ইলহান ওমর

ইলহান আব্দুল্লাহি ওমর (জন্ম: ৪ অক্টোবর, ১৯৮১) একজন মার্কিন রাজনীতিবিদ। তিনি ২০১৯ সাল থেকে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট (নির্বাচনী এলাকা) থেকে মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ডেমোক্রেটিক-ফার্মার-লেবার পার্টির সদস্য। কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার আগে ওমর ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মিনেসোটা হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সদস্য ছিলেন। সেখানে তিনি মিনিয়াপলিস শহরের কিছু অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। পুরো মিনিয়াপলিস শহর এবং এর আশেপাশের কিছু উপশহর তার নির্বাচনী এলাকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। ওমর কংগ্রেসনাল প্রগ্রেসিভ ককাসের হুইপ (দলীয় সংগঠক) হিসেবে কাজ করেন। ওমর প্রায়শই ইজরাইলের সমালোচনা করেন। তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন নীতি এবং সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছেন। এছাড়া, ইসরায়েল-পন্থী লবিগুলোর প্রভাব নিয়েও তিনি সমালোচনা করেছেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]২০১৬
[সম্পাদনা]- এই বিষয়টি আমার পরিবারের জন্য, বিশেষ করে আমার সন্তানদের জন্য, কতটা কঠিন এবং অত্যন্ত ব্যক্তিগত ছিল তা যারা বুঝেন আমাকে সমর্থনের করে তাদের পাঠানো অসংখ্য বার্তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমাদের এলাকার বিচিত্র কণ্ঠস্বরকে – পুরোনো বাসিন্দা, পূর্ব আফ্রিকান অভিবাসী এবং ছাত্রছাত্রীদের – একত্রিত করছে এমন একটি প্রচারণার অংশ হতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি।
২০১৮
[সম্পাদনা]- আমি আমেরিকার আশা এবং আমেরিকার রাষ্ট্রপতির দুঃস্বপ্ন।
- কমেডি সেন্ট্রাল-এর "ডেইলি শো" অনুষ্ঠান (১৩ জুলাই ২০১৮)
- আমার পরিচয় রক্ষা করার চেয়ে, আমি আমার চিন্তাভাবনা রক্ষা করতেই অনেক বেশি আগ্রহী।
- মার্কিন হাউজ ফ্লোরে হিজাব পরার কারণে ওমরের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার জবাবে। স্টার ট্রিবিউন পত্রিকার ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের রিপোর্ট।
- রাও, মায়া (২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮)। "কংগ্রেসে ইলহান ওমরের প্রভাব ইতিমধ্যেই বাড়ছে"। স্টার ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ: ২৬ জানুয়ারি, ২০১৯।
২০১৯
[সম্পাদনা]- বিভেদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কারণগুলো অজানা নয়। জাতিগত বিদ্বেষের ভয় আমেরিকানদের পরস্পরের সাথে মিলেমিশে থাকতে বাধা দেয়। আর এই একতাই একটি সচল গণতান্ত্রিক সমাজের প্রাণশক্তি। আমাদের ইতিহাসজুড়ে দেখা যায় বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার করে আমেরিকানদের একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে সুবিধা হচ্ছে ধনী ও প্রভাবশালী শ্রেণীর। ট্রাম্প যতবার শরণার্থীদের আক্রমণ করেন, ততবারই আলোচমা অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে সরে যায়। যেমন, প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ আমেরিকানের জন্য কেন্দ্রীয় ন্যূনতম মজুরি বাড়াতে প্রেসিডেন্টের যে অনীহা, সেই আলোচনা তখন চাপা পড়ে যায়। কংগ্রেসের চারজন সদস্যের ওপর করা প্রতিটি বর্ণবাদী আক্রমণের সুযোগে তিনি একটি বিষয় এড়িয়ে যান। শ্রম সচিব হিসেবে তিনি যাকে বেছে নিয়েছেন, সেই ব্যক্তি কেন তার পুরো কর্মজীবনে শ্রমিকদের স্বার্থের বিনিময়ে ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংক এবং ওয়ালমার্টকে রক্ষা করেছেন সে জবাব তখন তাকে দিতে হয় না। যখন তিনি মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ করেন, তখন কেন তার পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা শিশুদের মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে এমন একটি কীটনাশক নিষিদ্ধ করতে সম্প্রতি অস্বীকৃতি জানিয়েছে সেটা নিয়ে তিনি আলোচনা করেন না ।
- ২৫ জুলাই ২০১৯। নিউ ইয়র্ক টাইমস।
- ১৯৯১ সালে ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারিতে আপনার জড়িত থাকার বিষয়ে কংগ্রেসের কাছে তথ্য গোপন করার দুটি অভিযোগে আপনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ আপনাকে এর জন্য ক্ষমা করে দেন। এই কমিটির সদস্যরা বা আমেরিকার সাধারণ মানুষ আপনার আজকের দেওয়া কোনো সাক্ষ্যকে কেন বিশ্বাসযোগ্য বা সত্য বলে মনে করবেন তা আমি বুঝতে পারছি না। আপনি পরে বলেছিলেন যে এল সালভাদরে আমেরিকার নীতি ছিল এক অসাধারণ সাফল্য। আপনি এখনও তা-ই মনে করেন কি না সেই উত্তর হ্যাঁ অথবা না-তে দিন। আমেরিকার জনগণ জানতে চায় যখনই আমরা কোনো দেশের সাথে (নীতিগতভাবে) যুক্ত হই, তখন আমরা যেন আমাদের কাজের সম্ভাব্য পরিণতির কথা ভাবি এবং এর মাধ্যমে আমাদের মূল্যবোধগুলো কোন পথে যাচ্ছে তা বিবেচনা করি। আপনার দায়িত্বে থাকাকালীন কোনো গণহত্যা ঘটবে কি না এবং আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে এই অজুহাতে আপনি তা দেখেও না দেখার ভান করবেন কিনা – এটি একটি যৌক্তিক প্রশ্ন।
- (হাউজের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শুনানিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা বিষয়ক দূত এলিয়ট আব্রামসের বিষয়ে এই প্রশ্ন ও মন্তব্যগুলো করা হয়)।
- কমন ড্রিমস-এ প্রকাশিত জেক জনসনের প্রতিবেদন "লাতিন আমেরিকায় মার্কিন-সমর্থিত গণহত্যা, হত্যাকাণ্ড ও ডেথ স্কোয়াডে ভূমিকার জন্য এলিয়ট আব্রামসকে জেরা করায় প্রতিনিধি ইলহান ওমর প্রশংসায় ভাসছেন" থেকে উদ্ধৃত (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯)।
- যখন আমরা মানুষকে সায় দেওয়ার কথা বলি, তখন আমরা এটাই বোঝাতে চাই যে তার নীতিগুলো খুব নিখুঁতভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরার মতো রাজনীতিবিদ ট্রাম্প নন কেবল এই এক কারণেই ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ নই। তার নীতিগুলো খারাপ। কিন্তু তার আগে যারা এসেছেন, তাদের অনেকের নীতিও আসলেই খুব খারাপ ছিল। পার্থক্য শুধু এটুকুই যে, তারা ট্রাম্পের চেয়ে বেশি মার্জিত পরিপাটি ছিলেন। আমাদের আর এই গুণ খোঁজা উচিত নয়। আমরা চাই না যে কেউ দেখতে সুন্দর বা কথা গুছিয়ে বলতে পারার কারণে গুরুতর অন্যায় করেও ছাড় পেয়ে যাক। আমরা সুন্দর চেহারা আর হাসির পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল নীতিগুলোকে বুঝতে চাই।
- ৩ মার্চ ২০১৯ পলিটিকো-কে দেওয়া সাক্ষাৎকার। (অডিওর ট্রান্সক্রপ্ট)
- ভেনিজুয়েলায় মার্কিন-সমর্থিত অভ্যুত্থান তাদের ভয়াবহ সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান নয়। কট্টর ডানপন্থী বিরোধী দলকে ক্ষমতায় বসানোর ট্রাম্পের প্রচেষ্টা শুধু সহিংসতাই বাড়াবে এবং অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। একটি শান্তিপূর্ণ আলোচনার পথ তৈরি করতে মেক্সিকো, উরুগুয়ে এবং ভ্যাটিকানের যে প্রচেষ্টা, তা আমাদের সমর্থন করা উচিত।
- উলফসন, জোসেফ এ. (২৪শে জানুয়ারি, ২০১৯)। "ট্রাম্প ভেনিজুয়েলায় ‘অভ্যুত্থানে’ সমর্থন দিচ্ছেন, এই দাবি করার পর প্রতিনিধি ইলহান ওমর সমালোচনার মুখে পড়েছেন"। ফক্স নিউজ।
- বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষার জন্য অন্য দেশের নেতা ঠিক করে দেওয়ার কাজ আমরা করতে পারি না। আইনসভা প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে না এবং ভেনিজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট তাদের এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে।
- বাউডেন, জন (২৫শে জানুয়ারি, ২০১৯)। "নতুন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ওমর: যুক্তরাষ্ট্রের ভেনিজুয়েলায় নেতা 'বেছে দেওয়া' বা 'অভ্যুত্থান' প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা উচিত নয়"। ২৯শে জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে সংগৃহীত।
২০২০
[সম্পাদনা]- যারা ভোট দেন না তাদের সাথে শুধু কথা বলাই যথেষ্ট নয়; আমাদের তাদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার একটা কারণ দিতে হবে। এজন্যই কর্মজীবী মানুষের প্রয়োজন মেটায় এমন নীতি গ্রহণ করা এবং এমন প্রার্থী খুঁজে বের করা শুধু সঠিক কাজই নয়, এটি আমাদের দলের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিধাহীনভাবে আমাদের রাজনীতিতে কর্পোরেট প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে আমরা লক্ষ লক্ষ কর্মজীবী মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি। 'মেডিকেয়ার-ফর-অল' বা 'গ্রিন নিউ ডিল'-এর মতো প্রগতিশীল অগ্রাধিকারগুলোকে সমর্থন করে আমরা তরুণদের উৎসাহিত করি। পুলিশের জবাবদিহিতার দাবিকে সমর্থন করে এবং এই আন্দোলনগুলো থেকে প্রার্থী দিয়ে আমরা সেই অশ্বেতাঙ্গ মানুষদের কাছে পৌঁছাতে পারি যাদের পুলিশের হাতে নির্যাতিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে পররাষ্ট্রনীতি পুনর্মূল্যায়নও অন্তর্ভুক্ত। দশকের পর দশক ধরে চলা অন্তহীন যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ জীবন নষ্ট হয়েছে এবং ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এই টাকা আমাদের তরুণদের শিক্ষিত করতে, আমাদের প্রবীণদের যত্ন নিতে এবং আমাদের গৃহহীনদের আবাসন জোগাতে বিনিয়োগ করা উচিত।
- "If Democrats want to win, focus on nonvoters" (সেপ্টেম্বর ২০২০)
- আপনি ডেমোক্র্যাট হলে বিক্ষোভকারীরা কোথায় বা কী নিয়ে প্রতিবাদ করছে সেটার তোয়াক্কা না করেই বিক্ষোভকারীদের ভাঙা প্রতিটি জানালা বা ছোঁড়া প্রতিটি বোতলের জন্য মিডিয়া আপনাকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে। অথচ যখন সত্যিকারের জিওপি ও ট্রাম্প সমর্থকরা ডেমোক্র্যাটদের হত্যার কথা বলে ও তাতে উল্লাস প্রকাশ করে তখন মিডিয়া একদম চুপ থাকে।
- টুইটার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২০)
- মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনকে যদি একই মানদণ্ডে বিচার না করি, তাহলে ইরানের কারণে সৃষ্ট নিপীড়ন ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে আমাদের সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হয় না। একইভাবে, সৌদি আরবের দমনপীড়নের বিষয়টিকেও আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। সৌদি আরব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে খারাপ দেশগুলোর তালিকায় থাকে।
- Ilhan Omar accused of supporting AIPAC after critiquing Assad (২৬ ডিসেম্বর ২০২০)
আমেরিকা আসলে এমন: আমার শরণার্থী থেকে কংগ্রেসওম্যান হওয়ার কাহিনি (২০২০)
[সম্পাদনা]- আমার মা ও বাবা—উভয় দিকের পরিবার থেকেই শিক্ষাকে সবসময় খুব গুরুত্ব দেওয়া হতো। সোমালিয়ায় যখন আমার দাদা (আওউই) কিছুদিনের জন্য আমাদের সাথে ছিলেন, তখন তিনি প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার আগে আমাকে তাঁর ঘরে ডেকে নিতেন। আমি সোমালি রানী আরাওয়েলোর আদর্শ বহন করি তা যেন আমি বুঝতে পারি তা তিনি নিশ্চিত করতেন। আরাওয়েলো নারী ও অধিকারবঞ্চিতদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছিলেন।
- আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, আমরা সবাই যেমন আমেরিকা চাই এবং যেমন আমেরিকার যোগ্য, সেটা কেবল কোনো কাল্পনিক ধারণা নয়, বরং এমন এক জায়গা যা বাস্তবে সম্ভব। কিন্তু তা সম্ভব কেবল যদি আমরা এর জন্য কাজ করি। আর এই কাজ শুধু একা একা করলে চলবে না—শুধু নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য, অথবা নিজের জাতি, ধর্ম বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর জন্য কাজ করলেই হবে না। এর জন্য আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
- আমরা একে অপরের প্রতি যত বেশি মনোযোগী হব বা একে অপরের জন্য যত বেশি কাজ করব, আখেরে আমাদের সকলেরই তত মঙ্গল হবে। এই পারস্পরিক সংযুক্তির দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই আমি এই দেশে যেখানে আমাদের সমস্ত লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট প্রাচুর্য রয়েছে সেখানে একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে কাজ করছি। এই ধারণাটা স্বল্পতার ভ্রান্ত ধারণা যেখানে মনে করা হয় যে আমার ভাগে যা আছে, তা তোমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে সেই ধারণার ঠিক বিপরীত। কার বেশি আছে, আর আমাদের কী নেই তা ভেবে আমরা হতাশ হই। এই মানসিকতাই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোকে সামান্য প্রাপ্তির জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দেয়। যারা বিদ্যমান স্থিতাবস্থা বা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায়, তারা আমাদের এভাবে বিভক্ত ও বিক্ষিপ্ত দেখলে খুশিই হয়। একজনের লাভ মানে অন্যজনের ক্ষতি এই পুরনো ধারণাটাকে আমি নতুনভাবে সাজাতে চাই। আমি চাই, তোমার ক্ষতি আমারও ক্ষতি হোক; তোমার লাভ আমারও লাভ হোক।
- যাদের ওপর আমাদের সমাধানগুলো প্রভাব ফেলবে তাদের জায়গায় যদি আমরা নিজেদের বসিয়ে না দেখি বা তাদের অবস্থাটা না বুঝি তাহলে আমরা সমস্যা পুরোপুরি দূর করতে পারব না।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেন তার মুখোমুখি হওয়া সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকে, তা নিশ্চিত করার তাড়না আজও আমাকে চালিত করে। নতুন আমেরিকানরা যারা অংশগ্রহণে আগ্রহী, তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং যারা হতাশ হয়ে পড়েছেন, তাদের কাছে গিয়ে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য বোঝানো এবং কীভাবে এটিকে আরও ভালো করা যায় তা খুঁজে বের করা তা যারা বোঝেন যে কোথায় সমস্যা তাদের সবার দায়িত্ব। কিন্তু সবকিছু শুরু হয় কেবল এগিয়ে আসা বা অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে, আর এটা আমরা সবাই করতে পারি।
- যুদ্ধ কোনো কিছু পুনরুদ্ধার করে না। এটা শুধু কেড়ে নেয়। সবকিছু কেড়ে নেয়।
- হিজাব আমাকে আত্মস্থ সাহায্য করে। কারণ আমার ভেতরের কিছু গভীর বিশ্বাসের সাথে হিজাব আমাকে যুক্ত করে।
- আমি একজন মুসলিম এবং সেভাবেই জীবনযাপন করি। কিন্তু আমি একজন মানবতাবাদীও। আমি যেমন আল্লাহতে বিশ্বাস করি, তেমনি এটাও বিশ্বাস করি যে আমাদের ধর্ম, বিজ্ঞানে বিশ্বাস, বর্ণ বা জন্মভূমি যাই হোক না কেন, আমরা সবাই পরস্পরের সাথে সংযুক্ত। আমাদের এই ভিন্নতার কারণেই আমরা একে অপরকে সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা রাখি।
- দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি থেকে বেঁচে ফেরা একজন শরণার্থী হিসেবে, যারা পালাতে পারেননি তাদের কথা আমার সবসময় মনে পড়ে। তারা কতটা কষ্ট পেয়েছেন আর কতজন মারা গেছেন, সে চিন্তা কখনো মাথা থেকে যায় না।
- আমার বিশ্বাস জনসেবার ক্ষেত্রে আপনি যদি কাউকে অস্বস্তিতে না ফেলেন, তাহলে আপনি আপনার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন না।
- যখন আমি নূরের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন আমি আসলে প্রত্যেক সোমালির পক্ষেই দাঁড়িয়েছিলাম। সেটাও শুধু সেদিনের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতিটি দিনের জন্য। যেমনটা আমি পরে স্টার ট্রিবিউনে লেখা এক মতামত কলামে উল্লেখ করেছিলাম: "আমি ৩১ বছর বয়সী একজন সোমালি মুসলিম নারী, তিন সন্তানের মা এবং একজন আপোষহীন প্রগতিশীল। কেউ কেউ বলেন যে নারী হিসেবে আমি রাজনৈতিক বিষয়ে নাক গলাই এবং আমাকে আমার জায়গায় বসিয়ে দেওয়া উচিত। কেউ কেউ বলেন আমার সাথে যা হয়েছে তা আমার প্রাপ্যই ছিল। কারণ আমার মতামত আমাদের সম্প্রদায়ের কিছু পুরুষ রাজনৈতিক নেতার মতামতের বিপরীত। এছাড়াও, একটি ছোট গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে একজন নির্বাচিত সোমালি কর্মকর্তাই যথেষ্ট এবং এখন সম্প্রদায়ের চুপচাপ বসে থাকা উচিত। আমাকে সহিংসতার হুমকি দেওয়া হলেও আমি কখনোই চুপ থাকব না। যদি কোনো সোমালি প্রার্থী নিজের ইচ্ছায় নির্বাচনে দাঁড়াতে চান, তাহলে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই।
- আপনার নিজের সাফল্য এবং আপনি যাদের অনুপ্রাণিত করেন তাদের সাফল্য আপনার ক্ষত নিরাময় করতে পারে।
- আমি বিশ্বাস করি সংঘবদ্ধ হয়ে কোনো কিছুর জন্য চেষ্টা করলে সেটাই পাওয়া যায়।
- মুসলিমদের উপরে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের পর আমার এক বেদনাদায়ক উপলব্ধি হয়েছিল। প্রশাসন আমাদের ওপর যা চাপিয়ে দিচ্ছিল তার বেশিরভাগই খুব ব্যক্তিগত প্রভাব ফেলছিল। কারণ তাদের প্রস্তাবগুলো আমার এবং আমার প্রিয়জনদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতো। তবুও আমি দুঃখ করার সুযোগ পাইনি। কারণ আমাকে আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণ ও দেশের পাশে দাঁড়াতে হতো। অন্তত যখন আমি তাদের জন্য লড়াই করছিলাম, তখন আমার আর কোনো ভয় ছিল না।
- আমার আশাবাদী হওয়ার ধরনটা হলো আমি নিজেকে কখনো পরিস্থিতির শিকার ভাবি না এবং আজকের সমস্যাগুলো কাল থাকবে না এটা ভেবে স্বস্তি পাই। আমি বিশ্বাস করি যথেষ্ট চেষ্টা করলে শেষ পর্যন্ত আরও ভালো কোনো জায়গায় পৌঁছানো যায়। কেউ কেউ বলেন আমার মেরুদণ্ড নাকি লোহার মতো শক্ত। আমি এটাকে বরং এভাবে দেখতে পছন্দ করি যে এটা প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করার একটা উপায় খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া। এই মানসিকতা স্টেট হাউজে কাজে দিয়েছিল এবং এটা আমার জন্য সবসময়ই কার্যকর হয়েছে।
- আমার ধর্ম নিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিকর ভুল ধারণাগুলোর একটা হলো যেহেতু আমি মুসলিম, তাই আমি ইসরায়েল ও ইহুদিদের ঘৃণা করি। যদিও এর চেয়ে বড় অসত্য আর কিছু হতে পারে না, তবুও যখনই আমি ইসরায়েলের সমালোচনা করি, তখন সেটাকে এই দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা হয়।
- আপনি অতীত মুছে ফেলতে পারবেন না; আপনি কেবল বিদ্যমান বর্ণনায় নতুন কিছু যোগ করতে পারেন। মুসলিমদের নিয়ে আগে থেকেই একটি প্রচলিত ধারণা আছে। আমি ইতিহাস পাল্টে দিতে বা নতুন করে লিখতে আসিনি। সেটা হয় প্রচারণা, নয়তো অসম্ভব। আমি এবং অন্যরা যা করতে পারি তা হলো মুসলিম হওয়ার অর্থ কী সেই ধারণাটিকে আরও বিস্তৃত করা এবং আমাদের সাথে টিকে থাকা কাহিনীসূত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
- আমাদের সবারই কিছু দুর্বলতা আছে।
- চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক অধিকার। আমার গায়ের রং বা ধর্ম যাই হোক না কেন, এই অধিকার আমারও প্রাপ্য। যারা ভিন্ন অ্যাকসেন্টে কথা বলেন বা যাদের চুলের গড়ন আলাদা, তাদেরও এই অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সাবেক কারাবন্দী, যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ঘরবাড়ি নেই, কিংবা যারা নিউরোডাইভার্স—সকলেরই এই অধিকার আছে। কোনো পরিচয় বা তকমা যেন কারো অংশগ্রহণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
- নৈতিক স্বচ্ছতা ও সাহসিকতার রাজনীতির কথা আমি প্রায়ই বল। এটার মধ্যে নিজের বক্তব্য তুলে ধরা এবং অন্যের কথাও মন দিয়ে শোনা অন্তর্ভুক্ত। আমি যে ধরনের কাজ করি তাতে জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য সৎ ও খোলামেলা আলোচনা করতে গেলে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয় বা কাউকে আঘাত দেওয়া হয়ে যায়। এটাই মানুষের স্বভাব। তবে, আমি সেই ভুল শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করি। আমেরিকার জন্য ট্রাম্পের যে দৃষ্টিভঙ্গি সেখানে এটা জনপ্রিয় না হলেও আত্মবিশ্লেষণ এবং অনুশোচনা দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং শক্তিরই পরিচয়।
- আমার হিজাব ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আনুগত্য ও সংগ্রামের মধ্যকার টানাপোড়েন মনে করিয়ে দেয়।
- সমাজে যাদের অযোগ্য বা মূল্যহীন মনে করা হয়, তাদের প্রতি হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায়কে চ্যালেঞ্জ করার জন্যই আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম।
- কংগ্রেসে আগে কখনো এমন কোনো সদস্য ছিলেন না, যিনি দেখতে আমার মতো বা যার কথা বলার ভঙ্গি আমার মতো।
- আমার শক্তির উৎস ভয়হীনতা নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র নৈতিক ক্ষোভ।
- যারা নিজেদের ছোট মনে করে, আমি তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে চাই; যারা নিজেদের দুর্বল ভাবে, তাদের শক্তি জোগাতে চাই; যারা মনে করে তাদের কথা কেউ শোনে না, তাদের কণ্ঠস্বর জোরালো করতে চাই। আমার কাছে এটাই আমেরিকান স্বপ্ন।
- আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত আমেরিকা খুঁজে পাওয়ার যাত্রায় আমি এখনও আছি। যদিও এই দেশে বসবাসকারী সবার জন্য এটা প্রতিদিনের বাস্তবতা নাও হতে পারে, আমেরিকান স্বপ্ন কেবল এই দেশে আসা বা আসতে চাওয়া অভিবাসীদের আলোচনার বিষয় নয়। এটি আমেরিকান মনস্তত্ত্বের একটি অংশ এবং পরিশেষে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা সবাই এরই সন্ধান করি।
- কোনো ব্যক্তির ওপর রাগ দেখানোটা ভুল। বরং সমাজের গঠন বা ব্যবস্থার প্রতি এই রাগ থাকা উচিত। তারপর সেই রাগ সমাজের এই ব্যবস্থাকে বদলানোর কাজে লাগানো উচিত।
- যারা প্রতিদিন গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের জন্য লড়ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি: কখনো হাল ছাড়বেন না।
ডেমোক্রেসি নাও-কে দেওয়া সাক্ষাৎকার
[সম্পাদনা]- আমার মনে হয় আমাদের অনেকের কাছেই ২০১৬ সালটা এমন একটা নির্বাচনের বছর ছিল, যখন আমরা ঠিক করতে যাচ্ছিলাম আমরা কেমন দেশ হতে চাই। এটা খুব স্পষ্ট ছিল যে একদিকে এমন একজন প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছিলেন যিনি শুধু আমাদের গণতন্ত্রের জন্যই নয়, বরং আমেরিকান জনগণের জীবনের জন্যও চরম বিপজ্জনক ছিলেন। আসলে, আমাদের উপস্থিতি এবং আমাদের নির্বাচনগুলো শুধু এই প্রশাসনের ক্ষতিকর নীতিগুলোর বিরোধীতা করার জন্যই ছিল না, বরং এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মনে আশা ফিরিয়ে আনাও। তবে, সেই নীতিগুলো এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
- আমি সবসময় প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মধ্যেই সুযোগ খুঁজে নিই। আর আমি জানি এই মুহূর্তে আমরা প্রতিটি ভাঙা বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাকে নিজের চোখে দেখার সুযোগ পেয়েছি। মানুষ শুধু কী হারাচ্ছে তা-ই নয়, বরং তারা কী অর্জন করতে পারে, সেটাও বোঝার সুযোগ পেয়েছে। বর্ণবাদী ও ধর্মান্ধদের নিজেদের আসল রূপ প্রকাশ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর যারা ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকেও নিজেদের কখনো শক্তিশালী ভাবেনি, তারাও এটা বোঝার সুযোগ পেয়েছে যে তাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না, ভয় দেখানো যাবে না বা চুপ করিয়ে রাখা যাবে না। আমরা নিজেরা যদি সুযোগ করে না দিই তাহলে আমাদের উপেক্ষা করা বা বাতিল করে দেওয়া সম্ভব নয়।
- আমার মনে হয় আমাদের উপস্থিতি আসলে যে ধাক্কাটা দিয়েছে তা হলো—বহুদিন ধরে মানুষ দেখে আসছে যে শ্বেতাঙ্গ পুরুষেরা এসে নিজেদের সবকিছুর মালিক ভাবে, অথচ ভাঙা আমেরিকার জন্য তাদের যোগ্যতা, গুণাবলী বা পরিকল্পনা নিয়ে কেউ কখনো প্রশ্ন তোলে না। আর এই প্রথমবার এমন নারীরা এসেছেন—যাদের কাছে আশা করা হয়েছিল তারা ক্ষমাপ্রার্থী হবে, নিজেদের ছোট ভাববে, এমনকি দেখতেও হয়তো তারা ছোটখাটো—কিন্তু তারা এসে নিজেদের অবস্থান বোঝে, নিজেদের শক্তি জানে, নিজেদের পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে এবং কখনোই বিচলিত হয় না। এসব নারীদের দেখে যারা একসময় নিজেদের ক্ষমতাশালী ভাবতো বরং তারাই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এখন তাদের ক্ষমতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আর তাই, আমার মনে হয়, মানুষ প্রায়ই অবাক হয়ে ভাবে, “ইলহান, এতসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও আপনি কীভাবে কাজ চালিয়ে যান? বা আপনারা কেন বিতর্কের মধ্যেই এত ভালো করছেন বলে মনে হয়?” এর কারণ হলো, আমরা বিতর্কের মধ্যে বাঁচি না। আমরা বাঁচি সত্যের জন্য অবিরাম সংগ্রামে, আর আমরা বাঁচি আমেরিকাকে নতুন করে গড়ার এক অবিরাম সংগ্রামে।
- আমরা যখন আমাদের পররাষ্ট্র নীতি তৈরি করি, তখন যেসব দেশের ওপর এবং যেসব মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়বে, তাদের থেকে আমরা আসলেই বিচ্ছিন্ন থাকি। যখন আমরা পুঁজিবাদ, আমাদের বাণিজ্য নীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিজেদের দেশে ইউনিয়নভুক্ত শ্রমিকদের অধিকারের লড়াই নিয়ে চিন্তা করি, তখন আমরা একটা মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশের কথা বলি। অথচ সেই একই অধিকার যে অন্য দেশের মানুষেরও প্রাপ্য সেটা আমরা ভাবি না। ফলে যখন আমরা মেক্সিকো, হন্ডুরাস, এল সালভাদর বা আমরা আমাদের কাজ আউটসোর্স করতে পারি এমন অন্য কোনো দেশের কথা ভাবি, তখন আমরা এটা ভাবি না যে এই সংস্থা বা কর্পোরেশনগুলো সেখানে শ্রমিকদের শোষণ করবে। আমরা এখানে চাকরি হারাচ্ছি ব্যাপারটা শুধু তা-ই নয়, বরং সেখানে সোজাসুজি শ্রমিক শোষণও ঘটছে।
২০২৩
[সম্পাদনা]- হামাস আজ ইজরাইলে যেভাবে শিশু, নারী, বয়স্ক ও নিরস্ত্র মানুষদের হত্যা করছে এবং জিম্মি বানাচ্ছে, আমি সেই ভয়াবহ কাজের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ধরনের অর্থহীন সহিংসতা কেবলই সংঘাতের সেই পুরোনো চক্রকে ফিরিয়ে আনবে, যা আমরা চলতে দিতে পারি না। উত্তেজনা প্রশমন ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে হবে আমাদের। আমি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলে যাবো।
- টুইটার পোস্ট (৭ অক্টোবর ২০২৩)
- যেমন আমরা এই সপ্তাহান্তে নিহত শত শত নিরপরাধ ইজরাইলী বেসামরিক নাগরিক এবং ৯ জন আমেরিকানের মানবিক মর্যাদা স্বীকার করছি, তেমনি আমাদের অবশ্যই যারা নিহত হয়েছেন এবং যাদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে সেইসব নিরপরাধ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক মর্যাদাও স্বীকার করতে হবে।
- হাসপাতালে বোমা হামলা করা সবচেয়ে গুরুতর যুদ্ধাপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম। জানা গেছে, যুদ্ধের সময় আহতদের চিকিৎসা ও আশ্রয় নেওয়ার অল্প কয়েকটি স্থানের মধ্যে একটি স্থানে একটি হাসপাতাল ইজরাইলী সামরিক বাহিনী বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে যেটা। এটি অত্যন্ত ভয়াবহ। এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দেওয়া উচিত।
- টুইটার পোস্ট (১৭ অক্টোবর ২০২৩)
ইলহান ওমর সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- ইলহান ওমর ও আমি—আমরা যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, মানে, আমাদের শুধু মুসলিমরাই কিন্তু নির্বাচিত করেনি, অমুসলিমরাও করেছে। এটা আবারও একটা বিরাট, অনুপ্রেরণামূলক ও শক্তিশালী বার্তা। আর আমার মনে হচ্ছে—জানেন তো, লোকে এটাকে নীল ঢেউ, গোলাপি ঢেউ বা মুসলিম ঢেউ বলছে। এটা আসলে একটা রংধনুর মতো যা কংগ্রেসে আসছে। যারা নির্বাচনে লড়ছেন তারা সবাই আসলে আমাদের দেশের সৌন্দর্য আর যে দিকগুলো আমরা ভালোবাসি, তারই এক অবিশ্বাস্য প্রতিফলন। কংগ্রেসের করিডোরে আমরা যখন একসাথে হাঁটব, তার হাত ধরার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। সে অনেক সাহস নিয়ে এসেছে। আমি মনে মনে বলছিলাম, “ইলহান, দয়া করে আমাকে একা করো না।” আর সে বলেছে, “আমি সাথে আছি।” তাই আমি খুবই আনন্দিত যে কংগ্রেস সদস্য ওমর আমার সাথে যোগ দিচ্ছেন।
- রাশিদা তালিব। ডেমোক্রেসি নাও-কে দেওয়া সাক্ষাৎকার। (আগস্ট ২০১৮)
- পেলোসি এবং শুমার খুব ভালো করেই জানেন যে ইলহান ওমর ইহুদিবিদ্বেষী ছিলেন না। তারা জেনেশুনেই আইপ্যাক-এর সমালোচনা করাকে ইহুদি ধর্ম ও ইহুদি জনগণের ওপর আক্রমণের সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন। ওমর একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলেছিলেন, আর সাথে সাথেই দলের পুরো চাপ এসে পড়েছিল তার ওপর।
- জেরেমি স্কাহিল, টুইটার পোস্ট, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
- ওমরের সাম্প্রতিক ইহুদি-বিদ্বেষ তার প্রথম ঘটনা নয়। ২০১২ সালে তিনি টুইট করেছিলেন: "ইসরায়েল বিশ্বকে সম্মোহিত করে রেখেছে। আল্লাহ যেন মানুষকে জাগিয়ে তোলেন এবং তাদের ইসরায়েলের কুকর্ম দেখতে সাহায্য করেন।" ২০১৩ সালে তিনি হামাস ও হিজবুল্লাহর প্রসঙ্গে হেসেছিলেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী আল কায়েদার সমতুল্য। তিনি ইহুদি-বিদ্বেষী বিডিএস আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তিনি গত মাসে বলেছিলেন যে ইসরায়েল একই সাথে একটি গণতন্ত্র ও একটি ইহুদি রাষ্ট্র হতে পারে না। এখানে তিনি বিষয়টি গোপন করছেন না।
- বেন শেপিরো, The Democratic Party Has Become The Party Of Anti-Semitism. Here's Why. ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ডেইলি ওয়াইয়ার
- মার্কিন কংগ্রেসে ইহুদিবিদ্বেষের কোনো স্থান নেই, এবং কংগ্রেসওম্যান ওমর যা বলেছেন তা ভয়াবহ। আমার মনে হয়, তার হয় কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করা উচিত অথবা অন্তত হাউজের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি থেকে পদত্যাগ করা উচিত। তিনি যা বলেছেন তা তার হৃদয়ের গভীরে এতটাই প্রোথিত যে তার হাস্যকর ক্ষমা প্রার্থনা উপযুক্ত নয়। আর তার ক্ষমা প্রার্থনা নিশ্চিত হাস্যকর ছিল এবং তিনি এর একটি শব্দও মন থেকে বলেননি। সত্যি বলতে আমার মনে হয় তার কংগ্রেস থেকেই পদত্যাগ করা উচিত। কিন্তু কম করে হলেও তার কোনো কমিটিতে থাকা উচিত নয়, বিশেষ করে ওই কমিটিতে তার থাকা উচিত নয়।
- ডোনাল্ড ট্রাম্প, WATCH: Trump Calls On Anti-Semite Ilhan Omar To Resign From Congress, Daily Wire (১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)
- ওমরের ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারপত্রে আহমেদ হিরসিকে তার স্বামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল কেন? তিনি তো তখনও আহমেদ এলমিকে তালাক দেননি বা হিরসিকে বিয়ে করেননি। ওমর তার ২০১৭ সালের তালাকের আবেদনে কেন বলেছিলেন যে ২০১১ সালের জুন মাসের পর থেকে এলমির সাথে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি? অথচ ২০১৫ সালে লন্ডনে তাদের একসাথে থাকার ছবি দেখা গেছে। এলমি কেন নিজে এগিয়ে এসে ওমরের সাথে তার সম্পর্কের ধরণ ব্যাখ্যা করে এই বিতর্কের অবসান ঘটাননি?
- বেথানিয়া পালমা, স্নোপসের প্রতিবেদন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
- ঠিক আছে, আমরা সবাই ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে। আমরা বছরের পর বছর ধরে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়েছি। কিন্তু এটা তিনি (ইলহান ওমর) কী বলেছেন, তা নিয়ে নয়। আসল ব্যাপারটা হলো তিনি একজন মুসলিম আফ্রিকান অভিবাসী এবং একজন সোমালি শরণার্থী, যিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলছেন, যিনি ইসরাইলের লবি, বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর লবি এবং জীবাশ্ম জ্বালানি লবির ক্ষমতা নিয়ে কথা বলছেন। আর এটাই (তাদের কাছে) ঠিক নয়। আর একারণেই তাকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
- ফিলিস বেনিস, " Omar’s Denunciation of Israel Lobby is Not Anti-Semitism", দ্য রিয়েল নিউজ নেটওয়ার্ক (৫ মার্চ ২০১৯)
- ইলহান ওমর এমন এক সময়ের একজন শক্তিশালী নৈতিক কণ্ঠস্বর যখন খুব কম ডেমোক্র্যাটই (এমনকি প্রগতিশীলরাও) পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে স্পষ্টভাবে ও জ্ঞান সহকারে কথা বলেন। তিনি নিঃশর্ত সমর্থন পাওয়ার যোগ্য।
- নাওমি ক্লেইন, টুইটার পোস্টে, ৯ মার্চ ২০১৯।
- আমার ভয় হচ্ছে যে প্রতিনিধি পরিষদে এখন কংগ্রেসওম্যান ওমরকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে যাতে বিতর্কটা থামানো যায়। এটা অন্যায়। ইহুদিবিদ্বেষ একটি ঘৃণ্য ও বিপজ্জনক মতাদর্শ, যার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং সারা বিশ্বে জোরালোভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। তবে, আমরা যেন ইসরায়েলের ডানপন্থী নেতানিয়াহু সরকারের ন্যায্য সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের সাথে গুলিয়ে না ফেলি।
- প্রতিনিধি ইলহান ওমর আমেরিকাকে কেবল এর শ্রেষ্ঠ আদর্শগুলো বাস্তবায়নেই উৎসাহিত করছেন না—তিনি আমাদের দেখাচ্ছেন কীভাবে অন্তর্ভুক্তি ও সংহতির সংগ্রাম আমাদের সমাজকে বদলে দিতে পারে।
- নাওমি ক্লেইন, This Is What America Looks Like: My Journey from Refugee to Congresswoman (২০২০)
- কংগ্রেসে আসার অনেক আগে থেকেই ইলহান একজন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব। এই বইটি সেই ব্যক্তি ও বোনের পরিচয় দেবে, আমার চোখে যিনি উদ্যমী, যত্নশীল, বুদ্ধিদীপ্ত এবং সর্বোপরি ইতিবাচক পরিবর্তনে অঙ্গীকারবদ্ধ। আরও ন্যায়সঙ্গত একটি পৃথিবী গড়ার লড়াইয়ে তার সহযোদ্ধা হতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের।
- আলেক্সান্দিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ, This Is What America Looks Like: My Journey from Refugee to Congresswoman (২০২০)
- ট্রাম্পের সমর্থকরা বিশ্বাস করেন যে ওমরের ভুলের কারণে তাকে বহিষ্কার করা উচিত, কিন্তু ট্রাম্পের একই ধরনের অন্যায়ের কারণে তার (ট্রাম্পের) হোয়াইট হাউজে থাকাটা ঠিক। এখান থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় আসলে কী ঘটছে। ট্রাম্পবাদের অধীনে, নিজেদের জনগণের পক্ষ নেওয়া কখনোই বিশ্বাসঘাতকতা নয়, এমনকি তা যদি প্রজাতন্ত্রকে দুর্বলও করে দেয় তবুও। আর নিজেদের জনগণের আধিপত্যের ওপর কোনো আক্রমণই বৈধ হতে পারে না, তা গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে হলেও তবুও।
- অ্যাডাম সারওয়ার, The Cruelty is the Point (২০২১)
- ইলহান ওমরের পক্ষ নেওয়া উচিত। তবে তা কেবল ইসরায়েল, সমকামী অধিকার, বা প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা নিয়ে তার মতামতের কারণেই নয়। এসব কোনো বিষয়েই আপনার তার সাথে একমত হওয়ার প্রয়োজন নেই; সত্যি বলতে, তাকে আপনার পছন্দ করারও দরকার নেই। কিন্তু তার পক্ষ নেওয়া উচিত কারণ প্রেসিডেন্ট তার ওপর যে ধরনের আক্রমণ করেছেন, তা সকল আমেরিকানদের—কৃষ্ণাঙ্গ বা শ্বেতাঙ্গ, ইহুদি বা অ-ইহুদি—সবার জন্যই হুমকি। তাদের সবার নাগরিকত্ব এবং তাদের সবার এই দেশে থাকার অধিকার একইভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এটা আর শুধু ওমর বা যাদের এই প্রেসিডেন্ট তাদের তথাকথিত নিজ দেশে ফিরে যেতে বলেছেন সেই অশ্বেতাঙ্গ নারীদের বিষয় নয়। এটা হলো আমেরিকা তার সকল অধীবাসীর দেশ হওয়া উচিত এই ধারণা রক্ষার বিষয়। যদি আমেরিকায় বহুজাতিক গণতন্ত্র রক্ষা করা না যায়, তবে অন্য কোথাও তা রক্ষা করা যাবে না। আমেরিকানরা এখন এই পরিস্থিতিতে যা করবে, তা আমাদের পরিচয় চিরকালের জন্য নির্ধারণ করবে।
- অ্যাডাম সারওয়ার, The Cruelty is the Point (২০২১)