি তা প্রকাশ করার সুযোগ ছিল পায়ের নিচের ধুলোর মতোই অকিঞ্চিৎকর।
আর এখানে আমেরিকায় তাদের সাথে এক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। তারা এখন প্রকৃত মানুষের মতো মাথা উঁচু করতে পারে। শত বছরের দমনের পর তাদের কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমি কোথা থেকে শুরু করব তা নিয়ে খুব বেশি উত্তেজিত হওয়া কি আশ্চর্যের কিছু? সব ক্ষুধার্ত ও অতৃপ্ত বছরগুলো আমার গলায় ভিড় করে আমাকে রুদ্ধ করে দেয়। আমি জানি না এটা আনন্দ নাকি বিষাদ যা আমাকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছে। আমি শুধু অনুভব করি যে আমার এই মুক্তি তাদের সবার যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে নিংড়ে আনা যারা আমার পেছনে বাস করে মরে গেছে, যাদের নির্বাকতা হৃদয়ের ওপর পাথরের মতো চেপে বসে ছিল। ("মোস্টলি অ্যাবাউট মাইসেলফ"-এর শুরু)
হাংরি হার্টস (১৯২০)
[সম্পাদনা]ছোটগল্প সংকলন
- "আমার হৃদয়টা যেন এক কারাগারের মতো দমবন্ধ হয়ে আসছে! আমি একটু ভালোবাসার জন্য মরে যাচ্ছি আর আমার কেউ নেই - কেউ নেই!" ধুলোবালিমাখা বেজমেন্টের জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে শেনাহ পেস্সাহ বিলাপ করছিল। ("উইংস"-এর শুরু)
- "...যখন আমি কেবল পড়তে শুরু করি আমি ভুলে যাই আমি এই পৃথিবীতে আছি। উচ্চতর চিন্তাগুলো আমাকে ডানায় ভর করে উড়িয়ে নিয়ে যায়।" ("উইংস")
- যাদের কিছুই নেই এমন সব মানুষের মতো আমিও স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে বেঁচে থাকতাম। ("দ্য মিরাকল"-এর শুরু)
- বগলে নিজের জাগতিক সব সম্বলভরা সুটকেস নিয়ে সোফি স্যাপিনস্কি গেটোর কোলাহলপূর্ণ ভিড়ের মধ্য দিয়ে পথ করে নিচ্ছিল। ঠেলাগাড়ির হকাররা চিৎকার ও অঙ্গভঙ্গি করছিল। বাজারের ব্যাগ হাতে মহিলারা একে অপরকে ধাক্কা দিচ্ছিল, চোখে শুধু একটিই চিন্তা - কীভাবে খাবার এক পয়সা সস্তায় পাওয়া যায়। একই রকম তীব্র ব্যাকুলতায় সোফি প্রতিটি বস্তিঘর দেখছিল, তার কমে আসা সামর্থ্যের মধ্যে যথেষ্ট সস্তা একটি ঘর খুঁজছিল। ("মাই ওন পিপল"-এর শুরু)
- আমার নেওয়া প্রতিটি শ্বাস ছিল ভয়ের শ্বাস, প্রতিটি ছায়া ছিল দমবন্ধ করা আতঙ্ক, প্রতিটি পদধ্বনি আমার হৃদয়ে কস্যাকদের ভারী বুটের মতো আঘাত করছিল। ("হাউ আই ফাউন্ড আমেরিকা"-এর শুরু)
- বোধশক্তি ছাড়া অভিবাসীরা চিরকাল রুদ্ধ হয়ে থাকবে - আমেরিকায় এক আগন্তুক হিসেবে। যতক্ষণ না আমেরিকা অভিবাসীর হাতকে প্রশিক্ষিত করার পাশাপাশি তার হৃদয়কেও মুক্ত করতে পারবে ততক্ষণ সে চিরকাল নিজের ভেতর গুটিয়ে থাকবে, তার আত্মার ভেতরের অব্যবহৃত উপহারগুলোর প্রাচুর্যেই সে ক্ষয় হয়ে যাবে। ("হাউ আই ফাউন্ড আমেরিকা")
- শেনাহ পেস্সাহ বস্তির সিঁড়ি মুছতে মুছতে থামল। "আহ!" সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। "সে এতকাল আগে চলে যাওয়ার পরও কীভাবে তার মুখটা আমার ভেতর এভাবে জ্বলজ্বল করে? তার কথা ভাবলে আমার ভেতরের নির্জীবতা কীভাবে জীবন নিয়ে জ্বলে ওঠে!" ("হাঙ্গার"-এর শুরু)
"দ্য ফ্যাট অফ দ্য ল্যান্ড"
[সম্পাদনা]- এতটাই সরু এক এয়ার-শ্যাফট যে খালি হাতেই আপনি পাশের দেয়ালে স্পর্শ করতে পারেন, সেখান দিয়ে ঝুঁকে পড়ে হান্নাহ ব্রেইনেহ তার প্রতিবেশীর জানলায় টোকা দিলেন। (শুরুর পঙক্তিমালা)
- "পৃথিবী হলো একটি চাকা যা সবসময় ঘুরছে।"
- একজন পুরুষ যত উঁচুতে পৌঁছাতে চায় তত উঁচুতে যাওয়ার স্বাধীনতা তার আছে; কিন্তু আমি আমার সব স্টাইল এবং উদ্যম সত্ত্বেও আমার সমকক্ষ কোনো পুরুষ পাই না কারণ একটি মেয়েকে সবসময় তার মা দিয়ে বিচার করা হয়।
- আমাদের সমস্যা হলো মধ্যযুগের গেটো এবং বিংশ শতাব্দীর সন্তানদের একই ছাদের নিচে বাস করতে হয়।
আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- মিস ইয়েজিয়ারস্কার বই পড়া আমাকে সংবিধানের প্রস্তাবনার সেই বিখ্যাত ও অদ্ভুত উক্তিটি নিয়ে আবারও ভাবিয়ে তুলেছে যা মানুষের "সুখের অন্বেষণ"-এর স্বতঃসিদ্ধ অধিকার সম্পর্কে বলে; কারণ আমি এমন অন্বেষণের খুব কম বর্ণনা পড়েছি যা তাঁর মতো এতটা সত্য ও মরমী।
- ডব্লিউ. এইচ. অডেনের ভূমিকা: রেড রিবন অন এ হোয়াইট হর্স
- মেরি অ্যান্টিন এবং অন্য একজন অভিবাসী ইহুদি লেখক আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কার জন্য ত্যাগগুলো ছিল ব্যয়বহুল কিন্তু তা কাঙ্ক্ষিত মনে হয়েছিল; যা পেশাগত সাফল্য এবং মার্কিন পরিচয়ের পাসপোর্ট হিসেবে কাজ করেছিল। ইদ্দিশ সংস্কৃতি এবং ইয়াঙ্কি অভিজ্ঞতার সেতুবন্ধনকারী প্রজন্মের অংশ হিসেবে অ্যান্টিন এবং ইয়েজিয়ারস্কা অভিবাসী ইহুদি পরিবারের ভেতরের সংগ্রাম এবং পরিবর্তনগুলো আবেগ দিয়ে বর্ণনা করেছেন। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় আগে আত্মজীবনীমূলক 'প্রমিসড ল্যান্ড' এবং 'ব্রেড গিভার্স' উপন্যাসটি পরবর্তী সময়ের লেখক যেমন টিলি ওলসেন, গ্রেস পেলি, সিনথিয়া ওজিক, নর্মা রোজেন এবং জোয়ান গ্রিনবার্গের উদ্বেগের পূর্বাভাস দিয়েছিল।
- ইভলিন অ্যাভেরি, "ওহ মাই 'মিশপোকা'! সাম জিউইশ উইমেন রাইটার্স ফ্রম অ্যান্টিন টু কাপলান ভিউ দ্য ফ্যামিলি," স্টাডিজ ইন আমেরিকান জিউইশ লিটারেচার ৫ (আলবানি: স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক প্রেস, ১৯৮৬), ৪৪-৪৮
- তিনি সারা জীবনই এক বেমানান মানুষ ছিলেন। বছরের পর বছর তিনি নিজেকে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে বেকারির জানলার কাঁচে নাক চেপে ধরে থাকতে দেখেছেন: ক্ষুধার্ত এবং ব্রাত্য। যা-ই ঘটুক না কেন তিনি নিজেকে প্রান্তিক মনে করতেন। কোনো জায়গায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারাই তার পরিচয় হয়ে উঠেছিল এবং পরবর্তীতে এটিই তার লেখার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। লেখা শুরু করার পর এটি তার প্রয়োজনীয়তা হয়ে ওঠে। 'রেড রিবন অন এ হোয়াইট হর্স'-এ তিরিশের দশকে নিজেকে আবার দরিদ্র হিসেবে খুঁজে পাওয়ায় তিনি যে স্বস্তি অনুভব করেছেন তা স্পষ্ট। অন্যান্য প্রতিভাবান নিউরোটিকদের সাথে তার এই মিল ছিল - জ্যাক কেরুয়াক, জর্জ গিসিং, জিন রিস - যারা প্রায় একই কারণে নিজেদের দারিদ্র্যপীড়িত এবং সমাজচ্যুত করে রাখতে পেরেছিলেন... তিনি বিশ্বের মহান প্রতিবাদী বা 'রিফিউজ-নিক'দের একজন। তিনি জীবনের তুচ্ছতা এবং ক্ষুদ্রতাকে মেনে নিতে অস্বীকার করেন। তিনি আত্মার একাকীত্বের সাথে আপস করতে অস্বীকার করেন। তিনি আবেগীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে অস্বীকার করেন। তিনি একজন অভিবাসী? তিনি একজন নারী? তার ক্ষুধা কি সর্বভুক? অনধিকার প্রবেশকারী? ক্লান্তিকর? তবুও তিনি অস্বীকার করেন। এবং তা বড় পরিসরে। আমরা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারি না। 'অ্যানশিয়েন্ট মেরিনার'-এর মতো চমৎকারভাবে আচ্ছন্ন করে তাঁর কথাগুলো লেখা হওয়ার সত্তর বছর পরও আমাদের কলার ধরে টেনে ধরে। সেগুলো আমাদের নাড়া দেয় এবং দাবি করে বাধ্য করে ও মনে করিয়ে দেয়। মনোযোগ দিতেই হবে। "আমি নিজের থেকে একজন মানুষ তৈরি করতে চাই!" পারফরম্যান্সটি বিস্ময়কর।
- ভিভিয়ান গোর্নিকের ভূমিকা: হাউ আই ফাউন্ড আমেরিকা (১৯৯১)
- "আমার একটিই গল্প আর তা হলো ক্ষুধা।" আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কার 'চিলড্রেন অফ লোনলিনেস' (১৯২৩)-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র এভাবেই ঘোষণা করেছিল। পূর্ব ইউরোপ থেকে পরিবারের সাথে অভিবাসিত হয়ে ইয়েজিয়ারস্কা শতাব্দীর শুরুতে নতুন আসা ইহুদি আমেরিকানদের প্রজন্মের ক্ষুধার কথা লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁর উপন্যাস, ছোটগল্প এবং আত্মজীবনীমূলক লেখাগুলো দারিদ্র্যের আক্ষরিক ক্ষুধা এবং নিরাপত্তা, শিক্ষা, সাহচর্য, ঘর ও অর্থের রূপক ক্ষুধা - সংক্ষেপে আমেরিকান ড্রিমের ক্ষুধার প্রাণবন্ত চিত্র তুলে ধরে।
- আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা যিনি ইদ্দিশ ঘেঁষা ইংরেজিতে ইহুদি অভিবাসীদের গল্প শুনিয়েছেন; বিশেষ করে ভালোবাসা, স্বাধীনতা এবং শিক্ষার জন্য নারীদের সংগ্রামের কাহিনী। নিজের কাজ সম্পর্কে তিনি লিখেছেন: "এটি আমি নই - এটি তাদের কান্না - আমার আপন লোকজন - আমার ভেতর কাঁদছে! হান্নাহ ব্রেইনেহ, শ্মেনড্রেক, তারা আমার ভেতর শান্ত হবে না যতক্ষণ না পুরো আমেরিকা শুনতে থামছে।"
- মেলানি কায়ে/কান্তরোভিটজ, "সাম নোটস অন জিউইশ লেসবিয়ান আইডেন্টিটি" (গ্রীষ্ম ১৯৮০-শীত ১৯৮১), নিস জিউইশ গার্লস: এ লেসবিয়ান অ্যান্থলজি
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ইহুদিদের যে বহুবিধ বিকল্প ছিল তা বেশিরভাগ মার্কিন আশকেনাজি ইহুদিরা খুব কমই জানেন এমনকি স্বীকারও করেন না... দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে অনেক ইদ্দিশভাষী ইউরোপীয় ইহুদি ধর্মীয় রীতিনীতি এবং ধর্মনিরপেক্ষতা উভয়ই প্রত্যাখ্যান করছিলেন। আত্মীকরণের আগ্রহে তারা সচেতনভাবে তাদের ইহুদি ভাষা ও সংস্কৃতি ত্যাগ করেন। 'দের ফরভার্টস' (দ্য জিউইশ ডেইলি ফরওয়ার্ড)-এর সুপরিচিত চিঠিপত্র (বিন্টল ব্রিফ), তিরিশের দশকে আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা ইংরেজি গল্প এবং চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকের কাদিয়া মালোডাউস্কি আরও আধুনিক ইদ্দিশ গল্পগুলোতে এই আত্মীকরণের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা পাওয়া যায়।
- ইরিনা ক্লেপফিশ, "খালোইমেস/ড্রিমস ইন প্রগ্রেস: কালচার, পলিটিক্স, অ্যান্ড জিউইশ আইডেন্টিটি", ড্রিমস অফ অ্যান ইনসোমনিয়াক: জিউইশ ফেমিনিস্ট এসেস, স্পিচেস অ্যান্ড ডায়াট্রিবস (১৯৯০)
- অভিবাসী জীবন সামগ্রিকভাবেই শোচনীয় যেমনটি এই যাত্রার অভিজ্ঞতা সম্পন্নদের সাহিত্যে দেখা যায়। আব্রাহাম কাহান, হেনরি রথ এবং আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা ইহুদি উপন্যাসগুলোতে এই চিত্রটি প্রায়ই অত্যন্ত নিদারুণ।
- ইলান স্টাভান্স, অ্যালান অ্যাস্ট্রো সম্পাদিত ইদ্দিশ সাউথ অফ দ্য বর্ডার: অ্যান অ্যান্থলজি অফ ল্যাটিন আমেরিকান ইদ্দিশ রাইটিং-এর ভূমিকা (২০০৩)
- বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের অভিবাসী লেখকরা তখনও আমেরিকান পাঠকদের কাছে ইহুদি অভিজ্ঞতা তুলে ধরার শৈল্পিক সমস্যা নিয়ে কাজ করছিলেন। মেরি অ্যান্টিনের চেয়ে অনেক বেশি লড়াকু লেখক আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা তাঁর অভিবাসী ঘর ছেড়ে আসার গল্পের বাইরে আর যেতে পারেননি। যেখানে অ্যান্টিন নিজেকে একজন মার্জিত লেখকে "রূপান্তরিত" করেছিলেন এবং কাহান ইদ্দিশকে একটি বিদেশি ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে ইংরেজ পাঠকদের সাথে মানিয়ে নিয়েছিলেন সেখানে ইয়েজিয়ারস্কা তাদের কোলাহল এবং ভাঙা ইংরেজি নকল করে অভিবাসী জীবনের রাস্তাগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন। "ব্রেড গিভার্স"-এর দশ বছর বয়সী শুঁটকি বিক্রেতা দম্ভ করে বলে, "আমার কণ্ঠস্বর ছিল ডিনামাইটের মতো। সব হকারের চেয়ে জোরে, দরাদরি আর বেচাকেনার সব চিল্কারের চেয়েও জোরে।" মার্জিত কর্তৃপক্ষের প্রতি এবং দারিদ্র্যের অপমানের বিরুদ্ধে ইয়েজিয়ারস্কার প্রতিরোধ তাঁর গদ্যে ফুটে ওঠে এবং পাঠকদের তাঁর সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের স্তরে টেনে নিয়ে যায়। কিন্তু যখনই তাঁর আত্মজীবনীমূলক নায়িকারা তাদের পাড়া ছেড়ে নতুন দামী পোশাকে চলাফেরা শুরু করে তখনই লেখক সেই ইদ্দিশ ঝাঁঝটি হারিয়ে ফেলেন যা তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল।
- রুথ উইস, দ্য মডার্ন জিউইশ ক্যানন (২০০০)
সিডনি ওয়াইনберг, দ্য ওয়ার্ল্ড অফ আওয়ার মাদার্স: দ্য লাইভস অফ জিউইশ ইমিগ্র্যান্ট উইমেন (১৯৮৮)
[সম্পাদনা]- আমেরিকান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং মা-বাবা ও তাঁদের ঐতিহ্যের মনস্তাত্ত্বিক টানের মধ্যকার এই উত্তেজনা আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কার উপন্যাসগুলোতে সবচেয়ে ভালো বর্ণিত হয়েছে। ১৯২০ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে প্রকাশিত ছয়টি বইয়ে ইয়েজিয়ারস্কা গেটোর নোংরা জীবন এবং ময়লা, দারিদ্র্য ও প্রাচীন বিশ্বজনীন পারিবারিক বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রামের কথা লিখেছেন। তাঁর কাজগুলোতে স্বাধীনতা এবং সৌন্দর্যের জন্য এক তরুণীর আকুতি ফুটে উঠেছে যা অ-ইহুদি বিশ্বের মাধ্যমে মূর্ত হয় এবং প্রতিটি গল্পের সমাপ্তি ঘটে এই উপলব্ধির মাধ্যমে যে জীবনের উৎস আসলে সেই জগতেই নিহিত যা একসময় প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। "এই সব বছর" তিনি 'অল আই কুড নেভার বি'-তে লিখেছেন, "আমি আমার চালচলন ও প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছুটা লজ্জিত হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। আমি অ-ইহুদিদের কাছ থেকে তাদের নিচু স্বর, তাদের শান্ত ভাব ও গাম্ভীর্য অর্জনে এতই উদগ্রীব ছিলাম যে আমার যা ছিল - আমি যা ছিলাম - তা হারিয়ে ফেলেছি।" 'চিলড্রেন অফ লোনলিনেস'-এর তরুণীটি পর্যবেক্ষণ করে, "আমি পুরনো জগতের সাথে বাঁচতে পারছি না আবার নতুনের জন্যও আমি এখনও অনেক কাঁচা।" ইয়েজিয়ারস্কা যতটা না উপন্যাস লিখছিলেন তার চেয়ে বেশি লিখছিলেন আত্মজীবনী তাই তাঁর প্লটগুলো প্রায় অপরিবর্তিত আকারে বারবার ফিরে আসে। তিনি নিজের গল্প ছাড়া অন্য কিছু বলতে পারেননি কিন্তু সেই গল্পই তিনি এক তীব্র আবেগ দিয়ে লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস 'ব্রেড গিভার্স'-এর প্লট সম্পর্কে তিনি প্রযোজক স্যাম গোল্ডউইনকে ব্যাখ্যা করেছিলেন, "এটি হলো অপরাধবোধের প্রায়শ্চিত্ত। . . . নিজের জীবন যাপন করার জন্য আমাকে মায়ের অভিশাপ এবং বাবার উপদেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছিল: কিন্তু তাদের ছাড়া আমার কোনো জীবন ছিল না। যখন আপনি আপনার মা-বাবাকে অস্বীকার করেন আপনি আপনার পায়ের নিচের মাটি ও মাথার ওপরের আকাশকে অস্বীকার করেন। আপনি একজন আইন ভঙ্গকারী বা সমাজচ্যুত মানুষে পরিণত হন... আর এখন আমি এখানে - বিশৃঙ্খলায় হারিয়ে যাওয়া, দুই জগতের মাঝে ঘুরে বেড়ানো এক যাযাবর।"
- আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কার মতো কন্যারা যারা সর্বোপরি একজন "মানুষ" হওয়ার জন্য সতেরো বছর বয়সে ঘর ছেড়েছিলেন তাঁদের সেই আকাঙ্ক্ষা মা-বাবার কাছে ছিল অপরিচিত যাদের প্রধান চিন্তা ছিল বেঁচে থাকা।
- আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কার ছোটগল্প "হাঙ্গার"-এর এক তরুণী চোখ ছলছল করে মনে করেছিল, "সাভেলে আমি কত কষ্ট পেয়েছি। আমার কখনোই পেট ভরে খাওয়ার মতো খাবার ছিল না। পায়ে কখনো জুতো ছিল না। হাড়কাঁপানো শীতেও আমাকে খালি পায়ে চলতে হতো। তবুও আমি ওটাকে ভালোবাসি। আমি সেখানে জন্মেছি। আমি ওখানকার ঘরবাড়ি আর খড়ের চাল, কাদাভরা রাস্তা, গরু, মুরগি আর ছাগলগুলোকে ভালোবাসি। যা আর নেই তার জন্য আমার মন সবসময় কাঁদে।"
- "দ্য ফ্যাট অফ দ্য ল্যান্ড"-এ আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা এক দুর্ভাগা নারীর বর্ণনা দিয়েছেন যার সন্তানরা সফল হয়ে তাকে ডিল্যান্সি স্ট্রিট থেকে ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডে চলে যেতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু তাঁর আমেরিকান হয়ে যাওয়া সন্তানরা তাঁর কাছে অচেনা এবং এই নতুন বিলাসিতার মাঝে তিনি নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করেন এবং সর্বোপরি তাঁর পুরনো প্রতিবেশীদের অভাব অনুভব করেন। "এখানে আপটাউনে" তিনি বেড়াতে আসা এক বন্ধুকে বলেন, "পাশের মানুষটি একাকীত্বে মরে যাচ্ছে নাকি পাগল হয়ে যাচ্ছে তাতে কারও কিছু যায় আসে না। ডিল্যান্সি স্ট্রিটে আমাদের যেমনটা ছিল এখানে তেমন কিছুই নেই; সেখানে আমরা দরজা না ঠুকেই একে অপরের ঘরে ঢুকে যেতাম আর এক চিমটি লবণ বা রান্নার হাঁড়ি ধার নিতাম।" বন্ধুত্বে সান্ত্বনা ছিল এবং তা ছাড়া মহিলারা নিজেদের রিক্ত মনে করতেন।