বিষয়বস্তুতে চলুন

উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
একজন মানুষ কোনো স্থির পাথরখণ্ড নয় যে সবসময় এক জায়গায় থাকবে। যদিও মনোবিজ্ঞানীরা তার সাথে তেমন আচরণই করেন এবং বেশিরভাগ মানুষই তা বিশ্বাস করার মাঝে এক ধরনের উন্মাদনাপূর্ণ গর্ববোধ করে। ... সমাজের সাথে শিল্পের সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল। কবি কোনো অপরিবর্তনীয় ঘটনা নন, এমনকি তার কাজও নয়।
কবিতা থেকে সংবাদ পাওয়া কঠিন, তবুও সেখানে যা পাওয়া যায় তার অভাবে মানুষ প্রতিদিন শোচনীয়ভাবে মৃত্যুবরণ করছে।
প্রকৃত সুখী হওয়ার একমাত্র উপায় হলো অন্যকে সুখী করা। আপনি যখন এটি উপলব্ধি করবেন এবং এই সত্যের সদ্ব্যবহার করবেন, তখন সবকিছুই নিখুঁত হয়ে উঠবে।

উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস (১৭ সেপ্টেম্বর,১৮৮৩ – ৪ মার্চ,১৯৬৩) ছিলেন একজন আমেরিকান কবি ও চিকিৎসক।

উদ্ধৃতি

[সম্পাদনা]
আমার কাছে এটি হলো প্রথমে সেই বিষয়টি উপলব্ধি করা, যাকে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
এই মুহূর্তে নিজের প্রতি আমার প্রধান অতৃপ্তি হলো আমি যা করতে চাই, তার মধ্যে নিজেকে যেভাবে বিলীন করে দেওয়া উচিত, তা আমি পারছি না।
অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। আমাদের কবিরা ভুল হতে পারেন; কিন্তু নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে দৃষ্টির প্রসার ঘটানো ছাড়া আমাদের আর কী-ই বা করার আছে? যেন বারবার ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে আমরা অতীতে যা হারিয়েছি, তা আরও ভালোভাবে শিখতে পারি।

সাধারণ উৎস

[সম্পাদনা]
  • একটি বিষয়ে আমি দিন দিন আরও নিশ্চিত হচ্ছি: প্রকৃত সুখী হওয়ার একমাত্র উপায় হলো অন্যকে সুখী করা। আপনি যখন এটি উপলব্ধি করবেন এবং এই সত্যের সদ্ব্যবহার করবেন, তখন সবকিছুই নিখুঁত হয়ে উঠবে।
    • জন সি. থার্লওয়াল সম্পাদিত *দ্য সিলেক্টেড লেটার্স অব উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস* (১৯৫৭), পৃষ্ঠা ৫। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে তার মাকে লেখা চিঠি (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯০৪)
  • সত্যি বলতে, আমি নিজেও কখনো পুরোপুরি অনুভব করি না যে আমি কী নিয়ে কথা বলছি। যদি অনুভব করতাম বা যখন করি, তখন লিখিত বিষয়টিকে আমার কাছে তুচ্ছ মনে হয়। তবে, আমি যা লিখি এবং যা টিকে থাকে, তা সবসময়ই সার্থক বলে আমার মনে হয়। আমার মনে হয়, আমি যা বুঝিয়েছি কিন্তু হয়তো পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারিনি, তার যতটা কাছাকাছি আমি পৌঁছাতে পেরেছি, অন্য কেউ তা পারেনি। আমার কাছে এটি হলো প্রথমে সেই বিষয়টি উপলব্ধি করা যাকে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি আরও অনেক কিছু বলতে পারতাম কিন্তু তাতে লাভ নেই। এক অর্থে আমাকে নিজেকে প্রকাশ করতে হবে, আপনি ঠিকই বলেছেন, তবে যদি এর কোনো অর্থ থাকে তবে তা সবসময়ই 'সম্পূর্ণরূপে অসম্পূর্ণ'।
    • জন সি. থার্লওয়াল সম্পাদিত *দ্য সিলেক্টেড লেটার্স অব উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস* (১৯৫৭), পৃষ্ঠা ২৬। হ্যারিয়েট মনরোকে লেখা (১৪ অক্টোবর ১৯১৩)
  • এটি জীবনের গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলে—বিক্ষিপ্ত কিন্তু সমগ্রের সাথে যুক্ত, ছিন্ন ভিন্ন কিন্তু একসাথে বোনা।
    • *দ্য নিউ ইয়র্ক হেরাল্ড ট্রিবিউনে* দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার কাজ সম্পর্কে (১৮ জানুয়ারি ১৯৩২)
  • কবির কাজ হলো কার্যকরভাবে ভাষা ব্যবহার করা তার নিজস্ব ভাষা, যা তার কাছে একমাত্র নির্ভরযোগ্য ভাষা।
    • লুই আনটারমেয়ার রচিত *মডার্ন আমেরিকান পোয়েট্রি* (১৯৫০)-তে উদ্ধৃত 'এ নোট অন পোয়েট্রি' (আনুমানিক ১৯৩৬) থেকে
  • গদ্যের চেয়ে কবিতার জন্য ভিন্ন উপাদানের প্রয়োজন হয়। এটি একই তথ্যের অন্য একটি দিক ব্যবহার করে... ভাষার স্বতঃস্ফূর্ত রূপ যেমনটা শোনা যায়।
    • জেমস লাফলিনকে দেওয়া 'ডিটেইল অ্যান্ড প্রসোডি ফর দ্য পোয়েম প্যাটারসন' (১৯৩৯), বর্তমানে হটন লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত
  • এই অদ্ভুত পৃথিবীটি মূলত হতাশায় ঘেরা।
    আমি মূলত লিখে যাই কারণ এটি আমাকে এমন এক তৃপ্তি দেয় যা অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। এটি সেই মুহূর্তগুলোকে পূর্ণ করে যা অন্যথায় ভয়াবহ বা বিষণ্ণ হতো। এমন নয় যে আমি ওভাবেই বাঁচি, কাজও আমাকে শান্ত রাখে। এই মুহূর্তে নিজের প্রতি আমার প্রধান অতৃপ্তি হলো আমি যা করতে চাই, তার মধ্যে নিজেকে যেভাবে বিলীন করে দেওয়া উচিত, তা আমি পারছি না।
    • জন সি. থার্লওয়াল সম্পাদিত *দ্য সিলেক্টেড লেটার্স অব উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস* (১৯৫৭), পৃষ্ঠা ২১৬। রবার্ট ম্যাকঅ্যালমনকে লেখা চিঠি (৮ আগস্ট ১৯৪৩)
  • আমরা কেন বাঁচি? আমাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই সেই জিনিসটি প্রয়োজন যা আমরা কখনো চাই না। আমরা বিপ্লব নিয়ে এমনভাবে কথা বলি যেন এটি তুচ্ছ কোনো বিষয়। আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো কিছু অকপট চিন্তা এবং নিজেদের অন্তরে কয়েকটি বিপ্লব। আমি যাদের চিনি সেই সব নরধমেরা গোল্লায় যাক এবং আমিও তাদের সাথে গোল্লায় যাই যদি না আমি নিজেকে সামলে নিতে পারি এবং প্রয়োজনে ঘুরে দাঁড়াতে পারি অথবা যদি এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য হয় তবে আরও সামনে এগোতে পারি।
    • জন সি. থার্লওয়াল সম্পাদিত *দ্য সিলেক্টেড লেটার্স অব উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস* (১৯৫৭), পৃষ্ঠা ২১৭। রবার্ট ম্যাকঅ্যালমনকে লেখা চিঠি (৪ সেপ্টেম্বর ১৯৪৩)
  • দার্শনিকরা আজ কবিদের পিছু ধাওয়া করছে, কারণ দর্শনের আজ বড়ই অভাব। অভিশাপ তাদের ওপর! আপনি হয়তো ভাবছেন কোনো দার্শনিক অনুমতি না দিলে কোনো মানুষের লেখালেখি করার বা কবি হওয়ার অধিকার নেই।
    • জন সি. থার্লওয়াল সম্পাদিত দ্য সিলেক্টেড লেটার্স অব উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস (১৯৫৭), পৃষ্ঠা ২১৯। জেমস লাফলিনকে লেখা চিঠি (১৪ জানুয়ারি ১৯৪৪)
  • প্রতিদিনের সাধারণ খবর, করুণ মৃত্যু বা প্রাত্যহিক জীবনের লাঞ্ছনা পড়ে কী লাভ? অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আমরা জানি যে যে পরিস্থিতিতে এগুলো ঘটার কথা ছিল, ঠিক সেভাবেই এগুলো ঘটেছে। এর মধ্যে কোনো আলো নেই। এটি কেবল তুচ্ছ শূন্যস্থান পূরণকারী তথ্য। আমরা জানি বিমান বিধ্বস্ত হবে, ট্রেন লাইনচ্যুত হবে। আমরা কেন তাও জানি। কেউ পাত্তা দেয় না, কেউ দিতেও পারে না। আমরা খবর পাই এবং তা অগ্রাহ্য করি, আর এটি করাই আমাদের জন্য সঠিক। এগুলো তুচ্ছ। কিন্তু কোনো নিভৃত রোগীর চোখে আমি যে তাড়িত খবর পাই, তা তুচ্ছ নয়। তা গভীর শেখার সমস্ত একাডেমি, সমস্ত ধর্মীয় অনুশাসন এর ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। তারা তাদের তথাকথিত হেত্বাভাস বা 'ডায়ালেকটিক' এর ওপর ভিত্তি করেই গড়ে তুলেছে। তাদের মিথ্যা ডায়ালেকটিক। ডায়ালেকটিক হলো যেকোনো একতরফা ব্যবস্থা। যেহেতু সব ব্যবস্থাই নিছক উদ্ভাবন, তাই প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটি একটি ভুল ধারণা বা প্রেক্ষাপট। এর ওপর ভিত্তি করে একটি বদ্ধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় যা যারা এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তাদের বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সব মানুষই কোনো না কোনোভাবে এক ধরনের ডায়ালেকটিকের মধ্যে আটকা পড়ে থাকে, তা সে আর্জেন্টিনা হোক বা জাপান। ফলে প্রতিটি দলই পঙ্গু হয়ে যায়। প্রত্যেকে একটি ডায়ালেকটিক মেঘের মধ্যে যোগাযোগহীন অবস্থায় বন্দি থাকে। এই কারণেই আমরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি এবং অত্যন্ত ভাসা ভাসা বিষয়ে গর্ববোধ করি।
    আমরা কি দেখতে পাচ্ছি না যে আমরা নিজেদের প্রকাশ করতে পারছি না? এটিই আমাদের পরাজিত করে।
    • দ্য অটোবায়োগ্রাফি অব উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস (১৯৫১), অধ্যায় ৫৪: "দ্য প্র্যাকটিস"
  • আমার প্রথম কবিতাটি ছিল আকস্মিক এক ঘটনা... এটি মোহভঙ্গ এবং আত্মঘাতী বিষণ্ণতার মন্ত্র ভেঙে দিয়েছিল। ... এটি আমাকে এক আত্মতৃপ্তিদায়ক আনন্দে পূর্ণ করেছিল।
    • দ্য অটোবায়োগ্রাফি অব উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস (১৯৫১) [ডাব্লিউ. ডাব্লিউ. নর্টন অ্যান্ড কোং, ১৯৬৭, আইএসবিএন 978-0811202268]
  • বাইরে অনেক বদমাশ আছে!
    • মন্তব্য (আনুমানিক ১৯৫৭), অ্যালেন গিন্সবার্গের "ডেথ নিউজ" কবিতার ভূমিকায় উদ্ধৃত: *১৯৫৭ সালের দিকে ডাব্লিউ.সি.ডাব্লিউের. সাথে দেখা করতে যান কবি কেরুয়াক, করসো ও অরলভস্কি। বসার ঘরের সোফায় বসে তারা কিছু বিজ্ঞ বাণী জানতে চাইলে, অসুস্থ উইলিয়ামস মেইন স্ট্রিটের জানালার পর্দার দিকে আঙুল তুলে বলেছিলেন: "বাইরে অনেক বদমাশ আছে!"*
  • আমি এটি পছন্দ করেছি কারণ এতে রচনার মূল অংশগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি একে ছোট করতে করতে একদম সংকুচিত করে এনেছি। একে আরও প্রাণবন্ত করতেই এভাবে চেপে ছোট করা হয়েছে।
    • জন সি. থার্লওয়ালের সংগ্রহে থাকা দ্য কালেক্টেড আর্লিয়ার পোয়েমস (আনুমানিক ১৯৫৮) বইটিতে "চিকরি অ্যান্ড ডেইজিস" (১৯১৫) কবিতার ওপর টিকা
  • আমি মনে করতাম আমার বন্ধুরা মহামূর্খ, কারণ তারা তাদের জীবন পরিচালনা করার এর চেয়ে ভালো কোনো পথ জানত না। তবুও তারা আমার চেয়ে কোনো না কোনো আদর্শ বা কোড আরও ভালোভাবে মেনে চলত। আমি নিজেও তা মানতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারিনি, তাই আমি আমার কবিতা লিখেছি।
    • জন সি. থার্লওয়ালের সংগ্রহে থাকা দ্য কালেক্টেড আর্লিয়ার পোয়েমস (আনুমানিক ১৯৫৮) বইটিতে টিকা
  • আজকাল কবিতার শিল্প রূপটি কিছুটা অস্থির; কিন্তু অন্তত কবিতার গঠনটি অর্থবহ হওয়া উচিত যেন আপনি জানেন আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন। অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। আমাদের কবিরা ভুল হতে পারেন। কিন্তু নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে দৃষ্টির প্রসার ঘটানো ছাড়া আমাদের আর কী-ই বা করার আছে? যেন বারবার ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে আমরা অতীতে যা হারিয়েছি তা আরও ভালোভাবে শিখতে পারি।
    • স্ট্যানলি কোহলারের সাথে সাক্ষাৎকার (এপ্রিল ১৯৬২), *দ্য প্যারিস রিভিউ: রাইটার্স অ্যাট ওয়ার্ক*, ৩য় সিরিজ, ভাইকিং পেঙ্গুইন, পৃষ্ঠা ২৯ আইএসবিএন 0-14-00-4542-2
  • একটি শিল্প মাধ্যম হওয়ায় কবিতা কোনো সীমাবদ্ধতা বা নির্দেশনামূলক নীতি ছাড়া "মুক্ত" হতে পারে না।
    • ফ্রি ভার্স। প্রিন্সটন এনসাইক্লোপিডিয়া অব পোয়েট্রি অ্যান্ড পোয়েটিক্স ২য় সংস্করণ (১৯৭৫)-এ উদ্ধৃত

ম্যারেজ (১৯১৬)

[সম্পাদনা]
  • কতই না আলাদা, এই পুরুষ
    আর এই নারী:
    এক প্রান্তরের বুক চিরে
    বয়ে চলা জলধারা।
    • পোয়েট্রি (শিকাগো, ১৯১৬)

এটি এক অদ্ভুত সাহস
যা তুমি আমাকে দাও, হে প্রাচীন তারা:

সূর্যোদয়ের আলোয় একাকী জ্বলে ওঠো
যাতে তোমার কোনো অবদান নেই!

উইকিসোর্সে পূর্ণাঙ্গ টেক্সট

স্বপ্নই আমাদের ধ্বংস করেছে।

ঘোড়া বা লাগাম ধরার মাঝে
এখন আর কোনো গর্ব নেই।

  • তোমার ফুলগুলো তুলে ধরো
    তিতকুটে ডাঁটার ডগায়
    হে চিকরি!

    দগ্ধ মাটি থেকে
    তাদের উপরে তুলে ধরো!
    কোনো পল্লব ধারণ করো না
    বরং নিজেকে উজার করে দাও
    কেবল ওটাতেই!
    তোমাদের নিচ থেকে টান ধরুক
    হে তিতকুটে ডাঁটা
    যা কোনো পশু খায় না—
    আর ধূসরতাকে তুচ্ছ করো!
    • "চিকরি অ্যান্ড ডেইজিস"
  • পৃথিবী ফেটে চৌচির আর
    কুঁচকে যায়;
    বাতাস করুণ স্বরে বিলাপ করে;
    তুমি যদি ব্যর্থ হও
    তবে আকাশও নিভে যাবে।
    • "চিকরি অ্যান্ড ডেইজিস"
  • আজ আমি কেন লিখি?

    আমাদের গুরুত্বহীন মানুষদের
    সেই ভয়াবহ মুখগুলোর সৌন্দর্য
    আমাকে লিখতে বাধ্য করে
    :

    কর্মজীবী কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা—
    বৃদ্ধ ও অভিজ্ঞ
    গোধূলিলগ্নে বাড়ি ফিরছে,
    ত্যাজ্য পোশাকে ঢাকা
    মুখগুলো যেন
    পুরনো ফ্লোরেনটাইন ওক কাঠ।

  • তোমাদের মুখের সেই কৃত্রিম ভঙ্গি
    আমাকে নাড়া দেয়
    হে বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ
    তবে
    একইভাবে নয়।
    • "অ্যাপোলজি"
  • আমি এখানে শুয়ে তোমার কথা ভাবছি:—

    প্রেমের দাগ
    সারা বিশ্বে লেগে আছে!

    • "লাভ সং"
  • এটি এক অদ্ভুত সাহস
    যা তুমি আমাকে দাও, হে প্রাচীন তারা:

    সূর্যোদয়ের আলোয় একাকী জ্বলে ওঠো
    যাতে তোমার কোনো অবদান নেই!

    • "এল হোমব্রে"
  • ভাই!
    — আমরা যদি ধনী হতাম
    তবে বুক চিতিয়ে
    মাথা উঁচু করে চলতাম!

    স্বপ্নই আমাদের ধ্বংস করেছে।

    ঘোড়া বা লাগাম ধরার মাঝে
    এখন আর কোনো গর্ব নেই।

    আমরা কুঁজো হয়ে বসে
    নিজেদের ভাগ্য নিয়ে ভাবি।

    যাই হোক—
    সব কিছুই শেষ পর্যন্ত তিক্ত হয়ে যায়
    আপনি ডানে যান বা
    বামে
        এবং—
    স্বপ্ন দেখা খুব খারাপ কিছু নয়।

    • "লিবেরতাদ! ইগুয়ালিদাদ! ফ্রাতেরনিদাদ!"
  • কে বলবে যে আমি
    আমার গৃহের এক সুখী প্রতিভা নই?
    • "দানস রুস"
দেখতে প্রাণহীন, মন্থর
বিভ্রান্ত বসন্ত এগিয়ে আসে—
তারা নগ্ন হয়ে নতুন পৃথিবীতে প্রবেশ করে,
শীতল ও অনিশ্চিত সবকিছু নিয়ে
কেবল এইটুকু নিশ্চিত যে তারা প্রবেশ করছে। তাদের চারপাশে
সেই পরিচিত হিমেল হাওয়া...
তবুও, সেই গভীর পরিবর্তন
তাদের ওপর এসেছে: শিকড় গেড়ে
তারা শক্ত হয়ে বসে এবং জাগতে শুরু করে।
  • অনেক কিছুই নির্ভর করে
    একটি

    লাল চাকাওয়ালা
    ঠেলার গাড়ির ওপর

    যা বৃষ্টির জলে
    চকচক করছে

    সাদা মুরগিগুলোর
    পাশে

    • "দ্য রেড হুইলব্যারো"
  • সংক্রামক হাসপাতালের রাস্তার ধারে
    উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আসা
    নীল ছোপানো মেঘের ভিড়ের নিচে—
    এক হিমেল হাওয়া।
    • "স্প্রিং অ্যান্ড অল"
  • দেখতে প্রাণহীন, মন্থর
    বিভ্রান্ত বসন্ত এগিয়ে আসে—
    তারা নগ্ন হয়ে নতুন পৃথিবীতে প্রবেশ করে,
    শীতল ও অনিশ্চিত সবকিছু নিয়ে
    কেবল এইটুকু নিশ্চিত যে তারা প্রবেশ করছে।
    তাদের চারপাশে
    সেই পরিচিত হিমেল হাওয়া—

    এখন ঘাস, কাল হবে
    বুনো গাজর পাতার শক্ত কুঞ্চন—
    একে একে সব বস্তু স্পষ্ট হয়ে ওঠে—
    এটি প্রাণ পায়: স্পষ্টতা, পাতার রূপরেখা।

    কিন্তু এখন প্রবেশের সেই কঠোর গাম্ভীর্য— তবুও সেই গভীর পরিবর্তন
    তাদের ওপর এসেছে: শিকড় গেড়ে
    তারা শক্ত হয়ে বসে এবং জাগতে শুরু করে।

    • "স্প্রিং অ্যান্ড অল"
  • আমেরিকার বিশুদ্ধ পণ্যগুলো
    পাগল হয়ে যায়—
    • "টু এলসি"
  • বৃষ্টি আর
    আলোর মাঝে
    আমি সোনালি রঙের
    ৫ সংখ্যাটি দেখলাম
    একটি লাল
    দমকলের গাড়ির ওপর
    যা ছুটছে
    টানটান উত্তেজনায়
    অবহেলিতভাবে
    ঘণ্টার শব্দে
    সাইরেনের আর্তনাদে
    আর অন্ধকার শহরের বুক চিরে
    চাকার ঘড়ঘড়ানিতে।
    • "দ্য গ্রেট ফিগার"
  • বার্ধক্য হলো
    ছোট কিচিরমিচির করা
    পাখির এক ঝাঁক উড্ডয়ন
    যা বরফ ঢাকা মাঠের ওপর
    ন্যাড়া গাছগুলোকে
    ছুঁয়ে যায়।
    জয় আর পরাজয়ের মাঝে
    তারা অন্ধকার বাতাসে
    বাধা পায়—
    কিন্তু তাতে কী?
    রুক্ষ আগাছার ডাঁটায়
    পাখির ঝাঁকটি বিশ্রাম নিয়েছে—
    বরফ আজ
    ঢাকা পড়েছে
    ভাঙা বীজের
    খোসায়
    আর বাতাসের তীব্রতা কমেছে
    প্রাচুর্যের এক সুতীক্ষ্ণ
    বাঁশির সুরে।
    • "টু অ্যাওয়েকেন অ্যান ওল্ড লেডি"। মূলত দ্য ডায়ালে প্রকাশিত (আগস্ট ১৯২০)

কালেক্টেড পোয়েমস ১৯২১-১৯৩১ (১৯৩৪)

[সম্পাদনা]
আমায় ক্ষমা করো
ওগুলো খুব সুস্বাদু ছিল
অনেক মিষ্টি
আর অনেক ঠাণ্ডা
  • আমি সেই
    আলুবোখারাগুলো
    খেয়ে ফেলেছি
    যা আইসবক্সে ছিল

    এবং যা
    সম্ভবত আপনি
    সকালের নাস্তার জন্য
    জমিয়ে রেখেছিলেন

    আমায় ক্ষমা করো
    ওগুলো খুব সুস্বাদু ছিল
    অনেক মিষ্টি
    আর অনেক ঠাণ্ডা

    • "দিস ইজ জাস্ট টু সে"
  • সে মানুষটির ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে
    আর সে মানুষটিকে
    যেতে দিয়েছে—
সেই মিথ্যাবাদী
মৃত
তার চোখ জোড়া
আলো থেকে উপরে উল্টে গেছে— এক উপহাস
যাকে

ভালোবাসা স্পর্শ করতে পারে না—

কেবল একে মাটি চাপা দাও
আর লজ্জায় মুখ লুকিয়ে রাখো।

    • "ডেথ"
  • উচ্চ মানসিকতা সম্পন্ন
    এবং নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা তোমার বিষয়টি পর্যালোচনা করেছেন (অভিশাপ তাদের ওপর!)—
    তারা হলেন একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি,
    একটি নামকরা কারিগরি স্কুলের সভাপতি এবং এক বিচারক যিনি বেঞ্চে বসার জন্য বড্ড বুড়ো। এরা এমন মানুষ যারা শিক্ষাদান এবং যথেচ্ছ আইন প্রয়োগের জন্য আগে থেকেই পুরস্কৃত। সহজ কথায়—
    ঐতিহ্যের দালালের দল—
    • "ইমপ্রম্পটু: দ্য সাকারস"
  • এটাই তোমার প্রাপ্য। তোমার কাছে টাকা আছে,
    তোমার কিসের চিন্তা? তোমার
    হারানোর কিছু নেই। তোমরা এক মহান
    ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। আমার দেশ ঠিক হোক বা ভুল!
    তোমাকে যা করতে বলা হয় তুমি তাই করো।
    তুমি টমি জেফ, বেন ফ্রাঙ্ক বা জর্জি ওয়াশিং-এর মতো
    মুখে মুখে উত্তর দাও না। আমি তো বলবই
    তোমরা দাও না। তোমরা সভ্য। তোমরা
    তোমাদের ওপরওয়ালাদের কথা মেনে নাও।
    চালিয়ে যাও—
    • "ইমপ্রম্পটু: দ্য সাকারস"
সবুজ শক্ত পুরনো উজ্জ্বল ভাঙা ডালপালার মাঝে আবার ফিরে এলো সাদা মিষ্টি মে মাস
  • মাঝে
    এর
    সবুজ

    শক্ত
    পুরনো
    উজ্জ্বল

    ভাঙা
    ডাল
    এলো

    সাদা
    মিষ্টি
    মে

    আবারও

    • "দ্য লোকাস্ট ট্রি ইন ফ্লাওয়ার"

কমপ্লিট কালেক্টেড পোয়েমস (১৯৩৮)

[সম্পাদনা]
  • এই সেই

    নির্জন অন্ধকার সপ্তাহগুলো
    যখন প্রকৃতির এই রিক্ততা
    মানুষের বোকামির সমান হয়ে দাঁড়ায়।

    বছরটি রাত্রির অন্ধকারে তলিয়ে যায়
    আর হৃদয় তলিয়ে যায়
    রাত্রির চেয়েও গভীরে

    • "দিস"

দ্য ওয়েজ (১৯৪৪)

[সম্পাদনা]
আজকের বিশ্বে যুদ্ধই প্রথম এবং একমাত্র বিষয়।
গদ্য জাহাজের মতো অস্পষ্ট বিষয়ের বোঝা বহন করতে পারে। কিন্তু কবিতা হলো সেই ইঞ্জিন যা একে চালায়, একে ছেঁটে একদম নিখুঁত করে তোলা হয়েছে।
সাক্সিফ্রেজ হলো আমার সেই ফুল যা পাথর চিরে বেরিয়ে আসে।
  • আজকের বিশ্বে যুদ্ধই প্রথম এবং একমাত্র বিষয়।
    সাধারণভাবে শিল্পকলা কোনো মুখ্য বিষয় নয়, আর এই লেখালেখিও যুদ্ধ থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো মাধ্যম নয়। এটি যুদ্ধ বা এরই একটি অংশ, রণক্ষেত্রের ভিন্ন একটি ক্ষেত্র মাত্র।
  • কে আজ হতাশ নয় এবং নিজের কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করে না যদি আপনি বলতে চান? কিন্তু শিল্পের মাধ্যমে মানসিকভাবে পঙ্গু একজন মানুষও তার সময়ের সবচেয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ সিগমুন্ড ফ্রয়েডের কথা ধরুন।
    • ভূমিকা
  • একজন মানুষ কোনো স্থির পাথরখণ্ড নয় যে সবসময় এক জায়গায় থাকবে, যদিও মনোবিজ্ঞানীরা তার সাথে তেমন আচরণই করেন—এবং বেশিরভাগ মানুষই তা বিশ্বাস করার মাঝে এক ধরনের উন্মাদনাপূর্ণ গর্ববোধ করে। একঘেয়েমি! সে বদলে যায়। আজ হ্যামলেট তো কাল সিজার। এখানে, সেখানে, কোথাও না কোথাও—যদি সে তার মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে চায়, আর সমস্যাই বা কোথায়?
    সমাজের সাথে শিল্পের সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল। কবি কোনো অপরিবর্তনীয় ঘটনা নন, এমনকি তার কাজও নয়।
    • ভূমিকা
  • একটি যন্ত্রের মধ্যে আবেগপ্রবণ কিছু নেই; এবং: একটি কবিতা হলো শব্দের তৈরি ছোট (বা বড়) একটি যন্ত্র।
    • ভূমিকা
  • গদ্য জাহাজের মতো অস্পষ্ট বিষয়ের বোঝা বহন করতে পারে। কিন্তু কবিতা হলো সেই ইঞ্জিন যা একে চালায়, একে ছেঁটে একদম নিখুঁত করে তোলা হয়েছে।
    • ভূমিকা
  • প্রতিটি ভাষার নিজস্ব চরিত্র রয়েছে। এর মাধ্যমে তৈরি কবিতা তার অন্তর্নিহিত গঠন বা সেই ভাষার নিজস্ব রূপ ধারণ করবে। এর ফল হলো সৌন্দর্য, যা কোনো একটি জিনিসের মধ্যে আমাদের ভালোমন্দের জটিল অনুভূতিগুলো মীমাংসা করে দেয়।
    • ভূমিকা
  • একজন মানুষ যখন কবিতা তৈরি করেন, মনে রাখবেন 'তৈরি করেন', তিনি তার চারপাশের শব্দগুলোকে বেছে নেন এবং কোনো বিকৃতি ছাড়াই সেগুলোকে সাজান। এর ফলে তার উপলব্ধি ও আবেগের এক তীব্র বহিঃপ্রকাশ ঘটে যা তার ব্যবহৃত ভাষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। শিল্প হিসেবে তিনি কী 'বলছেন' তা বড় কথা নয়, বরং তিনি কী 'তৈরি করছেন' সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এর উপলব্ধির তীব্রতা এত বেশি যে এটি তার নিজস্ব গতির মাধ্যমে তার সত্যতা প্রমাণ করে।
    • ভূমিকা
  • আঙ্গিকগত উদ্ভাবন ছাড়া কোনো কালজয়ী কবিতা সম্ভব নয়। কারণ শিল্পের এই নিবিড় রূপের মাধ্যমেই তা সঠিক অর্থ খুঁজে পায়। এদিক থেকেই এটি যন্ত্রের সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। এটি ভাষাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয় এবং যে পরিবেশে এর জন্ম সেখানে আলো ছড়ায়। শিল্প যে যুদ্ধ নিয়ে বেঁচে থাকে এবং নিঃশ্বাস নেয়, তা অবিরাম।
    হতে পারে আমার এখানে প্রকাশ করা আগ্রহগুলো শিল্পের আগের পর্যায়ের। যদি তাই হয়, তবে আমি এই পথেই উন্নয়ন খুঁজছি এবং অন্য কিছুতে আমি সন্তুষ্ট হব না।
    • ভূমিকা
  • সাপটিকে তার আগাছার নিচে
    অপেক্ষা করতে দাও
    আর লেখাগুলো হোক
    শব্দের—মন্থর ও দ্রুত, তীক্ষ্ণ
    আঘাত হানতে পটু, অপেক্ষায় শান্ত,
    নির্ঘুম।

    — রূপকের মাধ্যমে মানুষ
    আর পাথরের মধ্যে মিলন ঘটাও।
    রচনা করো। (জিনিসের মধ্যেই
    ধারণা নিহিত থাকে) উদ্ভাবন করো!
    সাক্সিফ্রেজ হলো আমার সেই ফুল যা পাথর
    চিরে বেরিয়ে আসে।
    • "এ সর্ট অব এ সং"

কালেক্টেড লেটার পোয়েমস (১৯৫০)

[সম্পাদনা]
ভালোবাসা নিজেই একটি ফুল
যার শিকড় থাকে দগ্ধ মাটিতে।
  • এখন নয়। ভালোবাসা নিজেই একটি ফুল
    যার শিকড় থাকে দগ্ধ মাটিতে।

    শূন্য পকেট মানে শূন্য মগজ।
    পারলে এর চিকিৎসা করো কিন্তু
    বিশ্বাস করো না যে আমরা আজ
    গ্রামে থাকতে পারব, কারণ গ্রাম
    আমাদের কোনো শান্তি
        দেবে না।
    • "র‍্যালে ওয়াজ রাইট" (১৯৪০)
রেনে চার
তুমি এমন এক কবি যে বিশ্বাস করো
সৌন্দর্যের শক্তিতে
যা সব ভুল শুধরে দিতে পারে।
আমিও তা বিশ্বাস করি।
  • আমি রেনে চারের
    কবিতার কথা ভাবি
    এবং তিনি যা কিছু দেখেছেন
    ও সহ্য করেছেন তার কথা ভাবি। এই অভিজ্ঞতাই তাকে বাধ্য করেছে
    কেবল শেওলাধরা নদী,
    ড্যাফোডিল আর টিউলিপের কথা বলতে
    যাদের শিকড়ে পানি জমে আছে।
    এমনকি সেই প্রবহমান নদীর কথা যা
    সেই মিষ্টি সুগন্ধি ফুলের শিকড় ধুয়ে দেয়
    যা ছায়াপথকে
    সমৃদ্ধ করে।
    • "টু এ ডগ ইনজার্ড ইন দ্য স্ট্রিট"
  • রাস্তার পাশে মরণাপন্ন এক কুকুরের আর্তনাদ
    আমাকে যতটুকু সম্ভব ভুলিয়ে দিতে হবে।
    রেনে চার,
    তুমি এমন এক কবি যে বিশ্বাস করো
    সৌন্দর্যের শক্তিতে
    যা সব ভুল শুধরে দিতে পারে।
    আমিও তা বিশ্বাস করি।
    উদ্ভাবন আর সাহসের মাধ্যমে
    আমরা সেই সব অসহায় নির্বাক প্রাণীদের ছাড়িয়ে যাব।
    সব মানুষ যেন এটি বিশ্বাস করে,
    যেমনটা তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে
    শিখিয়েছ।
    • "টু এ ডগ ইনজার্ড ইন দ্য স্ট্রিট"

অ্যাসফোডেল, দ্যাট গ্রিনি ফ্লাওয়ার

[সম্পাদনা]
আমরা দীর্ঘ সময় একসাথে ছিলাম,
একটি জীবন পূর্ণ ছিল,
আপনি যদি চান তবে বলতে পারেন,
ফুলে ফুলে।
এমন কিছু আছে
জরুরি কিছু
যা আমাকে কেবল তোমাকেই
বলতে হবে।
কিন্তু তাকে অপেক্ষা করতে দাও
ততক্ষণ আমি তোমার আগমনের
আনন্দ উপভোগ করি,
হয়তো শেষবারের মতো।
  • অ্যাসফোডেল, সেই সবুজ ফুলটি,
হলুদ বাটারকাপের মতো
এর ডালপালার ওপর—
কেবল ওটি সবুজ আর কাঠের মতো—
আমি আসছি, প্রিয়তমা,
তোমার জন্য গান গাইতে।
আমরা দীর্ঘ সময় একসাথে ছিলাম,
একটি জীবন পূর্ণ ছিল,
আপনি যদি চান তবে বলতে পারেন,
ফুলে ফুলে। তাই
আমি আনন্দিত হয়েছিলাম
যখন প্রথম জানতে পারলাম
যে নরকেও
ফুল আছে।
আজ
আমি সেই সব ফুলের ফিকে হয়ে আসা স্মৃতিতে আচ্ছন্ন
যা আমরা দুজনেই ভালোবাসতাম,
এমনকি এই তুচ্ছ
বর্ণহীন ফুলটিও—
আমি এটি দেখেছিলাম
যখন আমি শিশু ছিলাম—
জীবিতদের কাছে যার তেমন কোনো কদর নেই
কিন্তু মৃতরা দেখে,
নিজেদের মধ্যে প্রশ্ন করে:
আমার কী মনে পড়ছে
যার গঠন
ঠিক এটার মতো?
যখন আমাদের চোখ
অশ্রুতে ভিজে যায়।
ভালোবাসা, চিরস্থায়ী ভালোবাসার কথা
এটি বলবে
যদিও লাল রঙের বড়ই অভাব
এতে লেগে আছে
একে পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য করতে।
এমন কিছু আছে
জরুরি কিছু
যা আমাকে কেবল তোমাকেই
বলতে হবে
কিন্তু তাকে অপেক্ষা করতে দাও
ততক্ষণ আমি তোমার আগমনের
আনন্দ উপভোগ করি,
হয়তো শেষবারের মতো।
আর তাই
হৃদয়ে ভয় নিয়ে
আমি কথা চালিয়ে যাচ্ছি
একনাগাড়ে বলে যাচ্ছি
কারণ আমি থামতে সাহস পাচ্ছি না।
অফুরন্ত সম্পদ,
আমি ভেবেছিলাম,
আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
  • কেবল আমাকে সময় দাও,
কথা বলার আগে
সব মনে করার সময় দাও।
আমাকে সময় দাও,
সময়।
আমি যখন ছোট ছিলাম
আমি একটি বই রাখতাম
যেখানে মাঝে মাঝে
আমি শুকনো ফুল রাখতাম
যতক্ষণ না অনেকদিন পর
আমার কাছে একটি বড় সংগ্রহ হলো।
অ্যাসফোডেল ফুলটিও,
পূর্বাভাস হিসেবেই,
তাদের মধ্যে ছিল।
আমি তোমার কাছে নিয়ে এসেছি,
নতুন করে জাগিয়ে তোলা,
সেই সব ফুলের স্মৃতি।
সেগুলো অনেক মিষ্টি ছিল
যখন আমি তাদের বইয়ে চেপে রাখতাম
এবং দীর্ঘ সময় ধরে
তারা তাদের সুবাস ধরে রেখেছিল।
এটি এক অদ্ভুত গন্ধ,
এক নৈতিক গন্ধ,
যা আমাকে তোমার
কাছে নিয়ে আসে।
পুরো পৃথিবী
আমার বাগান হয়ে উঠল!
কিন্তু সমুদ্র
যার কেউ যত্ন নেয় না
সেটিও একটি বাগান
যখন সূর্যের আলো তার ওপর পড়ে
আর ঢেউগুলো
জেগে ওঠে।
আমি তা দেখেছি
আর তুমিও দেখেছ
যখন এটি সব ফুলের
সৌন্দর্যকে মলিন করে দেয়।
  • অফুরন্ত সম্পদ,
আমি ভেবেছিলাম,
আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
আপেল ফুলের মাঝে
হাজারো গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশ।
এই উদার পৃথিবী নিজেই
আমাদের অনুমতি দিয়েছে।
পুরো পৃথিবী
আমার বাগান হয়ে উঠল!
কিন্তু সমুদ্র
যার কেউ যত্ন নেয় না
সেটিও একটি বাগান
যখন সূর্যের আলো তার ওপর পড়ে
আর ঢেউগুলো
জেগে ওঠে।
আমি তা দেখেছি
আর তুমিও দেখেছ
যখন এটি সব ফুলের
সৌন্দর্যকে মলিন করে দেয়।
ঝড় দানা বাঁধছে।
এটি এমন একটি ফুল
যা শীঘ্রই তার প্রস্ফুটনের
চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছাবে।
  • আমি বলতে পারি না
যে তোমার ভালোবাসার জন্য
আমি নরকে গেছি
কিন্তু প্রায়ই
তোমার পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে
নিজেকে সেখানে আবিষ্কার করেছি।
আমি এটি পছন্দ করি না
এবং স্বর্গে থাকতে চেয়েছিলাম।
আমার কথা শোনো।
মুখ ফিরিয়ে নিও না।
আমি আমার জীবনে অনেক কিছু শিখেছি
বই থেকে
আর বইয়ের বাইরে থেকেও
ভালোবাসা সম্পর্কে।
মৃত্যুই
এর শেষ নয়।
ঝড় আছড়ে পড়ছে
অথবা মিলিয়ে যাচ্ছে! এটি
বিশ্বের শেষ নয়।
  • ঝড় দানা বাঁধছে।
বিদ্যুৎ
মেঘের কিনারা দিয়ে খেলা করছে।
উত্তরের আকাশটি
শান্ত,
গোধূলির আলোয় নীল হয়ে আছে
ঝড় ঘনীভূত হওয়ার সাথে সাথে।
এটি এমন একটি ফুল
যা শীঘ্রই তার প্রস্ফুটনের
চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছাবে।
ভালোবাসা অন্য কিছু...
  • যখন আমি ফুলের কথা
বলি
তখন আসলে মনে করার চেষ্টা করি
যে এক সময়
আমরা তরুণ ছিলাম।
সব নারী হেলেন নয়,
আমি জানি তা,
কিন্তু তাদের হৃদয়ে হেলেন থাকে।
প্রিয়তমা,
তোমার হৃদয়েও তা আছে, আর সেই কারণেই
আমি তোমাকে ভালোবাসি
আর অন্যভাবে তোমাকে ভালোবাসা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
এটি ছিল ভালোবাসার প্রতি ভালোবাসা,
সেই ভালোবাসা যা অন্য সবকিছুকে গ্রাস করে... এমন এক ভালোবাসা যা
নম্রতা ও উদারতা তৈরি করে
যা আমাকে আলোড়িত করেছিল
এবং যা আমি তোমার মধ্যে দেখেছি।
আমার হৃদয় জেগে ওঠে
তোমার কাছে এমন কিছুর খবর নিয়ে আসার কথা ভেবে
যা তোমার সাথে সম্পর্কিত
এবং অনেক মানুষের সাথে সম্পর্কিত...
  • ঝড় আছড়ে পড়ছে
অথবা মিলিয়ে যাচ্ছে! এটি
বিশ্বের শেষ নয়।
ভালোবাসা অন্য কিছু,
অথবা আমি তেমনটিই ভেবেছিলাম,
একটি বাগান যা বিস্তৃত হয়,
যদিও আমি তোমাকে একজন নারী হিসেবেই চিনতাম
এবং অন্য কিছু ভাবিনি,
যতক্ষণ না পুরো সমুদ্র
আর তার বাগানগুলোকে
এর ভেতরে নিয়ে নেওয়া হয়।
এটি ছিল ভালোবাসার প্রতি ভালোবাসা,
সেই ভালোবাসা যা অন্য সবকিছুকে গ্রাস করে,
এক কৃতজ্ঞ ভালোবাসা,
প্রকৃতির প্রতি, মানুষের প্রতি,
প্রাণীদের প্রতি,
এমন এক ভালোবাসা যা তৈরি করে
নম্রতা ও উদারতা
যা আমাকে আলোড়িত করেছিল
এবং যা আমি তোমার মধ্যে দেখেছি।
দেখুন
কোন জিনিসটি নতুন বলে চালানো হচ্ছে।
আপনি সেখানে তা পাবেন না, বরং পাবেন
অবহেলিত কবিতার মাঝে।
  • আমি আসছি, প্রিয়তমা,
তোমার জন্য গান গাইতে!
আমার হৃদয় জেগে ওঠে
তোমাকে এমন কিছুর খবর দেওয়ার কথা ভেবে
যা তোমার সাথে সম্পর্কিত
এবং অনেক মানুষের সাথে সম্পর্কিত। দেখুন
কোন জিনিসটি নতুন বলে চালানো হচ্ছে।
আপনি সেখানে তা পাবেন না, বরং পাবেন
অবহেলিত কবিতার মাঝে।
  •     কবিতা থেকে খবর পাওয়া
কঠিন ঠিকই
তবুও প্রতিদিন মানুষ শোচনীয়ভাবে মরছে
কবিতার মাঝে যা পাওয়া যায়
তার অভাবে।

উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস সম্পর্কিত উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আমেরিকানদের কাছে নেটিভ আমেরিকান সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। একে কেবল আমেরিকান অতীতের কোনো প্রত্নবস্তু বা কিউরিও হিসেবে দেখা ঠিক নয় যার বর্তমান বা ভবিষ্যতের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটি একটি প্রধান ঐতিহ্য যা কটন ম্যাথার ও নাথানিয়েল হথর্ন থেকে শুরু করে ওয়াল্ট হুইটম্যান, উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস ও উইলিয়াম ফকনার হয়ে অ্যাড্রিয়েন রিচ, টনি কেড বামবারা এবং জুডি গ্রান পর্যন্ত সকল লেখককে পথ দেখায়।
    • পলা গান অ্যালেন, দ্য স্যাক্রেড হুপ: রিকভারিং দ্য ফেমিনাইন ইন আমেরিকান ইন্ডিয়ান ট্র্যাডিশনস (১৯৮৬)
  • লেখালেখিও একটি সম্মানজনক পেশা। যারা আগে এই পেশায় ছিলেন, তারা একে সম্মানিত করেছেন। আপনি পছন্দ করুন বা না করুন, প্রতিবার কলম হাতে নেওয়ার সময় আপনাকে সেই একই শূন্য কাগজের মুখোমুখি হতে হয়। যা মিল্টন,মেলভিল, এমিলি ব্রন্টি,দস্তয়েভস্কি,জর্জ এলিয়ট,জর্জ অরওয়েল,উইলিয়াম ফকনার,ভার্জিনিয়া উলফ, উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস এবং আধুনিক নায়ক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের সামনেও ছিল।
    • মার্গারেট অ্যাটউড, "অ্যান এন্ড টু অডিয়েন্স?" (১৯৮০), সেকেন্ড ওয়ার্ডস: সিলেক্টেড ক্রিটিক্যাল প্রোজে,সংকলিত।
  • উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস তার একটি কবিতায় লিখেছেন যে "ধ্বংস এবং সৃষ্টি সমসাময়িক।" পিকাসোও অনেকটা একই কথা বলেছিলেন। উইলিয়ামসের কাছে এটি ছিল আধুনিক ধারাকে বা অ্যাভান্ট-গার্ডকে পৌরাণিক রূপ দেওয়ার একটি পথ। আপনার সৃজন করতে হলে ধ্বংস করতে হবে।
    • টনি বার্নস্টোন, কনভারসেশনস উইথ ভারতী মুখার্জি, ব্র্যাডলি সি. এডওয়ার্ডস সম্পাদিত (২০০৯)
  • আমার শুরুর দিকের পরিচয় ও প্রেমের কবিতাগুলো এজরা পাউন্ড এবং উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামসের চিত্রকল্পবাদ বা ইমেজবাদ দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
    • মেরিলিন চিন, এ পোর্ট্রেট অফ দ্য সেলফ অ্যাজ নেশন: নিউ অ্যান্ড সিলেক্টেড পোয়েমসের ভূমিকা (২০১৮)
  • যখন আমি ভার্জিনিয়া উলফের 'অরল্যান্ডো' বা উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামসের 'ইন দ্য আমেরিকান গ্রেইন' পড়ি, তখন আমার মনে হয় আমি যেন জীবন ও কাজের মাঝে আটকে গেছি বা মরে যাচ্ছি। এই বইগুলো পড়ার পর আমি আবারও গতি ফিরে পাই। আমি অন্যদের জন্য এই কাজটি করতে পারি বলে ভালো লাগে।
    • ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত কনভারসেশনস উইথ ম্যাক্সিন হং কিংস্টনে সংকলিত ১৯৮৯ সালের সাক্ষাৎকার
  • যখন আমি উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামসের 'ইন দ্য আমেরিকান গ্রেইন' পড়ছিলাম, তখন মনে হলো আমেরিকা সম্পর্কে এভাবেই লেখা উচিত। এটিই সঠিক ও পৌরাণিক ইতিহাস। আমি নিশ্চিত ছিলাম এর দ্বিতীয় খণ্ড বের হবে। তাই লাইব্রেরিতে প্রথম খণ্ডটি ফেরত দিয়ে দ্বিতীয় খণ্ডটি খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু এর কোনো দ্বিতীয় খণ্ড নেই! তখনই আমি ভাবলাম আমাকেই এর দ্বিতীয় খণ্ডটি লিখতে হবে। তিনি যেহেতু করেননি, তাই আমাকেই তা করতে হবে। এভাবেই 'চায়না মেন' সৃষ্টি হলো। তারা রেলপথের স্টিলের বন্ধন দিয়ে এই দেশটিকে একসাথে বেঁধে রেখেছে। প্রথম দুটি বই শেষ করার পর আমি আমার ভেতরে আরও এক ধরনের চলতি ও সমসাময়িক আমেরিকান ভাষা খুঁজে পেলাম। আরেকটি অপূর্ণতা ছিল বিটনিকদের চলে যাওয়ার সময়কার বই পড়তে পারা। তারাই আমাদের ঠিক আগের প্রজন্মের পথপ্রদর্শক।
    • ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত কনভারসেশনস উইথ ম্যাক্সিন হং কিংস্টনে সংকলিত ১৯৮৯ সালের সাক্ষাৎকার
  • ১৯২০ দশকে তিনি দুই আমেরিকার উপযুক্ত একটি বইয়ের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি বিশাল আমেরিকান উপন্যাসের কথা ভাবছিলেন। উইলিয়ামস চেয়েছিলেন বইটি যেন এই দুই মহাদেশের বিশাল প্রেক্ষাপট থেকে কথা বলে।
    • ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত কনভারসেশনস উইথ ম্যাক্সিন হং কিংস্টনে সংকলিত ১৯৯৩ সালের সাক্ষাৎকার
  • লজ্জিত হওয়ার বা ঝুঁকি নেওয়ার ভয়, বোকা সাজার ভয় কিংবা অন্য কারো মতো না লিখে নিজের মতো করে লেখার ভয় সবই মানুষের থাকে। তবে কিছু মানুষ বিশ বছর ধরে নিজের মতে অটল থাকেন। উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস তার আত্মজীবনীতে বলেছিলেন, "মনে হচ্ছে টি. এস. এলিয়ট 'দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড' দিয়ে সফল হয়েছেন এবং সাহিত্যের মোড় সেদিকেই ঘুরছে। এখন আমি জানি যে আমার কথা শোনার জন্য আমাকে আরও বিশ বছর অপেক্ষা করতে হবে।" তিনি তাই করেছিলেন। তিনি যা সঠিক মনে করতেন তাই করে গেছেন এবং আমেরিকান ভাষার নিজস্ব ধারণায় অটল থেকে একটি শক্তিশালী প্রভাব তৈরি করেছেন। কিন্তু অন্য অনেকেই ভেবেছিল ওটাই সঠিক পথ এবং তারা নিজেদের শিকড় কেটে সেদিকেই ছুটে গিয়েছিল।
    • ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত কনভারসেশনস উইথ গ্রেস পেলিয়ে সংকলিত ১৯৭৯ সালের সাক্ষাৎকার
  • বিংশ শতাব্দীর বিপ্লবী কাব্যতত্ত্বের ঐতিহ্য সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। বড়দের মধ্যে উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস সমসাময়িক আমেরিকার সাধারণ শহর, সাধারণ দরিদ্র ও কর্মজীবী মানুষ এবং দৈনন্দিন ভাষার সহজ ও ছন্দময় শৈলীতে লিখেছেন। যদিও শুরুতে উইলিয়ামসের কবিতা আমাকে মোহিত করেনি, পরবর্তীতে প্রথাগত ছন্দ থেকে বেরিয়ে আসতে আমি তার বাক্যগঠন ও পঙ্ক্তি ভাঙার পদ্ধতিগুলো নিয়ে কাজ করেছি।
    • অ্যাড্রিয়েন রিচ,হোয়াট ইজ ফাউন্ড দেয়ার (২০০৩)

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]