ঘৃণা
অবয়ব
ঘৃণা হলো এক গভীর ও আবেগপূর্ণ বিতৃষ্ণা। এটি ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সত্তা, বস্তু, আচরণ বা ধারণার বিরুদ্ধে হতে পারে। ঘৃণা প্রায়শই রাগ, বিতৃষ্ণা এবং শত্রুতার অনুভূতির সাথে যুক্ত থাকে।
উক্তি
[সম্পাদনা]- যার নিজের ধর্মে বিশ্বাস আছে, যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।
- কাজী নজরুল ইসলাম। আমার পথ প্রবন্ধ, রুদ্র-মঙ্গল, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৪২২
- নারীকে যে ঘৃণা করে, নারীও তাহাকে ঘৃণা করিতে জানে।
- ইন্দিরা দেবী, স্রোতের গতি - ইন্দিরা দেবী, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৭
- যদি তুমি তোমার শত্রুদের ঘৃণা করো, তবে তোমার মধ্যে এমন এক কুটিল মানসিক অভ্যাস গড়ে উঠবে, যা ধীরে ধীরে তোমার বন্ধুদের ওপর অথবা যারা তোমার প্রতি উদাসীন, তাদের ওপরও প্রকাশ পাবে।
- জোসেফ অ্যাডিসন, দ্য স্পেক্টেটর, মঙ্গলবার ২৪ জুলাই, ১৭১১, সংখ্যা ১২৫। বলা হয়ে থাকে এটি প্লুটার্কের একটি উদ্ধৃতি, সম্ভবত এটি ‘শত্রুদের থেকে প্রাপ্ত সুবিধা’ শীর্ষক গ্রন্থের মতামতের সারসংক্ষেপ।
- যত দিন বঙ্গসন্তান মাতৃভাষা উপেক্ষা করিয়া পর ভাষার পক্ষপাতী থাকিবেন, যতদিন মাতৃভাষা ঘৃণা করিয়া বৈদেশিক ভাষানুশীলনে সময় ক্ষেপণ করিবেন, ততদিন বঙ্গের উন্নতির আশা আমরা করি না, ততদিন জাতীয় উন্নতির কোন সম্ভাবনা দেখি না।
- হরিনাথ মজুমদার, "গল্প আরম্ভ", গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা, আষাঢ় ১২৮৭ থেকে প্রকাশিত। কাঙাল হরিনাথ মজুমদার: নির্বাচিত রচনা, আবুল আহসান চৌধুরী সংকলিত ও সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, মার্চ ১৯৯৮ থেকে উদ্ধৃত।
- অন্ধকার অন্ধকারকে তাড়াতে পারে না; কেবল আলোই অন্ধকারকে তাড়াতে পারে। ঘৃণা দিয়ে ঘৃণা দূর করা যায় না। কেবল ভালোবাসা দিয়ে ঘৃণা দূর করা যায়।
- মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, " এ গিফট অফ লাভ: সারমনস স্ট্রেংগথ টু লাভ অ্যান্ড আদার প্রিচিংস (২০১২)", বীকন প্রেস, পৃষ্ঠা ৬৭
- "পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়"—এই উপদেশটি বোঝা সহজ হলেও এর অনুশীলন খুব কমই হয়, আর একারণেই পৃথিবীতে ঘৃণার বিষ ছড়িয়ে পড়ে।
- মহাত্মা গান্ধী, আত্মজীবনী: সত্য নিয়ে আমার পরীক্ষণের কাহিনী (১৯২৯), পর্ব ৪, অধ্যায় ৯। দি নিউ ইয়েল বুক অফ কোটেশনস, পৃষ্ঠা ৩১৩- এ উদ্ধৃত।
- এই দুজন এমন ঘৃণা করত, যা
কেবল মঞ্চেই পাওয়া যেত।- লর্ড বাইরন, ডন জুয়ান (১৮১৮-২৪), চতুর্থ সর্গ, ৯৩তম স্তবক।
- "হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিক সন্দেহ করা থেকে বিরত থাকো, কেননা কিছু সন্দেহ পাপ। তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং কেউ কারও পরনিন্দা করো না। তোমাদের কেউ কি চায় যে, সে তার মৃত ভাইয়ের মাংস খাবে? তোমরা তো এটাকে ঘৃণা করো। অতএব, আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
- সূরা আল-হুজুরাত (৪৯:১২)
- ঘৃণা ক’রে চ’লে গেছে—যখন ডেকেছি বারে-বারে
ভালোবেসে তারে;
তবুও সাধনা ছিলো একদিন–এই ভালোবাসা;
আমি তার উপেক্ষার ভাষা
আমি তার ঘৃণার আক্রোশ
অবহেলা ক’রে গেছি; যে-নক্ষত্র—নক্ষত্রের দোষ
আমার প্রেমের পথে বার-বার দিয়ে গেছে বাধা
আমি তা’ ভুলিয়া গেছি;
তবু এই ভালোবাসা—ধুলো আর কাদা।- জীবনানন্দ দাশ, বোধ, জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- নাভানা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১-২২
- ঘৃণাই নিঃসন্দেহে দীর্ঘতম আনন্দ;
মানুষ তাড়াহুড়ো করে ভালোবাসে, কিন্তু অবসরে ঘৃণা করে।- লর্ড বাইরন, ডন জুয়ান (১৮১৮-২৪), ক্যান্টো দ্বাদশ, স্তবক ৬
- যাঁহার স্নানকালে তৈলে ঘৃণা, আহারকালে আপন অঙ্গুলিকে ঘৃণা, এবং কথোপকথনকালে মাতৃভাষাকে ঘৃণা, তিনিই বাবু। যাঁহার যত্ন কেবল পরিচ্ছদে, তৎপরতা কেবল উমেদারিতে, ভক্তি কেবল গৃহিণী বা উপগৃহিণীতে, এবং রাগ কেবল সদ্গ্রন্থের উপর, নিঃসন্দেহ তিনিই বাবু।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বাবু, লোকরহস্য-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
- অজ্ঞতা থেকে সন্দেহ, সন্দেহ থেকে ভয়, এবং ভয় থেকে ঘৃণা জন্মায়।
- টমাস পি. ক্লিফোর্ড, দ্য পলিটিক্যাল মেশিন: অ্যান আমেরিকান ইনস্টিটিউশন। ভ্যান্টেজ প্রেস। ১৯৭৫। পৃষ্ঠা ১২।
- প্রেম বলে পাপকে ঘৃণা করিবে পাপীকে ঘৃণা করিবে না। প্রেমের বলে বলীয়ান হইয়া নিতাই জগাই মাধাইকে ভ্রাতৃ সম্বোধন করিয়া প্রেমালিঙ্গনে বদ্ধ করিয়া হরিনাম দিয়া উদ্ধার করিয়াছিলেন। স্বার্থপরতা আমাদের মনুষ্যত্ব হরণ করিয়াছে, এখন আমরা এই আমিত্বটুকু লইয়া এই বিশাল জগতের একপ্রান্তে পড়িয়া আছি।
- ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী, আমার খাতা - ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী, প্রকাশক-শ্রীব্রজেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৪
- আমি তোমাদের প্রতি আহ্বান জানাই, তোমরা ঘৃণা করো না, কারণ ঘৃণা মানুষকে নিরপেক্ষ হওয়ার সুযোগ দেয় না, বরং তা মানুষকে অন্ধ করে দেয় এবং চিন্তার সকল দরজা বন্ধ করে দেয়।
- সাদ্দাম হুসাইন, বিদায়ী চিঠি (৫ নভেম্বর ২০০৬)
- আমাকে ঘৃণা ক’রো না, আমাকে ঘৃণা ক’রে না। আবেগাতিশয্যে মাতঙ্গিনীর কুসুমসুকুমার দেহ কম্পিত হইতে লাগিল—আমার এই চরম দুর্ব্বলতার জন্য ঘৃণায় মুখ ফিরিও না। মাধব, হয়তো এই আমাদের শেষ দেখা, হয়তো কেন, নিশ্চয়ই, তাই এই শেষ মুহূর্ত্তে বলছি, তোমাকে আমি প্রাণ দিয়ে ভালবেসেছিলাম, তোমাকে আমি এখনও প্রাণ দিয়ে ভালবাসি।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রাজমোহনের স্ত্রী- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, অনুবাদক- সজনীকান্ত দাস, প্রকাশক- ঈষ্টার্ণ পাবলিশার্স সিণ্ডিকেট লিঃ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৭
- আমরা কিছু লোককে ঘৃণা করি কারণ আমরা তাদের চিনি না; এবং আমরা তাদের জানবো না কারণ আমরা তাদের ঘৃণা করি।
- চার্লস ক্যালেব কোল্টন, ল্যাকন, খণ্ড ১ (১৮২০)
- অপূর্ব্ব আবেগের সহিত কহিল, আপনার দ্বারা কখনো আমার লেশমাত্র অনিষ্ট হতে পারে এ ভয় আমারও নেই। কিন্তু আপনাকে অস্পৃশ্য বললে আমার সব চেয়ে বেশি দুঃখ হয়। অস্পৃশ্য কথার মধ্যে ঘৃণার ভাব আছে, কিন্তু আপনাকে ত আমি ঘৃণা করিনে। আমাদের জাত আলাদা, আপনার ছোঁয়া আমি খেতে পারিনে, কিন্তু তার হেতু কি ঘৃণা? এত বড় মিছে কথা আর হতেই পারে না। বরঞ্চ, এরজন্যে আপনিই আমাকে মনে মনে ঘৃণা করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২০
- আমরা কে তার জন্য আমাদের ঘৃণা করা হয় না। আমাদের কাজের জন্য আমাদের ঘৃণা করা হয়।
- প্যাট বুকানন, হোয়ার দ্য রাইট ওয়েন্ট রং (২০০৪)
- শুধু একটা কথা মনে রাখিস আমার, অসতর্ক হ’য়ে কথা বলিস না···লােকদের নজরে নজরে রাখিস···ওরা সবাই পরস্পরকে ঘৃণা করে···অন্যের অনিষ্ট করে খুশি হয়...নিছক আমােদের লােভে মানুষকে পীড়া দেয়···যেই তাদের দোষ দিতে যাবি, বিচার করবি, অম্নি তারা তােকে ঘৃণা করবে,···তাের সর্বনাশ করবে।···
- মাক্সিম গোর্কি, মা, মা - ম্যাক্সিম গোর্কি, অনুবাদক- বিমল সেন, প্রকাশক- বর্মণ পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
- আমরা আর ঘৃণার দেবতার উপাসনা করতে বা প্রতিশোধের বেদীর সামনে নত হতে পারি না। ঘৃণার ক্রমবর্ধমান জোয়ারে ইতিহাসের মহাসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। ইতিহাস সেইসব জাতি ও ব্যক্তির ধ্বংসাবশেষে পরিপূর্ণ, যারা ঘৃণার এই আত্মঘাতী পথ অনুসরণ করেছিল। বিশ্বের সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি হলো ভালোবাসা।
- যেখানে ঘৃণা ও সন্দেহ, সেখানে ভালবাসার স্থান নাই।
- মানদা দেবী, শিক্ষিতা পতিতার আত্মচরিত - মানদা দেবী, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- ময়মনসিংহ, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৪
- আর্য্যগণ যেমন অনার্য্যদিগকে ঘৃণা করিতেন, প্রাচীনকালের ইহুদীরাও অন্যান্য জাতিকে সেইরূপ ঘৃণা করিত। তাহারা ভাবিত তাহারা ঈশ্বরের বিশেষ অনুগৃহীত ও অন্যান্য জাতিরা নীচ তাহাদের সঙ্গে আহার করিলে অশুচি হইতে হয়। যীশুখৃষ্ট প্রথমে ইহুদীদের শিক্ষা দিলেন মানুষ মাত্রেই ঈশ্বরের পুত্র—সকলেই ভাই ভাই।
- প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, সমাজ-সংস্কার সমস্যা, আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের প্রবন্ধ ও বক্তৃতাবলী, লেখক- প্রফুল্লচন্দ্র রায়, প্রকাশক-চক্রবর্তী চ্যাটার্জি এণ্ড কোম্পানি লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২০
- আমার ধারণা, মানুষ যে তাদের ঘৃণাকে এত জেদ করে আঁকড়ে ধরে থাকে, তার অন্যতম কারণ হলো তারা অনুভব করে যে, ঘৃণা চলে গেলে তাদেরকে যন্ত্রণার মুখোমুখি হতে হবে।
- জেমস বল্ডউইন, হার্পার'স-এ প্রকাশিত "মি অ্যান্ড মাই হাউস" (নভেম্বর ১৯৫৫); নোটস অফ এ নেটিভ সন (১৯৫৫) গ্রন্থে পুনঃপ্রকাশিত।
- হাসুক সমস্ত ধরা তীব্র ঘৃণা-হাসি,
সে মোরে করুক্ ঘৃণা যারে ভাল বাসি!
আপনার কাছে সদা হোয়ে থাকি দোষী,
হৃদয়ে ঘনাতে থাক্ কলঙ্কের মসী!- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভগ্নহৃদয়, ঊনবিংশ সর্গ, ভগ্নহৃদয় - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দ (১২৮৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৩
- এই জগতে বা পরকালে এমন কোনো ঘৃণা নেই যা মেটানো যায়, এবং নিজের প্রতি যে ঘৃণা, সম্ভবত তার কোনো ক্ষমা নেই।
- জর্জ বেরনানোস, মসিয়ঁ ওইন (১৯৪৩), উইলিয়াম এস. বুশ কর্তৃক অনূদিত। লিংকন, নেব্রাস্কা: ইউনিভার্সিটি অফ নেব্রাস্কা প্রেস, ২০০০, পৃষ্ঠা ২০৮
- আমি ঘৃণিতা বারনারী হইলেও অনেক উচ্চ শিক্ষা পাইয়াছিলাম, প্রতারণা বা মিথ্যা ব্যবহারকে অন্তরের সহিত ঘৃণা করিতাম। অবিশ্বাস আমাদের জীবনের মূলমন্ত্র হইলেও আমি সকলকেই বিশ্বাস করিতাম ও ভাল ব্যবহার পাইতাম।
- বিনোদিনী দাসী, আমার কথা (প্রথম খণ্ড) - বিনোদিনী দাসী, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৭
- ঘৃণা সংকীর্ণমনাদের একটি কুঅভ্যাস; তারা নিজেদের সমস্ত নীচতা দিয়ে একে লালন করে এবং জঘন্য স্বৈরাচারের অজুহাত বানায়।
- অনরে দ্য বালজাক, দ্যা মিউজ অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট (১৮৪৩)
- প্রত্যেক কুঠুরিতে প্রস্রাবের জন্য যে পাত্র ছিল তাহা উঠাইয়া আনিবার ভার আমাদের উপর পড়িয়াছিল। দেখিলাম, অনেকে একাজ করিতে ঘৃণা বোধ করেন। কিন্তু বাস্তবিক, ইহাতে ঘৃণা করিবার কিছু নাই। কাজ করিতে গিয়া লজ্জা বা ঘুণা বোধ করা ভুল। বিশেষ করিয়া কয়েদীর ত বিরক্তির অবকাশই নাই।
- মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, কারাকাহিনী- মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, অনুবাদক- অনাথনাথ বসু, প্রকাশক- বিচিত্রা প্রেস লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল= ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
- আজকের বিশ্ব পরিস্থিতির মূল কারণ হলো বিশ্বে বিরাজমান ব্যাপক ঘৃণা—মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা, ব্যক্তি ও ক্ষমতাবান বা প্রভাবশালীদের প্রতি ঘৃণা এবং মতাদর্শ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি ঘৃণা। মৌলিকভাবে, এর কারণ হলো সকল জাতি ও জনগোষ্ঠীর বিভেদকামী মনোভাব, যারা যুগ যুগ ধরে এবং আজও পরস্পরকে ঘৃণা করে এসেছে এবং তারা শুধু নিজেদেরকেই ভালোবাসে।
- অ্যালিস এ. বেইলি, দ্য এক্সটার্নালাইজেশন অফ দ্য হায়ারার্কি, পৃ. ৬৪, (১৯৫৭)
- মাতঙ্গিনী বলিল, না, না, কিছু ব’লো না তুমি —বলিতে বলিতে মাতঙ্গিনী যেন নিজেই নিজের কথার প্রতিবাদ করিবার চেষ্টা করিল, মস্তক অবনত করিয়া সে নিজের উদ্গত অশ্রুর বন্যা লুকাইতে লুকাইতে বলিয়া উঠিল, মাধব, তুমি আমাকে গালাগালি দাও, ধিক্কার দাও, আমার শিক্ষা হোক। আমি পাপী, পাপ করেছি, আমার ঈশ্বরের কাছে আমি অপরাধী এবং এই পৃথিবীতে যে আমার ঈশ্বর—আমাকে বলতে দাও মাধব, সেই তোমার কাছেও অপরাধ করেছি। আমি নিজেকে নিজে যতটা ঘৃণা করছি, তার চাইতে বেশি ঘৃণা তুমি আমাকে করতে পারবে না।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়,নবম পরিচ্ছেদ, রাজমোহনের স্ত্রী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অনুবাদক- সজনীকান্ত দাস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৮-৫৮
- ঘৃণা ঔদ্ধত্যে পরিণত হয় যখন আমরা মানবজাতির বাকিদের ছাড়িয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করি এবং মনে করি যে আমরা সাধারণের অন্তর্ভুক্ত নই; এমনকি আমরা অন্যদেরকে আমাদের চেয়ে নিকৃষ্ট বলে কঠোরভাবে ও ঔদ্ধত্যের সাথে তুচ্ছ জ্ঞান করি।
- জন ক্যালভিন, ‘গোল্ডেন বুকলেট অফ দ্য ট্রু ক্রিশ্চিয়ান লাইফ’, পৃষ্ঠা ৩২
- সমাজ নারীর ভুল-ভ্রান্তি এক-পাইও ক্ষমা করিবে না, পুরুষের ষোল-আনাই ক্ষমা করিবে। হেতু? হেতু শুধু গায়ের জোর; হেতু শুধু সমাজ অর্থে ‘পুরুষ’—‘নারী’ নয় বলিয়া। কাজটা ঘৃণার কাজ, তাই পুরুষ নারীকে ঘৃণা করে। তাহাকে ঘৃণা করিবার অধিকার দেওয়া হইয়াছে, কিন্তু নারীকে সে অধিকার দেওয়া হয় নাই। পুরুষ যতই ঘৃণ্য হউক, সে স্বামী। স্বামীকে ঘৃণা করিবে স্ত্রী কি করিয়া? শাস্ত্র যে বলিতেছেন, তিনি যেমনই হউন না, সতী স্ত্রীর তিনি দেবতা, এবং এই দেবতাটির মৃত্যু ঘটিলে তাঁহার পদপঙ্কজ ক্রোড়ে করিয়া অনুগমন করা আবশ্যক।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
- বিনয় বার বার ভাবিতে লাগিল, ললিতা যে তাহাকে এত পরমুখাপেক্ষী সাহসহীন বলিয়া ঘৃণা প্রকাশ করিয়াছে সে ঘৃণা যথার্থ। সে তো সমস্ত আত্মীয়বন্ধুর নিন্দা প্রশংসা সবলে উপেক্ষা করিয়া এমন করিয়া কোনো বিষয়েই সাহসিক আচরণের দ্বারা নিজের মত প্রকাশ করিতে পারিত না।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গোরা, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৩
- ঘৃণা জীবনকে পঙ্গু করে দেয়; ভালোবাসা তাকে মুক্তি দেয়। ঘৃণা জীবনকে বিভ্রান্ত করে; ভালোবাসা তাতে সামঞ্জস্য আনে। ঘৃণা জীবনকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে; ভালোবাসা তাকে আলোকিত করে।
- মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, স্ট্রেন্থ অফ লাভ, (১৯৬৩)
- চিন্তা করিয়া দেখ এই সহরের ব্রাহ্মণ কায়স্থগণ সুবর্ণবণিকদিগকে কিরূপ ঘৃণা করেন। জাতিগত ঘৃণা যেখানে, আত্মীয়তা সেখানে কোথায়? তৎপরে আর একটু দূরে দৃষ্টি ফেলিয়া দেখ— দেশের কি শোচনীয় দুরবস্থা। চব্বিশ পরগণার লোক যদি কর্ম্মোপলক্ষে মেদিনীপুরে গিয়া থাকে, সেখানকার লোকদিগকে ঘৃণা করে; বাঙ্গালীগণ যদি বেহারে থাকে, বেহারিদিগকে ঘৃণা করে; পঞ্জাবের বাঙ্গালিদিগকে পঞ্জাবীরা ঘৃণা করে, বাঙ্গালিগণ পঞ্জাবীদিগকে হীন বলিয়া অবজ্ঞা করে। এই যত প্রকার অমিত্রতা যত প্রকার জাতি বা শ্রেণীগত বিদ্বেষ ইহার মূলে জাতিভেদ। বিবাহ সম্বন্ধই দুই দল লোকের মধ্যে আত্মীয়তা বৃদ্ধির একটী প্রধান উপায়, ইহা আপনারা সহজেই অনুভব করিতে পারেন।
- শিবনাথ শাস্ত্রী, জাতিভেদ - শিবনাথ শাস্ত্রী, সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ পুস্তক প্রচার বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দ (১২৯১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
- আমি এটা আগেও দেখেছি। ক্ষুদ্রমনা মানুষদের ঘৃণা করতেই হয়, নিজেদের অযোগ্যতার জন্য অন্যকে দোষারোপ করতেই হয়।
- গ্লেন কুক, শ্যাডোস লিঙ্গার (১৯৮৪), অধ্যায় ৩৩
- সেবায় মুগ্ধ হইবে না এমন মানবদেহধারী কে থাকিতে পারে? অহিন্দু বলিয়া ঘৃণা করিলে পার্থক্য জন্মিবে, কিন্তু সেবাধর্ম্মে পার্থক্য কোথায়? এই সেবাধর্ম্মে ঘৃণা বিদ্বেষ তিরোহিত হইবে। যিনি সেবাধর্ম্ম গ্রহণ করিবেন, তিনি বুঝিতে পারিবেন যে, তিনি মনুষ্য—ব্রহ্ম তাঁহাতে বিরাজমান; সেই ব্রহ্ম প্রত্যক্ষ করিয়া অপরের সেবা করিবেন ও সেবা দ্বারা সেই সেব্য ব্যক্তিরও ব্রহ্ম উদ্দীপিত হইবেন।
- প্রিয়দর্শন হালদার, জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭
- প্রবলরূপে ঘৃণা করিবার এবং সে ঘৃণা প্রবলরূপে প্রকাশ করিবার অসাধারণ ক্ষমতা এই প্রৌঢ়া বিধবাটির ছিল। বিচারে যাহাকে অপরাধী করিতেন তাহাকে তিনি কথায় এবং বিনা কথায়, ভাবে এবং ভঙ্গীতে একেবারে দগ্ধ করিয়া যাইতে পারিতেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অনধিকার প্রবেশ, বিচিত্র গল্প-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশসাল- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩০১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭০
- হতে পারে আশা বিভ্রান্ত করে। কিন্তু ঘৃণা, ঘৃণা কলুষিত করে। আমি ঘৃণা করতে বড্ড বেশি তাড়াহুড়ো করেছি। আমি যাকে ঘৃণা করি, তারই মতো হয়ে যাই।
- স্টিফেন আর. ডোনাল্ডসন, লর্ড ফাউল'স বেইন (১৯৭৭), অধ্যায় ২১
- তোমরা হয় ত ক্রিমি দেখিয়াছ; দেখিলেই ঘৃণা হয়। এমন কদর্য্য প্রাণী বোধ হয় আর নাই। ইহাদের জীবনের কথা শুনিলে তোমাদের আরো ঘৃণা হইবে।
- জগদানন্দ রায়, ক্রিমি, পোকা-মাকড়— জগদানন্দ রায়, প্রকাশক— ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল— ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০১
- যদি আপনি কোনো ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, তবে আপনি তার ভেতরের এমন কিছুকে ঘৃণা করেন যা আপনারই একটি অংশ। যা আমাদের নিজেদের অংশ নয়, তা আমাদের বিচলিত করে না।
- হারমান হেস, ডেমিয়ান (১৯১৯), অধ্যায় ৬
- নারী যে সত্যই ঘৃণা বা অবজ্ঞার পাত্রী নহে, ঐ রণেন্দ্রই একদিন স্বেচ্ছায় ইহা স্বীকার করিবে―তবে তাহার অপমানের শোধ যাইবে। কিন্তু ঐ লোকটির ঘৃণা বা প্রশংসালাভে তাহার যে কি ক্ষতি বৃদ্ধি হইতে পারে, এইটুকুই কেবল তাহার মনে পড়িতেছিল না।
- ইন্দিরা দেবী, স্রোতের গতি - ইন্দিরা দেবী, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩
- অন্ধকার অন্ধকারকে দূর করতে পারে না; কেবল আলোই তা পারে। ঘৃণা ঘৃণাকে দূর করতে পারে না; কেবল ভালোবাসাই তা পারে। ঘৃণা ঘৃণাকে বৃদ্ধি করে, সহিংসতা সহিংসতাকে বৃদ্ধি করে, এবং কঠোরতা কঠোরতাকে বৃদ্ধি করে ধ্বংসের এক নিম্নগামী সর্পিল পথে। ...অশুভের এই শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া থেকে ঘৃণার জন্ম, যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের সৃষ্টি—অবশ্যই ভাঙতে হবে, নতুবা আমরা বিনাশের অন্ধকার অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হব।
- মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, স্ট্রেন্থ অফ লাভ, (১৯৬৩)
- মদে আমার বড় ঘৃণা। কেউ মাতাল হলে তার ওপর বড় রাগ হত। কিন্তু তুমি মাতাল হলে রাগ হত না; কিন্তু বড্ড দুঃখ পেতাম।—বলিয়া চন্দ্রমুখী দেবদাসের পায়ের উপর হাত রাখিয়া ছলছল চক্ষে কহিল, আমি বড় অধম, আমার অপরাধ নিয়ো না। তুমি যে কত কথা কইতে, কত বড় ঘৃণায় সরিয়ে দিতে; আমি কিন্তু তোমার তত কাছে যেতে চাইতাম।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দেবদাস, দেবদাস - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রথম সংস্করণ,প্রথম প্রকাশ- মাঘ-১৩৫৪, প্রকাশক- সরকার এ্যাণ্ড কোং, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৬
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় ঘৃণা সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিঅভিধানে ঘৃণা শব্দটি খুঁজুন।