বিষয়বস্তুতে চলুন

ইউরি গ্যাগারিন

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

ইউরি আলেক্সেইভিচ্ গ্যাগারিন (রুশ: Юрий Алексеевич Гагарин),(৯ মার্চ ১৯৩৪ – ২৭ মার্চ ১৯৬৮) একজন সোভিয়েত বৈমানিক এবং নভোচারী। তিনি সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি মহাকাশ ভ্রমণ করেন, তিনি ভস্টক নভোযানে করে ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল, পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করেন।

মহাকাশযানে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে আমি দেখলাম আমাদের গ্রহটি কত সুন্দর। মানুষ, আসুন আমরা এই সৌন্দর্য রক্ষা করি এবং বৃদ্ধি করি, ধ্বংস না করি!

গ্যাগারিন এর ফলে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন, এবং তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের নায়কে পরিণত হন এবং দেশে বিদেশে বহু পুরস্কার এবং পদক লাভ করেন। ভস্টক ১ তাঁর একমাত্র মহাকাশ যাত্রা হলেও, তিনি সুয়েজ ১ মিশনের ব্যাকআপ হিসেবে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন (যা একটি ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল)। গ্যাগারিন পরবর্তীতে মস্কোর বাইরে অবস্থিত মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি ট্রেনিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, পরে যা তাঁর নিজের নামানুসারে নামকরণ করা হয়। গ্যাগারিন ১৯৬৮ সালে একটি মিগ ১৫ প্রশিক্ষণ বিমান চালনার সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।

উক্তি

[সম্পাদনা]
আমি একজন বন্ধু, সহচর, বিশ্বস্ত সঙ্গী!
মানুষের মধ্যে প্রধান শক্তি হল আত্মার শক্তি
  • চলো যাই! (রুশ: Поéхали, Poyekhali!)
    • ভস্টক ১ (১২ এপ্রিল ১৯৬১) উড্ডয়নের সময় উচ্চারিত হয়েছিল; সের্গেই ভিক্টোরোভিচ নোভিকভ দ্বারা উদ্ধৃত, Большая историческая энциклопедия (দ্য গ্রেটার হিস্টোরিক্যাল এনসাইক্লোপিডিয়া) (২০০৩) ওলমা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক, পৃষ্ঠা, ৯৪৩
  • ‘‘আমি একজন বন্ধু, সহচর, বিশ্বস্ত সঙ্গী!’’
    • পৃথিবীতে ফিরে আসার পর তাঁর ক্যাপসুলের কাছে অবস্থানরত এক নারী ও মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলা প্রথম বাক্য (১২ এপ্রিল ১৯৬১)। নারীটি জিজ্ঞাসা করেছিলেন: ‘‘আপনি কি মহাশূন্য থেকে এসেছেন?’’ গ্যাগারিন উত্তর দিয়েছিলেন: ‘‘হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে এসেছি!’’
      • ডেভ ইংলিশ-এর ‘‘দ্য এয়ার আপ দেয়ার: মোর গ্রেট কোটেশনস অন ফ্লাইট’’ (২০০৩), পৃ. ১১৮-তে উদ্ধৃত।
  • ‘‘প্রিয় বন্ধুগণ, যাঁদের চিনি আর যাঁদের চিনি না—সব দেশ-মহাদেশের, নারী-পুরুষ সকলেই!
    কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক শক্তিশালী মহাকাশযান আমাকে নিয়ে যাবে মহাবিশ্বের দূরান্তরে। এই যাত্রার প্রাক্কালে আমি আপনাদের কী বলব? আমার সমগ্র অতীত জীবন এখন এক অদ্ভুত মুহূর্তের মতো মনে হচ্ছে। এতদিন যা কিছু করেছি, সবই যেন এই মুহূর্তের প্রস্তুতি। আমাদের দীর্ঘ দিনের কঠোর প্রশিক্ষণের পরীক্ষা যখন এখানে এসে দাঁড়িয়েছে, এখন আমার অনুভূতি বোঝানো কঠিন। ইতিহাসের প্রথম এই মহাকাশযাত্রার দায়িত্ব যখন আমার কাঁধে দেওয়া হলো—কী অনুভব করলাম? আনন্দ? না, তার চেয়েও বেশি। গর্ব? না, শুধু গর্ব নয়। আমি অসম্ভব খুশি হয়েছি—মহাশূন্যে প্রথম মানুষ হওয়ার, প্রকৃতির সঙ্গে এই অভূতপূর্ব দ্বন্দ্বে নামার স্বপ্ন কি এর চেয়ে বড় হতে পারে?
    কিন্তু তখনই ভেবেছি—যে স্বপ্ন লালন করেছে একের পর এক প্রজন্ম, সেই পথ দেখানোর দায়িত্ব আমার উপর। এ শুধু একজন, একদল বা এক গোষ্ঠীর দায়িত্ব নয়—এ দায়িত্ব সমগ্র সোভিয়েত জনগণের, সমগ্র মানবজাতির—বর্তমান ও ভবিষ্যতের। তবুও আমি এই যাত্রায় রত, কারণ আমি একজন কমিউনিস্ট—আমার সহদেশবাসীর অদ্বিতীয় সাহসিকতা থেকে শক্তি সঞ্চয় করি। সমস্ত ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আমি দল ও সোভিয়েত জনগণের দেওয়া এই মহান দায়িত্ব পালন করব।
    মহাকাশযাত্রার সূচনায় কি আমি আনন্দিত? নিশ্চয়ই। সব যুগেই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ আনন্দ নতুন আবিষ্কারে অংশ নেওয়া।
    এই প্রথম মহাকাশযাত্রা উৎসর্গ করছি কমিউনিজমের জনগণের উদ্দেশ্যে—যে সমাজে আমরা ইতিমধ্যেই প্রবেশ করছি, আর যেখানে একদিন সমগ্র পৃথিবী প্রবেশ করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
    যাত্রা শুরুর মিনিট গুনছি। বিদায় জানাই আপনাদের—যেমন জানায় দীর্ঘ পথের যাত্রীরা। আলিঙ্গন করতে ইচ্ছে করে সবাইকে—চেনা-অচেনা, আপন-পর সবাইকে।
    আবার দেখা হবে!’’
  • ‘‘অনেকেই আমার জীবনী জানতে আগ্রহী। একটি সংবাদপত্রে পড়েছিলাম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছু দায়িত্বহীন ব্যক্তি—যারা গাগারিন রাজপরিবারের দূরসম্পর্কীয় বলে দাবি করে—আমাকে তাদের বংশধর ভাবছে। আমাকে তাদের ভ্রান্তি ভাঙতে হবে: আমি একজন সাধারণ সোভিয়েত মানুষ। ১৯৩৪ সালের ৯ মার্চ এক সমবায় কৃষকের পরিবারে আমার জন্ম। জন্মস্থান: স্মলেনস্ক অঞ্চলের ঘজাটস্ক জেলার ক্লুশিনো গ্রাম। আমার বংশপরম্পরায় কোনো রাজপুত্র বা অভিজাত ব্যক্তির নাম শুনিনি। অক্টোবর বিপ্লবের আগে আমার পিতা-মাতা ছিলেন দরিদ্র কৃষক। আমার দাদা-দাদিও ছিলেন একইভাবে দরিদ্র কৃষক।’’
  • ‘‘পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যরশ্মি ঝলসে উঠছিল। দিগন্ত উজ্জ্বল কমলা রং ধারণ করে ধীরে ধীরে রংধনুর সমস্ত রংয়ে মিশে গেল: হালকা নীল থেকে গাঢ় নীল, বেগুনি, এবং শেষে কালো। কি এক অবর্ণনীয় বর্ণলহরী! যেন শিল্পী নিকলাস রোরিখ-এর চিত্রকলা।’’
    • এপ্রিল ১৯৬১-এর বক্তব্য; কলিন মেসিনা-র ‘‘ওয়ারিয়র অফ লাইট: নিকলাস রোরিখের জীবন: শিল্পী, হিমালয় অভিযাত্রী ও দূরদর্শী’’ (২০০২), পৃ. ৪৬-তে উদ্ধৃত।
  • মানুষের মধ্যে প্রধান শক্তি হল আত্মার শক্তি
    [রুশ মূল: Ведь главная сила в человеке — это сила духа.]
    • সাইমন এস উটকিন [Семен Семенович Уткин] দ্বারা মার্কসবাদী-লেনিনবাদী নীতিশাস্ত্রের প্রবন্ধ (মার্কসিতসকো-লেনিনসকোই ইতিকে) (১৯৬২) এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ১৮০
  • ‘‘আমাদের জনগণ তাদের প্রতিভা ও বীরত্বপূর্ণ শ্রম দিয়ে বিশ্ববিখ্যাত ভস্টক মহাকাশযান ও এর অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত, নির্ভরযোগ্য সরঞ্জাম তৈরি করেছে। যাত্রা শুরু থেকে অবতরণ পর্যন্ত, এই মহাকাশ ভ্রমণের সফল সমাপ্তি নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ ছিল না। আমি আন্তরিকভাবে আমাদের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ এবং সমস্ত সোভিয়েত শ্রমিককে ধন্যবাদ জানাই, যারা এমন একটি যান তৈরি করেছেন যা দিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে মহাশূন্যের রহস্য উদ্ঘাটন করা যায়। আমাকে এই মহাকাশযাত্রার জন্য প্রস্তুত করা সমস্ত সহকর্মী ও দলকে ধন্যবাদ জানাই। আমি নিশ্চিত, আমার সকল বন্ধু-নভোচারীরা যেকোনো মুহূর্তে আমাদের গ্রহ প্রদক্ষিণের জন্য প্রস্তুত। বলা নিরাপদ যে, আমরা আমাদের সোভিয়েত মহাকাশযানে করে আরও দূরের পথে যাত্রা করব। আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আমার প্রিয় মাতৃভূমি এই যাত্রায় বিশ্বে প্রথম হয়েছে, মহাবিশ্বে প্রবেশ করেছে প্রথমবারের মতো। প্রথম বিমান, প্রথম স্পুটনিক, প্রথম মহাকাশযান ও প্রথম মহাকাশযাত্রা—এগুলোই হলো প্রকৃতির রহস্য আয়ত্ত্ব করার পথে আমার মাতৃভূমির মহান যাত্রার ধাপসমূহ।’’
  • ‘‘মহাকাশযানে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে আমি দেখলাম আমাদের গ্রহটি কত সুন্দর। মানুষ, আসুন আমরা এই সৌন্দর্য রক্ষা করি এবং বৃদ্ধি করি, ধ্বংস না করি!’’
    [রুশ মূল: Облетев Землю в корабле-спутнике, я увидел, как прекрасна наша планета. Люди, будем хранить и преумножать эту красоту, а не разрушать её]
    • রুশ ভাষায় হস্তলিখিত ও স্বাক্ষরিত; এল. লেবেদেভ, এ. রোমানভ ও বি. লুকিয়ানভ সম্পাদিত ‘‘সিনি গোলুবোই প্ল্যানেটি’’ (৩য় সংস্করণ, ১৯৮১)-এ প্রকাশিত। প্রথম সংস্করণ ইংরেজিতে ‘‘সন্স অফ দ্য ব্লু প্ল্যানেট’’ (১৯৭৩) নামে অনূদিত।
  • ‘‘কি অপরূপ দৃশ্য!’’ আমি দেখলাম মেঘমালা আর তাদের সূক্ষ্ম ছায়াপাত দূরের প্রিয় পৃথিবীর বুকে.... জলরাশি যেন অন্ধকারাচ্ছন্ন, মিটমিট করে জ্বলছে অসংখ্য ক্ষুদ্র বিন্দুর মতো.... দিগন্তের প্রান্তে তাকাতেই চোখে পড়ল—পৃথিবীর উজ্জ্বল ভূমিভাগ থেকে একেবারে কৃষ্ণবর্ণ আকাশে রূপান্তরের সেই আকস্মিক, বৈপরীত্যপূর্ণ লহরী। আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম পৃথিবীর বর্ণিল ব্যঞ্জনায়। সে ঘিরে আছে নীলিমার এক মৃদু আভায়, যা ধীরে ধীরে গভীর হতে হতে রূপ নেয় ফিরোজা, গাঢ় নীল, বেগুনি, এবং শেষে কয়লার মতো ঘন কালোয়।’’
    • লুইস বি. ইয়ং-এর ‘‘আর্থ'স অরা’’ (১৯৭৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত।
  • ‘‘তারা যখন আমাকে মহাকাশ স্যুট পরিহিত অবস্থায় এবং পাশে প্যারাশুট টেনে নিয়ে হাঁটতে দেখল, ভয়ে পিছিয়ে যেতে লাগল। আমি তাদের বললাম, ‘ভয় পেয়ো না, আমি তোমাদের মতোই একজন সোভিয়েত, যে মহাকাশ থেকে নেমে এসেছে এবং মস্কোতে ফোন করতে হবে!’’’
    • অবতরণের পর মাঠে কর্মরত শ্রমিকদের সাথে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ; ‘‘মঙ্গলে জীবন?’’, জেসি স্কিনার, টোরো ম্যাগাজিন (১৪ অক্টোবর ২০০৮)-এ উদ্ধৃত।


বিতর্কিত

[সম্পাদনা]
  • ‘‘আমি বারবার তাকিয়েছি, কিন্তু ঈশ্বরকে দেখিনি।’’
    • ওয়েন লি-র ‘‘পৃথিবী থেকে উড়ান’’ (১৯৯৬) গ্রন্থে উদ্ধৃত; কিছু ওয়েবসাইটে ১৯৬১ সালের ১৪ এপ্রিল, তাঁর ঐতিহাসিক যাত্রার কয়েকদিন পর, এই বক্তব্য উল্লেখ করা হয়—‘‘আমি তাকিয়েছি, তাকিয়েছি, তাকিয়েছি, কিন্তু ঈশ্বরকে দেখিনি’’। তবে এই উক্তির সত্যতা বিতর্কিত। কর্নেল ভ্যালেন্টিন পেট্রভ ২০০৬ সালে জানান, নভোচারী কখনই এমন কথা বলেননি। এই উক্তি এসেছে নিকিতা ক্রুশ্চেভ-এর সিপিএসইউ-র কেন্দ্রীয় কমিটির এক সমাবেশে রাষ্ট্রের ধর্মবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে দেওয়া ভাষণ থেকে: ‘‘গাগারিন মহাকাশে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে কোনো ঈশ্বর দেখেননি।’’ গাগারিন নিজে রুশ অর্থোডক্স চার্চের সদস্য ছিলেন।
    • বিকল্প উক্তি: ‘‘না, আমি ঈশ্বরকে দেখিনি। আমি চারদিকে তাকালাম, কিন্তু তাঁকে পেলাম না।’’
      • পল শ্লিকারের ‘‘তোমার ভেতরে কী অনুপস্থিত?’’ (২০০৬), পৃ. ১৭।


ভুল ভাবে আরোপিত উক্তি

[সম্পাদনা]
  • ‘‘আমি এখানে ঊর্ধ্বে কোনো ঈশ্বর দেখি না।’’
    • এই উক্তিটি ভস্টক ১ মহাকাশযানে অবস্থানকালীন গ্যাগারিনের বলে প্রচারিত হলেও, তাঁর আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের রেকর্ডে এর কোনো উল্লেখ নেই। এটি সম্ভবত পৃথিবীতে ফেরার পর তাঁর উপর আরোপিত বিতর্কিত মন্তব্যের (১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল) সমরূপ, যা থেকে এই বিবরণ নানা ভাবে বিকৃত হয়ে উদ্ভূত হয়েছে।

তার সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
তিনি ছিলেন পর্বতের প্রতিধ্বনিতে বিবর্ধিত এক ধ্বনিসদৃশ। পথিক ক্ষুদ্র, কিন্তু পর্বত মহান—আর হঠাৎ করেই তারা মিলেমিশে এক হয়ে যায়। ইউরি গ্যাগারিন ঠিক তেমনই ছিলেন। ~ ভ্যালেন্টিনা মালমি
  • ‘‘মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা শুরু থেকেই কঠিন। প্রথম মানব হিসেবে মহাকাশে যাওয়া ইউরি গ্যাগারিন যখন পৃথিবীতে ফিরলেন, তাঁর সম্মানে আয়োজিত হলো বিশাল সংবর্ধনা। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহনভোচারী আলেক্সি লিওনভ বর্ণনা করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিকিতা ক্রুশ্চেভ গ্যাগারিনকে কোণঠাসা করে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বলো তো ইউরি, ওপরে ঈশ্বরকে দেখেছ?’ কিছুক্ষণ চুপ থেকে গ্যাগারিন উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, দেখেছি।’ ক্রুশ্চেভ ভ্রু কুঁচকে বললেন, ‘কাউকে বলো না।’ কিছুক্ষণ পর রুশ অর্থোডক্স চার্চের প্রধান গ্যাগারিনকে একপাশে ডেকে নিলেন। ‘বলো বৎস, তুমি কি সত্যিই ঈশ্বরকে দেখেছ সেখানে?’ গ্যাগারিন দ্বিধায় পড়ে বললেন, ‘না, দেখিনি।’ জবাব এল, ‘কাউকে বলো না।’’’
    • ‘‘নিউ এজ জার্নাল’’, ৭ম খণ্ড (১৯৯০), পৃ. ১৭৬-তে সংকলিত।
  • ‘‘তিনি ছিলেন পর্বতের প্রতিধ্বনিতে বিবর্ধিত এক ধ্বনিসদৃশ। পথিক ক্ষুদ্র, কিন্তু পর্বত মহান—আর হঠাৎ করেই তারা মিলেমিশে এক হয়ে যায়। ইউরি গ্যাগারিন ঠিক তেমনই ছিলেন।
    বীরত্বের কৃতিত্ব সাধন মানে স্বীয় আত্মরক্ষার সহজাত প্রবৃত্তিকে অতিক্রম করা, আজ যা অধিকাংশের কাছে অচিন্তনীয়—তা সাহস করে মোকাবেলা করা। এবং তার মূল্য চুকানোর প্রস্তুতি রাখা। নায়কের নিজের কাছে তাঁর এই কীর্তিই সকল সম্ভাবনার চূড়ান্ত সীমা। যদি তিনি কিছু ‘সংরক্ষিত’ রাখেন, তবে সেই সাহসিক কাজটি কঠোর পরিশ্রমের স্তরে নেমে আসে—গৌরবজনক, কিন্তু কেবল কর্মমাত্র। বীরত্বের লড়াই সর্বদাই মহান অজানার দিকে এক ঝাঁপ। নিখুঁত পূর্বপরিকল্পনা সত্ত্বেও মানুষ এতে প্রবেশ করে অন্ধকারবৃত্তের মতো, আভ্যন্তরীণ উত্তেজনায় পূর্ণ, যেকোনো পরিণতির জন্য প্রস্তুত।’’
  • ‘‘আসলে গ্যাগারিনকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি উক্তির জন্য স্মরণ করা উচিত। আমি সর্বদা স্মরণ রাখি, ইউরি গ্যাগারিন বলেছিলেন: ‘একজন নভোচারী মহাকাশে অবস্থান করলেও তাঁর মন ও হৃদয়ে ঈশ্বরের উপস্থিতি অবশ্যম্ভাবী।’’’

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]