বিষয়বস্তুতে চলুন

আল-জাহিজ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
আল-জাহিজের কিতাব আল-হায়াওয়ান (প্রাণীদের বই) থেকে একটি জিরাফ।

আবু উসমান আমর ইবনে বাহর আল-কিনানি আল-বাসরি (আরবি: أبو عثمان عمرو بن بحر الكناني البصري‎), যিনি সাধারণত আল-জাহিজ (আরবি: الجاحظ‎, স্ফীত চক্ষু; জন্ম ৭৭৬; মৃত্যু ডিসেম্বর ৮৬৮/জানুয়ারি ৮৬৯) নামে পরিচিত, তিনি ছিলেন একজন আরব গদ্য লেখক এবং সাহিত্য, মুতাজিলা ধর্মতত্ত্ব ও রাজনৈতিক-ধর্মীয় বিতর্ক সাহিত্যের লেখক।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • সুবক্তা যেমন সুকৌশলী বাগ্মিতার ভান করেন না, তেমনি মহৎ ব্যক্তিরও নিজেকে গুণী জাহির করার প্রয়োজন নেই।
    মানুষ যখন নিজের গুণাবলি বাড়িয়ে বলে, তখন বুঝতে হবে তার মাঝে কোনো কিছুর অভাব রয়েছে;
    দুর্বৃত্তরা দম্ভ দেখায় কারণ তারা নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন।
    অহংকার সব মানুষের জন্যই কুৎসিত... এটি নিষ্ঠুরতার চেয়েও খারাপ, যা কিনা পাপের মধ্যে নিকৃষ্টতম; আর নম্রতা ক্ষমাশীলতার চেয়েও উত্তম, যা কিনা সব ভালো কাজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
    • কিতাব আল-বুখালা (কৃপণদের বই)
  • যতক্ষণ আপনার নীরবতা প্রয়োজন বই ততক্ষণ নিশ্চুপ থাকে,
    আর যখনই আলাপচারিতা চান বই তখন হয়ে ওঠে বাগ্মী।
    আপনি কোনো কাজে ব্যস্ত থাকলে সে কখনোই ব্যাঘাত ঘটায় না
    কিন্তু আপনি যখন একাকীত্ব অনুভব করেন তখন সে একজন ভালো সঙ্গী হয়ে ওঠে।
    সে এমন এক বন্ধু যে কখনোই প্রতারণা করে না বা বিমুখ হয় না,
    এবং সে এমন এক সহচর যে আপনার প্রতি কখনোই বিরক্ত হয় না।
    • কিতাব আল-হায়াওয়ান (প্রাণীদের বই)
  • সকলে একমত যে, পৃথিবীতে জানজদের মতো দানশীল জাতি আর নেই। বাদ্যের তালে নাচার এক সহজাত প্রতিভা তাদের রয়েছে, যা শেখার প্রয়োজন হয় না। তাদের চেয়ে ভালো গায়ক পৃথিবীতে আর নেই, নেই তাদের চেয়ে মার্জিত ও সুবক্তা কোনো জাতি; তারা গালিগালাজও খুব কম করে। শারীরিক শক্তি ও সহনশীলতায় কোনো জাতি তাদের ছাড়িয়ে যেতে পারে না। তাদের একেকজন এমন ভারী ওজন বহন করতে পারে যা অধিকাংশ বেদুঈন বা অন্যান্য জাতির শক্তির বাইরে। তারা সাহসী, উদ্যমী এবং উদার যা আভিজাত্যের বৈশিষ্ট্য; পাশাপাশি তারা সদালাপী এবং মন্দের প্রতি তাদের ঝোঁক খুব কম। তারা সবসময় প্রফুল্ল, হাস্যোজ্জ্বল এবং বিদ্বেষহীন, যা উন্নত চরিত্রের লক্ষণ।
    • মেডিভ্যাল সোর্সবুক: আবু উসমান আল-জাহিজ: প্রবন্ধসমূহ থেকে, আনু. ৮৬০ খ্রিস্টাব্দ। সংগৃহীত: ২ অক্টোবর ২০১৪। [১]
  • জানজরা বলে যে, আল্লাহ তাদের বিকৃত করার জন্য কালো করেননি; বরং তাদের পরিবেশই তাদের এমন করেছে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো আরবদের মধ্যেও বনু সুলাইম বিন মনসুরের মতো কৃষ্ণবর্ণের গোত্র রয়েছে এবং বনু সুলাইম ছাড়াও হাররা অঞ্চলে বসবাসকারী সব জাতিই কালো। এই গোত্রগুলো গবাদিপশু চড়ানো, সেচ কাজ, কায়িক শ্রম এবং গৃহস্থালির কাজের জন্য আশবানদের মধ্য থেকে দাস গ্রহণ করে এবং বাইজেন্টাইনদের মধ্য থেকে স্ত্রী গ্রহণ করে; তথাপি তিন প্রজন্মের কম সময়ের মধ্যেই হাররা অঞ্চলের প্রভাবে তারা সবাই বনু সুলাইমদের মতো গায়ের রং পেয়ে যায়। এই হাররা অঞ্চল এমন যে সেখানকার হরিণ, উটপাখি, কীটপতঙ্গ, নেকড়ে, শিয়াল, ভেড়া, গাধা, ঘোড়া এবং পাখি সবই কালো। সাদা এবং কালো হলো পরিবেশ, পানি ও মাটির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, সূর্যের দূরত্ব এবং তাপের তীব্রতার ফলাফল। এখানে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো রূপান্তর, শাস্তি, বিকৃতি বা বিশেষ অনুগ্রহের প্রশ্নই ওঠে না। তাছাড়া, বনু সুলাইমদের ভূমির সাথে তুর্কিদের ভূমির অনেক মিল রয়েছে, যেখানে তাদের উট, গবাদিপশু এবং সবকিছু দেখতে তুর্কিদের মতোই; তাদের সবকিছুর মধ্যেই একটি তুর্কি ছাপ রয়েছে।
    • মেডিভ্যাল সোর্সবুক: আবু উসমান আল-জাহিজ: প্রবন্ধসমূহ থেকে, আনু. ৮৬০ খ্রিস্টাব্দ। সংগৃহীত: ২ অক্টোবর ২০১৪। [২]

তার সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • কৃষ্ণাঙ্গতার সমগ্র বিষয়টি বসরার আল-জাহিজ (আনু. ৭৭৬-৮৬৯) রচিত একটি বিশেষ প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়েছিল। তিনি ধ্রুপদী আরবি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গদ্য লেখক ছিলেন এবং তার কয়েকজন জীবনীকারের মতে তিনি আংশিকভাবে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ছিলেন। "ফখর আল-সুদান 'আলা-ল-বিদান"(শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গদের অহংকার) শিরোনামের এই প্রবন্ধটির উদ্দেশ্য হলো কৃষ্ণকায় মানুষদের এবং বিশেষ করে পূর্ব আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ 'জানজি' সম্প্রদায়ের সমালোচকদের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থন করা। এতে তাদের বিরুদ্ধে সাধারণত আনা অভিযোগগুলো খণ্ডন করা হয়েছে এবং প্রচুর কাব্যিক উদাহরণের মাধ্যমে তাদের গুণাবলি ও অর্জনগুলো তুলে ধরা হয়েছে। যারা প্রশ্ন করেন, "এমনটা কেন যে আমরা আজ পর্যন্ত এমন কোনো জানজিকে দেখলাম না যার বুদ্ধি অন্তত একজন নারী বা শিশুর সমান?" জাহিজের উত্তরে বলেন, তারা যে জানজিদের চিনত তারা ছিল নিচু বংশের এবং প্রত্যন্ত ও অনগ্রসর এলাকা থেকে আসা দাস। তারা যদি ভারতীয় দাসদের সাথে তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিচার করত, তবে কি ভারতীয় বিজ্ঞান, দর্শন এবং শিল্পকলা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা তৈরি হতো? স্পষ্টতই না এবং কৃষ্ণাঙ্গদের অঞ্চলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। জাহিজ বিবাহের সঙ্গী হিসেবে কৃষ্ণাঙ্গদের সমতাকেও সমর্থন করেন এবং এই বৈপরীত্যটি উল্লেখ করেন যে তাদের প্রতি বৈষম্যের প্রথম সূচনা হয়েছিল ইসলামের আবির্ভাবের পর: তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের মুখ দিয়ে বলান, "এটি তোমাদের অজ্ঞতারই অংশ যে, জাহিলিয়াতের যুগে (অর্থাৎ প্রাক-ইসলামিক আরবে) তোমরা আমাদের তোমাদের নারীদের বিয়ে করার যোগ্য বলে মনে করতে, অথচ যখন ইসলামের ন্যায়বিচার এল, তখন তোমরা একে অন্যায় বলে গণ্য করলে।"
    • বার্নার্ড লুইস, বি. (১৯৯২)। রেস অ্যান্ড স্লেভারি ইন দ্য মিডল ইস্ট: অ্যান হিস্টোরিকাল এনকুয়ারি। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। অধ্যায় ৪।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]