বিষয়বস্তুতে চলুন

গৌতম ভদ্র

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

গৌতম ভদ্র (জন্ম: ১৯৪৮) হলেন একজন খ্যাতনামা ভারতীয় বাঙালি ইতিহাসবেত্তা ও প্রাবন্ধিক, যিনি দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর-ঔপনিবেশিকতাবাদ এবং তৎপরবর্তী সময়ের সাবঅল্টার্ন (মার্কসীয় তত্ত্বে প্রতিশব্দ নিম্নবর্গ) স্টাডিজ গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • গায়ত্রী খুবই বুদ্ধিমতী স্কলার। সারাজীবন ধরে পুরস্কারের মোহ ত্যাগ করেই গায়ত্রী কাজ করে গিয়েছেন।
    স্বীকৃতি তাঁর সেই কাজের জন্যই এসেছে। তাঁকে কখনও স্বীকৃতি বা পুরস্কারের পিছনে ছুটতে দেখিনি। ভালো লাগছে এ কথা ভেবে যে একজন যোগ্য মানুষের কাছেই এই স্বীকৃতি গিয়েছে।
  • গত শতকের পঞ্চাশের দশকে বড় হওয়া রেডিয়োখোর পাঠক আমি। দারা শুকো, আওরঙ্গজেব ও শাহজাহানের উপরে বই পড়ব, আর কানের কাছে অহীন্দ্র চৌধুরীর গলায় শাহজাহানের সংলাপ আর সরযূবালার গলায় জাহানারার ডায়লগ বাজবে না, এমন হওয়াটা মুশকিল।
  • শক্তি চট্টোপাধ্যায় ঘুরতে ঘুরতে এক বার কেওড়াতলার ঠেকে এসেছিলেন, পাড়ার ছেলেরা ভাল চাটের ঘুগনি দেয়, শক্তিও কৃতজ্ঞতার দায়ে পড়ে আবৃত্তি করলেন ‘অবনী বাড়ি আছ?’ ছেলেরা শ্রদ্ধায় হতবাক, কেবল কেওড়াতলা মোড়ের এক নম্বর বাড়িটার বাসিন্দা, পিপিএফ-এর একনিষ্ঠ সমর্থক বকেয়া ধরা গলায় বলেছিল, ‘এত বার ডাকলেন, হারামি সাড়াই দিল না।’
  • নিধিরামদের কাছে অতীত মাঝে মাঝেই ফিরে বর্তমান হয়ে ওঠে। ছত্রধর মাহাতো, রাজা সরখেলের মতো গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার কর্মীরা আজও জেলে, শত প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও নয়া জমানার সরকার তাদের জামিনে ছাড়া দিতেও নারাজ, ফলে একটার পর একটা সাজানো মামলায় বেকসুর ছাড়া পেয়ে আইনি প্যাঁচে তারা জেলে। বিপরীতে পুলিশ পিটিয়ে বা জঘন্য প্ররোচনামূলক হুমকি দিয়ে শাসক দলের প্রতিনিধিরা প্রশাসনিক মদতে তাঁদের রাজ্যপাট চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক বন্দির অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য আইন হয়েছে, রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কাজকর্ম আপাতত ঠান্ডাঘরে। এই সব অবশ্য ছোট ঘটনা। তবে নন্দীগ্রাম গণ-আন্দোলন দমনে পুলিশ পাঠানো ও গুলিচালানোর নৈতিক দায়িত্ব বর্তেছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উপর। তিনিই তখন পুলিশমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক সেই যুক্তিতেই ছাত্রছাত্রী ধরনার উপর রোবট-সদৃশ কমান্ডো-বাহিনী পাঠিয়ে নিগ্রহ করার নৈতিক দায়িত্ব একদা ছাত্রছাত্রী আন্দোলনের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরই বর্তায়। তিনিই বর্তমানে একাধারে পুলিশমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী। সে-দিন রাজপথের পরিসরে স্লোগানের শব্দটি স্পষ্ট শুনেছিলাম, ‘সামনে শত্রু কালীঘাট’।

কথকতার নানা কথা

[সম্পাদনা]

https://www.ebanglalibrary.com/lessons/কথকতার-নানা-কথা-গৌতম-ভদ্র/

  • বাংলাদেশে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে কথকদের বোলবোলা ছিল বলেই মনে হয়। সুরধুনী কাব্যে গঙ্গা-প্রবাহের যাত্রাপথের সঙ্গে সঙ্গে দীনবন্ধু মিত্র বিখ্যাত জায়গা ও তাদের খ্যাতির কারণ বলছেন। তাঁর মতে, বাঁশবেড়িয়া (বংশবাটি) বা ভাটপাড়ার খ্যাতির পিছনে আছেন শ্রীধর কথক বা রামধন ‘কথকরতন’। অপরপক্ষে তর্কযুদ্ধে অবতীর্ণ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রতিপক্ষদের জব্দ করতে কৃষ্ণহরি শিরোমণি নামে কথক চূড়ামণি সম্পর্কে চালু লোকগল্পকে মোক্ষম অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন। গৌড়দেশ-খ্যাত কথকদের জন্ম ও কৃতি এই সময়কালে আবদ্ধ।
    • কথকের জন্ম: পাঠ থেকে ‘কথা’
  • উনিশ শতকের প্রথমার্ধের নামকরা কথক শ্রীধর ও রামধন শিরোমণি। তাঁদের জীবনীর তথ্য বিচার করলে কথক তৈরি হবার একটা ছক পাওয়া যায়। জীবনীগুলি মৃত্যুর পর লিখিত, পারিবারিক আত্মীয়দের কাছ থেকে সরেজমিন তদন্তে সংগৃহীত। ব্যক্তি বিশেষে তথ্যের হেরফের হতে পারে কিন্তু ঊনিশ শতকের আদর্শ কথক চরিত্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংগৃহীত সাক্ষ্যগুলির ঐতিহাসিক তাৎপর্য অনস্বীকার্য।
    • কথকের জন্ম: পাঠ থেকে ‘কথা’
  • সময়মাফিক আসর নানা রকম হতে পারত: বৈঠকী আসর, একদিনের কথা বা মাসাধিক পাঠ।
    আয়োজন বা দক্ষিণাও সেই অনুযায়ী হত। কথকদের অবশ্য আসর পাবার জন্য চুক্তি করতে হত, চুক্তির খেলাপ হলে আসর হাত ছাড়া হবার সম্ভাবনা ছিল।
    • কথকতার পেশা: পোষ্টা ও প্রণামী
  • কথকতা প্রসঙ্গে আমেরিকার পণ্ডিতদের বক্তব্যের সঙ্গে বৈমত্য আছে। সমাজে কিছু লোক সব সময় ওঠে, কিছু লোক সবসময় পড়ে। প্রকৃতপক্ষে, ওঠা-পড়া, পোষ্টাদের খাই, উচ্চবর্ণের সংস্কৃতির অনুবৃত্তি, কোনওটাই নির্দিষ্ট শিল্পের প্রতি সামাজিক আনুকূল্য বা উদাসীনতার ‘করণ’ হতে পারে না। শিল্পের নিজস্ব ভূমিকা আছে, শ্রোতাদের রুচি ও রসবোধ আছে।

    সংস্কৃতায়ন ও পোষ্টাদের সামাজিক বিবর্তনের ছকের বিচারে শিল্পরীতির নিজস্ব সামাজিক ভূমিকা এবং শ্রোতাদের রুচি ও রসবোধের পরিবর্তনের সমস্যা একদম আমল পায় না। গোষ্ঠীর ওঠানামার সমান্তরাল প্রতিফলন বলে বিবেচিত হয় কথকদের পেশার জোয়ার-ভাটা।
    • জনপ্রিয়তার পট পরিবর্তন: একটি বিতর্ক
  • যে কোনও যুগে শাসক শ্রেণীর চিন্তাধারা সামগ্রিকভাবে সমাজে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে, মার্কসের এই উক্তি মান্য। আমাদের আজকের সমাজেও ডাক্তার, আইনজীবী, বিজ্ঞানী ও কবিরা বুর্জোয়াদের বেতনভুক, এই দামি কথাটাও মার্কস বলে গেছেন। বেশির ভাগ ব্রাহ্মণ ব্রহ্মোত্তর, দেবোত্তর জমি ভোগ করেন। জমিদার বাড়ির ডাকা আসরে তাঁরা কথক। পালার অন্যতম উৎস ব্রাহ্মণদের লেখা পৌরাণিক আখ্যান। বৌদ্ধিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের নিগড় কোথায় বাঁধা, সেইটা বুঝতে কোনও অসুবিধা নেই।
    • কথকতার সামাজিকতা: লোকশিক্ষার চরিত্র বিচার
  • কাব্যরসের আধার কবিও নন, কাব্যও নয়, সহৃদয় পাঠকের মন। সঙ্গীত ও অভিনয় প্রসঙ্গেও একই কথা প্রযোজ্য।
    • শ্রোতার জগৎ

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]