ইসলাম ও ধর্ম অবমাননা
অবয়ব
ইসলামে ধর্ম অবমাননা বলতে আল্লাহ সম্বন্ধে অশুভ কথা বলা বা এ জাতীয় কাজকে বুঝায়, তবে সাধারণ শব্দের ব্যবহারের তুলনায় এর অর্থ আরও বিস্তৃত, যার মধ্যে শুধুমাত্র ইসলামের বৈশিষ্ট্যগুলিকে উপহাস করা বা অপমান করাই নয় বরং ধর্মের মৌলিক বিশ্বাসগুলির যে কোনোটিকে অস্বীকার করাও এর অন্তর্ভুক্ত।উদাহরণস্বরূপ, কুরআন ঐশ্বরিকভাবে অবতীর্ণ তা অস্বীকার করা, নবীদের যে কারো একজনের নবুওয়াত অস্বীকার করা, কোনো ফেরেশতাকে অপমান করা, বা আল্লাহর অংশীদার বা পুত্র আছে বলে মানা, ইত্যাদি।
ইসলাম ও ধর্ম অবমাননা সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- (ওহে মুমিনগণ!) আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে তারা ডাকে তোমরা তাদেরকে গালি দিও না, কেননা তারা তাদের অজ্ঞতাপ্রসূত শত্রুতার বশবর্তী হয়ে আল্লাহকে গালি দেবে। আর এভাবেই আমি প্রত্যেক জাতির জন্য তাদের কার্যকলাপকে তাদের দৃষ্টিতে চাকচিক্যময় করে দিয়েছিI অতঃপর তাদের প্রত্যাবর্তন (ঘটবে) তাদের প্রতিপালকের নিকট, তখন তিনি তাদেরকে জানিয়ে দিবেন যা কিছু তারা করতো।
- যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আর যমীনে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে বেড়ায় তাদের শাস্তি হল এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে অথবা তাদের হাত পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে, অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এ হল তাদের জন্য আখেরাতে রয়েছে মহাশাস্তি।(তবে এ শাস্তি) তাদের জন্য নয় যারা তোমাদের আয়ত্বে আসার পূর্বে তাওবা করবে। জেনে রেখ, আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
- সুরা মায়িদাহ; আয়াত নং ৩৩
- যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেছেন আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক শাস্তি।আর যারা মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদেরকে কষ্ট দেয় তাদের কোন অপরাধ ছাড়াই, তারা অপবাদের ও সুস্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।
- কুরআন ৩৩:৫৭–৬১
- নবী (সাঃ) বললেন, “যে ব্যক্তি সত্যিই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে, সে কা’ব ইবনে আশরাফকে হত্যা করতে কে প্রস্তুত?” মুহাম্মদ বিন মাসলামা বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি চান যে আমি তাকে হত্যা করি?” তিনি হ্যাঁ উত্তর দিলেন। তাই মুহাম্মদ বিন মাসলামা তার (অর্থাৎ কা’ব) কাছে গিয়ে বললেন, “এই ব্যক্তি (অর্থাৎ নবী) আমাদের কষ্ট দিয়েছে এবং আমাদের কাছে দান চেয়েছে।” কা’ব বললেন, “আল্লাহর কসম, তুমি তার উপর বিরক্ত হয়ে যাবে।” মুহাম্মদ তাকে বললেন, “আমরা তার পিছনে লেগেছি, তাই আমরা তার কাজের শেষ না দেখা পর্যন্ত তাকে ছেড়ে যেতে পছন্দ করি না।” মুহাম্মদ বিন মাসলামা তার সাথে এভাবে কথা বলতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি তাকে হত্যা করার সুযোগ পান।
- জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। সহীহ বুখারী, ৪:৫২:২৭০ (ইংরেজি), সহীহ বুখারী, ৫:৫৯:৩৬৯ (ইংরেজি), ৩:৪৫:৬৮৭ (ইংরেজি), ৪:৫২:২৭১ (ইংরেজি)
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় ইসলাম ও ধর্ম অবমাননা সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।