বিষয়বস্তুতে চলুন

গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন ভারতীয় সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং জাক দেরিদার “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন।

গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • খেতে দেওয়া সহজ কথা। পাউরুটি আর জেলি দাও, চুকে গেল। কিন্তু সমস্যাটা কী জানো– একবার দেবে, দু’বার দেবে, তারপর আর দিতে পারবে না। বরং শিক্ষা দাও ওদের। ওদের ঠিক করে শিক্ষা দিলে ওরা নিজেরাই নিজের পাউরুটি আর জেলি জোগাড় করে নিতে পারবে। আমার কাছে ওটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ!
  • আমি বর্তমানে একটি বিখ্যাত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে একজন ফেলো হিসেবে কর্মরত। এবং উপনিবেশবাদের এমন ঐতিহাসিক আছেন, যারা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার দুই জীবনেও জানার চেয়ে বেশি জানেন। কিন্তু এই বছর জুড়ে, যে বিষয়টি সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে এসেছে এবং যা সবাইকে বিব্রত করেছে, তা হলো, মনে হচ্ছে যেন আমাদের কোনো অস্তিত্বই নেই...

তার সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • গায়ত্রী খুবই বুদ্ধিমতী স্কলার। সারাজীবন ধরে পুরস্কারের মোহ ত্যাগ করেই গায়ত্রী কাজ করে গিয়েছেন।
    স্বীকৃতি তাঁর সেই কাজের জন্যই এসেছে। তাঁকে কখনও স্বীকৃতি বা পুরস্কারের পিছনে ছুটতে দেখিনি। ভালো লাগছে এ কথা ভেবে যে একজন যোগ্য মানুষের কাছেই এই স্বীকৃতি গিয়েছে।
  • উনি বাঙালি মেয়ে। তাই বাঙালি হিসেবে আমি খুবই গর্বিত। ওঁর পোস্ট কলোনিয়াল লিটারেচার, ডিকনস্ট্রাকশন, কালচারাল স্টাডিজ় এবং ফেমিনিজ়মের উপরে অসাধারণ সব কাজ রয়েছে।
  • এটা জেনে ভালো লাগছে যে যোগ্য একজন মানুষকেই এই স্বীকৃতির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
  • সমালোচনামূলক ব্যাখ্যার জন্য পাশ্চাত্য চিন্তার মূল ভাবনাকে গ্রহণ করেছেন স্পিভাক। কিন্তু তাঁর সমালোচনার অন্তরে রয়েছে ক্রমাগত প্রশ্ন করার অভ্যাস। আধুনিক বিশ্বের ভাবনার মূল কেন্দ্র ও প্রান্তসীমা, দু’টিকেই সমান ভাবে স্পর্শ করেছেন তিনি।
  • ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক ঐভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু ঐ উপমা, ঐ গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং ঐ বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন।
  • স্পিভাক বিস্ময়করভাবে এত বহুবিধ চিন্তাধারার অধিকারী এবং কোনো সংশ্লেষণ ছাড়াই বিভিন্ন ধারণাকে পাশাপাশি স্থাপন করতে এত আগ্রহী যে, কোনো প্রশ্নে তার সঠিক অবস্থান কোথায় তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন।
  • এডওয়ার্ড সৈয়দ, হোমি ভাবা এবং গায়ত্রী স্পিভাকের মতো প্রচলিত উত্তর-ঔপনিবেশিক ত্রয়ীর পাশাপাশি আরও অনেক পূর্বসূরি রয়েছেন। ওঁরা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমাদের ফ্রাঞ্জ ফানোঁ, আইমে সেসেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বদেরও স্মরণ করতে হবে।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]