এম এস স্বামীনাথন
অবয়ব
এম এস স্বামীনাথন (৭ আগস্ট ১৯২৫ – ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩) ছিলেন একজন ভারতীয় বংশাণুবিজ্ঞানী এবং আন্তর্জাতিক প্রশাসক, যিনি ভারতের "সবুজ বিপ্লব" কর্মসূচিতে তার অগ্রণী ভূমিকার জন্য খ্যাতি লাভ করেন। এই কর্মসূচির অধীনে দরিদ্র কৃষকদের জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের গম ও ধানের চারা রোপণ করা হয়েছিল।
উক্তি
[সম্পাদনা]- দেশের প্রায় ৭০ কোটি মানুষের জীবিকা সুরক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হলো কৃষি এবং আমাদের খাদ্য নিরাপত্তাকে দেশীয় খাদ্যের ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে হবে।
- "ফার্মার কোটস"। ক্যাপশন স্ট্যাটাস টিম। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২৩।
- আমি এটা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, সস্তা খাবারের দিন শেষ, ঠিক যেমন সস্তা তেলের দিনও শেষ।
- "এগ্রী কুয়োটস"। জি নিউজ ইন্ডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৩।
- যখন আপনি পরীক্ষাগার থেকে জমিতে ফসল স্থানান্তরের উদ্যোগ নেবেন, তখন কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আপনার জানা উচিত। কৃষকের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত নয়, কারণ তিনি ইতোমধ্যেই দরিদ্র। আপনি যা সুপারিশ করছেন তা যে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে সঠিক, সে বিষয়ে আপনাকে অত্যন্ত নিশ্চিত হতে হবে। কৃষি-অর্থনীতি ও কৃষি-পরিবেশবিদ্যায় ভুল হলে কৃষিতে আর কিছুই ঠিক থাকতে পারবে না।
- কৃষিতে পরীক্ষাগার থেকে জমিতে স্থানান্তরের চ্যালেঞ্জসমূহ থেকে উদ্ধৃত।"ইন কনভারসেশন: এম. এস. স্বামীনাথন" (pdf)। কারেন্ট সায়েন্স। ২৫ অক্টোবর ২০১১।
- সুতরাং, বড় পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়াও, আপনি যদি গড় আয়ু দেখেন, যা ১৯৪৭ সালে ২৮-২৯ বছর ছিল, এখন তা ৬৪-৬৫ বছর। কেরালায় প্রায় ৭৪ বছর। আমি নিশ্চিত শীঘ্রই গড় আয়ু ৮০-৯০ বছর হয়ে যাবে। এর একটি কারণ খাদ্যও বটে, কারণ পুষ্টি ছাড়া এসব সম্ভব নয়। সুতরাং, আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার একটি পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু তা সমাজে সমানভাবে বণ্টিত হয়নি; এখনও খুব দরিদ্র, চরম বঞ্চিত মানুষ রয়েছেন। আমার মতে, বিজ্ঞান ও সমাজ উভয়েরই প্রথম কাজ হলো এই সমস্যাটির সমাধান করা।
- ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন সম্পর্কে।"ইন কনভারসেশন: এম. এস. স্বামীনাথন" (pdf)। কারেন্ট সায়েন্স। ২৫ অক্টোবর ২০১১।
- তরুণ বয়সে আমি স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা অনুসরণ করতাম। তিনি বলেছেন, এই জীবন ছোটো, এর অহংকার ক্ষণস্থায়ী। কেবল সেই বেঁচে থাকে, যে অন্যের জন্য বাঁচে। আমার মনে হয়, অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে আমাদের দেশে আজ এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘অন্যদের’ মধ্যে পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত, কারণ দান-ধ্যান নিজের ঘর থেকেই শুরু হয়। কিন্তু আপনি যদি একজন শিক্ষিত ব্যক্তি হন, তবে এমন কিছু করুন যা আপনার দেশবাসীর জীবন ও জীবিকার উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে। আর তারপর জীবনের শেষ ভাগে এসে আপনি এই ভেবে আরও বেশি তৃপ্তি পাবেন যে, আপনি শুধু নিজের বা পরিবারের জন্য কিছু জেতেননি, বরং এমন কিছু করেছেন যা সুবিধাবঞ্চিতদের জীবনে সামান্য হলেও পরিবর্তন এনেছে।
- নিজের আদর্শ সম্পর্কে তার বক্তব্য।"ইন কনভারসেশন: এম. এস. স্বামীনাথন" (pdf)। কারেন্ট সায়েন্স। ২৫ অক্টোবর ২০১১।
- খাদ্যের অধিকারকে ভালো খাদ্যের অধিকারে পরিণত হতে হবে।
- এস., বালা রবি; আই., আই. হোয়েশ্লে-জেলেডন; স্বামীনাথন, এম.এস.; ফ্রিসন, ই. (এডস.)। হাঙ্গার অ্যান্ড পভার্টি: দি রোল অব বায়োডাইভার্সিটি। বায়ো ভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল। পৃষ্ঠা ৬৯–। আইএসবিএন 978-92-9043-703-1।
- খাদ্য নিরাপত্তার মূল্য হলো নিরন্তর সতর্কতা।
- চতুর্বেদী, প্রদীপ (১ জানুয়ারি ২০০২)। উইমেন অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি: রোল অব পঞ্চায়েতস। কনসেপ্ট পাবলিশিং কোম্পানি। পৃষ্ঠা ৪৬–। আইএসবিএন 978-81-7022-873-8।
- কৃষিক্ষেত্রে জৈবপ্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো একলাফে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে পারে।
- প্রসাদ, জগদীশ; প্রসাদ, অরবিন্দ (১৯৯৪)। ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানিং ফর এগ্রিকালচার: পলিসিস, ইকোনমিক ইমপ্লিকেশনস, ইনপুটস, প্রোডাকশন অ্যান্ড মার্কেটিং। মিত্তাল পাবলিকেশন্স। পৃষ্ঠা ৯৩–। আইএসবিএন 978-81-7099-569-2।
- সমাজকর্মীরা সবুজ বিপ্লবের সমালোচনা করেছিলেন এই যুক্তিতে যে, খনিজ সার ও রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার-নির্ভর উচ্চ ফলনশীল প্রযুক্তি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। একইভাবে, কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করতেন যে, এই নতুন প্রযুক্তিগুলো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের নাগালের বাইরে চলে যাবে, কারণ প্রযুক্তিগুলো পরিমাণ-নিরপেক্ষ হলেও সম্পদ-নিরপেক্ষ নয়। এর ফলেই আমি “চিরসবুজ বিপ্লব” শব্দটি উদ্ভাবন করি, যা পরিবেশগত ক্ষতি ছাড়াই চিরস্থায়ীভাবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।
- "ফুড অ্যাস পিপল'স রাইট"। দি হিন্দু। ৪ জানুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৩।
- নরম্যান বোরলাউগ ক্ষুধামুক্ত বিশ্বের জন্য মানুষের অন্বেষণের এক জীবন্ত প্রতিমূর্তি। তার জীবনই তার বার্তা।
- অধ্যাপক এম. এস. স্বামীনাথন, এম.এস. স্বামীনাথন রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ভারত) থেকে উদ্ধৃত।
- চিরসবুজ বিপ্লব অর্জনের জন্য ভূমি ও জল ব্যবস্থাপনাকে ‘এক নম্বর’ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। বিনিয়োগের পাশাপাশি জল ব্যবহারে সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
- "ফুড অ্যাস পিপল'স রাইট"। দি হিন্দু। ৪ জানুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৩।
- জাদু তখনই ঘটে, যখন শিল্পী ভালোবাসা দিয়ে পরিবেশন করেন এবং শ্রোতাও একই চেতনায় তা গ্রহণ করেন।
- "কুয়োটেশনস বাই ৬০ গ্রেটেস্ট ইন্ডিয়ান্স"। ধীরুভাই আম্বানি ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি।
তার সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- ডঃ স্বামীনাথন একজন জীবন্ত কিংবদন্তী। কৃষি বিজ্ঞানে তাঁর অবদান ভারতসহ উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যান্য দেশের খাদ্য উৎপাদনে এক অবিস্মরণীয় ছাপ রেখেছে। যেকোনো মানদণ্ডেই, তিনি ইতিহাসের পাতায় এক বিরল বিশিষ্ট বিশ্ব বিজ্ঞানী হিসেবে স্থান করে নেবেন।
- প্রথম বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব হাভিয়ের পেরেজ দে কুয়েলার কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি। "ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ, প্রফ. স্বামীনাথন, ১৯৮৭ ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ লরিয়েট"। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ অর্গানাইজেশন। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৩।
- কিন্তু... তার অবদান ছাড়া, মার্কিন অমঙ্গলকথক প্যাডক ভাইদের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী আজকের ভারত একটি বিধ্বস্ত, জনশূন্য দেশ হয়ে থাকতো!
- ১৯৯৫ সালে ন্যাশনাল একাডেমি অফ এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস (এন এ এ এস)কে লেখা আত্মারাম ভৈরব যোশীর একটি চিঠি, যা ২০১৩ সালের একটি ভাষ্য থেকে উদ্ধৃত হয়েছে।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় এম এস স্বামীনাথন সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।