বিষয়বস্তুতে চলুন

খড়

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
ধান কাটা হয়ে গেলে মাঠে মাঠে কত বার কুড়ালাম খড়,
বাঁধিলাম ঘর এই শ্যামা আর খঞ্জনার দেশ ভালোবেসে,
ভাসানের গান শ‍ুনে কত বার ঘর আর খড় গেল ভেসে
মাথুরের পালা বেঁধে কত বার ফাঁকা হ’ল খড় আর ঘর।
জীবনানন্দ দাশ

খড় হলো শস্য গাছ থেকে দানা ও তুষ সরিয়ে ফেলার পর অবশিষ্ট শুকনো ঐচ্ছিক অংশ নিয়ে গঠিত একটি কৃষি উপজাত। ধান, বার্লি, যব, রাই এবং গমের মতো শস্যের মোট উৎপাদনের ওজনের প্রায় অর্ধেকই হলো খড়। এর বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে, যেমন জ্বালানি, গবাদি পশুর বিছানা ও পশুখাদ্য, ঘরের ছাউনি দেওয়া এবং ঝুড়ি তৈরি প্রভৃতি।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • তুমি কেন খড় মাড়াই করে কঠোর পরিশ্রম করতে চাও?
    • ইয়োহান ওলফগাং ফন গোয়েথে, ফাউস্ট ১, শ্লোক ১৮৩৯ / মেফিস্টোফেলিস
  • গরমকালে দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নেওয়া তোমার জন্য ভালো, যখন তুমি পরিচারিকার সাথে খড়ের উপর শুয়ে পৃথিবীর কোনো চিন্তা ছাড়াই থাকতে পারো। তাতে আনন্দ হয়।
    • সলজবার্গের সন্ন্যাসী, দ্য কাউ হর্ন
  • অপর প্রান্তে গুটিদুয়েক গাই ও বাছুর বাঁধা, তাদের খড় ও গোবর জমছে, এবং সমস্ত প্রাচীর ঘুঁটের চক্রে আচ্ছন্ন। এক ধারে একটি মাত্র নিমগাছ, তার গুঁড়িতে গোরু বেঁধে বেঁধে বাকল গেছে উঠে, আর ক্রমাগত ঠেঙিয়ে ঠেঙিয়ে তার পাতা কেড়ে নিয়ে গাছটাকে জেরবার করে দিয়েছে।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যোগাযোগ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭
  • ধান কাটা হয়ে গেলে মাঠে মাঠে কত বার কুড়ালাম খড়,
    বাঁধিলাম ঘর এই শ্যামা আর খঞ্জনার দেশ ভালোবেসে,
    ভাসানের গান শ‍ুনে কত বার ঘর আর খড় গেল ভেসে
    মাথুরের পালা বেঁধে কত বার ফাঁকা হ’ল খড় আর ঘর।
    • জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১
  • এ পৃথিবীতে এক সম্প্রদায়ের লোক আছে, তাহারা যেন খড়ের আগুন। দপ্ করিয়া জ্বলিয়া উঠিতেও পারে, আবার খপ্ করিয়া নিবিয়া যাইতেও পারে। তাহাদিগের পিছনে সদা-সর্ব্বদা একজন লোক থাকা প্রয়োজন,—সে যেন আবশ্যক অনুসারে, খড় যোগাইয়া দেয়।
    • বড়দিদি - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রথম পরিচ্ছেদ, অষ্টম সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
  • বুড়ি খপ্ করিয়া একমুঠা পোড়া খড় উনান হইতে তুলিয়া লইল। একদিক তখনো জ্বলিতেছে। কিন্তু এ দিয়া তো পিঠে মারা যায় না। মুখে গুঁজিয়া দেওয়া যায়। বুড়ি এক হাতে অনন্তর হাত ধরিয়া আরেক হাতে জ্বলন্ত খড় তার মুখে গুঁজিতে গেল। তার মেয়ে বাধা দিতে আসিলে তারও মুখে গুঁজিতে গেল। মেয়ে হেঁচ্‌কা টানে খড়গুলি বুড়ির হাত হইতে কাড়িয়া লইয়া মাটিতে ফেলিয়া দিল। আচমকা খড়ের আগুন হাতে লাগিয়া বুড়ির হাতের খানিকটা পুড়িয়া গেল।
    • অদ্বৈত মল্লবর্মণ, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬০-২৬১
  • কে ডাকে করুণ সুরে—শুনিস না তুই?
    খাবার খুঁজিয়া ফেরে চপল চড়ুই।
    বখরা লইয়া যত ঝগড়াটে কাক।
    ঘরের খড়ের চালে করে হাঁকডাক।
    • শীতের সকাল - সুনির্মল বসু, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭১
  • রাত্রি নয় ঘটিকার পর কয়েকজন লোক খড়ের বোঝা মাথায় লইয়া গৃহমধ্যে প্রবেশ করিল। খড় বিছাইয়া বিছানা প্রস্তুত হইল। সকলেই মহা আনন্দে সেই শয্যায় শয়ন করিয়া নিদ্রাদেবীর সুকোমল অঙ্কে বিশ্রাম করিতে লাগিল। জেরার্ড বিছানার ব্যবস্থা দেখিয়া অবাক হইয়া গেলেন।
    • অনাথনাথ বসু, প্রেমিক সন্ন্যাসী, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, প্রেমিক সন্ন্যাসী - অনাথনাথ বসু, প্রকাশক- শিশির পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৭
  • রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে।
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৩৭
  • সন্ধ্যা হয়—চারিদিকে শান্ত নীরবতা;
    খড় মুখে নিয়ে এক শালিখ যেতেছে উড়ে চুপে;
    গোরুর গাড়িটি যায় মেঠো পথ বেয়ে ধীরে ধীরে;
    আঙিনা ভরিয়া আছে সোনালি খড়ের ঘন স্তূপে;
    • জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
  • কি করলি খড়? ভাগে এবার যা পেলি সমস্ত বেচে পেটায় নমঃ? গরুটার জন্যে এক আঁটি ফেলে রাখতে নেই? ব্যাটা কসাই!
    নিষ্ঠুর অভিযোগে গফুরের যেন বাক্‌রোধ হইয়া গেল। ক্ষণেক পরে ধীরে ধীরে কহিল, কাহন-খানেক খড় এবার ভাগে পেয়েছিলাম, কিন্তু গেল সনের বকেয়া বলে কর্ত্তামশায় সব ধরে রাখলেন। কেঁদে কেটে হাতে পায়ে পড়ে বললাম, বাবুমশাই, হাকিম তুমি, তোমার রাজত্বি ছেড়ে আর পালাবো কোথায়, আমাকে পণদশেক বিচুলিও না হয় দাও। চালে খড় নেই—একখানি ঘর, বাপ-বেটিতে থাকি, তাও না হয় তালপাতার গোঁজা-গাঁজা দিয়ে এ বর্ষাটা কাটিয়ে দেব, কিন্তু না খেতে পেয়ে আমার মহেশ মরে যাবে।
    • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মহেশ, শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- শরৎ-স্মৃতি-মন্দির, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১২
  • মাটিতে নিকানো ঘর দাওয়াগুলি মনোহর
      সমুখেতে মাটির উঠান।
    খড়ো চালখানি ছাঁটা লতিয়া করলা-লতা
      মাচা বেয়ে করেছে উত্থান!
    • গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, গ্রাম্য ছবি, অশ্রকণা কাব্যগ্রন্থ, গিরীন্দ্রমোহিনী দাসীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, ড.বারিদবরণ ঘোষ সম্পাদিত, প্রকাশক: ভারবি, কলকাতা,-প্রথম প্রকাশ: আশ্বিন ১৪০৮, সেপ্টেম্বর ২০০১, পৃষ্ঠা ৭৭
  • গ্রামের পর গ্রাম পার হয়ে যেতে লাগলাম। মাঝে মাঝে ড্রাইভার সাথীকে বলে গাড়ি থামিয়ে লক্ষ্মীছাড়া গ্রামগুলি দেখতে লাগলাম। গ্রামের খড়ের ঘরগুলি খড়ে পূর্ণ, চারদিকে কোনওরূপ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার লেশ নাই। হয়ত গত একমাস যাবৎ এদিকে কেউ আসেই নি। গরুতে খড় খেয়েছে এবং খড় চারিদিকে এলোমেলো করে রেখে গেছে।
    • **রামনাথ বিশ্বাস, আজকের আমেরিকা - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয়- সংস্করণ, প্রকাশক- পর্যটক প্রকাশনা ভবন, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬৬
  • প্রকাণ্ড বাঁশের কাঠামটা ছিল অনন্তর চোখে পরম বিস্ময়। তৈরী করিতে পাঁচদিন লাগিল। এক বোঝাই খড় আসিলে, পাটের সরু দড়ি দিয়া খড় পেঁচাইয়া তৈরী হইল নির্মস্তক সব মূর্তি। সেগুলি কেবল বাঁশের উপর খাড়া করা; খাড়া কাঠামে পিঠ-লাগানো। মানুষের আকার নিয়াছে হাত পা শরীরে, নাই কেবল মাথা।
    • অদ্বৈত মল্লবর্মণ, জন্ম মৃত্যু বিবাহ, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬৯

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]