বিষয়বস্তুতে চলুন

ইন্দুমাধব মল্লিক

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

ইন্দুমাধব মল্লিক (৪ ডিসেম্বর ১৮৬৯ - ৮ মে ১৯১৭) ছিলেন ভারতীয় বাঙালি ডাক্তার ও বিজ্ঞানী। চিকিৎসক হিসেবে তার বিশেষ খ্যাতি ছিল। অটোভ্যাকসিন চিকিৎসা পদ্ধতি ভারতে প্রথম চালু করায় অগ্রণী ছিলেন ইন্দুমাধব। জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা, আহার্য বিধি ইত্যাদিতে শিক্ষিত করে তোলার কাজে তার প্রয়াস ছিল। ইন্দুমাধব ১৮৯৭ থেকে ১৯০০ সাল অবধি কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজে যুক্তিবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, দর্শন ও রসায়ন বিষয়ে অধ্যাপনা করেছেন। তার অন্যতম বিখ্যাত কাজ ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে ইকমিক কুকারের উদ্ভাবন। ইন্দুমাধব বিদেশের বহু স্থান ভ্রমণ করেন ও দুটি ভ্রমণ কাহিনীও রচনা করেছিলেন। তার বই দুটির নাম চীন ভ্রমণ (১৯০৬)ও বিলাত ভ্রমণ।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • বর্ম্মা দেশের লোক ভাল কারিগর। ঘরে ঘরে রেশমের কাপড় বোনা হয়,—কিন্তু বাড়িতে ছাড়া তাহারা সে মোটা রেশমের কাপড় ব্যবহার করে না। যে দেশে রেশমের কাপড়ই সাধারণের পরিধেয়, সে দেশে সাজ-সজ্জায় স্পৃহা কত বেশী তা সহজেই বুঝা যায়। মিহি রেশমের কাপড় চীন হইতে আমদানী হয়,—তার দামও অনেক। সাজ-সজ্জার বিষয়ে তাহাদের এত বাড়াবাড়ি যে, কাপড় একবার কাচাইলে আর সে কাপড় তাহারা বাহির হইবার কালে পরিবে না,—কেবল বাড়ীতেই পরিবে।
    • সিঙ্গাপুর, চীন ভ্রমণ - ইন্দুমাধব মল্লিক, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫-২৬
  • রেঙ্গুন হইতে চীন জাহাজ ছাড়িয়াছিল। জাহাজে সকল জাতীয় সকল শ্রেণীর যাত্রী। প্রতি বন্দরে কতক লোক উঠিল, কতক নামিল। একটি বাড়ীতে যেমন অনেক লোক থাকে, জাহাজেও সেইরূপ সকল যাত্রিই একত্রে কাল যাপন করিত; সর্ব্বদা দেখাসাক্ষাৎ ও মেশামিশি হইত।
    • চীন জাহজে যাত্রিদল, চীন ভ্রমণ - ইন্দুমাধব মল্লিক, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৩
  • নিকটেই পাথুরে কয়লার স্তুপ! বহুদূর ধরিয়া পর্ব্বতাকারে কয়লা রক্ষিত হইয়াছে। যেন সমুদ্রের ধারে বরাবর একটা অবিচ্ছিন্ন কয়লার পাহাড়ের সারি চলিয়া গিয়াছে। সিঙ্গাপুর জাহাজে কয়লা লইবার একটি প্রধান আড্ডা। জাহাজের জন্য পাথুরে কয়লা বোঝাই হইবার স্থান।
    • সিঙ্গাপুর, চীন ভ্রমণ - ইন্দুমাধব মল্লিক, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫২-৫৩
  • এক চীনেম্যান রক্ত-আমাশয়ে শয্যাগত হইয়া পড়িল। সে উত্থানশক্তি রহিত; বন্দরে পৌঁছিলে তাহার আপনার ভাই তাহাকে ফেলিয়া চলিয়া গেল। আমরা তাহাকে হাঁসপাতালে পাঠাইয়া দিলাম। আনেকগুলি স্ত্রীলোক তাহার সাহায্যের জন্য তাহার হাতে একটি দুটি-কারিয়া তাম্র-মুদ্রা দিলেন।
    • চীন জাহজে যাত্রিদল, চীন ভ্রমণ - ইন্দুমাধব মল্লিক, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭
  • সহরটি বড় স্যাঁতস্যাঁতে; মশার উৎপাত ও জ্বরের প্রদুর্ভাবও এইজন্য এখানে বেশী। প্রতিভাশালী ডাক্তার রসের আবিষ্কারানুসারে আজকাল স্থির হইয়াছে যে, এক জাতীয় দূষিত মশক দংশনই ম্যালেরিয়া জ্বরের উৎপত্তির কারণ; সেই কারণে বর্ষার ঠিক শেষে ও শীতের প্রারম্ভে অর্থাৎ পূজার সময় ও পরে যখন মাটি অত্যন্ত ভিজা থাকে,সেই সময় মশাও বিস্তর জন্মে।
    • সিঙ্গাপুর, চীন ভ্রমণ - ইন্দুমাধব মল্লিক, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৭

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]