বিষয়বস্তুতে চলুন

আল মুজাহিদী

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

আল মুজাহিদী (জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৪৩) বাংলাদেশের একজন কবি ও সাহিত্যিক। তিনি ষাট দশকের কবি হিসাবে চিহ্নিত। তিন দশকেরও অধিক সময় ধরে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তিনি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। কবিতা ছাড়াও তিনি গল্প, উপন্যাস, সমালোচনা ইত্যাদি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখেছেন। শিশু সাহিত্যেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আগুন জ্বলছে। আগুন। আমাদের। শিরা-উপশিরা জুড়ে। ধমনীর
    রন্ধ্রে-রন্ধ্রে। চারিদিকে যুদ্ধ। দুন্দুভি বাজছে। দামামা বাজছে। সারা
    বাংলা জাগ্‌ছে। আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ছে।
    • সূর্যের পতাকা লাল, পৃষ্ঠা ১০
  • সভ্যতার দোরগোড়ায় আমার দায় নেই দু'দণ্ড হাসির।
    সভ্যতার ক্রীতদাস
    এইসব মানব শিশুর দুনিয়া কাঁপানো ঠা ঠা হাসি নেই-
    এক ভয়াবহ আণবিক অনিশ্চয়তা শুধু। আণবিক অনিশ্চয়তা
    ক্ষুধার্ত শতাব্দী।
    ক্ষুধার্ত সভ্যতা। যুদ্ধই একমাত্র আহার তোমার। শান্তি নয়, যুদ্ধ।
    • যুদ্ধবিরোধী কবিতা ও অন্যান্য, পৃষ্ঠা ১১
  • দেশ বুঝি না। রাষ্ট্র বুঝি না। এই উড়নচন্ডি জননটেশের তবে আমাদের অস্তিত্বের সমস্ত ভূগোল দাঁত বসিয়ে দেয়। তখন কেবল আমিই। বড়ো হয়ে উঠি। জাতি, দেশ, রাষ্ট্র চুলোয় যাক— তাতে কার কী এসে যায়। কিন্তু বেশ এসে যায় আমাদের নিজস্ব শক্তির ওপর। আত্মঘাতী ও ব্যাপারটি পর্যন্ত আমাদের বুদ্ধিতে আসে না। না আমাদের স্বভাবে না আমাদের সংস্কৃতিতে।
    • আর্কিওপটেরিক্স, পৃষ্ঠা ১৩
  • ‘এই দেখো স্বপ্নকল্প'
    মৌলিক আলোক শিখা বুকে ক'রে
    জাগবে, জাগছে শতভিষা-
    অতীতের জোতিচিহ্ন
    অনাগত অন্ত্যমিল
    যদিও দিকেদিকে সাঁটা বিপ্রতীপ খিল
    তবু নিখিল দরোজা খোলো
    দেখো, ঝরোকার পাশে দাঁড়ানো তোমার
    সভ্যতার শোকার্ত সন্তান!
    এ-পৃথিবী স্বর্গগ্রাম হবে না কখনও, তবু মর্ত্য
    মর্ত্যই থেকে যাবে থেকে যাক চিরায়ত।
    • যুদ্ধবিরোধী কবিতা ও অন্যান্য, পৃষ্ঠা ৭৯
  • মানুষ তার মনুষ্যত্বের যেকোনো পূর্বে জীবনের সত্তা ও স্বরূপকে উদ্ভাসিত করে তুলতে পারে। সীমা সংখ্যায়, গণনাশাস্ত্রে, মননধরা সূচনায় এবং জীবনচর্যার প্রতিটি মুহূর্তে মানুষ সুচিন্তিত স্বাক্ষর রাখতে পারে। এই সম্পূর্ণতা এবং সফলতা, চরম উৎকর্ষ এবং চিরন্তনতার আলোক ধারায় উদ্ভাসন কখনই ঘটে যদি না মানুষ স্বাধীনভাবে, যখন মানুষ তার জীবনের ধারণা ও অনুভবে দরকার হওয়ার সঙ্গম প্রয়াস চালায়। সন্ধান করতে থাকে স্বভাবের সিংহ দরোজায় কড়া নাড়ার করাল কর্কশ ধ্বজা ও নিশান। প্রতিটি মানুষের একটি করে নিজস্ব ভুবন আছে। সুবিশাল বৃক্ষ আছে। আর নিজের স্বভাব আকর্ষণের জীবন ধারণে সিদ্ধি লাভের সুযোগও সৃষ্টি হয়।"
    • যুগান্তরের যাত্রী, পৃষ্ঠা ৯

সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
দেশ, মাটি ও মানুষের কবি আল মুজাহিদী, দৈনিক খবরপত্র (৬ জানুয়ারি ২০২৩) হতে উদ্ধৃত
  • কবি আল মুজাহিদী প্রাচীন গ্রীক কাব্যের মৃত্তিকা বোধের প্রতি প্রবল আকর্ষণ অনুভব করেছেন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ হেমলকের পেয়ালা নামটিতে বুঝা যায় গ্রীক জীবন-দর্শন তাকে কত প্রবলভাবে আলোড়িত করেছিল। এ কাব্যগ্রন্থে তিনি চাঁদকে ছুঁয়ে দেখেছেন, নক্ষত্রকে স্পর্শ করেছেন এবং নীহারিকা পুঞ্জকে গ্রহণ করবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কখনও মৃত্তিকাকে ভুলতে পারেননি। তার কারণ: 'আমরা পৃথিবীর প্রথম বৃক্ষের নীচে সান্ধ্য মানব মানবী'।
  • কবি আল মুজাহিদী অতীত, বর্তমান, আগামী এ তিন জেনারেশনের মধ্যে একটা সম্পত্তি সূত্র হিসাবে এখনো টিকে আছেন এটা কম কথা নয়। স্বভাবের স্থিরতা এবং সংস্কৃতির প্রতি দৃঢ় নিষ্ঠা অঙ্গীকারের বলেই এটা তিনি সম্ভব করতে পেরেছেন। যে কোন রচনা তার ভালো লাগলে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতে তার বাঁধে না। এটা একটি দুর্লভ গুণ। মানুষকে আপন করে নেয়ার একটা সহজাত ক্ষমতা ছিলো মুজাহিদীর। তার হাত দিয়ে অনেক তরুণ লেখক-লেখিকার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তরুণদের তিনি প্রাণ দিয়ে ভালবাসেন।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]