ইব্রাহিম ত্রাওরে
অবয়ব

২০২৬-এ ইব্রাহিম ত্রাওরে
ইব্রাহিম ত্রাওরে (জন্ম ১৪ মার্চ ১৯৮৮) একজন বুর্কিনাবে সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ, যিনি ২০২২ সাল থেকে বুর্কিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি পল-হেনরি সান্দাওগো দামিবাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ত্রাওরে বুর্কিনা ফাসোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- আমরা বিশ্বাস করি যে, আজ আমরা যে সন্ত্রাসবাদ দেখছি তা সাম্রাজ্যবাদ থেকে উদ্ভূত, এবং আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ছি। যদি আমরা এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারি, যদি আমাদের একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকে, তবে আমরা আমাদের মাতৃভূমির উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে সক্ষম হব। আমাদের সংগ্রামের উদ্দেশ্য হিসেবে আমরা এটাকেই দেখি। একারণেই কর্মী গড়ে তোলা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মানুষকে গণতন্ত্রের বিষয়টি ভুলে যেতে হবে। [...] আমাদের সত্যিটা বলতেই হবে: গণতন্ত্র আমাদের জন্য নয়। [...] গণতন্ত্র হত্যা করে। [...] লিবিয়ার দিকে তাকান, এটা আমাদের পাশেই একটা জ্বলন্ত উদাহরণ! বিশ্বে যেখানেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়, তা রক্তপাতের মাধ্যমেই করা হয়। [...] গণতন্ত্র মানে দাসত্ব।
রাশিয়া-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলন (২০২৩)-এ প্রদত্ত ভাষণ (উদ্ধৃতাংশ)
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র: "Interim President Of Burkina Faso Traore Speaking At Russia-Africa Summit: Russia Is Part Of The Family For Africa" (২০২৩)
- আমি বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছেও ক্ষমা চাইতে চাই। যদি আমি কোনোভাবে আপনাদের ক্ষতি করে থাকি, তবে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমার প্রজন্ম কোনো উত্তর না পেয়েই অনেক প্রশ্ন করছে, কিন্তু আমরা এখানে আমাদের পরিবারের সাথে নিজেদের বাড়িতেই আছি বলে মনে করি।
- নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফ্রিকা ও রাশিয়ার ভূমিকা প্রায় বিস্মৃত হয়েছে। আমরা আজ একত্রিত হয়েছি কারণ আমাদের দেশগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন। আমরা যে নতুন, মুক্ত বিশ্বের জন্য সংগ্রাম করছি, এমন এক বিশ্ব যেখানে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না, সেখানে আগামীকাল কী ঘটবে? আমাদের সকলের ভবিষ্যৎ একই।
- আমি বুঝতে পারি না যে বিপুল খনিজ সম্পদ, পানি ও সূর্য থাকা সত্ত্বেও আফ্রিকা কেন সবচেয়ে দরিদ্র মহাদেশ, যেখানে ব্যাপক ক্ষুধা, এবং কেন আমাদের সাহায্য চাইতে হয়। আমরা এই প্রশ্নগুলো করি, কিন্তু কোনো উত্তর পাই না।
- বুর্কিনা ফাসোর কথা বলতে গেলে, গত আট বছর ধরে আমরা উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের সবচেয়ে বর্বর ও নিষ্ঠুর রূপের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছি, যা আমাদের উপর এক আধুনিক দাসপ্রথা চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা একটা জিনিস খুব ভালোভাবে শিখেছি যে: দাস প্রতিবাদ করতে পারে না, সে করুণা ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার যোগ্য নয় এবং তার ভবিষ্যৎ দুর্দশাগ্রস্ত। আমাদের দেখাশোনা করার জন্য আমরা কারও অপেক্ষা করিনি। আমরা সেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা আমাদের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে।
- এই সংগ্রামে আমাদের সাহসী জনগণ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমরা এটা জেনে অবাক হয়েছিলাম যে, সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের সশস্ত্র গোষ্ঠী বা সামরিক গোষ্ঠী বলে আখ্যা দেয়, অথচ ইউরোপে যারা মাতৃভূমি রক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, তাদেরকে দেশপ্রেমিক বলে। ইউরোপকে বাঁচানোর জন্য আমাদের পূর্বপুরুষদের নির্বাসিত করা হয়েছিল, এবং এটি তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘটেছিল। কিন্তু যখন তারা ফিরে এসে তাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন, তখন তারা নিষ্ঠুর দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিলেন।
- সমস্যাটা এটা নয় যে, মানুষ কখন অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সমস্যাটা হলো, আফ্রিকান দেশগুলোর নেতারা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াকু মানুষদের কোনো সাহায্যই করেন না, বরং আমাদেরকে সশস্ত্র গোষ্ঠী বা অপরাধী বলে আখ্যা দেন। আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত নই। আমাদেরকে, আফ্রিকান রাষ্ট্রপ্রধানদেরকে, সাম্রাজ্যবাদীরা যখনই সুতো নাড়ে তখনই কাজ করতে প্রস্তুত পুতুলের মতো আচরণ করা বন্ধ করতেই হবে।
- আমার সময় প্রায় শেষ, কিন্তু আমি বলতে চাই যে, আমাদের সেইসব জাতিকে অবশ্যই শ্রদ্ধা জানাতে হবে যারা লড়াই ও সংগ্রাম করে। আমাদের জাতির জয় হোক! আমাদের জাতির মর্যাদা ও সম্মান! আমাদের জাতির বিজয় হোক! ধন্যবাদ, কমরেডগণ। স্বদেশ নাহয় মৃত্যু!
ইব্রাহিম ত্রাওরে সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- ৩৭ বছর বয়সী আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, বুর্কিনা ফাসোর সামরিক শাসক ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে, অত্যন্ত দক্ষতার সাথে একজন সর্ব-আফ্রিকানবাদী নেতার ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন, যিনি তার জাতিকে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ ও নব্য-ঔপনিবেশিকতার কবল থেকে মুক্ত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। [...] ত্রাওরের এই জনপ্রিয়তা এমন এক পরিস্থিতিতেও থেমে থাকেনি, যখন তিনি ১০ বছর ধরে চলা ইসলামপন্থী বিদ্রোহ দমনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। এই বিদ্রোহ জাতিগত বিভাজনকে উস্কে দিয়েছে এবং এখন বেনিনের মতো একসময়ের শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
- ত্রাওরেকে একজন সাহসী সংস্কারক ও ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টার সত্ত্বেও তার সামরিক শাসনের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব আগামী দশকগুলোতে বুর্কিনা ফাসো জুড়ে প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে।
- ড্যানিয়েল আইজেঙ্গা, "Burkina Faso’s Ibrahim Traoré is making waves in west Africa. Who is he?"
- ত্রাওরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, এই বলে যে দেশটি পশ্চিমাদের ঋণ এবং শর্তাবলী ছাড়াই উন্নতি করতে পারে। কারও কারও মতে, এটি আফ্রিকানদের স্বায়ত্তশাসনের একটি দৃষ্টান্ত। তরুণদের জন্য, ত্রাওরের শাসনব্যবস্থা হলো তারা কী অর্জন করতে পারে তা দেখানোর একটি সুযোগ। কিন্তু বেশিরভাগ সাধারণ বুরকিনাবাসীর কাছে অগ্রাধিকার হলো কেবল তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাসের এই সময়ে আফ্রিকাকে অবশ্যই আত্মনির্ভরশীলতা এবং তার সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ অর্জনের জন্য সচেষ্ট হতে হবে। অনেক আফ্রিকান দেশের মতো, বুর্কিনা ফাসোও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, যা সঠিকভাবে পরিচালিত হলে নাগরিকদের জীবন বদলে দিতে পারে।
- ইনোক র্যান্ডি আইকিন্স, "In Burkina Faso, Traoré’s legacy could extend beyond popularity and promises"
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় ইব্রাহিম ত্রাওরে সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিমিডিয়া কমন্সে ইব্রাহিম ত্রাওরে সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।