বিষয়বস্তুতে চলুন

চাষী নজরুল ইসলাম

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

চাষী নজরুল ইসলাম (২৩ অক্টোবর ১৯৪১ - ১১ জানুয়ারি ২০১৫) বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন। তিনি ১৯৬১ সালে তখনকার খ্যাতিমান পরিচালক ফতেহ লোহানীর সাথে আসিয়া চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর প্রখ্যাত সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার ওবায়েদ উল হকের সহকারী হিসাবে দুইদিগন্ত চলচ্চিত্রে কাজ করেন ১৯৬৩ সালে। ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তিনিই প্রথম নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক চলচ্চিত্র ওরা ১১ জন। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭২-এ মুক্তি পাওয়ার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুলের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আজ দেশে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তার কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে ফেলেছি। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধ করেছি সেই কারণগুলো আমরা মনে রাখতে পারিনি। আমাদের সামাজিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে সব সংকট বিরাজ করছে তা দূর করতে হলে আমাদের দেশপ্রেমিক হতে হবে, বিভাজন ভুলে একমঞ্চে আসতে হবে।
  • আর্থিক দিকটি অবশ্যই একটি ফ্যাক্টর। তবে প্রকৃত সমস্যা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের ছবি করার জন্যে যে প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি দরকার, সেটাই কারও নেই। ইচ্ছা থাকলেই উপায় হবে। আমার ইচ্ছা ছিল বলেই আমি মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে তিনটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছি এবং সেই ইচ্ছাশক্তির জোরেই আগামীতে আবার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করব।
  • আমার আগে যারা ‘দেবদাস’-এর চলচ্চিত্ররূপ দিয়েছেন, তাদের ওপর মাতব্বরি করি নি।
    • "রুপালি 'দেবদাস'"বণিক বার্তা। ২০২৪-১০-০৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২৬-০৪-১৬ 
  • শুরুতেই বলে রাখি আমি মূলত সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাতা। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি আমার ঝোঁক। বাংলা সাহিত্যের অনেক কাসিক গল্প-উপন্যাস আমার পড়া। একটা ভালো সাহিত্য পাঠের পর তার চিত্ররূপ কল্পনা করে আমি এক ধরনের তৃপ্তি পাই। আমার পড়া সেরা উপন্যাসগুলোর একটি হলো শরৎচন্দ্রের দেবদাস। এটি এমন একটি জনপ্রিয় উপন্যাস যা নিয়ে তিনটি ইন্ডাস্ট্রিতে এ পর্যন্ত ছয়টি চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। ত্রিশ বছর আগে আমি একবার দেবদাস তৈরি করেছিলাম। আজকের প্রজন্ম বুলবুল আহমেদ-কবরীকে নিয়ে তৈরি করা আমার সেই দেবদাস দেখেনি। স্যাটেলাইট প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের তরুণ প্রজন্মের সাহিত্যের সঙ্গে যোগাযোগটা কম। বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার যে কতটা সমৃদ্ধ তা তারা জানে না। দ্বিতীয়বার দেবদাস নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছি আমি আসলে তরুণ প্রজন্মের দর্শকদের জন্যই। আমার বিশ্বাস তারা এই সময়ের টপ হিরো-হিরোইনকে নিয়ে তৈরি করা রঙিন দেবদাস দেখবে। বাংলা সাহিত্যে যে দেবদাসের মতো চমৎকার প্রেমের উপন্যাস আছে, তা জেনে তারা মুগ্ধ হবে। সেই মুগ্ধতা নিয়ে তারা সাহিত্যের প্রতি ঝুঁকবে। সাহিত্যের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আকর্ষণ তৈরির জন্যই আবার আমি নতুন করে দেবদাস নির্মাণ করছি।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]