গাজী নজরুল ইসলাম
অবয়ব
গাজী নজরুল ইসলাম (জন্ম: ২১ মে ১৯৫১) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা যিনি তৎকালীন সাতক্ষীরা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে দ্বিতীয় বারের মতো সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য।
উক্তি
[সম্পাদনা]- মেয়েরা শালীনভাবে চলবে। মাথার যে কাপড়টা, একটা পর্দা মাথার ওপরে রাখবে। আমরা চাই মেয়েরা শালীনভাবে চলুক। যাতে করে তাদের শরীরটা বাইরে বের না হয়।...মেয়েরা সব কাজ করতে পারবে। তবে মেয়েরা একটু দূরে গেলে রক্তের সম্পর্কের কাউকে অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে। একা চলাটা ঠিকও না। রক্তের সম্পর্কের পুরুষ হলে ভালো, তবে মেয়ে হলেও সমস্যা নেই।
- নারীদের চলাফেরা ও পোশাক নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্যে।
- মাননীয় স্পিকার আপনি জানেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ আমরা একসঙ্গে সংসদে ছিলাম। আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্তও আপনার সঙ্গে সংসদে ছিলাম। এবার আমার তৃতীয়বার সংসদে আসা।...২০০৬ সালের পর যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল, তখন আমার নাম মুক্তিযোদ্ধার খাতা থেকে কেটে দেওয়া হয়। সেখান থেকে আজ পর্যন্ত আমি এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছি। বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যে গৌরব, সেটা থেকেও বঞ্চিত। এলাকার সবাই আমাকে মুক্তিযোদ্ধা বলে জানে, আপনিও জানেন মাননীয় স্পিকার।
- ৩১ মার্চ ২০২৬-এ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় তিনি এই কথা বলেন। [১]
বিতর্ক
[সম্পাদনা]গাজী নজরুল ইসলাম
[সম্পাদনা]- গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।...পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃতপক্ষে, ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ২১ জুলাই ২০২৬-এ এক ফেসবুক পোস্টে।
গাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে
[সম্পাদনা]- এমপি গাজী নজরুল ইসলাম নিয়ে সাতক্ষীরায় কী চলতাছে। সাতক্ষীরা মেয়ের বয়স ১৪, মেয়ের বাপের বয়স ৩৬ আর ওনার বয়স হলো ৭৪, না কত? কী হিসাব-নিকাশ। ধরা পড়ার আগে রোমান্টিক, ধরা পড়লে কয় বউ। এগুলো বিকৃত মানসিকতা। এসব ঘটনা এআই বলে চালিয়ে দেওয়া বিকৃত যৌনাচার। আবার ধরা খাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে বলে চালিয়ে দেওয়া পাক্কা মিথ্যাচার। প্রশাসনকে বলব, সঠিক তদন্ত করেন।...এই লোকটা দেখলাম নির্বাচনের সময় সাদা পর্দা লাগাইছে। একপাশে মেয়েরা আর একপাশে উনি, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পর্দার কাছে যায় আর বলে —আপনারা ভালো করে চলবেন, পর্দা করবেন।
- গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। গাজী নজরুল ইসলামের সমালোচনা করে একটি ওয়াজ মাহফিলে তিনি এই কথা বলেন। [২]
- ভিডিও ধারণ হওয়ার সময় দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি না করে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করা নিশ্চয়ই বিরোধীদলের ফতোয়া মোতাবেক ইসলামিক?...এই এমপিকে কি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ইমপিচমেন্ট করার জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করবেন, নাকি তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য শিগগিরই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিবৃতি দেবেন?...সবকিছুর জন্য আমাদের, আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে। নিশ্চয়ই দলের গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত শরিয়া আইনের ভিত্তিতেই মাননীয় এমপি মহোদয়ের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা।
- রাশেদ খাঁন। ২১ জুলাই ২০২৬-এ নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে।
- জামাত নেতার এমন অনৈতিক কাজ নিয়ে বেশি মাতামাতি হতো না, যদি না তারা নিজেদেরকে অন্যান্যদের তুলনায় সৎ এবং চরিত্রবান রূপে আলাদা সত্তা হিসেবে প্রচার করতেন।...আপনি নিজেকে ইসলামের একমাত্র ধারক-বাহক এবং গতানুগতিক কালচারের বাইরে সৎ হিসেবে প্রচার করবেন, আর তলে তলে মানুষের টাকা আত্মসাৎ করবেন, নারীদের নানান কায়দায়-প্রলোভনে ধর্ষণ করবেন, ধরা খেয়ে দ্বিতীয় বিয়ের নাটক সাজাবেন; সেটা কেমন চরিত্র আর হেকমত?
- আব্দুল কাদের (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক)। ২২ জুলাই ২০২৬-এ এক ফেসবুক পোস্টে।
- কারণ যে সম্ভাবনাটা এখন আমাদের সামনে, সেটা কোনো সাধারণ কেলেঙ্কারি না। সম্ভাবনাটা হলো, জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য তার পদের জোর খাটিয়ে একটা অসহায় মেয়েকে একা রুমে নিয়ে গেছেন। চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে। সম্ভাবনা মানে প্রমাণ না, জানি। কিন্তু এই প্রশ্নটা সংসদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ আমাদের সামনে এসেছে।
- তাসনিম জারা। ২২ জুলাই ২০২৬-এ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে।[৩]
- তিনি (গাজী নজরুল ইসলাম) যে পর্যায়ে ভুল করেছেন, এই পর্যায়ের ব্যক্তির এই ভুল করা সম্ভব না। অন্য একজন ব্যক্তি হলে হয়তো ভুল মনে করতাম। মসজিদের একজন ইমাম ও একজন সাধারণ ব্যক্তি একই ভুল করলেন; ইমাম সাহেব ও একজন বাইরের লোক দুজনের ভুল কি একই রকম? কিন্তু ইমাম সাহেব করার কারণে ভুলের মাত্রাটা বেশি।
- মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক। ২৩ জুলাই ২০২৬-এ নিজ নির্বাচনী এলাকায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। [৪]
- উচিত হচ্ছে আমার গাজী নজরুল ইসলাম ভাই আরও দুইটা বিয়ে করা। হালাল জিনিস, এটাতে কোনো শরম নেই। যারা এ ধরনের ভিডিও ভাইরাল করছেন, তাদের একদিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।...দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা ইসলামের স্বাভাবিক শিক্ষা এবং বিবাহ একটি পবিত্র সম্পর্ক। স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে কাউকে হেয় করা বা বিব্রত করা কোনোভাবেই ঠিক নয়।...গাজী নজরুল ইসলাম ভাই, সাতক্ষীরা শহরের সম্মানিত এমপি, একামতে দ্বিনের অতন্দ্র প্রহরী, কোটি কোটি মুসলমানের কলিজা। তাদের স্বামী-স্ত্রীর ভিডিও ভাইরাল করে কী শান্তিটা পেলেন?...বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন এটি কোনো বড় অপরাধ। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে।
- রফিক উল্লাহ আফসারী (ইসলামী বক্তা)। ২১ জুলাই ২০২৬-এ এক ভিডিও বার্তায়।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় গাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।