আরিফ আজাদ
অবয়ব
আরিফ আজাদ (জন্ম: ৭ জানুয়ারি ১৯৯০) একজন সমকালীন বাংলাদেশী মুসলিম লেখক ও সাহিত্যিক। তিনি মূলত ধর্মতত্ত্ব, ইসলামি জীবনবোধ এবং আত্মউন্নয়নমূলক প্রবন্ধ ও উপন্যাস লিখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার প্রকাশিত প্রথম বই প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২০১৭ সালে প্রকাশের পর তিনি দেশব্যাপী খ্যাতি লাভ করেন। তার বইসমূহ টানা বেশ কয়েক বছর অমর একুশে বইমেলায় বেস্টসেলার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
উক্তি
[সম্পাদনা]- বস্তুবাদী দুনিয়া সুখ বলতে আমাদের যা চেনায় তা যে আদতে মরীচিকা, সেটা বুঝতেই আস্ত একটা জীবন পার হয়ে যায়।
- হায়াতের দিন ফুরালে, ৮ পৃষ্ঠা (লেখকের কথা)।
- আমি ভীষণভাবে বিশ্বাস করি – আত্মিকভাবে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা না গেলে কখনোই পরম পবিত্রতার সন্ধান লাভ সম্ভব নয়। আত্মার সেই শুদ্ধতার দিকে যুবক-যুবতীদের ধাবমান করতে আমি আত্মউন্নয়ন মূলক লেখায় হাত দিয়েছিলাম। যেহেতু যৌবনের সমস্যাগুলোর সাথে আমি পরিচিত, তাই এগুলোকে চিহ্নিত করা কঠিন কিছু নয়। আমি শুধু বিলিয়ে দিতে চাই সেসব সমস্যার সম্ভাব্য সঠিক চিকিৎসায়।
- এবার ভিন্ন কিছু হোক, ১৩ পৃষ্ঠা (লেখকের কথা)।
- যে আপনার শত্রুতা করে তথা আপনার ভালো চায় না এবং ক্ষতি করতে চায়, তার উপকার করা মানে এই নয় যে তাকে প্রশ্রয় দেওয়া বা তার কাছে হেরে যাওয়া, তা কিন্তু নয়। এতে বরং আপনার লাভের পরিমাণই বেশি। একটি শাশ্বত মানব জীবনের উদাহরণ আপনি তার সামনে এবং সমাজের সামনে স্থাপন করতে পারবেন।
- এবার ভিন্ন কিছু হোক, ১৬৩ পৃষ্ঠা (হৃদয়ের জানালাটা খুলে দাও না)।
- জীবনের প্রতিটি অর্জন আর ব্যর্থতাকে যদি আমরা নিক্তিতে মেপে বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে সবকিছুর মূলে এক ধ্রুব সত্য হিসেবে জড়িয়ে আছে সময়। সময় যেমন মানুষকে তিলে তিলে গড়ে তুলতে পারে, তেমনি মুহূর্তেই সব ভেঙে চুরমার করে দিতেও সক্ষম। মূলত আমরা প্রতিনিয়ত এক অদৃশ্য ক্ষতির গহ্বরে নিমজ্জিত আছি—যা কেবল সময়ের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই উপলব্ধি করা সম্ভব। সময় এমন এক অলৌকিক স্পর্শ, যা হয় আমাদের জীবনকে পূর্ণতায় ভরিয়ে দেয়, নয়তো অপূর্ণতার গ্লানিতে পর্যবসিত করে।
- এবার ভিন্ন কিছু হোক, ১৬৯ পৃষ্ঠা (জীবনের কম্পাস)।
- সত্যিকারের বীরপুরুষ তো তারাই, যারা ক্ষমতা হাতে পেয়ে বিনয়ী হয়, প্রতিশোধের সমস্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যারা ক্ষমতার চাদরে মুড়িয়ে নেয় জীবন – তারাই শক্তিশালী। কদর্যতার বিপরীতে, হিংসা আর বিদ্বেষের দুনিয়ায় আপনার এহেন মহানুভবতা সমাজের অনেকের জন্য হয়ে উঠবে অনুপ্রেরণা!
- এবার ভিন্ন কিছু হোক, ১৬৩ পৃষ্ঠা (হৃদয়ের জানালা টা খুলে দাও না)।
- সালাত হলো জীবনের এক অভেদ্য বর্ম। যতক্ষণ এই আধ্যাত্মিক সুরক্ষা-বলয় আমাদের অস্তিত্বের সাথে মিশে থাকে, ততক্ষণ বাইরের কোনো অশুভ শক্তি আমাদের আত্মাকে আহত করতে পারে না। রিপুর যাবতীয় প্ররোচনা এই বর্মে লেগে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সালাত যখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়, তখন কোনো মন্দ চিন্তা বা নেতিবাচক ভাবনা হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। যদি কখনো মনের অজান্তে কোনো অশুভ চিন্তা উঁকিও দেয়, তবে সালাতের প্রভাবে সৃষ্ট অনুশোচনা তৎক্ষণাৎ সেই ভাবনাকে চেতনার জগত থেকে সমূলে মুছে ফেলার প্রবল শক্তি জোগায়।
- এবার ভিন্ন কিছু হোক, ২০ পৃষ্ঠা (আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই)।
- আত্মমুগ্ধতার মোহে পড়ে স্বয়ং ইবলিশও তার শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়েছিল। নিজের গাঠনিক উপাদানের বড়াই করে সে মাটির তৈরি আদমকে তুচ্ছ ভেবেছিল; অথচ শ্রেষ্ঠত্বের প্রকৃত মাপকাঠি নির্ধারণের একক ক্ষমতা কেবল মহান আল্লাহর। কে শ্রেষ্ঠ হবে—আদম না ইবলিশ—তা বিচারের চূড়ান্ত অধিকার অন্য কারো নয়, বরং একমাত্র স্রষ্টার হাতেই ন্যস্ত।
- এবার ভিন্ন কিছু হোক, ৬৫পৃষ্ঠা (পতনের আওয়াজ পাওয়া যায়)।
- জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না—এই প্রচলিত ধারণাটি পুরোপুরি সত্য নয়। সময়ের স্রোত বহমান এবং একে রুদ্ধ করা অসম্ভব বলে হয়তো একজনের অনুপস্থিতিতে অন্যজনের দিনগুলো কেটে যায়; তবে সেই টিকে থাকাকে ঠিক কতটুকু 'জীবন' বলা যায়, তা বড় এক প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয়।
- হায়াতের দিন ফুরোলে, ১২৩ পৃষ্ঠা (চাঁদের জীবন)।
- আমি জানি — জান্নাত লাভ এবং প্রিয় নবীজির সাহচর্য পাওয়া প্রতিটি বিশ্বাসী হৃদয়ের পরম আকাঙ্ক্ষা। যারা অন্তরে জান্নাতের স্বপ্ন লালন করেন এবং নবীজির সুপারিশ লাভের তীব্র বাসনায় প্রার্থনা করেন, তাদের স্মরণে রাখা উচিত রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সেই অমিয় উপদেশ—'অধিক সিজদাহর মাধ্যমে আমাকে সহায়তা করো।' অর্থাৎ, নবীজির একান্ত সান্নিধ্য পেতে হলে সিজদাহর মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে নিমজ্জিত করা অপরিহার্য।
- হায়াতের দিন ফুরোলে, ১৪৬ পৃষ্ঠা (বাড়তি দুটো সিজদাহ)।
- একবার ভাবুন তো—ফুলের মতো পবিত্র ও নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও শেষ রাতের আকুতিতে যদি প্রিয় নবীজি (সা.)-এর চরণে ক্লান্তি নামে, তবে পাপে জর্জরিত আমাদের এই অবাধ্য কেন প্রভুর সামনে দাঁড়াতে কুণ্ঠা পায়? আমরা জীবনের অমূল্য প্রহরগুলো অবহেলা আর ঘুমের ঘোরে বিলীন করছি, অথচ শেষ রজনীর সেই অমিয় সুধাকে আপন করে নিতে পারছি না। ইবাদতবিমুখ এই মরীচিকা-তুল্য জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য তবে কোন শূন্যতায়—সেটিই আজ বিশাল এক হাহাকার।
- হায়াতের দিন ফুরোলে, ১৭৫ পৃষ্ঠা (চোখ ঘুম ঘুম রাত্রি নিঝুম নিঝুম নিরালায়)।
- আমাদের জীবন এক সংক্ষিপ্ত সফরের নাম। এই সফরের প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর কোনো অংশ যদি অনাদর পায় তবে জীবনভর আফসোস করতে হয়! অল্পসংখ্যক মানুষই সুযোগ পায় পুনরায় সেটাকে কাজে লাগাতে।
- হায়াতের দিন ফুরোলে, ৪০ পৃষ্ঠা (জীবনের ৫ সুতো)।
- দুনিয়ার দুঃখ কষ্ট আর যন্ত্রণাগুলো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলোকে পাশ কাটানো যায় না। ধৈর্য, তাওয়াক্কুল আর ইমানের শক্তি দিয়ে এগুলো মোকাবিলা করতে হয়। ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত—দুঃখের ধরণ যেমনই হোক না কেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে কেবল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই এই যাতনা থেকে মুক্তির একমাত্র উৎস। যেকোনো শোক বা কষ্ট উপশমের চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল তাঁরই হাতে ন্যস্ত।
- হায়াতের দিন ফুরোলে, ১৯ পৃষ্ঠা (দুঃখ - প্লাবন দিনে)।
- জীবনে এমন কিছু মায়াবী মুহূর্ত আসে, যার প্রতিটি পলক সযতনে অনুভব করতে হয়। রাসূল আরাবির (সা.) পুণ্যভূমিতে পৌঁছে আমি এক ঘোরলাগা আবেশে থমকে গেলাম। সম্পূর্ণ নতুন দেশ হওয়া সত্ত্বেও এই পবিত্র মাটি যেন আমায় পরম মমতায় আহ্বান জানাচ্ছিল। চারদিকে আযানের সুমধুর সুর আর আসমানের তারাদের ঝলমলে উপস্থিতি মিলে এক স্বর্গীয় আমেজ তৈরি করেছিল।
- উমরা সফরের গল্প, ২৫ পৃষ্ঠা (রাসুল আরাবির দেশে)।
- উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কে আমার অতি-মানব মনে হয়! কী দুর্দান্ত তাঁর প্রত্যাবর্তন! খোলা তলোয়ার হাতে বের হয়েছিলেন নবীজিকে হত্যা করবেন বলে। কিন্তু দিনশেষে হত্যা করে আসলেন নিজের অহংকার, অহমিকা এবং শিরকের অমার্জনীয় অপরাধকে!
- উমরাহ সফরের গল্প, ১৩ পৃষ্ঠা (আমি যদি আরব হতাম)।
- পরিচিতজনদের কাছে আমি প্রায়ই বলি, সেই রামাদান মাসটা (যে রামাদানে আরিফ আজাদ উমরাহ সফর করেছিলেন) পেয়ে আমার মনে হয়েছিল— 'এই বুঝি আমার জীবনে প্রথম রামাদান এসেছে!' তার আগে, এত গভীরভাবে, এত অনুরাগ আর আবেগের সাথে রামাদান আমাকে স্পর্শ করে যায়নি।
- উমরাহ সফরের গল্প, ১০ পৃষ্ঠা (লেখকের কথা)।
- এক কদম, দুই কদম, তিন কদম—বাবুস সালামের সম্মুখভাগে এসে দাঁড়াতেই চোখে পড়ল সেটা। সেই অতিআশ্চর্য, সেই অতি কাঙ্ক্ষিত, স্বপ্নের প্রতিটা প্রহরে, প্রতিটা আকুল মুনাজাতে যাকে দেখার বাসনা জপে গিয়েছে আমার তনুমন। কালো গিলাফে ঢেকে থাকা বাইতুল্লাহ। আহা, আমার দু'চোখ যেন ধন্য হলো। কোন উজানের ঢল যে আছড়ে পড়ল চোখের তারায় বলতে পারিনা, বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়লাম মুহূর্তেই। হৃদপিণ্ডের এত তড়িৎ চঞ্চলতা, এত দ্রুতবেগে নিঃশ্বাসের ওঠানামা আগে কখনো বুঝতে পারিনি। এত সৌভাগ্য সত্যিই আমার কপালে ছিল! আমি কী করে এই মুহূর্তকে আটকে রাখব? কী উপায়ে থমকে দেব ঘড়ির কাঁটা? মনে হচ্ছিল—যদি স্থির হয়ে যেত সময়, যদি আর না ঘুরত ঘড়ির কাঁটা, বাকি জীবন যদি আমি এভাবেই তাকিয়ে থাকতে পারতাম আল্লাহর ঘরের দিকে, আহা, সে কী মহা-সৌভাগ্য হতো!
- উমরাহ সফরের গল্প, ১২৭ পৃষ্ঠা (স্বপ্ন যখন পৌঁছে গেল মঞ্জিলে)।
- রোগ হলে আমরা ডাক্তারের কাছে ছুটি, পরীক্ষায় ভালো ফল লাভরে উপায় জানতে ধরনা দিই যোগ্য শিক্ষকের কাছে। বিষিয়ে ওঠা জীবনের যাতনা থেকে মুক্তি পেতে আমরা পাগলের মতন খুঁজে নিই পছন্দের ব্যক্তি, বস্তু অথবা মাধ্যম, যা-কিছু আঁকড়ে ধরলে আমরা বেঁচে থাকার প্রেরণা পেতে পারি; তবে যদি প্রশ্ন করি- নফসের তাড়না থেকে বাঁচতে কখনো কি আমাদের মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে? যে কুপ্রবৃত্তির বলয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে সেঁটে আছে জীবন, সেই বলয় ভাঙতে কখনো কি হৃদয়ে দানা বেঁধেছে একটুখানি সাহস?
- বেলা ফুরাবার আগে, ১৮ পৃষ্ঠা, (আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই)।
- মায়েরা দশটা কথা বললে আমরা যারা একটা কথাও শুনি না, বিরক্তিভরে এড়িয়ে যাই, আমাদের মায়েরা যদি আমাদের জন্য কোনো বদ-দুআ করেন,তাহলে ভাবুন তো, জীবনে কী ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হবে আমাদের? মায়ের অবাধ্য যারা, তারা সত্যিকার অর্থেই হতভাগা। তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায় শান্তি। জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে তারা নিদারুণ ব্যর্থ হবেই। আর আখিরাতে চূড়ান্ত ব্যর্থতা তো আছেই। সুতরাং,আমাদের বারংবার ব্যর্থতার কারণ আমাদের নিরন্তর হেরে যাওয়ার সম্ভাব্য সূত্রটা সম্ভবত এখানেই লুকোনো। ভেবে দেখা উচিত, আমাদের জীবনে আমাদের মায়েরা কোন অবস্থানে আছেন।
- বেলা ফুরাবার আগে, ২৭ পৃষ্ঠা, (আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই)।
- জীবনের গোলকধাঁধায় আমরা মাঝেমধ্যেই পথ হারাই। মাঝে মাঝে ভীষণ শূন্যতাবোধে যখন হাহাকার করে ওঠে মন, যখন জীবন খুঁজে পায় না জীবনের মানে, তখন জীবন থেকে এক টুকরো ছুটি নিয়ে আমরা নিজেকে খুঁজতে বসি। ভাবতে বসি—কোথায় গিয়ে ঠিক খেই হারাচ্ছে সব? হুমায়ূন আহমেদের ভাষায়- 'আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই।' সেই আপনাকে,অর্থাৎ নিজেকে খুঁজে পেতে হলে, খুঁজে পেতে হলে জীবনের সত্যিকার মানে, আমাদের ফিরতে হবে আমাদের রবের দেখানো পথে। সেই পথে, যে পথ গিয়ে মিশেছে অনন্ত অসীমে।
- বেলা ফুরাবার আগে, ৩০ পৃষ্ঠা, (আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই)।
- আপনি হয়তো কোনো একটা সংগ্রামের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। হতে পারে সেই সংগ্রাম ভীষণ দুঃসহ! আপনি হয়তো প্রিয় কোনো মানুষকে জীবন থেকে হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণায় দগ্ধ। কোনো অপ্রিয় বিচ্ছেদ-ব্যথায় হয়তো আপনি ভীষণ নাজেহাল। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো সমস্যা হয়তো আপনাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। হতে পারে জীবন আপনার ছক অনুযায়ী চলছেই না।
জীবনের এইসব সংগ্রামে আপনি ক্লান্ত হতে পারেন মাঝে মাঝে, তবে হতোদ্যম হবেন না। বিচ্ছেদ-ব্যথায় আপনি কাঁদতেও পারেন,যেভাবে ইউসুফ আলাইহিস সালামকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখের জ্যোতি হারিয়েছিলেন ইয়াকুব আলাইহিস সালাম। কাঁদুন, অশ্রু ঝরান,ব্যাকুল হোন; কিন্তু কখনোই আল্লাহকে অভিযুক্ত করবেন না। ধৈর্য রাখুন। আপনার জীবনের যে অংশটা এখনো বাকি, যে অংশে আপনার জন্যকী অপেক্ষা করে আছে, তা আপনি জানেন না-তার জন্য আল্লাহকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন না!- এবার ভিন্ন কিছু হোক, ৪০ পৃষ্ঠা, (যে সুতোয় বাঁধা জীবন)।
- জীবনের সাময়িক চিত্রনাট্যে বিলীন হয়ে যাবেন না। যে সুতোয় আল্লাহ সুবহানাহ্ ওয়া তাআলা আপনার জীবনকে বাঁধতে চান, তাকে ধৈর্যের সাথে আলিঙ্গন করুন। বিশ্বাস করুন, রাত পোহালে একটা সুন্দর সকাল আপনার জীবনটাকেও রাঙিয়ে যাবে।
- এবার ভিন্ন কিছু হোক, ৪১ পৃষ্ঠা, (যে সুতোয় বাঁধা জীবন)।
- আমাদের আরো একটা ব্যামো আছে। আমরা যখন পর্দার কথা বলি, পর্দা সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা করি, তখন আমাদের মানসপটে জ্বলজ্বল করে একটা বোরকা পরা নারীমূর্তির ছবি ভেসে উঠে। আমরা, পুরুষেরা ধরেই নিয়েছি, পর্দাটা কেবল নারীদের জন্যই। পুরুষের আবার পর্দা কী? দুঃখের ব্যাপার হলো- পর্দা বলতে আমরা কেবল বোরকা-হিজাবকেই ভাবতে শিখেছি। দৃষ্টিরও যে পর্দা আছে, শ্রবণেরও যে পর্দা থাকে, তা কি আমরা কখনো জানতে চেয়েছি? কুরআনে সুরা নুরে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পর্দার বিধান নাযিল করেছেন। মজার ব্যাপার হলো-সুরা নুরের পর্দা-সংক্রান্ত প্রথম আয়াতটাই পুরুষদের উদ্দেশে করে বলা এবং ওই আয়াতে প্রধানত পুরুষদেরকে দৃষ্টির ও লজ্জাস্থানের হিফাযত করতেই বলা হয়েছে।
- এবার ভিন্ন কিছু হোক, ৫০ পৃষ্ঠা, (গাহি নতুনের গান)।
- মাঝে মাঝে গিয়ে যখন জানালার ধারে গিয়ে আকাশ দেখো, রোমন্থন করি নিজের অতীত—তখন ভারী আফসোস লাগে! রেখে আসা সময়গুলোর জন্য বড্ড মায়া হয়! আরও কত যত্নে, কত পরিপাটি করে কাটানো যেত সময়গুলো! কত কী করা যেত, শেখা যেত, ভাবা যেত! আমি ভাবি—এই যে সময়গুলো এমনিভাবে কেটে নিয়মতান্ত্রিকতার বেড়াজালে—আরামের ঘুম আর সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিংয়ে। দিনগুলোও তেমনই—কাজ আর দৌড়ঝাঁপ! আমরা খাই-দাই আর ঘুমাই। সবকিছুই করি কিন্তু ভুলে থাকি জীবনের পরম উদ্দেশ্যকে।
- হায়াতের দিন ফুরোলে, ৯৩ পৃষ্ঠা (হায়াতের দিন ফুরোলে)।
- প্রাচীন রোমে যখন রোমান সেনাবাহিনী যুদ্ধজয় করে ফিরত, তখন একদল লোক বিজয়ীদের কানে কানে বলত—Momento Mori।
অর্থাৎ—‘মনে রেখো, একদিন কিন্তু তুমিও মরবে।’ ‘আমরা অমর’—যুদ্ধজয়ের ফলে সমান সৈন্যবাহিনীর মনে যেন এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে না যায় সে কারণে এই ব্যবস্থা। যাতে তাদের পা মাটিতে থাকে, অহংকার আর অহমিকায় তারা যেন জীবনের পরম সত্য ‘মৃত্যু’কে ভুলে না যায়।- হায়াতের দিন ফুরোলে, ৯৪ পৃষ্ঠা (হায়াতের দিন ফুরোলে)।
তাঁর সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- ‘আরিফ আজাদের বই এতো চলে কেন? আত্ন-উন্নয়নমূলক বই এতো বিক্রি হচ্ছে কেন? এসব নিয়ে বেশ ক্ষুদ্ধ কিছু মানুষ।আমার কথা হচ্ছে, আপনার সমস্যা কি? আপনার টাকা দিয়ে কিনে তারা এসব বই? আর 'আপনার রুচিই হলো সেরা রুচি' এ সনদ আপনাকে কে দিল? আপনার বই কেউ কিনেনা বা আপনার পছন্দমতো বই কেনা হয়না বলে এর দায় আরিফ আজাদদের ওপর কেন? স্টপ দিস ননসেন্স!’
- — আসিফ নজরুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা। আসিফ নজরুলের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে যুগান্তরের প্রতিবেদন