খন্দকের যুদ্ধ
খন্দকের যুদ্ধ, যা মৈত্রী যুদ্ধ এবং কনফেডারেটদের যুদ্ধ নামেও পরিচিত, ছিল ইয়াছরিব (বর্তমান মদিনা) নগরীর ২৭ দিনব্যাপী অবরোধ করে রাখে। এই যুদ্ধের সময় আরব এবং ইহুদি গোত্রসমূহ মদিনাকে ঘিরে ফেলে। কনফেডারেট বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১০,০০০ জন, যাদের কাছে ৬০০টি ঘোড়া এবং কিছু উট ছিল, আর মদিনার রক্ষীদের সংখ্যা ছিল ৩,০০০ জন। যুদ্ধ শুরু হয় ৬২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মার্চ।
এটি ছিল একপ্রকার "বুদ্ধির যুদ্ধ", যেখানে মুসলিমরা কৌশলগতভাবে তাদের শত্রুদের পরাজিত করে খুব কম ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং এর ফলে ইসলাম এ অঞ্চলে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। এর পরিণতিতে মুসলিম বাহিনী বানু কুরাইজা গোত্রের এলাকায় অবরোধ স্থাপন করে, যার ফলে তারা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এই পরাজয় মক্কাবাসীদের বাণিজ্য এবং সম্মানহানি ঘটায়।
উক্তি
[সম্পাদনা]- খন্দকের যুদ্ধে (গজওয়াতুল খন্দাক) আনসারগণ বলতেন, "আমরা মুহাম্মদকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত জিহাদের জন্য অঙ্গীকার করেছি।" নবী (সা.) তাদের উত্তরে বলেছিলেন, "হে আল্লাহ! প্রকৃত জীবন তো আখিরাতের জীবন; আনসার ও মুহাজিরদের সম্মানিত করুন।"
- আমি খন্দকের যুদ্ধে নবী (সা.)-কে আমাদের সাথে মাটি বহন করতে দেখেছিলাম এবং তিনি বলছিলেন, "আল্লাহর কসম! আল্লাহ ছাড়া আমরা হেদায়াত পেতাম না, রোজা রাখতাম না, নামাজ পড়তাম না। হে আল্লাহ! আমাদের উপর শান্তি নাজিল করুন এবং শত্রুর মোকাবিলায় আমাদের দৃঢ় করুন। মুশরিকরা আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে, কিন্তু তারা আমাদের আক্রমণ করলে আমরা পিছু হটব না।"
- ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি (ইবনে উমর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য) নিজেকে পেশ করার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দেননি। তখন তাঁর বয়স ছিল চৌদ্দ বছর। তবে খন্দক যুদ্ধের দিন তিনি (যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য) নিজেকে পেশ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন। তখন তাঁর বয়স পনের বছর।
- সহীহ বুখারী, ৭ম খণ্ড (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) হাদীস নং ৩৭৯৭