খাজা আবদুল্লাহ আনসারি

আবু ইসমাইল আবদুল্লাহ আল-হারাউই আল-আনসারি বা হেরাতের আবদুল্লাহ আনসারি বা খাজা আবদুল্লাহ আনসারি (১০০৬–-১০৮৮) (ফার্সি: خواجه عبدالله انصاری) যিনি পীর-ই হেরাত (پیر هرات) "হেরাতের শায়খ" নামে পরিচিত, তিনি একজন মুসলিম সুফি সাধক ছিলেন।তিনি হাদিস, ইতিহাস এবং 'ইলমুল আনসাব'-এর জ্ঞান অর্জনে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন । তিনি ফারসি ও আরবি ভাষায় ইসলামি আধ্যাত্মবাদ ও দর্শন নিয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন । তার সর্বাধিক বিখ্যাত রচনা "মুনাজাত নামা" ( 'ঈশ্বরের সাথে প্রার্থনাময় সংলাপ'), যা ফার্সি সাহিত্যের একটি শ্রেষ্ঠ অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়।
উক্তি
[সম্পাদনা]- যে হৃদয়ে সকল জীবের প্রতি ভালোবাসা এবং করুণা থাকে, সেখানে ব্যক্তিগত আনন্দের জন্য কোন স্থান থাকতে পারে না। হে বন্ধু, কোন জীবের ক্ষতি না করার ব্যাপারে সতর্ক থেকো; তার সৃষ্টিকে আঘাত করা মানে স্রষ্টাকে ভুলে যাওয়া।
- ""টেলস অফ দ্য মিস্টিক ইস্ট: অ্যান অ্যান্থোলজি অফ দ্য মিস্টিক অ্যান্ড মোরাল টেলস টেকন ফ্রম দ্য টিচিংস অফ দ্য সেন্টস" (রাধা সোমি সৎসঙ্গ বিয়াস, ১৯৯৭), পৃ. ২০৮-এ উদ্ধৃত
কবিতা
[সম্পাদনা]- নিজেকে অন্যদের উপর উচ্চ স্তরের বলে মনে করা তোমার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।
চোখের পুতুলের মতো হতে চেষ্টা করো—
অন্য সবকিছু দেখতে, কিন্তু নিজেকে দেখার জন্য নয়।- "পারস্যের সাহিত্যের ইতিহাস", খণ্ড ২, পৃ. ২৭০
- হৃদয় আত্মা কে জিজ্ঞাসা করল
এই কাজের শুরু কী?
এর শেষ কী এবং এর ফল কী?
আত্মা উত্তর দিল:
এর শুরু হল
আত্মার বিনাশ,
এর শেষ বিশ্বস্ততা,
এবং এর ফল অমরত্ব।- শায়খ আব্দুল্লাহ আল-আনসারীর আহ্বান, পৃষ্ঠা ৪২; সাইয়্যেদ হোসেন নাসরের সুফি প্রবন্ধ-এও উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৪
- বিনয়ী হও এবং নীরবতা পালন করো।
যদি তুমি পেয়ে থাকো, আনন্দ করো।
এবং নিজেকে পরমানন্দে পূর্ণ করো। আর যদি না পাও, তাহলে দাবি চালিয়ে যাও।
কাঁটা নয়, গোলাপ হও!
শত্রু নয়, বন্ধু হও!
প্রিয়তমকে মহিমান্বিত করা ধর্ম পালন করা; আত্মকে মহিমান্বিত করা পৌত্তলিকতা পালন করা।
যদি অন্বেষক যোগ্য হয়, তাহলে প্রাপ্তি সহজ।
একজন ভালো বন্ধুর সঙ্গ আত্মার আলো।
একজন অধার্মিক ব্যক্তির সঙ্গ জীবনের বিষ।
একজন অবিশ্বাসী বন্ধুর চেয়ে সাপ ভালো।
যদি আমি একশ বছর আগুনে থাকি
সেই জ্বলন্ত শিখা ঈশ্বরহীন মানুষের সঙ্গ অপেক্ষা সহ্য করা সহজ হবে;
মৃত্যু এমন সঙ্গ অপেক্ষা শ্রেয়।
- ‘আমি এসেছিলাম’
অপার্থিবতার নিগূঢ় থেকে এসে,
আমি তাঁবু গেড়েছিলাম পার্থিবতার অরণ্যে,
আমি অতিক্রান্ত করেছি খনিজ ও উদ্ভিজ্জ সাম্রাজ্য,
তারপর মনন আমায় বয়ে নিয়েছিলো প্রাণিজগতে,
পৌঁছে সেথায়, পেরিয়ে গেলাম তা,
এরপর মানব হৃদয়ের স্ফটিক-স্বচ্ছ খোলসে নিজেকে বিকশিত করলাম মুক্তোয়,
আর সৎ সংসর্গে পরিভ্রমণ করলাম প্রার্থনাগৃহ,
অভিজ্ঞতার আস্বাদন শেষে পেরিয়ে গেলাম সেটিও,
তারপর বেছে নিলাম তাঁকে পাওয়ার পথ
আর তাঁর দরজায় অনুগত দাসে পরিণত হলাম,
অতঃপর অন্তর্হিত হলো সত্তার দ্বৈধতা
আর আমি বিলীন হলাম তাঁরই মাঝে।
- খাজা আবদুল্লাহ আনসারির মুনাজাত কবিতার অংশবিশেষ
- ‘খোঁড়া কুকুর পায় যদি
তোমার দুয়ারে আশ্রয়,
ক্লান্ত শ্রান্ত আর্তজন
তোমাতে যদি পায় শান্তি,
হতাশ হবার নেই কারণ।’ - তোমার ইচ্ছা পালনেই আমি বেঁচে থাকি,
তোমার বন্দনায় রসনা মোর সদা সঞ্চালিত,
প্রভু হে, যে জন তোমায় জেনেছে
তুমি ছাড়া সব কিছুই ছেড়েছে সে।’
- হে ঈশ্বর
তুমি জানো আমি কেন খুশি: কারণ আমি তোমার সঙ্গ চাই, আমার নিজের প্রচেষ্টার মাধ্যমে নয়।
হে ঈশ্বর, তুমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে আর আমি তা করিনি। আমি আমার পাশে বন্ধুকে পেয়েছি যখন আমি জেগে উঠি!