এবনে গোলাম সামাদ
এবনে গোলাম সামাদ (২৯ ডিসেম্বর, ১৯২৯ - ১৫ আগস্ট ২০২১) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট পণ্ডিত, চিন্তাবিদ, লেখক এবং কলামিস্ট। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক ছিলেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]"কিছুদিন আগেও অনেক বৈজ্ঞানিক মনে করতেন, নিউট্রিনোদের কোনো ওজন নেই। আমরা বলেছি, তেজস্ক্রিয় বস্তুদের নিয়ে গবেষণা করে প্রমাণিত হয়েছে যে, অনেক মৌলিক পদার্থ তেজস্ক্রিয়। যাদের থেকে তিন প্রকার রশ্মি বিকিরিত হয়। তেজস্ক্রিয় পদার্থে একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত হলো রেডিয়াম। রেডিয়াম থেকে আলফা বিকিরণ নির্গত হওয়ার ফলে অনেক রেডিয়াম অণু পরিণত হয় র্যাডন গ্যাস অণুতে। প্রাচীনকালে অনেকে চেষ্টা করেছেন, পরশপাথর ছুঁইয়ে লোহাকে সোনায় পরিণত করতে। কিন্তু তাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। তাই রসায়নবিদেরা মনে করতেন একটি মৌলিক পদার্থের আর একটি মৌলিক পদার্থে রূপাান্তরিত হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তেজস্ক্রিয় বস্তু নিয়ে গবেষণার ফলে এই ধারণার বিলুপ্তি ঘটেছে।" [১]
"নিজের কথা বলবার আমার বিশেষ কিছুই নেই। আমি জীবনে এমন কিছু করিনি, যা নিয়ে গৌরব করে বলবার কিছু আছে। আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ফেলে আসা দিনগুলির কথা যখন দু’একবার মনে করি তখন নিজেকে মনে হয় ভবঘুরের মত, যে দেশ-বিদেশ ঘুরে দেখতে চায়, দেখে আনন্দ পায়, পথ চলার আনন্দটাই যার কাছে বড় পাওয়া। নানা বিষয়ে পড়াশোনা করে আনন্দ পেয়েছি। এই জানা ঠিক পন্ডিত হবার জানা নয়, ভবঘুরের দৃষ্টি নিয়ে সবকিছুকে দেখা, দেখে আনন্দ পাওয়া। আমার নিজের বাড়িঘর নেই, কিন্তু অন্যের বাড়িঘর দেখে পেয়েছি আনন্দ। পড়েছি স্থাপত্যের ইতিহাস। বস্তু নয়, বস্তুর রূপই আমাকে আকৃষ্ট করেছে বেশি।"[২]
"সমুদ্রে প্রতিদিন দু’বার জোয়ার-ভাটা আসে। নিউটন একে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন প্রধানত চাঁদের আকর্ষণের মাধ্যমে। আমরা ছাত্রদের এখনো পড়াই নিউটনের দেয়া জোয়ার-ভাটার ব্যাখ্যা। কিন্তু আইনস্টাইনের সাধারণ অপেক্ষিক তত্ত্বে বলা হয়, নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব সত্য নয়। চাঁদের টানের ধারণাটা একটা বিভ্রান্তি মাত্র। আমার কাছে মনে হয় আইনস্টাইনের বক্তব্য এ ক্ষেত্রে বোঝা খুবই কঠিন। অবশ্য আমার কাছে কোনো কিছু বোঝা কঠিন হলে যে তাকে মিথ্যা বলতে হবে এমন দাবি আমি করছি না। তবে আইনস্টাইনের সাধারণ অপেক্ষিক তত্ত্ব এখনো বৈজ্ঞানিক সমাজে সেভাবে স্বীকৃত নয়। " [৩]
সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- "(এবনে গোলাম সামাদের) নৃতত্ত্ব ও সমাজতত্ত্ব ছিল সহজাত বিচরণভূমি। প্রতিটি গ্রন্থে, এমনকি ক্ষীণদেহী প্রবন্ধে তিনি উগরে দিতেন এর প্রাণরস। সত্যের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি ছিলো নির্মোহ। যুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু জ্ঞানতত্ত্বে শুধু যুক্তিতে তার সায় ছিল না, গভীরভাবে অভিজ্ঞতাবাদী ছিল তার মন। তিনি জানতেন, যুক্তির সীমাবদ্ধতা। যেখানে অভিজ্ঞতা অনিবার্য, সেখানে যাচাই ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞানে তিনি ছিলেন বিশ্বাসী। অভিজ্ঞতাবাদ (empiricism) ছিল তার বিচারশীলতার সাথে সঙ্গতিশীল। ফলত তিনি সমাজ, নন্দনতত্ত্ব এমনকি ইতিহাস বিচারে বাস্তবতার অধিক নিকটবর্তী থাকতে পেরেছেন।"
- কবি মুসা আল হাফিজ ।[৪]