আনোয়ার সাদাত
অবয়ব
আনোয়ার সাদাত (২৫ ডিসেম্বর ১৯১৮ – ৬ অক্টোবর ১৯৮১) একজন মিশরীয় রাজনীতিবিদ ছিলেন, যিনি ১৯৭০ থেকে ১৯৮১ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মিশরের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধ-এ মিশরের নেতৃত্ব দেন এবং পরবর্তীতে মিশর–ইসরায়েল শান্তিচুক্তি সম্পাদন করেন, যার জন্য তিনি ১৯৭৮ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- আজ আমি আপনাদের বলছি, এবং আমি সারা বিশ্বকে ঘোষণা করছি, আমরা ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আপনার সঙ্গে স্থায়ী শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। আমরা আপনাকে ঘিরে রাখতে চাই না, বা নিজেদেরকেও ঘিরে রাখতে চাই না ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিদ্বেষের গোলায়।
- সাদাত, আনোয়ার (২০ নভেম্বর ১৯৭৭)। মিসরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাতের কনেসেটে ভাষণ। জেরুজালেম। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১৮।
- আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বর্তমান প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব—শান্তির সন্ধানে কোনো প্রচেষ্টা অপূর্ণ না রাখা।
- সাদাত, আনোয়ার (১০ ডিসেম্বর ১৯৭৮)। নোবেল শান্তি পুরস্কার বক্তৃতা। স্টকহোম। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১৮।
- আমাদের লক্ষ্য এই অঞ্চলের জনগণের—বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের—নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে তারা স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারে… এটাই আমার অবস্থান।
- সাদাত, আনোয়ার (১০ ডিসেম্বর ১৯৭৮)। নোবেল শান্তি পুরস্কার বক্তৃতা। স্টকহোম। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১৮।
সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- নাসের ১৯৭০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে, তার সহকারী প্রেসিডেন্ট সাদাত কার্যভার গ্রহণ করেন। তিনি মাত্র ৬০ দিনের জন্য এই পদে থাকার কথা ছিল, কিন্তু প্রত্যাশার চেয়েও দীর্ঘ সময় তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। ক্ষমতা দৃঢ় করার পথে, তার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন নাসেরের বিশাল ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার একধরনের আবেগ দ্বারা চালিত ছিল। শাসনামলের শুরুতে সাদাতকে নিয়ে অনেক হাস্যরস করা হতো। “সাদাতের রাষ্ট্রপতির লিমুজিন একটি ট্রাফিক লাইটে থামে। সাদাত ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করেন: এখানে নাসের কোন দিকে ঘুরতেন? ড্রাইভার বলেন: বামে, মহামান্য। সাদাত বলেন: তাহলে বামের সংকেত দাও, তারপর ডানে ঘুরো।” অনেকেই বলতেন, সাদাত যেন নাসেরের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন—তবে একটি রাবার দিয়ে সবকিছু মুছে ফেলছেন। নাসের মিশরকে রাজতন্ত্র ও ঔপনিবেশিক শক্তি থেকে মুক্ত করেছিলেন। তিনি জাতীয়করণ করেছিলেন অর্থনীতিকে। সাদাত শুরু করেন তার তথাকথিত ইনফিতাহ, অর্থনৈতিক উন্মুক্তকরণ। তিনি নিয়ম শিথিল করেন, অর্থনীতিকে উদারীকরণ করেন, এবং বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহ দেন। যেখানে নাসের জনগণকে আহ্বান জানাতেন দেশ গঠনে অংশ নিতে, সাদাত উৎসাহ দেন মিশরীয়দের পাশের তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাড়ি দিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাতে। নাসের ছিলেন অনিচ্ছুক যোদ্ধা। সাদাত ১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাসে হঠাৎ করে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে সিনাই পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন। যদিও তিনি পুরোপুরি জয় পাননি, এই আক্রমণের প্রাথমিক সাফল্য জাতীয় গৌরব কিছুটা পুনরুদ্ধার করে।
- কিম ঘাত্তাস, Black Wave: Saudi Arabia, Iran, and the Forty-Year Rivalry That Unraveled Culture, Religion, and Collective Memory in the Middle East (২০২০)
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় আনোয়ার সাদাত সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।