চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন
অবয়ব
স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন (তামিল: சந்திரசேகர வேங்கட ராமன், ৭ নভেম্বর ১৮৮৮ – ২১ নভেম্বর ১৯৭০) ছিলেন একজন ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি ভারতের তৎকালীন মাদ্রাজ প্রদেশে (বর্তমানে তামিলনাড়ু রাজ্য) জন্মগ্রহণ করেন। আলোক বিক্ষেপণ ক্ষেত্রে যুগান্তকারী কাজ করার জন্য ১৯৩০ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি আবিষ্কার করেছিলেন যে, যখন আলো কোনো স্বচ্ছ পদার্থের মধ্য দিয়ে যায়, তখন পরিসৃত আলোর একাংশের তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হয়। এই ঘটনাটি, যা পরবর্তীকালে রামন বিক্ষেপণ নামে পরিচিত হয়, রামন প্রভাবের ফলস্বরূপ ঘটে। ১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার ভারতরত্ন দিয়ে সম্মানিত করে।
উক্তি
[সম্পাদনা]- স্বর্গ নেই, নরক নেই, পুনর্জন্ম নেই এবং অমরত্বও নেই। একমাত্র সত্য এই যে, মানুষ জন্মায়, জীবনযাপন করে এবং মারা যায়। সুতরাং, তার উচিত জীবনটা যথাযথভাবে যাপন করা।
- ১৯৩৪ সালে ব্যাঙ্গালোরে একটি প্রকাশ্য বক্তৃতায়। উৎস: সিং, আর (২০১০)। "লেটারস টু দ্যা এডিটর: ইন্ডিয়ান সায়েন্টিস্টস ভার্সাস সায়েন্স অ্যান্ড রিলিজিয়ন" (PDF)। সায়েন্স অ্যান্ড কালচার। ৭৬ (৭-৮): ২০৬।
- যদি ঈশ্বর বলে কেউ থাকেন, তবে আমাদের তাকে এই মহাবিশ্বেই খুঁজতে হবে। তিনি যদি এখানে না থাকেন, তবে তাকে খোঁজার কোনো অর্থ নেই। বিভিন্ন মহলে আমাকে নাস্তিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কিন্তু আমি তা নই। জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবর্ধমান আবিষ্কারগুলো ঈশ্বরের আরও আরও প্রকাশ বলে মনে হচ্ছে। মহাত্মাজি, ধর্মসমূহ এক হতে পারে না। বিজ্ঞানই এক পূর্ণাঙ্গ বন্ধুত্বের সর্বোত্তম সুযোগ করে দেয়। বিজ্ঞানের সকল মানুষ ভাই ভাই।
- ১৯৪৫ সালে মহাত্মা গান্ধী এবং গিলবার্ট রাহমের সাথে তার কথোপকথন। উৎস: জয়ারামন, এ (১৯৮৯)। চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন: অ্যা মেমোয়ার। বেঙ্গালুরু: ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস। পৃষ্ঠা ১৪৩। আইএসবিএন 81-85336-24-5। ওসিএলসি 21675106।
- চারিদিকে তাকিয়ে পরিস্থিতি বিচার করে আমার মনে হচ্ছে যে, আমাদের দেশের সামনে আসল বিপদ হলো সরকারি কর্তৃত্বের স্টিমরোলার দিয়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও উদ্যোগের নিষ্পেষণ। এরই মধ্যে আমরা এর ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি... সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো আইন প্রণয়ন এবং শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে প্রণীত কর ও অন্যান্য বিল পাসের মাধ্যমে... ব্যক্তি স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র ভণ্ডামি ও বিভ্রম মাত্র।
- ১৫ আগস্ট ১৯৫৪ তারিখে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।
- সাবানের বুদবুদের উজ্জ্বল রঙগুলো দেখো!
সমুদ্র নীল কেন?
হীরা কিসে ঝকমক করে!
সঠিক প্রশ্নগুলো করো, আর প্রকৃতি তার রহস্যের দরজা খুলে দেবে।- পরমেশ্বরন, উমা (২০১১)। সি.ভি. রামন: অ্যা বায়োগ্রাফি। পেঙ্গুইন বুকস ইন্ডিয়া। আইএসবিএন 978-0-14-306689-7। page=xiii
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সবচেয়ে মৌলিক এবং গভীরতম অনুসন্ধানগুলো হলো সেইসব অনুসন্ধান, যা মানুষের জীবন ও কর্মকাণ্ডকে সবচেয়ে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সেইসব বিজ্ঞানীই শেষ পর্যন্ত মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ হিতৈষী হিসেবে প্রমাণিত হন, যারা এটা-ওটা উৎপাদনের লক্ষ্যে নয়,বরং কেবল জ্ঞানের অগ্রগতির একমাত্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পরিশ্রম করেন।
- রামন, সি. ভি.; চন্দ্রলেখা (২০১০)। হোয়াই দি স্কাই ইস ব্লু: ড. সি.ভি. রামন টকস অ্যাবাউট সায়েন্স। তুলিকা বুকস। পৃষ্ঠা ১৭। আইএসবিএন 978-81-8146-846-8।
- আপনার সামনে থাকা কাজের প্রতি সাহসী নিষ্ঠার মাধ্যমেই সাফল্য আসতে পারে। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি যে, ভারতীয় মনের গুণাবলী যেকোনো টিউটোনিক, নর্ডিক বা অ্যাংলো-স্যাক্সন মনের গুণাবলীর সমান। আমাদের সম্ভবত সাহসের অভাব, আমাদের সেই চালিকাশক্তির অভাব যা একজন মানুষকে যেকোনো জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। আমার মনে হয়, আমাদের মধ্যে এক ধরনের হীনমন্যতা তৈরি হয়েছে। আমার মনে হয়, আজকের ভারতে যা প্রয়োজন তা হলো এই পরাজয়বাদী মনোভাবের বিনাশ।
- ১৯৬৯ সালে তরুণ স্নাতকদের উদ্দেশে দেওয়া তার ভাষণ। কালাম, এ পি জে আবদুল (১ সেপ্টেম্বর ২০১০)। ইগনাইটেড মাইন্ডস: আনলিশিং দি পাওয়ার উইদিন ইন্ডিয়া। পিয়ারসন এডুকেশন ইন্ডিয়া। পৃষ্ঠা ২৮–২৯। আইএসবিএন 978-81-317-2960-1।
- বিজ্ঞানী শিল্পকলা, নন্দনতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানের মধ্যকার যোগসূত্র উদ্ঘাটন করতে চান। বিজ্ঞানী... [প্রকৃতির] অসীম জটিলতাকে কয়েকটি সরল নীতি বা ক্রিয়ার উপাদানে উদ্ঘাটন করতে চান, যেগুলোকে তিনি প্রকৃতির নিয়ম বলে অভিহিত করেন। এই কাজ করতে গিয়ে, শিল্পের অন্যান্য রূপের প্রবক্তাদের মতোই, তিনি নিজেকে এক কঠোর শৃঙ্খলার অধীন করেন, যার নিয়মকানুন তিনি নিজেই নির্ধারণ করেছেন এবং যেগুলোকে তিনি বলেন যুক্তিবিদ্যা...বিজ্ঞান... হলো প্রকৃতির উপস্থাপনার প্রতি নিবেদিত মানুষের নান্দনিক ও বৌদ্ধিক কার্যাবলীর এক সংমিশ্রণ। সুতরাং এটি সৃজনশীল শিল্পের সর্বোচ্চ রূপ।
- পরমেশ্বরন, উমা (২০১১)। সি.ভি. রামন: অ্যা বায়োগ্রাফি। পেঙ্গুইন বুকস ইন্ডিয়া। আইএসবিএন 978-0-14-306689-7। পৃষ্ঠা=১৪
- উদ্দেশ্যপূর্ণ জীবনের জন্য এমন এক অক্ষ বা কব্জা প্রয়োজন, যার সাথে জীবন দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত থাকবে এবং যার চারপাশে অবাধে আবর্তন করতে পারবে। আমার মতে, আমার নিজের ক্ষেত্রে এই অক্ষ বা কব্জাটি ছিল, বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা নয়, এমনকি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসাও নয়, বরং এক বিশেষ বিমূর্ত আদর্শবাদ অথবা মানবাত্মার মূল্য এবং মানুষের প্রচেষ্টা ও সাফল্যের গুণের প্রতি বিশ্বাস। এই আদর্শবাদের উৎসের সবচেয়ে কাছের যে বিন্দুটি আমি খুঁজে পাই, তা হলো এডউইন আর্নল্ডের মহাগ্রন্থ দ্য লাইট অফ এশিয়া পড়ার স্মৃতি। আমার মনে আছে, সিদ্ধার্থের মহান ত্যাগ, তার সত্যের অনুসন্ধান এবং চূড়ান্ত বোধিলাভ আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
- উৎস: "চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন: আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তী"। ভারত সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বিজ্ঞান প্রসার। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩।
- ইউক্লিডের পাতাগুলো যেন প্রকৃতির মহান নাটকের গ্র্যান্ড অপেরার সঙ্গীতের সূচনালগ্ন। বলা যায়, এগুলো পর্দা সরিয়ে আমাদের দৃষ্টির সামনে প্রাকৃতিক জ্ঞানের এক বিশাল জগতের ঝলক তুলে ধরে, যা অধ্যয়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
- উৎস: "চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন: আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তী"। ভারত সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বিজ্ঞান প্রসার। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩।
- যখন নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলো তখন আমি একে ব্যক্তিগত বিজয় হিসেবেই দেখেছিলাম,আমার ও আমার সহযোগীদের জন্য একটি সাফল্য-- এটি ছিল অত্যন্ত অসাধারণ এক আবিষ্কারের স্বীকৃতি, এবং সেই লক্ষ্যেরই প্রাপ্তি যা আমি বিগত সাত বছর ধরে নিরলসভাবে অনুসরণ করে আসছিলাম। কিন্তু যখন আমি সেই জনাকীর্ণ সভাকক্ষে উপবিষ্ট হলাম এবং আমার চারপাশে কেবলই পশ্চিমা মুখমণ্ডলের এক বিশাল সমুদ্র দেখতে পেলাম আর আমি, একমাত্র ভারতীয় হিসেবে, আমার পাগড়ি ও গলাবন্ধ কোট পরিহিত অবস্থায় সেখানে উপস্থিত তখনই আমার এই বোধোদয় হলো যে, আমি আসলে আমার জনগণ ও আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। রাজা গুস্তাভের হাত থেকে যখন আমি পুরস্কারটি গ্রহণ করলাম, তখন আমি নিজেকে সত্যিই অত্যন্ত বিনম্র ও বিনীত অনুভব করলাম, সেটি ছিল গভীর আবেগের এক মুহূর্ত, তবুও আমি নিজেকে সংযত রাখতে পেরেছিলাম।
- ১৯৩০ সালে স্টকহোমে রাজা গুস্তাভ যখন রামনকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করেছিলেন, সেই উপলক্ষে। উৎস:"চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন: আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তী"। ভারত সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বিজ্ঞান প্রসার। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩।
- তারপর আমি ঘুরে দাঁড়ালাম এবং ব্রিটিশ ইউনিয়ন জ্যাক দেখতে পেলাম, যেটার নিচে আমি বসেছিলাম; আর ঠিক তখনই আমি উপলব্ধি করলাম যে, আমার দরিদ্র দেশ,ভারতের, নিজস্ব একটা পতাকাও নেই- আর ঠিক এই ঘটনাই আমার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার সূত্রপাত ঘটাল।
- ১৯৩০ সালে স্টকহোমে রাজা গুস্তাভ যখন রামনকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করেছিলেন, সেই উপলক্ষে। উৎস:"চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন: আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তী"। ভারত সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বিজ্ঞান প্রসার। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩।
- পরমেশ্বরন, উমা (২০১১)। সি.ভি. রামন: অ্যা বায়োগ্রাফি। পেঙ্গুইন বুকস ইন্ডিয়া। আইএসবিএন 978-0-14-306689-7। পৃষ্ঠা=১৫
- প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের প্রচ্ছদ হিসেবে গান্ধীজীর প্রতিকৃতি অবশ্যই থাকতে হবে এবং সবরমতী থেকে বিড়লা হাউস পর্যন্ত গান্ধীজীর উপদেশাবলী সম্বলিত পাঠ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ এবং ভারতীয় জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এটিই হবে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়, এবং এটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ ও মূর্তি স্থাপনের চেয়েও উত্তম... তার (গান্ধীজীর) শিক্ষায় মানবাত্মার পরম গুণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবিনশ্বর এবং অপরাজেয়। ভারত কখনোই সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর আশা করতে পারে না, যদি না আমরা মানবাত্মার মূল্যকে উন্নত করি।
- মহাত্মা গান্ধী প্রসঙ্গে রামন, যার নামানুসারে তিনি রামন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গান্ধী স্মারক বক্তৃতা প্রবর্তন করেছিলেন। উৎস:"চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন: আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তী"। ভারত সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বিজ্ঞান প্রসার। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩।
- আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, মৌলিক বিজ্ঞানকে শিক্ষাগত, শিল্পভিত্তিক কিংবা সরকারি ও সামরিক চাপের দ্বারা পরিচালিত করা সম্ভব নয়। ঠিক এই কারণেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যতটা সম্ভব, কোনো প্রকার অর্থসাহায্য গ্রহণ না করেই এক উন্নত প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনা ও বিকশিত করব....তাই আমি এমন কোনো শর্ত আরোপ করব না যে, এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো প্রকার সরকারি তহবিল গ্রহণ করতে পারবে না।
- ১৯৭০ সালে মৃত্যুর পূর্বে সহকর্মী বিজ্ঞানীকে দেওয়া তার বিবৃতি। উৎস:পরমেশ্বরন, উমা (২০১১)। সি.ভি. রামন: অ্যা বায়োগ্রাফি। পেঙ্গুইন বুকস ইন্ডিয়া। আইএসবিএন 978-0-14-306689-7।
- আমার মনে হয়, ভারতের নারীরা যদি বিজ্ঞানকে গ্রহণ করেন এবং এর অগ্রগতি ও উন্নয়নেও আগ্রহী হন, তবে তারা এমন কিছুও অর্জন করবেন যা পুরুষরা করতে ব্যর্থ হয়েছে। নারীদের একটি গুণ আছে--নিষ্ঠা। বিজ্ঞানে সাফল্যের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। তাই আমাদের এমনটা ভাবা উচিত নয় যে, বিজ্ঞানে মেধা কেবল পুরুষদেরই একচেটিয়া অধিকার।
- নারীদের ভূমিকা সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি। উৎস:"চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন: আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তী"। ভারত সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বিজ্ঞান প্রসার। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩।
- একটি জাতির প্রকৃত সম্পদ সঞ্চিত স্বর্ণে নয়, বরং জনগণের মানসিক ও শারীরিক শক্তিতে নিহিত।
- "কোটেশনস বাই ৬০ গ্রেটেস্ট ইন্ডিয়ান্স"। ধিরুভাই আম্বানি ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি।
তার সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- স্যার পালিত কর্তৃক সৃষ্ট পদার্থবিজ্ঞানের চেয়ারের জন্য আমরা শ্রী চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমনের মতো একজনকে পেয়ে সৌভাগ্যবান হয়েছি, যিনি ভৌতবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তার অসাধারণ গবেষণার মাধ্যমে নিজেকে অত্যন্ত বিশিষ্ট করেছেন এবং ইউরোপীয় খ্যাতি অর্জন করেছেন। এই গবেষণা তিনি অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এবং জরুরি দাপ্তরিক কর্তব্যের ব্যস্ততার মাঝেও অধ্যবসায়ের সাথে চালিয়ে গেছেন। আমি এটা ভেবে আনন্দিত যে, তার এই মূল্যবান গবেষণাগুলোর অনেক কিছুই পরিচালিত হয়েছে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সের গবেষণাগারে। এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আমাদের প্রয়াত প্রখ্যাত সহকর্মী ডঃ মহেন্দ্র লাল সরকার, যিনি এই দেশে বিজ্ঞানের চর্চা ও অগ্রগতির জন্য একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। শ্রী রমন যে সাহস ও আত্মত্যাগের মনোভাব নিয়ে একটি আকর্ষণীয় সম্ভাবনাময় সরকারি চাকরির পরিবর্তে একটি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের পদ বেছে নিয়েছিলেন, তার প্রতি আমার যে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, তা প্রকাশে যদি আমি নিজেকে সংযত না করি, তবে তা আমি কর্তব্যে ব্যর্থ হবো। দুঃখের বিষয়, এই অধ্যাপকের পদে এমনকি উদার পারিশ্রমিকও নেই। এই একটি ঘটনা আমাকে এই আশা পোষণ করতে উৎসাহিত করে যে, যে জ্ঞান মন্দির নির্মাণ করা আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সেখানে সত্যসন্ধানীর কোনো অভাব হবে না।
- "চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন: আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তী"। ভারত সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বিজ্ঞান প্রসার। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩।
- সি. ভি. রমনই সর্বপ্রথম উপলব্ধি করেন এবং দেখান যে, পদার্থের অভ্যন্তরে ফোটনের শক্তির আংশিক রূপান্তর ঘটতে পারে। আমার আজও স্পষ্ট মনে আছে, এই আবিষ্কারটি আমাদের সকলের মনে কী গভীর ছাপ ফেলেছিল...."
- অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। উৎস:"চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন: আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তী"। ভারত সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বিজ্ঞান প্রসার। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩।
- পদার্থবিজ্ঞান তার নিজস্ব প্রকৃতির কারণেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চরম বিশেষায়নের দাবি করে। এর সিদ্ধান্তগুলো, যা শেষ পর্যন্ত প্রকৃত পরিমাপের ফলাফলের জন্য সংখ্যা গণনা করে, তা গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করা হয়। এর অসুবিধা হলো, এতে সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি প্রায় দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। দুর্ভাগ্যবশত, এমন শিক্ষক খুব কমই আছেন যারা এই প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারেন। অধ্যাপক রামন এমন একটি বই লিখেছেন যা এই ফাঁদ এড়িয়ে গেছে এবং এর ফলে সাধারণ পাঠককে এই আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানের রহস্যের অন্তত কিছুটা গভীরে প্রবেশ করার সুযোগ করে দেবে।
- ফ্রান্সিস লো, তৎকালীন প্রিন্সটনের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজে কর্মরত একজন বিশিষ্ট তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী, রামনের বইয়ের ভূমিকায় লিখেছিলেন। উৎস:"চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন: আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তী"। ভারত সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বিজ্ঞান প্রসার। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩।
- ডঃ সি. ভি. রামন ছিলেন আধুনিক ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী এবং দীর্ঘ ইতিহাসে আমাদের দেশের সৃষ্ট অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী। তার মন ছিল হীরার মতো, যা তিনি অধ্যয়ন ও ব্যাখ্যা করতেন। আলোর স্বরূপের উপর আলোকপাত করাই ছিল তার জীবনব্যাপী ব্রত, এবং বিজ্ঞানের জন্য তার অর্জিত নতুন জ্ঞানের জন্য বিশ্ব তাকে নানাভাবে সম্মানিত করেছে।
- ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। উৎস: কাহন, আর.ডাব্লিউ. (১৬ মার্চ ২০০১)। দি কামিং অব ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স। এলসেভিয়ের। পৃষ্ঠা ২৭২। আইএসবিএন 978-0-08-052942-4।
- তিনি একজন মহান শিক্ষক ছিলেন, যিনি বিশ্বাস করতেন যে জ্ঞান নিজের কাছে জমা করে রাখার জন্য নয়, বরং তা ভাগ করে নেওয়ার জন্য। প্রকৃতির ঘটনাপ্রবাহকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তার ছিল এক অতুলনীয় উৎসাহ, যা সবচেয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিও বুঝতে পারত।
- ইন্দিরা গান্ধী। উৎস: কাহন, আর.ডাব্লিউ. (১৬ মার্চ ২০০১)। দি কামিং অব ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স। এলসেভিয়ের। পৃষ্ঠা ২৭২। আইএসবিএন 978-0-08-052942-4।
- রামন আমাদের দেশের পরবর্তী প্রজন্মের তরুণ বিজ্ঞানীদের নতুন সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছেন।
- ইন্দিরা গান্ধী। উৎস: কাহন, আর.ডাব্লিউ. (১৬ মার্চ ২০০১)। দি কামিং অব ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স। এলসেভিয়ের। পৃষ্ঠা ২৭২। আইএসবিএন 978-0-08-052942-4।
- স্পেকট্রোফোটোমেট্রিতে তার কৃতিত্ব সম্পর্কে বলা হয়, “১৯২৮ সালে, ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী (পরবর্তীতে প্রথম ভারতীয় নোবেল পুরস্কার বিজয়ী) স্বচ্ছ পদার্থের বিক্ষিপ্ত আলোতে কম্পাঙ্ক-স্থানান্তরিত রেখা আবিষ্কারের কথা জানান।” রমন ঘোষণা করেন যে, এই স্থানান্তরিত রেখাগুলো উদ্দীপক বিকিরণের উপর নির্ভরশীল নয় এবং এগুলো নমুনাটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যসূচক।
- উদ্ধৃতি:কাহন, আর.ডাব্লিউ. (১৬ মার্চ ২০০১)। দি কামিং অব ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স। এলসেভিয়ের। পৃষ্ঠা ২৩৪–। আইএসবিএন 978-0-08-052942-4।
- স্যার, সকালে আপনি অ্যালকোহলের উপর “রমন প্রভাব” দেখিয়ে আমাদের মনোরঞ্জন করেছিলেন। এবার রমনের উপর অ্যালকোহলের প্রভাব দেখিয়ে আমাদের আরও মনোরঞ্জন করুন না কেন?
- নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রামনের সম্মানে আয়োজিত এক নৈশভোজে উপস্থিত এক বিজ্ঞানী ঠাট্টার ছলে মন্তব্যটি করেছিলেন। রামন সমবেত অতিথিদের সামনে অ্যালকোহলকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে রামন প্রভাব প্রদর্শন করেছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে মদ্যপায়ী ছিলেন না। উৎস: আইয়ার, কোলার কৃষ্ণ। ১০৮ অ্যানেকডোটস। সুরা বুকস। পৃষ্ঠা ৭৩–। আইএসবিএন 978-81-7478-533-6।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
- "স্যার সি. ভি. রামন অ্যান্ড দি স্টোরি অব দি নোবেল প্রাইজ"। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩।
- রামন, সি. ভি.; চন্দ্রলেখা (২০১০)। হোয়াই দি স্কাই ইস ব্লু: ড. সি. ভি. রামন টকস অ্যাবাউট সায়েন্স। তুলিকা বুকস। পৃষ্ঠা 17। আইএসবিএন 978-81-8146-846-8।
- টি এম এইচ (১ অক্টোবর ২০০৬)। সানফ্লাওয়ার সিরিজ ইংলিশ ডাব্লিউবি ৬। টাটা ম্যাকগ্র-হিল এডুকেশন। পৃষ্ঠা ১–। আইএসবিএন 978-0-07-063554-8।