বিষয়বস্তুতে চলুন

আলফ্রেড মার্শাল

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ আলফ্রেড মার্শাল (১৮৪২ - ১৯২৪), ছবি ১৯২১ সালের।

আলফ্রেড মার্শাল (২৬ জুলাই ১৮৪২ – ১৩ জুলাই ১৯২৪) ছিলেন একজন ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ। যিনি তার সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তার রচিত বই প্রিন্সিপলস অফ ইকোনমিক্স (১৮৯০) বহু বছর ধরে ইংল্যান্ডের প্রধান অর্থনৈতিক পাঠ্যপুস্তক ছিল। এটি যোগান ও চাহিদা,প্রান্তিক উপযোগ এবং উৎপাদন ব্যয়ের ধারণাগুলোকে একটি সুসংগত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে। তাকে আধুনিক অর্থনীতি শাস্ত্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়।


উক্তি

[সম্পাদনা]
এলিমেন্টস অফ ইকোনমিকস অফ ইন্ডাস্ট্রি, ১৮৯২
  • আমি নিজে একজন আপসহীন যুদ্ধবিরোধী প্রায় যেকোনো মূল্যে শান্তি বজায় রাখার পক্ষে একজন মানুষ। জোসেফ চেম্বারলেইন হলেন একমাত্র ইউনিয়নিস্ট জননেতা যাকে আমি সবসময় পুরোপুরি অবিশ্বাস করেছি। নেপোলিয়নকে বাদ দিলে আমি বিশ্বাস করি লর্ড নর্থের পর ইংল্যান্ডের প্রকৃত মহানুভবতার জন্য এর চেয়ে বিপজ্জনক শত্রু আর কেউ ছিল না। র‍্যাডিকাল বা চরমপন্থী হিসেবে থাকাকালীন, তিনি তাঁর প্রতিপক্ষকে উপহাস করার চেয়ে তাঁর নিজের সহকর্মীদের বিপদে ফেলতেই বেশি আনন্দ পেতেন। তিনি এখন তাঁর নতুন সহকর্মীদের বিপদে ফেলতে এবং পুরোনো বন্ধুদের উপহাস করতেই ব্যস্ত।
    • আলফ্রেড মার্শাল থেকে এন. জি. পিয়ারসন, ৬ এপ্রিল ১৯০০
  • গাণিতিক অর্থনীতি বিষয়ক কোনো নোট আমার কাছে খুঁজে পাইনি যা আপনার কাজে লাগতে পারে। এই বিষয়ে আমি আগে কী ভাবতাম তার খুব অস্পষ্ট স্মৃতি আমার আছে। আমি এখন আর গণিত পড়ি না। প্রকৃতপক্ষে, আমি অনেক কিছু ইন্টিগ্রেট (সমাকলন) করাও ভুলে গেছি।

কিন্তু আমার মনে আছে, এই বিষয়ে কাজ করার শেষ বছরগুলোতে আমার মধ্যে ক্রমশ এই অনুভূতি তৈরি হয়েছিল যে, অর্থনৈতিক অনুমান নিয়ে তৈরি একটি ভালো গাণিতিক উপপাদ্য ভালো অর্থনীতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই আমি ক্রমশ এই নিয়মগুলো অনুসরণ করতে শুরু করি (১) গণিতকে অনুসন্ধানের যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং সংক্ষিপ্ত ভাষা হিসেবে ব্যবহার করুন। (২) শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিয়ে কাজ করুন। (৩) সেটিকে ইংরেজিতে অনুবাদ করুন। (৪) তারপর বাস্তব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করুন। (৫) গণিতটুকু পুড়িয়ে ফেলুন। (৬) যদি (৪) এ সফল না হতে পারেন, তবে (৩) কেও পুড়িয়ে ফেলুন। আমি প্রায়ই এই শেষ কাজটি করি।

    • আর্থার লিওন বাউলিকে লেখা চিঠি (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯০৬), এ. সি. পিগু সম্পাদিত মেমোরিয়ালস অফ আলফ্রেড মার্শাল (১৯২৫), পৃষ্ঠা ৪২৭। ডেভিড এল. সিলস এবং রবার্ট কিং মের্টন-এর সোশ্যাল সায়েন্স কোটেশনস (২০০০), পৃষ্ঠা ১৫১-এও উদ্ধৃত।



প্রিন্সিপলস অফ ইকোনমিক্স (১৮৯০)

[সম্পাদনা]
  • অর্থনৈতিক পণ্যগুলোকে সুনির্দিষ্ট কিছু গ্রুপে ভাগ করার একটা প্রলোভন সবসময় থাকে। যা একই সাথে ছাত্রের যুক্তিনির্ভর সুক্ষ্মতার তৃষ্ণা এবং সাধারণ মানুষের গভীর মনে হওয়া ডগমা বা মতবাদের প্রতি ভালোলাগা মেটাতে পারে। কিন্তু প্রকৃতি যেখানে কোনো বিভাজন করেনি, সেখানে কৃত্রিম বিভাজন রেখা টেনে বড় ধরনের ক্ষতি করা হয়েছে। একটি অর্থনৈতিক মতবাদ যত বেশি সরল এবং ধ্রুব হবে, বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ তত বেশি বিভ্রান্তি তৈরি করবে।যদি বাস্তব জীবনে সেই বিভাজন রেখাগুলো খুঁজে পাওয়া না যায়। বাস্তব জীবনে মূলধন এবং মূলধন নয়, কিংবা প্রয়োজনীয় এবং বিলাসদ্রব্যের মধ্যে কোনো স্পষ্ট বিভাজন রেখা নেই। ঠিক যেমন উৎপাদনশীল এবং অনুৎপাদনশীল শ্রমের মধ্যেও কোনো সুনির্দিষ্ট পার্থক্য নেই।
    • প্রথম সংস্করণের প্রস্তাবনা
  • রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি বা অর্থনীতি হলো জীবনের সাধারণ ব্যবসায় মানবজাতির একটি অধ্যয়ন। এটি ব্যক্তিগত এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সেই অংশটি পরীক্ষা করে যা সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বস্তুগত উপকরণ অর্জন এবং ব্যবহারের সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
    • প্রথম খণ্ড, প্রথম অধ্যায়
  • মানুষের প্রতিটি আলাদা অভাব সসীম... এবং কোনো জিনিসের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে সেটি পাওয়ার প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষার তীব্রতা কমতে থাকে। যতক্ষণ না সেটি অন্য কোনো জিনিসের আকাঙ্ক্ষার কাছে জায়গা ছেড়ে দেয়, যার কথা হয়তো সে আগে ভাবেনি যতক্ষণ তার আরও জরুরি অভাবগুলো পূরণ হয়নি। মানুষের অভাবের যোগান অন্তহীন কিন্তু প্রতিটি আলাদা অভাবের একটি সীমা আছে। মানুষের স্বভাবের এই পরিচিত এবং মৌলিক নিয়মটিকে 'তৃপ্ত অভাবের নিয়ম' বা 'হ্রাসমান উপযোগ বিধি' বলা যেতে পারে। এটি এভাবে লেখা যায়: কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো পণ্যের 'মোট উপযোগ' তার মজুত বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়তে থাকে, কিন্তু মজুত যে হারে বাড়ে উপযোগ সে হারে বাড়ে না। অর্থাৎ, কোনো জিনিসের মজুত বাড়ার সাথে সাথে প্রতিটি অতিরিক্ত একক থেকে প্রাপ্ত বাড়তি সুবিধা বা উপযোগ ক্রমশ কমতে থাকে।
    • তৃতীয় খণ্ড, তৃতীয় অধ্যায়: চাহিদার বিধি


  • কোনো জিনিসের যে অতিরিক্ত এককটি কিনতে একজন মানুষ কেবল প্রলুব্ধ হয়, তাকে বলা হয় 'প্রান্তিক বৃদ্ধি'। কারণ সেই এককটি সংগ্রহের জন্য ব্যয় করা তার কাছে সার্থক হবে কি না তা নিয়ে সে সন্দেহের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকে। আর সেই এককের সুবিধা প্রদানকারী ক্ষমতা বা উপযোগিতাকে বলা হয় ওই ব্যক্তির কাছে ওই পণ্যের 'প্রান্তিক উপযোগ'।
    • তৃতীয় খণ্ড, তৃতীয় অধ্যায়: চাহিদার বিধি
  • এভাবে নিয়মটি বলা যেতে পারে: কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো পণ্যের প্রান্তিক উপযোগ তার কাছে থাকা ওই পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে হ্রাস পায়।
    • তৃতীয় খণ্ড, তৃতীয় অধ্যায়: চাহিদার বিধি
  • আমরা যদি সভ্য বিশ্বের একটি দেশের সাথে অন্য দেশের তুলনা করি, অথবা ইংল্যান্ডের এক অঞ্চলের সাথে অন্য অঞ্চলের কিংবা এক পেশার সাথে অন্য পেশার তুলনা করি। তবে আমরা দেখব যে শ্রমিক শ্রেণির মান নিচে নেমে যাওয়ার হার নারী শ্রমিকদের দ্বারা করা কঠোর পরিশ্রমের পরিমাণের সাথে প্রায় সমানুপাতিকভাবে পরিবর্তিত হয়। সকল মূলধনের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান হলো সেই মূলধন যা মানুষের পেছনে বিনিয়োগ করা হয়েছে। আর সেই মূলধনের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ হলো মায়ের যত্ন ও প্রভাবের ফসল। যতক্ষণ না তার কোমল ও নিঃস্বার্থ প্রবৃত্তিগুলো অস্বাভাবিক পরিশ্রমের চাপে কঠিন হয়ে যায়।
    • ষষ্ঠ খণ্ড, চতুর্থ অধ্যায়: অর্থনৈতিক ও নৈতিক কারণের আন্তঃসম্পর্ক

আলফ্রেড মার্শাল সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • বাজার এবং ব্যবসা কীভাবে পরিচালিত হয় সে সম্পর্কে আমাদের বর্তমান ধারণা এক শতাব্দীরও বেশি আগে আলফ্রেড মার্শাল এবং তার সমসাময়িক কিছু ইউরোপীয় অর্থনীতিবিদ আমাদের দিয়ে গেছেন। এটি মূলত হ্রাসমান প্রতিদান অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। বাজারে এগিয়ে যাওয়া পণ্য বা কোম্পানিগুলো শেষ পর্যন্ত সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়। যার ফলে মূল্য এবং বাজার শেয়ারের একটি অনুমানযোগ্য ভারসাম্য অর্জিত হয়। মার্শালের সময়ের ভারী শিল্প ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতির জন্য এই তত্ত্বটি মোটামুটি সঠিক ছিল এবং আজও এটি অর্থনীতিবিদ্যার পাঠ্যপুস্তকগুলোতে টিকে আছে। কিন্তু এই শতাব্দীতে পশ্চিমা অর্থনীতিগুলো ক্রমাগতভাবে কাঁচামালভিত্তিক উৎপাদন থেকে প্রযুক্তি এবং তথ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণে রূপান্তরিত হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে অর্থনৈতিক আচরণের মূল প্রক্রিয়াটি হ্রাসমান প্রতিদান থেকে ক্রমবর্ধমান প্রতিদানের দিকে সরে গেছে।
    • ডব্লিউ. ব্রায়ান আর্থার, "ইনক্রিজিং রিটার্নস অ্যান্ড দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড অফ বিজনেস," হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ (১৯৯৬)
  • একজন অর্থনীতিবিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলোর একটি হলো মডেলের সরলীকরণ। অর্থনীতিবিদরা সরলীকরণের দুটি প্রধান পদ্ধতি তৈরি করেছেন। একটি হলো আংশিক ভারসাম্য বিশ্লেষণ বা ব্যষ্টি অর্থনীতি, যা সাধারণত আলফ্রেড মার্শালের নামের সাথে যুক্ত। আর অন্যটি হলো সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা সমষ্টি অর্থনীতি, যা জন মেইনার্ড কেইনসের নামের সাথে যুক্ত।
    • কেনেথ বোল্ডিং, দ্য স্কিলস অফ দ্য ইকোনমিস্ট (১৯৫৮)
  • আপনার চিঠি থেকে জানতে পারলাম যে মার্শাল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অর্থনীতির একটি পরিমাণগত তত্ত্বের ধারণা পোষণ করছেন। এটি দুঃখজনক যে তিনি এই বিষয়ে কিছু প্রকাশ করতে অনেক দেরি করে ফেলেছেন।
    • উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভনস, এইচ. এস. ফক্সওয়েলকে লেখা চিঠি (১৮৭৫)
  • মাস্টার ইকোনমিস্ট বা শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হতে হলে তাকে বিরল কিছু গুণের অধিকারী হতে হবে। তাকে গণিতবিদ, ইতিহাসবিদ, রাষ্ট্রনায়ক এবং দার্শনিক হতে হবে কিছুটা হলেও। তাকে প্রতীক বুঝতে হবে এবং শব্দের মাধ্যমে কথা বলতে হবে। তাকে বর্তমানকে অতীতের আলোকে ভবিষ্যতের উদ্দেশ্যে অধ্যয়ন করতে হবে। মানুষের স্বভাব বা প্রতিষ্ঠানের কোনো অংশই তার বিবেচনার বাইরে থাকা চলবে না। মার্শালের মধ্যে বহুমুখী এই গুণের অনেকগুলোই ছিল। বিশেষ করে তার মিশ্র প্রশিক্ষণ তাকে একজন ইতিহাসবিদ এবং গণিতবিদে পরিণত করেছিল। যিনি একই সাথে বিশেষ এবং সাধারণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারতেন।
    • জন মেইনার্ড কেইনস, এসেস ইন বায়োগ্রাফি (১৯৩৩)
  • জেভনস কেটলি ফুটতে দেখে শিশুর মতো আনন্দিত হয়ে চিৎকার করে উঠেছিলেন। মার্শালও কেটলি ফুটতে দেখেছিলেন কিন্তু তিনি চুপচাপ বসে এর ইঞ্জিন তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন।
    • জন মেইনার্ড কেইনস, এসেস ইন বায়োগ্রাফি (১৯৩৩)
  • একজন দক্ষ গণিতবিদ হওয়া সত্ত্বেও তিনি গণিতের ব্যবহার খুব সীমিতভাবে করতেন। তিনি বুঝেছিলেন যে এই যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে সম্পর্কহীন কাল্পনিক সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। যা আমাদের অনুপাতজ্ঞানকে বিকৃত করে দিতে পারে।
    • আর্থার সিসিল পিগু (সম্পাদক), মেমোরিয়ালস অফ আলফ্রেড মার্শাল (১৯২৫)
  • মার্শাল উত্তর পরিবর্তনের চেয়ে প্রশ্ন পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিলেন। রিকার্ডোর কাছে মূল্যের তত্ত্ব ছিল মজুরি, খাজনা এবং লাভের মধ্যে মোট উৎপাদনের বন্টন অধ্যয়নের একটি মাধ্যম। এটি একটি বিশাল প্রশ্ন। মার্শাল মূল্যের অর্থকে একটি ছোট প্রশ্নে রূপান্তর করেছিলেন। এক কাপ চায়ের চেয়ে একটি ডিমের দাম কেন বেশি? এটি হয়তো একটি ছোট প্রশ্ন, কিন্তু এটি অত্যন্ত কঠিন এবং জটিল। এর তাত্ত্বিক কাঠামো তৈরি করতে প্রচুর সময় এবং বীজগণিতের প্রয়োজন হয়। ফলে এটি মার্শালের ছাত্রদের পরবর্তী ৫০ বছর ধরে এতটাই ব্যস্ত রেখেছিল যে তাদের বড় প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবার সময় ছিল না।
    • জোয়ান রবিনসন, "অ্যান ওপেন লেটার ফ্রম আ কেইনসিয়ান টু আ মার্ক্সিস্ট" (১৯৫৩)

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

প্রিন্সিপলস অফ ইকোনমিক্স (১৮৯৫) - আর্কাইভ ডট ওআরজি