বিষয়বস্তুতে চলুন

উইলিয়াম ব্রেট, ১ম ভিসকাউন্ট এশার

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
আমার মতে, যখন কোনো মহান বিচারক (যিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ) মামলার সিদ্ধান্তের জন্য আদালতের কার্যপদ্ধতি সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করা এবং তা বর্ণনা করা প্রয়োজনীয় মনে করেন, তখন এর বিপরীতে এটি বলা নিরর্থক যে ওই সিদ্ধান্তের জন্য সেটি প্রয়োজনীয় ছিল না।

উইলিয়াম বালিওল ব্রেট, ১ম ভিসকাউন্ট এশারের পিসি (১৩ আগস্ট ১৮১৫ - ২৪ মে ১৮৯৯), যিনি ১৮৬৮ থেকে ১৮৮৩ সালের মধ্যে স্যার উইলিয়াম ব্রেট নামে পরিচিত ছিলেন, ছিলেন একজন ব্রিটিশ আইনজীবী, বিচারক এবং কনজারভেটিভ পার্টির রাজনীতিবিদ। তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বেঞ্জামিন ডিসরাইলির অধীনে সলিসিটর-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এরপর ১৮৬৮ থেকে ১৮৭৬ সালের মধ্যে কোর্ট অফ কমন প্লির একজন বিচারক, ১৮৭৬ থেকে ১৮৮৩ সালের মধ্যে লর্ড জাস্টিস অফ আপিল এবং মাস্টার অফ দ্য রোলস হিসেবে কাজ করেন। ১৮৮৫ সালে তাকে ব্যারন এশার হিসেবে পিয়ার মর্যাদা দেওয়া হয় এবং ১৮৯৭ সালে অবসরের সময় তাকে ভিসকাউন্ট এশার উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • ইংল্যান্ডে কর্মদিবস আর বিদেশি বন্দরগুলোর কর্মদিবস এক নয়; কারণ ইংরেজদের প্রথা এবং অভ্যাস অনুযায়ী (যদি তাদের আইন অনুযায়ী না-ও হয়), ইংল্যান্ডে রবিবারে কর্মদিবস অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
    • নিলসেন ভার্সেস ওয়েট (১৮৮৫), এল. আর. ১৬ কিউ. বি. ৭১।
  • আমার কাছে মনে হয় যে, জীবনের সাধারণ প্রয়োজনে যখনই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে দুইজন মানুষ সাধারণভাবেই সৎ এবং সতর্ক থাকলে একে অপরকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিত, তখন এটি সঠিকভাবে ধরে নেওয়া যেতে পারে যে তারা দুজনেই বুঝেছিলেন যে এমন একটি প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং নেওয়া হয়েছে।
    • এক্স পার্ট ফোর্ড (১৮৮৫), এল. আর. ১৬ কিউ. বি. ডি. ৩০৭; ৫৫ এল. জে. কিউ. বি. ৪০৭।
  • আমি মনে করি না যে কোনো বিচারক চাইবেন যে একটি মামলার কার্যক্রম চলাকালীন তিনি নেহাতই অনানুষ্ঠানিকভাবে বা ক্যাজুয়ালি যেসব 'ওবিটার' (obiter) মন্তব্য করেছেন, সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আবশ্যিক নজির হিসেবে বিবেচনা করা হোক। কিন্তু যখন একজন বিচারক মামলার প্রয়োজনে তার আদালতের কার্যপদ্ধতি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা এবং সেই পদ্ধতি বর্ণনা করা প্রয়োজনীয় মনে করেন, তখন কেবল এটি দাবি করে ওই বক্তব্যের গুরুত্ব উড়িয়ে দেওয়া যায় না যে মামলার প্রকৃত সিদ্ধান্তের জন্য সেটি আসলে খুব একটা জরুরি ছিল না। আমি মনে করি এমন বক্তব্যকে যদি নজির হিসেবে উদ্ধৃত করা হয়, তবে তার বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে, যদিও তা আমাদের জন্য কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বাধ্যকর নয়।
    • এক্স পার্ট রেভ. জেমস বেল কক্স (১৮৮৭), এল. আর. ২০ কিউ. বি. ডি. ১৯।
  • ব্যক্তিগতভাবে আমি আইনকে কোনো 'ম্যাক্সিম' বা সংক্ষিপ্ত সূত্রের আওতায় আনার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ঘৃণা করি। সূত্রগুলো অবধারিতভাবেই ভুল হয়ে থাকে, কারণ সেগুলো এতটাই সাধারণ এবং বিশাল হয় যে তার মধ্যে সবসময় এমন কিছু ঢুকে পড়ে যা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল না।
    • ইয়ারমাউথ ভার্সেস ফ্রান্স (১৮৮৭), এল. জে. ৫৭ কিউ. বি. ৯।
  • আমার মতে, যখন কোনো মহান বিচারক—যিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ—মামলার সিদ্ধান্তের জন্য আদালতের কার্যপদ্ধতি সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করা এবং তা বর্ণনা করা প্রয়োজনীয় মনে করেন, তখন এর বিপরীতে এটি বলা নিরর্থক যে ওই সিদ্ধান্তের জন্য সেটি প্রয়োজনীয় ছিল না।
    • এক্স পার্ট বেল কক্স (১৮৮৭), ৫৭ এল. জে. (এন. এস.) কিউ. বি. ১০৩।
  • পক্ষসমূহ পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে আদালতকে এমন কোনো ক্ষমতা দিতে পারে না যা আদালত ছাড়া অন্য উপায়ে অর্জন করা সম্ভব নয়।
    • ইন রে আয়নার; এক্স পার্ট বিশফিশেইম (১৮৮৭), এল. জে. ৫৭ কিউ. বি. ১৬৮।
  • একই আদালতে বা সমকক্ষ বিচারক্ষমতাসম্পন্ন আদালতগুলোতে সংঘটিত দুটি মামলার সিদ্ধান্ত পরস্পরের বিরোধী—এমন সিদ্ধান্তে আদালতের কখনও পৌঁছানো উচিত নয়, যদি না আদালত তেমনটা করতে বাধ্য হয়। আমি একমত যে, যদি দুটি মামলার সিদ্ধান্তে বিরোধ থাকেই, তবে আদালতকে অবশ্যই বলতে হবে যে সে তার মধ্যে কোনটির সাথে একমত।
    • ডিউক অফ ডেভনশায়ার ভার্সেস ও'কনর (১৮৯০), এল. আর. ২৪ কিউ. বি. ডি. ৪৭৩।
  • আমি একমত যে এটিই আইন, যদিও আমি মনে করি এটি একটি কঠোর আইন; কিন্তু কঠোরতার প্রশ্নের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
    • ইন রে পার্কিন্স (১৮৯০), এল. আর. ২৪ কিউ. বি. ডি. ৬১৮।
  • বিচারিক আদালতের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে, আদালতে যা ঘটছে তা শোনা সাধারণ জনগণের স্বার্থের অন্তর্ভুক্ত।
    • পিটার্ড ভার্সেস অলিভার (১৮৯১), এল. জে. ৬০ কিউ. বি. ডি. ২২১।
  • আমি ব্যক্তিগতভাবে এই দেশের মানুষের ওপর অ্যাডমিরাল্টি আদালতের বিচারক্ষমতার দুয়ার পুনরায় খুলে দেব না।
    • দ্য কুইন ভার্সেস জাজ অফ সিটি অফ লন্ডন কোর্ট (১৮৯১), এল. আর. ১ কিউ. বি. ডি. ২৯৯।
  • যখনই কোনো পেটেন্ট মামলা সামনে আসে, মামলা শুরু হওয়ার আগেই বা তালিকায় নাম ডাকার আগেই সেটি চেনা যায়। আমরা কীভাবে তা চিনতে পারি? আমরা এটি চিনতে পারি এর সাথে থাকা বইয়ের বিশাল স্তূপ দেখে যা সব সময় প্রায় আমার উচ্চতার সমান হয়ে থাকে... এখন এই সবকিছুর ফলাফল কী? ফলাফল হলো এই যে, ইনফ্লুয়েঞ্জায় পরিবারের সবাইকে হারানোর মতো বড় শোক ছাড়া অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বরং এটি ভালো যে কোনো মানুষের পেটেন্ট অধিকার লঙ্ঘিত হোক বা তার জীবনে অন্য যেকোনো বিপদ আসুক, তবুও যেন তার কোনো পেটেন্ট মামলা না হয়। তার পেটেন্ট তো ওই মামলার চক্করেই হারিয়ে যায় এবং সে সর্বস্বান্ত হয়। এটা কার দোষ? আসলে এটি আইনের দোষ নয়; এটি হলো পেটেন্ট মামলায় আইন পরিচালনার পদ্ধতির দোষ। এটিই সব অনিষ্টের মূল কারণ।
    • উঙ্গার ভার্সেস সাগ (১৮৯২) ৯ আরপিসি ১১৩, ১১৬ পৃষ্ঠায়।
  • জনস্বার্থ এটিই দাবি করে যে, বিচারিক কার্যক্রম গোপনে হওয়ার চেয়ে বরং কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিদের কিছুটা কষ্ট সহ্য করা ভালো।
    • কিম্বার ভার্সেস দ্য প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (১৮৯২), এল.আর. ১ কিউ.বি. [১৮৯৩], পৃষ্ঠা ৬৯।
  • ন্যায়বিচার প্রশাসনের ক্ষেত্রে, সেটি কোনো স্বীকৃত আইনি আদালত হোক বা এমন ব্যক্তিরাই হোন যারা আইনি আদালত না হওয়া সত্ত্বেও অনুরূপ সক্ষমতায় কাজ করছেন—জনস্বার্থ দাবি করে যে, প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে যেন কোনো সন্দেহ না থাকে। সেখানে যারা অংশগ্রহণ করবেন তারা যেন এমন কোনো অবস্থানে না থাকেন যা থেকে তাদের পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার সন্দেহ তৈরি হতে পারে।
    • আলিনসন ভার্সেস জেনারেল কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন (১৮৯৪), এল. আর. [১৮৯৪], ১ কিউ. বি. পৃষ্ঠা ৭৫৮।
  • কোনো সংশোধনী যদি অন্যায়ের কারণ হয় তবে তার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়; কিন্তু যদি এটি কোনো অন্যায়ের কারণ না হয়ে কেবল খরচ বাঁচায়, তবে সেই সংশোধনী অবশ্যই করা উচিত।
    • রবার্টস ভার্সেস প্ল্যান্ট (১৮৯৫), এল. আর. ১ কিউ. বি. ডি. [১৮৯৫], পৃষ্ঠা ৬০৩।
  • আইন পরিচালনার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সাধারণ আইনের ক্ষেত্রে, এমন অনেক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে যেখানে এমন সব প্রযুক্তিগত নিয়ম তৈরি করা হয়েছে যা সত্য ছিল না—অর্থাৎ যেগুলো মামলার প্রকৃত তথ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল না।
    • ইন রে নর্থ, এক্স পার্ট হাসলাক (১৮৯৫), এল. আর. ২ কিউ. বি. ডি. [১৮৯৫], পৃষ্ঠা ২৬৯।
  • যখন কোনো মানুষ নিজেকে এমন কোনো নামে ডাকে যা তার নিজের নাম নয়, তখন সে আসলে মিথ্যা বলছে।
    • রেডাওয়ে ভার্সেস ব্যানহাম (১৮৯৫), এল. আর. ২ কিউ. বি. ডি. [১৮৯৫], পৃষ্ঠা ২৯৩।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]