আব্রাহাম
অবয়ব
(ইব্রাহিম থেকে পুনর্নির্দেশিত)
আব্রাহাম, অব্রাহাম[অব্রাম,আব্রাম] বা ইব্রাহীম[ইবরাহীম, ইব্রাহিম] (হিব্রু ভাষায়: אַבְרָהָם, ʾAvraham বা ʾAḇrāhām; গ্রিক: Ἀβραάμ, Abraám; আরবি: إِبْرَاهِيْمُ, প্রতিবর্ণীকৃত: ʾIbrāhīm)[সম্মানার্থে — আলাইহিস সালাম] হলেন ইহুদিধর্ম, খ্রিষ্টধর্ম, ইসলাম প্রভৃতি ইব্রাহিমীয় ধর্মসমূহের সাধারণ পিতৃকুলপতি। অর্থাৎ তিনি ইস্রায়েলীয়, ইশ্মায়েলীয়, ইদোমীয়, মিদিয়নীয় এবং সম্পর্কিত অন্যান্য গোত্রসমূহের প্রতিষ্ঠাতা পিতৃপুরুষ। ইহুদিধর্মমতে তিনি খণ্ডদ্বয়ের চুক্তির প্রতিষ্ঠাতা, যা ইহুদি জাতি ও ঈশ্বরের মধ্যকার একটি বিশেষ সম্পর্ক; খ্রিষ্টধর্মমতে তিনি ইহুদি বা পরজাতীয় সমস্ত বিশ্বাসীদের আদিরূপ; আর ইসলাম অনুসারে তিনি আল্লাহর প্রেরিত নবী ও রাসূল এবং তিনি আদম থেকে শুরু ও মুহাম্মদের মাধ্যমে পরিসমাপ্ত নবুয়তের ধারার মধ্যে একজন সংযোগ স্থাপনকারী।




উক্তি
[সম্পাদনা]

সদোম নগরে যদি ৫০ জনও ভাল লোক থাকে তাহলে আপনি কি করবেন? তাহলেও কি আপনি নগরটা ধ্বংস করবেন? নিশ্চয়ই আপনি ঐ নগরবাসী ৫০ জন ভাল লোকের জন্যে নগরটা ধ্বংস করবেন?
তাহলে আপনি নিশ্চয়ই ঐ নগরটা বা ঐ খারাপ লোকেদের ধ্বংস করবেন না? যদি তা করেন তাহলে ভাল এবং মন্দ লোকেদের একই পরিণতি হবে। তার অর্থ, ভাল এবং মন্দ জাতীয উভয় লোকদেরই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। আপনি সমস্ত পৃথিবীর বিচারক। আমি জানি আপনি ঠিক বিচারই করবেন।” ~ আদিপুস্তক ১৮:২৩-২৫,—(KJV)

সারা আমার স্ত্রী, আবার আমার বোনও বটে। সারা আমার পিতার কন্যা বটে, কিন্তু আমার মাতার কন্যা নয়।
ঈশ্বর আমাকে পিতৃগৃহ থেকে দূরে কোথাও নিয়ে যাচ্ছেন। ঈশ্বর আমাকে অনেক দেশে নিয়ে গেছেন। যখন এরকম হল তখন আমি সারাকে বললাম, “আমার জন্য কিছু করো; যেখানেই আমরা যাব, সবাইকে বলবে যে তুমি আমার বোন।”" ~ আদিপুস্তক ২০:১১-১৩,—(KJV)
- [ঐতিহাসিক উৎসগুলিতে বর্ণিত আব্রাহামের উক্তিসমূহ]
বাইবেল
[সম্পাদনা]- তোমার আমার মধ্যে কোনও বিবাদ থাকতে পারে না। তোমার লোকেদের সঙ্গে আমার লোকেদের কোন বিবাদ হওয়া উচিত নয়। আমরা সবাই পরস্পরের আপনজন।
আমাদের পৃথক হয়ে যাওয়া উচিত। তোমার যে জায়গা পছন্দ সেই জায়গাতেই যাও। তুমি বাঁ দিকে গেলে আমি ডান দিকে যাব। যদি তুমি ডান দিকে যাও, আমি বাঁ দিকে যাব।
- পরাত্পর ঈশ্বর, যিনি স্বর্গ মর্ত্য সৃষ্টি করেছেন সেই প্রভুর কাছে আমি শপথ করছি।
যা কিছু আপনার তার কিছুই আমি রাখব না। আমি প্রতিশ্রুতি করছি যে আমি কিছুই রাখব না। এমনকি একটা সুতো অথবা জুতোর ফিতেও না। আমি চাই না যে আপনি বলবেন, ‘অব্রামকে আমি বড়লোক বানিয়েছি|’
আমি শুধু সেটুকুই নেব যা আমার যোদ্ধারা খেয়েছে। কিন্তু অন্যদের আপনি তাদের ভাগ দিন। যুদ্ধে যা জিতেছি তা আপনি নিয়ে যান, কিন্তু কিছু আনের, ইষ্কোল এবং মম্রিকে দিয়ে যান। এরা যুদ্ধে আমায় সাহায্য করেছে।- সদোমের রাজাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেন; আদিপুস্তক ১৪:২২-২৪,—(KJV)
- প্রভু, আপনি কী ভাল লোকেদেরও ধ্বংস করবেন যেমন আপনি মন্দ লোকেদের ধ্বংস করেন?
সদোম নগরে যদি ৫০ জনও ভাল লোক থাকে তাহলে আপনি কি করবেন? তাহলেও কি আপনি নগরটা ধ্বংস করবেন? নিশ্চয়ই আপনি ঐ নগরবাসী ৫০ জন ভাল লোকের জন্যে নগরটা ধ্বংস করবেন?
তাহলে আপনি নিশ্চয়ই ঐ নগরটা বা ঐ খারাপ লোকেদের ধ্বংস করবেন না? যদি তা করেন তাহলে ভাল এবং মন্দ লোকেদের একই পরিণতি হবে। তার অর্থ, ভাল এবং মন্দ জাতীয উভয় লোকদেরই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। আপনি সমস্ত পৃথিবীর বিচারক। আমি জানি আপনি ঠিক বিচারই করবেন।...
আপনার তুলনায় আমি নেহাতই ধুলো আর ছাই। কিন্তু একটা প্রশ্ন করে আবার আপনাকে বিরক্ত করছি।
যদি ভাল লোকদের থেকে ৫ জনকে খুঁজে না পাওয়া যায় তখন কী করবেন? নগরে যদি মাত্র ৪৫ জন ভাল লোক থাকে? মাত্র ৫ জনকে পাওয়া গেল না বলে কি আপনি গোটা নগর ধ্বংস করে ফেলবেন?...
সেখানে গিয়ে আপনি যদি মাত্র ৪০ জন ভাল লোককে পান তাহলে কি আপনি পুরো নগর ধ্বংস করবেন?...
প্রভু দয়া করে আমার ওপর রাগ করবেন না। একটা প্রশ্ন করি! যদি নগরে মাত্র ৩০ জন ভাল লোককে পান তাহলেও কি আপনি ঐ নগর ধ্বংস করবেন?...
আপনাকে কি আর একবার বিরক্ত করতে পারি? যদি সেখানে মাত্র ২০ জন ভাল লোক পান তাহলে কি করবেন?...
প্রভু দয়া করে রাগ করবেন না, কিন্তু শেষবারের মতো আর একটি প্রশ্ন দিয়ে আপনাকে বিরক্ত করি। আপনি যদি সেখানে মাত্র ১০ জন ভাল লোক পান তাহলে আপনি কি করবেন?- সদোম ও গোমোরাহ'র পরিণতি সম্পর্কে প্রভুর কাছে বারবার প্রশ্ন করে জানতে চান; আদিপুস্তক ১৮:২৩-৩২,—(KJV)। অবশ্য প্রভু প্রত্যুত্তরে বলেন, “ঐ নগরে ১০ জন ভাল লোক পেলেও আমি তা ধ্বংস করব না।”
- আমি ভয় পেয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, এখানে কেউ বোধহয় ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করে না। তাই ভেবেছিলাম, সারাকে পাওয়ার জন্যে আমাকে কেউ হত্যা করতেও পারে।
সারা আমার স্ত্রী, আবার আমার বোনও বটে। সারা আমার পিতার কন্যা বটে, কিন্তু আমার মাতার কন্যা নয়।
ঈশ্বর আমাকে পিতৃগৃহ থেকে দূরে কোথাও নিয়ে যাচ্ছেন। ঈশ্বর আমাকে অনেক দেশে নিয়ে গেছেন। যখন এরকম হল তখন আমি সারাকে বললাম, “আমার জন্য কিছু করো; যেখানেই আমরা যাব, সবাইকে বলবে যে তুমি আমার বোন।”"- স্ত্রী-বোনের আখ্যানে অবীমেলককে বলেন; আদিপুস্তক ২০:১১-১৩,—(KJV)
- হে আমার বৎস, মনে করে দেখ, জীবনে সুখের সব কিছুই তুমি ভোগ করেছ আর সেই সময় "লাসার" অনেক কষ্ট পেয়েছে৷ কিন্তু এখন এখানে সে সুখ পাচ্ছে আর তুমি কষ্ট পাচ্ছ৷
এছাড়া তোমাদের ও আমাদের মাঝে এক মহাশূন্য স্থান আছে, যাতে ইচ্ছা থাকলেও কেউ এখানে থেকে পার হয়ে তোমাদের কাছে যেতে না পারে, আর ওখান থেকে পার হয়ে কেউ আমাদের কাছে আসতে না পারে৷...
মোশি ও অন্যান্য ভাববাদীরা তো তাদের জন্য আছেন, তাঁদের কথা তারা শুনুক।...
তারা যদি মোশি ও ভাববাদীদের কথা না শোনে, তবে মৃতদের মধ্য থেকে উঠে গিয়েও যদি কেউ তাদের সঙ্গে কথা বলে তবু তারা তা শুনবে না৷- একজন ধনী ব্যক্তি ছিলেন যে বেগুনী রঙের কাপড় ও বহুমূল্য পোশাক পরত; আর প্রতিদিন বিলাসে দিন কাটাতো৷ অথচ তারই দরজার সামনে "লাসার" নামে একজন ভিখারী পড়ে থাকত, যার সারা শরীর ঘায়ে ভরে গিয়েছিল। সেই ধনী ব্যক্তি মারা গেলে পাতালে নরকে খুব যন্ত্রণার মধ্যে কাটাতে থাকল৷ এই অবস্থায় সে মুখ তুলে তাকাতে বহুদূরে অব্রাহাম আর অব্রাহামের কোলে সেই লাসারকে দেখতে পেল৷ তখন অব্রাহাম ঐ ধনী ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে এসব বলেন; লুক ১৬:২৫-৩১।
কুরআন
[সম্পাদনা]

যখন তোমরা ডাক তখন তারা কি তোমাদের সে ডাক শুনতে পায়?
অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?...
তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমরা কিসের পূজা করে যাচ্ছ? ~ কুরআন ২৬:৭০-৭৫
- আর আমি মুসলমানদের মধ্যে প্রথম।
- সূরা আল আন'আম ৬:১৬৩।
- হে, আমার প্রতিপালক, আমাকে দেখান, কিভাবে আপনি মৃতদেরকে জীবিত করেন।
- সূরা আল বাকারা ২:২৬০।
- আমি একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর দিকে আমার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি যিনি আকাশমন্ডলী আর পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।
- সূরা আল আন'আম ৬:৭৯
- ...তোমরা কিসের ইবাদাত কর?...
যখন তোমরা ডাক তখন তারা কি তোমাদের সে ডাক শুনতে পায়?
অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?...
তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমরা কিসের পূজা করে যাচ্ছ?
তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষরা?
তারা সবাই আমার শত্রু, বিশ্বজগতের পালনকর্তা ছাড়া।
যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনিই আমাকে হিদায়াত দিয়েছেন।
আর তিনিই আমাকে খাওয়ান ও পান করান।
এবং রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।
আর তিনিই আমার মৃত্যু ঘটাবেন, তারপর আমাকে পুনর্জীবিত করবেন।
এবং আশা করি, তিনি কিয়ামাত দিবসে আমার অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।
হে আমার রব, আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে শামিল করে দিন।
পরবর্তীদের মাঝে আমার সুনাম বজায় রাখুন।
এবং আমাকে সুখময় জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন!
আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আর যেদিন পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন আমাকে লাঞ্ছিত করো না।- সূরা আশ-শুআ'রা ২৬:৭০-৮৭।
- আপনি কি মূর্তিসমূহকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেন? আমি তো আপনাকে ও আপনার সম্প্রদায়কে স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে দেখছি
- পিতা আজরকে উদ্দেশ্য করে বলেন; সূরা আল আন'আম ৬:৭৪।
- যা অস্তমিত হয়ে যায় তার প্রতি আমার কোন অনুরাগ নেই।...
যদি আমার প্রতিপালক আমাকে পথপ্রদর্শন না করেন, নিশ্চয় আমি পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।...
হে আমার জাতির লোকেরা! তোমরা যেগুলোকে (আল্লাহর) অংশীদার স্থির কর সেগুলোর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।...
আমি একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর দিকে আমার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি যিনি আকাশমন্ডলী আর পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।...
তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে আমার সাথে বাদানুবাদ করছ অথচ তিনি আমাকে সৎপথ দেখিয়েছেন। তোমরা যাদেরকে তার অংশীদার স্থির কর আমি তাদেরকে ভয় করি না। অবশ্য আল্লাহ যদি কিছু ইচ্ছে করেন (তবে সে কথা আলাদা)। প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে আমার প্রতিপালকের জ্ঞান পরিব্যাপ্ত, তোমরা কি তা বুঝবে না?
তোমরা যাকে আল্লাহর অংশী কর, আমি তাকে কিরূপে ভয় করব? অথচ তোমরা ভয় কর না যে, তোমরা আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরীক করে চলছ; যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের নিকট কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। সুতরাং যদি তোমরা জান (তাহলে বল), দু’দলের মধ্যে কোন দলটি নিরাপত্তালাভের অধিক হকদার?- সূরা আল আন'আম ৬:৭৬-৮১।
- ...হে আমার রব! তুমি এ নগরীকে নিরাপদ কর আর আমাকে আর আমার সন্তানদেরকে প্রতিমা পূজা থেকে দূরে রাখুন।
হে আমার রব, নিশ্চয় এসব মূর্তি অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে, সুতরাং যে আমার অনুসরণ করেছে, নিশ্চয় সে আমার দলভুক্ত, আর যে আমার অবাধ্য হয়েছে, তবে নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার সন্তানদের একাংশকে শস্যক্ষেতহীন উপত্যকায় তোমার সম্মানিত ঘরের নিকট পুনর্বাসিত করলাম। হে আমার প্রতিপালক! তারা যাতে সালাত কায়িম করে। কাজেই তুমি মানুষের অন্তরকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও আর ফল-ফলাদি দিয়ে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা কর যাতে তারা শুকরিয়া আদায় করে।
হে আমাদের রাব্ব! আপনিতো জানেন যা আমরা গোপন করি এবং যা আমরা প্রকাশ করি; আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর কোন কিছুই আল্লাহর নিকট গোপন থাকেনা।
‘সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বৃদ্ধ বয়সে আমাকে ইসমাঈল ও ইসহাককে দান করেছেন। নিশ্চয় আমার রব দো‘আ শ্রবণকারী’।
হে আমার রব! আমাকে সালাত কায়েমকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য হতেও। হে আমাদের রব! আর আমার দো'আ কবুল করুন।
হে আমাদের প্রতিপালক! হিসাব গ্রহণের দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে আর মু’মিনদেরকে ক্ষমা করে দিও।- সূরা ইবরাহীম ১৪:৩৫-৪১। সম্ভবতঃ সর্বশেষ দোআটি তখন করা হয়েছে, যখন ইবরাহীম (আঃ)-কে কাফেরদের জন্য দোআ করতে নিষেধ করা হয়নি। [ইবন কাসীর]
- তবে কুরআনে উল্লেখ আছে, "ইবরাহীমের পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার ব্যাপারটি কেবলমাত্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে যা সে তার পিতাকে দিয়েছিল। কিন্তু যখন এটা তার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, সে (আজর) আল্লাহর শত্রু, তখন সে তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করল।" (সূরা ৯:১১৪)।
- হে আমার প্রতিপালক! তুমি এ শহরকে নিরাপদস্থল কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের উপর ঈমান আনে, তাদেরকে ফলমূল হতে জীবিকা প্রদান কর’।...
হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবূল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।...
আমাদেরকে আপনার অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরের মধ্য থেকে আপনার অনুগত জাতি বানান। আর আমাদেরকে আমাদের ইবাদাতের বিধি-বিধান দেখিয়ে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন।...
আর তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে এক রসূল প্রেরণ কর, যে তোমার আয়াতসমূহ তাদের নিকট আবৃত্তি করবে; তাদেরকে কিতাব (ধর্মগ্রন্থ) ও হিকমত (জ্ঞান ও প্রজ্ঞা) শিক্ষা দেবে এবং তাদেরকে (শিরক থেকে) পবিত্র করবে।- সূরা আল বাকারা ২:১২৬-১২৭; প্রথম আয়াতে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী নির্বিশেষে সমগ্র মক্কাবাসীর জন্য শান্তি ও সুখস্বাচ্ছন্দ্যের প্রার্থনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্তবকে যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল কাবাঘরের ভিত্তি স্থাপন করছিলেন তখনকার প্রার্থনা উল্লেখিত হয়েছে। সর্বশেষ প্রার্থনাটি ইবরাহীম (আঃ)-এর শেষ দু'আ। তাঁর এ দু'আও আল্লাহ তাআলা কবুল করেন এবং ইসমাঈল (আঃ)-এর সন্তানের মধ্য থেকে মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে প্রেরণ করেন।
- আপনি আপনার উম্মতের কাছে আমার সালাম পৌঁছাবেন। আর তাদেরকে বলবেন, জান্নাতের মাটি পবিত্র ও সুঘ্রাণযুক্ত, এর পানি সুমিষ্ট এবং এর ভূমি উর্বর ও সমতল।
- মিরাজে নবীজি (সাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎকালে উদ্ধৃত। (জমে তিরমিযী, হাদীস ৩৪৬২)
বুক অব আব্রাহাম
[সম্পাদনা]- [দ্য চার্চ অফ জেসাস ক্রাইস্ট অফ ল্যাটার-ডে সেইন্টস ধর্মগ্রন্থের পার্ল অব গ্রেট প্রাইস থেকে বুক অব আব্রাহামে আব্রাহামের উদ্ধৃতি]
- আমি, আব্রাহাম, যের্শোন দেশে একটি বেদী নির্মাণ করলাম এবং প্রভুর উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য উৎসর্গ করলাম। তাঁর কাছে প্রার্থনা করলাম, যেন এই দুর্ভিক্ষ আমার পিতার পরিবার থেকে দূর হয় এবং তাদের বিনাশ না ঘটে।
- বুক অব আব্রাহাম ২:১৭।
জেনেসিস রাব্বাহ
[সম্পাদনা]
- পঞ্চাশ বছর বয়সী হয়েও তুমি একদিনের (ক্ষণস্থায়ী) মূর্তি পূজা করো!
- জেনেসিস রাব্বাহ ৩৮:১৩; আর. হীআ, Abraham and the Idol Shop

- তেরাহ, আব্রাহাম ও হারোণের পিতা, মূর্তি ব্যবসায়ী ও পূজারি ছিলেন। একবার তিনি কোথাও যাওয়ার সময় আব্রাহামকে মূর্তি বিক্রির দায়িত্ব দিলেন। দিনের বেলায় এক বৃদ্ধ মূর্তি কিনতে এলে আব্রাহাম তার বয়স জিজ্ঞাসা করলেন। বৃদ্ধ বললেন, ‘পঞ্চাশ থেকে ষাটের মধ্যে।’ আব্রাহাম তাকে তিরস্কার করে বললেন, ‘একজন মানুষের হাতে কয়েক ঘণ্টায় তৈরি মূর্তিকে তুমি তোমার ঈশ্বর বলছ? এটা কি বুদ্ধিমানের কাজ?’ বৃদ্ধের হৃদয়ে এই কথা গেঁথে গেল, এবং তিনি মূর্তিপূজা ত্যাগ করলেন।
এরপর এক নারী সূক্ষ্ম আটার নৈবেদ্য দিতে এসে তেরাহের মূর্তিগুলোর কাছে উপস্থিত হলেন, যেগুলো তখন আব্রাহামের তত্ত্বাবধানে ছিল। আব্রাহাম একটি লাঠি নিয়ে সবচেয়ে বড় মূর্তি ছাড়া বাকিগুলো ভেঙে ফেললেন, এবং সেই লাঠিটি বড় মূর্তির হাতে রেখে দিলেন। তেরাহ ফিরে এসে তাঁর ‘দেবতা’ ও সম্পত্তির এই ধ্বংসস্তূপ দেখে আব্রাহামকে জবাবদিহি করতে বললেন। আব্রাহাম বিদ্রূপাত্মকভাবে ব্যাখ্যা করলেন, ‘আটার নৈবেদ্য নিয়ে এলে মূর্তিগুলো নিজেদের মধ্যে ঝগড়া শুরু করে কে এটি পাবে তা নিয়ে। শেষে সবচেয়ে বড় মূর্তিটি রেগে গিয়ে লাঠি তুলে নেয় এবং অন্যদের ভেঙে ফেলে!’
তেরাহ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হওয়ার বদলে এটাকে ঠাট্টা হিসেবেই নিলেন। এছাড়া আব্রাহামের হাতে ব্যবসায় ক্ষতির খবর শুনে তিনি ক্রোধে ফেটে পড়লেন, আব্রাহামকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন এবং নিমরোদের হাতে সঁপে দিলেন। নিমরোদ আব্রাহামকে বললেন, ‘যেহেতু তুমি অক্ষম মূর্তিপূজা প্রত্যাখ্যান করেছ, তাহলে শক্তিশালী অগ্নির পূজা করো!’
আব্রাহাম যুক্তি দেখালেন, ‘জলের শক্তি অগ্নির ওপর।’ নিমরোদ বললেন, ‘তাহলে জলকেই দেবতা মান্য করি!’ আব্রাহাম উত্তর দিলেন, ‘কিন্তু মেঘ তো জল শুষে নেয়, আর সেই মেঘও বাতাসে উড়ে যায়।’ নিমরোদ বললেন, ‘তাহলে বাতাসকেই দেবতা স্বীকার করি!’ আব্রাহাম বললেন, ‘মনে রাখো, মানুষ বাতাসের চেয়ে শক্তিশালী; মানুষ বাতাসকে প্রতিরোধ করে তার সামনে দাঁড়াতে পারে।’
যুক্তিতে পরাস্ত হয়ে নিমরোদ আব্রাহামকে তাঁর দেবতা—অগ্নি—এর সামনে নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি আব্রাহামের ঈশ্বরের ক্ষমতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন, কিন্তু স্রষ্টা আব্রাহামকে অগ্নিকুণ্ড থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা করলেন।- জেনেসিস রাব্বাহ ৩৮, টেলস অ্যান্ড ম্যাক্সিমস ফ্রম দ্য মিড্রাশ (রেভ. স্যামুয়েল রাপাপোর্ট, ১৯০৭), পৃ. ৭৮।
- আব্রাহামের মুদ্রার এক পিঠে বৃদ্ধ পুরুষ ও নারীর চিত্র অঙ্কিত ছিল, আর অপর পিঠে যুবক ও কুমারীর প্রতিকৃতি থাকত। এটি ইঙ্গিত করত যে, আব্রাহাম ও সারাহ বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পরও তাদের যৌবন পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল, এবং তারা পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
- জেনেসিস রাব্বাহ ৩৮, টেলস অ্যান্ড ম্যাক্সিমস ফ্রম দ্য মিড্রাশ (রেভ. স্যামুয়েল রাপাপোর্ট, ১৯০৭), পৃ. ৭৯।
অ্যাপোক্যালিপ্স অব আব্রাহাম
[সম্পাদনা]- অপবিত্র পাখিটি আমাকে বলল, 'আব্রাহাম, তুমি এই পবিত্র উচ্চভূমিতে কী করছ? যেখানে কেউ আহার বা পান করে না, মানুষের কোনো খাদ্যও নেই? এগুলো সবই অগ্নিতে ভস্মীভূত হবে ও উর্ধ্বে উড়ে যাবে, আর তোমাকেও ধ্বংস করবে।'
যখন আমি পাখিটিকে কথা বলতে দেখলাম, স্বর্গদূতকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'হে প্রভু, এটা কী?' তিনি উত্তর দিলেন, 'এটি অসম্মান—এটি আজাজেল!' অতঃপর তিনি আজাজেলকে বললেন, 'লজ্জা তোমার, আজাজেল! আব্রাহামের অংশ স্বর্গে, আর তোমার অংশ পৃথিবীতে, কারণ তুমি এখানেই বাস করতে পছন্দ করেছ ও তোমার কলুষের বাসস্থানে মোহিত হয়েছ। তাই চিরন্তন শাসক, পরাক্রমশালী ঈশ্বর তোমাকে পৃথিবীতে বাসের অধিকার দিয়েছেন। তোমার মাধ্যমেই সর্ব-অশুভ আত্মা মিথ্যাবাদী হয়েছে, আর তোমার দ্বারাই দুষ্কৃতকারী মানুষের বংশধরদের উপর ক্রোধ ও পরীক্ষা আসে।'- অ্যাপোক্যালিপ্স অব আব্রাহাম ১৩:৪–৯
- তুমি পৃথিবীর অগ্নিকুণ্ডের অগ্নিশলাকাই হও! হে আজাজেল, পৃথিবীর অনধিগম্য অঞ্চলে প্রস্থান কর। কারণ তোমার সঙ্গীদের ওপরই তোমার আধিপত্য।
- অ্যাপোক্যালিপ্স অব আব্রাহাম ১৪:৫–৬
- ধূর্ত কীট আজাজেলের উদরে পচে যাও, আর আজাজেলের জিহ্বার অগ্নিতে দগ্ধ হও।
- অ্যাপোক্যালিপ্স অব আব্রাহাম ৩১:৫
তাঁর সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]


কুরআন ও হাদিস
[সম্পাদনা]- তোমাদের জন্য ইব্রাহীম ও তাহার অনুসারীদের মধ্যে রহিয়াছে উত্তম আদর্শ।
- সূরা আল মুমতাহিনা ৬০:৪।
- সে ছিল পরম সত্যবাদী ও নবী।
- সূরা মারইয়াম ১৯:৪১।
- ইব্রাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
- সূরা আস সাফফাত ৩৭:১০৯।
- ইব্রাহীম ছিল অতিশয় কোমল হৃদয়, সহনশীল।
- সূরা আত তওবা ৯:১১৪।
- নিশ্চয় ইব্রাহীম বড় সহিষ্ণু, দয়ালু, সতত আল্লাহ অভিমুখী।
- সূরা হুদ ১১:৭৫।
- এটাই (ইসলাম) তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের দ্বীন।
- সূরা হজ্জ ২২:৭৮।
- আমি নূহ এবং ইব্রাহীমকে এবং তাদের বংশধরদের জন্য স্থির করেছিলাম নবুওয়াত ও কিতাব, কিন্তু তাদের অল্পই সৎ পথ অবলম্বন করেছিল এবং অধিকাংশই ছিল সত্যত্যাগী।
- সূরা আল হাদীদ ৫৭:২৬।
- ইব্রাহীম ইয়াহূদীও ছিল না, নাসারাও ছিল না; বরং সে ছিল একনিষ্ঠ মুসলিম। আর সে মুশরিকদের (অংশীবাদী) অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
যারা ইব্রাহীমের অনুসরণ করেছিল, তারা এবং এই নবী (মুহাম্মদ সাঃ) ও বিশ্বাসিগণ মানুষের মধ্যে ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠতম। আর আল্লাহ বিশ্বাসীদের অভিভাবক।- সূরা আল ইমরান ৩:৬৭-৬৮।
- হে কিতাবীগণ(ঐশীগ্রন্থধারিগণ), তোমরা ইব্রাহীমের ব্যাপারে কেন বিতর্ক কর? অথচ তাওরাত ও ইনজীল তো তার পরই অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমরা কি বুঝবে না?
- সূরা আল ইমরান ৩:৬৫।
- এভাবে ইব্রাহীমকে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব প্রদর্শন করি, যাতে সে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- সূরা আল আন'আম ৬:৭৫।
- নিশ্চয় ইব্রাহীম ছিলেন এক উম্মাত, আল্লাহর একান্ত অনুগত, একনিষ্ঠ এবং তিনি ছিলেন না মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত;
সে ছিল আল্লাহর নিযামতরাজির জন্য শোকরগুযার। আল্লাহ তাকে মনোনীত করেছিলেন এবং তাকে সরল সঠিক পথ দেখিয়েছিলেন।
আমি তাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করেছিলাম, আর আখেরাতেও সে অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
অতঃপর তোমার প্রতি ওয়াহী করছি যে, তুমি একনিষ্ঠ ইব্রাহীমের মতাদর্শ অনুসরণ কর; আর সে তো মুশরিকদের দলভুক্ত ছিল না।- সূরা আন নাহল ১৬:১২০-১২৩।
- অতঃপর আমি তাকে এক অতি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।
- সূরা আস সাফফাত ৩৭:১০১।
- এ হলো আমার যুক্তি-প্রমাণ যা আমি ইব্রাহীমকে দিয়েছিলাম তার কওমের বিপক্ষে, আমি যাকে ইচ্ছে মর্যাদায় উন্নীত করি।
- সূরা আল আন'আম ৬:৮৩।
- বলুন, আমার রব তো আমাকে সৎপথে পরিচালিত করেছেন। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, ইব্রাহীমের মিল্লাত (আদর্শ), তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
- সূরা আল আন'আম ৬:১৬১।
- আর স্মরণ কর, যখন আমি কাবাকে মানুষের জন্য মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থান বানালাম এবং (আদেশ দিলাম যে,) ‘তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর’। আর আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, ‘তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ‘ইতিকাফকারী ও রুকূকারী-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর’।
- সূরা আল বাকারা ২:১২৫।
- আর দ্বীনের ব্যাপারে তার তুলনায় কে উত্তম, যে সৎকর্মপরায়ণ অবস্থায় আল্লাহর কাছে নিজকে পূর্ণ সমর্পণ করল এবং একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহীমের আদর্শ অনুসরণ করল? আর আল্লাহ ইব্রাহীমকে পরম বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছিলেন।
- সূরা আন নিসা ৪:১২৫।
- আমি বললাম, ‘হে আগুন, তুমি শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও ইব্রাহীমের জন্য’।
- সূরা আল আম্বিয়া ২১:৬৯।
- আমি হলাম আমার পিতা ইব্রাহীম (আঃ)-এর দু'আ, ঈসা (আঃ)-এর সুসংবাদ এবং আমার জননীর স্বপ্ন।
- হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), (ফাতহুররাব্বানী ২০/১৮১-১৮৯)
- নবীদের মধ্য থেকে প্রত্যেক নবীর কিছু বন্ধু হয়, তাঁদের মধ্য থেকে আমার বন্ধু হল আমার পিতা এবং আমার মহান প্রতিপালকের খলীল (অতীব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইব্রাহীম আঃ)
- হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), (তিরমিযী:২৯৯৫)
- ‘‘আল্লাহ আমাকেও খলীল বানিয়েছেন, যেভাবে তিনি ইব্রাহীম (আঃ) খলীল বানিয়েছিলেন।’’
- হযরত মুহাম্মদ (সাঃ),(সহীহ মুসলিম, মসজিদ অধ্যায়)
- আর ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধরদের মধ্যে তাঁর সাথে আমার চেহারায় মিল সবচেয়ে বেশী।
[বৈকল্পিক তর্জমা: আমি ইব্রাহীম (আঃ) এর আকৃতির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।]- সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । অধ্যায়ঃ ৫০; আম্বিয়া কিরাম (আঃ),ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বার: ৩১৫৬, আন্তর্জাতিক নাম্বার: ৩৩৯৪
- অতঃপর কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম যাহাকে কাপড় পরানো হইবে তিনি ইব্রাহীম (আঃ)
- ইবনু আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। (আল-বুখারী, আস-সাহীহ, কিরমানীর ভাষ্যযুক্ত, ১৭খ., ২১৩; কিতাবুত তাফসীর, সূরাতুল আম্বিয়া)।
- ইব্রাহীম (আঃ) তিনটি ছাড়া কখনও (আপাত দৃষ্টিতে) মিথ্যা বলেন নাই। উহার দুইটি আল্লাহর জন্য। তিনি বলিয়াছিলেন, আমি অসুস্থ; আর বলিয়াছিলেন, বরং উহাদের এই বড়টি উহা করিয়াছে। আর একটি হইল, একদিন তিনি ও সারা এক স্বৈরাচারী জালিম বাদশাহর রাজ্যে উপস্থিত হইলেন। অতঃপর বাদশাহকে বলা হইল, অমুক স্থানে এক ব্যক্তি আসিয়াছে, তাহার সহিত এক মহিলা আছে যে পরমা সুন্দরী । অতঃপর বাদশাহ ইব্রাহীম (আঃ)-এর নিকট লোক পাঠাইল। (তিনি আসার পর) বাদশাহ তাহাকে সারা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিল যে, এই মহিলা কে? ইব্রাহীম (আঃ) বলিলেন, সে আমার ভগ্নী।
- আবু হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। (বুখারী, আস-সাহীহ, ৪ খ, ২৭৯, হাদীছ নং ৩১৩৯; মুসলিম, আস-সাহীহ, ৭ খ., ৯৭)।
- মুমিনদের শিশুরা জান্নাতবাসী হইবে। ইব্রাহীম (আঃ) হইবেন তাহাদের তত্ত্বাবধায়ক।
- আবু হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। (আল-হাকেম আন-নায়সাবুরী, আল-মুসতাদরাক, ২৩, ৩৭০, কিতাবুত-তাফসীর)।
- তাহা (সৃষ্টির সর্বোত্তম ব্যক্তি) তো ইব্রাহীম (আঃ)।
- হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), আনাস ইবন মালিক (রা) হইতে বর্ণিত। (মুসলিম, আস-সাহীহ, খ, ৯৭, কিতাবুল-ফাদাইল)।
বাইবেল ও তোরাহ
[সম্পাদনা]- হে (খ্রিস্টানগণ), তোমরাই নবীগণের সন্তান এবং সেই প্রতিজ্ঞার উত্তরাধিকারী, যা ঈশ্বর আমাদের পিতৃপুরুষদের সাথে করেছিলেন; তিনি আব্রাহামকে বলেছিলেন, 'তোমার বংশধরের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল জাতি আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে।'
- অ্যাক্ট অব আপোস্টলস ৩:২৫, কিং জেমস সংস্করণ)
- তেরাহ তাঁর পরিবার নিয়ে কলদীয় দেশের উর পরিত্যাগ করলেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল কনান দেশে যাওয়ার। তেরাহ তাঁর পুত্র অব্রাম, তাঁর পৌত্র লোট এবং পুত্রবধূ সারীকে সঙ্গে নিলেন। তাঁরা হারণ নামে একটা শহরে পৌঁছে সেখানেই বাস করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
- আদিপুস্তক ১১:৩১
- প্রভু অব্রামকে বললেন, “তুমি এই দেশ, নিজের জাতিকুটুম্ব এবং পিতার পরিবার ত্যাগ করে, আমি যে দেশের পথ দেখাব সেই দেশে চল।
তোমা হতে আমি এক মহাজাতি উৎপন্ন করব। তোমাকে আশীষ দেবো এবং তুমি বিখ্যাত হবে। অন্যকে আশীর্বাদ জানাতে লোকে তোমার নাম নেবে।
যারা তোমাকে আশীর্বাদ করবে, সেই লোকেদের আমি আশীর্বাদ করব এবং যারা তোমাকে অভিশাপ দেবে, সেই লোকেদের আমি অভিশাপ দেব। তোমার মাধ্যমে আমি পৃথিবীর সব লোকেদের আশীর্বাদ করব।”- আদিপুস্তক ১২:১-৩
- তিনি খেয়াল করলেন য়ে তাঁর স্ত্রী সারী কত সুন্দরী| তাই মিশরে প্রবেশের ঠিক আগে সারীকে বললেন, "আমি জানি তুমি সুন্দরী"
মিশরীয় পুরুষরা তোমায় দেখবে। তারা বলবে, ‘এই মহিলা ঐ লোকটার স্ত্রী।’ তারা তখন তোমাকে পাওয়ার জন্যে আমায় মেরে ফেলবে।
তাই সবাইকে বলবে যে তুমি আমার বোন। তাহলে তারা আর আমায় হত্যা করবে না। তারা আমায় তোমার ভাই ভাববে, আমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবে। এইভাবে তুমি আমার প্রাণ বাঁচাবে।”- আদিপুস্তক ১২:১১-১৩
- লোট চলে গেলে প্রভু অব্রামকে বলল, “তোমার চারদিকে তাকিয়ে দেখ উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম চারদিকে তাকাও।
যত জমিজায়গা দেখতে পাচ্ছ, সব আমি তোমায় এবং তোমার বংশধরদের দেব। এ দেশ চিরকালের জন্যে তোমার হবে।
পৃথিবীর ধূলোর মত আমি তোমার উত্তরপুরুষদের সংখ্যাবৃদ্ধি করব। যদি লোকে পৃথিবীর সব ধূলো গুনতে পারে তাহলে তোমার লোকেদের গোনা যাবে।
অতএব এগিয়ে যাও, তোমার নিজের দেশে তুমি হেঁটে বেড়াও। এই দেশ আমি তোমায় দিলাম।”
তখন অব্রাম তাঁর তাঁবু উঠিয়ে নিলেন। তিনি মম্রির উচ্চ বৃক্ষগুলির কাছে বাস করতে গেলেন। স্থানটি ছিল হিব্রোণ নগরের কাছে। সেখানে অব্রাম প্রভুর উদ্দেশ্যে উপাসনা করার জন্যে একটি বেদী নির্মাণ করলেন।- আদিপুস্তক ১৩:১৪-১৮
- পরে ঐসব প্রাণীর মাংসখণ্ডের জন্যে বড় বড় পাখি ছোঁ মেরে এলো। কিন্তু অব্রাম সেগুলি তাড়িয়ে দিলেন।
- আদিপুস্তক ১৫:১১
- হাগার অব্রামের পুত্রের জন্ম দিল। সে অব্রাম পুত্রের নাম দিল ইশ্মায়েল।
যখন হাগারের গর্ভে ইশ্মায়েলের জন্ম হয় তখন অব্রামের বয়স ৮৬ বছর।- আদিপুস্তক ১৬:১৫-১৬
- অব্রামের ৯৯ বছর বয়স হলে প্রভু তাঁর সামনে আবির্ভূত হলেন। প্রভু বললেন, “আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। আমার জন্যে এই কাজগুলি করো: আমার কথামত চলো এবং সৎ পথে জীবনযাপন করো।
এটা যদি করো তাহলে আমাদের মধ্যে একটা চুক্তির ব্যবস্থা করব। আমি প্রতিশ্রুতি করছি য়ে তোমার বংশধরদের আমি এক মহান জাতিতে পরিণত করব।”
তখন অব্রাম ঈশ্বরের সামনে প্রণামে নত হলেন। ঈশ্বর তাঁকে বললেন,
“আমাদের চুক্তিতে এটি আমার অংশ। আমি তোমাকে বহু জাতির পিতা করব।
আমি তোমার নাম পরিবর্তন করব। তোমার নাম অব্রামের (মাতাপিতা) পরিবর্তে অব্রাহাম (বহু লোকের পিতা) হবে। আমি তোমায় এই নাম দিচ্ছি কারণ আমি তোমায় বহু জাতির পিতা করছি।
আমি তোমার বংশ অতিশয় বৃদ্ধি করব। তোমার থেকে নতুন নতুন জাতির এবং রাজার জন্ম হবে।
এবং তোমার ও আমার মধ্যে এক চুক্তি সম্পন্ন হবে। তোমার সমস্ত উত্তরপুরুষগণের জন্যও এই একই চুক্তি প্রয়োজ্য হবে। এই চুক্তি চিরকাল বহাল থাকবে। আমি তোমার ও তোমার উত্তরপুরুষগণের জন্য ঈশ্বর থাকব।
আমি তোমাকে এবং তোমার সব উত্তরপুরুষদের এই কনান দেশ দেব যার মধ্য দিয়ে তোমরা যাত্রা করছ। আমি তোমাকে এই দেশ চিরকালের জন্য দেব। আমি হব তোমার ঈশ্বর।”- আদিপুস্তক ১৭:১-৮
- প্রভু আপন মনে বললেন, "এখন আমি কি করব তা কি অব্রাহামকে বলব?
অব্রাহাম থেকে জন্মলাভ করবে এক মহান ও শক্তিশালী জাতি এবং অব্রাহামের জন্যেই পৃথিবীর সমস্ত মানুষ আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে।
আমি অব্রাহামের সাথে এক বিশেষ চুক্তি করেছি। প্রভুর ইচ্ছা অনুসারে জীবনযাপনের জন্যে যাতে অব্রাহামের সন্তানসন্ততি ও উত্তরপুরুষগণ অব্রাহামের আজ্ঞা পালন করে তাই এই ব্যবস্থা করেছি। এটা করেছি যাতে তারা ন্যায়পরায়ণ ও সৎ জীবনযাপন করে। তাহলে আমি প্রভু, প্রতিশ্রুত জিনিসগুলি দিতে পারব।"- আদিপুস্তক ১৮:১৭-১৯
- ইসহাকের জন্মের সময় অব্রাহামের বয়স ছিল ১০০ বছর।
এবং সারী বললেন, "ঈশ্বর আমাকে আনন্দিত করেছেন। যে শুনবে সেই আমার সুখে সুখী হবে।
কেউ ভাবে নি যে আমি অব্রাহামের পুত্রের জন্ম দেব।কিন্তু এই বৃদ্ধ বয়সেও আমি অব্রাহামকে পুত্র দিতে পেরেছি।"- আদিপুস্তক ২১:৫-৭
- এই সমস্ত কিছুর পরে ঈশ্বর ঠিক করলেন যে তিনি অব্রাহামের বিশ্বাস পরীক্ষা করবেন। তাই ঈশ্বর ডাকলেন, “অব্রাহাম!”এবং অব্রাহাম সাড়া দিলেন, “বলুন!”
তখন ঈশ্বর বললেন, “তোমার একমাত্র পুত্র যাকে তুমি ভালবাস সেই ইসহাককে মোরিয়া দেশে নিয়ে যাও। সেখানে পর্বতগুলির মধ্যে একটির ওপরে তাকে আমার উদ্দেশ্যে বলি দাও। আমি তোমাকে বলব কোন পর্বতের ওপর তুমি তাকে বলি দেবে।”
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে অব্রাহাম যাত্রার জন্যে গাধার পিঠে জিন সাজালেন। সঙ্গে ইসহাককে নিলেন, আর নিলেন দুজন ভৃত্যকে। অব্রাহাম হোমের জন্য কাঠ কাটলেন। তারপর ঈশ্বর যেখানে যেতে বলেছিলেন সেই স্থানের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।- আদিপুস্তক ২২:১-৩
- তোমার পুত্রকে হত্যা কোরো না, তাকে কোন রকম আঘাত দিও না। এখন আমি দেখতে পাচ্ছি, তুমি ঈশ্বরকে ভক্তি করো এবং তাঁর আজ্ঞা পালন করো। প্রভুর জন্যে তুমি তোমার একমাত্র পুত্রকে পর্যন্ত বলি দিতে প্রস্তুত!
- আদিপুস্তক ২২:১২
- সুতরাং অব্রাহাম ঐ স্থানটির একটা নাম দিলেন, “যিহোবায়িরি”।এমন কি আজও লোকেরা বলে, “এই পর্বতে প্রভুকে দেখা যায়।”
- আদিপুস্তক ২২:১৪
- আমি তোমাকে অবশ্য আশীর্বাদ করব। আকাশে যত তারা, আমি তোমার উত্তরপুরুষদেরও সংখ্যাও তত করব। সমুদ্রতীরে যত বালি, তোমার উত্তরপুরুষরাও তত হবে। এবং তোমার বংশ তাদের সমস্ত শত্রুদের পরাস্ত করবে।
পৃথিবীর প্রত্যেক জাতি তোমার উত্তরপুরুষদের মাধ্যমে আশীর্বাদ পাবে। তুমি আমার আজ্ঞা পালন করেছ বলে তোমার উত্তরপুরুষদের জন্যে আমি একাজ করব- আদিপুস্তক ২২:১৭-১৮
স্কলার ও অন্যান্য ব্যক্তি
[সম্পাদনা]

- দীর্ঘ সময় পর মহান ও ভয়ঙ্কর নামটি বিস্মৃত হয়েছিল, এবং মানুষ— নারী, পুরুষ, শিশু—কেবল কাঠ বা পাথরের মূর্তিকেই চিনত, আর সেই কাঠ বা পাথরের মন্দিরকেই জানত, শিশুকাল থেকে যার সেবা করতে শিখেছে নতজানু হয়ে পূজা করত। ... আব্রাহাম ... বুঝতে পেরেছিলেন যে সকলেই ভুল করছে, আর তাদের এই ভ্রান্তির কারণ হলো মূর্তি পূজা, যা তাদের মন থেকে সত্যকে দূর করে দিয়েছিল।
- মাইমোনাইডিস, মিশনেহ তোরাহ (আনু. ১১৮০), চতুর্থ গ্রন্থ: Idolatry, এইচ. রাসেল, অনূদিত (১৯৮৩), পৃ. ৭২-৭৩
- হে তোমরা, যারা এখনো এই বলির বেদি গড়ো
এই শিশুদের উৎসর্গ করতে,
তোমাদের এ কাজ আর চলবে না।
কূটকৌশল কোনো দর্শন নয়,
আর কোনো দানব বা দেবতা কখনো
তোমাদের প্রেরণা দেয়নি।- লিওনার্ড কোহেন, "সঙ্গস ফ্রম আ রুম" অ্যালবামে "স্টোরি অব আইজ্যাক" (১৯৬৯)
- পুরাতন নিয়মে উটকে পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে অসংখ্যবার উল্লেখ করা হয়েছে। আব্রাহাম যখন তাঁর পুত্র ইসহাকের জন্য পাত্রী খুঁজতে এক ভৃত্যকে প্রেরণ করেন, সেই ভৃত্য রেবেকাকে নির্বাচন করেন। কিন্তু কেন? কারণ, উটগুলিকে জল পান করানোর প্রস্তাব দিয়ে তিনি যে দয়ালুতা দেখিয়েছিলেন, তা-ই এর কারণ। বাইবেলে উটের এমন অসংখ্য সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি রয়েছে—বিশেষত আদিপুস্তকে। তবে পণ্ডিতরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন যে এই উটবাহী কাফেলাগুলো সাহিত্যিক 'কালভ্রম', অর্থাৎ ঐতিহাসিক সময়কালের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।"
- রেনি মন্টাইন, ক্যারল মেয়ার্স-এ ।Archaeology Find: Camels In 'Bible' Are Literary Anachronisms, npr.org, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৪।
- লিখিত আছে যে আব্রাহামের দুই পুত্র ছিল—একজন দাসীর গর্ভে ও অন্যজন মুক্ত নারীর গর্ভে জন্মেছিলেন। কিন্তু দাসীর পুত্র জন্ম নিয়েছিল শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে, আর মুক্ত নারীর পুত্র জন্মেছিল প্রতিজ্ঞার বাক্যে। এই ঘটনাকে রূপকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়: এ দুই নারী দুই চুক্তির প্রতীক।
- পল অব টারসাস, প্রেরিতদের আইন ৪:২২-২৪, ESV
- বাইবেলের পরবর্তী প্রধান চরিত্র আব্রাহাম—যিনি ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিমদের আধ্যাত্মিক পূর্বপুরুষ। আব্রাহামের ভ্রাতুষ্পুত্র লোট সদোম নগরীতে বসবাস করতেন। নগরবাসীরা পায়ুকাম ও অনুরূপ পাপে লিপ্ত হওয়ায় ঈশ্বর এক ঐশ্বরিক ধ্বংসযজ্ঞে প্রত্যেক পুরুষ, নারী ও শিশুকে ভস্মীভূত করেন। লোটের স্ত্রী মাত্র পিছন ফিরে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখার ‘অপরাধে’ প্রাণদণ্ডে নিহত হন। আব্রাহামকেও এক নৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় যখন ঈশ্বর তাকে নির্দেশ দেন তাঁর পুত্র ইসহাককে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে গিয়ে বেঁধে ফেলতে, গলা কাটতে এবং প্রভুর উদ্দেশে দেহ দাহ করতে। শেষ মুহূর্তে এক দেবদূত আব্রাহামের হাত রুখে দিলে ইসহাকের প্রাণ বাঁচে। সহস্রাব্দ ধরে পাঠকেরা এই ভয়াবহ পরীক্ষার কারণ নিয়ে জিজ্ঞাসিত: ঈশ্বর কেন এমন নিষ্ঠুর দাবি করলেন? একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঈশ্বর হস্তক্ষেপ করেছিলেন না এজন্য যে আব্রাহাম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, বরং তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু এ ধারণা কালভ্রমী; কারণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ‘মানবজীবনের মর্যাদা’ নয়, ‘ঐশ্বরিক আদেশের আনুগত্য’-ই ছিল সর্বোচ্চ গুণ।"
- স্টিভেন পিঙ্কার, দ্য বেটার অ্যাঞ্জেলস অফ আওয়ার নেচার (২০১২)
- সংক্ষেপে, প্রভুর মতোই একজন ঘৃণ্য ব্যক্তি হওয়ার পাশাপাশি আব্রাহাম ছিলেন একজন সিদ্ধহস্ত মিথ্যাবাদী—যেকোনোকে প্রতারণার জন্য তাঁর দ্বিমুখী জিহ্বা সদা প্রস্তুত, যা এই গল্পের বর্ণনাকারী নিজের অভিধানে সংজ্ঞায়িত করেছেন: 'বিশ্বাসঘাতক, কপট, মিথ্যাপ্রিয়, অনুগতিহীন' এবং অন্যান্য 'উৎকৃষ্ট' গুণাবলি দ্বারা। প্রভুর নির্দেশিত স্থানে পৌঁছে আব্রাহাম একটি বলির বেদি নির্মাণ করলেন এবং তার উপর কাঠ সাজালেন। এরপর পুত্রকে বেঁধে কাঠের ওপর বেদিতে তুললেন। কোনো দ্বিধা না করে, ছুরি হাতে নিয়ে বেচারা শিশুটিকে বলি দেওয়ার জন্য গলা কাটতে উদ্যত হলেন—ঠিক তখনই এক হাত তাঁর বাহু চেপে ধরল, আর কানে ভেসে এল এক ক্রুদ্ধ কণ্ঠ: 'কি করছো, হতভাগ্য! নিজের সন্তানকে হত্যা করছ? পুড়িয়ে মারছ? এ তো সেই পুরোনো গল্প— যা শুরু হয় একটি মেষশাবক দিয়ে, আর শেষ হয় তোমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির রক্তে!'
"কিন্তু প্রভু আমাকে এ কাজ করতে বলেছেন," আব্রাহাম সংগ্রাম করে বললেন।
"স্থির থাকো, নইলে আমাকেই হত্যাকারী হতে হবে!"- জোসে সারামাগো, ব্যাঙ্গাত্মক সুরে উদ্ধৃত,কেইন (২০০৯), পৃ. ৬৯
- মানুষের রূপধারী ইবলিশ বলল, 'হে শাইখ, কোথায় যাচ্ছেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'আমি এই পর্বতের দিকে যাচ্ছি, সেখানে আমাকে একটি কাজ সম্পন্ন করতে হবে।' ইবলিশ বলল, 'আল্লাহর কসম! আমি দেখেছি শয়তান তোমার স্বপ্নে এসে এই শিশুপুত্রকে জবাই করার আদেশ দিয়েছে। আর তুমি সেই হত্যাকাণ্ড সাধন করতে চলেছ!' এ কথা শুনে ইব্রাহিম তাকে চিনতে পেরে বললেন, 'দূর হও, আল্লাহর শত্রু! আল্লাহর শপথ, আমি নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালকের আদেশ পালন করবই।'
আল্লাহর শত্রু ইবলিশ ইব্রাহিমের কাছে হতাশ হয়ে তাকে ছেড়ে দিলেন, কিন্তু তখনই তিনি ইসমাইলের সম্মুখীন হলেন— যিনি ইব্রাহিমের পিছনে কাঠ ও একটি বড় ছুরি বহন করছিলেন। ইবলিশ তাকে বললেন: 'হে যুবক, তুমি কি জানো তোমার পিতা তোমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?' ইসমাইল উত্তর দিলেন: 'পাহাড় থেকে আমাদের পরিবারের জন্য কাঠ সংগ্রহ করতে।' ইবলিশ বললেন: 'আল্লাহর কসম! তার আসল উদ্দেশ্য তো তোমাকে উৎসর্গ করা!' ইসমাইল জিজ্ঞাসা করলেন: 'কেন?!' ইবলিস উত্তর দিলেন: 'সে দাবি করে, তার প্রতিপালক তাকে এ কাজের আদেশ দিয়েছেন!' ইসমাইল দৃঢ়ভাবে বললেন: 'তিনি অবশ্যই তার প্রতিপালকের আদেশ পালন করবেন, সন্দেহ নেই!'
যুবক ইসমাইল তাকে প্রত্যাখ্যান করলে, ইবলিশ হাজেরার কাছে গেলেন— ইসমাইলের মাতা, যিনি তখনও ঘরে ছিলেন। ইবলিশ তাকে বললেন: 'হে ইসমাইলের মাতা! তুমি কি জানো ইব্রাহিম ইসমাইলকে কোথায় নিয়ে গেছেন?' তিনি উত্তর দিলেন: 'তারা পাহাড়ে আমাদের জন্য কাঠ সংগ্রহ করতে গেছেন।' ইবলিশ বললেন: 'সে তো আসলে তাকে উৎসর্গ করতে নিয়ে গেছে!' হাজেরার বললেন: 'এ কখনোই সম্ভব নয়! তিনি তাকে এতটাই স্নেহ ও মমতা করেন যে এমন কাজ তিনি করবেন না!' ইবলিশ বলল: 'সে দাবি করে, আল্লাহ তাকে এ আদেশ দিয়েছেন!' হাজেরা বললেন: 'যদি তার স্রষ্টাই তাকে এমন আদেশ দিয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই আল্লাহর হুকুম মেনে নেওয়া উচিত!' এভাবে ইব্রাহিমের পরিবারকে নিজের ইচ্ছামতো প্রভাবিত করতে ব্যর্থ হয়ে আল্লাহর শত্রু ইবলিশ বিরক্ত হয়ে ফিরে গেল।- তাবারী, অ্যান্ড্রু রিপিন, জ্যান ন্যাপার্ট-এ উদ্ধৃতি হিসেবে ইসলাম অধ্যয়নের জন্য পাঠ্যসূচির উৎস শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, ১৫.১০.১৯৯০ ISBN 978-0-226-72063-0 পৃষ্ঠা ৬৩
- “পাথরে ইবরাহীমের জুতাবিহীন নগ্ন পায়ের চিহ্ন!”
- আবু তালিবের একটি কবিতায় উক্ত। যে পাথরের উপর দাঁড়িয়ে ইব্রাহিম (আ) বায়তুল্লাহ নির্মাণ করেন তা প্রাচীন কাল হতেই কাবার দেওয়ালের সাথে সংলগ্ন অবস্থায় ছিল। উক্ত পাথরে সুস্পষ্টরূপে ইব্রাহিম (আ)-এর পায়ের ছাপ পড়ে যায়। ইসলামের প্রথম যুগেও উক্ত ছাপ সুস্পষ্টরূপে বিদ্যমান ছিল এবং মানুষের মনে রেখাপাত করত। উল্লেখ্য যে, অদ্যাবধি উক্ত চিহ্ন সুস্পষ্ট রয়েছে। (ইবন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., ১৬৪)।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় আব্রাহাম সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিঅভিধানে আব্রাহাম শব্দটি খুঁজুন।
উইকিমিডিয়া কমন্সে আব্রাহাম সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।