কলেরা
অবয়ব
কলেরা বা ওলাউঠা হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়।
উক্তি
[সম্পাদনা]- একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০
- বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,
মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।
তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্ধাপ্,
টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্চাপ্।- সুকুমার রায়, সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩
- তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শুশ্রূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শুশ্রূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি।
- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩
- নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তাহারে কেবা?
সকলে বলিল, যাওনা নন্দ, করনা ভায়ের সেবা;
নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই,
না হয় দিলাম কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি?- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, নন্দলাল, হাসির গান - দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, শ্রী ইন্দুভূমণ সান্যাল কর্তৃক প্রকাশিত, কলিকাতা, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৩
- এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল?
- প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪
- গায়ে হলুদের দিনে রাত তিনটার সময় হঠাৎ শশীকে ওলাউঠায় ধরিল। রোগ উত্তরোত্তর কঠিন হইয়া উঠিতে লাগিল। অনেক চেষ্টার পর নিষ্ফল ঔষধের শিশিগুলা ভূতলে ফেলিয়া ছুটিয়া গিয়া হরিনাথের পা জড়াইয়া ধরিলাম। কহিলাম, “মাপ করো, দাদা, এই পাষগুকে মাপ করো। আমার একমাত্র কন্যা, আমার আর কেহ নাই।”
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দুর্বুদ্ধি, পূর্ব-বাংলার গল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
- হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!
ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ।- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮
- দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"
ম। তাঁরা এখন কোথায়?
দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"
ম। স্বামী?
দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,
কাপালিক তোমার স্বামী?
দৈ। হাঁ।- হেমলতা দেবী, কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫
- এ মিলন অধিক দিন স্থায়ী হইল না। কারণ, ইহার অনতিকাল পরেই একদিন প্রাতঃকালে গ্রামবাসিগণ সংবাদ পাইল যে, রাত্রে শশি ওলাউঠো রোগে আক্রান্ত হইয়া মরিয়াছে—এবং রাত্রেই তাহার দাহক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া গেছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দিদি, গল্প-দশক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশসাল- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩০২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০১
- কলেরা বসন্ত আর না ঘেঁষে নিকটে।
বন্ধ্যানারী পুত্রমুখ হেরে আঁখিপটে॥
নির্ধনীর ধন হবে—ঘরে না ধরিবে।
ধর্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুর্ব্বর্গ পাবে॥- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, বেল্লিক রামায়ণ - কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৪
- গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে!
- রাজশেখর বসু, দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০
- একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০
- আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
- সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?
আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না।- প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯
- মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯
- অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়
হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!
বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,
কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে?- কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪
- করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!”
- বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
- মুখে-চোখে অনিদ্রার চিহ্ন লইয়া রণেন্দ্র ঘরের বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইতে না দাঁড়াইতে তাহার স্ত্রী বিবর্ণমুখে ছুটিয়া আসিল। তাড়াতাড়ি তাহার হাত ধরিয়া বলিল, “ওগো, খোকার কি হয়েছে, দেখবে এস!”
রণেন্দ্র বলিল, “কি হয়েচে?”
লীলা হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলিল, “বোধ হয়—বোধ হয়— কলেরা! অমন করে দাঁড়িয়ে থেকো না-বাছা একেবারে নেতিয়ে পড়েচে।”
অত্যন্ত বিপন্নভাবে রণেন্দ্র আপনার শয়নকক্ষে প্রবেশ করিল।- হেমেন্দ্রকুমার রায়, যশের মূল্য, পসরা - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশক- বৈদ্যবাটী-যুবক-সমিতি, প্রকাশসাল- ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭
- আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?
—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি।- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২
- একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না।
- সরলা দেবী চৌধুরানী, জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭
- কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন।
- প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩
- ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?
দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।
ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?
দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে।- হেমলতা দেবী, কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় কলেরা সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিঅভিধানে কলেরা শব্দটি খুঁজুন।
উইকিমিডিয়া কমন্সে কলেরা সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।