ঘাস
অবয়ব

সবুজ ফড়িং লাফিয়ে আসে,
আমার মনের চপল ফড়িং
ঘুরছে তাহার আশে-পাশে।
—সুনির্মল বসু
ঘাস বা তৃণ হলো একবীজপত্রী তৃণজাতীয় উদ্ভিদ, যার গোড়া থেকে সরু পাতা গজায়। বিভিন্ন ধরনের ফসল যেমন ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি ঘাস বা তৃণ জাতীয় উদ্ভিদ। যতো রকম গাছ আছে তার ভেতর ঘাসের ভূমিকাই প্রাণিদের জীবনে সবচেয়ে বেশি। জলে, ডাঙ্গায়, পাহাড়, মরু অঞ্চল সব জায়গাতেই ঘাস দেখতে পাওয়া যায়। এমনকি বরফে ঢাকা তুন্দ্রা অঞ্চলও ঘাস জন্মে। পৃথিবীর সমগ্র সবুজ অঞ্চলের প্রায় শতকরা ২০ভাগ ঘাস দিয়ে আবৃত। এ যাবৎ প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির ঘাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
উক্তি
[সম্পাদনা]- ঘাসের বনে আনন্দে আজ
সবুজ ফড়িং লাফিয়ে আসে,
আমার মনের চপল ফড়িং
ঘুরছে তাহার আশে-পাশে।- সুনির্মল বসু, সবুজ-ফড়িং, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২০
- সুন্দরভাবে ছাঁটা সবুজ ঘাসের চেয়ে চোখের জন্য মনোরম আর কিছুই নেই।
- ফ্রান্সিস বেকন, প্রবন্ধ (১৬২৫), অফ গর্ডেন
- আমারো ইচ্ছা করে এই ঘাসের ঘ্রাণ হরিৎ মদের মতো
গেলাসে-গেলাসে পান করি,
এই ঘাসের শরীর ছানি– চোখে চোখ ঘষি,
ঘাসের পাখনায় আমার পালক,
ঘাসের ভিতর ঘাস হ’য়ে জন্মাই কোনো এক নিবিড় ঘাস-মাতার
শরীরের সুস্বাদ অন্ধকার থেকে নেমে।- জীবনানন্দ দাশ, ঘাস, জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- নাভানা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬-৬৭
- এসেছে শরৎ, হিমের পরশ
লেগেছে হাওয়ার ’পরে।
সকাল বেলায় ঘাসের আগায়
শিশিরের রেখা ধরে।- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চিত্রবিচিত্র - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫
- সেপটিক ট্যাংকের ওপরের ঘাস সবসময়ই বেশি সবুজ মনে হয়।
- এরমা বোমবেক, টাইটেল অফ বুক (১৯৭৬)।
- হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপ্সার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা বায়;—- জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪
- প্রিয়, আজই পাতা আর ঘাস সংগ্রহ করো;
কারণ শরৎকাল
শীঘ্রই বিদায় নেবে।
হাড় কাঁপানো বাতাস বইছে।
শীঘ্রই বরফ পড়বে।- জন হেনরি বোনার , গেদার লিভস অ্যান্ড গ্রাসেস, বার্টলেট'স ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস, ১০ম সংস্করণ (১৯১৯)-এ উল্লিখিত
- পক্ষীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এড়াইয়া জীবিত থাকিবার জন্যই ঘাসের ভিতরকার ফড়িঙের রঙ্ সবুজ এবং শুষ্ক তৃণমধ্যস্থ ফড়িঙের রঙ্ পাটল হইয়াছে।
- জগদানন্দ রায়, প্রকৃতির বর্ণ-বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিকী- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬৫
- গাছকে দেখে আমি ধৈর্যের অর্থ বুঝি। ঘাসকে দেখে আমি অধ্যবসায়ের কদর করতে পারি।
- হাল বোরল্যান্ড, কান্ট্রিম্যান: এ সামারি অফ বিলিফ
- এ গ্রামের পাশে মজা নদী বারো মাস
বর্ষায় আজ বিদ্রোহ বুঝি করে,
গোয়ালে পাঠায় ইশারা সবুজ ঘাস
এ গ্রাম নতুন সবুজ ঘাগরা পরে।- সুকান্ত ভট্টাচার্য, চিরদিনের, সুকান্ত সমগ্র, প্রকাশক- সারস্বত লাইব্রেরী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৯
- এই পৃথিবীতে এমন একটিও ছোট্ট ঘাসের ডগা নেই, এমন কোনো রঙ নেই যা মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য নয়।
- জন ক্যালভিন, টমাস এফ. টিয়ারনি-র দ্য ভ্যালু অফ কনভিনিয়েন্স: জিনোলজি অফ টেকনিক্যাল কালচার (১৯৯৩), পৃষ্ঠা ১২৮
- খায় না সে দানাপানি—ঘাস পাতা বিচালি,
খায় না সে ছোলা ছাতু ময়দা কি পিঠালি;- সুকুমার রায়, ট্যাঁশ্ গরু, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২
- কতরকম লোক আসত, কত রকম কাণ্ড হত ওই বারান্দায়। একবার মাইক্রসকোপ এসেছে বিলেত থেকে, প্যাকিং বাক্স খোলা হচ্ছে। কি ঘাস দিয়ে যেন তারা প্যাক করে দিয়েছে, বাক্স খোলা মাত্র বারান্দা সুগন্ধে ভরপুর। ‘কি ঘাস, কি ঘাস’, বলে মুঠো মুঠো ঘাস ওখানে যারা ছিলেন সবাই পকেটে পুরলেন, বাড়ির ভিতরেও গেল কিছু, মেয়েদের মাথা ঘষার মসলা হবে। মাইক্রসকোপ রইল পড়ে, ঘাস নিয়েই মাতামাতি, দেখতে দেখতে সব ঘাস গেল উড়ে। আমিও এক ফাঁকে একটু নিলুম, বহুদিন অবধি পকেটে থাকত হাতের মুঠোয় নিয়ে গন্ধ শুঁকতুম।
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জোড়াসাঁকোর ধারে, জোড়াসাঁকোর ধারে- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৭
- যদি সিমেন্টের মধ্য দিয়েও ঘাস গজাতে পারে, তবে ভালোবাসা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আপনাকে খুঁজে নিতে পারে।
- শের (শেরিলিন সার্কিসিয়ান), দ্য টাইমস- এ উদ্ধৃত, ৩০ মে ১৯৯৮
- আমি এ ঘাসের বুকে শুয়ে থাকি—শালিখ নিয়েছে নিঙড়ায়ে
নরম হলুদ পায়ে এই ঘাস; এ সবুজ ঘাসের ভিতরে
সোঁদা ধুলো শুয়ে আছে—কাঁচের মতন পাখা এ ঘাসের গায়ে
ভেরেণ্ডাফুলের নীল ভোমরারা বুলাতেছে—শাদা স্তন ঝরে
করবীর: কোন্ এক কিশোরী এসে ছিঁড়ে নিয়ে চ’লে গেছে ফুল,
তাই দুধ ঝরিতেছে করবীর ঘাসে ঘাসে: নরম ব্যাকুল।- জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮
- পৃথিবীতে প্রতিটি ঘাসের পাতারই একটি নির্দিষ্ট স্থান আছে, যেখান থেকে সে তার জীবন ও শক্তি আহরণ করে; তেমনি মানুষও সেই ভূমিতে প্রোথিত, যেখান থেকে সে তার জীবনের পাশাপাশি বিশ্বাসও আহরণ করে।
- জোসেফ কনরাড, লর্ড জিম, অধ্যায় ২১
- মৌমাছি সে গুনগুনিয়ে
খুঁজে বেড়ায় কা’কে,
ঘাসের মধ্যে ঝিঁঝিঁ করে
ঝিঁঝিঁ পোক ডাকে।- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাত ভাই চম্পা, কড়ি ও কোমল-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- পীপ্ল্স লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ (১২৯৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮১
- আপনি হয়তো পুরো বিশ্বকে অ্যাসফল্ট দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন, কিন্তু আজ হোক বা কাল হোক, সবুজ ঘাস ঠিকই বেরিয়ে আসবে।
- ইলিয়া এরেনবার্গ, প্যাট্রিসিয়া ব্লেক কর্তৃক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউ- তে লিখিত, ২২ অক্টোবর ১৯৬৭, পৃষ্ঠা ১
- বাবুই পাখির বাসা তোমরা অনেকেই দেখেছ বোধ হয়। কেমন সন্দর করে শুকনো ঘাস দিয়ে বুনে তার বাসাটি সে তৈরি করে। পাছে কোনো জন্ত বা সাপ বাসা আক্রমণ করে, সেইজন্য বাসায় ঢুকবার রাস্তা তলার দিকে।
- সুকুমার রায়, পাখির বাসা, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩২৩
- বেড়ার ওপারের ঘাস সবসময় বেশি সবুজ হয় না। আসলে, এর সাথে বেড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। যেখানে জল দেওয়া হয়, সেখানকার ঘাসই সবচেয়ে সবুজ হয়। বেড়া পার হওয়ার সময় সাথে জল রাখুন এবং যেখানেই থাকুন না কেন, সেখানকার ঘাসের যত্ন নিন।
- রবার্ট ফুলগাম, ইট ওয়াজ অন ফায়ার হোয়েন আই লে ডাউন অন ইট (১৯৮৮)
- মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার—চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান,
দেহের স্বাদের কথা কয়;
বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ্ট ক’রে দেবে তার সাধের সময়।
- সমস্ত প্রাণীই ঘাসের মতো, এবং তার সৌন্দর্য মাঠের ফুলের ন্যায়। ঘাস শুকিয়ে যায়, ফুল ঝরে যায়, কারণ প্রভুর আত্মা তার উপর দিয়ে বয়ে যায়; নিশ্চয়ই মানুষ ঘাসের মতো।
- কাব্যলোকে বাস না করলে বাস কি করব ইতিহাসলোকে, না দর্শনলোক, না ডাক্তারদের ছেঁড়া-খোঁড়ার শবলোকে? আর এ সব কোনও লোকেই যদি বাস না করি তবে তো নেমে আসবও সেই লোকে – গাধা গরু যেখানে ঘাস চিবোয় আর জাবর কাটে।
- সৈয়দ মুজতবা আলী, শবনম, দ্বিতীয় খণ্ড, অধ্যায় সাত, পৃ. ১০৮, ৬ষ্ঠ মুদ্রণ (২০০৮), স্টুডেন্ট ওয়েজ, ঢাকা
- আমরা ঘাস মাড়াই আর মে মাসের ফুলকে কদর করি,
অথচ ফুল ঝরে গেলেও ঘাস সবুজই থাকে।- রবার্ট সাউথওয়েল, স্কর্ন নট দ্য লিস্ট
- আমি এই অঘ্রাণেরে ভালোবাসি—বিকেলের এই রঙ—রঙের শূন্যতা
রোদের নরম রোম—ঢালু মাঠ—বিবর্ণ বাদামি পাখি—হলুদ বিচালি
পাতা কুড়াবার দিন ঘাসে-ঘাসে—কুড়ুনির মুখে তাই নাই কোনো কথা।- জীবনানন্দ দাশ, জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ (প্রথম খণ্ড) - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯১
- সকল ঘাস ধান হয় না। পৃথিবীতে ঘাসই প্রায় সমস্ত, ধান অল্পই। কিন্তু ঘাস যেন আপনার স্বাভাবিক নিস্ফলতা লইয়া বিলাপ না করে– সে যেন স্মরণ করে যে, পৃথিবীর শুষ্কধূলিকে সে শ্যামলতার দ্বারা আচ্ছন্ন করিতেছে, রৌদ্রতাপকে সে চিরপ্রসন্ন স্নিগ্ধতার দ্বারা কোমল করিয়া লইতেছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পনেরাে-আনা, বিচিত্র প্রবন্ধ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫
- একটি শিশু দু’হাত ভর্তি ঘাস আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “ঘাসটা কী?”
আমি শিশুটিকে কী উত্তর দেব? সে যেমন জানে না, আমিও তার চেয়ে বেশি জানি না।
আমার মনে হয়, এটা নিশ্চয়ই আমার স্বভাবের পতাকা, যা আশার সবুজ উপাদান দিয়ে বোনা।- ওয়াল্ট হুইটম্যান, লিভস অফ গ্রাস, সং অফ মাইসেলফ (৬) (১৮৫৫-১৮৮১)
- সবুজ ঘাসে রোদের পাশে আলোর কেরামতি,
রঙিন বেশে, রঙিন ফুলে রঙিন প্রজাপতি!- সুকুমার রায়, অন্ধ মেয়ে, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৯
- মহৎ ব্যক্তির গুণাবলী বাতাসের মতো; সাধারণ মানুষের গুণাবলী ঘাসের মতো—হাওয়া বয়ে গেলে ঘাস নুয়ে পড়ে।
- হেনরি ডেভিড থোরো, ওয়াল্ডেন (১৮৫৪), অধ্যায় ৮, দ্য ভিলেজ
- গাছের তাজ পাতা ও কচি ঘাস যে-সকল ফড়িঙের খাদ্য, তাহারা প্রায়ই সবুজ রঙের হয় এবং মাঠের শুক্নো ঘাস ও খড়ের মধ্যে যাহারা লুকাইয়া থাকে, তাহাদের রঙ্ মাটি ও শুক্নো ঘাসের রঙের মত হয়। পাখী ব্যাঙ্ প্রভৃতি প্রাণীরা ফড়িঙের পরম শত্রু। তাই ঘাস পাতার সঙ্গে রঙ্ মিলাইয়া ইহারা শত্রুদের ফাঁকি দেয়।
- জগদানন্দ রায়, ফড়িং, পোকা-মাকড়— জগদানন্দ রায়, প্রকাশক— ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল— ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১৮
- আমরা ধন্য হতাম যদি সর্বদা বর্তমানেই বাঁচতাম এবং আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি সুযোগের সদ্ব্যবহার করতাম, ঠিক যেন সেই ঘাসের মতো যা তার উপর পড়া সামান্যতম শিশিরের প্রভাবও স্বীকার করে নেয়।
- হেনরি ডেভিড থোরো, ওয়াল্ডেন (১৮৫৪), অধ্যায় ১৭, স্প্রিং
- অন্ধ মেয়ে দেখছে না তা— নাই-বা যদি দেখে—
শীতল মিঠা বাদল হাওয়া যায় যে তারে ডেকে!
শুনছে সে যে পাখির ডাকে হরষ কোলাকুলি
মিষ্ট ঘাসের গন্ধে তারও প্রাণ গিয়েছে ভুলি!- সুকুমার রায়, অন্ধ মেয়ে, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী, প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৯
- আমি বিশ্বাস করি, ঘাসের একটি পাতাও নক্ষত্রদের যাত্রাপথ থেকে কোনো অংশে কম নয়।
- ওয়াল্ট হুইটম্যান, লিভস অফ গ্রাস, সং অফ মাইসেলফ (৩১) (১৮৫৫-১৮৮১)
- তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষা গরু,
শিখিনি সিং বাঁকানো,
কেবল খাবো খোল, বিচিলি ঘাস্।৷
যেন রাঙা আমলা, তুলে মামলা,
গামলা ভাঙে না,
আমরা ভুসি পেলেই খুশি হব,
ঘুসি খেলে বাঁচব না।৷- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, নীলকর, কবিতাসংগ্রহ - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, সম্পাদনা- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ (১২৯২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০১
- দীর্ঘ দীর্ঘ ঘাসের বনের মধ্যে দিয়ে সুঁড়িপথ। আলভারেজ বল্লে—খুব সাবধান, এই সব ঘাসের বনেই সিংহের আড্ডা; বেশী পেছনে থেকো না। আলভারেজের বন্দুক আছে, এই একটা ভরসা।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪
- সে আমাকে বলেছিল বাঁধের উপর ঘাসের মতো জীবনটাকে সহজভাবে নিতে;
কিন্তু আমি ছিলাম তরুণ ও নির্বোধ, আর এখন আমার মন অশ্রুতে পূর্ণ।- উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস, ক্রসওয়েজ (১৮৮৯), "ডাউন বাই দ্য স্যালি গার্ডেনস"।
- উটের শরীরটিকে মরুভূমির উপযোগী করিয়াই গড়া হইয়াছে। চ্যাটাল চ্যাটাল পা, তার আষ্টেপৃষ্টে কড়ায় ঢাকা-ঝামা দিয়া ঘসিলেও তাহাতে ফোস্কা পড়ে না। ক্ষুধা নাই, তৃষ্ণা নাই—এক পেট ঘাস খাইয়া তিন দিন উপোস থাকে—এক ঢোক জল লইয়া সারাদিন পথ চলে।
- সুকুমার রায়, মরুর দেশে, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯
- অবশেষে সব কবরের উপরে ঘাস গজায়।
- জুলিয়া সিআর ডর, গ্রাস গ্রোন, হয়েটের 'নিউ সাইক্লোপিডিয়া অফ প্র্যাকটিক্যাল কোটেশনস' (১৯২২), পৃষ্ঠা ৩৩৬
- হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,
তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—
ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে।- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩
- জীবন অথবা মৃত্যু চোখে র’বে—আর এই বাংলার ঘাস
র’বে বুকে; এই ঘাস: সীতারাম রাজারাম রামনাথ রায়—
ইহাদের ঘোড়া আজো অন্ধকারে এই ঘাস ভেঙে চ’লে যায়—
এই ঘাস: এরি নিচে কঙ্কাবতী শঙ্খমালা করিতেছে বাস:
তাদের দেহের গন্ধ, চাঁপাফুল মাখা ম্লান চুলের বিন্যাস
ঘাস আজো ঢেকে আছে;- জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮
- মনুষ্যেরা ফল মূল লতা গুল্মাদি ভোজন করে বটে, কিন্তু ঘাস খায় কি না, বলিতে পারি না। কখন কোন মনুষ্যকে ঘাস খাইতে দেখি নাই। কিন্তু এ বিষয়ে আমার কিছু সংশয় আছে। শ্বেতবর্ণ মনুষ্যেরা এবং কৃষ্ণবর্ণ ধনবান্ মনুষ্যেরা বহুযত্নে আপন আপন উদ্যানে ঘাস তৈয়ার করে। আমার বিবেচনায় উহারা ঐ ঘাস খাইয়া থাকে। নহিলে ঘাসে তাহাদের এত যত্ন কেন? এরূপ আমি একজন কৃষ্ণবর্ণ মনুষ্যের মুখে শুনিয়াছিলাম। সে বলিতেছিল, ‘দেশটা উচ্ছন্ন গেল—যত সাহেব সুবো বড় মানুষে বসে বসে ঘাস খাইতেছে।’ সুতরাং প্রধান মনুষ্যেরা যে ঘাস খায়, তাহা এক প্রকার নিশ্চয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ব্যাঘ্রাচার্য্য বৃহল্লাঙ্গুল, লোকরহস্য-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
- এক দেশে হোক বা অন্য দেশে, ঘাসের একটি পাতা সবসময়ই ঘাসের একটি পাতাই থাকে।
- স্যামুয়েল জনসন, মিসেস পিওজির জনসনের উপাখ্যান , পৃষ্ঠা ১০০, হয়েটের 'নিউ সাইক্লোপিডিয়া অফ প্র্যাকটিক্যাল কোটেশনস' (১৯২২), পৃষ্ঠা ৩৩৬
- এখানে গাছের পাতা যেতেছে হলুদ হয়ে—নিঃশব্দে উল্কার মতাে ঝ’রে
একদিন তুমি এসে তবু এই হলুদ আঁচল রেখে ঘাসের ভিতরে
শান্তি পাবে; সন্ধ্যার জলের দিকে শূন্য চোখে রবেনাকো তাকিয়ে এমন
অস্পষ্ট সংকটে এসে—মুখে কথা ফুরােবে না—এখন যা গভীর গােপন
প্রাণের চারুণা পাবে অন্ধকারে; ব্যাপ্তি পাবে;- জীবনানন্দ দাশ, নদী নক্ষত্র মানুষ, বনলতা সেন - জীবনানন্দ দাশ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২
- সবুজ ঘাস স্রোতের মতো বয়ে যায়
সাগরের নীলিমায়।- জেমস রাসেল লোয়েল, দ্য সাইরেন্স, লাইন ৮৭,হয়েটের 'নিউ সাইক্লোপিডিয়া অফ প্র্যাকটিক্যাল কোটেশনস' (১৯২২), পৃষ্ঠা ৩৩৬
- রামচন্দ্রের তেরটি হনু ঘাস খায়, আর একটা হনু ঘাস খায় না। শ্রী রামচন্দ্র সেই হনুটাকে বলিলেন যে ‘ওরে হোনো! ঘাস খা।’ হোনো কোন প্রকারে ঘাস খায় না, তখন শ্রী রামচন্দ্র বৃক্ষ হইতে অবতরণ পূর্ব্বক বলিলেন যে ‘ওরে হোনো! ঘাস খা।’ হোনো তথাপি ঘাস খায় না। তখন শ্রী রামচন্দ্র ক্রুদ্ধ হইয়া গালি দিতে লাগিলেন, ‘ওরে দুর্ব্বৃত্ত দশানন! ওরে লম্বোদর গজানন! ওরে মলিম্লচ! ওরে জরদ্গব! ওরে পাষণ্ড! ঘাস খা।”
- রাজনারায়ণ বসু, গ্রাম্য উপাখ্যান - রাজনারায়ণ বসু, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৪
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় ঘাস সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিঅভিধানে ঘাস শব্দটি খুঁজুন।
উইকিমিডিয়া কমন্সে ঘাস সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।