বিষয়বস্তুতে চলুন

উপপত্নী প্রথা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

ইসলামি আইনশাস্ত্রে উপপত্নী হলেন এমন একজন অবিবাহিত দাসী যার সাথে তার মনিব যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারতেন। বিংশ শতাব্দীতে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের রাজবংশ ও অভিজাত পরিবারগুলিতে এটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল এবং এটি ইসলামি পণ্ডিতদের দ্বারা শাস্ত্রীয়ভাবে গৃহীত ও অনুমোদিত ছিল। অধিকাংশ আধুনিক ইসলামি পণ্ডিত ও সাধারণ মুসলিম উভয়ই বিশ্বাস করেন যে, ইসলাম বর্তমানে উপপত্নী প্রথার অনুমতি দেয় না এবং ধর্মীয়ভাবে যৌন সম্পর্ক কেবল বিবাহের মধ্যেই অনুমোদিত। প্রাক-ইসলামি আরব, বৃহত্তর নিকট প্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দাসী নারীদের উপপত্নী হিসেবে কাজ করা একটি বহুল প্রচলিত প্রথা ছিল। কুরআনও এই প্রথার অনুমতি দিয়েছে এবং একজন পুরুষকে তার স্ত্রী অথবা উপপত্নী ব্যতীত অন্য কারো সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে কঠোর নিষেধ করেছে। ইসলামের সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদের মারিয়া আল-কিবতিয়া নামে একজন দাসী (উপপত্নী) ছিলেন যাকে আল-মুকাওকিস উপহার হিসেবে তাঁর নিকট পাঠিয়েছিলেন। তবে তিনি তাকে মুক্ত করে দেন (তবে কেউ কেউ এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন) এবং পরে বিবাহ করেন। তার গর্ভে ইব্রাহীম নামে একটি পুত্র সন্তানও জন্মগ্রহণ করেছিল। একজন পুরুষ কতজন উপপত্নী রাখতে পারে, তার ব্যাপারে প্রাচীন ইসলামি আইনবিদরা কোনো সীমা নির্ধারণ করেননি। তবে উপপত্নীদের পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ ছিল। যে উপপত্নী তার মনিব কর্তৃক স্বীকৃত সন্তানের জন্ম দিত, তাকে উম্মুল ওয়ালাদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হত। তখন তাকে বিক্রি করা যেত না এবং তার মনিবের মৃত্যুর পর সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্ত হয়ে যেত। একজন উপপত্নীর স্বীকৃত সন্তানদের স্বাধীন, বৈধ ও পুরুষের স্ত্রীর সন্তানদের সমান মর্যাদাবান হিসেবে বিবেচনা করা হত।

উক্তি

[সম্পাদনা]

কোরআন

[সম্পাদনা]
  • যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, (নারী) ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জনকে বিবাহ কর, কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে; এটাই হবে অবিচার না করার কাছাকাছি।
    • ৪:৩ (তাইসিরুল কুরআন)
  • আর (হারাম করা হয়েছে) নারীদের মধ্য থেকে সধবাদেরকে। তবে তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে (দাসীগণ) তারা ছাড়া। এটি তোমাদের উপর আল্লাহর বিধান এবং এরা ছাড়া সকল নারীকে তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে যে, তোমরা তোমাদের অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে চাইবে বিবাহ করে, অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে নয়। সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদেরকে ভোগ করেছ তাদেরকে তাদের নির্ধারিত মোহর দিয়ে দাও। আর নির্ধারণের পর যে ব্যাপারে তোমরা পরস্পর সম্মত হবে তাতে তোমাদের উপর কোন অপরাধ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
    • ৪:২৫ (রাওয়াই আল-বায়ান)
  • যারা নিজেদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে তাদের স্ত্রী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া, কেননা তাতে তারা তিরস্কৃত হবে না।
    • ৭০:২৯-৩০(তাইসিরুল কুরআন)

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]