গন্ধ
অবয়ব
গন্ধ হলো এক বা একাধিক উদ্বায়ী রাসায়নিক যৌগের এমন একটি বৈশিষ্ট্য, যা সাধারণত স্বল্প ঘনত্বে থাকে এবং মানুষ ও প্রাণী তাদের ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তা উপলব্ধি করতে পারে। গন্ধ বলতে সুখকর বা অপ্রীতিকর উভয় প্রকার গন্ধকেই বোঝাতে পারে। মনোরম গন্ধকে বলা হয় সুগন্ধি, আর অপ্রীতিকর গন্ধকে বলা হয় দুর্গন্ধ।
উক্তি
[সম্পাদনা]- ধূপ আপনারে মিলাইতে চাহে গন্ধে,
গন্ধ সে চাহে ধূপেরে রহিতে জুড়ে।
সুর আপনারে ধরা দিতে চাহে ছন্দে,
ছন্দ ফিরিয়া ছুটে যেতে চায় সুরে।- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, উৎসর্গ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯
- আমরা প্রাণীদের প্রাণী হিসেবে সহজেই ভাবতে পারি, কারণ তাদের গন্ধ প্রাণীদের মতোই। কিন্তু যখন আপনি এমন একদল মানুষের দেখা পান যাদের গন্ধ গরুর চেয়ে ভালো নয়, বরং আরও খারাপ, তখন আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে মানুষও এক প্রকার প্রাণী; শূকরের মতো দুর্গন্ধ ছড়ানোর এবং নেকড়ের মতো হত্যা করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
- পিটার মাস, লাভ দাই নেইবার: এ স্টোরি অফ ওয়ার (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩
- যেমন ফুল নাড়তে-চাড়তে ঘ্রাণ বের হয়, চন্দন ঘষতে ঘষতে গন্ধ বের হয়, তেমনি ভগবৎতত্ত্বের আলোচনা করতে করতে তত্ত্বজ্ঞানের উদয় হয়।
- সারদা দেবী, শ্রীমা সারদা দেবী - স্বামী গম্ভীরানন্দ, প্রকাশক- উদ্বোধন কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৭৫-৩৭৬
- স্মৃতি জাগিয়ে তোলার জন্য গন্ধের চেয়ে ভালো আর কিছু নেই।
- উইলিয়াম ম্যাকফি, ‘দ্য মার্কেট’ ক্রিস্টোফার মর্লি সম্পাদিত মডার্ন এসেজ (১৯২১) থেকে।
- গোলাপ, গোলাপ, শুধু গোলাপের রাশি!
গোলাপের রং ছিল অনন্ত আকাশে,
গোলাপের গন্ধ ছিল ধরাতে বাতাসে,
নারীর অধরে ছিল গোলাপের হাসি॥- প্রমথ চৌধুরী, অপরাহ্ন, সনেট-পঞ্চাশৎ - প্রমথ চৌধুরী, প্রকাশক- সিদ্ধেশ্বর মেসিন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
- খাবারওয়ালাকে যদি প্রশ্ন করি—মিষ্টান্নে রং দাও কেন, বিকট বিলিতী গন্ধ দাও কেন, সে উত্তর দেয়, খদ্দের এইরকম রং আর গন্ধ চায় যে। কথাটা পুরােপুরি সত্য নয়। তীব্র কৃত্রিম গন্ধযুক্ত সবুজ রঙের গ্রীন ম্যাংগাে সন্দেশ পছন্দ করে এমন লােক হয়তাে আছে। কিন্তু আসল কথা, খাবারওয়ালা নিজের রুচি আর বুদ্ধি অনুসারে যে রং দেয়, গন্ধ দেয়, অদ্ভুত অদ্ভুত নাম দেয়, ক্রেতা তাতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, মনে করে এই হচ্ছে আধুনিক ফ্যাশন। খাদ্যের স্বাভাবিক বর্ণ গন্ধ স্বাদ অনেকেরই ভাল লাগে, কিন্তু মিষ্টান্নকার তা বােঝে না।
- রাজশেখর বসু, নিসর্গচর্চা, বিচিন্তা - রাজশেখর বসু, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪২-১৪৩
- খাদ্য দ্রব্য লুকানো থাকিলে কেবল চোখে দেখিয়া তাহার খোঁজ পাওয়া যায় না। তখন গন্ধ শুঁকিয়া লুকানো খাদ্য বাহির করিতে হয়। কুকুরের ঘ্রাণশক্তি খুব বেশি। কেবল গন্ধ শুঁকিয়া শুঁকিয়া অনেক কুকুর গভীর জঙ্গল হইতে শিকার ধরিয়া আনে।
- জগদানন্দ রায়, চিংড়ির চোখ, কান ও নাক, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২৬
- হয়তো বা হাঁস হ’ব—কিশোরীর—ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারা দিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধ ভরা জলে ভেসে ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়;- জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪
- পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;
মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ্লা দিদি কই?- যতীন্দ্রমোহন বাগচী, কাজ্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪
- কোথাও একটা দ্বীপ নাই, কেবল চাতালের একধারে যেখানে বাহকেরা পালকি নামাইয়া রাখিয়া একত্র বসিয়া ধূমপান করিতেছে তাহারই অদূরে একখণ্ড জ্বলন্ত শুষ্ককাষ্ঠ হইতে কতকটা যৎকিঞ্চিৎ আলোকিত হইয়াছে। খবর পাইয়া ভৃত্য আসিয়া এককড়িকে একটা ঘরের মধ্যে লইয়া গেল। সমস্ত কক্ষ মদের গন্ধে পরিপূর্ণ এককোণে মিটমিট করিয়া একটা মোমবাতি জ্বলিতেছে এবং অপরপ্রান্তে একটা ভাঙ্গা তক্তপোশের উপর বিছানা পাতিয়া বীজগাঁয়ের জমিদার জীবন চৌধুরী বসিয়া আছেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দেনা পাওনা - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- কামিনী প্রকাশালয়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ); পৃষ্ঠা ৫
- উঠে চারু বাস বায়ু আমোদিয়া
ঢলিতে ঢলিতে যায়;
চলে প্রাণিগণ মুগ্ধ নব রসে
বায়ু, গন্ধে স্নিগ্ধকায়।- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, পঞ্চম কল্পনা, আশাকানন- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৬১
- গন্ধ চলে যায়, হায়, বন্ধ নাহি থাকে;
ফুল তারে মাথা নাড়ি ফিরে ফিরে ডাকে।
বায়ু বলে, ‘'যাহা গেল সেই গন্ধ তব,
যেটুকু না দিবে তারে গন্ধ নাহি কব।’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, তন্নষ্টং যন্ন দীয়তে, কল্পনা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক - বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭২
- নানা রকম পোকা আলোর কাছে ঘুরিয়া বেড়ায় এবং তাহাদের গায়ে হাত ঠেকিলে হাতে বিশ্রী গন্ধ হয়। এই গন্ধ কিসে হয়, তাহা বোধ হয় তোমরা জান না। ইহাদের সম্মুখের পায়ের গোড়ায় একএকটি কোষে তেলের মত এক রকম রস জমা হয়। ভয় করিলে বা বিরক্ত হইলে পোকারা ঐ রস ইচ্ছামত শরীর হইতে বাহির করিয়া ফেলিতে পারে। গান্ধী পোকার গায়ের গন্ধ, ঐ রসেরই গন্ধ। টিক্টিকি ব্যাঙ্ বা পাখীরা যখন এই পোকাদের ধরিতে যায়, তখন ঐ বদ্ গন্ধ বাহির করিয়া তাহারা আত্মরক্ষা করে। গায়ের বিশ্রী গন্ধ পাইয়া কোনো প্রাণীই তাহাদের কাছে আসে না।
- জগদানন্দ রায়, গান্ধী পোকা, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩০৯-৩১০
- সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রং নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;- বনলতা সেন - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- নিউ স্ক্রিপ্ট, কলকাতা, অষ্টম মুদ্রণ: অগ্রহায়ণ ১৪২৪ (নভেম্বর ২০১৭), পৃষ্ঠা ৯
- শিশির-ভেজা হাওয়া বেয়ে ফুলের গন্ধ আসে
তখন কেন মায়ের কথা আমার মনে ভাসে।
কবে বুঝি আনত মা সেই ফুলের সাজি বয়ে—
পুজোর গন্ধ আসে যে তাই মায়ের গন্ধ হয়ে।- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মনে-পড়া, সঞ্চয়িতা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৭৫
- ক্রমশ এদেশে গুচ্ছবদ্ধ রক্ত-কুসুম
ছড়ায় শত্রু-শবের গন্ধ, ভাঙে ভীত ঘুম।
এখানে কৃষক বাড়ায় ফসল মিলিত হাতে,
তোমার স্বপ্ন চূর্ণ করার শপথ দাঁতে- সুকান্ত ভট্টাচার্য - সুকান্ত সমগ্র, বিভীষণের প্রতি ১৯৫৭ (পৃ. ১৬২-১৬৩)।
- পৃথিবীর কোনো পথে:নরম ধানের গন্ধ—কল্মীর ঘ্রাণ,
হাঁসের পালক, শর, পুকুরের জল, চাঁদা সরপুঁটিদের
মৃদু ঘ্রাণ, কিশোরীর চাল-ধোয়া ভিজে হাত—শীত হাতখান,
কিশোরের পায়ে-দলা মুথাঘাস,—লাল লাল বটের ফলের
ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা—এরি মাঝে বাংলার প্রাণ:- জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫
- আমার সহসা বাল্যকালের সেই আটচালা ঘর মনে পড়িল—ছোটুকে আমি যে ফুলগুলি দিতাম সে সযত্নে একটি ভাঙ্গ গ্লাসে পড়ার টেবিলের উপর কেমন সাজাইয়া রাখিত, আমি মাঝে মাঝে তাহার উপর ঝুঁকিয়া ফুলগুলির গন্ধ লইতাম; সুঁকিয়া বলিতাম “বাঃ কেমন গন্ধ, আমি বাড়ীতে যে ফুল সাজাই তার ত কই এমন গন্ধ হয় না”; ছোটু হাসিয়া সগর্ব্বে মাথা নাড়িত।
- স্বর্ণকুমারী দেবী, কাহাকে?, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, কাহাকে?-স্বর্ণকুমারী দেবী, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৭
- আপনার বাগানের কোন স্থানে একটি সুগন্ধ ফুল ফুটিয়াছে তাহাতে বাগান আমোদিত করিয়াছে। বায়ু গন্ধ ছড়াইয়া ফুলের সৌরভ বিকীর্ণ করিতেছে। ফুল তাহা চাহেনা, কিন্তু বাতাস আপনার কার্য্য আপনি করে।
- শিবাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য, পঞ্চম কথা, বিদ্যাসাগর-প্রবন্ধ - শিবাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য, প্রকাশসাল- ৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
- যখন পুকুরে হাঁস সোঁদা জলে শিশিরের গন্ধ শুধু পায়,
শামুক গুগলিগুলো প’ড়ে আছে শ্যাওলার মলিন সবুজে,—
তখন আমারে যদি পাও নাকো লালশাক-ছাওয়া মাঠে খুঁজে,
ঠেস্ দিয়ে ব’সে আর থাকি নাকো যদি বুনো চাল্তার গায়,
তাহ’লে জানিও তুমি আসিয়াছে অন্ধকারে মৃত্যুর আহ্বান—- জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫
- রুচি অনুসারে একই জিনিষ সুন্দর বা অসুন্দর আস্বাদ দেয়। চীনে বাড়ীতে গিয়ে দেখলেম এক সুন্দর কাচের বাটিতে ছেলেরা শুটকি মাছ খাচ্ছে; বাটিটা সুন্দর লাগলো, আহার্যের গন্ধটা কিন্তু চেনা নয় বলেই আমার নাকে ভারি অসুন্দর ঠেকলো। এই ব্যক্তিগত রুচি অরুচি ইত্যাদির উপরে যে রচনা উঠতে পারলে তাই যথার্থ সুন্দর হয়ে উঠলো।
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অসুন্দর, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৭-২১৮
- ফলন্ত ধানের গন্ধে—রঙে তার—স্বাদে তার ভ’রে যাবে আমাদের সকলের দেহ;
রাগ কেহ করিবে না—আমাদের দেখে হিংসা করিবে না কেহ।- জীবনানন্দ দাশ, অবসরের গান, জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- নাভানা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৭
- মাঘের রাতে আমের বোলের গন্ধ বহে যায়,
নিশ্বাস তার মেলে না আর তোমার বেদনায়।
- সেই ব্রাহ্মণী কি লক্ষ্মী মেয়েই ছিলেন! তিনি এমনি সুন্দর রাঁধতেন যে, তেমন রান্না কেউ কখনো খায়নি। তিনি যখন পায়েস রাঁধতে লাগলেন, তখন তার চমৎকার গন্ধে আশে পাশে সকল লোক পাগল হয়ে উঠল। একটা কাক সেই পায়েসের গন্ধ পেয়ে বললে, ‘আহা! এমন চমৎকার জিনিস একটু না খেয়ে দেখলে চলছে না।’
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, বাঘ-বর, টুনটুনির বই- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২
- ময়ূখের গৃহের কিঞ্চিৎ দূরে কাল্মকের সঙ্গিনী অপেক্ষা করিতেছিল; কালমক্ তাহার নিকটে যাইবামাত্র রমণী পূতিগন্ধময় গোময়ের গন্ধে অস্থির হইয়া উঠিল এবং নাকে রুমাল দিয়া কহিল, “পচা গন্ধ লইয়া আসিলি কোথা হইতে? গোরস্থানে গিয়াছিলি না কি?”
- রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, ময়ূখ - রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৭
- অন্ধ মেয়ে দেখছে না তা— নাই-বা যদি দেখে—
শীতল মিঠা বাদল হাওয়া যায় যে তারে ডেকে!
শুনছে সে যে পাখির ডাকে হরষ কোলাকুলি
মিষ্ট ঘাসের গন্ধে তারও প্রাণ গিয়েছে ভুলি!- অন্ধ মেয়ে, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী, প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৯
- আমেরিকার গ্রামে নতুনের গন্ধ পাওয়া যায়। ইউরোপের গ্রামে পুরাতনের প্রাধান্য বর্তমান। আমরা ভারতবাসী, আমরা ইচ্ছা করেই বলব, আমেরিকার গ্রামও একদিন পুরাতন হবে, ইউরোপের গ্রামের মত হবে। আমি বলছি তা হবে না। আমেরিকার গ্রাম চির নতুন থাকবে। হয়ত বর্তমান অবস্থা হতে আমেরিকার গ্রাম আরও উন্নত হবে, কারণ আমেরিকাতে এখনও ধর্মের বদ্খেয়ালী নাই।
- রামনাথ বিশ্বাস, আজকের আমেরিকা - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয়- সংস্করণ, প্রকাশক- পর্যটক প্রকাশনা ভবন, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৯-১৪০
- মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার—চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান,
দেহের স্বাদের কথা কয়;
বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ্ট ক’রে দেবে তার সাধের সময়।
- বায়ু বহে মৃদু মন্দ, মধুর চাঁপার গন্ধ
পাতার বিতান হতে আসে ভেসে ভেসে।- স্বর্ণকুমারী দেবী, সন্ধ্যা, গল্পস্বল্প- স্বর্ণকুমারী দেবী, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৩
- এ দিকে বসন্তকাল উপস্থিত। সহকারের মুকুলমঞ্জরী সঞ্চালিত করিয়া মলয়ানিল মন্দ মন্দ বহিতে লাগিল কোকিলের কুহুরবে চতুর্দ্দিক্ ব্যাপ্ত হইল। অশোক, কিংশুক, কুরুবক, চম্পক প্রভৃতি তরুগণ বিকসিত কুসুম দ্বারা দিঙ্মণ্ডল আলোকময় করিল। অলিকুল বকুলপুষ্পের গন্ধে অন্ধ হইয়া ঝঙ্কার পূর্ব্বক তাহার চতুর্দ্দিকে ভ্রমণ করিতে লাগিল। তরুগণ পল্লবিত ও ফলভরে অবনত হইল। কমলবন বিকসিত হইয়া সরোবরের শোভা বৃদ্ধি করিল।
- বাণভট্ট, কাদম্বরী উপন্যাস, তারাশঙ্কর তর্করত্ন কর্তৃক অনূদিত, পৃষ্ঠা ১৫৭
- জননী, তোমার শুভ আহ্বান
গিয়েছে নিখিল ভুবনে--
নূতন ধান্যে হবে নবান্ন
তোমার ভবনে ভবনে।
অবসর আর নাহিকো তোমার--
আঁটি আঁটি ধান চলে ভারে ভার,
গ্রামপথে-পথে গন্ধ তাহার
ভরিয়া উঠিছে পবনে।- কল্পনা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক - বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪
- গান্ধী-পোকাদের গা হইতে কি-রকম খারাপ গন্ধ বাহির হয়, তোমরা তাহা জান। ধাম্সা-পোকারা গান্ধী-পোকার জাতীয় পতঙ্গ নয়, কিন্তু তথাপি ইহারা লেজের দিক্ হইতে এক রকম গন্ধ-ওয়ালা রস বাহির করিতে পারে। বোধ হয় এই গন্ধে অন্য পোকা-মাকড় বা বড় প্রাণী ইহাদের কাছে আসিয়া অনিষ্ট করিতে পারে না।
- জগদানন্দ রায়, ধাম্সা পোকা, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৭০
- আমি বিলবোর্ডে নায়িকার বদলে দেখি কাকের ঝাক।
পোড়া মানুষের গন্ধের চেয়ে বিরিয়ানির সুবাস
এ শহরে বেশি ভাসে,
মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা আর ভালো লাগে না।- বিরিয়ানি এবং কাকের গল্প, নির্বাচিত কবিতা, হাসান হামিদ, পৃষ্ঠা ১ [১]
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় গন্ধ সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিঅভিধানে গন্ধ শব্দটি খুঁজুন।