বিষয়বস্তুতে চলুন

গাজা যুদ্ধ (২০২৩-বর্তমান)

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
২৯ জুন ২০২৫ পর্যন্ত গাজার মানচিত্র।

গাজা যুদ্ধ হলো গাজা উপত্যকা এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান একটি সশস্ত্র সংঘাত যা ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হয়েছিল। এটি মূলত বিংশ শতাব্দী থেকে চলে আসা অমীমাংসিত ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি এবং গাজা-ইসরায়েল সংঘাতের একটি অংশ। ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ, হামাসের নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের ওপর একটি আকস্মিক আক্রমণ চালায়, যার ফলে ৮১৫ জন বেসামরিক নাগরিকসহ প্রায় ১১৯৫ জন ইসরায়েলি ও বিদেশী নাগরিক নিহত হন এবং ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির দাবিতে ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত গাজায় ৭৩,৪৫৯-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন (২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর ২০২৬ সালের ১৪ই এপ্রিল), যাদের অর্ধেকেরও বেশি নারীশিশু এবং ১,৭২,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। 'দ্য ল্যানসেটের' একটি গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত গাজায় শুধু আঘাতজনিত কারণে ৬৪,২৬০ জন নিহত হয়েছেন। তবে পরোক্ষ মৃত্যুসহ এই নিহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সেখানে বসবাসরত একটি গোটা জাতিই এর জন্য দায়ী। ~ আইজ্যাক হারজোগ
ইসরায়েল এবং গাজা উপত্যকায় দাবানল। চিত্রটি প্রায় ৪৮ কিলোমিটার প্রশস্ত (৭ অক্টোবর ২০২৩)।

লেখক বা উৎস অনুযায়ী বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো:
· · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · ড় · ঢ় · য় · ২০২৩ ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ সংক্রান্ত ভিডিওসমূহ · আরও দেখুন · বহিঃসংযোগ

  • আমরা শৈশব থেকেই সর্বদা 'নাকবা' বা সেই ভয়াবহ মহাবিপর্যয়ের করুণ ইতিহাস ও আর্তনাদ শুনে শুনে বড় হয়েছি, কিন্তু আমরা কখনো ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করিনি যে আমাদের নিজেদের প্রজন্মকেও সেই একই বিভীষিকাময় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে হবে! ১৯৪৮ সালে যখন সেই বিপর্যয়টি ঘটেছিল, তখন তা আজকের মতো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়নি। যার ফলে ফিলিস্তিনের মাটিতে ঠিক কী অমানবিক নিষ্ঠুরতা ঘটে চলেছে তা বিশ্ববাসী তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেনি। কিন্তু বর্তমান সময়ের আধুনিক প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত কলঙ্কজনক ও চরম লজ্জাজনক যে, এই ভয়াবহ রক্তপাত ও সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড আজ বিশ্বজুড়ে টেলিভিশনের পর্দায় সরাসরি প্রচারিত হচ্ছে এবং সমগ্র বিশ্ববাসী আক্ষরিক অর্থেই তা অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে প্রত্যক্ষ করছে।
  • আরব বিশ্ব বর্তমানে যে বার্তাটি শুনতে পাচ্ছে তা অত্যন্ত প্রখর, তিক্ত এবং অত্যন্ত উচ্চকিত। ফিলিস্তিনিদের জীবনের মূল্য আজ ইসরায়েলিদের জীবনের তুলনায় অনেক তুচ্ছ, নগণ্য এবং সস্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে! আমাদের অস্তিত্ব বা প্রাণের গুরুত্ব পৃথিবীর অন্য যে কারও জীবনের চেয়ে অনেক কম বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ যেন আজ একটি নিছক ঐচ্ছিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং মানবাধিকারের যেন নির্দিষ্ট কিছু ভৌগোলিক সীমারেখা আছে। যা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সীমান্তে এসে থমকে যায়, যা বিশেষ কোনো জাতিগত পরিচয়ের দেয়ালে এসে আটকে যায় এবং যা নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের ভিত্তিতে এসে সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়।
  • গাজার আল-কুদস হাসপাতাল থেকে অসহায় রোগীদের অবিলম্ব সরিয়ে নেওয়ার হুমকির বিষয়ে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (@PalestineRCS) প্রতিবেদনটি আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, বিচলিত ও স্তম্ভিত করেছে। আমরা আবারও অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করছি যে অসংখ্য মুম্মূর্ষু ও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রোগীভর্তি একটি সম্পূর্ণ হাসপাতাল তাদের অস্তিত্বকে চরম সংকটাপন্ন ও বিপন্ন না করে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব একটি কাজ। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে সর্বদা এবং সর্বাবস্থায় বিশেষ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদান করা এখন একান্ত অপরিহার্য বিষয়।
  • গাজার বাসিন্দারা, এই মুহূর্তে যারা ওয়াদি গাজার দক্ষিণে অগ্রসর হচ্ছেন, আপনারা তাঁদের সাথে যোগদান করুন। আমি আপনাদের অবহিত করতে চাই যে, যদিও হামাস আপনাদের পক্ষ থেকে চালানো বর্তমান মানবিক প্রচেষ্টাগুলোকে ক্রমাগত ব্যাহত করছে এবং আপনাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, তবুও আজ আইডিএফ পুনরায় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সালাহ আল-দিন সড়ক দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি প্রদান করবে। আপনাদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে, ওয়াদি গাজার দক্ষিণে চলে যাওয়ার এই পরবর্তী সুযোগটি গ্রহণ করুন। আপনাদের মধ্যে অনেকেই এই মুহূর্তে এটি করছেন, যা কিছুক্ষণ আগে তোলা সংযুক্ত ছবিগুলো দেখলেই আপনারা বুঝতে পারবেন। আপনারা যদি নিজের এবং নিজের প্রিয়জনদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেন, তবে আমাদের নির্দেশ অনুযায়ী অবিলম্বে দক্ষিণে অগ্রসর হন। এটুকু নিশ্চিত থাকুন যে, হামাস নেতারা ইতোমধ্যে নিজেদের রক্ষা করার ব্যবস্থা করে নিয়েছেন।
  • যখন এই পরিকল্পিত গণহত্যা শুরু হলো, তখন থেকেই আমি এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের ঘোরে আচ্ছন্ন হতে শুরু করলাম—না, আসলে সেগুলোকে কেবল দুঃস্বপ্ন বললে ভুল হবে, কারণ তা ছিল তার চেয়েও অনেক বেশি বীভৎস। ঘুমের ঘোরে আমার আত্মা যেন এক অন্য জগতে স্থানান্তরিত হয়ে যেত! আমি নিজেকে গাজার মাটিতে আবিষ্কার করতাম, যেখানে অশুভ প্রেতাত্মারা আমাকে ছিঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে, আমার সত্তাকে লুণ্ঠন করছে এবং চারপাশের পুরো পৃথিবীটা যেন টকটকে লাল রক্তে রঞ্জিত হয়ে আছে! সপ্তাহে বেশ কয়েকবার আমি প্রচণ্ড কান্নায় ভেঙে পড়ে ধড়ফড় করে জেগে উঠতাম। যখন আমার মস্তিষ্ক এটি যুক্তি দিয়ে বুঝতে ব্যর্থ হতো যে আমি ঘুম থেকে জেগে উঠেছি, তখন এক অবর্ণনীয় আতঙ্ক আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে গ্রাস করে নিত।
    • লরা আলবাস্ট, উদ্ধৃত: আলবাস্ট, লরা (২২ অক্টোবর ২০২৪)। "দ্য জেনোসাইড লিভস ইন মাই বডি"ইনস্টিটিউট ফর প্যালেস্টাইন স্টাডিজ 
  • ২০২১ সালে তালিবান কর্তৃক আফগানিস্তান দখলের পর সেখান থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার বা ইভাকুয়েশন প্রক্রিয়ার সাথে আমি নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলাম, আর সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই আমি আজ এই কথাগুলো বলতে বাধ্য হচ্ছি। মাসের পর মাস ধরে আমার সহকর্মী ও আমি প্রতিদিন বিশ্বের প্রতিটি মহাদেশের সরকারি কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, কংগ্রেস সদস্য, ক্রীড়াবিদ, শিল্পী এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর কাছ থেকে শত শত ফোন কল পেয়েছি। যেখানে তারা আমাদের কাছে মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য আকুতি জানিয়েছিল! আমি শপথ করে বলছি, আমি ব্যক্তিগতভাবে আমেরিকার একটি দলকে এটি বোঝাতে দিনের পর দিন ব্যয় করেছি যে আমাদের সেইসব কুকুরগুলোকে উদ্ধার করার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ তালিবানরা কুকুর ভক্ষণ করে না! আপনারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন যে, গাজার এই নির্মম গণহত্যার/#Gaza_Genocide প্রতি আপনাদের বর্তমান প্রতিক্রিয়া দেখে আমাদের এখন কেমন অনুভব করা উচিত? আপনাদের সেই মানবতা আজ কোথায় হারিয়ে গেল? আপনাদের তথাকথিত আদর্শ ও মূলনীতিগুলো কোথায়? নারীর অধিকারের সেই বুলিগুলোই বা কোথায় গেল? গুরুত্বের সাথে বলছি, আপনারা নিজেদের কাছে এই অমানবিকতাকে কীভাবে ন্যায্য বলে প্রমাণ করছেন? আজ যখন একের পর এক হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, তখন আপনারা সেটির সপক্ষেও সাফাই গাইছেন? এমন কোনো হীনস্তর কি আর বাকি আছে যেখানে আপনারা এখনো পৌঁছাননি?
  • আরব বিশ্ব এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মানুষ গাজার এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের অকুণ্ঠ সমর্থনের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন রেখা টেনে দিচ্ছে। এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ইসরায়েল যা কিছু করতে চায়, তার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। আর সেটি তারা স্বেচ্ছায় করুক কিংবা অনিচ্ছায়।
আমি মনে করি না যে শিশুদের কখনো আটক বা বন্দী করে রাখা উচিত। ~ এওসি
  • সুতরাং, আপনারা যদি ফিলিস্তিনিদের দেওয়া হতাহতের সংখ্যার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন এবং একই সাথে কোনো প্রকার নিরপেক্ষ তদন্ত—এমনকি গাজায় বিদেশী সাংবাদিকদের প্রবেশকেও সমর্থন না করেন। তবে আপনাদের প্রকৃত বক্তব্য এটাই দাঁড়ায় যে, এই মৃত্যুর সংখ্যা আসলে কোনো গুরুত্বই বহন করে না। কারণ আপনারা ফলাফল যাই হোক না কেন এই সংঘাতকে অন্ধভাবে সমর্থন দিয়েই যাবেন। আপনারা স্রেফ একে ন্যায্য প্রমাণের জন্য নিত্যনতুন অজুহাত খুঁজে বের করবেন।
  • আপনারা হয়তো হামাসের শক্তি হ্রাস করতে পারেন। আমি মনে করি, আপনারা যত খুশি তত তাদের সৈন্য হত্যাও করতে পারেন। কিন্তু সবসময় মূল প্রশ্নটি হলো—ঠিক কোন মূল্যের বিনিময়ে এটি করা হচ্ছে? এবং না, আপনারা কখনোই হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে পারবেন না। কারণ হামাস স্রেফ কোনো সামরিক বাহিনী নয়, বরং এটি একটি সুদৃঢ় আদর্শ। এটি আসলে এক ধরণের প্রদর্শনী বা নাটক মাত্র। আমি বলব, এর প্রাথমিক দর্শক হলো মূলত এখানে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সাধারণ মানুষ। আমরা স্পষ্টতই জানি যে প্রেসিডেন্ট বাইডেন আগামী বছর পুনরায় নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এবং সেখানে তাঁর প্রতিপক্ষ হতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই বাইডেন মূলত এটিই প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন যে, ইসরায়েলের জন্য জো বাইডেন এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ে বড় কোনো বন্ধু আর নেই।
  • আমার বড় ভয়—এবং এই কথাটি আমি গত চার সপ্তাহ ধরে অনবরত বলে আসছি, নেতানিয়াহুকে এবং তাঁর চিন্তা করার ধরণ সম্পর্কে আমার যে জ্ঞান রয়েছে, তা থেকে আমি বলতে পারি যে তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত থামবেন না যতক্ষণ না তিনি ১:১০ অনুপাতে [প্রতিজন ইসরায়েলি মৃত্যুর বিপরীতে ১০ জন ফিলিস্তিনি মৃত্যু] রক্তক্ষয় নিশ্চিত করে নিজের হারানো অহংবোধ পুনরুদ্ধার করছেন। সুতরাং আমাদের সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে; এবং যতক্ষণ না এই নিহতের সংখ্যা ১৪,০০০ জনে পৌঁছাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভবত তিনি এই অঞ্চলে সফররত প্রধান কূটনীতিকদের কথায় কোনো কর্ণপাত করবেন না। তাঁরা সবাই এখানে তাঁর সাথে কথা বলতে আসছেন। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত কারও পরামর্শেই সায় দিচ্ছেন না।
  • ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী যা বলেছেন, তা ইসরায়েলি সরকারের আসল পরিকল্পনাকেই উন্মোচিত করে দেয়। আর তা হলো গাজা উপত্যকায় এক সর্বাত্মক জাতিগত নির্মূলীকরণ অভিযান চালানো। এটি কোনো আশ্চর্যজনক বিষয় নয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিশ্ববাসী এই ভয়াবহ পরিকল্পনার প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছে না। বাস্তবতা হলো, ইসরায়েল গাজার নিরপরাধ বেসামরিক জনগণের ওপর ক্রমাগত বোমা হামলা ও বিমান আক্রমণের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে এই জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
  • ইসরায়েলি সামরিক অভিযানগুলো বর্তমানে এমন এক অসহনীয় মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে, যা সময়ের সাথে সাথে কেবল আরও ঘনীভূত ও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কিন্তু ইসরায়েলের এই কার্যকলাপ কি—যেমনটি দেশটির প্রতিপক্ষরা দাবি করছেন, জাতিগত নির্মূলীকরণের দ্বারপ্রান্তে। নাকি আরও চরমভাবে বললে, এটি একটি গণহত্যা? গণহত্যার একজন ইতিহাসবিদ হিসেবে আমি বিশ্বাস করি যে, বর্তমানে গাজায় গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনও নেই। যদিও এটি অত্যন্ত প্রবলভাবে সম্ভব যে সেখানে যুদ্ধাপরাধ এবং এমনকি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। এর দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে। প্রথমত, আমাদের চোখের সামনে ঠিক কী ঘটছে তা সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন এবং দ্বিতীয়ত, পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই আমাদের কাছে তা থামানোর সুযোগ রয়েছে। আমরা ইতিহাস থেকে জানি যে, কোনো গণহত্যা ঘটে যাওয়ার পর বিলম্বে তার নিন্দা জানানোর চেয়ে বরং সেটি সংঘটিত হওয়ার আগেই তার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করা অত্যন্ত জরুরি। আমি মনে করি, আমাদের হাতে এখনও সেই সময়টুকু অবশিষ্ট রয়েছে।
  • এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, গাজার ওপর প্রতিদিন যে হারে সহিংসতা চালানো হচ্ছে, তা একাধারে অসহনীয় এবং অচল। হামাসের দ্বারা সংঘটিত ৭ অক্টোবরের সেই হত্যাকাণ্ড, যা নিজেই একটি যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে আমার কাছে বিবেচিত। তার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক বিমান ও স্থল অভিযানে ১০,৫০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এই নিহতের সংখ্যার মধ্যে কয়েক হাজার শিশুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সংখ্যাটি হামাসের হাতে ইসরায়েলে নিহত হওয়া ১,৪০০-এরও বেশি মানুষের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। এই আক্রমণকে ন্যায্য প্রমাণের প্রচেষ্টায় ইসরায়েলি নেতা এবং জেনারেলরা এমন সব ভয়াবহ ঘোষণা প্রদান করেছেন যা মূলত একটি গণহত্যার অভিপ্রায়কেই নির্দেশ করে। তবুও, আমরা বর্তমানে যে সম্মিলিত বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করছি, তার মানে এই নয় যে আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী সেখানে ইতোমধ্যে কোনো গণহত্যা শুরু হয়ে গেছে। যেহেতু গণহত্যাকে কখনও কখনও "সকল অপরাধের শ্রেষ্ঠ অপরাধ" হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই অনেক সময় যেকোনো গণহত্যাকাণ্ড বা ব্যাপক হত্যাকাণ্ডকেই গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু প্রতিটি নৃশংস ঘটনাকেই গণহত্যার তকমা দেওয়ার এই তাড়না বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করার পরিবর্তে বরং তাকে আরও ধোঁয়াশাপূর্ণ বা অস্পষ্ট করে তোলে।
  • ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের এই ভয়াবহ বিস্তার প্রত্যক্ষ করার ক্ষেত্রে আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাটি হলো সেখানে একটি গণহত্যার অভিপ্রায় পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা খুব সহজেই যে কোনো সময় বড় গণহত্যার সরাসরি পদক্ষেপে রূপ নিতে পারে।
  • যদিও আমরা এটি বলতে পারি না যে সামরিক বাহিনী সুনির্দিষ্টভাবে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, তবে কার্যগত এবং আলঙ্কারিক দিক থেকে আমরা হয়তো এমন একটি জাতিগত নির্মূলীকরণ অভিযান প্রত্যক্ষ করছি যা অত্যন্ত দ্রুততায় গণহত্যায় পর্যবসিত হতে পারে। যেমনটি অতীতেও একাধিকবার ঘটেছে।
  • আমরা যদি সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করি যে হলোকাস্ট আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে যে—অন্যের মানবতা ও মর্যাদাকে রক্ষা করার মাধ্যমেই আমাদের নিজেদের মানবতা ও সম্মানকে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন, এমনকি এটি আমাদের একটি নৈতিক দায়িত্ব। তবে এখনই সময় উঠে দাঁড়ানোর এবং উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ করার। যাতে ইসরায়েলের নেতৃত্ব নিজেদের এবং তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে এক গভীর অতল গহ্বরে নিমজ্জিত করতে না পারে। ইসরায়েলকে তার বর্তমান কর্মকাণ্ড একটি পূর্ণাঙ্গ গণহত্যায় রূপ দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য এখনও কিছুটা সময় অবশিষ্ট আছে। আমাদের আর একটি মুহূর্তও অপেক্ষা করার অবকাশ নেই।
  • এখানে যা প্রয়োজন তা হলো একটি পূর্ণাঙ্গ দখলদারিত্ব। যখন আপনি সরাসরি রণক্ষেত্রে উপস্থিত থাকবেন, তখন আপনার কাছে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য এবং নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তখন আপনিই হবেন সেই ভূমির সর্বময় মালিক ও ক্ষমতাধর।
  • যেকোনো সফর যাতে প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়নি, তা মূলত গাজার ওপর চলমান ইসরায়েলি আক্রমণগুলোকেই এক ধরণের মৌন সমর্থন প্রদানের শামিল [...] আমি মনে করি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হলো ইসরায়েল যা কিছু অর্জন করার চেষ্টা করছে তাকে সর্বাত্মকভাবে সমর্থন করা, তা বাস্তবসম্মত হোক কিংবা অবাস্তব।
  • আমি দীর্ঘ সময় ধরে এই কাজ করছি। কিন্তু আমি সত্যিই কখনো ভাবিনি যে, আমি নিজের চোখে সন্ত্রাসীদের হাতে শিশুদের শিরশ্ছেদ করার ছবি দেখব এবং তার সত্যতা নিশ্চিত করব।
  • আপনারা একটি ইহুদি রাষ্ট্র। আপনারা যেমন একটি ইহুদি রাষ্ট্র, তেমনি আপনারা একটি গণতন্ত্রও। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতোই আপনারা সন্ত্রাসীদের নিয়মে চলেন না। আপনারা চলেন আইনের শাসনে। যখন কোনো সংঘাত চরম আকার ধারণ করে, তখন আপনারা যুদ্ধের নিয়মাবলি মেনে চলেন। যা আমাদের সন্ত্রাসীদের থেকে আলাদা করে তা হলো—আমরা প্রতিটি মানুষের জীবনের মৌলিক মর্যাদায় বিশ্বাস করি, সে ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি, আরব, ইহুদি, মুসলিম কিংবা খ্রিস্টান যে-ই হোক না কেন। আপনার নিজস্ব স্বকীয়তা যা আপনাকে অনন্য করে তোলে, তা আপনি বিসর্জন দিতে পারেন না। যদি আপনারা সেটি ত্যাগ করেন, তবে তারাই জয়ী হয়ে যাবে। আর আমরা তাদের কখনোই জয়ী হতে দিতে পারি না।
  • আমরা সকলেই মহান স্রষ্টার প্রতিচ্ছবি হিসেবে সৃজিত মানুষ, যার মধ্যে রয়েছে মর্যাদা, মানবিকতা এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য। এই অন্ধকারের মাঝে বিশ্বের কাছে আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠাই হলো আমাদের লক্ষ্য। আপনারা সারা বিশ্বের অজস্র মানুষের কাছে আশা এবং আলোর অনুপ্রেরণা। সন্ত্রাসীরা মূলত সেটিই ধ্বংস করতে চায়। তারা অন্ধকার জগতে বাস করে বলেই এটি ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু আপনারা তা নন, ইসরায়েলও তা নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মতো বিবেকবান রাষ্ট্রগুলো কেবল তাদের শক্তির উদাহরণের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয় না। আমরা পরিমাপিত হই আমাদের উদাহরণের শক্তির দ্বারা। আর এই কারণেই, পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, আমাদের অবশ্যই শান্তির পথ অনুসরণ করে যেতে হবে। আমাদের অবশ্যই এমন একটি পথ প্রশস্ত করতে হবে যাতে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি জনগণ উভয়ই নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং শান্তিতে বসবাস করতে পারে। আমার কাছে এর অর্থ হলো একটি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান। প্রতিবেশীদের সাথে ইসরায়েলের বৃহত্তর সংহতি ও একত্রীকরণের জন্য আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এই হামলাগুলো সেই লক্ষ্য পূরণে আমার অঙ্গীকার, সংকল্প এবং ইচ্ছাশক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে। আমি আপনাদের বলতে এসেছি যে, সন্ত্রাসীরা জয়ী হবে না। মুক্তি ও স্বাধীনতারই জয় হবে। সুতরাং, আমি যেখানে শুরু করেছিলাম সেখানেই শেষ করতে চাই। ইসরায়েল, আপনারা একা নন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের পাশে আছে।
  • আজ আমি সমগ্র ইসরায়েলবাসীকে বলছি- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের ছেড়ে কোথাও যাচ্ছে না। আমরা আপনাদের পাশে থাকব। আমরা এই দুঃসময়ে যেমন আপনাদের পাশে হাঁটব, তেমনি আগামীর সুন্দর দিনগুলোতেও আপনাদের পাশে থাকব। আর সেই সুদিন অবশ্যই আসবে। হিব্রু ভাষায় যেমনটি আপনারা বলেন, যা বলার চেষ্টা আমি করব না কারণ আমি একজন আনাড়ি ভাষাবিদ। আমি সেটি ইংরেজিতেই বলছি, "ইসরায়েলের মানুষ বেঁচে থাকবে।" "ইসরায়েলের মানুষ অমর।" ইসরায়েল আজ, আগামীকাল এবং চিরকাল একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত, ইহুদি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকবে। ঈশ্বর যেন শান্তিকামীদের রক্ষা করেন। যারা এখনও বিপদের সম্মুখীন, ঈশ্বর যেন তাদের সহায় হন।
  • গাজার হাসপাতালে ঘটে যাওয়া সেই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে যারা নিহত বা আহত হয়েছেন, আমি তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি। আমরা এই অঞ্চলের অংশীদারদের সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি যাতে গাজার নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের কাছে যত দ্রুত সম্ভব জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা যায়।
  • ইসরায়েল বর্তমানে এমন এক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে যারা এমন বর্বরতায় লিপ্ত হয়েছে যা হলোকাস্টের মতোই সুদূরপ্রসারী ও ভয়াবহ। এবং তাই আমি মনে করি ইসরায়েলের অবশ্যই এর জবাব দেওয়া উচিত। তাদের হামাসের পিছু নিতেই হবে। এই হামাস মূলত একদল উন্মাদের সমষ্টি। তারা সাধারণ বেসামরিক মানুষের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। তারা তাদের সদর দপ্তর বা কমাণ্ড সেন্টারগুলো এমন স্থানে স্থাপন করেছে যেখানে সাধারণ মানুষ এবং বেসামরিক ভবন অবস্থিত। তবে ইসরায়েলিরা সাধ্যমতো তাদের আলাদা করার চেষ্টা করছে এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে ইসরায়েলিরা নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এড়াতে তাদের ক্ষমতার মধ্যে থাকা সবকিছুই করবে।
  • এটি মধ্যপ্রাচ্য এবং বর্তমানে ইন্দো-প্যাসিফিকের এই অঞ্চলে নয় দিনের নিবিড় কূটনৈতিক সফরের শেষ দিন। এই যাত্রাপথের প্রতিটি ধাপে আমরা বিভিন্ন উপায়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি: ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা এবং তাদের কাছে পৌঁছানো মানবিক সহায়তার পরিমাণ সর্বোচ্চ করা, সংঘাতের বিস্তার রোধে কাজ করা, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি গাজা থেকে মার্কিন নাগরিক ও অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের নিরাপদে বের করে আনার বিষয়ে মনোনিবেশ করা; এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয়ের জন্যই সত্যিকার অর্থে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তি স্থাপন করা। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমি এক সপ্তাহ আগে থেকেই ইসরায়েলি সরকারের সাথে প্রতিটি উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। আর সেই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি ছিল মানবিক বিরতি বা 'হিউম্যানিটারিয়ান পজ', যা নিয়ে আমরা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে কথা বলেছিলাম। এই পদক্ষেপগুলো আমার উল্লেখ করা প্রতিটি লক্ষ্যকেই এগিয়ে নিতে পারে। আমরা এই বিষয়টির প্রশংসা করি যে, গতকাল ইসরায়েল নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় তিন ঘণ্টার নোটিশে চার ঘণ্টার বিরতি ঘোষণা করেছে। সেই সাথে দুটি মানবিক করিডোর চালুর ঘোষণাও দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে বিপদমুক্ত স্থানে আরও নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য লাভ করতে সহায়তা করবে। এই পদক্ষেপগুলো জীবন রক্ষা করবে এবং অভাবগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের কাছে আরও বেশি সহায়তা পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
  • একই সাথে, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় এবং তাদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন। গত কয়েক সপ্তাহে অনেক বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অনেক বেশি মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আমরা তাঁদের ক্ষতি রোধ করতে এবং তাঁদের কাছে পৌঁছানো সাহায্যের পরিমাণ সর্বোচ্চ করতে সম্ভাব্য সবকিছুই করতে চাই। সেই উদ্দেশ্যে আমরা ইসরায়েলের সাথে এই লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখব। আমাদের জিম্মিদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। আমরা গাজায় মানবিক সহায়তার পরিধি বাড়ানোর এবং তা কার্যকরভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করব। আমরা বর্তমানে সেই পদক্ষেপগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ চালিয়ে যাব যা একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই শান্তির ভিত্তি তৈরি করতে শুরু করবে—যা আমরা বারবার বলেছি এবং বিশ্বাস করি যে, সেখানে অবশ্যই দুই জাতির জন্য দুটি পৃথক রাষ্ট্র বা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
  • হামাসের এই হামলাগুলো সম্পূর্ণ সমর্থনযোগ্যতাহীন—এবং এগুলো বিশ্বব্যাপী নিন্দার দাবি রাখে। কিন্তু বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে, সেটিও আমাদের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর নিন্দার দাবিদার। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা বলতে পারি, এই প্রতিক্রিয়াটি ছিল একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করছে। একটি রাষ্ট্রের নিজেকে রক্ষা করার অধিকারের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে এবং সেই সীমানাগুলোর অর্থ হলো নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের, বিশেষ করে শিশুদের জীবনকে সম্মান করা এবং বেসামরিক মানবিক আইনকে শ্রদ্ধা জানানো।
  • যারা আমাদের এই অযৌক্তিক ও অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের সাথে মানিয়ে নিতে বাধ্য করার লক্ষ্য রাখে, তাদের সেই তথাকথিত 'যৌক্তিক' সুরের মাঝে দাঁড়িয়ে আমি কবিতা লিখতে পারি না। অশুভ বা পৈশাচিক কোনো শব্দচ্ছলতা আর নয়। মৌখিকভাবে পরিমার্জিত নরকসম কোনো দৃশ্যপট আর নয়। যুদ্ধবাজদের আর কোনো মিথ্যাচারও নয়।
  • বর্তমানে আমাদের এমন সব রোগীদের ওপর অস্ত্রোপচার করতে হচ্ছে যাদের আমরা মরফিন পর্যন্ত দিতে পারছি না। এই মাত্র দুটি শিশুর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটল। আহতদের মধ্যে দুর্ভাগ্যবশত অসংখ্য শিশু রয়েছে। আমি আমাদের একজন সার্জনের সাথে আলোচনা করছিলাম, যিনি গতকাল ১০ বছর বয়সী একটি শিশুকে গ্রহণ করেছেন। যার শরীরের ৬০ শতাংশ অংশই পুড়ে গিয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে কোনো ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সাধারণ মানুষের কাছে এই সব অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ পৌঁছানোর পথ অবরুদ্ধ করার কোনো প্রকার অজুহাত বা সমর্থন থাকতে পারে না।
  • এই মুহূর্তে গাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং বিপর্যয়কর। যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক এখনও খালি করা হয়নি, সেগুলো রোগীর চাপে দিশেহারা এবং প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। সেখানে নেই কোনো বিদ্যুৎ, নেই কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম। আল-শিফা হাসপাতালের সার্জনরা এখন কোনো প্রকার ব্যথানাশক ওষুধ ছাড়াই অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
  • নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ার বিষয়ে আমি আমার গভীর উদ্বেগের কথা ব্যক্ত করেছি এবং রাফাহ সীমান্তে আমি যা বলেছিলাম তার পুনরাবৃত্তি করে আবারও বলছি: বেসামরিক মানুষের হত্যাকাণ্ড আর নয়।
  • আপনারা যদি ইউক্রেনে দখলদারিত্বের বিরোধিতা করেন, তাহলে আপনারা কি এটি অস্বীকার করতে পারেন যে ফিলিস্তিনিরাও বর্তমানে দখলদারিত্বের অধীনে রয়েছে? কেউ আপনাকে ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে বলছে না কারণ তারা ফিলিস্তিন দখল করে রেখেছে। মানুষ কেবল আপনাদের যৌক্তিক ও বিচক্ষণ হতে বলছে এবং আপনাদের মিত্রদের বোঝাতে বলছে তাদের বিবেককে জাগ্রত করতে আপনারা চাপ প্রয়োগ করুন।
  • গাজায় এক সপ্তাহের অবর্ণনীয় বিভীষিকার পর যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো প্রকার বিচার-বিবেচনা ছাড়াই তাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, আমাদের সংসদকে ইসরায়েলি পতাকায় আচ্ছাদিত করেছে এবং একটি হাসপাতালে বোমা বর্ষণসহ বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধে সহায়তা ও প্ররোচনা দিয়ে চলেছে, তারপরেও আমরা 'ফিলিস্তিনিদের জীবনের মূল্য আছে' এই কথাটি বলতে পারছি না। আমরা এখনও এক শ্রেণীর ভুক্তভোগীকে অন্য শ্রেণীর তুলনায় বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমরা গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু এই মানবিক সংকট কেন তৈরি হলো? এটি কি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ? কারা সেখানে পানি, জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে? আমরা কি তা নিশ্চিত নই? কারা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলা চালাচ্ছে? আমরা কি তা জানি না? আপনাদের কি মনে হয় আমরা বিষয়টি উল্লেখ করতে পারতাম না? গাজায় এখন এমন এক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে যা ১৯৪০-এর দশকের পর আমরা আর দেখিনি, আর এই অপরাধের দায়ভার আমাদের ওপরও বর্তায়। আমরা প্রত্যক্ষ করছি কীভাবে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে এবং তাদের জমি দখল ও উপনিবেশ স্থাপনের উদ্দেশ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে সিনাই মরুভূমিতে তাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি মূলত আরেকটি নাকবা। এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক চরম অপরাধ। এটি স্রেফ কোনো মানবিক সংকট নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই কলঙ্কজনক অধ্যায় থেকে কখনোই মুক্তি পাবে না। ফিলিস্তিন দীর্ঘজীবী হোক! গাজা দীর্ঘজীবী হোক!
  • ফ্রান্স বর্তমানে গাজায় ঘটে যাওয়া মানবিক বিপর্যয় নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আর এই কারণেই ফ্রান্স এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ঠিক একই কারণে আমরা একটি নতুন, তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিরতির জন্য আবেদন করছি, যা ভবিষ্যতে একটি টেকসই ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত করবে।
  • গাজার মানচিত্রকে পৃথিবীর বুক থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে হবে। যাতে গাজার দানবগুলো দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে উড়ে গিয়ে মিশরের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করে, অন্যথায় তারা যেন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আর তাদের সেই মৃত্যু হবে ভয়াবহ। গাজাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া উচিত। যিহূদিয়া ও শমরিয়ার নাৎসিদের মাথার ওপর আগুন আর ধোঁয়া ছড়িয়ে দিতে হবে। হারন নামক সেই ইহুদিও আজ বিশ্বের মাটিকে কাঁপিয়ে তুলবে। এখানে এক অত্যন্ত প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং নিষ্ঠুর আইডিএফ / IDF প্রয়োজন। এর চেয়ে কম কিছু করা হবে অনৈতিক। কেবল নীতিবিবর্জিত।
  • যখন ইসরায়েলি বাহিনী আল-শিফা হাসপাতালে প্রবেশ করছে, তখন আমরা আবারও সেখানে অবস্থানরত চিকিৎসা কর্মী, রোগী এবং আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য জোর আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা তাঁদের জীবন নিয়ে চরমভাবে উদ্বিগ্ন।
  • এখনই সেই সময় যখন নিরাপত্তা পরিষদকে বেছে নিতে হবে যে, তারা কি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য স্রেফ উৎসাহহীন ও নামমাত্র আহ্বান জানিয়ে যাবে, নাকি তারা বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট পূরণ করবে? গাজার জনগণের ওপর ইসরায়েল রাষ্ট্র যে মৃত্যুদণ্ড চাপিয়ে দিয়েছে তা অমানবিক ও অমার্জনীয়। আর এই নির্মমতা যে আর চলতে পারে না, তা বোঝাতে পরিষদকে তাদের পূর্ণ কূটনৈতিক প্রভাব প্রয়োগ করতে হবে।
এটি আমার এলাকার স্থানীয় হাসপাতাল। এর ভেতরে আমার বন্ধুরা, আমার প্রতিবেশীরা রয়েছে। এটি আমারই সম্প্রদায়। আজ আমার কর্মজীবনের অন্যতম কঠিন দিন। আমি এমন সব দৃশ্য দেখেছি যা আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না। ~ আদনান এলবার্শ
  • গাজায় কর্মরত আমাদের মানবিক সহায়তা কর্মীদের পক্ষে বর্তমানে অসহায় বেসামরিক জনগণের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের এক মৃত্যুপুরী থেকে তাড়িয়ে নিয়ে অন্য মৃত্যুপুরীর দিকে যেতে বাধ্য করছে।
  • ইসরায়েল রাষ্ট্রের সামনে এখন গাজাকে সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অযোগ্য একটি স্থানে পরিণত করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। গাজায় এক চরম মানবিক সংকট তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য হাসিলের এক অপরিহার্য উপায়। গাজা এমন একটি জনপদে পরিণত হবে যেখানে কোনো মানবসন্তানের অস্তিত্ব রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
  • আজ আমরা আমাদের সময়ের অন্যতম অন্ধকারতম মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করছি। আমরা সরাসরি একটি গণহত্যা দেখছি, যা সকল অপরাধের ঊর্ধ্বে এক চরম অপরাধ। ইসরায়েলকে কোনো কিছুর সপক্ষে যুক্তি দিতে হয় না। কারণ ইসরায়েল এখন আইনের ঊর্ধ্বে! ইসরায়েল সকল নৈতিকতার ঊর্ধ্বে! কাউকে কোনো প্রকার কৈফিয়ত দেওয়া বা জবাবদিহিতার তোয়াক্কা না করেই তাদের মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধসমূহ সংঘটিত করার লাইসেন্স বা অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ওয়াশিংটন তাদের পাশে রয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইউরোপীয়রা তাদের হত্যার অবাধ ছাড়পত্র দিয়ে যাচ্ছে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আরবরাও এমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না যা ইসরায়েলকে তাদের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে—ততক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে বলে আমি মনে করি না।
  • এটি আমার এলাকার স্থানীয় হাসপাতাল। এর ভেতরে আমার বন্ধুরা, আমার প্রতিবেশীরা রয়েছে। এটি আমারই সম্প্রদায়। আজ আমার কর্মজীবনের অন্যতম কঠিন দিন। আমি এমন সব দৃশ্য দেখেছি যা আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না।
  • যখন তারা [ইসরায়েলি সেনাবাহিনী]-র মুখপাত্র এবং বিশ্লেষকদের কাছ থেকে প্রতিদিনের বার্তা পায় এবং আলোচকরা একেই একমাত্র ধ্রুব সত্য হিসেবে আলোচনা করতে বসেন, তখন জনমতের কাছে এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নই থাকে না যে এই গল্পে ইসরায়েলই একমাত্র ভুক্তভোগী। সেখানে অপর পক্ষের সম্পূর্ণ অমানবিকীকরণ করা হয়েছে। আপনি যদি সাহস করে এমন কিছু বলেন, যে উভয় পক্ষেই নিরপরাধ মানুষ রয়েছে যারা বিধ্বস্ত এবং উভয় পক্ষেই শিশুরা নিহত হচ্ছে। তবে আপনাকে এমনকি পুলিশ স্টেশনে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে এটি জিজ্ঞাসা করার জন্য যে আপনি আদৌ একজন সত্যিকারের ইসরায়েলি দেশপ্রেমিক কি না।
ইসরায়েলি হামলাগুলো ন্যূনতম মানবিক মূল্যবোধ থেকেও বিচ্যুত ~ রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান
  • এখন আমরা একটি অত্যন্ত জোরালো বার্তা প্রদান করতে যাচ্ছি। সেই বার্তাটি হলো, বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো এখন মূল্যায়নের মুখে। যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে না পারে, তবে এটি আমাদের অনেকের মনে এই গভীর সন্দেহের বীজ বপন করবে যে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মানদণ্ডগুলো আসলে আদৌ কার্যকর কি না।
  • আমরা ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। হয় আমরা একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তিতে পৌঁছাব, অথবা একটি বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। আমরা সকল পক্ষ, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি বিবেকের ডাক শোনার আহ্বান জানাচ্ছি। আর যারা ইসরায়েলকে তাদের অপরাধ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে, তারাও সমানভাবে দায়ী। যদি আমরা দ্রুত পদক্ষেপ না নিই, তবে সামনে আমাদের জন্য আরও অন্ধকার দিন অপেক্ষা করছে।
  • আমরা নিজেদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অধিকারকে পুরোপুরি স্বীকৃতি দিই। তবে অন্য দিকে, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, মানবিক সহায়তার সুযোগ প্রদান করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধার আহ্বান জানানো। এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। মূলত এই প্রস্তাবটি ঠিক সেই কাজগুলোই করছিল।
মার্কিনরা জেদ ধরেছে এবং আমরা এমন অবস্থানে নেই যেখানে তাদের প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব। আমরা বিমান এবং সামরিক সরঞ্জামের জন্য তাদের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের আসলে কী করার আছে?~ ইয়োভ গ্যালান্ত
  • যেসব সাংবাদিক ওই হত্যাকাণ্ডের খবর আগে থেকেই জানতেন বলে প্রমাণিত হবে এবং তবুও শিশুদের কসাইয়ের মতো জবাই করার সময় স্রেফ নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাকে বেছে নিয়েছেন—তারা সন্ত্রাসীদের চেয়ে কোনোভাবেই আলাদা নন এবং তাদের সাথে সন্ত্রাসীদের মতোই আচরণ করা উচিত।
  • গতকাল আমি নিউ ইয়র্ক টাইমস সানডে ম্যাগাজিনের একটি বড় কাজ, আমার পছন্দের একজন সংগীতশিল্পীর কভার ফটোশুট যা বাতিল করে দিয়েছি। কারণ গাজা যুদ্ধ নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনগুলোতে ইসরায়েলের প্রতি এক ধরণের যোগসাজশ ফুটে উঠেছে। তারা যা প্রকাশ করছে এবং যা আড়াল করছে, এমনকি ফিলিস্তিনিদের প্রতিটি কথার সত্যতা নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন তুলছে, তার প্রতিবাদেই আমার এই সিদ্ধান্ত।
  • আমাদের কাছে বিশ্বকে নতুন করে সাজানোর একটি সুযোগ রয়েছে—ইউক্রেনে পুতিনকে পরাজিত করা, এখনই হামাসকে নির্মূল করা এবং ইরানকে জানিয়ে দেওয়া যে, 'ইরান থেকে যদি আর কোনো আক্রমণ আসে, তবে আমরা সরাসরি আপনাদের ওপর চড়াও হব।' এর চেয়ে কম কিছু করলে তা চীনকে তাইওয়ান আক্রমণের দিকে ঠেলে দেবে। আমরা অত্যন্ত বিপজ্জনক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ইরানের প্রতি বাইডেন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি তাদের সীমান্ত নীতির মতোই ব্যর্থ। উন্মুক্ত সীমান্তের কারণে আমরা যেমন একটি বড় ধরণের সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিতে রয়েছি, তেমনি ইরানকে এখনই পিছু হটার কঠোর বার্তা না দিলে আমরা পরিস্থিতির চরম অবনতির সম্মুখীন হব।
  • এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে গাজার যেখানেই অভাবগ্রস্ত মানুষ থাকুক না কেন। তাদের কাছে যেন সঠিক পরিমাণে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়। গাজার জনগণ কয়েক দশক ধরে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করে আসছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের এভাবে আর ব্যর্থতার মুখে ঠেলে দিতে পারে না।
এই নাটকীয় মুহূর্তে, যখন আমরা মধ্যপ্রাচ্যে এক অতল গহ্বরের কিনারে দাঁড়িয়ে আছি, তখন জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দুটি জোরালো মানবিক আবেদন জানানো আমার কর্তব্য। হামাসকে অবিলম্বে বিনাশর্তে জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। ~ অ্যান্টনিও গুতেরেস
  • ফিলিস্তিনি জনগণ দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে শ্বাসরুদ্ধকর দখলদারিত্বের শিকার হয়ে আসছে। তারা দেখছে কীভাবে বসতি স্থাপনের মাধ্যমে তাদের জমি প্রতিনিয়ত গ্রাস করা হচ্ছে, সহিংসতার কবলে পড়ছে, তাদের অর্থনীতি থমকে গেছে, মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং তাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের এই দুর্দশার কোনো রাজনৈতিক সমাধানের আশাও ক্রমশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
  • মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত একটি মানবিক বিরতির প্রয়োজনের বিষয়ে যে ক্রমবর্ধমান ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে হয়েছিল, তাতে আমি উৎসাহিত হয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এর পরিবর্তে আমি অভূতপূর্ব বোমা হামলার তীব্রতায় বিস্মিত হয়েছি, যা মানবিক লক্ষ্যগুলোকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে একে অবশ্যই পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
  • গাজা শিশুদের এক বিশাল কবরস্থানে পরিণত হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত কন্যা ও পুত্র শিশু নিহত বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্থল অভিযান এবং নিরবচ্ছিন্ন বোমা হামলা বেসামরিক নাগরিক, হাসপাতাল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জা এবং জাতিসংঘের স্থাপনা—এমনকি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকেও আঘাত করছে। সেখানে কেউ নিরাপদ নয়।
এমন কোনো আইন বা মতবাদ নেই যা অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে একটি উন্মুক্ত কারাগারে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর ওপর এই নিয়মতান্ত্রিক হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে। ~ হাদি হাশেম
  • ইসরায়েলের বিকৃত ও ঔপনিবেশিক রূপটি মূলত আমাদেরই প্রতিচ্ছবি। আমরা অন্যরকম হওয়ার ভান করি। আমরা নিজেদের মধ্যে এমন সব গুণাবলি ও সভ্যতাগর্বী বৈশিষ্ট্যের আরোপ করি যা ঠিক ইসরায়েলের মতোই—একটি অবরুদ্ধ ও দখলদারিত্বের শিকার জনগোষ্ঠীর অধিকার কেড়ে নেওয়া, তাদের ভূমি দখল করা এবং দীর্ঘমেয়াদী কারাবাস, নির্যাতন, অবমাননা, জোরপূর্বক দারিদ্র্য ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের পদানত করে রাখার এক অন্তঃসারশূন্য অজুহাত মাত্র।
  • লক্ষ্য হলো একটি "পরিশুদ্ধ" ইসরায়েল গঠন করা, যা ফিলিস্তিনিদের মতো 'দূষক' থেকে মুক্ত হবে। গাজাকে একটি জনশূন্য মরুপ্রান্তরে পরিণত করতে হবে। গাজার ফিলিস্তিনিদের হয় মেরে ফেলা হবে, অথবা সীমান্তের ওপারে মিশরের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হবে। ফিলিস্তিনিদের বিতাড়িত করার পরেই আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত 'মেসিয়ানিক মুক্তি'। ইহুদি চরমপন্থীরা আল-আকসা মসজিদ—যা মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম মাজার এবং ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমান সেনাবাহিনী কর্তৃক ধ্বংসকৃত ইহুদিদের দ্বিতীয় মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপর নির্মিত তা ভেঙে ফেলার আহ্বান জানাচ্ছে! মসজিদটির স্থানে একটি "তৃতীয়" ইহুদি মন্দির স্থাপন করা হবে, যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে উত্তাল করে তুলবে। পশ্চিম তীর, যাকে এই ধর্মান্ধরা "যিহূদিয়া ও শমরিয়া" বলে ডাকে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল দখল করে নেবে। অতি-অর্থোডক্স শাস (Shas) এবং ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম দলগুলোর আরোপিত ধর্মীয় আইনের শাসনে ইসরায়েল হবে ইরানের একটি ইহুদি সংস্করণ।
  • অনাহার বা দুর্ভিক্ষ সবসময়ই এই পরিকল্পনার অংশ ছিল; এটি মূলত গণহত্যার পূর্বনির্ধারিত চূড়ান্ত অধ্যায়। ইসরায়েল এই গণহত্যার শুরু থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে খাদ্যের উৎসগুলো ধ্বংস করতে শুরু করেছিল। তারা বেকারিগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং গাজায় খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। গত মার্চ মাস থেকে এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়েছে, যখন তারা প্রায় সব ধরণের খাদ্য সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তারা ফিলিস্তিনিদের খাদ্যের প্রধান উৎস ইউএনআরডব্লিউএ-কে (UNRWA) ধ্বংস করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই সংস্থার কর্মীদের ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। এই অভিযোগটি যুক্তরাষ্ট্র করেছে, যারা ২০২৩ সালে এই সংস্থাকে ৪২২ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছিল! অন্যান্য দাতাদের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করার একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এরপর ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনআরডব্লিউএ-কেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেয়!
  • গাজা কেবল শুরু মাত্র। এই নতুন বিশ্বব্যবস্থায় শক্তিশালীদের দ্বারা দুর্বলেরা নির্মূল হবে, আইনের শাসনের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না, গণহত্যা হবে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার এবং বর্বরতা হবে বিজয়ী।
  • ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী কোনো দেশের জন্যই হুমকি নয়; আমরা কেবল ইসরায়েলি জাহাজ অথবা ইসরায়েলি বন্দরের দিকে রওনা হওয়া জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছি। ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া এবং গাজা উপত্যকার ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত ফিলিস্তিনি জনগণকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে আমাদের অবিচল অবস্থানের কথা আমরা আবারও নিশ্চিত করছি।
  • ওই হামলাগুলো কোনোভাবেই গাজায় এই সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞকে সমর্থন বা ন্যায্যতা দিতে পারে না। যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি এবং উপায় সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতাগুলো কোনো পক্ষেরই অবহেলা করা উচিত নয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজা শহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়ার যে নির্দেশ দিয়েছে এবং তার সাথে খাবার, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে যে সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করেছে, তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
  • @গ্রেটা থুনবার্গ, হামাস তাদের রকেট তৈরিতে কোনো টেকসই সরঞ্জাম ব্যবহার করে না, যা দিয়ে তারা নিরপরাধ ইসরায়েলিদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
  • ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সেই বীভৎসতা ও নৃশংসতা বর্ণনাতীত। হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক, ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি আজ বর্ণবাদের মাসুল দিচ্ছে। আমরা আপনাদের এখনই হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছি যাতে বর্তমানে চলমান যুদ্ধাপরাধগুলো বন্ধ করা যায়।
আমাদের যোদ্ধারা... যারা নাৎসি সন্ত্রাসীদের দ্বারা সংঘটিত সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে গেছে... তারা গাজায় অপহৃতদের সাথে নিয়ে শান্তিতে তখনই ফিরে আসবে, যখন তারা এই অভিশপ্তদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করবে ~ শ্লোমো কারহি
  • কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বা কত শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যার ওপর অপর পক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছে—সেটি একটি "গৌণ ও প্রান্তিক বিষয়"। আসল বিষয় হলো ইরানি জাতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর শক্তির প্রদর্শন।
  • এই মুহূর্তে আমাদের একটিই লক্ষ্য এবং তা হলো নাকবা ! এমন এক নাকবা যা ১৯৪৮ সালের নাকবাকে ম্লান করে দেবে। গাজায় নাকবা এবং যে কেউ এতে যোগ দেওয়ার সাহস করবে তার জন্যও নাকবা! তাদের সেই বিপর্যয় অনিবার্য, কারণ ১৯৪৮ সালের মতোই এবারও বিকল্পটি অত্যন্ত স্পষ্ট।
  • আমরা এখন যা দেখছি তা হলো সকল নিয়মনীতির বিলুপ্তি। সেখানে কোনো আদর্শ বা নৈতিকতা অবশিষ্ট নেই কারণ এটি একটি সমগ্র সমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। সেখানে আদতে কোনো নিয়মই কাজ করছে না। তাই এই মুহূর্তে আমাদের যা প্রয়োজন, তা হলো বাইর থেকে এসে কাউকে এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে উদ্ধার করা।
  • কূপগুলো মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে দাউদ একশজন ফিলিস্তিনির পুরুষাঙ্গের অগ্রত্বক সংগ্রহ করেছিলেন। আমাদের যোদ্ধারা, যারা নিজেদের ঘর রক্ষা করতে এবং নাৎসি সন্ত্রাসীদের দ্বারা সংঘটিত সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধে গেছে, তারা ওই সুড়ঙ্গগুলোকে মাটি দিয়ে ঢেকে দেবে এবং গাজায় অপহৃতদের সাথে নিয়ে শান্তিতে তখনই ফিরে আসবে, যখন তারা এই অভিশপ্তদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করবে।
  • গাজা এবং হামাসকে এক করে দেখা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বিভ্রান্তিকর। এটি এমন এক সমীকরণ যার লক্ষ্য মানুষকে অমানবিক হিসেবে উপস্থাপন করা এবং যা অন্যায্য তাকে ন্যায্য প্রতিপন্ন করা। আমাদের মানবিকতা বজায় রাখার অর্থ হলো এটি দেখানো যে, গাজার মানুষ আমাদের সহানুভূতি ও করুণার যোগ্য। কেউ এ দাবি করতে পারবে না যে 'আমি জানতাম না', কারণ গাজা থেকে প্রতি ঘণ্টায় অবর্ণনীয় যন্ত্রণার ছবি, ভিডিও এবং আর্তনাদ আসতে থাকছে। আমরা এই মানবিক ট্র্যাজেডির প্রতি আর চোখ বুজে থাকতে পারি না। লক্ষ লক্ষ মানুষ, বিশেষ করে গাজাবাসীরা প্রশ্ন করছে—কেন বিশ্বের এই মর্ত্যের নরক শেষ করার সদিচ্ছা নেই? তারা একটি উত্তর পাওয়ার দাবি রাখে। এই উত্তরে বিলম্ব করা এই অঞ্চলের মেরুকরণকে আরও গভীর করবে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।
  • আমাদের মধ্যে অনেকেই এই ট্রাকগুলোর মাঝে আশার আলো দেখেছিলেন। তবে এটি এখন কেবল মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তায় থাকা ২০ লক্ষ মানুষের জন্য এই সামান্য কয়েকটি ট্রাক কেবলই 'উচ্ছিষ্ট' বা যৎসামান্য খাবারের অবশিষ্টাংশের চেয়ে বেশি কিছু নয়, যা তাদের জীবনে কোনো বড় পরিবর্তন আনবে না। আমাদের এমন বার্তা দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত যে দিনে কয়েকটি ট্রাক আসার অর্থই হলো মানবিক সহায়তার ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে; এটি মোটেও সত্য নয়। বর্তমানে যে ব্যবস্থাটি চালু আছে তা ব্যর্থ হওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। যা প্রয়োজন তা হলো অর্থবহ এবং নিরবচ্ছিন্ন ত্রাণ প্রবাহ। আর এটি সফল করতে আমাদের একটি মানবিক যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন যাতে এই সহায়তা প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের কাছে পৌঁছাতে পারে। এটি খুব বড় কোনো চাওয়া হওয়া উচিত নয়।
  • এই ধরণের বক্তব্য বা আলোচনার বৈধতা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে ইসরায়েল কতটা ভয়াবহভাবে পতনের দিকে যাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এবং আপনি এটি উল্লেখও করেছেন—এটি কতটা সর্বসম্মত। এটি কেবল ডানপন্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আপনি গাজার প্রতি, গাজার কষ্টের প্রতি সামান্য সহানুভূতিও দেখাতে পারবেন না, যা ইসরায়েল একেবারেই দেখতে পায় না। গড়পড়তা একজন ইসরায়েলি গাজায় [যা ঘটেছে বা ঘটছে তার] কিছুই দেখেনি, কেবল সেখানে থাকা সৈন্যরা তা দেখতে পায়। সাহসিকতা, ত্যাগ, জিম্মি এবং তাদের পরিবারদের কথা বিরতিহীনভাবে দেখানো হচ্ছে, কিন্তু গাজার ২০ লক্ষ মানুষের যন্ত্রণার একটি ছবিও কোথাও নেই। আমি মনে করি এটি ইসরায়েলের জন্য ইতিহাসের সম্ভবত সবচাইতে অন্ধকারতম সময়।
  • গাজার এই ভয়াবহতাকে ক্ষমা করার বা অজুহাত দেওয়ার সময় আমরা পার করে এসেছি। বাইডেনকে অবশ্যই নেতানিয়াহুর ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টি করতে হবে যেন তিনি এই নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করেন। আর এর শুরুটা হতে হবে যুদ্ধবিরতির আহ্বানের মধ্য দিয়ে।
  • এটি দীর্ঘকাল ধরে ঘনীভূত হওয়ারই ফল। আমি এবং আমার পূর্বসূরিরা এই দখলদারিত্বের উত্তরোত্তর জেঁকে বসা রূপটির দিকে বারবার ইঙ্গিত করেছি, বসতি স্থাপন বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান ভূমি দখল এবং বাড়তে থাকা সহিংসতা। সেই অন্ধকার মুহূর্তগুলোই ছিল বর্তমান পরিস্থিতির পূর্বাভাস। আপনি আগ্নেয়গিরির মুখে ছিপি দিয়ে তা চিরকাল আটকে রাখার আশা করতে পারেন না এবং বিস্ফোরণ ঠেকিয়ে রাখার প্রত্যাশা করতে পারেন না। ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এবং অপহরণ—এগুলো স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ। কিন্তু এক পক্ষের দ্বারা সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ অন্য পক্ষকে যুদ্ধাপরাধ করার অনুমতি দেয় না। ইসরায়েল সম্পর্কে এমন একটি বয়ান প্রচলিত আছে যে, এটি একটি আইন মান্যকারী গণতন্ত্র যা পশ্চিমাদের সাথে অভিন্ন মূল্যবোধ ধারণ করে। আর ফিলিস্তিনিদের প্রসঙ্গে এলে এটিই অনেক সময় Blind Spot বা 'অন্ধবিন্দু' হিসেবে কাজ করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক আইনের অসংখ্য লঙ্ঘন, যেমনঃ বসতি স্থাপন, ভূমি সংযুক্তি এবং মানুষকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নেয় না। দীর্ঘকাল ধরে একটি ধারণা প্রচলিত যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপীয় ইহুদিদের প্রতি পশ্চিমারা যা করেছিল এবং যা ঘটতে দিয়েছিল, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবেই এই ইসরায়েল রাষ্ট্র; এই প্রতিশ্রুতি যে ইহুদিরা তাদের নিজস্ব একটি জন্মভূমি পাওয়ার যোগ্য যেখানে তারা নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকবে। তবে যে বিষয়টি কখনোই বিবেচনায় আনা হয় না তা হলো, একটি ইহুদি রাষ্ট্র দিয়ে একটি আরব রাষ্ট্রকে প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া এবং এর ফলে সৃষ্ট অমানবিক ভোগান্তি।
  • ইসরায়েল যদি বর্তমানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, তবে নিশ্চিতভাবেই তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। আবার তারা যদি প্রতিরোধী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে শুধুই যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করে, তবে সেখানেও তাদের বিজয় অর্জন করা অসম্ভব এবং কঠিন। মূলত ইসরায়েল আজ এমন এক মরণফাঁদে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে কোনো পথই তাদের জন্য নিরাপদ নয়।
  • সিভিল ডিফেন্স বা উদ্ধারকারী দলের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা... যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সামাজিক সেবাগুলোর বিনাশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ—এই সবকিছুই মূলত একটি সুদীর্ঘ ও গভীর প্রক্রিয়ার অংশ। যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো গাজা উপত্যকাকে মানুষের বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও একটি জনশূন্য মরুভূমিতে পরিণত করা।
  • দখলদার শক্তি ইসরায়েল কর্তৃক অবৈধ দখলদারিত্বের অধীনে থাকা ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর যে পরিকল্পিত, নিয়মতান্ত্রিক এবং পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এই নিষ্ঠুর গণহত্যা রোধ করা আজ আমাদের সকলের সম্মিলিত মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
  • তারা যদি প্রকৃত অর্থেই মানুষ হতো, তবে আমরা অবশ্যই তাদের কাছে মানবিক সহায়তা পাঠাতাম... কিন্তু এখানে আমরা মানুষের কথা বলছি না, এটি মূলত পশুদের সম্পর্কে একটি লড়াই।
  • যখন হাসপাতাল আর বিদ্যালয়গুলো ভেতরে থাকা শিশুদের নিয়েই দাউদাউ করে জ্বলছে, তখন আন্তর্জাতিক শেয়ারহোল্ডাররা উল্লাসে মেতেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি ফুলেফেঁপে উঠছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মাঝে আরটিএক্স কর্পোরেশন এবং লিওনার্দোর মতো প্রতিরক্ষা খাতের দানবীয় কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম যথাক্রমে ৭৭ শতাংশ এবং ২৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের আয় দাঁড়িয়েছে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের উপরে। এই পুরো অর্থনীতিই আজ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ ২০২৫ সালের এক অসাধারণ জাতিসংঘ প্রতিবেদনে অস্ত্র শিল্পের এই অপ্রত্যাশিত মুনাফাকে টিকিয়ে রাখা এক বিশাল নেটওয়ার্ককে উন্মোচিত করেছেন—যার মধ্যে রয়েছে ল ফার্ম, অডিটিং ও কনসাল্টিং ফার্ম, অস্ত্র ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং দালালচক্র। তিনি সেই বিশাল কর্পোরেট জালকে উন্মোচন করেছেন যাদের কাছে ফিলিস্তিনিদের জীবন ধ্বংস হওয়া মানেই রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন, যার মধ্যে অ্যালফাবেট, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্ট। ভ্যানগার্ড ও ব্ল্যাকরকের মতো আর্থিক পাওয়ার হাউস এবং বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ও খনিজ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যতম।
    • ক্লারা ই. মাত্তেই, এস্কেপ ফ্রম ক্যাপিটালিজম: অ্যান ইন্টারভেনশন। (২০২৬)। আইএসবিএন ISBN 978-1668085141, পৃষ্ঠা: ১৫৩।
  • ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের কোনো পরোয়াই করে না। কিন্তু কেন? কারণ ইসরায়েলকে কখনোই তাদের কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয় না। এই দায়মুক্তিই তাদের বারবার ধৃষ্টতা দেখানোর সুযোগ করে দেয়।
  • ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর বর্তমানে চলমান এই পাইকারি বা ঢালাও হত্যাকাণ্ড, যা প্রধানত এক জাতিগত-জাতীয়তাবাদী ঔপনিবেশিক আদর্শে প্রোথিত। তা মূলত কয়েক দশক ধরে চলে আসা সুশৃঙ্খল নিপীড়ন ও জাতিগত নিধনেরই একটি নিরবচ্ছিন্ন অংশ। কেবল আরব হওয়ার কারণেই তাদের এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যা নিয়ে কোনো সন্দেহ বা বিতর্কের অবকাশ নেই। আজ এই পুরো ভূখণ্ড জুড়ে বর্ণবাদেরশাসন কায়েম করা হয়েছে।
  • একজন মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি যে—গাজা এবং এর আশেপাশে যা ঘটে চলেছে, তা স্রেফ একটি গণহত্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। মানবতার বিরুদ্ধে এই চরম অপরাধ আজ আমাদের চোখের সামনেই উন্মোচিত হচ্ছে।
  • ইসরায়েল যদি গাজায় স্থল অভিযান বা আক্রমণ শুরু করে, তবে ইসলামী উম্মাহর সম্মিলিত শক্তিতে একজন জায়নবাদীও এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে না। এটি একটি চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নেবে যেখানে দখলদারদের সমূলে বিনাশ করা হবে।
  • গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ১৮০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। আমেরিকার জনসংখ্যার অনুপাতে চিন্তা করলে এর ভয়াবহতা দাঁড়ায় ২,৭০,০০০ শিশুর মৃত্যুর সমতুল্য। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় গাজায় শিশুদের ওপর কী পরিমাণ নির্মমতা চালানো হচ্ছে।
আমরা কেবল কোনো অভিযান বা খণ্ডকালীন কোনো সংঘাতের মধ্যে নেই, বরং আমরা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্মুখীন। এটি কোনো সাধারণ সংঘর্ষ নয়, এটি একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ। ~ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
  • যদি আমরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ি, তবে জেনে রেখো যে আমরা সন্তুষ্ট ও অবিচল চিত্তেই বিদায় নিচ্ছি। আমাদের পক্ষ থেকে বিশ্বকে জানিয়ে দিও যে, আমরাই ছিলাম সত্যের অনুসারী এবং ন্যায়ের পথে অটল এক শক্তিশালী জাতি।
  • হামাস বন্দুকের মুখে এসে সাধারণ মানুষের খাবার ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মানবিক বিপর্যয় এবং অনাহার আমাদের জন্য একটি গভীর ট্র্যাজেডি বা দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু তাদের জন্য এটি একটি সুপরিকল্পিত রণকৌশল। তারা মনে করে যে, এই সংকট বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ওপর যুদ্ধ বন্ধ করার চাপ সৃষ্টি করবে—যাতে তারা তাদের অবস্থানে টিকে থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে ৭ অক্টোবরের মতো আরও একটি বীভৎস হত্যাকাণ্ড পুনরায় ঘটানোর সুযোগ পায়।
  • এটি আলোকবর্তিকার সন্তানদের সাথে অন্ধকারের সন্তানদের লড়াই। এটি মানবতা বনাম জঙ্গলের আদিম ও নিষ্ঠুর আইনের মধ্যকার এক অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। সভ্য জগতের টিকে থাকার স্বার্থেই এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়া অপরিহার্য।
    • বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি এক্স (X) পোস্টে বর্ণিত।
  • আমরা কেবল কোনো অভিযান বা খণ্ডকালীন কোনো সংঘাতের মধ্যে নেই, বরং আমরা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্মুখীন। এটি কোনো সাধারণ সংঘর্ষ নয়, এটি একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
    • বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, উদ্ধৃত: [১]
  • এটি মূলত ইসরায়েলের দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ। আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এই লড়াই হবে দীর্ঘ এবং অত্যন্ত কঠিন—কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে বিজয় আমাদেরই হবে।
    • বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, আই২৪ নিউজ (i24 News)-এর একটি এক্স (X) পোস্টে উদ্ধৃত।
  • আমাদের পবিত্র বাইবেল বলে, "আমালেক তোমাদের সাথে যা করেছে তা তোমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে।" ১ সামুয়েল ১৫:৩-এ বর্ণিত আছে: 'এখন যাও এবং আমালেককে আঘাত করো, তাদের যা কিছু আছে তার সবকিছু সম্পূর্ণ ধ্বংস করো এবং তাদের প্রতি কোনো দয়া দেখাবে না। বরং পুরুষ ও নারী, শিশু ও দুগ্ধপোষ্য শিশু, এমনকি গরু ও ভেড়া, উট ও গাধা—সবকিছুকেই হত্যা করো।'
  • আমি কয়েকটি বিষয় একদম স্পষ্টভাবে পরিষ্কার করে বলতে চাই, গাজাকে স্থায়ীভাবে দখল করা কিংবা এর বেসামরিক জনগণকে বাস্তুচ্যুত করার কোনো অভিপ্রায় ইসরায়েলের নেই। ইসরায়েল মূলত হামাস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়ছে, ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে নয়। এবং আমরা আন্তর্জাতিক আইনের পূর্ণ আনুগত্য বজায় রেখেই তা করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো গাজাকে হামাস মুক্ত করা এবং আমাদের জিম্মিদের মুক্ত করে আনা। একবার এটি অর্জিত হলে গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ এবং উগ্রবাদমুক্ত করা সম্ভব হবে, যা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয় পক্ষের জন্যই এক উন্নততর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
  • ২২ লক্ষ মানুষের একটি জনপদের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এর ফলে সাংবাদিক, চিকিৎসা পেশাজীবী, মানবিক সহায়তাকারী দল এবং নিরপরাধ সাধারণ মানুষ—সবাই চরম বিপদের মুখে পড়েছে। আমি জানি না এমন একটি কাজকে কীভাবে সমর্থন করা যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে এই ধরণের নিষ্ঠুর অনুশীলনের নিন্দা জানিয়ে আসছে।
  • মূলত মানবাধিকারের মূল্যায়নই হলো এই সংকটে শান্তির পথে হাঁটার একমাত্র উপায়। আমাদের এটি নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন যে আমরা যেমন ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকারকে গুরুত্ব দিই, ঠিক একইভাবে এই প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকারকেও সমপর্যায়ে মূল্যায়ন করতে হবে। ঠিক যেমন আমাদের এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমি বিশ্বাস করি না যে শিশুদের বন্দি করে রাখা উচিত; মানবাধিকারের এই মৌলিক নীতিগুলো থেকেই আমরা একসাথে শান্তির পথ নির্মাণ করতে পারি। আমাদের অবশ্যই এমন একটি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে যেখানে সকল পক্ষকে সম্মান জানানো হয় এবং সবার জন্য সমান সুযোগ থাকে, যাতে আমরা প্রকৃত সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে পারি।
  • গাজার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং বীভৎস। সেখানে অন্তত ৩৪,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যাদের অধিকাংশেরই পরিচয় নারী ও শিশু। এমনকি অনেক ইসরায়েলি নাগরিকও তাদের সরকারের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কারণ এই রক্তপাত সত্ত্বেও সরকার বাকি জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ গাজা যখন দুর্ভিক্ষের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে, তখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলকে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে। যদি এটিও প্রতিবাদের যোগ্য বিষয় না হয়, তবে আমি নিশ্চিত নই যে পৃথিবীতে আর কোন বিষয়টি প্রতিবাদের দাবি রাখে!
  • আমরা এখন গাজায় যা করছি তা মূলত একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ। এটি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এক বিচারহীন, সীমাহীন, নিষ্ঠুর এবং অপরাধমূলক হত্যাকাণ্ড। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং সরকারের সুপরিকল্পিত নীতিরই ফল। যা অত্যন্ত সচেতনভাবে, পৈশাচিক ও বিদ্বেষপূর্ণ মানসিকতা নিয়ে এবং চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার সাথে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
  • আপনারা কীভাবে একটি নৃশংসতাকে দেখে বলতে পারেন যে 'এটি ভুল', অথচ যখন লাশের স্তূপ জমে ওঠে আর আস্ত একেকটি জনপদ মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তখন আপনারা নির্বিকার থাকেন? আফগানিস্তানে আমরা পুরো এক বছরে যতগুলো বোমা ফেলেছিলাম, ইসরায়েল গত ১০ দিনেই তার চেয়ে বেশি বোমা গাজায় বর্ষণ করেছে! আপনাদের মানবিকতা আজ কোথায় বিলীন হয়ে গেছে? আপনাদের সেই ক্ষোভ আজ কোথায় গেল? মানুষের প্রতি আপনাদের ন্যূনতম মমতা কি আজ একদম-ই বিলীন হয়ে গেছে?
  • আমি আজ এখানে নিকি হ্যালিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন জানাতে এসেছি। আমি মনে করি তিনি এটি অর্জন করেছেন। বর্তমানে বিবি নেতানিয়াহু অত্যন্ত প্রতিকূল ও খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আপনি যদি বর্তমান সামাজিক প্রবণতা, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং চলমান প্রতিবাদগুলোর দিকে নজর দেন, তবে দেখবেন যে ইসরায়েলের প্রতি বিশ্বব্যাপী যে সমর্থন ছিল, তা কার্যত একদম ধসে পড়েছে। এমতাবস্থায় আমি মনে করি নিকি হ্যালিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলোর লবির পর্যাপ্ত অর্থ সহায়তায় এই জনসমর্থন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। তাই এটিই আমার চূড়ান্ত বক্তব্য, আমি নিকি হ্যালিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য সমর্থন দিচ্ছি।
  • ড্রেসডেন, হামবুর্গ, কোলন—বিশ্বের ইতিহাসের ভয়াবহতম কিছু বোমাবর্ষণের ঘটনা আজ কেবল তাদের স্থানের নামেই স্মরণ করা হয়। ফিলিস্তিনের গাজাও আজ একইভাবে ইতিহাসের পাতায় এমন একটি নাম হিসেবে খোদাই হয়ে থাকবে, যা পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ও বিধ্বংসী প্রচলিত বোমাবর্ষণ অভিযানের সাক্ষী।
  • হিটলার আজ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যবিত্ত পরিবারের দরজায় কড়া নাড়ছেন এবং অনেকেই ইতিমধ্যে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিয়েছেন! জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অভিবাসন বা গণপ্রস্থানকে ভবিষ্যতে চরম সহিংসতা ও বর্বরতা দিয়ে দমন করা হবে; গাজায় আমরা আজ যা দেখছি তা মূলত সেই অনাগত ভবিষ্যতেরই এক পরীক্ষা। কেন বিশ্বের বড় কার্বন-ভোক্তা দেশগুলো গাজায় হাজার হাজার শিশুর এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে নীরবে সয়ে নিচ্ছে? কারণ হিটলার ইতিমধ্যে তাদের মনস্তত্ত্বে ও ঘরে প্রবেশ করে ফেলেছেন।
  • ইসরায়েল এর আগে বহুবার যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছে। তারা অনেক সন্ত্রাসী নৃশংসতা এবং হাজার হাজার রকেট হামলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। কিন্তু এবারের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অভাবনীয়। ইহুদিদের বিরুদ্ধে এই মাত্রার বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতা হলোকাস্টের পর আর কখনো দেখা যায়নি। যে দেশটি সেই গণহত্যার ছাই থেকে জন্ম নিয়েছে, সেখানে ইহুদিদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে জবাই করা, ধর্ষণ করা কিংবা বন্দি করার এই দৃশ্য, যেখানে নিরুপায় বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের রক্ষা করতে নিজেদের শরীর দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন, তা ভাষায় প্রকাশের অতীত। এটি স্রেফ সন্ত্রাসবাদ ছিল না। এটি ছিল একটি পোগ্রোম
  • এই যুদ্ধের শুরু থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত লক্ষ্য এবং বিবৃতিগুলোর দিকে যদি আমরা দৃষ্টিপাত করি, তবে এটি স্পষ্ট যে ইসরায়েল অন্তত এই পর্যায়ে উত্তর গাজার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমাদের বর্তমান আলোচনার সময়েই এটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে; তবে অবশ্যই এটি ইসরায়েলের জন্য কোনো সহজ যুদ্ধ বা পিকনিক, প্রমোদভ্রমণ নয়। হামাস সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, কিন্তু এই ভয়াবহ ও জেনোসাইডাল যুদ্ধের চূড়ান্ত মাশুল দিতে হচ্ছে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের।
  • হামাসের হামলার আগেই ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয় অঞ্চলের শান্তিপ্রিয় গোষ্ঠীগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে—এমনকি অনেক ইসরায়েলি, যারা এতদিন আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংলাপে অংশগ্রহণ করতেন, তারাও এখন চরমপন্থায় উদ্বুদ্ধ হয়ে "গাজাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার" কথা বলছেন।
  • মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যে পৈশাচিক ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন; আমরা ইসরায়েলিদের শোকের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও আমাদের গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। ফিলিস্তিনের জনগণ যে গত প্রায় ৭৫ বছর ধরে দখলদারিত্বের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে এবং একটি অত্যাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে, তা আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে উপলব্ধি করি। যে ইসরায়িলি সরকারকে সাম্প্রতিক সময়ে একটি বর্ণবাদী রাষ্ট্র ও সরকার হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
  • জর্ডানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ এই মহাবিপর্যয়ের প্রতি বিশ্ববাসীর প্রতিক্রিয়া দেখে স্তম্ভিত এবং হতাশ। গত কয়েক সপ্তাহে আমরা বিশ্বের এক নগ্ন ও নির্লজ্জ দ্বিচারিতা প্রত্যক্ষ করেছি। যখন ৭ অক্টোবরের ঘটনা ঘটল, বিশ্ববাসী তাৎক্ষণিক ও দ্ব্যর্থহীনভাবে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়াল, তাদের আত্মরক্ষার অধিকারের স্বীকৃতি দিল এবং হামলার নিন্দা জানাল। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে গাজায় যখন একই ধরণের নির্মমতা চলছে, তখন আমরা পুরো বিশ্বকে নিশ্চুপ থাকতে দেখছি।
  • আমরা 'দ্য এল্ডার্স' এর পক্ষ থেকে বলছি, যে দেশগুলো ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা প্রদান করছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে, তাদের এখনই জরুরি ভিত্তিতে এই সহায়তার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সহায়তার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করতে হবে। আমি মনে করি এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ যদি এটি না ঘটে, তবে এই পুরো সংকটের দায়ভার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তাবে। আর এটি কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুখকর হবে না যে, তারা এত বিপুল পরিমাণ হত্যাযজ্ঞের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হবে।
  • এই মহাবিপর্যয় আগামী দিনগুলোতে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও সুদূরপ্রসারী পরিণতি বয়ে আনবে। এই যুদ্ধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে নেই, বরং তা সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলের ওপর নির্ভরশীল। তবুও এই ধ্বংসযজ্ঞ অবসানে আমাদের সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
  • সমগ্র অঞ্চলটি আজ ঘৃণার এমন এক সাগরে নিমজ্জিত হচ্ছে যা আগামী বহু প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে এবং তাদের পরিচয় নির্ধারণ করে দেবে। এই সংকট নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অগ্রণী ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে। এই বিপর্যয় রোধ করার এক বিশাল ও গুরুভার দায়িত্ব আজ আমাদের সকলের ওপর এবং বিশেষ করে আমেরিকার ওপর বর্তায়।
  • ইসরায়েল আজ যে পরিমাণ ঘৃণা ও বিদ্বেষের বীজ বপন করেছে, তা এই অঞ্চলকে দীর্ঘকাল তাড়িয়ে বেড়াবে। এটি আগামী প্রজন্মগুলোর চিন্তাধারাকে বিষাক্ত করে তুলবে। ফলে ইসরায়েল দেশটি যেমন এই অঞ্চলের অন্যদের তথা প্রতিবেশীদের ক্ষতি করছে, তেমনি তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেদের জনগণেরও অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করছে। এটি এমন এক যুদ্ধ যা কখনোই জয় করা সম্ভব নয়। ইসরায়েল ইতিমধ্যে এক অপূরণীয় কৌশলগত পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে।
  • আজ শহীদদের পবিত্র আত্মার ছায়াতলে আমরা এক নতুন ফিলিস্তিনের জন্ম হতে দেখছি, যা জায়নবাদীদের অন্তরে চরম ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। তারা আজ প্রাণভয়ে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
  • আমরা আজ অধিকৃত ভূমিগুলোতে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং জাতীয় হতাশার এক চরম চিত্র দেখতে পাচ্ছি; এই সংকট নিরসনে আমেরিকানদের দেওয়া যেকোনো দাওয়াই বা সমাধান নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হতে বাধ্য।
  • ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের এই জায়নবাদ মূলত একটি বহিরাগত বস্তু। এটি ইসলামের শরীরের একপাশে বিঁধে থাকা একটি বিষাক্ত তীক্ষ্ণ ছুরির ফলার মতো, যা প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে।
  • এই ভূখণ্ডে যন্ত্র, সামরিক শক্তি এবং মানুষ একই সাথে বসবাস করে। সেখানে যুদ্ধ এবং জীবন একে অপরের থেকে অবিচ্ছেদ্য। তারা একসময় এমন ভ্রান্ত ধারণায় মগ্ন ছিল যে অনিরাপত্তা বোধ কখনোই তাদের সীমানা স্পর্শ করতে পারবে না, কিন্তু আজ সেই দম্ভ চুরমার হয়ে গেছে।
  • ইসরায়েলিরা এখন আর তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সেনাবাহিনী এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও আস্থা রাখতে পারছে না, যারা কি না সবসময়ই দেরি করে পৌঁছায়। এবার হয়তো তারা ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেছে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি এমন নাও হতে পারে। তারা গাজার সীমান্তের পেছনে অসংখ্য ট্যাঙ্ক জড়ো করেছে ঠিকই, কিন্তু সামনে এক কদম বাড়ানোর সাহস পাচ্ছে না। কারণ যুদ্ধ কেবল অস্ত্র দিয়ে লড়া হয় না। যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন দৃঢ় ঈমান এবং আত্মবিশ্বাসী হৃদয়ের মানুষ, কোনো উৎকণ্ঠা বা দ্বিধাগ্রস্ত হৃদয়ের মানুষের পক্ষে এ লড়াই সম্ভব নয়। অবিশ্বাসীদের পক্ষে কখনোই মুসলিমদের ওপর বিজয় লাভ করা সম্ভব নয়। তারা নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
  • ইসলামী বিপ্লবের সীমানা আজ ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে, কারণ এটি মানুষের প্রকৃত সত্তা ও মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ। আমেরিকানরা এর আগে কখনো এতটা একাকী ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি। মার্কিন কর্মকর্তাদের চেহারায় আজ চরম বিভ্রান্তি ও অস্পষ্টতা দৃশ্যমান। তারা এক অর্থহীন ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে এবং এমনভাবে আচরণ করছে যেন তারা নিজেরাও জানে না তারা আসলে কী করছে।
  • সৌদি আরব গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করাকে একটি জঘন্য অপরাধ এবং অতন্ত্য বর্বরোচিত হামলা বলে মনে করে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা এখন সময়ের দাবি এবং অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা।
  • ইসরায়েল একটি বর্বরোচিত আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে নিজের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরায়েল এখন হামাসকে লক্ষ্য করে একটি বড় মাপের স্থল অভিযানের কথা ভাবছে এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী গাজায় ইতিমধ্যে ইসরায়েলি স্থল বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনসহ ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা এই ধরণের অভিযানের ঝুঁকি সম্পর্কে ইসরায়েলি সরকারের কাছে তাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আমরাও এই উদ্বেগের সাথে একমত; এটি কেবল অভিযানের সময় বা এর কঠিন বাস্তবতা এবং সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের কারণেই নয়, বরং এই অভিযান পরবর্তী সময়ে যে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে—সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।
  • যারা কেবল এই যুদ্ধের অবসানই নয়, বরং ভবিষ্যতে এমন সংঘাত রোধ করতে চান, তাদের প্রথমে তথ্য বা বাস্তবতার বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে। ৭ অক্টোবর, হামাস নামক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসরায়েলের ওপর এক বর্বরোচিত হামলা চালায়, যেখানে প্রায় ১,২০০ নিরপরাধ পুরুষ, নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয় এবং ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে জিম্মি করা হয়। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে চিন্তা করলে, ইসরায়েলের জনসংখ্যা যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমান হতো, তবে এই হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়াত প্রায় ৪০,০০০—যা ৯/১১-এর ভয়াবহতাকে ১০ গুণেরও বেশি ছাড়িয়ে যেত! এর জবাবে ইসরায়েল, তাদের দক্ষিণপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে, যিনি নিজে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এবং যার মন্ত্রিসভায় চরম বর্ণবাদীরা রয়েছেন। ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে এক সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছে। গাজায় ১৬ লক্ষেরও বেশি ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছে। খাদ্য, পানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবমতে গাজার ৪৫ শতাংশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ১২,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অর্ধেকই হলো শিশু! এই পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
  • আমাদের প্রথম দাবি হওয়া উচিত ইসরায়েলের এই নির্বিচার বোমাবর্ষণ অবিলম্বে বন্ধ করা, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং যার ফলে অগণিত বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। ইসরায়েল হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত, কোনো নিরপরাধ ফিলিস্তিনি নারী বা শিশুর বিরুদ্ধে নয়। একটি মাত্র লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে ইসরায়েল আস্ত একটি জনপদ বা পাড়া বোমায় উড়িয়ে দিতে পারে না। আমরা জানি না এই অভিযান হামাসের সামরিক সক্ষমতা কমাতে কতটা কার্যকর হয়েছে, কিন্তু আমরা এটি নিশ্চিতভাবেই জানি যে, হতাহতের ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু এবং ১০৪ জন জাতিসংঘ ত্রাণকর্মী ও ৫৩ জন সাংবাদিক এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
  • নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি স্পষ্টতই এই নীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছিল যে, "সাগর থেকে জর্ডান নদী পর্যন্ত কেবল ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বই বজায় থাকবে," এবং বর্তমান জোট সরকার সেই লক্ষ্যকেই আরও জোরদার করছে। এটি কেবল কোনো আদর্শিক কথা নয়; ইসরায়েলি সরকার পদ্ধতিগতভাবে এই লক্ষ্য অনুসরণ করছে। গত এক বছরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের হার রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে এখন ৭ লক্ষেরও বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছে। যা জাতিসংঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতে অধিকৃত ভূখণ্ড। তারা এই ভূখণ্ড গ্রাস বা অন্তর্ভুক্তিকরণকে পাকাপোক্ত করতে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ব্যবহার করে যাচ্ছে। ৭ অক্টোবরের পর থেকে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী অন্তত ২০৮ জন ফিলিস্তিনি, যার মধ্যে ৫৩ জন শিশু রয়েছে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহত হয়েছে। এটি আর কখনো চলতে দেওয়া যায় না।
  • গাজায় জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত জরুরি খাদ্য, পানি, ওষুধ ও জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সেখানে একটি দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিরতি বা যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। বুধবার সকালে যে চুক্তিটি হয়েছে, যেখানে চার দিনের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ৫০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তা যদি যথাযথভাবে পালিত হয়, তবে এটি একটি আশাব্যঞ্জক প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে জাতিসংঘকে গাজায় ত্রাণ বিতরণ নেটওয়ার্ক স্থাপন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে যাতে মানুষ তৃষ্ণা, অনাহার ও রোগে মারা না যায়। এই সুযোগটি আরও বেশি জিম্মি মুক্তির আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে। তবে মনে রাখতে হবে, এই বিরতির পর যেন পুনরায় নির্বিচার বোমাবর্ষণ শুরু না হয়। ইসরায়েল অবশ্যই হামাসকে খুঁজে বের করবে, কিন্তু তাদের রণকৌশলে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে যেন বেসামরিক মানুষের ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে।
  • গাজার ওপর এই আক্রমণকে অন্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকেও সংজ্ঞায়িত করা যায়। এটি মূলত আমাদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া একটি 'পাঠ্যপুস্তকীয় গণহত্যা' বা টেক্সটবুক অফ এ জেনোসাইড! গণহত্যার একজন গবেষক হিসেবে আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথেই এই কথাটি বলছি।
  • গত কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলি ও পশ্চিমা নেতারা ফিলিস্তিনিদের অমানবিক হিসেবে চিত্রিত করে আসছে, কিন্তু তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এখন ইসরায়েলিদের অমানবিক হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। হামাসের হামলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং কৌশলগত সশস্ত্র সংগ্রামের নীতিগুলো ব্যাখ্যা করা আর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করা—এক কথা নয়। আপনি যদি গত শনিবারের হামাসের যুদ্ধাপরাধকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন, তবে আজ ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধকে অন্যায় বলার নৈতিক ভিত্তি আপনার কোথায়? নৈতিক ধারাবাহিকতা হারানো ফিলিস্তিনি আন্দোলনের মূল শক্তিকেই দুর্বল করে দেয়। হামাসের এই নির্বিচার আক্রমণকে ফিলিস্তিনিদের দুঃখ-কষ্টের একটি গ্রহণযোগ্য ফলাফল হিসেবে দেখা সংহতির লক্ষণ নয়। বরং এটি এক ধরণের মোরাল রেবিলিটিজম বা নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ। নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের নিষ্ঠুরতা চালানোর বিশেষ ছাড়পত্র দেওয়া কোনো মুক্তির লড়াই নয়। এটি মূলত সেই আন্দোলনকে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সাথে জড়িয়ে ফেলা। আর ইসরায়েলের সব নাগরিকই লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলাটা এক ধরণের চরমপন্থা। এই একই যুক্তি এখন গাজার ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রয়োগ করছে ইসরায়েলের চরমপন্থী সরকার এবং তাদের সমর্থকরা।
  • এই ধ্বংসাত্মক আক্রমণ থামানোর আগে আর কত মানুষের প্রাণহানি দেখতে হবে—৫০,০০০ নাকি ১,০০,০০০? যখন আমরা আমাদের ঘরবাড়ি, হাসপাতাল আর স্কুলগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখছি, তখন বিশ্বনেতাদের কাছে আমাদের আর্তনাদ! দয়া করে সামান্যতম মানবিকতা প্রদর্শন করুন।
  • এমনকি ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও মানুষ নানা ধরণের ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা কখনোই সরাসরি স্বীকার করেনি যে তারা নিছকই নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আমরা একই ধরণের ঢাকা দেওয়া অজুহাত দেখছি।
  • শেষ পর্যন্ত বিচার এই ব্যক্তিদের ধরবে বা বিচারের মুখোমুখি করবেই। যদি ৫ বছরে না হয়, তবে ১০ বছর পর, অথবা যখন তাদের বয়স ৮০ বছর হবে—তখন। যখনই বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য ফিলিস্তিনিদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে, তখনই অপরাধীদের সকল হিসাব চুকিয়ে দিতে হবে।
  • আমি মনে করি বর্তমানে এই সংঘাতের সাথে জড়িত প্রতিটি পক্ষের মানুষ কতটা ক্ষতবিক্ষত বোধ করছেন, তা শব্দে বর্ণনা করা অসম্ভব। মিশিগানে আমাদের ৩ লক্ষেরও বেশি আরবমুসলিম এবং ৭০,০০০ ইহুদি ধর্মাবলম্বী মানুষ রয়েছেন। প্রত্যেকের আবেগ আজ এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সামলানো অত্যন্ত দুরুহ হয়ে পড়েছে।
  • এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় যে ভয়াবহ বোমাবর্ষণের মুখে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো নিরাপদ স্থান নেই। এমনকি সামরিক অবরোধের কারণে বর্তমানে সেখানে পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছানোও সম্ভব হচ্ছে না। এটি একটি মহাবিপর্যয়মূলক ব্যর্থতা, যা পুরো বিশ্বের আর কখনোই সহ্য করা উচিত নয়।
  • তাদের এই অমানবিক নৃশংসতা আপনার নৃশংসতাকে ন্যায়সঙ্গত করে তোলে না। তাদের যুদ্ধাপরাধের বর্বরতা আপনার যুদ্ধাপরাধের বর্বরতাকে বিন্দুমাত্র কমিয়ে দেয় না। মূলত তাদের অমানবিকতা আপনার অমানবিকতাকে উস্কে দিচ্ছে, যা পরবর্তীতে তাদের অমানবিকতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে, যতক্ষণ না আপনাদের চারপাশের পুরো পৃথিবী পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং তারও পর পর্যন্ত এই চক্র চলতেই থাকে।
বিলম্ব না করে সকল জিম্মিকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে। ~ আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং প্রেসিডেন্ট বাইডেন
আজ আমরা ফিলিস্তিন ও গাজার সাথে সংহতি প্রকাশ করে ধর্মঘট পালন করছি। বিশ্ববাসীকে এখন সোচ্চার হতে হবে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, ফিলিস্তিনিদের জন্য ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকল বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার দাবি তুলতে হবে। ~ গ্রেটা থুনবার্গ
  • আমি ওয়াশিংটন থেকে জেক ট্যাপার বলছি; যেখানে আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি এই ভয়ে আতঙ্কিত যে, ইসরায়েলহামাসের মধ্যে চলমান এই নৃশংস যুদ্ধ আরও বিস্তৃত এবং ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে। আজ সকালে মধ্যপ্রাচ্যে এক চরম হাহাকার আর হতাশা বিরাজ করছে। কয়েক ঘণ্টা আগে গাজায় ইসরায়েলি হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধার করতে সাধারণ মানুষের যে আকুতি, তা ছিল অবর্ণনীয়। ইসরায়েলি সরকার বলছে, আট দিনের ভয়াবহ বিমান অভিযানের পর তারা এখন একটি 'উল্লেখযোগ্য স্থল অভিযান'-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মনে রাখা প্রয়োজন যে, হামাস ফিলিস্তিনি জনগণের মাঝেই নিজেদের আড়াল করে রাখে। গত ৭ অক্টোবরের সেই বিধ্বংসী সন্ত্রাসী হামলায় ১,০০০ ইসরায়েলিকে হত্যা করা হয়েছিল, যা হলোকাস্টের পর ইহুদি জাতির জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন ছিল। আর সেই ঘটনার সাথেই ইসরায়েল থেকে ১০০-এর বেশি নিরপরাধ মানুষকে জিম্মি করা হয়েছে।
  • এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। হ্যাঁ, আমি এর আগেও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কাজ করেছি এবং সেগুলো সবসময়ই খুব বিভীষিকাময় ছিল। কিন্তু এটি বিশেষভাবে নৃশংস, কারণ এখানে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছে এবং তাদের পালানোর কোনো পথ নেই। তারা সরতে পারছে না। তাদের বলা হচ্ছে দক্ষিণে সরে যেতে। কিন্তু আমরা কি স্রেফ ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এলাকাকে ২০ কিলোমিটারে নামিয়ে এনে সেখানে ২০ লক্ষ মানুষকে গাদাগাদি করে রাখার কথা বলছি? এটি সত্যিই এক অভাবনীয় পরিস্থিতি। না, আমি আগে এমনটি দেখিনি। তারা বোমাবর্ষণ থামায়নি, অনবরত বোমা ফেলছে। সেখানে তারা ট্যাঙ্কসহ সৈন্য পাঠিয়েছে এবং এটি অবিরাম চলছে। এই নৃশংসতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত এবং বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে দেখা যাচ্ছে। মানুষ ঠিকই জানে কী ঘটছে, তবুও এটি থামছে না। এমন পরিস্থিতি আমি আগে কখনো প্রত্যক্ষ করিনি।
  • আজ আমরা ফিলিস্তিন ও গাজার সাথে সংহতি প্রকাশ করে ধর্মঘট পালন করছি। বিশ্ববাসীকে এখন সোচ্চার হতে হবে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, ফিলিস্তিনিদের জন্য ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকল বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার দাবি তুলতে হবে।
  • আমাকে যে এটি বলতে হচ্ছে তা আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, ফিলিস্তিনিরা কোনো ফেলনা বা অপ্রয়োজনীয় বস্তু নয়। আমরাও অন্য সবার মতো রক্ত-মাংসের মানুষ। আমার দাদি 'সিতি', অন্য সব ফিলিস্তিনির মতোই কেবল স্বাধীনতা এবং মানুষের প্রাপ্য মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চান। মিস্টার চেয়ারম্যান, প্রাণ বাঁচাতে কথা বলা, তা যে ধর্মের বা যে জাতিগোষ্ঠীরই হোক না কেন, এই কক্ষে বিতর্কিত হওয়া উচিত নয়। ফিলিস্তিনি আর ইসরায়েলি শিশুদের আর্তনাদ আমার কানে ভিন্ন শোনায় না। আমি যা বুঝতে পারছি না তা হলো। কেন ফিলিস্তিনিদের আর্তনাদ আপনাদের সবার কানে ভিন্নভাবে পৌঁছায়? মিস্টার চেয়ারম্যান, আমাদের এই সম্মিলিত মানবিকতা হারিয়ে ফেলা উচিত নয়।
  • জো বাইডেনের চরম অযোগ্যতা, দুর্বলতা এবং অপদার্থতাই ইসরায়েলের ওপর এই ভয়াবহ হামলার পথ প্রশস্ত করেছে; এবং এটি দিন দিন কেবল আরও খারাপের দিকেই যাবে। পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। এই লোকটি (বাইডেন) ঠিকমতো দুটি বাক্যও সাজিয়ে বলতে পারেন না। আসলে কী ঘটছে সে সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ধারণাও নেই।
  • রাফাহ-তে আমি গাজার সেই জীবন্ত দুঃস্বপ্নের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েছিলাম। যার প্রিয়জন এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন, তার সেই অসহ্য বেদনা এবং অসীম কষ্ট আমি আমার হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে অনুভব করি। আমাদের সবাইকে এই সম্মিলিত যন্ত্রণা অনুভব করতে হবে এবং এই দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটাতে হবে।
  • গাজার ওপর এই সর্বাত্মক অবরোধ এবং তার সাথে অবাস্তব ও অসম্ভব উচ্ছেদ আদেশ এবং জোরপূর্বক জনসংখ্যা স্থানান্তর আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও অপরাধমূলক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি বর্ণনাতীতভাবে নিষ্ঠুর ও অমানবিক একটি কাজ।
  • "আইডিএফ বলছে যে তারা গাজার একটি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে!!" তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে এর চেয়ে শক্তিশালী আহ্বান আর কী হতে পারে? এমনকি যদি সেই অ্যাম্বুলেন্সে হামাসের কোনো নেতাও থেকে থাকেন, তবুও সেটিতে বোমাবর্ষণ করা জেনেভা কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
  • আমি নিশ্চিত যে ৭ অক্টোবরের হামলা রুখতে না পারার কারণে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গভীর লজ্জার সম্মুখীন হয়েছেন, বিশেষ করে এমন একজনের জন্য যিনি নিজেকে একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং কঠোর নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু সম্ভবত সেই লজ্জাই তাকে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করছে। তিনি যদি মনে করেন যে এই 'হত্যার উন্মাদনা' দিয়ে পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করা যাবে, তবে তিনি চরম ভুল ও ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন! তার এই পদ্ধতি সমস্যার সমাধান করবে না। বরং আমি বিশ্বাস করি তার এই রণকৌশল আগামী আরও ৫০ বছরের জন্য এই সংঘাতকে আরও উস্কে দেবে। তার কর্মকাণ্ড গোটা বিশ্বজুড়ে মুসলিম তরুণদের প্রতিরোধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
  • আমি আশঙ্কা করছি যে আমরা এক গভীর ও বিপজ্জনক অতল গহ্বরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি, যা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের গতিপথ চিরতরে বদলে দিতে পারে। এমনকি এটি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করতে পারে।
  • এই কাজ যারা করেছে, সেই বর্বরদের বোমায় উড়িয়ে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দাও। এখানে কোনো মধ্যপন্থা নেই। তাদের সবাইকে হত্যা করো, পৃথিবীর প্রতিটি হামাস বর্বর এবং তাদের প্রত্যেক সমর্থককে। শূকরের নাড়িভুঁড়ি দিয়ে তাদের মাটি চাপা দাও।
  • ওই ফিলিস্তিনিরা, তারা বড় বেশি নাটকীয়। তারা সবসময় বলে, ‘আহ, ইসরায়েল আমাদের মেরে ফেলছে,’ কিন্তু তারা তো কখনো মরেই না। মানে, তারা বারবার ফিরে আসে। তাদের মেরে ফেলা খুব কঠিন, সত্যিই খুব কঠিন এক জাতি। আমি জানি, কারণ আমি নিজেই একজনকে (ফিলিস্তিনি) বিয়ে করেছি। আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি। প্রতিবারই তাকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু সে আমাদের বাচ্চাদের ‘হিউম্যান শিল্ড’ বা মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে!
  • হামাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি মাত্র লক্ষ্য নিয়ে, ইসরায়েল রাষ্ট্রের ধ্বংসস্তূপের ওপর একটি ইসলামিক স্টেট বা ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করা। তারা নিজেদের 'মুক্তিযোদ্ধা' হিসেবে দাবি করে এবং সেই সূত্র ধরেই আমরা পুঁজিবাদী জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে এই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে সমর্থন জানাই।

২০২৩ ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ সম্পর্কিত ভিডিও

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]