উ থান্ট
অবয়ব

উ থান্ট (২২ জানুয়ারি, ১৯০৯ – ২৫ নভেম্বর, ১৯৭৪) একজন বর্মী কূটনীতিক এবং ১৯৬১ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের তৃতীয় মহাসচিব ছিলেন। তিনি প্রথম অ-স্ক্যান্ডিনেভীয় ব্যক্তি হিসেবে এই পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি ১০ বছর এক মাস এই দায়িত্ব পালন করে রেকর্ড গড়েন। মহাসচিব হিসেবে তিনি কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস, কঙ্গো সংকট, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং আরব-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব নিরসনে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও শান্তি রক্ষা মিশনের আয়োজন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি নে উইন তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করতে অস্বীকার করার পর তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বর্মী সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।
উক্তি
[সম্পাদনা]
- বিশ্ব গণতন্ত্রকে নিরাপদ করতে দুটি বিশ্বযুদ্ধ লড়তে হয়েছিল। আজ আমাদের সব ফ্রন্টে একটি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এই যুদ্ধটি শান্তির সময়ে লড়তে হবে তবে এই সময়ে যুদ্ধে সময়ের মতোই সমান শক্তি এবং পূর্ণ প্রচেষ্টার সাথে লড়তে হবে। আজ আমাদের যে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে তার একটিই লক্ষ্য আছে আর তা হলো বৈচিত্র্যের জন্য পৃথিবীকে নিরাপদ করা। যারা বিশ্বকে বৈচিত্র্যের জন্য নিরাপদ করার প্রয়োজন অনুভব করেন না তারা অনেকেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ধারণাটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। আমি ভাবি তারা কি কখনো নিজেদের এই প্রশ্নটি করার জন্য থেমেছেন: সহাবস্থানের বিকল্প কী?
- ১৯৬৪ সালের ভাষণ, পোর্টফোলিও ফর পিস ১৯৬৮ সালে পুনঃপ্রকাশিত, পৃষ্ঠা ১৪
- প্রত্যেক মানুষ শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য সে যে বংশেরই হোক বা যে অবস্থানেরই হোক না কেন। আমাদের প্রত্যেককে অন্যকে সেভাবেই শ্রদ্ধা করতে হবে যেভাবে আমরা নিজেদের শ্রদ্ধা করি। এটি যেমনটা অনেক দেশের মহাপুরুষরা আমাদের শিখিয়েছেন তেমনটা ব্যক্তিগত এবং গোষ্ঠীগত সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এটি সুবর্ণ নিয়ম।
- পোর্টফোলিও ফর পিস, পৃষ্ঠা ৯২
- মানুষের মনেই যুদ্ধ শুরু হয় আর সেই মনেই ভালোবাসা এবং করুণা, শান্তির প্রতিরক্ষা বর্ম তৈরি করতে পারত।
- "বুদ্ধিজম অ্যান্ড দ্য চার্টার", জেফরি রোজ এবং মাইকেল ইগনাটিয়েফ (সম্পাদনা) রিলিজিয়ন অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স, পৃষ্ঠা ১১৪
- আমি খুব বেশি নাটকীয় হতে চাই না। তবে মহাসচিব হিসেবে আমার কাছে যে তথ্যগুলো আছে সেগুলো থেকে আমি কেবল এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, জাতিসংঘের সদস্যদের কাছে তাদের পুরনো বিবাদগুলো একপাশে সরিয়ে রাখার জন্য হয়তো আর মাত্র দশ বছর সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে তাদের অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ, মানুষের পরিবেশের উন্নয়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রশমন এবং উন্নয়ন প্রচেষ্টায় প্রয়োজনীয় গতি জোগানোর জন্য একটি বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে। যদি আগামী দশকের মধ্যে এই ধরনের কোনো বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে না ওঠে তবে আমি অত্যন্ত আশঙ্কিত যে আমার উল্লেখ করা সমস্যাগুলো এমন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।
- ১৯৬৯ সালে প্রদত্ত, ও. ডব্লিউ. মার্কলি এবং উইলস ডব্লিউ. হারম্যান (সম্পাদনা) চেঞ্জিং ইমেজেস অফ ম্যান (পারগামন প্রেস, ১৯৮২) পৃষ্ঠা ৫-এ এপিগ্রাফ হিসেবে উদ্ধৃত।
ভিউ ফ্রম দ্য ইউএন (১৯৭৮)
[সম্পাদনা]
- আমার এমন কোনো দাবি করার ইচ্ছা নেই যে আমি জ্ঞান লাভের পথে খুব উচ্চ স্তরে পৌঁছেছি কিংবা আমি অন্তরের দিক থেকে পূর্ণ শান্তি অর্জন করেছি। তবে আমি এটি দাবি করতে পারি যে, আমি প্রতিদিন ভাবনা অনুশীলন করি। আমি বৌদ্ধধর্মের নৈতিক দিকগুলো চর্চা করার চেষ্টা করি এবং আমি বিশ্বাস করি যে আমি অধিকাংশ মানুষের চেয়ে আবেগতাড়নার ক্ষেত্রে অধিকতর উচ্চতর পর্যায় অর্জন করেছি। ১৯৬২ সালের ২১ মে আমার একমাত্র ছেলে টিন মং থান্টের আকস্মিক মৃত্যুর (সড়ক দুর্ঘটনায়) ট্র্যাজিক সংবাদে আমার আবেগীয় প্রতিক্রিয়া কেন ন্যূনতম ছিল এটিই তা ব্যাখ্যা করে। কারণ জন্ম এবং মৃত্যু কি একই জীবন প্রক্রিয়ার দুটি পর্যায় নয়? বুদ্ধের মতে, জন্মের পর মৃত্যু আসে। কিন্তু মৃত্যুর পর আবার পুনর্জন্ম ঘটে।
- পৃষ্ঠা ২৩
- আমার অনুভূতিগুলো এবং মহাসচিবের ভূমিকা সম্পর্কে আমার ধারণা বুঝতে হলে প্রথমে আমার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পটভূমির প্রকৃতি বুঝতে হবে। তাই আমি কেবল আমার বিশ্বাসই নয় বরং মানবীয় প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার ধারণারও রূপরেখা তুলে ধরতে চাই।একজন বৌদ্ধ হিসেবে, আমাকে অসহিষ্ণুতা ছাড়া অন্য সবকিছুর প্রতি সহনশীল হতে শেখানো হয়েছে। আমি কেবল সহনশীলতার মনোভাব গড়ে তুলতেই লালিত-পালিত হইনি বরং বিনয়, নম্রতা, করুণার মতো নৈতিক ও আধ্যাত্মিক গুণাবলিকে লালন করতে হয়েছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, একটি নির্দিষ্ট মাত্রার আবেগীয় ভারসাম্য অর্জন করতে শিখেছি।
- পৃষ্ঠা ৬৯
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় উ থান্ট সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিমিডিয়া কমন্সে উ থান্ট সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।