বিষয়বস্তুতে চলুন

এনামূল হক পলাশ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

কবি এনামূল হক পলাশ হলেন একজন বাংলাদেশী বাঙালি কবি। তিনি ১৯৭৭ সালের ২৬ জুন নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাদেচিরাম গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]

মেঘের সন্ন্যাস

[সম্পাদনা]
  • তোমাকে দুর্বোধ্য ভেবে আরও বেশি নির্বোধে
    চলে গেছেন কেউ কেউ আড়ালে অবাধে।
    জানি, তুমি এই বৃত্তের জনক নও;
    তুমি ফেঁসে গেছ পরাবাস্তব ব্যাকরণে।
    • জীবনানন্দ কবিতা থেকে
  • মানুষের তিন নম্বর হাতটির নাম অজুহাত,
    এই হাত অনেক লম্বা হয়ে থাকে।
    অনেক লম্বা মানুষের এই হাত খাটো মানুষকে
    প্রাপ্য অধিকার হতে বঞ্চিত করে।
    • অজুহাত কবিতা থেকে
  • কথা ছিল ব্রিটিশ চলে গেলে স্বাধীনতা হবে
    তারপরে কথা হলো পাকিস্তানিরা চলে গেলে
    সবাই তার প্রাপ্য অধিকার বুঝে পাবে।
    ব্রিটিশ চলে গেছে, এমনকি পাকিস্তানিরাও।
    • চেতনা কবিতা থেকে
  • উঁচা উঁচা পাহাড় দেখে
    নিজেকেই পাহাড় ভাবেন,
    তার উপরে আকাশ আছে
    চক্ষু মেলে চাইয়া দেখেন।
    আকাশ দেখেন, দেখতে থাকেন
    অনন্ত এক শূন্য পাহাড়গুলো ভরাট থেকেও
    শূন্যে জেগে ধন্য।
    • সাধনা কবিতা থেকে
  • তুমি বলেছিলে
    এত এত চাপ, ইস্কুলের সাময়িক ডিগ্রি
    খাটাখাটনি, নিজেকে ছাড়াও অহেতুক
    ভাবনার কোনো মানেই হয় না।
    মানুষ তার মৃত্যুর সমান বড়।
    আমি বললাম
    একটি গাছ লাগাও,
    তুমি যখন থাকবে না গাছটি থাকবে
    তোমার সন্তান তার অক্সিজেন নিবে
    এমনকি ফল, ছায়া বিলিয়ে যাবে দীর্ঘকাল।
    • দ্বন্দ কবিতা থেকে
  • প্রেমিক বেশে এসেই খেলাচ্ছলে
    জাগিয়ে দিলে পুরোনো সব ক্ষত,
    ভালোবাসার আড়ালে আবডালে
    আছে আত্মপ্রেমের শরীর জাগ্রত।
    আমার কথা যতই বলো মুখে
    আয়ু বাড়াও আয়ুর্বেদিক রসে,
    অন্ধকালে প্রেম দিতেছ যাকে
    সে সিদ্ধহস্ত আমার সর্বনাশে।
    • সুন্দরবন কবিতা থেকে
  • নদীমাতৃক এই বাংলাদেশে
    হাড় জিরজিরে কৃষকরা থাকে।
    তাদের থাকা আর না থাকা সমান কথা
    যেহেতু তারা মানুষ নয়, তারা কৃষক।
    একে একে তারা হারিয়েছে
    লাঙ্গল, জোয়াল আর ফসলের মাঠ।
    • বাংলার কৃষক কবিতা থেকে
  • ভিটায় ঘুঘু চড়ানোর কথা শুনলে
    মনে হতো ঘুঘুরা খুব ভয়ঙ্কর জীব।
    আসলে ঘুঘুরা খুবই নিরীহ,
    ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো ঘুঘু চড়ানোটা।
    • ঘুঘু বিদ্যা কবিতা থেকে
  • রিজার্ভ ব্যাংক খালি করে দিন
    আমাদের কোনো কারেন্সি প্রয়োজন নেই।
    রিজার্ভ শূন্য করে মুক্ত করেন ভালোবাসার হাত
    আমাদের ভালোবাসা প্রয়োজন।
    সমস্ত কারেন্সি উঠিয়ে নিয়ে শূন্য করে দিন।
    শুধু মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিন
    ফিরিয়ে দিন প্রেমময় জীবনের বাতাস
    পরতে পরতে ঢুকে যাক যৌথ খামার।
    • গভর্নরের প্রতি কবিতা থেকে
  • তুমি আছ আমার পাশে
    না থাকার মতো করে,
    আমিও আছি পাশাপাশি
    অপ্রেমের অন্ধকারে।
    যদি ফিরে না আসো এবার
    প্রেমময় জীবনে,
    পাথুরে যাপিত স্থবির সংসার
    থামবে এই খানে।
    • মিসম্যাচিং কবিতা থেকে
  • তোমার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছি
    দীর্ঘ সময় পার করে বেদনার ভূমি হয়ে।
    তুমি ফিরে আসবে না জানি চলে গেছ
    সবুজ মাঠ পেরিয়ে বহুদূরে অচেনা অন্ধকারে।
    এই জীবন বেদনার্ত হলেও ছিমছাম চলে
    প্রেমের বিরুদ্ধে অসংখ্য গোপন আয়োজন।
    • প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় কবিতা থেকে
  • দেহের ভেতর অন্তর
    দেহ মানেই কবর।
    আগুন যার অন্তরে
    দোজখ খায় তারে।
    হইলে প্রেমভাবে ফানা
    জান্নাত হয় কবরখানা।
    • দেহতত্ত্ব কবিতা থেকে
  • অন্তরের ভেতর আমি
    সবই আমার চাষভূমি।
    অন্তর জাগ্রত আমার
    আমিত্ব জাগে বেশুমার।
    ভেতরের দুনিয়াটাও আমি
    আমি দুনিয়ার আবাদি জমি।
    • দুনিয়াতত্ত্ব কবিতা থেকে
  • আমার আমিত্ব
    বিলিয়ে অস্তিত্ব
    আমিতে বিরত
    সাওম সতত।
    ভেঙে আমিত্ব
    প্রেমে অনন্ত
    আমিকে ভেঙে
    এফতার সঙ্গে।
    • সাওমতত্ত্ব কবিতা থেকে
  • সিরিয়ায় পিতারা ব্যর্থ হচ্ছেন প্রতিপালনে,
    রাশিয়ান জার ঢুকে যাচ্ছে সভ্যতার ফাঁকে,
    আমেরিকা আমাদের মিত্র সেজেছে,
    পৃথিবীর পথে পথে বন্দুকের নল থেকে
    বের হচ্ছে ধাবমান শান্তির অধরা গোলাপ।
    • বিপন্ন পৃথিবীর গান কবিতা থেকে
  • ব্রিটিশরা চলে গেছে রেখে গেছে আইন
    সারাদিন চুরি করে ধরা পড়লেই জামিন।বাজারে গিয়ে যদি মুরগি কিনে ফেলি
    আর মুঠোতে ঠ্যাং উল্টে ঝুলিয়ে চলি,
    বাড়িতে আসার পথে ধরা খেয়ে যাই
    আদালতে গেলেই বেইল নাই বেইল নাই।
    • ব্রিটিশ আইন কবিতা থেকে
  • তোমাকে ভালোবেসে সাম্রাজ্য দিয়েছি
    মেধা ও মনন ঢেলে সাজিয়েছ জতুগৃহ।আমাকে সন্ন্যাসী করে ধরিয়েছ ভিক্ষাভাণ্ড
    বাঘের ভয়ে তুমি গিলে খাচ্ছ সুন্দরবন।
    • সন্ন্যাসব্রতে আছি থেকে
  • খোঁয়াড়ে আটকা আছ মোহরের লোভে
    পকেটে নক্ষত্র রেখে আন্ধারে ঘুমাও
    দশদিকে হাহাকার ভালোবাসা ঘুমে
    রক্তবন্দি হয়ে আছ খোঁয়াড়ের কোণে।
    • ভালোবাসার যৌথ খামারে কবিতা থেকে
  • যখন তোমার স্বৈরাচারী মনোভাব প্রকাশিত হতে থাকে
    উদয়াস্ত বাতাসে ভন ভন করে অসমাপ্ত স্বপ্নমঞ্জুরী
    রক্ত জেগে ওঠার দারুণ সম্ভাবনা সময়কে হাতে নিতে
    মাটি থেকে ছোঁ মেরে তুলে আনো লৌকিক সাধারণ।
    • অসম প্রেমের সংসার কবিতা থেকে
  • দশ লক্ষ বছর তপস্যা করে
    যে অবয়ব গড়ে উঠেছে
    তার কোনো ছায়া পড়ে না কোথাও।
    কায়া আছে ছায়া নেই,
    আছে শুধু অস্বীকার।
    • আধুনিক মানুষ কবিতা থেকে
  • নিরাপত্তার বেষ্টনী তোমাকে বন্দি বানিয়েছে
    প্রবল প্রহরায় হয়ে গেছ অসাধারণ একজন।
    অথচ একদিন তুমি ছিলে প্রাণচঞ্চলা
    কিশোরী খোঁপায় ছিল গন্ধমাখা বকুল
    সূর্যের উত্তাপ নিয়ে ঘুরে ঘুরে জানিয়েছ সম্ভাবনা
    জীবনের জয়মন্ত্রে নিয়েছিলে মাটি-হাওয়া-জল।
    • বিচ্ছেদপত্র কবিতা থেকে
  • চতুর্মাত্রিক লীলাবতী হয়ে দেখো নাচন পাতার,
    রাজা আর প্রজার প্রেমের মাঝে দাঁড়ায় আজর।
    তুমি তো দেখো না আমার ঘাসফুল জীবন রসিক,
    আমি জৌলুসে দেখি প্রহরায় আছে বণিক প্রেমিক।
    • শাসক আর শাসিতের প্রেম কবিতা থেকে
  • ঘাসের সবুজ মেরে রাজা হয়ে যাই
    হাড্ডিসার দেহ দেখে সুদিন কাটাই।
    সারাদেশ খুঁজে দেখো রাখাল নাই
    এই সুযোগে গরুদের রাজা হয়ে যাই।
    • গরুরাষ্ট্রীয় সঙ্গীত কবিতা থেকে
  • তুমি দুঃখ পলাতক হতে চেয়েছিলে বলে
    অসুখে ভুগে ভুগে অসুর হয়ে বাঁচো।
    একদল জীবনে শুধুই চড়ুই পাখির প্রেম
    নব উদ্যোগে বার বার অধরা সুখের সন্ধান।
    • পলাতক কবিতা থেকে
  • দুটি কালেম পাখি একত্রে থেকে চেঁচামেচি করে
    মা পাখিটি লেজ উঁচিয়ে মাথা নত করে থাকে।
    এক পা খোঁড়া বাবা পাখিটি সঙ্গমে ব্যর্থ হচ্ছে
    আর চিৎকার করে ভাসিয়ে দিচ্ছে সমস্ত এলাকা।
    • বাংলাদেশের বিপ্লব কবিতা থেকে
  • হজরত আদমের কোনো শ্বশুরবাড়ি ছিল না
    বিবি হাওয়ার কোনো শাশুড়ি ননদ ছিল না।
    তাঁরা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে খুব সুখ আর সুন্দর
    পৃথিবীর সংসারে জীবনযাপন করতেছিলেন।
    • সুখের সংসার কবিতা থেকে
  • রাশি রাশি কস্তুরী প্রতিশ্রুতির প্রবাহে
    ভেসে যাচ্ছে যথাযথ বর্তমান দুঃখবোধ।
    প্রতিশ্রুতির জোয়ারে বদলে যাচ্ছে নদীর গতিপথ
    থেমে যাচ্ছে ইলিশের ডিম, উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল।
    • প্রতিশ্রুতি কবিতা থেকে
  • লাট সাহেবের বেতনের সাথে
    সমতা খেলায় চিউ চিউ ডাকছিলা।
    ডেকে ডেকে সারা দেশে চেঁচামেচি
    সন্ধ্যায় মগজে অন্ধকার দিলা।
    • বড় ইস্কুল ও কতিপয় মাস্টার কবিতা থেকে
  • রাজা বাহাদুর দোজখ বানিয়েছেন
    আগে যারা ডাকু ছিলেন
    তারা দোজখের উপ-পরিচালক।
    রাজা বাহাদুরের দোজখে
    আছেন দারোগা, আছেন সহকারী।
    • রাজা বাহাদুরের দোজখ কবিতা থেকে
  • আমাদের দশ লক্ষ বছরের ইতিহাসে
    ছয় লক্ষ বছর ফলমূল আহরণে গেছে
    তিন লক্ষ তিরানব্বই হাজার গেছে শিকারে
    বাকি সাত হাজারের মধ্যে পাঁচ হাজার দাসদাসী নিয়ে
    পরবর্তী এক হাজার নয় শত রাজা-প্রজা খেলে
    পাক্কা ব্যবসায়ী বনে আধুনিক হতে হতে
    একদিন মনে হয়েছিল
    আগামীকাল
    জাতীয় সংসদ, ক্যাণ্টনমেণ্ট, পল্টন,
    প্রেসক্লাব, সচিবালয় বেদখলে যাবে।
    • কমিউনিস্ট পার্টি কবিতা থেকে
  • আমার বাড়ি বৃষ্টি ভেজা
    ঝড়ের বাড়ি বিপন্নতা,
    বৃষ্টি আমার বন্ধু হয়ে
    তোমার কাছে বিষণ্ণতা।
    • "বৃষ্টির কবিতা" কবিতা থেকে
  • একটি প্রেমের ইতিবৃত্ত পদ্মপাতার জল,
    অবাক চোখে জেগে আছে স্বপ্ন টলমল।
    পদ্মাবতী পদ্ম চোখে পদ্য রোগে ভুগে
    এক জীবনে ভালোবেসে দিবারাত্রি জাগে।
    • "পদ্মপাতায় লেখা" কবিতা থেকে
  • জলের শেকলে বাঁধা আছে পা,
    আদি ও রসের জীবন ধাতুময়
    হয়ে জেগে আছে পাথর সময়।
    জেগেছে পাহাড় শুয়েছে সবুজ,
    বিপন্ন কাঠের আড়ালে উন্নয়ন
    খেয়ে ফেলেছে প্রথাগত জীবন।
    • পাহাড়ের জীবন কবিতা থেকে
  • নামাজ পাক্কা, ঈমান পাক্কা,
    হজের ইচ্ছা আছে মনে মনে,
    আল্লাহর ভয়ে দানখয়রাতও চলে।
    পাক্কা দিলে তালা দিয়ে রাখছে
    প্রতিপক্ষ আত্মীয় পরিজন।
    • ধর্মমতী শুকপাখি কবিতা থেকে
  • জীবনের জটিলতায় পড়েছে ধরা
    গোপন দরোজায় লেখা আছে প্রেম
    জেগেছে মননে অকপট নদীর ধারা
    আমি তো আড়ালেই বাসিতেছিলেম।
    এই বর্ষায় তুমি ধরা পড়ে গেলে
    জীবনের যত কানামাছি খেলা
    সোনাময় ভোগের অভিযান ফেলে
    প্রেমময় জীবনের সূক্ষ্ম অবহেলা।
    • স্বীকারোক্তি কবিতা থেকে
  • সবুজে ফুটে ওঠা রক্তজবার ক্ষতে
    জামবাক দিয়া মালিশ করে যাচ্ছ
    আর জলপট্টি দিয়া আড়ালে রাখছ তারে।
    গোপনে বেড়ে যাচ্ছে ঘায়ের সাথে পুঁজ,
    রক্তজলে মগ্ন আছে দলবদ্ধ কিরা আর
    পালিশ করা মুখে আছে প্রশান্তির হাসি।
    • জঙ্গিবাদ কবিতা থেকে
  • আসনে বসেছেন ডাকাত সর্দার
    সামনে নতজানু অনুগামী চোর।
    চোর নতজানু দাঁড়িয়ে থাকেন
    ডাকাত তারে সত্যায়িত করেন।
    • এ সি আর কবিতা থেকে
  • হাত বাড়িয়ে দিলাম শুধু
    মন রেখেছি ঘরে,
    বৃষ্টি ভেজা বিকেল ছিল
    দৃষ্টি অনেক দূরে।
    • "বাদল ছড়া" কবিতা থেকে
  • তন্দ্রার ভেতর থেকে থেকে প্রবল শূন্যতায়
    পুঁজি আর মানবিক সভ্যতার খোলসে আবদ্ধ হয়ে
    প্রেম আর কামের জৌলুসে ভরা পৃথিবীর প্রাসাদে
    নিরীহ শ্যামল অপার স্নিগ্ধতায় ঘুমিয়ে আছেন কবি।
    • প্রতীক্ষা কবিতা থেকে
  • কবি আসবেন বন্ধ দরজা খোলে প্রবল দ্যুতিময়
    শান্ত শ্যামল মাঠে মাঠে সবুজ ঘাসে রাজপথে।
    রিজার্ভ ব্যাংক, মহান সংসদ, শাহবাগের মোড়,
    মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট, অজেয় সচিবালয়,
    ইন্দ্রজিৎ ক্যাণ্টনমেণ্ট, মহামহিম পুলিশ হেডকোয়ার্টার,
    চেতনার রাজপথ, মহামগজ ইউনিভার্সিটি
    কবির পদচারণায় মুখরিত হয়ে খুলে দিবে
    অপার সম্ভাবনার জ্যোতিময় স্বপ্নময় দুয়ার।
    • প্রতীক্ষা কবিতা থেকে

জল ও হিজল

[সম্পাদনা]
  • যন্ত্রযুগে এসে
    ট্রেস নিতে নিতে নিজেরাও
    যন্ত্র হয়ে ঘুরি, জীবন মাপি।
    সকাল থেকে রাত অবধি
    বা রাত হতে সকাল অবধি
    দুরন্ত গতিপথে
    এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাতঙ্কে
    এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের জীবন।
    • চাপ কবিতা থেকে
  • গত সপ্তাহে আত্মহত্যা করা লোকটি
    অনেক সমস্যা বাজিয়ে চলে গেছেন।
    শহরে বাসা ভাড়া করে স্ত্রীকে রেখে
    ছেলের পড়াশোনার জন্য মাসে সত্তর হাজার
    টাকার গতি না করেই তিনি চলে গেছেন।
    • আত্মহত্যা কবিতা থেকে
  • সন্ধ্যায় পৃথিবী নত হয়ে আসে,
    আমিও নতজানু হই গৃহী-সন্ন্যাস।
    নারীদের জেগে ওঠা দেখি,
    সেখানে কখনো সন্ধ্যা নেমে আসে না।
    • পৃথিবীর নারী কবিতা থেকে
  • প্রতিটি আঘাতের পরে
    দুঃখরা সব জমা হতে থাকে,
    জমা হওয়া দুঃখগুলো
    রক্ত হয়ে বেরিয়ে যায়।
    রক্ত ভেঙে ভেঙে নামে
    ঘাম এবং অশ্রুর স্রোত।
    • আমগাছে দুঃখ কবিতা থেকে
  • পুরুষ ঘুমায়
    মানুষ ঘুমায়
    পক্ষী ঘুমায়
    গাছ ঘুমায়
    জীবন ঘুমায়।


    নারী ঘুমায় না।
    • চিরায়ত কবিতা থেকে
  • অনন্ত নক্ষত্রের জীবন যদিও একা,
    তার দৃষ্টিতে থাকে দূরবর্তী বস্তুর রেখা।
    বস্তু সব সময় নক্ষত্রের অনুগ্রহ,
    মানুষের চেতনাগত ভ্রম।
    • অনন্ত নক্ষত্রের জীবন কবিতা থেকে
  • ঘাসের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গেরিলা
    মশারা দখলে নিয়েছে আস্ত ক্যাণ্টনমেণ্ট।
    জেনারেলরা তাকিয়ে আছেন
    নাক বরাবর,
    অনিশ্চিত চক্ষু তাক করা আছে
    পরিবার আর সন্তানের দিকে।
    • মশাদের ক্যান্টনমেন্ট কবিতা থেকে
  • সকল বন্ধুত্ব ও স্বজন-সম্পর্কিত বিষয়ের
    চেয়ে অধিক কিছু হতে পারে পিতাদের জগৎ।
    প্রবল শূন্যতায় তাঁরা জেগে থাকেন অনন্ত
    সময় ধরে বোধ থেকে বোধে প্রজন্ম শরীরে।
    রক্তকে সার বানিয়ে ঢালেন জীবনের জমিনে
    আমাদের সময় ভরে উঠে ফসল উঠার গানে।
    • চেতনা ২০১৮ কবিতা থেকে
  • পরিমাপ এক আপেক্ষিক বিষয়,
    জাগতিক প্রয়োজন মাত্র।
    দোকানে দোকানে সব যন্ত্রপাতি
    বসে আছে প্রতারক সমন্বয়।
    মানুষের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা
    গণক হয়ে যাওয়া,
    বড় অযোগ্যতাও হচ্ছে গণনার
    সূত্র
    আবিষ্কার।
    • আদালত কবিতা থেকে
  • ঘোড়া একটি জীবনের নাম।
    তার পায়ের আঘাতে যে ধুলো
    উড়ে যায়, তা-ও একটি জীবন।
    যে অশ্বারোহী লাগামে হাত
    রেখে ছুটছেন, তিনিও জীবন।
    মহাবিশ্বের জীবনে আমরা
    অশ্বারোহী হয়ে ধুলো
    উড়াতে উড়াতে জীবন উড়াই।
    • উপসংহার কবিতা থেকে
  • জ্বরের ভেতর দিয়ে যাও,
    মানে বিকারগ্রস্ত হতে থাকো।
    প্রতিটি কবির উচিত মাঝে মাঝে
    জ্বরের ভেতর হাঁটাহাঁটি করা।
    • জ্বর কবিতা থেকে
  • মরিচার জীবনে কলকবজা নড়ে গেলে
    আগের মতো চলে না কোনো কিছুই।
    টিকে থাকার লড়াই ছেড়ে ছুড়ে
    বিষণ্ণ এক জীবন বেয়ে নামে শীত।
    • খবর কবিতা থেকে
  • টপ টু বটম চেইন অব কমাণ্ড
    থাকার কথা থাকলেও
    গৃহকোণে লুকিয়ে থাকেন
    অলৌকিক এক সেতারবাদক।
    তিনি এক মহান জাদুকর
    যার আঙুলে বাজে ভাঙনের সুর।
    • ডমেস্টিক ভায়োলেন্স কবিতা থেকে
  • চডা জালটা লইয়া
    ক্ষেতের কোনাকুনি
    ল একটা টান দেই,
    বিছরায় পানি উঠছে।
    জারমনি আর এগরা ঠেলে
    চলছে জালের টান।
    আহারে মাছ, কই গেছে সব?
    খালি চাউট্টা, চান্দা, কানপোনা
    আর নাপিত মাছ উইঠা কয়খানা
    ফাল পাড়তেছে, সাথে দুইখান ইচা।
    • চডা জালের গল্প কবিতা থেকে
  • জানোই তো রক্তজবাটা সবুজ
    জমিনের বুকে ফুটে উঠেছে,
    তাহলে এই জমিন মাড়িয়ে কেন
    নষ্ট করো ক্যামোফ্লাজ?
    সব শিশু ঘরে যাও,ফিরে যাও মাতৃনিকেতনে।
    বিষাদ ছড়িয়ো না আর ধূসর শহরে,
    থাকতে দাও পরিপাটি শাড়ির আঁচল।
    • রক্তজবার কাছে যেয়ো না শিশু কবিতা থেকে
  • কেউ কেউ ছিন্ন হতে হতে
    জুড়তে থাকেন জীবন।
    কেউ কেউ বিচ্ছিন্ন হওয়ার
    আশঙ্কায় ছিন্ন হয়ে বাঁচেন।
    ছিন্ন হয়ে যাওয়া মানে
    বিচ্ছিন্নতা নয়,
    ছিন্ন হওয়া মানে পরবর্তী
    সঙ্গম প্রস্তুতি হতে পারে।
    • বিচ্ছিন্নতা কবিতা থেকে
  • একের সাথে নানান কিসিম
    ধর্ম-কর্ম করতে পারে,
    ওপরে ওঠে, নিচেও নামে,
    কইতে এবং সইতে পারে।
    • মানবিক ইস্কুল কবিতা থেকে
  • সচরাচর না বলা কথা
    একান্তে বলে দেওয়া হলে
    তা আলাপ হয়ে যায়।
    প্রকাশ্য উচ্চারণ যদি
    বিব্রতকর হয়ে যায়,
    তাতে প্রলাপের চিহ্ন থাকে।
    কারও কারও সাথে আলাপ হয়
    কারও সাথে চলে প্রলাপ।
    • প্রলাপ কবিতা থেকে
  • এক বিকেল শূন্যতা নিয়ে
    বিগত প্রেমিকার সাথে দেখা হলে
    জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস ফুরিয়ে
    যাওয়ার আগেই জীবন নেমে আসে।
    নেমে আসা জীবন মানে
    আরোপিত দীর্ঘশ্বাসে ভরা
    এক ছনক্ষেত, যার ভেতর
    ছড়ানো হয় শস্যদানা।
    • বিকেল কবিতা থেকে
  • এক অন্ধকার জগৎ জুড়ে
    নিজেকে নিজের অধিকারে
    রেখে দিয়েই ক্ষান্ত হওনি বলে
    আলোর দুনিয়া অসহ্য লাগে।
    • অ্যান্টি সোশ্যাল পার্সনালিটি ডিজঅর্ডার কবিতা থেকে
  • সিগারেটের চেয়ে বিড়ি
    বিড়ির চেয়ে হুক্কা
    কিছুটা সমাজতান্ত্রিক।
    • সমাজতান্ত্রিক হুক্কা কবিতা থেকে
  • মালিক শেখাচ্ছেন কর্মচারীদের
    চুরি করা মহাপাপ।
    মা শেখাচ্ছেন মেয়েদের
    স্বামী বশীকরণ মন্ত্র
    স্ত্রী বুঝাচ্ছেন স্বামীকে
    আলাদা জীবন মানে ভবিষ্যৎ।
    স্বামী বুঝাচ্ছেন স্ত্রীকে
    পৃথিবীর সকলের প্রতি দায়বোধ।
    • বোঝাবুঝি কবিতা থেকে
  • মৃত্যুর পরে যাঁরা জান্নাতপ্রাপ্ত হবেন,
    তাঁরা হুর আর গেলমান পাবেন এবং
    শিশুদের শ্রম চুষে নেওয়ার কথা
    জাগতিক সংবিধানসম্মত নয়।
    • ব্যাটম্যান কবিতা থেকে
  • নিয়মিত অফিস করেন,
    পাবলিক চাপ বহন করেন
    বসের একটু ঝাড়িও খান,
    কলিগদের হাসিতে ঝুলেন
    বন্ধুদের টিপ্পনীতে মজেন
    তিনি ওভারটাইমও করেন।
    যখন-তখন অর্ডার শোনেন
    ছেলেমেয়ের মন রাখেন
    মায়ের অসুখের চাপে ভুগেন
    স্বজনদের আঙুল দেখেন।
    • এনভায়রনমেন্টাল টর্চার কবিতা থেকে
  • ভীষণ ক্ষমতা নিয়ে
    তুমি জন্মেছ বলেই
    তোমাকে অনেক ভয়।
    তুমি উঠে, ঢুকে
    অথবা বের হয়ে
    বদলে দিতে পারো বিশ্ব।
    • আঙুল কবিতা থেকে
  • উঠে এসো হাতে আঙুলে আঙুলে,
    নেশাগ্রস্ত সাপ হয়ে আমাকে চুম্বন করো
    অথবা আমিই করি বিভ্রান্ত জাদুকর।
    ইশারায় হয়ে উঠো এক জীবন্ত নারী,
    আর আমার জন্য ফেলে যাচ্ছ
    শাপগ্রস্ত শব্দহীন মৃত্যুর পাঠশালা।
    • চুম্বন কবিতা থেকে
  • তুমি গলিয়ে, উঁচু হয়ে
    চলতে পারো।
    যখন-তখন প্রয়োগ করো
    সিটকানো ক্ষমতা।
    • নাক কবিতা থেকে
  • দাঁড়িয়ে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে
    বুঝে নিতে চাও অনুচ্চারিত
    বাস্তবতার সূক্ষ্ম অনুরণ।
    একদিকে শুনে আরেক দিকে
    বের করার স্বভাব নিয়ে জন্মেছ
    বলে সময়মতো নিজেকে
    বন্ধ রাখতে পারো অনায়াসে।
    • কান কবিতা থেকে
  • পরস্পর আলিঙ্গনবদ্ধ
    জমে থাকা চুম্বনসিক্ত
    রহস্যময় হয়ে বাঁচো।
    দ্বিতীয় বন্ধনী উল্টে-পাল্টে
    পৃথিবীর যাবতীয় রস
    ধারণ করে আছ।
    • ঠোট কবিতা থেকে
  • প্রেমিকারা জীবন বদলের
    কথা বলতে চাওয়ার আগে
    চায়ে চুমু দিতে দিতেই
    জীবন শুরু হয়ে যায়।
    প্রেম একধরনের দাসত্ব-
    এ কথা ভেবে নিয়েই
    প্রেম পলাতক হয়েছিলাম
    হিজলজীবনের শুরুতে।
    • জল ও হিজল কবিতা থেকে
  • এক নিরাপত্তার বলয়
    হয়ে আড়াল করে রাখো
    বাইরের দৃশ্যজাল।
    প্রতিদিন নিয়ম করে
    তোমার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
    জালের ভেতর ঢুকে যাই।
    • ঘর কবিতা থেকে
  • ডানোর কৌটার ভেতর
    এককালে লুকিয়ে থাকত
    শিশুদের বিস্ময়।
    আজকাল এইসব প্রথা
    উঠে যাওয়ার পরে
    সবখানে নেমে এসেছে ভয়।
    • এনার্জি বিস্কুট কবিতা থেকে
  • যখন রক্তে জমে উঠো
    তোমাকে উপেক্ষা করা দায়।
    মায়ার ঝিলিক হয়ে
    গাও প্রশান্ত জীবনের গান।
    জগৎ দেখে দেখে
    জাগো এক বিস্ময় জ্ঞান।
    • চোখ কবিতা থেকে
  • অনেক লম্বা হয়ে দূরবর্তী
    যাও বলে ভয়ানক লাগে।
    গড়ে যাও সভ্যতা-সংকট
    কর্মময় বহুমুখী পথ
    কালো হওয়ার স্বভাব পেয়ে
    গেলেই মুষ্টিবদ্ধে ভয় পাও।
    দুইয়ের মধ্যে যেটা বাম,
    তা ঠেলে দিতে পারো অনায়াসে।
    • হাত কবিতা থেকে
  • হৃদয়ে জমিয়ে রাখা তেল পুড়িয়ে

নিজেকে নিঃস্ব করে জ্বলো আগুন।
আলো হয়ে ঢুকে যাও জগতের
আরাধনা অন্ধকার গৃহের কোনায়।
জগতের প্রতিটি জীবন তোমার
প্রতিচ্ছবি হয়ে নিভে যাবে একদিন।

    • কুপিবাতি কবিতা থেকে
  • চাইতেই না পাওয়া গেলেই
    উত্তেজনা বেড়ে যায়।
    একালে নানা রকম উত্তেজনা
    অহরহ ছড়িয়ে দিয়ে
    দিনকে ধরে রাখার প্রয়াস
    নিয়ে চাঁদকে পেছনে
    রাখে রঙ্গিনী ল্যাম্পপোস্ট
    কোথাও কোনো স্নিগ্ধতা নাই,
    আছে উত্তেজনার উত্তাপ।
    • উত্তেজনা কবিতা থেকে
  • নয়া পানির তিতনা পুটি
    সাজু গুজু করে
    জারই কাঠের নৌকা লইআ
    বন্ধু খালি ঘুরে।

    বিলের মাঝে চাইপলা পনা
    রূপার ঝিলিক মারে
    সেই দেশের বন্ধুর লাইগ্যা
    মন আনচান করে।
    • চট্টনের গীত কবিতা থেকে
  • কাল এই শহর ছেড়ে চলে যাব,
    পরশু শুরু হবে ব্যক্তিগত জীবন।
    আমাদের খণ্ড খণ্ড মায়া ছড়িয়ে
    গড়ে উঠবে চির সবুজ মানচিত্র।

    নিয়মিত ব্যক্তিগত বিদায় চলমান
    থেকেই শুরু হয় প্রতিটি সকাল।
    আমাদের সকাল হবে প্রতিদিন,
    নিতে হবে আগামী জীবনের শপথ।
    • "বিদায়বেলার কবিতা" কবিতা থেকে
  • যারা আমার প্রেমিকা,
    ছিলেন ভুলে,
    এখনই সময়, ডুবতে
    পারেন জলে।
    • অতল কবিতা থেকে
  • ইস্ট-ইণ্ডিয়ার একসনা বন্দোবস্ত লোভাতুর চোখে
    তাকিয়ে আছেন তন্ত্রসাধকের লোমশ বুকে।
    পাঁচসনা নবাবের সাথে ডিনার হচ্ছে প্রতিদিন,
    ক্লাউন দেখার জন্য সার্কাসে যেতে হয় না আর।
    • বিজ্ঞান কবিতা থেকে
  • গিলে খাব এই মাধবী রাত
    নিয়ে এসো গ্লাস,
    খালি করে দেব অনভ্যাস
    ফেলে দেব দীর্ঘশ্বাস।
    • মাধবী রাত কবিতা থেকে
  • অমাত্যবর্গের মাথায় জগৎ শেঠের টুপি
    বেপরোয়া কর্মযজ্ঞে নবাবীয় ভাঁড়ের দল
    দুয়ার খোলে বসে আছেন কাশিমবাজার কুঠি
    দ্যুতিময় ফুটে উঠছে মীর জাফরের তরবারি।
    • জগৎ শেঠের টুপি কবিতা থেকে
  • ত্রিশূলে রেখেছি হাত ভিখিরিপুত্র আমি
    স্বজ্ঞাত কলাচক্র ভেদ করে আনি বিষ।
    নিজের সঞ্চয় রাখি গুহায় লুকিয়ে
    বের করি দুই হাত অকপর্দক বাতাস।
    • মাধুকর কবিতা থেকে
  • চুলে গেঁথে আছে জারুলের ফুল
    গলায় পরেছ সোনালুর মালা,
    ভেতরে আমার কংস-সোমেশ্বরী
    ছুঁয়ে যায় সবুজ প্রেমের টিলা।
    • শাদা মাটি কবিতা থেকে
  • নিচের দিকে ক্লাসরুম
    তার ওপরে ডাইনিং
    তারও ওপরে বাসনা।
    ক্লাস বিরতির সময়
    ডাইনিং শেষে পথ ভুলে
    সিঁড়ি বেয়ে ওপরে চলে যাই।
    • প্রবণতা কবিতা থেকে
  • বরুণগাছের তরুণ ডালে
    ফড়িং ডানা ওড়ায়,
    বরুণ ফুলের তুচ্ছ জীবন
    কাটছে অবহেলায়।

    নদী গেছে বাঁধের পেটে
    বরুণগাছটি আছে,
    কাঠের দামে হয়নি বেচা
    অবহেলায় বাঁচে।
    • করুণ কবিতা থেকে
  • খুব বেশি দিন আগে নয়,
    ধরুন, নব্বইয়ের আগে
    এবং নব্বই সালে এই দেশে
    স্বৈরাচারবিরোধী একটা
    আন্দোলন চলতেছিল।
    সেই সময় থেকেই ক্যাডার
    শব্দটি আমাদের অস্থিমজ্জায়
    মিশে যেতে যেতে রাষ্ট্রীয়
    মগজপোকা হয়ে ঢুকে গেছে
    সুশাসনে, শিক্ষায়, সেবায়।
    • ক্যাডার কবিতা থেকে
  • রাত হলেই ফিরে আসি
    নিজ দেহে,
    অযাচিত ভ্রম ছেড়ে।
    • ফেরা কবিতা থেকে
  • ব্যক্তিগত জীবনবোধের বাইরে
    প্রথাগত সামাজিক বিন্যাসে
    পাঠ করেন ব্যর্থ হলফনামা
    আর কাটান সময় ধীর বিশ্বাসে।

    রাত হলেই ব্যস্ততা বেড়ে যায়
    জাগতিক জীবন ছেড়ে আসেন,
    পাপগন্ধ সময়কে উপেক্ষা করে
    নিজস্ব পদ্ধতিতে সময়েই ভাসেন।
    • কবিরা আছেন কবিতা থেকে
  • মৃতদের শহরে বেসামাল হয়ে আছি
    ঘরগুলো আতঙ্কিত হয়ে নিঃশব্দ।
    টিভির পর্দায় নিমগ্ন অবিশ্বাস
    ছুড়ে দেয় অনন্ত অসমাপ্ত চ্যালেঞ্জ।
    কিছুটা শব্দ বিক্রি করতে আসেন
    ম্যাজিক মশারির ফেরিওয়ালা।
    • অচেতনা কবিতা থেকে
  • আমাকে সভ্যতা শিখিয়ো না,
    আমি ভূমির পুত্র।
    আমার জানা আছে, পিতার ঘাম খেয়ে
    হেসে উঠে শস্যদানার আচানক ফুল।
    তোমাদের ভিত নেই হে ফানুস
    যদি না থাকে আমার হৃদয়।
    • ভূমিপুত্র কবিতা থেকে
  • নিয়ম করে রক্তক্ষরণ না হলেই অজানা
    আশঙ্কায় বুকের ধড়ফড় বেড়ে যায়।
    কেউ কেউ এর অপেক্ষায় থাকেন
    আগামী জীবনের প্রতিশ্রুতি বুকে নিতে।
    • ইশতেহার কবিতা থেকে
  • দুই টুকরো পাথর হলে
    ছড়িয়ে দিতে পারি পশমি ওম।
    এই শীতে কম্বল মুড়ে শুয়ে আছো তুমি,
    আমি তার ভেতর ঢুকব বলে
    মশারির এক পার্ট তুলে দাঁড়িয়ে আছি।
    • রাজনীতি কবিতা থেকে
  • বিনত ব্রিজ পেরিয়ে যাচ্ছি
    যার নমনীয়তায় অবদমিত
    হয়ে গেছে জলের যৌবন।

    বাম পাশে শুয়ে আছে
    নীরবতার রাতে বিছিয়ে
    দেয়া ঢালাই রাস্তার সুখ।
    • নিয়ম কবিতা থেকে

পাপের শহরে

[সম্পাদনা]
  • জীবন দিয়ে যাকে কিনতে চেয়েছিলাম,
    কে জানত, বিপন্ন বেদনার সময়টা কাটিয়ে দিতে
    সুনসান নীরবতা হয়ে উঠবে তার জাতীয় সংগীত?
    জলের নরম শরীর ছুঁয়ে ভেসে ওঠা ঝিঁঝি প্রতিধ্বনি,
    বিকেলের সোনালি আভায় জমে থাকা দুঃখ,
    সন্ধ্যার বাতাসে কুপি আলোর নাচানাচি ঝিম,
    সময়ের শিহরণ পেতে মাটিগন্ধা জীবন কি পাব?
    মনে হয়েছিল একদিন
    তোমাকে পাব জাদুকরী পাতার শাঁইশাঁই প্রেমে।
    • না পাওয়ার বেদনা কবিতা থেকে
  • সবুজ ঘাসের জীবনে প্রেমিকা হয়ে
    জমেছিল শিশিরের ঝিলিক জীবন।
    বিন্দু ঘটনার স্নিগ্ধতা মুছে দিতে চায়
    সূর্যস্পর্শা প্রেমমুক্ত শিশির লবণ।
    প্রেমিকা বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার পর
    বাতাসে ভর করে আকাশ নেমে আসে।
    বেদনার বৃত্ত বয়ে পুনরায় ইতিহাস হতে
    ঘাসের জীবন ভাসে ঝিলিক বাতাসে।
    • অবদমিত বৃত্ত কবিতা থেকে
  • অন্ধকার জাগিয়ে তুলে অনুভূতির গোপন বাসনা।
    রাতের প্রেমে যদি হয়েই যাও আহা ফানা ফানা!
    মেলে দেখা সময়ে কাক-পক্ষীর কালো মুখ থাকবে না।
    যাও পক্ষী রাতের প্রেমিক ঝিমমারা জীবন ভ্রমণ,
    আলোয় দুঃখ পেয়ে চেঁচামেচি পেয়ে যাবে দিনের লবণ।
    • একটি নির্দিষ্ট প্রেমের নাম রাত কবিতা থেকে
  • মগ্নতা এক ব্যক্তিগত জীবন,
    নারীর হৃদয়ে ঢুকে
    নিতে পারো মগ্নতার পাঠ।
    • মগ্নতা কবিতা থেকে
  • স্বামীর সাথে স্ত্রী, স্ত্রীর সাথে স্বামী
    একেকজনের ছায়া;
    হাত দেখালে হাত উঠে, পা দেখালে পা
    জড়িয়ে থাকে মায়া।
    • দাম্পত্য কবিতা থেকে
  • বুড়ো লোকটির পিঠে মানবাধিকার
    চলছে ভীষণ দিন প্রতিহিংসার,
    ভেঙে যাওয়া সাঁকোটার আর্তনাদ শুনি
    দেশে দেশে গণতন্ত্রের বাজে জয়ধ্বনি।
    ভাসমান মানুষের ঢল নামে অবিরাম
    ভূমিতে-পানিতে মানবতা হচ্ছে উদাম।
    • গণতন্ত্রের গান কবিতা থেকে
  • জন্মেছিলাম বাউল হইয়া
    তুমি হইলা একতারা,
    সুরের পাখি উইড়া গেল
    তুমি আমার ঘরছাড়া।
    ঘরের মধ্যে ইন্দুর ছিল
    গর্তে গর্তে ভিত্তি নাড়া,
    মাটির কুটির ছিন্নভিন্ন
    অসংসারী দিশাহারা।
    • "বাউল জন্মের গান" কবিতা থেকে
  • লাগালাগি বাড়ির পরে বাড়ি
    উঠানের পরে উঠানের পথে,
    তুমি চইলা যাইতেছ সাদা সাদা
    চান্দের জীবনের ছায়া ফুরাতে।
    পথে পথে আমগাছ, গাবগাছ
    জঙ্গলে বাঁশপাতা আলো তুলে রাখে,
    চিকন নিরালা পথ ভাইঙ্গা যাইতে
    ছায়া শরীর আবছা আবছা দেখে।
    আন্ধারে লুকায়ে রেখেছ মুখ
    বুকে এক ভয়ানক অসুখ।
    • উঠানের পথ কবিতা থেকে
  • চট্টনে যাইতে যাইতে মরা শামুকের শরীরে
    পা রাইখা চলতে চলতে মটমট শব্দ জীবন
    পার হয়া তুইলা আনি গিমাই শাকের শক্তি।
    ফিরতি পথেই রাজা আইলের ফাঁকে দেখা
    সাক্ষাতে থাকে সাপদের লম্বাটে ডিম ভয়।
    • সুপারি-জীবন পান কবিতা থেকে
  • উরাত পানিতে যে করচগাছগুলা খাড়াইয়া আছে
    তার চিপায় চাপায় লুকাইয়া আছে কয়েকটা মাছ।
    প্যাচাইয়া-পুঁচাইয়া ডালে ঝুইলা আছে এক-দুইটা,
    সাপ আধার ধরবে বইলা জিহ্বা নাড়াইতেছে।
    দুনিয়ার সকল লীলা ঢুইকা আছে সাপদের জিহ্বাতে
    আর ধুনি ধুনি মাছদের পলাবন্দী খেলা চলতাছে।
    • জলজীবন কবিতা থেকে
  • চৈতের পরে আসবে সোনা রং ধান-
    এই নিয়ম হাওরের কালে আবহমান।
    আইল রাজা আইল চায়া দেখে খাড়া
    হয়ে আছে সারি সারি হিজার চেহারা।
    বৈশাখ আসার পরে শোধ হবে দাদন,
    আবুদুবের শরীরে উঠবে নয়া পিরান।
    ঘরের ভেতরে স্বপ্ন রাইখা উদাসী জীবন
    চুকরায় রাখবে মাছ, পানিতে দিবে ভাসান।
    বৈশাখে নয়া পানিতে আল্লোয়ারা হবে
    থুড়ি আর কুচের নিশানায় রাত থেমে যাবে—
    এই রকম কথা থাকলেও ডাইকা উঠে মরণ,
    অসময়ে ঢল আইসা উল্টায়া দেয় প্রথার জীবন।
    হাওরে বৈশাখ আসে ফসলহানির সংবাদে
    বণিক মাইনষের দল ডাকে সাময়িক প্রতিবাদে।
    • হাওরে বৈশাখ কবিতা থেকে
  • বিছুনের সাথে ডাউগার প্রেম
    যখনই ভাইঙ্গা যায়,
    শরীর জ্বইলা জাইগা থাইকো
    অন্তরের জ্বালায়।
    হেলাইয়া-দোলাইয়া বিছুন
    শইল্লের ওপরে পড়ে,
    আধা ঘুমের জীবন যায়রে
    পীড়িত জমে কাপড়ে।
    • বিছুন কবিতা থেকে
  • বাঁশের খুঁটি দিয়া তুমি বানাইছিলা উগার
    তার ওপরে চলতেছিল উগারের সংসার।
    গোবরে লেপ দিয়া মাটির ঘরে আছিলা
    এক পাশে ছাগল বান্ধা অন্য পাশে চুলা।
    উগারের তলে আছিল চেংরা মুরগির উম
    ছিক্কার ভেউট্টায় ঝুইলা আছে হিদল আর ডিম।
    • প্রেম-সংসার কবিতা থেকে
  • তার পৃথিবীতে কুয়াশার ঝড়
    পাতায় ধূলিকণা জমে আস্তর।
    কেন্দ্রবিন্দু দেখো চন্দ্রবিন্দু
    জাদুকরী সময় এসে গেছে,
    নীলাভ জলের ভাগ্য আছড়ে
    সতেজ সবুজ ধানে পড়েছে।
    মহাশোল মাছের মতো নরম
    আদিগন্ত বিশ্বাসে নত প্রেম।
    • যাপন কবিতা থেকে
  • একদিন কবিকে ধরে এনে তাঁকে
    স্পেশাল সিকিউরিটি দিতে বলা হলো-
    বাহিনীর লোকজন প্রস্তুতি নিয়ে
    বারুদের মাহাত্ম্য প্রচারে নেমে গেলেন।
    • সিকিউরিটি কবিতা থেকে
  • একটি ট্রাক পেছন থেকে একটি
    সিএনজি তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে,
    চার চাকার ট্রাকের পেছনে পেছনে
    তিন চাকার সিএনজি ফলো করছে।
    • দৃষ্টিভঙ্গি কবিতা থেকে
  • যাঁরা ওষুধের কারবার করেন
    তাঁরা ঠাঁয় জমে থাকেন,
    জমানো দুঃখ নিয়ে সংসারে
    বনসাই জীবনের পাঠ নেন।
    পাশ দিয়ে যেতে থাকে সময়,
    চিকিৎসা আসে আর যায়।
    সকাল-দুপুর-বিকেল হয়ে রাত
    অনির্ধারিত বরফ জন্মায়।
    • ঔষুধের কারবারী কবিতা থেকে
  • জীবন বিলিয়ে দেন সময়ের খাতায়
    শিশুদের ভেতর ঢুকান স্বর্ণলতার সকাল,
    স্বর্ণলতার কারিকুলামে ডুবে
    নিজেকে হারিয়ে হরণ করেন শিশুকাল।
    তবু তাঁর জীবন আত্মত্যাগের
    স্বর্ণলতা বানাতে থাকেন মহান কারিগর,
    প্রডাকশন দিচ্ছেন চাহিদার বাজার
    নিতান্ত নিরুপায় বৃত্তে চলে তাঁর সংসার।
    • প্রাইমারি টিচার কবিতা থেকে
  • আহা এই চণ্ডালিনী গরম
    দারুণ এক অপ্রত্যাশিত ছোবল,
    স্থির হয়ে থাকা শূন্যতা
    চেপে ধরা দুপুরগুলো ভীষণ প্রবল।
    না চাওয়ার ভেতরে-ভেতরে
    সরব ভিজে উঠো লবণাশ্রিত প্রাণ,
    থেমে আছে দৃশ্যকলা
    নেই পথচলা, আছে স্থির বিরান।
    • গরম কবিতা থেকে
  • চূড়ান্ত দুঃখবোধ ছিল না কোনো দিনই,
    বরং দুঃখ ঘুচানোর চেষ্টায়
    ঘোরের জীবন বয়ে যায়।
    কবিতার মতো জীবন পেয়েছিলাম বলে
    তোমাকে স্পর্শ করা হয়নি-
    ভুলে যাই ঘর।
    • কনফেশন কবিতা থেকে
  • জীবনের প্রথম পাঠ শরীর-বিজ্ঞান
    সবুজ ঘাসের মাঠে অবারিত ধান,
    ঝিরিঝিরি রজঃস্বলা গোপাট জীবন
    প্রমত্তা নদী ছিল কাছাকাছি স্বজন।
    কাদাময় সময়ে ছিল ধুলোর আসন
    ঢেউ ঢেউ বাতাসে জেগে উঠা হাওর।
    মাটি পাঠে পেয়ে গেছি চাষার জীবন
    কর্ষণে শিখে গেছি অমৃত রোপণ।
    • চল্লিশ রজনী শেষে কবিতা থেকে
  • গোপন বাসনাগুলো এমনই হয়, যারা
    জীবনকে থামিয়ে পাল্টে দেয় বাতাস।
    চলমান বাস্তবতায় ফিরে ফিরে এসে
    থামিয়ে দেয় বাসনারা জীবনের বিশ্বাস।
    ধাবমান ঘোড়ার খুরের জীবনে
    গন্তব্যে যাওয়া ছাড়া বাসনা থাকে না।
    অথচ পথের ধারে রাশি রাশি সবুজ
    বিস্ময় হারিয়ে যায়, বিকল্প দেখি না।
    • বাসনা কবিতা থেকে
  • পৃথিবীর তালগাছটির ভেতর
    তাকিয়ে দেখি একজন আমি।
    আমার ভেতরে আমি,
    তালগাছের ভেতরেও আমি।
    পৃথিবীর তালগাছের ওপরে থাকা চাঁদ
    রাতকে জাগিয়ে রাখে নির্ঘুম।
    • "আমি" কবিতা থেকে
  • অকারণ দৃশ্য যোগে গড়ে উঠে
    অগণিত ফ্রেম,
    আহা জীবন!
    তুমি সুতোয় শিকলে জাগা প্রেম।
    কিছু কিছু পাঠ থাকে যূথবদ্ধ
    একের সাথে অপর,
    কিছু দৃশ্য অকারণে সাথে থাকে
    অদৃশ্য সুতার।
    • অকারণ দৃশ্য জীবন কবিতা থেকে
  • তুমি বরং আড়ালেই চলে যাও,
    আড়াল থেকে আড়াল দেখতে পাও।
    গোপন বেদনায় বিদ্ধ করো পাপ
    আড়ালেই চলুক মুচকি ইশারালাপ।
    • আড়ালেই যাও কবিতা থেকে
  • শীতনিদ্রায় যাব
    হিমঘরের নিস্তব্ধতায়।
    পশমি উলের চাদরে ঢাকা হবে শীত,
    খেজুরগাছের কষ্ট নিয়ে
    অচিরেই শীতনিদ্রায় যাব।
    কুয়াশার পকেটে হারিয়ে যাওয়া
    বালিকাটির ফেলে যাওয়া পথ
    দেখতে দেখতে শীতনিদ্রায় যাব।
    • শীতনিদ্রায় যাব কবিতা থেকে
  • আমাদের পৃথিবীর উত্তরে
    মাটিগন্ধা জীবনে চলতে চলতে
    যে আকাশটা পাওয়া গেছে
    তার প্রেরণায় আছে আলাদা জীবন
    আমাদের আলাদা জীবন
    আমাদের আলাদা প্রেম
    আমাদের আলাদা মাটি
    এবং এই সকল আলাদা
    থেকে জাগা আরেকটি পৃথিবীতে
    বেড়ে উঠে সম্ভাবনা সময়।
    • খালেকদাদ চৌধুরীর স্মরণে লেখা উত্তর আকাশ কবিতা থেকে
  • কোন অভিমানে তাকিয়েছ দূরে?
    কেউ নাই কেউ নাই কাছাকাছি,
    আর হবে না জেনো যত্ন বসবাসে
    ফিসফাস ভালো বাসাবাসি।
    যদি পুনর্বার জগতের সব প্রেম
    ফিরে আসো অন্ধকারের ঘরে,
    আলো হয়ে ঢুকে যেতে পারো
    কেউ দেখবে না তোমায় অন্ধকারে।
    যে রাজত্বের নেশায় বেচে দিলে জীবন,
    সেই অন্ধকারে তুমি নিতান্তই সাধারণ।
    • জীবনযাপন কবিতা থেকে
  • চাঁদের বেলায় কেউ থাকে না
    একলা আকাশ তারার দেশে,
    মাতাল হয়ে আলিঙ্গনে
    বিদ্ধ থাকে মেঘ বাতাসে।
    আলোয় আলোয় ভরাট জগৎ
    স্নিগ্ধ প্রেমের উসকানিতে,
    চাঁদের বেলায় তুমিই ছিলে
    আমার সাথে ব্যালকনিতে।
    • চাঁদের বেলায় কবিতা থেকে
  • সকাল থেকে সন্ধ্যায়
    জীবনের ব্যাকুল সময় যায়,
    দিন এক জাগরণ বিষয়
    জেনে ব্যথারাও ঘুমায়।
    • ব্যথা কবিতা থেকে
  • বন্দের মাঝখানে ছাতিমগাছটা
    ঝিলিক দ্বীপের মধ্যে পাহারাদার হয়ে
    খাড়াইয়া থাকে, ফসলের জীবন দেখে।
    কামলারা দলে দলে এইখানে জিরায়
    আর ভোগ করে মরিচের জীবনানন্দ।
    গামছা বিছাইয়া গরমের কালে
    তবনে জড়ানো ভাত আলস্যে খুলে
    গিলতে গিলতে দুপুরবেলা কাটে।
    আঁজলা ভরা পানিতে চুমুক দেওয়ার
    পরে বিড়িটানা সময়ের সাক্ষী এই গাছ।
    বন্দের নিশানা হয় এইসব গাছ,
    গাছের নিশানায় থাকে কামলা মানুষ।
    • নিশানা কবিতা থেকে
  • রক্ত আমাশয় বানিয়ে
    স্যালাইন পুশ করিয়ে
    বাঁচিয়ে রেখেছি রোগী
    বেঁধে রেখেছি তোরে
    মাটির মায়ার জোরে
    আত্মপ্রেমের যোগী।
    • মাটির মায়া কবিতা থেকে
  • পাওয়া আর না পাওয়ার মাঝে
    লুকায়িত সূক্ষ্ম অনুভূতিতে সে ছিল,
    হয়তো কোনো কালে ছিলই না।
    অধরা অমৃত কোনো দিন দিবে না ধরা,
    বিষণ্ণ বিকেল গড়িয়ে হবে রাত
    আর আমাদের আহাজারিতে
    রোদনে ভরে উঠবে সারা দুনিয়া।
    • দূরাগত কবিতা থেকে
  • রাতের গ্লাস খালি হলে তোমাকে দেখি
    অতিরিক্ত আদর ছাড়া রাত অচল।
    এই নিয়মে ব্যত্যয় ঘটতে ঘটতে
    ক্রমাগত মরে যায় আমাদের অনুভব।
    • নিয়ম কবিতা থেকে (বিদ্র কবি একাধিক গ্রন্থে একই শিরোনামে দুুইবার ভিন্ন কবিতা লিখেছেন)
  • শামীমের হাসিমাখা মুখ
    আমাদের ছেড়ে গেছে
    পার করে জীবনের অতীত
    আর আমাদের বন্ধুত্ব।
    আমরা কী জানতাম
    জীবনের সকল আকাঙ্ক্ষার
    পেছনে দাঁড়িয়ে থাকে
    অমোঘ এক পরিণতি?
    শামীমের আকাঙ্ক্ষা ছিল মর্যাদার।
    তার লড়াই ছিল চিরায়ত।
    আমরা শোকাহত তোমার বিচ্ছেদে,
    হয়তো এ এক অনন্ত বিচ্ছেদ।
    • সহকর্মী শামীম খানের অকালপ্রয়াণে শোকাহত হয়ে লেখা "শামীম খানের জন্য শোক" কবিতা থেকে
  • এক স্থিরচিত্র ও বিষয় জেনে
    আটকে থাকি স্মৃতিচারণা বলয়ে
    না বলা ইচ্ছার প্রেরণায়
    জীবন ভুলে যাই।
    • অতীত কবিতা থেকে
  • ফিটফাট জীবনের লাল ঘোড়ার
    তীব্র গতিময় খুরের উল্লাসে
    পাল্টে যায় গতিপথ বাতাস বিশ্বাস
    আর পড়ে উঠে সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়।
    অধ্যায় আর অধ্যাপক মিলে
    গিলে খাওয়া সমাজ সংসারে,
    আমাদের হৃদয়ে টুপ করে ঢুকে
    যায় জীবাণুঘটিত বিশ্বাস।
    • হৃদয়ে অসুখ হলে কবিতা থেকে
  • না মানলেও গোলাপে তাকাও,
    চক্ষু দিয়া দুঃখ দেখা যায় না।
    • দূত কবিতা থেকে

পুরোনো ডায়েরি থেকে

[সম্পাদনা]
  • পানপাত্র হাতে অদূরে দাঁড়িয়ে আছ
    তুমি আগুনের চক্রব্যূহে
    তোমার সৌন্দর্যের কাছে নতজানু হয়ে
    তৃষ্ণায় মরে যাচ্ছি দেখো।
    • ১ নং (২০০৩)
  • আমি যখন গোল্লাছুটে ছিলাম
    শ্যামবর্ণের বালিকাটি হয়ে গেল নিলাম,
    প্রবাস থেকে পেট্রো ডলার এসে
    হৃদয় থেকে ভালোবাসা নিয়ে গেল শুষে।
    রক্তে যখন আদিম খেলা ছিল।
    এক জটিল নারী স্পর্শ দিয়াছিল,
    অভাব তখন দিল এমন থাবা
    তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিল অসম প্রেম-প্রভা।
    • ২ নং (২০০৩)

অন্ধ সময়ের ডানা

[সম্পাদনা]
  • আমি এই পবিত্র মাটির পাত্র ছিলাম
    আমি এই বন জঙ্গলের ইচ্ছে পাখিও ছিলাম
    মুক্তির নেশায় পবিত্র মাটির সাথে খেলতে গিয়ে
    ক্রমাগত তফসিলি আদিবাসী হয়ে গেলাম।
    আমি আদিবাসী হয়েও খ্রীস্টান হয়ে গেলাম,
    আমি খ্রীস্টান হয়ে অধিকতর সংখ্যালঘু হলাম।
    • "সংখ্যালঘু" থেকে
  • ছেলেবেলায় ধূলিবালিতে খেলতে গিয়ে
    চামড়ায় লেগে থাকত মলিন আঘাত।
    আমার দাদি গোসল করাতেন আর বলতেন
    এত ক্ষত দেখে ডাকাত জ্ঞানে তোরে পুলিশে নিবে।
    • "পুলিশ" থেকে
  • রাজপথ খেয়ে নিচ্ছে মাটির সৌন্দর্য
    নতজানু ঘাসেরা পার্কে পার্কে সমতল।
    রাজপথে দানবের দল হাজারো ফ্রাঙ্কেস্টাইন
    একটি গোলাপের পতনের অপেক্ষায়।
    • "আত্মঘাতী" থেকে
  • হিরিম্বার প্রেমে মজে আছি ভীম
    ছেড়ে এসে নিজের কৌম,
    অবাক প্রতিকূলে জমে আছে
    বিশ্বাস অন্ধকার সার্বভৌম।
    থেকে গেছি অনায়াসে নিজের
    নগরী ছেড়ে প্রকৃতির শ্বাসে,
    রাক্ষস বলে যাদের জেনেছি
    তারা রাক্ষস নয় ঢুকেছে বিশ্বাসে।
    • "হিরিম্বা প্রকৃতির কন্যা" থেকে
  • যে মানুষটি ছেলেবেলায় বৈষম্যের বিপরীতে
    দাঁড়াতে দাঁড়াতে একদিন স্বপ্নের বিনিময়ে
    নেমে গেছে অন্ধকার পথ বেয়ে অন্য জীবনে।
    আমি তারে চিনে গেছি, মার্কিং করা আছে
    জীবনের ভাঁজে ভাঁজে লুকানো কয়লায়
    কতটুকু নষ্টের সীমানা বদ্ধ জাগতিক মোহে।
    • "বিপ্লবী" থেকে
  • যে কোনো মুহূর্তে গড়িয়ে পড়তে পারে মগজ।
    বন্ধুদের চাপাতিতে চকচকে রক্ত ইচ্ছায়।
    তুমি কারো বন্ধু হতে যেও না,
    নিজেকে রক্ষায় নামো। বন্ধুহীন যাও সময়।
    আপাতত রাজনীতি রক্ষা কবচ ভেবে ভুল
    সময়ের ফাঁদে আঁকে গেছে বন্ধু ও স্বজন।
    • "বন্ধুর চাপাতির ইচ্ছায়" থেকে
  • অতি বালকবেলায় শুনেছিলাম ঈশ্বরের
    সিংহাসন এলাকায় বিশেষ বিশাল গাছ
    অসংখ্য পাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অবিরাম।
    অসংখ্য পাতাগুলো একেকটা মানুষ জীবন,
    লাল হতে হতে টুপ করে ঝরে যাওয়ার সাথে
    মৃত্যুর শীতল আলিঙ্গনে মানুষেরা ঝরে যায়।
    • "মৃত্যু এবং লাল হওয়া পাতা" থেকে
  • বুড়ো লোকটি যার ক্যান্সার ধরা পড়েছে গত সপ্তাহে
    সে আজ শুয়ে আছে ভূমি অফিসের বারান্দায়
    হাসপাতালে যাওয়ার আগে এখান থেকে নিতে হবে সেবা।
    ঠিক পাঁচ বছর আগে জমি সংক্রান্ত মিথ্যা মামলায়
    জড়িয়ে তার একমাত্র ছেলেটি কোর্টের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে
    জনৈক উকিলের মহুরি হয়ে মামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
    • "হালচাল" থেকে
  • আমি নদীগর্ভজাত ভাসান মানুষ,
    ছেলের প্রজ্ঞানে নিপা পুরুষ,
    মা অনেক দূরের বিল বা মাঠের কিনারায়।
    স্ত্রী বলে, সবকিছু নদীতে রেখে
    একা বাতাসের সাথে ফিরে এসো ঘরে।
    • "একা" থেকে
  • নিজেকে উলঙ্গ করে ক্রমে ক্রমে বস্ত্র দিলে যারে,
    সে তোমার সৃষ্ট পাপ, বেঁচে আছে তোমাকে উলঙ্গ করে।
    হে জ্ঞানী সব মানুষের দল,
    আড়াল করেছ পাপ নিজের বস্ত্র খুলে।
    • "বুদ্ধিজীবী" থেকে
  • প্রেম যৌনতা আর নন্দনতত্ত্ব নিয়া
    শিল্প করতে করতে শহীদ হয়ে যাচ্ছ,
    শরীরের ভাঁজে ভাঁজে শিল্পের
    রস নামে কলকল বুদবুদ।
    আমি তোমার শরীর স্পর্শ করি
    জল ঢালি অবিরাম প্রেমের বাতাস,
    অথচ কেমন শুকিয়ে আছ মেদহীন
    ছোপ ছোপ তাজা রক্ত শরীর।
    • "সমকালীন শিল্প" থেকে
  • মানুষবেলায় তুমি এড়িয়ে গেছ পাখিবাস বৃক্ষজীবন,
    এই অসময়ে অসমাপ্ত বোধে কেন স্বপ্নযোগে তোমার আগমন?
    মানুষ ছিলাম সেই কবেকার কথা মনেই আসে না,
    এই জন্মের পাপ কোথায় লুকাব নিজেও জানি না।
    • "মানুষবেলা" থেকে
  • রাস্তার পাশে বাঁশের বেড়া দেয়া
    কবরটির কোণে মনমরা বসে আছে
    একটি নিঃসঙ্গ ফিঙে পাখি।
    কয়েকদিন আগে এই কবরের
    মালিক যখন জীবিত ছিলেন
    এই রাস্তা দিয়েই রাত করে বাড়ি যেতেন।
    • "ফিঙে পাখি এবং ক্রসফায়ার" থেকে
  • দুপুরকে উত্ত্যক্ত করতে নেমেছে সর্বনাশা দিন।
    ঠাণ্ডায় জমানো আঙুলে কলাগাছের বাসনা।
    রাতের নীরবতায় পেট্রোলের ধাবমান দ্যুতি।
    মানুষের মাংস করোটির স্তূপে লুকানো রাজদণ্ড।
    আর কপট ফেরিওয়ালার মুখে বসন্তের গান।
    • "পেট্রোলমুখর দিন" থেকে
  • তপস্যায় থেকে থেকে যে জীবন ঘুচিয়েছ তুমি
    আজন্ম ধারণাপ্রসূত জ্ঞান তোমায় বানিয়েছে মৌসুমি।
    ধারণা কখনো বিজ্ঞান নয়, জ্ঞানে যাওয়ার রাস্তা মাত্র,
    গন্তব্য ছাড়া আলো কই পাবা হে মৌসুমি সন্ন্যাসী?
    চক্ষু মেলিয়া চাও, বিচিত্র জগতের সাথে হাঁটি হাঁটি পা পা
    সামনে এগিয়ে দেখো জ্ঞানবৃক্ষ ছায়ায় মানুষ মানুষী।
    • "দার্শনিক" থেকে
  • সত্যিই কি ধৃতরাষ্ট্র অন্ধ ছিলেন?
    নাকি বিবেচনায় তালা দিয়ে ঘুমে
    ছিল রাজত্ব বিশ্বাস মোহময়?
    রাজারা অন্ধ হলে সময় অন্ধকারে
    নামে ভয়ানক অবদমনের ফাঁদে।
    ধৃতরাষ্ট্ররা অন্ধ হয়ে গেলে গান্ধারীরা
    স্বেচ্ছান্ধ হয়ে যায় ইতিহাস বলেছিল।
    • "ধৃতরাষ্ট্রের নগরে" থেকে
  • বহুবছর প্রতীক্ষায় থেকে কালো এক পাখি
    নেমে এসেছে পৃথিবীতে সময়কে অন্ধ করে
    তুলে নেবে প্রেম জাগতিক হিসাবের অন্ধকারে।
    যারা সময়ের রূপে নেমেছিল শিল্পের সমুদ্রে
    রাশি রাশি প্রেম সফেদ ধারণা পুষে গাইছিল গান
    তারাই অদেখা শিল্পের তাড়নায় ডেকেছিল তারে।
    সময় অন্ধ হয়ে গেলে পৃথিবীটা অন্ধ পাখি হয়ে যায়
    আমাদের দিন যায় অন্ধ সময়ের ডানায় ডানায়,
    যেহেতু ডানার কোনো চোখ নাই সেও অন্ধ থেকে যায়।
    • "অন্ধ সময়ের ডানা" থেকে (বিদ্রঃ বইয়ের নাম ও এই অংশটির নাম একই)
  • তুমি উত্তপ্ত হয়ে ওঠো সূর্যের নিঃশ্বাসে
    জল ছেড়ে দাও বাতাসে বাতাসে।
    আমরা তোমাকে কেটেকুটে কলিজা ছিঁড়ে
    শরীরের ভাঁজে ভাঁজে বসতি গেড়ে
    খুলে নেই সবুজ পোশাক আকরিক হাড়
    টেনে আনি রক্ত লবণ জীবনের দায়ভার।
    • "পৃথিবী" থেকে
  • কাজল নামের একটি লোক কালী সাধনা করত
    একবার কাজলের কালী মুক্তাগাছার মণ্ডা এনেছিল।
    আমি মণ্ডা খেয়েছিলাম মজা করে, আহা কালীর মণ্ডা।
    একবার শুকনো লবঙ্গ তরতাজা কাঁচা বানাতেও দেখেছি।
    তিন গ্রাম পরে সিদ্দিক মিয়া এতিমখানা খুলেছেন।
    তিনি জ্বীন পালেন, পরী বিয়ে করেছেন।
    কুর্দিস্থান নামক জায়গায় জ্বীনেরা বাস করেন,
    পরীরা কুর্দিস্থান থেকে রাতে এসে দেখা দেন।
    সিদ্দীকের পরী পত্নী তাকে একবার হজ্বেও নিয়ে গেছেন,
    হজ্ব থেকে ফিরে সিদ্দীক মালাওয়ালা আরবি রুমাল
    মাথায় মাথায় ঘুরেন দেশ থেকে দেশে গ্রাম থেকে গ্রামে।
    • "জ্বীন সাধনা" থেকে
  • গাছ থেকে পেড়ে আনি টুনাভর্তি বরই,
    বাড়িতে গিয়ে দেখি লবণের অভাব।
    লবণ মেগে গড়ি লবণ জীবন,
    বিলীন জীবনে থাকে জলের প্রভাব।
    • "লবণীয়" থেকে
  • দেখুন
    ইচ্ছা করলে বদলে যেতে পারি।
    চলুন
    ভালোবেসে একটা জীবন গড়ি।
    ভাবুন
    মানুষ কত ঠুনকো জীবনধারী।
    • "স্লোগান" থেকে
  • কানের পাশ দিয়ে ছুটে হিম শ্বাস,
    এই বাতাস এক কারুময় সঙ্গীত।
    আমাদের চালাচালি ভাব বিনিময়
    কারসাজি ছুটাছুটি জটিল অভিনয়।
    জীবনের সব রূপ ফুটে বাতাসে,
    মুখ কারুকার্য হয়ে এখানেই ভাসে।
    কোথাও অমৃত নাই স্বর্গের জঠরে
    কোথাও গরল নাই জগতে সংসারে।
    • "বাতাস" থেকে
  • ডিসেম্বর এলেই মনে পড়ে
    তোমার মুখ
    বাল্যবিবাহের সংসারে
    তুমি হিমশিম।
    তোমার মলিন শাড়ি
    অপরিপক্ব সংসার
    চাপা পড়ে উৎসবের
    বহুমুখী কৌশলে।
    • "ডিসেম্বর" থেকে
  • সারারাত ঝুলছিল আধখানা চাঁদ
    দূর থেকে ছায়াময় তোমার সুরত
    দেখে ঝুলে গেছে সময় মহাকাশ
    এই পারে বাংলাদেশ ঐ পারে ভারত।
    • "ভারত" থেকে
  • যারা নিরুদ্দেশ হয়ে যায়
    যারা খুন হয়ে যায়
    তারা শুধুই যায়
    চলে যায়।
    যারা রক্ত নেয়
    যারা খুন করে দেয়
    খুনকে নিরুদ্দেশ করে দেয়।
    • "গুম" থেকে
  • তোমাকে হত্যাকারী বানিয়েছে আমাদের বন্ধুত্ব,
    যদিও আমাকে নিয়মিত খুন করে যাচ্ছ
    তবুও আমি আজন্ম তোমার বন্ধু হয়ে আছি।
    হে বন্ধু, তুমি যদি আত্মঘাতী না হও তবে
    বন্ধুঘাতী হয়ে ছড়িয়ে দাও অন্ধকার রাশি রাশি
    তবুও আমি আজন্ম তোমার বন্ধু হয়ে আছি।
    • "বন্ধু" থেকে
  • প্রলুব্ধ হয়ে ক্রমাগত নামি অন্ধকারে,
    অন্ধ সময়ের পিঠে উদ্বাস্তু সফরে।
    বিবেকানন্দ গেছেন সাময়িক ঘুমে
    আমি তো জেগেই ঘুমাই আজন্ম ভ্রমে।
    সময় অন্ধ হয়ে গেলে
    মুসা নবী ফিরে আসে,
    ফারাও মুকুটটি খসে
    মুক্তির চেতনায় ভাসে।
    • "স্থবির" থেকে
  • কাদামাটি যতটুকু মায়াবতী হয়ে
    যত্রতত্র লেগে যায় অনায়াসে,
    তুমি যদি তাও হতে পুনর্বার
    জীবন বদলে যেত কাদাজলে।
    এই দেহ কাদাময় জটিল অভিলাষ
    দেশময় কাদাজল ছুড়াছুড়ি,
    আমিও এর মধ্যে কাদা হয়ে ঢুকি
    জটিল জটিল জীবন কাদা গড়াগড়ি।
    তুমি হও কাদাময় মায়াবতী দিঘি
    আমিও কাদার পথে শরীর কাদাময়,
    প্রশান্ত কাদামাটি বুকে রেখে দিও
    পার তো ধুয়ে দিও কাদার শরীর।
    • "কাদা মাটি প্রেম" থেকে
  • তুমি তো কেঁপে কেঁপে অভয় মুদ্রার ছলে নিজেকে লুকালে,
    ভেতরে ত্রাস নিয়ে নিজের হৃৎপিণ্ড বিদ্ধ করো গোপন বাসনায়।
    অনন্ত কামনার পথে পথে পথফুল আত্মপ্রেমে ব্যাকুল থাকে,
    এই দেখো রতিরাত বেড়ে বেড়ে চাঁদের শহরে থেমে যায়।
    • "অভয়ার প্রেম" থেকে
  • অতঃপর জমিয়ে রাখা ঘৃণা ছুড়ে দিয়ে আমি মুক্তির স্বাদ নিলাম
    তুমি সেই ঘৃণার স্তূপে মুখ গুঁজে নিজের অস্তিত্বের বাহাদুরি খেল।
    যদি নিজেই নিজের প্রেমিকা হয়ে যাও তবে এই সভ্যতা ঠকে যায়
    তোমাকে বন্দনা করে ঠকে যাচ্ছে মানবতা ক্ষীণ হচ্ছে কপট আলো।
    • "সহবাস" থেকে
  • এমন এক দুঃসময়ে আমাদের দিন,
    রাত অনিশ্চয়তার প্রলম্বিত গহীন।
    তুমি ঘুমালেও আমি জেগে অস্থির,
    সূর্যকণায় নিশ্চিত জাগবে শিশির।
    শিশিরের বুক থেকে আলোর স্ফূরণ
    ঢেকে দেবে রক্তাক্ত ইতিহাস ক্ষরণ।
    • "আগামীর ভোর" থেকে
  • চৈত্র দিনের নিঃশ্বাসে জলের কণা জাগে।
    ও জল তুমি মেঘ হয়ে যাও,
    নামো বাতাসে ভর করে।
    ও বাতাস তুমি ঝড় হয়ো না,
    হালকা টানে শাড়ির আঁচল উড়াও,
    ও শাড়ি তুমি শান্তি দেখাও উড়ে।
    • "চৈত্র দিনে" থেকে
  • আমাদের গ্রামে ছুলু নামের একটি ছেলে
    প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমাদের বাড়িতে আসত
    ভাতের মাড় নিয়ে যেত মাটির সানকিতে।
    আমার খুব শখ হতো লবণ মাখিয়ে মাড় খাওয়ার,
    দাদি বলতেন তুই কেন মাড় খাবি?
    ওরা ভাত খেতে পায় না তাই মাড় খায়।
    আমি তবুও জেদ করে মাড় খেতে চাইতাম
    ছুলুর মুখ তখন কালো থেকে কালোতর হতো।
    • "ছুলু" থেকে
  • অতিক্রম করে যাচ্ছ সবুজ সম্ভাবনা
    দাস যুগ পেরিয়ে পাথরের সভ্যতায়
    পুনশ্চ জীবনের রেখা মাপামাপি নিয়ে
    ব্যস্ততায় কেটে যাচ্ছে আহামরি জীবন।
    ধূসর এক পৃথিবীর আহ্বানে চলে যাচ্ছ
    গতানুগতিক আলো আর জোছনায় ভেসে
    মাঝে মাঝে ডুবে যাও মিহিন অন্ধকারে
    ডেকে যাও ভোরের হাতছানি উচ্ছ্বাসে।
    • "অতিক্রমণ" কবিতা থেকে
  • কৃষ্ণের আগে যদি রাধাই আসিল
    তবে রাধা রক্ত-মাংস নয়,
    রাধাই ঈশ্বর, কৃষ্ণ তার ভণিতা।
    ওহে মাধব তুমি বলে দাও,
    আমি একটি ধারণা মাত্র
    আমার প্রেমের নাম রাধা।
    • "শ্রীকৃষ্ণ ধারণামৃত" থেকে
  • আমি ধরে আছি উঁচু পাহাড় চূড়া
    বরফ গলে নামছে অঝোর ধারা,
    তুমি জেগে উঠছ স্বচ্ছ স্রোতস্বিনী
    আমার ধ্যান ভেঙেছে কলকল ধ্বনি।
    আমি স্বরূপ ধরে জাগ্রত এক প্রেমিক
    দেখি অবাক নদী দেবীজ্ঞানের অধিক।
    • "প্রেমাঞ্জলি" থেকে
  • জ্যামিতিক জ্ঞানে যদি বুঝে নিতে চাও বোধের গভীর,
    ভুল ভেবে ভেবে জীবনের সব ভোর ব্যর্থ হয়ে যাবে।
    সমস্ত সকাল রৌদ্রের হাসি চলে যাবে অলক্ষে
    অন্ধকারে ডুবে ডুবে বাঁচ জীবনের দায়ভাগে।
    জীবন যদিও যেতে পারে জ্যামিতির কাছাকাছি,
    বোধের উৎসে থেকেই যায় অধরার হাতছানি।
    • "জ্যামিতিক বোধ" কবিতা থেকে
  • ভেতরে বিষাদনীলিমা রেখে হাঁটো
    শহরের কানাগলি আড়ালে রেখে।
    বিনত সন্ধ্যায় ডুবে যাও অনালোক
    আড্ডায় বসে যাও জীবন মেখে।
    কিছুই করো না শুধু দেখে যাও
    কাটাও সময় যেন জীবন দেখাদেখি।
    ভেতরে একরাশ বিষাদনীলিমা
    অন্ধকারের সাথে আড় চোখাচোখি।
    • "চলো অন্তশ্রামে" থেকে
  • শূন্যের সাথে যেকোনো সংখ্যা গুণ করলে শূন্য হয়ে যায়,
    যেকোনো সংখ্যার সাথে শূন্য গুণ করলেও শূন্য হয়ে যায়।
    অংক অথবা সংখ্যার ধারণ ক্ষমতা স্থিতিশীল সীমিত,
    শূন্য মানেই ভেতরে ঢুকে যাওয়া ইচ্ছেমতো অসীমত্ব।
    আসো খেলি শূন্য বিজ্ঞান অসীমের পথে যাই,
    বিশাল জগতের মাঝে করি শূন্যে বসবাস।
    • "শূন্য বিদ্যা" থেকে
  • মানুষের স্রোত দেখতে আমি ভালোবাসি
    বাসস্ট্যাণ্ড, ইস্টিশন, ঘাটে মানুষ চলমান।
    স্টপেজগুলো নদীর মোহনার মতো সঙ্গমের রাস্তা,
    মানুষগুলো জলের মতো প্রবাহমান অনিশ্চিত।
    আমি মানুষ ভালোবাসি, মানুষের স্রোত ভালোবাসি
    তাই আমিও স্রোতে ভাসি, ভাসতেই থাকি।
    • "মুক্তি" থেকে

লাবণ্য দাশ অ্যান্ড কোং

[সম্পাদনা]
  • মানুষকে ব্যর্থ করে দিয়ে
    কবে থেকে হয়েছিলো
    এই কোম্পানির প্রচলন
    গবেষণার অভাবে জানা যায়নি।
    পর সমাচার এই যে,
    আমরা সকলেই দমে দমে
    লাবণ্য দাশ অ্যাণ্ড কোং রে মানি।
    • "লাবণ্য দাশ অ্যান্ড কোং" কবিতা থেকে
  • পারলে একদিন যেও আমাদের বাড়ি,
    বাড়ির পেছনে সুপারি গাছের সারি।

    তারও পেছনে আছে মরা এক নদী,
    কালের ইতিহাস জানাতে চায় নিরবধি।

    সামনের পুকুর পাড়ে শিমুল গাছের ফুল,
    উত্তরের খালপাড়ে আছে অৎস্র জারুল।

    বর্ষায় ছড়িয়ে পড়ে কদম ফুলের ঘ্রাণ,
    রাতে হাসনাহেনার সুবাসে জুড়ায় প্রাণ।

    পূর্ব দিকের চোখ পর্যন্ত খেলা করে ধান,
    আর কিছুদূর গেলে আছে এগরার বাগান।

    বাগানের পর ছোট ছোট ডোবা আর বিল,
    যেইখানে ছোট-বড় মাছ করে কিলবিল।
    • নিমন্ত্রণ কবিতা থেকে
  • চারদিকে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব
    শত্রু এক অদৃশ্য সুতা,
    প্রবল হুমকির মুখে
    নিরস্ত্র মানুষের সভ্যতা।
    • করোনাযুদ্ধ ২০২০ কবিতা থেকে
  • মানুষ একা হতে চেয়েছিলো তাই
    স্বামীকে ভয় পাচ্ছে স্ত্রী আর
    স্ত্রীকে ভয় পাচ্ছে তার স্বামী।

    করোনাযুগে সন্তান ভয়ে আছে,
    এমনকি ভয়ে আছে মা-বাবাও।

    একা হতে চাওয়ার শাস্তি
    দেখো কতো নির্মম হতে পারে।
    • করোনাযোগ ২৬ মার্চ ২০২০ কবিতা থেকে
  • হাসপাতালগুলো খালি হয়ে যাচ্ছে,
    আমাদের বাসাগুলো হাসপাতাল হয়ে যাচ্ছে।
    নিয়ম করে জীবাণুনাশক দিতে দিতে
    প্রস্তুত করা হচ্ছে সম্ভাব্য রোগীর কেবিন।

    শহরে মুখোশ বিক্রেতা বেড়ে গেছে,
    কেউ কেউ রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটাতে ছিটাতে
    ফেসবুকে ছবি আপলোড দিচ্ছেন।
    ঘরে-বাইরে সাবানপানির কব্জিবডুবানো উৎসবে
    ঘষতে ঘষতে হাতের চামড়া উঠে যাচ্ছে।
    হাতকে কাজে লাগিয়েই মানুষ এখানে এসেছে,
    হাতের জন্যই মানুষ পেয়েছে বিশেষ মর্যাদা।
    অথচ সেই হাত আজ শত্রু হয়ে মানুষের সাথে
    ঘুরে ঘুরে ছড়িয়ে দিচ্ছে আতঙ্কের বিছানা।
    • করোনাযোগ ২৭ মার্চ ২০২০ কবিতা থেকে
  • রোম পুড়িয়ে দেয়ার পর
    ছড়িয়ে যাচ্ছে তার ভয়াল থাবা,
    সম্ভাব্য মৃত্যু এড়াতে
    বন্ধ রয়েছে কাবা।

    আবার শুরু হবে সব
    দিন বদলের পরে,
    বরুণ ফুলের চোখ ধরে
    তোমার প্রতীক্ষায় আছি ঘরে।

    যতোই নামুক দুর্যোগ পৃথিবীতে
    বন্ধ হবে না রমণ,
    এমনকি বন্ধ হবে না জন্ম
    কিংবা নিয়মিত মরণ।
    • করোনাযোগ ২৯ মার্চ ২০২০ কবিতা থেকে
  • যার যেটা করার কথা নয়
    অথচ দায়িত্বরত আছে
    তারাই পালাতে চাইবে আগামীকাল;
    এবং পালাতে চাইবেই, অথচ পারবে না।

    স্বেচ্ছায় যারা লিপ্ত হয়নি কর্মে
    তারাও পালাতে চাইবে;
    যার যেটা নয় কাজ সেই কাজ ছেড়ে
    পালানোর দিন এসে গেছে।
    • করোনাযোগ ৩১ মার্চ ২০২০ কবিতা থেকে
  • তুমি আমেরিকা কোভিড নাইনটিনের চেয়েও ভয়ানক,
    তোমার যথার্থ প্রতিচ্ছবি ট্রাম্প একটি ভাইরাসের মুখোশ,
    অথচ তুমি করোনার চেয়ে শক্তিশালী হতে পারোনি।

    কালো মানুষদের রক্ত আর মাংসের উপর গড়ে উঠা তোমার
    সভ্যতা
    মানুষকে বাঁচাতে যথাযথ চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হলেও
    তুমি পুলিশ হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করতে পারো।
    • জর্জ ফ্লয়েডের জন্য কান্না কবিতা থেকে
  • মানুষ হবে এমন ভেবে
    জানোয়ারের বাচ্চাটাকে
    ভীষণ ভাবে আগলে রাখি।

    মানুষ হবে এমন ভেবে
    সঙ্গোপনে একই ঘরে
    জানোয়ারের সাথেই থাকি।
    • দিন কেটে যায় কবিতা থেকে
  • বহুকাল আগে লোকটির প্রেমিকা
    নিরুদ্দেশ হয়েছিলো অন্যের ঘরে,
    বিনিময়ে এনেছে অন্যের প্রেমিকা
    জগৎ সংসার উদ্ধার করে করে।

    তাদের এতিমখানায় সবকিছু আছে,
    আছে সংসার, আছে সন্তান।
    আলাদা আলাদা তারা বিধিমতে
    ঠিকঠাক সাজায় ঘুমানোর স্থান।
    • আধুনিক পরিবার কবিতা থেকে
  • ভালো যারে বাসবে,
    সে ছিন্ন হবে, হবেই;
    ছিন্ন হয়ে ভিন্ন ভাবে,
    ফিরবে তুমি, তবেই।

    যারে আনবে তোমার ঘরে,
    বাসবে বলে ভালো;
    প্রথমেই সে ছিন্ন করবে ঘর,
    নিভিয়ে দেবে আলো।
    • ভালোবাসায় ছিন্ন হবে কবিতা থেকে
  • জীবাণুর চোখে তাকিয়ে আছি
    আকাশের দূর নীলিমায়,
    আব্বার হাতের বাজারের ব্যাগ
    ঝুলে আছে ঘরের পালায়।

    ভাগাভাগি নয় উপোসে কাটাবো
    সমাজ দিয়েছে ছুটি,
    আজ রাতে আর হবে না বিলানো
    শবে-বরাতের রুটি।
    • করোনাযোগে শবে-বরাত কবিতা থেকে
  • বাতাসে ছড়ানো হচ্ছে
    কথার কামান।

    দিন কি এসে গেছে
    অবরুদ্ধ হবে প্রাণ?

    কুরআন এড়িয়ে তারা
    বাড়াবে কি হাদিসের মান?

    আফিম পপির ব্যবসা
    থাকবে কি চলমান?

    নারীর শরীর থেকে তারা
    নেবে কোন ঘ্রাণ?

    অস্ত্রের তাণ্ডবে ঝরবে কি
    নারী-শিশু প্রাণ?

    অপেক্ষায় আছি দুনিয়া,
    আছে অপেক্ষায় আফগান।

    সবাই বলাবলি করছে
    আসতেছে তালেবান।

    বাতাসে ভেসে আসছে
    এসে গেছে তালেবান
    • আফগান ২০২১ কবিতা থেকে
  • ধৃতরাষ্ট্রের শ্বশুরবাড়ি ছিলো গান্ধার
    ক্ষমতার দাপটে পিষ্ট সেই কান্দাহার।
    ছড়িয়েছে নাম সারা আর্যাবর্ত জুড়ে
    নীরব অস্বস্তি এক আসে ঘুরে ঘুরে।

    উপত্যকায় শকুনির দীর্ঘশ্বাস ভাণ্ডার
    কাঁধে নিয়ে মরে গেছে আলেকজাণ্ডার।
    পদানত করে বেশিদিন রাখা যায়নি তারে
    ধূলোয় লুঠায় মান পাহাড়ে পাহাড়ে।

    সালতানাতের আগমন আনেনি স্বস্তি
    গোত্র-উপগোত্রগুলো আগুনের বস্তি।
    নিজেদের সত্তা আর আত্মার ঘর-বাড়ি
    নত করতে পারেনি শাসকের তরবারি।
    • "আফগান" কবিতা থেকে
  • জগতের কিছুই তাদের দেয় না নাড়া
    রাতভর জাবর কাটা ছাড়া।

    অনেকের দেহ লোভনীয় মাংসল
    কারো ওলান থেকে নামে দুধ গলগল।

    গরুরা জানে উপেক্ষা কারে কয়
    গরুদের নেই অবদমনের ভয়।

    গরুর মানসপটে আঁকা ছবি গলে গলে
    এই জীবন কেটে যাবে উপেক্ষার ছলে।
    • গরুমানব কবিতা থেকে
  • এমনি কি আর পাক ধরেছে চুলে?
    ভুল করেছি মানতে আমি নারাজ,
    গেঁথেছি মালা অভিজ্ঞতার ফুলে।

    ফুলের সুবাস নিচ্ছি অবিরাম,
    আশেপাশে জীবনের নির্যাস
    নতুন করে পাওয়া একটি গ্রাম।

    মর্ত্যলোকে সবাই মিলে মিশে,
    ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাপের সাথে থেকে
    অবলীলায় চুমুক দিচ্ছি বিষে।
    • সমর্পণ কবিতা থেকে
  • পত্র পাঠে ত্রুটিটুকু ক্ষমা করে দিস,
    মন খারাপের দোলাচলে
    আমার নামটি নিস।

    শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকিস নিজের গভীরে,
    এক জীবনের গল্প হবে
    দিন যদি আর ফিরে।

    কিরে?
    কেমন আছিস বল্লি না যে
    দেশে দেশে লকডাউনের ভীড়ে?
    • চিঠি কবিতা থেকে
  • বহুগামী ময়ূর উড়ে যায়
    চৌচালা টিনের উপর দিয়ে
    পাহাড়ের ধ্যানী মহুয়ার কাছে।

    পাহাড়ের নদী নেমে আসে
    সমতলে বিল হয়ে
    অজানা পথের দিকে।

    জললগ্ন কচুরিপানার দাম
    ভাসতে ভাসতে
    দমবন্ধ হয়ে উগড়ে দেয় ফুল।
    • ময়ূর ও কচুরিপানা কবিতা থেকে
  • স্বামী পরিত্যাক্তা একজন নারী
    সাহায্যের জন্য গিয়েছিলেন
    পরিচিত একজনের কাছে।
    সেখানে দুজনকে একসাথে পেয়ে
    চার জন পুরুষ তাকে ইজ্জতের ভয় দেখিয়ে
    আটকে রেখে সারারাত ধর্ষণ করেছেন।
    নারীর ইজ্জতের দাম অনিচ্ছাকৃত সঙ্গম।

    একজন নিরীহ মধ্যবিত্ত গিয়েছিলেন
    গোপনে মেথর পট্টিতে বাংলা মদ খেতে।
    বের হওয়ার সময় পুলিশ তাকে
    ইজ্জত মারার ভয় দেখিয়ে
    নিয়ে গেছে সাড়ে সতেরো শ টাকা।
    • ইজ্জত ১ কবিতা থেকে
  • ঘুষ খাইলে ইজ্জত যায় না
    সুদ খাইলে ইজ্জত যায় না
    চুরি করলে ইজ্জত যায় না।

    অধিকার হরণ করলে ইজ্জত বাড়ে
    মাদকের ব্যবসা করলে ইজ্জত বাড়ে।

    গোপনে একটু আধটু প্রেম করলে
    ঘরে পানিভর্তি মদের বোতল পাইলে
    ইজ্জত আর অবশিষ্ট থাকে না।
    • ইজ্জত ২ কবিতা থেকে
  • জল্লাদ আর কসাইয়ের ব্যারিকেড পেরিয়ে
    আমি স্পর্শ করতে পারি না পবিত্র সংবিধান,
    আমি কেমন করে দাঁড়াবো বিচারের মুখোমুখি?

    আজ আমি কাঠগড়ায় দাঁড়াতে চাই,
    মহামান্য আদালত আমাকে ডাকুন শাস্তির জন্য।
    আমার বিচার করে আমাকে শাস্তি দিন,
    আমি জামিন চাইবো না, এমনকি ক্ষমা ভিক্ষাও না।

    আমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করুন, নিক্ষেপ করুন।
    শুধুমাত্র জল্লাদ আর কসাইয়ের ব্যারিকেড পেরিয়ে
    আমাকে কাঠগড়ায় আসার ব্যবস্থা করে দিন।

    আমি সাতান্ন ধারা বুঝি না,
    আমি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বুঝি না।
    আমাকে আহ্বান করুন
    আমি স্বেচ্ছায় এসে দাঁড়াতে চাই কাঠগড়ায়।
    • ব্যারিকেড কবিতা থেকে
  • সহস্র জীবন ধরে আমি যাযাবর
    পাহাড়ী ঢলের মাঝে ভেসে থাকা খড়।

    কাউনাই নদী হয়ে ছুটেছি ভ্রমণে
    আয়ু খেয়ে বেড়ে উঠা সহজ জীবনে।

    নিশ্চিন্তে কিছুকাল কংস নদের তীরে
    তারপর ডুবেছিলাম ব্রহ্মপুত্রের গভীরে।

    পীর হতে আসিনি চেয়েছিলাম সুফির জীবন
    জীবনের ধ্যান জ্ঞান এক টুকরো কাফন।

    কুপি বাতি জীবনের ফুরিয়ে আসা তেলে
    দফ করে নিভে যাব কোনো এক কালে।

    খুব বেশিদূর ছড়ানো হয়নি আবছায়া আলো
    পদতলে মারিয়ে রেখেছি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কালো।

    দুপুরের ভাতঘুমের নীরবতায় আতকা অন্ধ হবো
    মাটির সামান্য শীতল ঘরে আক্ষেপে ঘুমাবো।
    • আমাকে নিতে আসবে কেউ কবিতা
  • নয়া নয়া সার্কাস ভাটির দেশে,
    আমদানি হইছে অবশেষে।

    সার্কাসের হস্তিটা বসে থাকে চেয়ারে,
    ক্লাউনের দল ঘিরে রাখতেছে তারে।

    উপপত্নীর দল হেলিয়া দুলিয়া
    হস্তির সেবা করে তুলু তুলু করিয়া।

    হস্তির কান বড় পেছনে দেখে না,
    মোটা মাথা হস্তিরা কারো ধার ধারে না।

    হস্তির আইনে অস্থির জরিনা,
    কোনো কিছু আমরা তাতে মনে করি না।

    সার্কাসের বাইরেও চলাচল তার আছে,
    অত্যাচার অত্যাচার ভাটির কলাগাছে।
    • ভাটির দেশে হেজা শিকারির বেশে কবিতা থেকে
  • পানি থেকে ফাল দিয়া আসতেছে কৈ মাছ,
    তা দেখে হাসতেছে লাউ-লতা-ঝিঙা গাছ।

    আঁশ জুড়ে ঝুলে আছে করণিক প্যারাসাইট,
    চারপাশে জগৎ শেঠের দল বেধেছে গাইট।

    আমরা চটপটি চাটুকার করণিক গান গাই,
    পানি ছাড়া মাছ বাঁচে না, বিধিতে লেখা নাই।

    মেঘের ডাক শুইন্যা খালপাড়ে যায়া,
    কৈ মাছ ফাল পাড়ে, উল্টায়া পাল্টায়া।
    • করণিক দেশে কৈ মাছ কবিতা থেকে
  • বহুদিন আগে দ্বীপের মতো খাসিকোনা গ্রামে
    জয় মুলুক ছিলেন শান্ত নির্ভার মরা নদীধামে।

    চারদিকে অবারিত ধান আর ফসলের দোলা,
    শুধুমাত্র জয় মুলুকের চোখ দু'টি ছিলো ফোলা।

    এইসব সোনালী ফসল ছিলো একদিন ঘুমে
    বিস্তীর্ণ তেপান্তরের অসমান পলিমাটি চুমে।

    মিঞাদের পরিত্যক্ত অনাবাদি জমিনের ভাগে
    গরুদের জাবরের ঘাস পাওয়া যেতো আগে।

    এই পতিত ভূমি দেখে জয় মুলুকের চাষার রক্ত
    যেন স্বপ্নের ভেতর জেগে উঠা এক সোনালি ভক্ত।
    • জয় মুলক কবিতা থেকে
  • বহুদিন আগে দ্বীপের মতো খাসিকোনা গ্রামে
    জয় মুলুক ছিলেন শান্ত নির্ভার মরা নদীধামে।

    চারদিকে অবারিত ধান আর ফসলের দোলা,
    শুধুমাত্র জয় মুলুকের চোখ দু'টি ছিলো ফোলা।

    এইসব সোনালী ফসল ছিলো একদিন ঘুমে
    বিস্তীর্ণ তেপান্তরের অসমান পলিমাটি চুমে।

    মিঞাদের পরিত্যক্ত অনাবাদি জমিনের ভাগে
    গরুদের জাবরের ঘাস পাওয়া যেতো আগে।

    এই পতিত ভূমি দেখে জয় মুলুকের চাষার রক্ত
    যেন স্বপ্নের ভেতর জেগে উঠা এক সোনালি ভক্ত।
    • তসবি-ছড়ার জীবন কবিতা থেকে
  • মৃত্যু ঠেকাতে নেমেছে মানুষ
    বাতাসে ভাসছে আফসোস।
    প্রার্থনায় নেমেছেন গবেষক
    হা করে বসে আছেন শাসক।

    মানবতার নামে বনিকের চোখ,
    কসাইয়ের এপ্রোন পরিহিত বুক,
    পুলিশের চকচকে রিভলভার,
    জনগণের জঘন্য সব চাকর,
    মিডিয়ার ফিটফাট ক্যামেরা,
    অমৃতের দিকে আছে তাক করা।
    • অসুর কবিতা থেকে
  • ঝুলে আছে কচি কচি ডাব
    তাদের আছে গলাগলি ভাব।

    গাছ বেয়ে যারা উঠবে উপরে
    তারা আনতে পারবে তারে।

    পায়ে বেড়ি থাকলে
    গাছে উঠা সহজ হয়ে যায়।
    কেউ কেউ ডাব এনে
    অপরের তৃষ্ণা মেটায়।
    • ডাব কবিতা থেকে
  • সবুরে যে মেওয়া ফলে
    তার একটা গাছ আছিলো
    আমাদের জঙ্গলে।

    তুমুল বৃষ্টির মাঝে এই ফল পাকে,
    তার গাছ অনেক লম্বা হয়ে থাকে।

    আতকা বাতাস এলে
    গাছের তলে
    টুপটাপ মেওয়া ফল পড়ে।
    • মেওয়া কবিতা থেকে
  • সবুরে যে মেওয়া ফলে
    তার একটা গাছ আছিলো
    আমাদের জঙ্গলে।

    তুমুল বৃষ্টির মাঝে এই ফল পাকে,
    তার গাছ অনেক লম্বা হয়ে থাকে।

    আতকা বাতাস এলে
    গাছের তলে
    টুপটাপ মেওয়া ফল পড়ে।
    • গাব আর ডেফল কবিতা থেকে
  • তোমার পৃথিবী পুড়িয়ে দিচ্ছো তুমি
    তোমার ধর্মে ছারখার হচ্ছে ভূমি।

    আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছো তোমার ধর্ম
    ব্যবসা টেকাতে হারিয়ে ফেলেছো বৰ্ম।

    তোমার আঘাতে হারিয়ে ফেলেছি সুর
    তোমার ভয়ে পৃথিবী ছেড়ে গেছে নূর।

    রাস্তার বুকে শরীর দিয়েছ জ্বালিয়ে
    জীবনের নির্ভরতা গেছে পালিয়ে।
    • অভিশাপ কবিতা থেকে
  • পাঁচবার মসজিদে যাও প্রতিদিন,
    সুযোগ পেলেই হও কাবায় রঙ্গিন।
    তিরিশ দিনের রোজায় নেই কোনো ভুল,
    আল্লাহ্ রাসুলের প্রেমে থাকো মশগুল।

    এই পথে যেতে কেউ যদিও করেনি মানা,
    তারপরও অনেক তত্ত্ব বাকি আছে জানা।
    ঠিকমতো হচ্ছে না দুনিয়ার আবাদ,
    পেছনে ফেলে গেছো হক্কুল এবাদ।

    তওবার দরোজা খোলা আছে সব,
    অনেক ক্ষমাশীল আমাদের রব।
    মানুষের অধিকার করেছো হরণ,
    তওবায় মাফ পাবে ভেবো না এমন।
    • হক্কুল এবাদ কবিতা থেকে
  • ভবের মাঝে ভাব আসিলে
    যখন তখন আমরা সবাই মিলে
    জগত প্রেমে সিদ্ধ জীবন বোধে
    সকল জীবন জন্ম ঋণ শোধে।

    শুদ্ধ প্রেমে স্নিগ্ধ হয়ে আসলে
    স্বচ্ছ জলে ইচ্ছে মতো ভাসলে
    জীবন তখন অনন্ত গান গাইবে।
    অন্য কোনো জীবন কী আর চাইবে?

    পদ্ম জীবন করতলে রেখে
    একটি জীবন জলাশয়ের সুখে
    ভাসবে তাহা হাঁসের রানীর চোখে।
    এমন জীবন কে-ই-বা দিবে রুখে?
    • পারলে ফেরাও কবিতা থেকে
  • পথে পথে বিলিয়ে যাব প্রেমের তোবারক
    ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক।

    আজ সবাই মিলে খুশিতে মিলাবো বুক
    উঁচু-নিচু সবাই সমান চিত্তে নেব সুখ।
    পথে পথে বিলিয়ে যাব প্রেমের তোবারক
    ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক।

    পৃথিবীতে আবার ফেরাবো বিগত দিনের সুখ
    স্বস্তিতে শ্বাস নিতে খুলে রাখবো আজ মুখ।
    পথে পথে বিলিয়ে যাব প্রেমের তোবারক
    ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক।
    • "ঈদের গান" কবিতা থেকে
  • বন্ধুর জমিনে আদিগন্ত
    মারা খাওয়া ধান,
    ভেতরে ভেতরে শাদা চাল
    তুষের আড়াল।

    তুষ ছাড়িয়ে চাল বের হয়ে
    সিদ্ধ হয়ে গেলেই ভাত।
    বন্ধুরা আমাকে সিদ্ধ করুন
    ভাতের উপরে রাখুন হাত।
    • সুহৃদ বন্দনা কবিতা থেকে

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]