বিষয়বস্তুতে চলুন

চড়ুই

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
বাবুই পাখীরে ডাকি’ বলিছে চড়াই,—
“কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই?
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে!”
রজনীকান্ত সেন

চড়ুই বা চড়াই প্যাসারিডি গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত যেকোন লোকালয়ের আশেপাশে একটি সুপরিচিত পাখি। এরা জনবসতির মধ্যে থাকতে ভালোবাসে। খড়কুটো, শুকনো ঘাস পাতা দিয়ে এরা কড়িকাঠে, কার্নিশে বাসা বাঁধে। এরা পোকামাকড় শস্য খুঁটে খায়। বিশ্বের কোথাও চড়ুইদের অবস্থা আশংকাজনক নয়। পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গে তারা সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। পৃথিবীতে মোট ৪৮ প্রজাতির চড়ুই দেখতে পাওয়া যায়।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • কে ডাকে করুণ সুরে—শুনিস না তুই?
    খাবার খুঁজিয়া ফেরে চপল চড়ুই।
    বখরা লইয়া যত ঝগড়াটে কাক।
    ঘরের খড়ের চালে করে হাঁকডাক।
    • শীতের সকাল - সুনির্মল বসু, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭১
  • বাবুই পাখীরে ডাকি’ বলিছে চড়াই,—
    “কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই?
    আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে
    তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে!”
    বাবুই হাসিয়া কহে, “সন্দেহ কি তায়!
    কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়;
    পাকা হোক্‌, তবু ভাই, পরের ও-বাসা;
    নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর—খাসা!"
    • স্বাধীনতার সুখ - রজনীকান্ত সেন, অমৃত, প্রকাশক- অমিয়রঞ্জন মুখােপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬
  • ছোটো একটি চড়ুই পাখী,
    তার পরণে পোষাক খাকী,
    মোর ঘরের বাহিরে থাকি
    ওঠে ‘চিপিক্‌’ ‘চিপিক্‌’ ডাকি!
    • চড়ুই- নিগ্রো ডান্‌বার, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত অনূদিত, তীর্থরেণু, অনুবাদক- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
  • বটের ডালে ডানা-ভিজে
    কাক বসে ওই ভাবছে কী যে,
     চড়ুইগুলো চুপ।
    বৃষ্টি হয়ে গেছে ভোরে,
    শজনেপাতায় ঝ’রে ঝ'রে
     জল পড়ে টুপ্ টুপ্।
    • বৃষ্টি রৌদ্র- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শিশু ভোলানাথ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ (১৪০৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮২
  • সেই দিন সন্ধ্যার সময় কৃষকেরা আবার পূর্ব্বের মত জড় হইল। ভোসিলি বলিতে লাগিল—
    “তোমরা কি রকম লোক হে! তোমরা আবার মানুষ? তোমরা ঠিক ঐ চড়ুই পাখীরই মত। এদিকে মুখে বল্‌বার সময়ে বল্‌বে ‘প্রস্তুত থাক, প্রস্তুত থাক,’ কিন্তু সময়কালে সকলেই ভয়ে জড়সড় হ’য়ে পড়। ঠিক এমনি ভাবে একটা বাজপাখীকে আট্‌কাবার জন্যে কতকগুলি চড়ুই পাখী প্রস্তুত হয়েছিল। তারাও বলেছিল—‘প্রস্তুত থাক, প্রস্তুত থাক, বিশ্বাসঘাতক হয়ো না, হয়োনা।’ কিন্তু বাজ যখন সত্যিই সত্যি ছোঁ মার্‌লে তখন তারা সব ঝোপের আড়ালে কোথায় গিয়ে সরে পড়ল, আর বাজটা একটা চড়ুইকে থাবার সঙ্গে ঝুলিয়ে উড়ে গেল। তারপর সব চড়ুই বেরিয়ে এসে দেখলে যে, ঝাঁকের একটা পাখী নেই। তারা বল্‌লে, ‘কাকে পাওয়া যাচ্ছে না? ও ছোট্ট ভোসিয়াকে নিয়ে গেছে। বরাতে ছিল এই হবে, হয়েছে। আমাদের দুষ্কর্ম্মের ফল সে ভোগ করছে।’ তোমাদেরও ঠিক তাই হয়েছে, মুখে কেবল বল‍্বে—‘বিশ্বাসঘাতক হয়ো না,’ ‘প্রস্তুত হয়ে থাক!’ সে যখন সিভোরকে চাবুক মারছিল, তখন তোমাদের উচিত ছিল মায়া-মমতা সব ত্যাগ ক’রে ওকে একদম সাবাড় ক’রে দেওয়া। কিন্তু তা না ক’রে কেবল প্রস্তুত থাক, আর প্রবঞ্চনা করো না―যেমন বাজে ছোঁ মার্‌লে অমনি সকলেই ঝোপের আড়ালে গিয়ে লুকিয়ে রইল।”
    • ল্যেভ তলস্তোয়, আলো, ‌টল্‌স্টয়ের গল্প, দুর্গামোহন মুখোপাধ্যায় অনূদিত, প্রকাশক— আশুতোষ লাইব্রেরী, প্রকাশস্থান— কলকাতা, প্রকাশসাল— ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮২-১৮৩
  • রাজার হাতি, মেজাজ ভারি হাজার রকম চাল;
    হঠাৎ রেগে মটাং করে ভাঙলো গাছের ডাল৷
    গাছের মাথায় চড়াই পাখি অবাক হয়ে কয়—
    ‘বাস রে বাস! হাতির গায়ে এমন জোরও হয়!’
    • সুকুমার রায়, বড়াই, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫৩
  • সেলিম আলীর সবচেয়ে প্রিয় আসক্তি ছিল শিকার এবং মাঠে-ময়দানে পাখি সম্পর্কে বিস্তৃত চর্চা। খুব ছোটো বয়স থেকেই উনি পাখিদের সম্পর্কে খুব সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ডাইরিতে লিখে রাখতেন। বছর দশেক বয়সে এয়ারগান দিয়ে উনি একটা চড়াই পাখি মেরেছিলেন। এই ঘটনাটিই ওনাকে পাখির প্রতি উৎসাহিত ক’রে তুলেছিল। কারণ সেটা সাধারণ চড়াই ছিল না, ছিল একটা হলুদ গলা চড়াই। চড়াইটাকে উনি BNHS-এ নিয়ে যান, যে BNHS ১৮৮৩ সালে ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ, সরকারী কর্তাব্যক্তি আর চা কফি এস্টেট মালিকদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল।
    • মাধব গাডগিল, প্রকৃতি বনাম মানুষ : একটি পরিকল্পিত সংঘাত - মাধব গাডগিল, অনুবাদক— মৈত্রী দাস, প্রকাশক— একচেটিয়া আগ্রাসন বিরোধী মঞ্চ, প্রকাশস্থান— কলকাতা, প্রকাশসাল— ২০২২ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]