বিষয়বস্তুতে চলুন

আলবার্ট হফমান

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
আপনি যখন প্রকৃতি বিজ্ঞান এবং সৃষ্টির অলৌকিকতা নিয়ে অধ্যয়ন করবেন তখন আপনি যদি একজন রহস্যবাদীতে পরিণত না হন, তবে আপনি প্রকৃত প্রকৃতি বিজ্ঞানী নন।
বাইরে যা আছে তা হলো বিশুদ্ধ শক্তি এবং বর্ণহীন পদার্থ। বাকি যা কিছু ঘটে তা আমাদের ইন্দ্রিয়ের মেকানিজমের মাধ্যমে ঘটে।

অ্যালবার্ট হফম্যান (১১ জানুয়ারি, ১৯০৬ – ২৯ এপ্রিল, ২০০৮) একজন সুইজ বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি প্রথম লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড সংশ্লেষণ করেন এবং এর কয়েক বছর পর প্রথমবারের মত হ্যালুসিনোজেনিক বা দৃষ্টিভ্রমকারী প্রভাবের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • বাইরে যা আছে তা হলো বিশুদ্ধ শক্তি এবং বর্ণহীন পদার্থ। বাকি যা কিছু ঘটে তা আমাদের ইন্দ্রিয়ের মেকানিজমের মাধ্যমে ঘটে। আমাদের চোখ বিশ্বের আলোর সামান্যতম অংশ দেখতে পায়। রঙিন পৃথিবী তৈরি করা হলো একটি চাতুরি মাত্র, যা মানবজাতির বাইরে কোন অস্তিত্ব নেই।
    • "Nearly 100, LSD's Father Ponders His 'Problem Child'" (৭ জানুয়ারি ২০০৬) থেকে উদ্ধৃত।
  • জীবন্ত প্রকৃতির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া খুবই, খুবই বিপজ্জনক … বড় শহরগুলোতে এমন অনেক মানুষ আছে যারা কখনও জীবন্ত প্রকৃতি দেখেনি। সেখানে সবকিছুই মানুষের তৈরি পণ্য … শহর যত বড় হয়, তারা প্রকৃতিকে তত কম দেখে এবং বোঝে
    • "Nearly 100, LSD's Father Ponders his 'Problem Child'" (৭ জানুয়ারি ২০০৬)-এ উদ্ধৃত।

এলএসডি: মাই প্রবলেম চাইল্ড, ১৯৮০

[সম্পাদনা]
অনলাইনে পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য
এমন কিছু অভিজ্ঞতা আছে যা সম্পর্কে আমাদের অধিকাংশজনই কথা বলতে দ্বিধা বোধ করি কারণ সেগুলো দৈনন্দিন বাস্তবতার সাথে মেলে না এবং কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যার ধার ধারে না।
এই অভিজ্ঞতাগুলোই আমার বিশ্ববীক্ষার মূল রূপরেখা তৈরি করেছিল এবং আমাকে একটি অলৌকিক, শক্তিশালী ও অগাধ বাস্তবতার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত করেছিল, যা সাধারণ দৃষ্টির আড়ালে লুকিয়ে থাকে।
রহস্যময় অভিজ্ঞতা, যেমনটি আমার শৈশবকে প্রভাবিত করেছিল, তা স্পষ্টতই খুব একটা বিরল নয়।
আমি আমার সমসাময়িক অনেকের মতোই এই বিশ্বাস পোষণ করি যে, পশ্চিমা শিল্পোন্নত সমাজের সকল স্তরে ছড়িয়ে পড়া আধ্যাত্মিক সংকট কেবল আমাদের বিশ্ববীক্ষার পরিবর্তনের মাধ্যমেই প্রতিকার করা সম্ভব।
স্বতঃস্ফূর্ত স্বপ্নদর্শী অভিজ্ঞতার বিপরীতে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে রহস্যময় অভিজ্ঞতা উসকে দেওয়া বিশেষ করে এলএসডি এবং সংশ্লিষ্ট হ্যালুসিনোজেন দ্বারা এমন সব বিপদ ডেকে আনে যা কখনোই ছোট করে দেখা উচিত নয়।
আমার অবস্থা হুমকিস্বরূপ রূপ নিতে শুরু করল। আমার দৃষ্টিসীমার সবকিছু কাঁপছিল এবং বিকৃত হয়ে যাচ্ছিল যেন কোনো বাঁকানো আয়নায় দেখছি।
আমি পাগল হয়ে যাওয়ার এক ভয়াবহ ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। আমাকে অন্য এক জগৎ, অন্য এক স্থান এবং অন্য এক সময়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল...
  • এমন কিছু অভিজ্ঞতা আছে যেটা নিয়ে অধিকাংশজনই কথা বলতে দ্বিধা বোধ করি কারণ সেগুলো দৈনন্দিন বাস্তবতার সাথে মেলে না এবং কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যার ধারও ধারে না। এগুলো কোনো নির্দিষ্ট বাহ্যিক ঘটনা নয় বরং আমাদের অভ্যন্তরীণ জীবনের কিছু ঘটনা যেগুলোকে সাধারণত কল্পনার ফসল হিসেবে খারিজ করে দেওয়া হয় এবং আমাদের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলা হয়। হঠাৎ করেই আমাদের চারপাশের পরিচিত দৃশ্যগুলো এক অদ্ভুত, আনন্দদায়ক বা উদ্বেগজনক উপায়ে রূপান্তরিত হয়: এটি আমাদের কাছে একটি বিশেষ অর্থ বহন করে এক নতুন আলোয় ধরা দেয় । এই ধরনের অভিজ্ঞতা বাতাসের ঝাপটার মতো হালকা এবং ক্ষণস্থায়ী হতে পারে আবার এটি আমাদের মনে গভীরভাবে গেঁথে যেতে পারে।
    শৈশবে আমার হওয়া এই ধরণের একটি জাদুকরী অভিজ্ঞতা আজও আমার স্মৃতিতে স্পষ্টভাবে উজ্জ্বল হয়ে আছে। এটি ছিল মে মাসের এক সকালে যেখানে আমি বছরটি ভুলে গেছি সেখানে আমি এখনও সুইজারল্যান্ডের বাদেনের উপরে মার্টিনসবার্গের সেই বনের পথটি ঠিকঠাক দেখিয়ে দিতে পারি যেখানে এটি ঘটেছিল। পাখির গানে মুখরিত এবং ভোরের সূর্যের আলোয় আলোকিত সেই নতুন সবুজ বনের মধ্য দিয়ে যখন আমি হাঁটছিলাম তখন হঠাৎ করেই সবকিছু এক অস্বাভাবিক স্বচ্ছ আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। এটি কি এমন কিছু ছিল যা আমি আগে লক্ষ্য করতে ব্যর্থ হয়েছিলাম? আমি কি হঠাৎ বসন্তের বনটিকে বাস্তবে যেমন দেখায় তেমনভাবে আবিষ্কার করছিলাম? এটি এক অপূর্ব দীপ্তিতে জ্বলজ্বল করছিল যা সরাসরি হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল যেন এটি তার মহিমা দিয়ে আমাকে আলিঙ্গন করতে চায়। আমি এক অনির্বচনীয় আনন্দ, একাত্মতা এবং এক পরম নিরাপত্তার অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম।
    আমি জানি না কতক্ষণ আমি সেখানে মন্ত্রমুগ্ধের মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু সেই দীপ্তি যখন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছিল এবং আমি আবার হাঁটতে শুরু করলাম তখন আমার মনে এক ধরণের দুশ্চিন্তা কাজ করছিল: এমন একটি দর্শন যা বাস্তব এবং বিশ্বাসযোগ্য ছিল এবং এটি সরাসরি ও গভীরভাবে অনুভূত হয়েছিল তা এত দ্রুত শেষ হয়ে গেল কীভাবে? আর আমিই বা এ সম্পর্কে কাউকে কীভাবে বলব, যদিও আমার উপচে পড়া আনন্দ আমাকে বলতে বাধ্য করছিল কারণ আমি জানতাম আমি যা দেখেছি তা বর্ণনা করার মতো কোনো শব্দ নেই? এটি আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়েছিল যে, শিশু হিসেবে আমি এমন বিস্ময়কর কিছু দেখেছি যা বড়রা স্পষ্টতই অনুভব করতে পারেনি কারণ আমি কখনও তাদের এ বিষয়ে বলতে শুনিনি।
    শৈশবে বন আর তৃণভূমিতে ঘুরে বেড়ানোর সময় আমি আরও বেশ কয়েকবার এমন গভীর আনন্দদায়ক মুহূর্তের অভিজ্ঞতা পেয়েছিলাম। এই অভিজ্ঞতাগুলোই আমার বিশ্ববীক্ষার মূল রূপরেখা তৈরি করেছিল এবং আমাকে একটি অলৌকিক, শক্তিশালী ও অগাধ বাস্তবতার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত করেছিল, যা সাধারণ দৃষ্টির আড়ালে লুকিয়ে থাকে।
  • আমার কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সাহিত্যগুলো অধ্যয়ন করার সময় আমি স্বপ্নদর্শী বা দিব্য অভিজ্ঞতার সার্বজনীন তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতন হই। এটি কেবল রহস্যবাদ এবং ধর্মের ইতিহাসেই নয় বরং শিল্পকলা, সাহিত্য এবং বিজ্ঞানের সৃজনশীল প্রক্রিয়াতেও এক প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানগুলো দেখিয়েছে যে, অনেক ব্যক্তি তাদের দৈনন্দিন জীবনেও স্বপ্নদর্শী অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। যদিও আমাদের মধ্যে অধিকাংশজনই তাদের অর্থ এবং মূল্যকে চিনতে ব্যর্থ হই। রহস্যময় অভিজ্ঞতা, যেমনটি আমার শৈশবকে প্রভাবিত করেছিল, তা স্পষ্টতই খুব একটা বিরল নয়।
    • প্রস্তাবনা
  • আমি আমার সমসাময়িক অনেকের মতোই এই বিশ্বাস পোষণ করি যে, পশ্চিমা শিল্পোন্নত সমাজের সকল স্তরে ছড়িয়ে পড়া আধ্যাত্মিক সংকট কেবল আমাদের বিশ্ববীক্ষার পরিবর্তনের মাধ্যমেই প্রতিকার করা সম্ভব। মানুষ এবং তাদের পরিবেশ যে আলাদা—এই বস্তুবাদী ও দ্বৈতবাদী বিশ্বাস থেকে আমাদের সরে আসতে হবে; আমাদের এক সর্বব্যাপী বাস্তবতার নতুন চেতনার দিকে অগ্রসর হতে হবে।এটি আমাদের অভিজ্ঞ সত্তাকে আলিঙ্গন করে—এমন এক বাস্তবতা যেখানে মানুষ জীবন্ত প্রকৃতি এবং সমগ্র সৃষ্টির সাথে তাদের একাত্মতা অনুভব করবে।
    • প্রস্তাবনা
  • উদ্দেশ্যমূলকভাবে রহস্যময় অভিজ্ঞতাকে উসকে দেওয়া, বিশেষ করে এলএসডি এবং সংশ্লিষ্ট হ্যালুসিনোজেন দ্বারা এমন সব বিপদ ডেকে আনে যা কখনোই ছোট করে দেখা উচিত নয়। এই পদার্থগুলোর বিশেষ প্রভাব, বিশেষ করে আমাদের চেতনা ও আমাদের সত্তার অন্তনিহিত সারমর্মকে প্রভাবিত করার ক্ষমতার কথা ব্যবহারকারীদের অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। এলএসডির ইতিহাস এখন পর্যন্ত এটিই প্রমাণ করে যে, যখন এর গভীর প্রভাবকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং একে কেবল একটি আনন্দদায়ক মাদক হিসেবে ভুল করা হয় তখন তার ফলাফল অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। এর জন্য বিশেষ অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক প্রস্তুতি প্রয়োজন; তবেই একটি এলএসডি পরীক্ষা অর্থবহ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে। ভুল এবং অনুপযুক্ত ব্যবহারের কারণেই এলএসডি আমার ‘সমস্যাগ্রস্ত সন্তানে' পরিণত হয়েছে।
    • প্রস্তাবনা
  • ১৯/৪/৪৩ ১৬:২০: ডাইথ্যালামাইড টারট্রেটের ০.৫ সিসি জলীয় দ্রবণ মুখে গ্রহণ = ০.২৫ মিলিগ্রাম টারট্রেট। প্রায় ১০ সিসি পানিতে মিশিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্বাদহীন।
    ১৭:০০: মাথা ঘোরা শুরু, উদ্বেগের অনুভূতি, দৃষ্টির বিকৃতি, পক্ষাঘাতের লক্ষণ, হাসার ইচ্ছা।
    ২১ তারিখের অতিরিক্ত নোট: সাইকেলে চড়ে বাড়ি ফেরা। ১৮:০০ থেকে প্রায় ২০:০০ পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুতর সংকট। (বিশেষ রিপোর্ট দেখুন।)

    এখানেই আমার ল্যাবরেটরি জার্নালের নোটগুলো শেষ হয়। আমি শেষ শব্দগুলো অনেক কষ্টে লিখতে পেরেছিলাম। ততক্ষণে আমার কাছে এটি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, আগের শুক্রবারের সেই বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার কারণ ছিল এলএসডি। কারণ এখনকার পরিবর্তিত অনুভূতিগুলো ছিল আগের মতোই, তবে অনেক বেশি তীব্র। আমাকে স্পষ্টভাবে কথা বলার জন্য লড়াই করতে হচ্ছিল। আমি আমার ল্যাবরেটরি সহকারীকে, যিনি এই পরীক্ষা সম্পর্কে জানতেন, আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করলাম। যুদ্ধকালীন বিধিনিষেধের কারণে কোনো গাড়ি না থাকায় আমরা সাইকেলে করেই রওনা হলাম। বাড়ি যাওয়ার পথে আমার অবস্থা হুমকিস্বরূপ রূপ নিতে শুরু করল। আমার দৃষ্টিসীমার সবকিছু কাঁপছিল এবং বিকৃত হয়ে যাচ্ছিল যেন কোনো বাঁকানো আয়নায় দেখছি। আমার এমনও মনে হচ্ছিল যেন আমি এক জায়গা থেকে নড়তে পারছি না। তবুও আমার সহকারী পরে বলেছিলেন যে, আমরা খুব দ্রুত পথ চলেছিলাম। অবশেষে আমরা নিরাপদে বাড়ি পৌঁছালাম এবং আমি কোনোমতে আমার সঙ্গীকে আমাদের ফ্যামিলি ডাক্তারকে ডাকতে বললাম এবং প্রতিবেশীদের কাছে দুধ চাইতে সক্ষম হলাম।
    আমার প্রলাপ বকা এবং বিভ্রান্তিকর অবস্থা সত্ত্বেও মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য আমার চিন্তাশক্তি পরিষ্কার ও কার্যকর ছিল। তাই বিষক্রিয়ার একটি সাধারণ প্রতিষেধক হিসেবে আমি দুধ বেছে নিয়েছিলাম।
  • আমি পাগল হয়ে যাওয়ার এক ভয়াবহ ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। আমাকে অন্য এক জগৎ, অন্য এক স্থান এবং অন্য এক সময়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমার শরীর নিস্পৃহ, প্রাণহীন এবং অদ্ভুত মনে হচ্ছিল। আমি কি মারা যাচ্ছিলাম? এটাই কি পরপারের রূপান্তর? মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল আমি আমার শরীরের বাইরে আছি এবং একজন বাইরের পর্যবেক্ষক হিসেবে আমার পরিস্থিতির সম্পূর্ণ ট্র্যাজেডি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। এমনকি আমি আমার পরিবারের কাছ থেকে বিদায়ও নিইনি (আমার স্ত্রী এবং তিন সন্তান সেদিন লুসার্নে তাদের নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল)। তারা কি কখনও বুঝতে পারবে যে আমি চিন্তাহীনভাবে বা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে এই পরীক্ষা করিনি বরং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করেছিলাম এবং এই ধরণের ফলাফল কোনোভাবেই অনুমানযোগ্য ছিল না? একটি ছোট পরিবার তার পিতাকে হারাবে কেবল এই জন্য আমার ভয় এবং হতাশা তীব্র হয়নি বরং আমি যে রাসায়নিক গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম তা এভাবে মাঝপথে অসমাপ্ত অবস্থায় রেখে যেতে হবে বলে এটা ভেবে হয়েছিল। মনে মনে আরেকটি তিক্ত পরিহাসমূলক চিন্তার উদয় হলো: যদি আমাকে আজ অসময়ে এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হয় তবে তা এই লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইডের কারণেই হবে যা আমি নিজেই এই পৃথিবীতে নিয়ে এসেছি।
    • অধ্যায় ১: যেভাবে এলএসডির উৎপত্তি
এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল যে, প্রতিটি শ্রবণলব্ধ অনুভূতি যেমন: দরজার হাতলের শব্দ বা পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কোনো গাড়ির হর্ন দৃশ্যমান অনুভূতিতে রূপান্তরিত হচ্ছিল। প্রতিটি শব্দই নিজস্ব সুসংগত রূপ এবং বর্ণসহ একটি প্রাণবন্ত পরিবর্তনশীল ছবি তৈরি করছিল।
  • ধীরে ধীরে আমি একটি অদ্ভুত, অপরিচিত জগত থেকে আশ্বস্তকর দৈনন্দিন বাস্তবতায় ফিরে এলাম। সেই ভয়াবহতা কমে গিয়ে সৌভাগ্য এবং কৃতজ্ঞতার অনুভূতিতে রূপ নিল; যত বেশি স্বাভাবিক উপলব্ধি এবং চিন্তা ফিরে আসতে লাগল, আমি ততই আত্মবিশ্বাসী হলাম যে পাগল হয়ে যাওয়ার বিপদটি চূড়ান্তভাবে কেটে গেছে।
    এখন, অল্প অল্প করে আমি আমার বন্ধ চোখের সামনে ভেসে ওঠা সেই অভূতপূর্ব রঙ এবং আকারের খেলা উপভোগ করতে শুরু করলাম। ক্যালিডোস্কোপের মতো চমৎকার সব ছবি আমার ওপর আছড়ে পড়ছিল যার বদলানো, বিচিত্রমুখী, কখনও বৃত্তাকারে বা সর্পিলাকারে খুলছে আবার বন্ধ হচ্ছে আবার কখনও রঙিন ফোয়ারার মতো বিস্ফোরিত হচ্ছে এবং ক্রমাগত প্রবাহে নিজেদের পুনর্গঠিত ও সংকরিত করছে। এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল যে, প্রতিটি শ্রবণলব্ধ অনুভূতি যেমন: দরজার হাতলের শব্দ বা পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কোনো গাড়ির হর্ন দৃশ্যমান অনুভূতিতে রূপান্তরিত হচ্ছিল। প্রতিটি শব্দই নিজস্ব সুসংগত রূপ এবং বর্ণসহ একটি প্রাণবন্ত পরিবর্তনশীল ছবি তৈরি করছিল।
    • অধ্যায় ১: যেভাবে এলএসডির উৎপত্তি
যেহেতু আমার আত্ম-পরীক্ষা এলএসডির এক ভয়াবহ ও আসুরিক দিক উন্মোচন করেছিল। তাই এই পদার্থটি যে কখনও কোনোভাবে ‘আনন্দের মাদক’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে তা ছিল আমার কল্পনারও অতীত।
  • এই আত্ম-পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছিল যে, এলএসডি-২৫ অসাধারণ গুণাগুণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি মনস্তাত্ত্বিক সক্রিয় পদার্থ হিসেবে আচরণ করে। আমার জানামতে এমন অন্য কোনো পদার্থ ছিল না যা এত সামান্য মাত্রায় এত গভীর মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে যে এটি মানুষের চেতনা এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক জগতের অভিজ্ঞতায় এত নাটকীয় পরিবর্তন আনতে পারে।
    আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ যা মনে হয়েছিল তা হলো, আমি এলএসডির সেই ঘোর বা মত্ততার প্রতিটি বিস্তারিত বিবরণ মনে রাখতে পেরেছিলাম। এর অর্থ কেবল এটাই হতে পারে যে, স্বাভাবিক বিশ্ববীক্ষার চরম বিপর্যয় সত্ত্বেও এলএসডি অভিজ্ঞতার চূড়ান্ত মুহূর্তেও সচেতনভাবে স্মৃতি সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়নি। পুরো পরীক্ষার সময় আমি এমনকি সচেতন ছিলাম যে আমি একটি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছি; কিন্তু নিজের অবস্থা সম্পর্কে এই সচেতনতা থাকা সত্ত্বেও আমি আমার সমস্ত ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করেও সেই এলএসডির জগত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছিলাম না। সবকিছুই সম্পূর্ণ বাস্তব এবং উদ্বেগজনক হিসেবে অনুভূত হচ্ছিল; উদ্বেগজনক এই কারণে যে, তুলনার জন্য আমাদের অন্য সেই পরিচিত দৈনন্দিন বাস্তবতার ছবিটি তখনও স্মৃতিতে পুরোপুরি সংরক্ষিত ছিল।
    এলএসডির আরেকটি বিস্ময়কর দিক ছিল এর হ্যাংওভার বা অবসাদ ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদী ও শক্তিশালী মত্ততা তৈরির ক্ষমতা। এরপর ঠিক উল্টোটি ঘটেছিল যেমন এলএসডি পরীক্ষার পরের দিন আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে চমৎকার অবস্থায় ছিলাম যা আগেই বর্ণনা করেছি।
    আমি সচেতন ছিলাম যে এমন গুণাবলী সম্পন্ন একটি নতুন সক্রিয় যৌগ হিসেবে এলএসডি নিশ্চয়ই ফার্মাকোলজি, নিউরোলজি এবং বিশেষ করে সাইকিয়াট্রিতে কাজে লাগবে এবং এটি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। কিন্তু সেই সময় আমার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না যে এই নতুন পদার্থটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের বাইরে মাদকের আসরে মত্ততা তৈরির উপকরণ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। যেহেতু আমার আত্ম-পরীক্ষা এলএসডির এক ভয়াবহ ও আসুরিক দিক উন্মোচন করেছিল। তাই এই পদার্থটি যে কখনও কোনোভাবে আনন্দের মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, তা ছিল আমার কল্পনারও অতীত।
    • অধ্যায় ১: যেভাবে এলএসডির উৎপত্তি
একজন অভিজ্ঞ সত্তা বা অহং ছাড়া বাস্তবতাকে কল্পনা করা অসম্ভব।
  • আমার সকল এলএসডি পরীক্ষা থেকে পাওয়া একটি মৌলিক উপলব্ধি আমার কাছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে আছে: সাধারণত মানুষ যাকে "বাস্তবতা" হিসেবে ধরে নেয় বা যার মধ্যে নিজের ব্যক্তিগত সত্তার বাস্তবতাও অন্তর্ভুক্ত তা কোনোভাবেই সুনির্দিষ্ট বা স্থির কিছু নয় বরং তা অত্যন্ত দ্ব্যর্থবোধক। বাস্তবতা কেবল একটিই নয় বরং অনেকগুলো বাস্তবতা রয়েছে, যার প্রতিটি অহং এর এক একটি ভিন্ন চেতনার সমন্বয়ে গঠিত।
    বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার মাধ্যমেও এই উপলব্ধিতে পৌঁছানো সম্ভব। বাস্তবতার সমস্যাটি অনাদিকাল থেকেই দর্শনের একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। তবে, কেউ বাস্তবতার সমস্যাটিকে দর্শনের যৌক্তিক পদ্ধতিতে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মোকাবিলা করছে, নাকি অস্তিত্বের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আবেগীয়ভাবে এর সম্মুখীন হচ্ছে তার মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আমার প্রথম পরিকল্পিত এলএসডি পরীক্ষাটি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং উদ্বেগজনক ছিল; কারণ দৈনন্দিন বাস্তবতা এবং তা অনুভবকারী যে অহং-কে আমি এতদিন একমাত্র বাস্তবতা বলে মনে করতাম তা বিলীন হয়ে গিয়েছিল এবং একটি অপরিচিত ‘অহং’ অন্য এক অপরিচিত বাস্তবতার অভিজ্ঞতা লাভ করছিল। এর ফলে অন্তরের অন্তঃস্থ সত্তা সংক্রান্ত ঐ প্রশ্নটিও সামনে চলে আসে, যা নিজে অপরিবর্তিত থেকে এই সমস্ত বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ রূপান্তরগুলো রেকর্ড করতে সক্ষম হয়েছিল।
    একজন অভিজ্ঞ সত্তা বা অহং ছাড়া বাস্তবতাকে কল্পনা করা অসম্ভব। এটি হলো বাহ্যিক জগত অর্থাৎ প্রেরক এবং গ্রাহক বা অহং এর একটি সম্মিলিত ফলাফল; যা অহং এর গভীরতম সত্তায় বাহ্যিক জগতের নিঃসরণগুলো (ইন্দ্রিয়ের অ্যান্টেনার মাধ্যমে সংগৃহীত হয়ে) সচেতনতায় রূপ নেয়। যদি এই দুইয়ের একটিরও অভাব ঘটে, তবে কোনো বাস্তবতার সৃষ্টি হয় না। কোনো রেডিওতে গান বাজে না, ছবির পর্দা শূন্যই রয়ে যায়।
এমন এক বাস্তবতা অনুভূত হয় যা তুরীয় বা অতিন্দ্রীয় বাস্তবতার এক ঝলক উন্মোচন করে যেখানে মহাবিশ্ব এবং স্ব-সত্তা, প্রেরক এবং গ্রাহক সবই এক
  • দৈনন্দিন বাস্তবতা এবং এলএসডি মত্ততায় অনুভূত বিশ্বচ্ছবির মধ্যে মূল চারিত্রিক পার্থক্য কী? চেতনার স্বাভাবিক অবস্থায় বা দৈনন্দিন বাস্তবতায় ‘অহং’ এবং ‘বাহ্যিক জগত’ আলাদা থাকে; যখন একজন মানুষ বাহ্যিক জগতের মুখোমুখি দাঁড়ায় তখন তার কাছে এটি একটি বস্তুতে পরিণত হয়। এলএসডির প্রভাবে মত্ততার গভীরতার ওপর ভিত্তি করে অনুভবকারী সত্তা এবং বাহ্যিক জগতের মাঝখানের সীমানাগুলো কম-বেশি বিলীন হয়ে যায়। তখন গ্রাহক এবং প্রেরকের মধ্যে একটি পারস্পরিক আদান-প্রদান ঘটে। সত্তার একটি অংশ উপচে পড়ে বাহ্যিক জগতে বা বস্তুসমূহের মধ্যে মিশে যায় যা তখন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং এক ভিন্ন ও গভীরতর অর্থ বহন করে। এটি কখনও পরম আশীর্বাদ হিসেবে অনুভূত হতে পারে, আবার কখনও এক আসুরিক বা আতঙ্কময় রূপান্তর হিসেবে দেখা দিতে পারে যা চিরচেনা অহং এর বিলুপ্তি ঘটায়। অনুকূল পরিস্থিতিতে, নতুন অহং বাহ্যিক জগতের বস্তুগুলোর সাথে এবং ফলস্বরূপ অন্যান্য মানুষের সাথে এক আনন্দদায়ক ঐক্য অনুভব করে। বাহ্যিক জগতের সাথে এই গভীর একাত্মতার অনুভূতি তীব্র হয়ে মহাবিশ্বের সাথে নিজের এক হওয়ার অনুভূতিতেও রূপ নিতে পারে। মহাজাগতিক চেতনার এই অবস্থাটি যা অনুকূল পরিবেশে এলএসডি বা মেক্সিকান পবিত্র ড্রাগ গ্রুপের অন্য কোনো হ্যালুসিনোজেন দ্বারা উদ্রেক করা সম্ভব—তা স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মীয় জ্ঞানালোক বা ‘ইউনিও মিস্টিকার' অনুরূপ। উভয় অবস্থাতেই, যা প্রায়শই কেবল কালজয়ী একটি মুহূর্তের জন্য স্থায়ী হয়, এমন এক বাস্তবতা অনুভূত হয় যা তুরীয় বাস্তবতার এক ঝলক উন্মোচন করে যেখানে মহাবিশ্ব এবং স্ব-সত্তা, প্রেরক এবং গ্রাহক—সবই এক।
    • অধ্যায় ১১: এলএসডি অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবতা
তোমরা জানতে পারবে যে আমি আমার পিতার মধ্যে আছি এবং তোমরা আমার মধ্যে এবং আমি তোমাদের মধ্যে আছি।
এই প্রতিশ্রুতিই আমার খ্রিস্টান বিশ্বাসের মূলবিন্দু এবং প্রকৃতি-বিজ্ঞান গবেষণার প্রতি আমার আহ্বানের প্রেরণা...
আমরা সত্যের চেতনার মাধ্যমে মহাবিশ্বের জ্ঞান অর্জন করব এবং এর ফলে গভীরতম ও সর্বব্যাপী বাস্তবতা ঈশ্বরের সাথে আমাদের একাত্মতার বিষয়ে উপলব্ধি লাভ করব।
  • এলেউসিনীয় রহস্যের সাংস্কৃতিক-ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং ইউরোপীয় বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে এদের প্রভাব কোনোভাবেই বাড়িয়ে বলা সম্ভব নয়। এখানে যন্ত্রণাকাতর মানবজাতি তাদের যৌক্তিক, বস্তুনিষ্ঠ ও দ্বিধাবিভক্ত বুদ্ধির এক নিরাময় খুঁজে পেয়েছিল যা একটি রহস্যময় সামগ্রিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বা যা তাদের অমরত্বে এবং এক চিরন্তন অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিল।
    এই বিশ্বাস প্রাথমিক খ্রিস্টধর্মের মধ্যেও টিকে ছিল। যদিও এটি ভিন্ন প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশিত হতো। গসপেল বা সুসমাচারের নির্দিষ্ট কিছু অংশে এটি একটি প্রতিশ্রুতি হিসেবে পাওয়া যায়; সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় জনের সুসমাচারের ১৪:১৬-২০ অধ্যায়ে। যিশু তাঁর শিষ্যদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বলেছিলেন:
আমি আমার পিতার কাছে প্রার্থনা করব এবং তিনি তোমাদের আরেকজন সাহায্যকারী দেবেন যেন তিনি চিরকাল তোমাদের সাথে থাকেন; তিনি হলেন সত্যের আত্মা; যাকে জগত গ্রহণ করতে পারে না কারণ জগত তাঁকে দেখে না এবং জানেও না। কিন্তু তোমরা তাঁকে চেনো; কারণ তিনি তোমাদের সাথে থাকেন এবং তোমাদের ভেতরেই থাকবেন।
আমি তোমাদের অনাথ অবস্থায় ফেলে যাব না; আমি তোমাদের কাছে ফিরে আসব। আর অল্প সময়, তারপর জগত আমাকে আর দেখতে পাবে না; কিন্তু তোমরা আমাকে দেখবে। আমি জীবিত আছি বলে তোমরাও জীবিত থাকবে।
সেদিন তোমরা জানতে পারবে যে আমি আমার পিতার মধ্যে আছি এবং তোমরা আমার মধ্যে এবং আমি তোমাদের মধ্যে আছি ।
এই প্রতিশ্রুতিই আমার খ্রিস্টান বিশ্বাসের মূলবিন্দু এবং প্রকৃতি-বিজ্ঞান গবেষণার প্রতি আমার আহ্বানের প্রেরণা: আমরা সত্যের চেতনার মাধ্যমে মহাবিশ্বের জ্ঞান অর্জন করব এবং এর ফলে সেই গভীরতম ও সর্বব্যাপী বাস্তবতা—ঈশ্বরের সাথে আমাদের একাত্মতার বিষয়ে উপলব্ধি লাভ করব।
  • অধ্যায় ১১: এলএসডি অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবতা
একটি গভীরতর ও সর্বব্যাপী বাস্তবতাকে উপলব্ধি করার পথ হিসেবে, যেখানে অনুভবকারী ব্যক্তিও আশ্রয় পায়, ধ্যান বা মেডিটেশন আজ তার বিভিন্ন রূপে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
  • একটি গভীরতর ও সর্বব্যাপী বাস্তবতাকে উপলব্ধি করার পথ হিসেবে, যেখানে অনুভবকারী ব্যক্তিও আশ্রয় পায়, ধ্যান বা মেডিটেশন আজ তার বিভিন্ন রূপে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সাধারণ অর্থে প্রার্থনা (যা স্রষ্টা ও সৃষ্টির দ্বৈততার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে) এবং ধ্যানের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো যে ধ্যানে সচেষ্ট থাকে বস্তু ও বিষয়, প্রেরক ও গ্রাহক এবং বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা ও স্ব-সত্তার একীভূতকরণের মাধ্যমে ‘আমি-তুমি’ বা দ্বৈততার দেয়ালটি ভেঙে ফেলতে।
    বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা, যা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসু চেতনার মাধ্যমে তৈরি হওয়া এক বিশ্ববীক্ষা তাই হলো আমাদের সময়ের পুরাণ বা মিথ। এটি গির্জা-নির্ভর খ্রিস্টীয় এবং পৌরাণিক-অ্যাপোলোনীয় বিশ্ববীক্ষার স্থান দখল করে নিয়েছে।
    কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা গঠনকারী এই উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া তথ্যগত জ্ঞান মানেই যে পবিত্রতার অবমাননা, তা নয়। বরং উল্টোভাবে, এই জ্ঞান যদি যথেষ্ট গভীরে পৌঁছাতে পারে তবে এটি অনিবার্যভাবে মহাবিশ্বের সেই ব্যাখ্যাতীত আদি উৎসের দিকেই নিয়ে যায়: যা হলো এক বিস্ময়, সেটি হোক এক ঐশ্বরিক রহস্য—পরমাণুর ক্ষুদ্র জগতে বা সর্পিল নীহারিকার বিশাল জগতে; উদ্ভিদের বীজে কিংবা মানুষের দেহ ও আত্মায়।
    • অধ্যায় ১১: এলএসডি অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবতা
  • যদি বর্তমানের আরও বেশি সংখ্যক মানুষ প্রতিদিন এক ঘণ্টা বা অন্তত কয়েক মিনিট সময় ধ্যানের জন্য ব্যয় করার অভ্যাস গড়ে তোলে, তবে এটি কেবল সাময়িক কোনো ফ্যাশন না হয়ে এক মৌলিক গুরুত্বের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ধ্যানের মাধ্যমে প্রকৃতি-বিজ্ঞানের বিশ্ববীক্ষাকে গভীরভাবে উপলব্ধি ও প্রসারিত করার ফলে বাস্তবতার এক নতুন ও গভীরতর চেতনা বিবর্তিত হবে, যা ক্রমশ সমগ্র মানবজাতির সম্পদে পরিণত হবে। এটি একটি নতুন ধর্মীয় চেতনার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে, যা বিভিন্ন ধর্মের মতবাদের ওপর ভিত্তি করে নয় বরং "সত্যের আত্মার" মাধ্যমে উপলব্ধির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। এখানে উপলব্ধি বলতে সরাসরি উৎস থেকে পাঠ এবং অনুধাবন করাকে বোঝানো হয়েছে আর তা হলো সেই সৃষ্টি থেকে বা "পরমেশ্বরের আঙুল দিয়ে লেখা সেই বই" (প্যারাসেলসাস) থেকে।
    বস্তুনিষ্ঠ বিশ্ববীক্ষাকে একটি গভীর এবং সেই সূত্রে ধর্মীয় বাস্তবতার চেতনায় রূপান্তর করার কাজটি নিয়মিত ধ্যানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সম্পন্ন করা যেতে পারে। তবে এটি হঠাৎ কোনো আলোকপ্রাপ্তি বা স্বপ্নদর্শী অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও আসতে পারে। সেক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গভীর, আশীর্বাদপুষ্ট এবং অর্থবহ হয়। বলথাজার স্ট্যাহেলিন যেমনটি লিখেছেন—এমন একটি রহস্যময় অভিজ্ঞতা হয়তো "দশকব্যাপী ধ্যানের মাধ্যমেও প্ররোচিত করা সম্ভব নাও হতে পারে।" এছাড়াও, এটি সবার ক্ষেত্রে ঘটে না, যদিও রহস্যময় অভিজ্ঞতার সক্ষমতা মানুষের আধ্যাত্মিকতার মূল সারমর্মের অন্তর্ভুক্ত।
    • অধ্যায় ১১: এলএসডি অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবতা
  • হ্যালুসিনোজেনগুলোর একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো—একটি আনন্দঘন ও আবেগীয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অনুভবকারী সত্তা এবং বাহ্যিক জগতের মধ্যকার সীমানাগুলো স্থগিত করে দেওয়া। এর ফলে উপযুক্ত অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক প্রস্তুতির মাধ্যমে (যেমনটি এলেউসিসে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা হতো) এই পদার্থগুলোর সহায়তায় পরিকল্পনা মাফিক একটি রহস্যময় অভিজ্ঞতার উদ্রেক করা সম্ভব।
    ধ্যান হলো সেই একই লক্ষ্যের প্রস্তুতি যা এলেউসিনীয় রহস্যে আকাঙ্ক্ষিত ছিল এবং অর্জিত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী এটি কার্যকর বলে মনে হয় যে, ভবিষ্যতে এলএসডির সাহায্যে ধ্যানের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে সেই রহস্যময় দর্শন বা উপলব্ধি অধিক সংখ্যক ধ্যানকারীর কাছে সহজলভ্য করা যেতে পারে।
    গভীর ও সর্বব্যাপী বাস্তবতার রহস্যময় অভিজ্ঞতার লক্ষ্যে ধ্যানের ক্ষেত্রে এলএসডি-কে একটি বস্তুগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার মধ্যেই আমি এর প্রকৃত গুরুত্ব দেখি। এ ধরনের ব্যবহার একটি ‘পবিত্র ঔষধ’ হিসেবে এলএসডির সারমর্ম এবং কার্যকারী বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
    • অধ্যায় ১১: এলএসডি অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবতা

এলএসডি: জ্ঞানপিপাসুদের বিস্ময়কর ঔষধ? (২০০৬)

[সম্পাদনা]
উইয়ার্ড ম্যাগাজিনে প্রকাশিত "এলএসডি: দ্য গিক'স ওয়ান্ডার ড্রাগ?" (১৬ জানুয়ারি ২০০৬) থেকে হফম্যানের উক্তি
এলএসডি আমাকে কিছু বলতে চেয়েছিল। ... এটি আমাকে এক অভ্যন্তরীণ আনন্দ, উদার মানসিকতা, কৃতজ্ঞতাবোধ, উন্মুক্ত দৃষ্টি এবং সৃষ্টির বিস্ময়গুলোর প্রতি এক অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীলতা দান করেছিল।
  • এলএসডি আমাকে কিছু বলতে চেয়েছিল। ... এটি আমাকে এক অভ্যন্তরীণ আনন্দ, উদার মানসিকতা, কৃতজ্ঞতাবোধ, উন্মুক্ত দৃষ্টি এবং সৃষ্টির বিস্ময়গুলোর প্রতি এক অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীলতা দান করেছিল।
    • এলএসডি: প্রবলেম চাইল্ড অ্যান্ড ওয়ান্ডার ড্রাগ—অ্যালবার্ট হফম্যানের ১০০তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম এর প্রথম দিনের ভাষণ (১৩ জানুয়ারি ২০০৬)।
  • আমি মনে করি মানব বিবর্তনের ইতিহাসে এই পদার্থটির (এলএসডি) প্রয়োজনীয়তা আগে কখনও এতটা ছিল না ... এটি মূলত আমাদের যা হওয়ার কথা ছিল সেই সত্তায় পরিণত করার একটি উপকরণ মাত্র

হফম্যানকে নিয়ে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • হফম্যান যখন এলএসডির রাসায়নিক উপাদান সংশ্লেষণ করেছিলেন তখন তিনি দুর্ঘটনাক্রমে ৪,০০০ বছরের পুরনো এক রহস্যের সন্ধান পেয়েছিলেন।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]