ইসলাম এবং পারিবারিক সহিংসতা
ইসলাম এবং পারিবারিক সহিংসতার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। এমনকি মুসলমানদের মধ্যেও শরীয়তের সমন্নয় ও বিশ্লেষণ নিয়ে মতভেদ আছে। এটা ইসলামী আইন, নৈতিকতা ও ধর্মীয় বিষয়কে একত্রিত করে।ব্যাখ্যার বৈচিত্র্য অনুযায়ী ইসলামী আইনশাস্ত্রের বিভিন্ন মাযহাব, ঐতিহাসিক ঘটনা, ধর্মীয় নীতি, ফতোয়া এবং শিক্ষার কারণে তারতম্য হয়।মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পারিবারিক সহিংসতা একটি জটিল মানবাধিকার বিষয়। এটি জাতিভেদে মহিলাদের জন্য বিভিন্ন আইনি বিষয় পার্থক্য করে।
ইসলাম এবং পারিবারিক সহিংসতা সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের এককে অন্যের উপর মর্যাদা প্রদান করেছেন, আর এজন্য যে, পুরুষেরা স্বীয় ধন-সম্পদ হতে ব্যয় করে। ফলে পুণ্যবান স্ত্রীরা (আল্লাহ ও স্বামীর প্রতি) অনুগতা থাকে এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে তারা তা (অর্থাৎ তাদের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ) সংরক্ষণ করে যা আল্লাহ সংরক্ষণ করতে আদেশ দিয়েছেন। যদি তাদের মধ্যে অবাধ্যতার সম্ভাবনা দেখতে পাও, তাদেরকে সদুপদেশ দাও এবং তাদের সাথে শয্যা বন্ধ কর এবং তাদেরকে (সঙ্গতভাবে) প্রহার কর, অতঃপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তাহলে তাদের উপর নির্যাতনের বাহানা খোঁজ করো না, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ।
- আল কোরআন,৪:৩৫
- স্মরণ কর আমার বান্দা আইয়ূবের কথা, যখন সে তার প্রতিপালককে ডেকে বলেছিল- শয়ত্বান আমাকে কষ্ট আর ‘আযাবে ফেলেছে (অর্থাৎ আমার ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়ে আমাকে আল্লাহর অকৃতজ্ঞ বান্দাহ বানানোর জন্য কুমন্ত্রণা দিয়ে চলেছে)।...আমি তাকে দান করলাম তার পরিবার-পরিজন আর তাদের সাথে তাদের মত আরো, আমার রহমত স্বরূপ আর জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেদের জন্য উপদেশ স্বরূপ।(আমি তাকে বললাম) কিছু ঘাস লও আর তা দিয়ে আঘাত কর, (আর তোমার স্ত্রীকে একশত বেত্রাঘাত করার শপথ) ভঙ্গ করো না। আমি তাকে পেয়েছিলাম পূর্ণ ধৈর্যশীল, কতই না উত্তম বান্দাহ, প্রকৃতই (আল্লাহ) অভিমুখী।
- আল কোরআন,৩৮:৪১-৪৪
- আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে তার সাথে বিছানায় শোয়ার জন্য আহবান করার পর যদি স্ত্রী না আসে এবং স্বামী তার উপর অসন্তুষ্ট অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে সকাল পর্যন্ত ফিরিশতাগণ ঐ স্ত্রীকে অভিসম্পাত করতে থাকেন।
- সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) ২১৪১ সূত্র: https://www.hadithbd.com
- উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জনৈকা মহিলাকে বিয়ে করলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি কি বিয়ে করেছ? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, কুমারী না বিধবাকে? আমি বললাম, এক বিধবাকে। তিনি বললেন, তবে কুমারী ও তাদের আমোদ ফুর্তি হতে তুমি কোথায় (কুমারীর সঙ্গসুধা তুমি ত্যাগ করলে কেন)?
(মধ্যবর্তী) রাবী শু’বা (রহঃ) বলেন, পরে আমি আমর ইবনু দ্বীনার (রহঃ) এর নিকট এ হাদীস উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আমিও তো জাবির (রাঃ) এর নিকট তা শুনেছি। তিনি তো বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ তবে কোন কিশোরী (তরুনী) কে কেন নয়- যে তোমার সঙ্গে হাস্য-লাস্য করত তুমিও তার সঙ্গে আমোদ স্ফুর্তি করতে?
- সহিহ মুসলিম:৩৫০৬ সূত্র: https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=13117