বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

এমএ. মায়াজ খান

শিল্পীর ক্ষুধা কখনো মেটে না। বার বার ওই জায়গায় ফিরতে ইচ্ছে করে। শিল্পীর ক্ষুধা থেকেই যায়। থাকাটাই স্বাভাবিক। একটি নাটকে বা সিনেমায় যত ভালো অভিনয় করা হোক না কেন, পরের কাজটির জন্য আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়ে যায়।

একজন শিল্পীর অভিনয়ের ক্ষুধা মেটে কিনা এর উত্তরে, ৯ নভেম্বর ২০২৩-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে, উদ্ধৃত: বার বার আমি মঞ্চেই ফিরতে চেয়েছি,

মঞ্চে অভিনয় করার আলাদা একটা আনন্দ আছে। সরাসরি দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়া যায়। দর্শকরা কতটুকু গ্রহণ করলেন, তা সরাসরি দেখা সম্ভব। বার বার আমি মঞ্চেই ফিরতে চেয়েছি। অভিনয়ের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা সম্পর্কে, ৯ নভেম্বর ২০২৩-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে, উদ্ধৃত: বার বার আমি মঞ্চেই ফিরতে চেয়েছি

পরামর্শ দেওয়ার যোগ্যতা আমার নাই। আমি জীবনে এমন কিছুই করিনি যে পরামর্শ দিতে পারি। তবে আমার ছেলে-মেয়েদের যে কথাটা বলি, সেটাই সবাইকে বলি- জীবনে যা-ই করতে চাও হৃদয় দিয়ে কর, পরিশ্রম কর।

আমি হতবাক। কারণ, আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মধ্যে, আমার ধারণা, গোটা তিন চারেক টেলিভিশন মোটামুটি লাভজনক অবস্থায় আছে। তিন-চারটা না হলেও পাঁচ-ছয়টা হবে। এর বেশি কোনো অবস্থাতেই না। বাকি সবগুলো লসের ভেতর আছে। তাহলে যারা মালিক, দীর্ঘদিন ধরে এই টেলিভিশনগুলো চালাচ্ছেন, প্রতি মাসে ভর্তুকি দিয়ে, এটা কেন করছেন আমি জানি না। তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি যে অন্য কোথাও নিশ্চয় লাভ হচ্ছে। যেটা আমরা সাধারণ মানুষ জানি না। হয়তো কারো আত্মশ্লাঘার ব্যাপার আছে— আমি একটা টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক। আমি যেটাকে বলি ইগো মাসাজ। ইগো মাসাজ না হলে অন্য কোথাও কোনো লাভ হচ্ছে। নয়তো আমি বুঝতে পারি না কোনো ব্যবসায়ী কেন একটি ব্যবসা দিনের পর দিন লস দিয়ে চালাবেন। অন্য কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে কি এটা হতো?

আমি মনে করি, যারা সংস্কৃতির চর্চা করছেন এই দেশে, তারা সবাই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারন করেন। বাঙালি চেতনাকে প্রোমোট করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কাজ করেন। তাদের রাজনৈতিক চেতনা নেই এটা আমি মনে করি না। শিল্পীদের রাজনৈতিক চেতনা সম্পর্কে, ২ নভেম্বর ২০১৬-এ নেয়া সাক্ষাৎকারে, উদ্ধৃত: আসাদুজ্জামান নূর: অনেক বিষয় আছে যেগুলো সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা উচিত আমাদের পরিচয় হওয়া উচিত আমরা বাঙালি। এই বাঙালির মধ্যে রয়েছে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান থেকে শুরু করে সব ধর্মের মানুষ। ধর্মের ভিত্তিতে বা ভাষার ভিত্তিতে কোনো দেশের পরিচিতি হতে পারে না। তা-ই যদি হতো, তাহলে সৌদি আরব থেকে শুরু করে অধিকাংশ মুসলিম দেশের ভাষা হতো আরবি, ধর্ম ইসলাম; কিন্তু ওই সব দেশের মানুষ নিজেদের সৌদি, মিসরীয়, পাকিস্তানি পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। তাঁরা মাথা উঁচু করে নিজের দেশের পরিচয় দেন। এটা আসলে সঠিক পরিচয়। এই আত্মমর্যাদা নিয়েই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই।

বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর অষ্টম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, ১০ ডিসেম্বর ২০২২ আমার এলাকার মানুষকে আমি প্রচণ্ড ভালোবাসি। তারাও আমাকে খুব ভালোবাসেন। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করি। এলাকার প্রতি টান আমার সবসময়ই আছে।

জীবন তো নানাক্ষেত্রে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেল। একদিকে ব্যবসা, একদিকে সাংস্কৃতিক অঙ্গন, আরেকদিকে রাজনীতি। নানামুখী ব্যস্ততা। তারপরও সময় করে প্রতিটি কাজ করার চেষ্টাটা ছিল। তবে, আমার মধ্যে থিয়েটারে ফেরার ইচ্ছেটা প্রবল। নানা কাজের ভিড়েও। জীবন নানা ক্ষেত্রে ছড়ানোর পরও মঞ্চের প্রতি টানটা অনেক বেশি।

প্রতিদিন আমাকে পতাকা উত্তোলন করতে হবে। আমাকে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হবে। আমাকে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি একটি দেশাত্মবোধক গান জানতে হবে। আমাকে জানতে হবে রবীন্দ্রনাথকে, নজরুলকে, শামসুর রাহমানকে, জীবনানন্দ দাসকে। শুধু সংস্কৃতি কেন, বঙ্গবন্ধুকে আমাকে জানতে হবে না? যারা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের কথা জানতে হবে না? আমাদের দেশের বড় বড় যারা পেইন্টার তাদের সম্পর্কে জানতে হবে না? যারা শিক্ষাবিদ, যারা বিজ্ঞানী, যারা খেলোয়াড়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছে এদের সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। এই জানার ভেতর দিয়েই কিন্তু সে নিজেকে তৈরি করবে। সে নিজেই এক সময় ঠিক করবে যে, আমি একজন বড় লেখক হতে চাই। আমি একজন বড় শিক্ষাবিদ হতে চাই। আমি একজন বড় অর্থনীতিবিদ হতে চাই। আমি একজন বড় খেলোয়াড় হতে চাই। বড় শিল্পী হতে চাই। এই যে গড়ে তোলার কাজটা,এটা সবচে' বেশি জরুরি।