বিষয়বস্তুতে চলুন

গোলাম আযম

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
পূর্ব পাকিস্তানে জামাতে ইসলামের কর্মীরা বেশিরভাগ রেজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী গঠন করে মুক্তিবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করছে এবং প্রাণ দিচ্ছে। এখানে জামাতের অবদানই বেশি সুতরাং পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হলে জামায়েত থেকেই হতে হবে।
— গোলাম আযম

অধ্যাপক গোলাম আযম (৭ নভেম্বর ১৯২২ – ২৩ অক্টোবর ২০১৪) ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর একজন রাজনীতিবীদ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দন্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী। তিনি ২০০০ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন। গোলাম আযম ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি ২০০০ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • পূর্ব পাকিস্তানে জামাতে ইসলামের কর্মীরা বেশিরভাগ রেজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী গঠন করে মুক্তিবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করছে এবং প্রাণ দিচ্ছে। এখানে জামাতের অবদানই বেশি সুতরাং পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হলে জামায়েত থেকেই হতে হবে।
    • বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস, চতুর্থ খন্ড, মুক্তিযুদ্ধ পর্ব [১]
  • দুষ্কৃতিকারীদের (মুক্তিযুদ্ধাদের) মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে দেশের আদর্শ ও সংহতিতে বিশ্বাসী লোকদের হাতে অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য আবেদন করছি।
    • দৈনিক সংগ্রাম, ১৯৭১ [২]
  • তথাকথিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকারীরা ইসলাম ও পাকিস্তানের শত্রু।
    • "মাওলানা মাদানীর শাহাদত মুসলমানদের সচেতন করার জন্য যথেষ্ট - গোলাম আযম"। দৈনিক সংগ্রাম। আগস্ট ১২, ১৯৭১।
  • ২৫ মার্চের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা ছিল এদেশের মাটিকে রক্ষা করার জন্য। এর আগেই অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল না কি’?
    • লাহোরের সাপ্তাহিক জিন্দেগীকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে। [৩]
  • পাকিস্তান যদি না থাকে তাহলে জামাত কর্মীদের দুনিয়ায় বেঁচে থেকে লাভ নাই।
    • দৈনিক সংগ্রাম, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ [৪]
  • বাংলাদেশ নামের কিছু হলে আমি আত্মহত্যা করবো।
    • ১৯৭১ সালে গোলাম আযম বলেছিলেন। (নাগরিকত্ব মামলার শুনানিতে এটর্নি জেনারেল/ ভোরের কাগজ, ৯ মে ১৯৯৪) [৫]
  • তোমরা অভ্যন্তরীণ দুশমনদের দমন করার কাজে যত তাড়াতাড়ি এগিয়ে আসতে পারবে, ততই তাড়াতাড়ি সেনাবাহিনী দেশকে শত্রুমুক্ত করার কাজে ফিরে যেতে পারবে।
    • ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ এ মোহাম্মদপুরে ফিজিক্যাল ট্রেইনিং কলেজে আলবদর হেড কোয়ার্টারে এবং রাজাকার বাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবির পরিদর্শনকালে রাজাকার ও আলবদরদের উদ্দেশে। [৬]
  • দুষ্কৃতকারীরা (মুক্তিযুদ্ধারা) এখনও ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত রয়েছে। ত্রাস সৃষ্টি এবং বিশৃংখলা অব্যাহত রাখাই তাদের উদ্দেশ্য। দুষ্কৃতকারীরা নকশালপন্থী ও বামপন্থী শক্তি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। জনগণ পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীকে পূর্ণ সাহায্য সহযোগিতা দানে ইচ্ছুক, কিন্তু জীবন নাশের জন্য দুষ্কৃতকারী হুমকি দেয়ায় তারা এ ব্যাপারে পূর্ণ সাহায্য দান করতে পারছে না।
    • ১৮ জুন লাহোর বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে [৭]
  • জামায়াতের কর্মীরা শাহাদাৎবরণ করে পাকিস্তানের দুষমনদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা মরতে রাজী তবুও পাকিস্তানকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করতে রাজী নয়।
    • ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। হোটেল এম্পায়ারে ঢাকা শহর জামায়াত কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। (দৈনিক পাকিস্তান, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১) [৮]
  • বিচ্ছিন্নতাবাদীরা জামায়াতকে মনে করতো পহেলা নম্বরের দুশমন। তারা তালিকা তৈরি করেছে এবং জামায়াতের লোকদের বেছে বেছে হত্যা করছে, তাদের বাড়িঘর লুট করছে জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। এতদসত্বেও জামায়াত কর্মীরা রাজাকারে ভর্তি হয়ে দেশের প্রতিরক্ষায় বাধ্য। কেননা তারা জানে 'বাংলাদেশ' ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কোন স্থান হতে পারে না। জামায়াত কর্মীরা শহীদ হতে পারে কিন্তু পরিবর্তিত হতে পারে না।
    • ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংগ্রামে গোলাম আযমের পশ্চিম পাকিস্তান সফরকালের একটি সাক্ষাৎকারে।
    • Ghulam Azam calls for an all out war". The Pakistan Observer. November 26, 1971.
  • জামায়াতে ইসলামী এবং মাও. মওদূদী এক ও অভিন্ন। মানবজাতির পথ নির্দেশিকার জন্যে যে কুরআন নাজেল হয়েছিল তাকে বর্তমান যুগোপযোগীরূপে উপস্থাপন করেছেন মাও. মওদূদী। কাজেই ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার ইচ্ছে থাকলে অবশ্যই মাও. মওদূদীর বইপত্র পড়তে ও বুঝতে হবে।
    • দৈনিক ইনকিলাব, ০১ অক্টোবর ১৯৯১
  • বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান লাভ করেছে। এ বিষয়ে তার অবদানকে অস্বীকার করার সাধ্য কারো নেই। ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপে যে পদ্ধতিতে দেশটি স্বাধীন হয়েছে আমার ধারণা যে, তিনি এভাবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করেননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশকে পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে বিচ্ছিন্ন করতে অবশ্যই সচেষ্ট হতেন। সে উদ্দেশ্যেই তিনি ‘৭০ সালেই পূর্ব-পাকিস্তানের বদলে বাংলাদেশ নামকরণ করেন। তাই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধান স্থপতি হিসেবে ইতিহাস শেখ মুজিবুর রহমানকেই স্বীকৃতি দেবে।
    • জীবনে যা দেখলাম, কামিয়াব প্রকাশন লিমিটেড, প্রথম প্রকাশ: মে, ২০০৭, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ১৮৩

গোলাম আযম সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • তিনি (গোলাম আযম) সর্বদা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছেন এবং এখনো করছেন; বিশেষ করে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৮ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সশরীরে উপস্থিত থেকে, বক্তৃতা ও আলোচনার মাধ্যমে, স্মারকলিপি ও বিবৃতির দ্বারা, মুদ্রিত ও প্রকাশিত প্রচারপত্র ও প্রবন্ধের মধ্য দিয়ে এবং সাংগঠনিক উদ্যোগ গ্রহণ করে নিজে এবং অপরের দ্বারা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে দুর্বল ও সহায়হীন, বিচ্ছিন্ন ও বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করেছেন। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে এতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
    • আনিসুজ্জামান, ১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে উত্থাপন করা অভিযোগনামায়। [৯]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]