বিষয়বস্তুতে চলুন

কাঞ্চনমালা বন্দ্যোপাধ্যায়

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

কাঞ্চনমালা বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯১–১৯৩১) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙালি লেখিকা। তিনি ছিলেন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী। কাঞ্চনমালা ছিলেন উত্তরপাড়ার জমিদার নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের কন্যা। তিনি রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে ১৯০০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কাঞ্চনমালা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত ছোটগল্প সংকলন ‘গুচ্ছ’ প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে। অন্যান্য রচনার মধ্যে ‘রসির ডায়রী’ প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • মানুষের মধ্যে দুই শ্রেণীর লোক আছে। প্রথম শ্রেণীর লোক কুকুর দেখিলে ডরায়, তাহাদিগকে আমরা বড় ঘৃণা করি; দ্বিতীয় শ্রেণীর লোক আমাদের ভালবাসে, আদর করে, আমরাও তাহাদের ভালবাসি। আমার বাবুর বাড়ী অনেক রকমের অনেক লোক আসে; কেহ বা ঘোড়ার গাড়ীতে চড়িয়া আসে, কেহ বা হাওয়াগাড়ীতে চড়িয়া আসে, আবার কেহ বা হাঁটিয়া আসে। ইহাদের মধ্যে আমরা কেবল ঐ উপরের দুই শ্রেণীর লোক দেখিতে পাই। এই সকল বাহিরের লোকের মধ্যে আমি একজনকে বড়ই ভালবাসি, সে আমার মনিবের দূর সম্পর্কের ভাইপো। সে বেচারি বড় ভালমানুষ। লোকটা যদিও মোটা, বেঁটে, কালো, কিন্তু লবাবেটার চাইতে কালো নয়। সে নিতান্তই গরীব, কারণ, আমার মনিব কখনই গরীব মানুষের সঙ্গে কথা কহেন না।
    • রসির ডায়ারী, রসির ডায়ারী - কাঞ্চনমালা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২-৩
  • তখন কলিকাতা মহানগরীতে মহামারী দেখা দিয়াছে। প্রতি বৎসর শীতের শেষে গৃহে গৃহে ক্রন্দনের রোল উঠে, গঙ্গাতীরে শবদাহের স্থানাভাব হয়। একদিন অকস্মাৎ বজ্রাঘাতের ন্যায় টেলিগ্রাম পাইয়া পিতাপুত্র কলিকাতায় চলিয়া আসিলেন, কিন্তু তাঁহারা আসিবার পূর্ব্বেই সব শেষ হইয়া গিয়াছে, শমন একটি সুকুমার জীবনের সহিত মাধুরীর জীবনের সকল সুখ হরণ করিয়া লইয়া গিয়াছে।
    • নিয়তি, গুচ্ছ - কাঞ্চনমালা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬
  • মা, রূপই আমার কাল, এই পোড়া রূপের জন্য আজন্ম জ্বলিয়া মরিতেছি, ইহার জন্যই আমার ইহজন্মের সুখ, আশা, ভরসা, অতীত, ভবিষ্যৎ, সমস্ত ভন্ম হইয়া গিয়াছে। আমি পাহাড়ী ভূমিয়ার কন্যা, আমার কিসের দুঃখ? আমাদের দেশে স্ত্রীজাতি স্বাধীন, স্বচ্ছন্দে নিজের জীবিকা উপার্জ্জন করিতে পারে, সমাজের শাসন কঠোর নহে, কিন্তু এই রূপের জন্য আমি আজ অন্যরূপ হইয়া গিয়াছি। রূপও দগ্ধ হইয়া গিয়াছে; কেবল এই ছার দেহখানা কবে ভস্ম হইবে তাহাই ভাবি।
    • মায়া, রসির ডায়ারী - কাঞ্চনমালা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩০
  • অন্নাভাবে প্রথম উপার্জ্জন করিলাম। একজন কয়লার দালালের কেরাণী হইলাম। দেশে যখন কয়লার দুর্ভিক্ষ হইল তখন আমার মনিব চতুর্গুণ মূল্যে তাঁহার সঞ্চিত কয়লা ছাড়িতে আরম্ভ করিলেন। মনিব ক্রোরপতি হইলেন।
    • টমি, গুচ্ছ - কাঞ্চনমালা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]