বিষয়বস্তুতে চলুন

গ্রেগর মেন্ডেল

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
খ্রিস্টের বিজয় আমাদের জন্য পরম করুণাস্বর্গরাজ্য বয়ে এনেছে।

গ্রেগর ইয়োহান মেন্ডেল (২০ জুলাই ১৮২২ – ৬ জানুয়ারি ১৮৮৪) ছিলেন একজন আবহাওয়াবিদ, গণিতবিদ, জীববিজ্ঞানী এবং অগাস্টিনিয়ান সন্ন্যাসী। তিনি সেন্ট টমাস অ্যাবের মঠাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মেন্ডেল অস্ট্রীয় সাম্রাজ্যের (বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্র) সাইলেসিয়া অঞ্চলের একটি জার্মানভাষী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আধুনিক বংশগতিবিদ্যার জনক হিসেবে তিনি মরণোত্তর স্বীকৃতি লাভ করেন। প্রাণিকুল ও উদ্ভিদের সংকরায়ণ করলে নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে ছড়ায় তা কৃষকরা হাজার বছর ধরে জানতেন। তবে ১৮৫৬ থেকে ১৮৬৩ সালের মধ্যে মেন্ডেলের করা মটরশুঁটি গাছের পরীক্ষাগুলো বংশগতির অনেকগুলো নিয়ম প্রতিষ্ঠা করে। এগুলো এখন মেন্ডেলীয় বংশগতির সূত্র হিসেবে পরিচিত।

উক্তি

[সম্পাদনা]

উদ্ভিদ সংকরায়ণ নিয়ে পরীক্ষা (১৮৬৫)

[সম্পাদনা]
  • নতুন ধরনের রঙের বৈচিত্র্য পাওয়ার জন্য আলংকারিক উদ্ভিদে কৃত্রিম পরাগায়ন করার অভিজ্ঞতা থেকে এই পরীক্ষার ধারণা এসেছে। একই প্রজাতির মধ্যে পরাগায়নের ফলে প্রতিবার একই ধরনের সংকর রূপ ফিরে আসায় আমি আরও পরীক্ষা করতে উৎসাহিত হই। এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল বংশধরদের মধ্যে সংকরের বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা।
    • [১] সূচনামূলক বক্তব্য
  • চাষাবাদের ফলে নতুন বৈচিত্র্য তৈরি হওয়া এবং মানুষের পরিশ্রমে অনেক বৈচিত্র্য টিকে থাকা সম্ভব হয়, যা প্রাকৃতিক পরিবেশে হয়তো হারিয়ে যেত। তবে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে বৈচিত্র্য তৈরির প্রবণতা এত বেশি বৃদ্ধি পায় যে প্রজাতিগুলো খুব দ্রুত তাদের স্থিতিশীলতা হারায় এবং তাদের বংশধরেরা অসংখ্য পরিবর্তনশীল রূপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যদি পরিবেশের পরিবর্তনই বৈচিত্র্যের একমাত্র কারণ হতো, তবে যেসব চাষাবৃত উদ্ভিদ শত শত বছর ধরে প্রায় একই পরিবেশে বেড়ে উঠছে, তারা আবারও একটি স্থিতিশীল রূপ ধারণ করত।
    • [১০] উদ্ভিদের অন্যান্য প্রজাতির সংকর নিয়ে পরীক্ষা
  • সংকরায়ণের ফলাফল দেখে কার্ল ফ্রেডরিখ ফন গার্থনার ওইসব প্রকৃতিবিদদের বিরোধিতা করেছেন যারা উদ্ভিদ প্রজাতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং উদ্ভিদের অবিরাম বিবর্তনে বিশ্বাস করেন। তিনি একটি প্রজাতির অন্যটিতে সম্পূর্ণ রূপান্তরকে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দেখেন যে, প্রজাতিগুলো নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্থির থাকে এবং এই সীমার বাইরে তারা পরিবর্তিত হতে পারে না।
    • [১১] সমাপনী বক্তব্য

কার্লকে লেখা চিঠি

[সম্পাদনা]
  • আমি মনে করি মটরশুঁটি গাছের সংকর বংশধরদের মধ্যে পিতামাতার বৈশিষ্ট্যের বিভাজন সম্পূর্ণ এবং স্থায়ী। সংকর বংশধরেরা হয় পিতামাতার কোনো একটি বৈশিষ্ট্য অথবা উভয়ের সংকর রূপ বহন করে। আমি পিতামাতার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন বা কোনো একটি বৈশিষ্ট্যের দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার ঘটনা কখনো দেখিনি। বিকাশের প্রক্রিয়াটি খুব সহজ; প্রতিটি প্রজন্মে পিতামাতার দুটি বৈশিষ্ট্য আলাদা এবং অপরিবর্তিতভাবে প্রকাশিত হয়। একটি বৈশিষ্ট্য অন্যটির কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করেছে বা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে—এমন কোনো ইঙ্গিত সেখানে নেই।
    • ১৮ এপ্রিল ১৮৬৭
  • এটি চার্লস ভিক্টর নৌডিন এবং ডারউইনের মতামতের সাথে সম্পর্কিত যে, ডিম্বাণু নিষেকের জন্য একটি মাত্র পরাগরেণু যথেষ্ট নয়। আমি নৌডিনের মতো মিরাবিলিস জালাপ্পা (সন্ধ্যামালতী) গাছ ব্যবহার করেছি। তবে আমার পরীক্ষার ফলাফল সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি মাত্র পরাগরেণু দিয়ে নিষেকের ফলে আমি ১৮টি সুগঠিত বীজ এবং তা থেকে সমান সংখ্যক চারাগাছ পেয়েছি, যার মধ্যে ১০টি ইতোমধ্যে ফুল দিয়েছে।
    • চিঠি ৮, ৩ জুলাই ১৮৭০
  • গত বছর ম্যার্থিওলা অ্যানুয়া, জিয়া (ভুট্টা) এবং মিরাবিলিস নিয়ে আগের বছরের পরীক্ষাগুলো শেষ হয়েছে। এগুলোর সংকরগুলো মটরশুঁটি গাছের মতোই আচরণ করে। ডারউইন অন্যদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তাঁর 'দ্য ভ্যারিয়েশন অব অ্যানিম্যালস অ্যান্ড প্ল্যান্টস আন্ডার ডোমেস্টিকেশন' বইতে সংকর প্রজাতি সম্পর্কে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তা অনেক ক্ষেত্রে সংশোধন করা প্রয়োজন।
    • চিঠি ৮, ৩ জুলাই ১৮৭০ (এখানে মেন্ডেল ডারউইনের বংশগতি সংক্রান্ত পুরনো ও ভুল ধারণার দিকে ইঙ্গিত করেছেন)।

ইস্টার উপলক্ষে ধর্মোপদেশ

[সম্পাদনা]
১৮৬৭ সালে মঠাধ্যক্ষ হওয়ার পর মেন্ডেলের দেওয়া একটি ধর্মোপদেশ থেকে নেওয়া অংশ। এটি ১৯৬৬ সালে ব্রুনোর মোরাভিয়ান মিউজিয়ামের 'ফোলিয়া মেন্ডেলিয়ানা' নামক সংকলনে প্রকাশিত হয়।
  • পুনরুত্থানের পর যিশু বিভিন্ন রূপে শিষ্যদের দেখা দেন। তিনি মেরি ম্যাগডালিনের কাছে মালি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। যিশুর এই প্রকাশ আমাদের বুদ্ধির কাছে বোঝা খুব কঠিন। তিনি মালি হিসেবে আসেন। মালি প্রস্তুত করা মাটিতে চারা রোপণ করেন। চারা বৃদ্ধির জন্য মাটিতে ভৌত ও রাসায়নিক প্রভাব থাকতে হয়। তবে এটিই যথেষ্ট নয়। চারা বড় হওয়ার জন্য বৃষ্টির পাশাপাশি সূর্যের তাপ ও আলোর প্রয়োজন। অলৌকিক জীবন এবং পবিত্র করুণার বীজ মানুষকে পাপমুক্ত করে এবং মানুষের আত্মাকে প্রস্তুত করে। মানুষের উচিত তার ভালো কাজের মাধ্যমে এই জীবন রক্ষা করা। জীবন পূর্ণতা লাভের জন্য মানুষের আধ্যাত্মিক খাদ্যের প্রয়োজন। তাই মানুষের পবিত্রতা অর্জনে প্রাকৃতিক ও অলৌকিক শক্তির মিলন ঘটাতে হবে। মানুষকে তার সামান্যতম পরিশ্রমটুকু করতে হবে এবং ঈশ্বর তাতে সফলতা দেবেন। প্রকৃতপক্ষে বীজের প্রতিভা এবং ঈশ্বরের করুণা সেখানে আছে। মানুষকে শুধু পরিশ্রম করতে হবে এবং বীজগুলো ব্যাংকারের কাছে নিয়ে যেতে হবে, যাতে আমরা "প্রচুর পরিমাণে জীবন পেতে পারি"।
    • মেন্ডেল এখানে বাইবেলের বিভিন্ন আয়াতের উল্লেখ করেছেন।

মেন্ডেল সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • যেসব অনুসন্ধান আগে কেবল কল্পনা করা হতো, এখন তা সহজে করা সম্ভব। এখন বিভিন্ন জাতের জিনগত আন্তঃসম্পর্ক এবং গঠন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া যাচ্ছে। মেন্ডেলীয় পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা বা ভবিষ্যৎ প্রসার যাই হোক না কেন, এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে আমরা এখন জীবন্ত প্রাণীর বিশ্লেষণ শুরু করার এবং তাদের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকারী এককগুলো চিনে নেওয়ার উপায় খুঁজে পেয়েছি। সংক্ষেপে, মেন্ডেলীয় পদ্ধতির মূল নির্যাস হলো একক বৈশিষ্ট্য বা ফ্যাক্টরের অস্তিত্ব আবিষ্কার করা।
  • অগাস্টিনিয়ান সন্ন্যাসী গ্রেগর মেন্ডেলের (১৮২২–১৮৮৪) আবিষ্কারের মাধ্যমেই আধুনিক বংশগতিবিদ্যার জন্ম হয়েছে। তিনি ব্র্নো শহরের উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাকৃতিক বিজ্ঞান পড়াতেন। মেন্ডেলের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল উচ্চতা বা ওজনের মতো অবিরাম পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের বদলে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট বৈশিষ্ট্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। মেন্ডেল মটরশুঁটি গাছ নিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন এবং বীজের আকার মসৃণ নাকি কুঞ্চিত, ফুলের রং লাল নাকি সাদা এবং ফলের রং হলুদ নাকি সবুজ—এসব সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। মেন্ডেল খুব সহজে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' দিয়ে উত্তর দিতে পারতেন যে কোনো চারা তার পিতামাতার কাছ থেকে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য পেয়েছে কি না। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলোই মেন্ডেলীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত।
    • ডেভিড পি ক্লার্ক, ২০১০।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]