কুরআন
অবয়ব
(আল-কুরআন থেকে পুনর্নির্দেশিত)


কুরআন বা কোরআন (আরবি: القرآن আল্-কুর্'আন্) ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, যা আল্লাহর বাণী বলে মুসলিমরা বিশ্বাস করে থাকেন। এটিকে আরবি শাস্ত্রীয় সাহিত্যের সর্বোৎকৃষ্ট রচনা বলে গ্রহণ করা হয়। কুরআনকে ১১৪টি সূরাতে ভাগ করা হয়েছে এবং সূরাগুলোকে বিভিন্ন সংখ্যার আয়াতে বিভক্ত করা হয়েছে।
উক্তি
[সম্পাদনা]- আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, [তিনি] চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী/সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না ও নিদ্রাও নয়। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবকিছু তাঁরই। কে [আছে এমন] যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তাঁদের সামনে কী আছে ও পিছনে কী আছে তিনি [তা] জানেন এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তাঁরা তাঁর (আল্লাহর) জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর কুরসি আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টিত করেছে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করতে তাঁর কষ্ট হয় না। এবং তিনিই সর্বোচ্চ ও সর্বমহান।”
- বাকারা ২:২৫৫
- আর এমনিভাবে আমি তাদেরকে জাগিয়ে তুলেছিলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসা করে। তাদের একজন বলল, ‘তোমরা কতক্ষণ অবস্থান করলে’? তারা বলল, ‘আমরা একদিন কিংবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। তারা বলল, ‘তোমরা কতক্ষণ অবস্থান করেছ, সে ব্যাপারে তোমাদের রবই অধিক জানেন। তাই তোমরা তোমাদের কাউকে তোমাদের এই রৌপ্যমুদ্রাগুলো দিয়ে শহরে পাঠাও। অতঃপর সে যেন দেখে শহরের কোন্ খাবার একেবারে ভেজালমুক্ত, তখন সে যেন তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু খাবার নিয়ে আসে। আর সে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করবে এবং কাউকে যেন তোমাদের ব্যাপারে না জানায়’।
- কাহফ ১৮:১৯
- এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য। আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয়। নিশ্চিতই এটা কঠোরতর বিষয়, কিন্তু তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে আল্লাহ পথপ্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ, মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুনাময়।
- — আল-বাকারা, ২: ১৪৩
- ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের অবশ্যই অধিক দান করব, আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’
- (সূরা ইবরাহিম আয়াত নং ৭)
- যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।’
- — (সূরা নাহল, আয়াত ১৮)
- নিশ্চয় আমি (আল্লাহ) এটিকে (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রাত্রিতে।
- সূরা কদর, আয়াত: ১
- কিন্তু এটি একটি সম্মানিত কুরআন।
- সূরা বুরুজ আয়াত নং ২১
- নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন যারা তাঁর কাছে তওবা করে, এবং তিনি তাদেরকে ভালবাসেন যারা নিজেদেরকে পবিত্র করে।
- — কুরআন, সূরা ২ (আল-বাকারা), আয়াত ২২২
- অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে, এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন; আল্লাহ মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ। আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমনকি যখন মাথার উপর মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকে - আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফুরি(অবাধ্য) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
- — কুরআন, সূরা ৪ (আন-নিসা), আয়াত ১৭-১৮
- কিয়ামত দিবসে তার (অবিশ্বাসী, অবাধ্য) শাস্তি বৃদ্ধি পেতে থাকবে, এবং সে তাতে অনন্তকাল লাঞ্ছিত অবস্থায় থাকবে,- কিন্তু তারা নয় যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, এইরূপ লোকেদের জন্য আল্লাহ পাপের পরিবর্তে পুণ্যসমূহ দান করবেন, আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল পরম করুণাময়। আর যে ব্যক্তি তওবা করে ও সৎকর্ম করে তবে তো সেই ব্যক্তি সত্যিই আল্লাহর নিকট (গ্রহণযোগ্যভাবে) রূপান্তরিত হয়ে প্রত্যাবর্তন করেছে।
- — কুরআন, সূরা ২৫ (আল-ফুরকান), আয়াত ৬৯-৭১
- আর তুমি তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (কাসদ) অবলম্বন কর এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো; নিশ্চয় সুরের মধ্যে গর্দভের সুরই সবচেয়ে অপ্রীতিকর।
- — লুকমান ৩১:১৯
- এ কারণেই, আমি বনী ইসরাঈলের উপর এই হুকুম দিলাম যে, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করা কিংবা যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করা ছাড়া যে কাউকে হত্যা করল, সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল। আর যে তাকে বাঁচাল, সে যেন সব মানুষকে বাঁচাল। আর অবশ্যই তাদের নিকট আমার রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছে। তা সত্ত্বেও এরপর যমীনে তাদের অনেকে অবশ্যই সীমালঙ্ঘনকারী।
- মায়েদা ৫:৩২
কুরআন সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- সূরা বাকারা কুরআনের ২ নম্বর সূরা, এতে আয়াত রয়েছে ২৮৬ টি, তা ২ দিয়ে ভাগ করলে হয় ১৪৩, সূরা বাকারার ১৪৩ নম্বর আয়াতে মধ্যমপন্থা (ওয়াসাত(-ান)) শব্দটি রয়েছে, যা কুরআনের একটি মুজিযা।
- উপরের পর্যবেক্ষণটি তাদের দ্বারা অনুমানটিকে অগ্রসর করে তোলে যারা মুহাম্মদকে কোরানের লেখক হিসাবে দেখেন। একজন মানুষ, নিরক্ষর থেকে, সাহিত্যিক যোগ্যতার দিক থেকে, সমগ্র আরবি সাহিত্যে কীভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখক হতে পারে? তাহলে কীভাবে তিনি এমন একটি বৈজ্ঞানিক প্রকৃতির সত্য উচ্চারণ করতে পারতেন যা অন্য কোনো মানুষ সেই সময়ে বিকশিত হতে পারেনি, এবং এই সবই একবারও তার এই বিষয়ে তার উচ্চারণে সামান্যতম ভুল না করেও?"
- মরিস বুকাইলি, দ্য বাইবেল, দ্য কুরআন এন্ড সায়েন্স ১৯৭৮, পৃ: ১৭৫।
- আধুনিক জ্ঞানের আলোকে এটির [কোরআন] সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ পরীক্ষা, আমাদের উভয়ের মধ্যে চুক্তিকে স্বীকৃতি দিতে পরিচালিত করে, যেমনটি ইতিমধ্যে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। মুহাম্মদের যুগের একজন ব্যক্তির পক্ষে তার সময়ে জ্ঞানের অবস্থার কারণে এই ধরনের বক্তব্যের লেখক হওয়া আমাদেরকে অকল্পনীয় মনে করে। এই ধরনের বিবেচনাগুলি কুরআনের উদঘাটনকে তার অনন্য স্থান প্রদানের অংশ, এবং নিরপেক্ষ বিজ্ঞানীকে এমন একটি ব্যাখ্যা প্রদানে তার অক্ষমতা স্বীকার করতে বাধ্য করে যা কেবলমাত্র বস্তুবাদী যুক্তির উপর নির্ভর করে।
- মরিস বুকাইলি, দ্য বাইবেল, দ্য কুরআন এন্ড সায়েন্স ১৯৮১, পৃ: ১৮।
- কিন্তু ধরুন আমরা স্বীকার করি - যেমন কোরানের অনুসারীরা দাবি করেন - ([একটি দাবি] যা অস্বীকার করে সমস্ত জ্ঞানী এবং উদ্যোগী বিশ্বাসী, যেমনটি উপরে স্পষ্ট করা হয়েছে) - যে কোরানের গ্রন্থের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য, কেবল নয়। স্রষ্টা ঈশ্বরের কাছ থেকে বা খ্রীষ্টের কাছ থেকে বা ঈশ্বরের নবী এবং দূতদের কাছ থেকে বা টেস্টামেন্টের ঐশ্বরিক বই, সাল্টার এবং গসপেল থেকে বিচ্ছিন্ন করা, তবে সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের গৌরব করা, খ্রীষ্টের প্রশংসা করা এবং সাক্ষ্য দেওয়া ( ভার্জিন মেরির পুত্র) সকল নবীদের উপরে, এবং টেস্টামেন্ট এবং গসপেলকে নিশ্চিত ও অনুমোদন করার জন্য। [যদি তাই হয়] তাহলে কেউ যখন এই উপলব্ধির সাথে কোরান পাঠ করে, নিশ্চিতভাবেই কিছু ফল পাওয়া যেতে পারে [তা থেকে]।
- কুসের নিকোলাস, Cribratio Alcorani ইংরেজি অনুবাদ- হপকিনস, পৃ: ১১৫।
- যে কুরআন শিক্ষা করে আর যে শিক্ষা দেয়; তারাই সর্বোত্তম।
- মুহাম্মাদ, বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনা
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় কুরআন সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।