বিষয়বস্তুতে চলুন

চিন্তামণি নাগেশ রামচন্দ্র রাও

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

চিন্তামণি নাগেশ রামচন্দ্র রাও (জন্ম: ৩০ জুন, ১৯৩৪) একজন ভারতীয় রসায়নবিদ, যার গবেষণার ক্ষেত্র হলো কঠিন-অবস্থা ও গঠনগত রসায়ন এবং ন্যানোউপাদান। রাওয়ের অনন্য অবদান তার ১,৫০০টি গবেষণাপত্র এবং ৪৫টি বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশ্বের ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট উপাধিতে ভূষিত করেছে। তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং সমস্ত প্রধান বৈজ্ঞানিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করেছেন। ২০১৩ সালের ১৬ নভেম্বর ভারত সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত করে।

সি. এন. আর. রাও, কঠিন-অবস্থা ও উপাদান রসায়নের বিশেষজ্ঞ (২০০৪)

উক্তি

[সম্পাদনা]
সি. এন. আর. রাও
  • আমি প্রায় চার দশক ধরে কঠিন অবস্থা রসায়ন ক্ষেত্রে কাজ করে আসছি। ১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে যখন আমি প্রথম এই বিষয়ে গভীরভাবে আগ্রহী হই, তখন এটি ছিল একেবারে শৈশবে। খুব কম রসায়নবিদই, অন্যদের কথা বাদ দিন, কঠিন অবস্থা রসায়নকে মূলধারার রসায়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতেন। এই ধরনের অমায়িক সহনশীলতা সত্ত্বেও, কঠিন অবস্থা রসায়ন ধীরে ধীরে আধুনিক কঠিন অবস্থা ও উপাদান বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
  • পঞ্চাশ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। প্রথম ৩০-৩৫ বছর- এই সময়কে আমরা এমন একটি সময় বলতে পারি, যখন ভারত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মোকাবেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিল। উদাহরণস্বরূপ, আমরা আইআইটি এবং জাতীয় গবেষণাগারের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলাম... আমাদের আরও উন্নত পরিকাঠামোগত সুবিধা প্রয়োজন এবং আমাদের আরও কঠিন সমস্যা নিয়ে কাজ করতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা কিছুটা পুনরাবৃত্তিমূলক সমস্যা নিয়ে কাজ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমরা যদি অগ্রভাগে থাকতে চাই, তবে আমাদের উদ্ভাবক এবং নতুনত্বের প্রবর্তক হতে হবে।
    • উদ্ধৃতি: "ইন কনভারসেশন" (pdf)। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  • আমি এই ইউনিটটি প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে, কঠিন অবস্থা রসায়ন ক্ষেত্রটিকে আর এই নামে অভিহিত করা হয় না বরং এখন একে উপাদান রসায়ন বলা হয়। এই বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে এই বিষয়টি গুরুত্ব লাভ করার অনেক আগেই, আমি ব্যাঙ্গালোরে এই ইউনিটটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। বর্তমানে রসায়নের দুটি প্রধান ধারা রয়েছে: রাসায়নিক জীববিজ্ঞান এবং উপাদান রসায়ন।
    • উদ্ধৃতি: ইন কনভারসেশন।
  • আমার মনে হয়, মৌলিক বিজ্ঞান এখন প্রাপ্য মর্যাদা পাচ্ছে। আমি আগেও বলতাম যে, ড. হোমি ভাবা এবং আরও কয়েকজন বিশিষ্ট গবেষকের এই সম্মান পাওয়া উচিত ছিল। বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেন, কিন্তু খুব কমই স্বীকৃতি পান। আমি দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে কাজ করে আসছি। ১৭ বছর বয়সে আমি আমার গবেষণা শুরু করেছিলাম। শীঘ্রই আমার বয়স ৮০ পূর্ণ হতে চলেছে।
  • বিজ্ঞানের প্রতি আমার আগ্রহ তিনিই প্রথম চিনতে পেরেছিলেন এবং আমাকে প্রচুর উৎসাহ জুগিয়েছিলেন। আমার বয়স যখন মাত্র ৩০ বছর, তখন তিনি আমাকে ইন্ডিয়ান একাডেমি অফ সায়েন্সেসের সদস্য করেছিলেন। আমি কখনোই তার সমকক্ষ হতে পারব না।
    • চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন সম্পর্কে তার বক্তব্য। উদ্ধৃতি: সিএনআর রাও: ভারত ফাইন্ডস অ্যা জুয়েল ইন সায়েন্স।
  • আমার নায়ক হলেন নোবেল বিজয়ী নেভিল মট, যিনি ৯২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করার সময় চারটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন।
    • রসায়নে অগাস্ট উইলহেলম ভন হফম্যান পদক পাওয়ার পর তার বক্তব্য। উৎস: "নিড ইয়ং সায়েন্টিস্টস টু লিড: সি এন আর রাও"। নেচার পাবলিশিং গ্রুপ। ১১ জানুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  • আমার জন্য সঙ্গীত নিরাময়ের মতো।
  • ন্যানোকণা হলো ন্যানোউপাদানের একটি প্রধান শ্রেণি। ন্যানোকণা শূন্য-মাত্রিক,তিনটি মাত্রাতেই অমেট্রিক মাত্রা থাকে।
  • আমার মনে হয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারকে ভারতীয় শিল্পমহলের সহায়তা করা উচিত। সরকার একা এসব করতে পারবে না। এখন, এক্ষেত্রে শিল্পমহলের কোনো ভূমিকাই নেই। আমি বিগত প্রায় ৪০ বছর ধরে গবেষণার কাজে যুক্ত আছি। যুক্তরাষ্ট্রে, গবেষণা ও উন্নয়নের (আর অ্যান্ড ডি) মোট ব্যয়ের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই বহন করে শিল্পমহল। আমাদের দেশেও একই ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন এবং এই দায়িত্ব শিল্পমহলকেই পালন করতে হবে। অতীতে, ভারতের শিল্পমহল গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করত না। কারণ তখন তারা যেকোনো পণ্যই অনায়াসে বিক্রি করতে পারত। বর্তমানে তারা দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপানের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে চাইছে, কিন্তু বাস্তবে তারা তা করে উঠতে পারছে না। আমাদের এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে, অন্যথায় শিল্পমহল প্রতিযোগিতা করতে পারবে না।
    • উদ্ধৃতি: "উই নিড টু হ্যাভ অ্যান ইনস্টিংক্ট ফর সেল্ফ-প্রিসার্ভেশন: সি এন আর রাও"।
  • এছাড়াও, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে আমাদের মূল্যবোধ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের উদ্ভাবনের বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলতে হবে এবং প্রযুক্তি শীঘ্রই চলে আসবে। উদ্ভাবনের জন্য মূল্যায়ন করা ১৪০টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ছিল ৬৬। আমাদের কাজ করার নতুন উপায় এবং চিন্তা করার নতুন পদ্ধতির প্রয়োজন। আমরা একই কাজ করে যেতে পারি না। জুগার (অস্থায়ী সমাধান) এর মধ্যে একটি। পরিবেশটা নিজেথেকেই উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা উচিত।
    • উদ্ধৃতি: "উই নিড টু হ্যাভ অ্যান ইনস্টিংক্ট ফর সেল্ফ-প্রিসার্ভেশন: সি এন আর রাও"।
  • আমাদের সমাজ এমন একদল আইকন ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছে, যারা কেবল এই [ব্যাঙ্গালুরু] শহরের ভবিষ্যৎকেই নয় বরং সমগ্র ভারতের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের মূল্যবোধকেও বিকৃত করে চলেছে। আমাদের মানুষ পাণ্ডিত্যের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলেছে। অর্থ ও বাণিজ্য এখন সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছে। যদি তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের মৌলিক মূল্যবোধগুলোকেই কেড়ে নেয়, তবে আপনি ব্যাঙ্গালুরুকে পুড়িয়ে ফেলতে পারেন, পুড়িয়ে ফেলুন তথ্যপ্রযুক্তিকেও।

আন্ডারস্ট্যান্ডিং কেমিস্ট্রি (১৯৯৯)

[সম্পাদনা]

সি. এন. আর. রাও (১৯৯৯)। আন্ডারস্ট্যান্ডিং কেমিস্ট্রি। ইউনিভার্সিটিস প্রেস। আইএসবিএন 978-81-7371-250-0 

দিল্লির মরচেহীন লৌহস্তম্ভ
  • প্রাচীন গ্রিস ও ভারতের দার্শনিকেরা যিশুখ্রিষ্টের শত শত বছর আগেই [পদার্থ কী দিয়ে গঠিত] এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছিলেন।
    • পৃষ্ঠা ৭।
  • মৌলসমূহের আদি ধারণার একমাত্র যে অংশটি টিকে আছে তা হলো যে মৌলসমূহের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
    • পৃষ্ঠা ৮।
  • মৌল হলো এমন একটি পদার্থ যাকে সাধারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও সরলতর পদার্থে পরিণত করা যায় না এবং যা কেবল এক প্রকারের কণা দ্বারা গঠিত।
    • পৃষ্ঠা ৮।
  • মাত্র ১৯১১ সাল থেকে আমরা জানি যে পরমাণুতে ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন এবং ধনাত্মক চার্জযুক্ত নিউক্লিয়াস থাকে।
    • পৃষ্ঠা ২৯।
  • পরমাণুর ধারণা মূলত একটি তত্ত্ব হিসেবে প্রস্তাবিত হয়েছিল। যদিও বিভিন্ন উপায়ে এদের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছিল, তবুও মানুষ মনে করত না যে এদের সরাসরি দেখা সম্ভব। অতি সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই ছিল। বর্তমানে শক্তিশালী আণুবীক্ষণিক কৌশল প্রয়োগ করে আমরা পরমাণুকে সরাসরি দেখতে সক্ষম।
    • পৃষ্ঠা ২২।
  • ধাতুর প্রতি মানুষের অনুসন্ধান প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই চলে আসছে। ভারতে কয়েক হাজার বছর ধরে ধাতুর ব্যবহার হয়ে আসছে। ইতিহাসের নির্দিষ্ট কিছু সময়কাল সেই সময়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত বিশেষ কিছু ধাতুর সাথে সম্পর্কিত।
    • পৃষ্ঠা ২৮।
  • দিল্লির বিখ্যাত লৌহস্তম্ভটি, যা গুপ্ত যুগে (১৫০০ বছরেরও বেশি আগে) নির্মিত হয়েছিল, এক বিস্ময়। এত বছর পরেও এই স্তম্ভটি কোনো রকম ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সোজা দাঁড়িয়ে আছে। এই মরচেহীন লৌহস্তম্ভটি আমাদের পূর্বপুরুষদের মহান উদ্ভাবনী শক্তির প্রতি এক শ্রদ্ধাঞ্জলি।
    • পৃষ্ঠা ৩৬।
  • পদার্থ তিনটি অবস্থায় থাকতে পারে – গ্যাস, তরল এবং কঠিন। জলও এই তিনটি অবস্থাতেই বিদ্যমান থাকে: গ্যাস (বাষ্প বা জলীয় বাষ্প), তরল (সাধারণ জল) এবং কঠিন (বরফ)। গ্যাস, তরল এবং কঠিন পদার্থের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন ভিন্ন।
    • পৃষ্ঠা ৫৬।
  • এমনকি ধাতুও বিদ্যুৎ প্রবাহে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করে। কিছু উপাদান কোনো বাধা ছাড়াই বিদ্যুৎ পরিবহন করে। এই ধরনের উপাদানকে অতিপরিবাহী বলা হয়।
    • পৃষ্ঠা ৫৯।

ক্লাইম্বিং দি লিমিটলেস ল্যাডার: অ্যা লাইফ ইন কেমিস্ট্রি (২০১০)

[সম্পাদনা]

সি এন আর রাও; অ্যান্টোনিও ভ্যাজকুয়েজ বারকোয়েরো (২০১০)। ক্লাইম্বিং দি লিমিটলেস ল্যাডার: অ্যা লাইফ ইন কেমিস্ট্রি। ওয়ার্ল্ড সায়েন্টিফিক। আইএসবিএন 978-981-4307-86-4 

  • অধ্যাপক ব্রাউন বলতেন, কোনো কাজ যদি করার মতো হয়, তবে তা প্রকাশ করারও যোগ্য। বহু বছর আগে ফ্যারাডেও প্রায় একই কথা বলেছিলেন। বিজ্ঞানে আমরা “কাজ করি, শেষ করি এবং প্রকাশ করি”। এই কথাগুলো আমার সারা পেশাগত জীবন জুড়ে আমাকে পথ দেখিয়েছে।
    • পৃষ্ঠা ৩০।
  • বার্কলির ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউসি বার্কলি) বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়, এবং এদের রসায়ন বিভাগ গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে। এই বিভাগটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জি. এন. লিউইস, যাকে আধুনিক রসায়নের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়।
    • পৃষ্ঠা ৩২।
  • মহীশূরের মহারাজা (তৎকালীন মহীশূরের রাজ্যপাল), আয়াচামরাজেন্দ্র ওয়দেয়ার, একদিনের জন্য বার্কলিতে এসেছিলেন। আমি তাকে চারপাশ ঘুরিয়ে দেখালাম। পাহাড়ের ওপরের বিকিরণ গবেষণাগারের অ্যাক্সিলারেটরগুলো দেখে তিনি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছিলেন। তিনি আমার সাথে কন্নড় ভাষায় কথা বলতে পেরে খুশি হয়েছিলেন এবং আমি যে কিছুটা সংস্কৃত জানি, তাতে তিনি আরও বেশি খুশি হয়েছিলেন।
    • পৃষ্ঠা ৩৫।
  • বার্কলি ক্যাম্পাসটি ছিল শিক্ষাগত দিক থেকে অপ্রতিরোধ্য। মঙ্গলবার সন্ধ্যার আলোচনা সভাগুলোতে সামনের সারিতে রসায়নবিদদের এক বিশাল নক্ষত্রমণ্ডলকে সমবেত হতে দেখা যেত, যাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নোবেল বিজয়ী এবং ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সের সদস্য। এই সভাগুলোতে বক্তৃতা দেওয়াটা ছিল ভয়প্রদ কাজ। তবে শেষমেশ আমি সেগুলো উতরে যেতে পেরেছিলাম।
    • পৃষ্ঠা ৩৭।
  • যেহেতু কোনো অবলোহিত স্পেকট্রোমিটার ছিল না, তাই শ্রেণি কম্পাঙ্কগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আমি এখানে-সেখানে নির্দিষ্ট কিছু যৌগের রুটিন অবলোহিত স্পেকট্রা রেকর্ড করার ব্যবস্থা করেছিলাম। এই গবেষণাপত্রগুলোর একটি পরবর্তীকালে সাইটেশন ক্লাসিক হয়ে যায়।
    • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সে তার প্রথম দিককার কাজ সম্পর্কে, পৃষ্ঠা ৪০।

হাউ আই মেড ইট: সিএনআর রাও, সায়েন্টিস্ট (২০১০)

[সম্পাদনা]

"হাউ আই মেড ইট: সিএনআর রাও, সায়েন্টিস্ট"। ইন্ডিয়া টুডে। ৩ জুন ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ 

  • তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়, ইজরায়েল থেকে প্রাপ্ত মিলিয়ন ডলারের ড্যান ডেভিড পুরস্কারের একাংশ দিয়ে আমরা সিএনআর রাও এডুকেশন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছি কারণ, তরুণ প্রজন্ম যদি অল্প বয়সেই বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট না হয়, তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বর্তমানে আমাদের যেটুকু অগ্রগামিতা রয়েছে, তা আমরা হারিয়ে ফেলব। আমার স্ত্রী ইন্দুুমতী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আমরা ভারতকে বিজ্ঞানের জগতে এক বিশাল শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে দেখতে চাই।
  • আইআইএসসির পরিস্থিতি মার্কিন কেন্দ্রগুলোর সমকক্ষ ছিল না কিন্তু অন্ধকারকে অভিশাপ দেওয়ার চেয়ে মোমবাতি জ্বালানোই শ্রেয়।
  • আণবিক অরবিটাল সংকেত ব্যবহার করে অতিবেগুনি ও দৃশ্যমান বর্ণালীবীক্ষণ বিষয়ক আমার মনোগ্রাফটি অবশেষে ১৯৬০ সালে বই হিসেবে প্রকাশিত হয়।
  • আবেগ, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সাথে আপনার স্বপ্নকে অনুসরণ করুন।
  • শেখা কখনো থামাবেন না। আরও জ্ঞান অর্জনের তৃষ্ণা কখনো শেষ হওয়া উচিত নয়।
  • সর্বদা নতুন অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করুন, সঠিক প্রশ্ন করতে দ্বিধাবোধ করবেন না।
  • নেতাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন, তাদের নেতৃত্বদানের ধরন থেকে যতটা সম্ভব শিখুন।
  • শক্তিশালী ভিত্তি গড়ুন। শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে পৌঁছানোর যাত্রাপথে শক্তিশালী ভিত্তি প্রয়োজন হয়।
  • পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন। আপনার পরিবার ও আপনার পছন্দের বিষয়গুলোর জন্য সময় খুঁজে বের করুন।

সায়েন্টিস্ট ওয়ন্ডার্স হোয়াই নোবডি আস্কস হিম অ্যাবাউট ড্যান ডেভিড প্রাইজ (২০১৩)

[সম্পাদনা]

"সায়েন্টিস্ট ওয়ন্ডার্স হোয়াই নোবডি আস্কস হিম অ্যাবাউট ড্যান ডেভিড প্রাইজ"। ডেকান হেরাল্ড। ১৭ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ 

  • আমাদের অনেক কিছুরই সামর্থ্য ছিল না, কিন্তু আমাদের শিক্ষা ছিল। আমার বাবা একজন প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং পরে শিক্ষা কর্মকর্তা হন। আমার মা অসাধারণ ছিলেন: তিনি আমাকে সবসময় বলতেন, ‘তোমার যা ইচ্ছা তাই করো।’ তিনি আমাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, আসলে আমার বাবা-মা দুজনেই তা দিয়েছিলেন। কিন্তু এর জন্য আমি সত্যিই আমার মায়ের কাছে ঋণী। যখন আমি তাকে বলি যে আমি বেনারস (বারাণসী) পড়তে যাব, তিনি বললেন, ‘তুমি বেনারস যেতে চাও? ঠিক আছে, যাও।’ তিনি বলতেন, ‘টাকাপয়সা নিয়ে চিন্তা করো না, পড়াটাই সবচেয়ে জরুরি, পড়ো আর তাহলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’ আমার পরিবার খুব খোলামেলা ছিল। তাদের কারণেই আমি আজ এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। আমি আমার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান, আমার স্ত্রীও তাই।
  • সেই দিনগুলিতে কেবল গরিব শিক্ষক আর গরিব পুলিশদেরই সবচেয়ে বেশি সন্তান থাকত। কিন্তু আমার বাবা এক ধরনের পরিবার পরিকল্পনায় বিশ্বাস করতেন। তিনি তখন পরিবার পরিকল্পনা শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
  • আমি এমন সব উপাদান নিয়েও কাজ করছি যা নিয়ে বিশ্বে আগে কখনো কাজ করা হয়নি, এই গ্রহে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের উপাদান। আমি নিজের জন্য ততটা চিন্তিত নই, আমি কাজ চালিয়ে যাব। কিন্তু আমি অন্যদের জন্য চিন্তিত।
  • বিজ্ঞানীদের মধ্যে, সি. ভি. রমনের পর আমিই দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি এটি [ভারত রত্ন] পেয়েছেন। এম. বিশ্বেশ্বরাইয়া ছিলেন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী নন। সেই অর্থে আমি এটি পাওয়া দ্বিতীয় বিজ্ঞানী। আমি আনন্দিত যে কন্নড়ভাষীরাও এই পুরস্কার পাচ্ছেন। আমার বাবা-মা ছোটবেলায় আমাকে সবসময় বলতেন ভালোভাবে কন্নড় শিখতে, যাতে আমি কন্নড় ও ইংরেজি দুটো ভাষাতেই পারদর্শী হতে পারি। কন্নড় পড়তে ও লিখতে শেখো, তারপর তুমি ইংরেজি শিখতে পারবে এবং দুটো ভাষাই উপভোগ করতে পারবে।
    • ভারতরত্ন প্রাপ্ত বিজ্ঞানীদের সংখ্যা নিয়ে তার ধারণা ভুল ছিল। পদার্থবিজ্ঞানী এ. পি. জে. আব্দুল কালামকে ১৯৯৭ সালে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়, ফলে রাও বিজ্ঞানীদের মধ্যে তৃতীয় প্রাপক হন।
  • কিছু সিএনআর অনুগামী আছেন। রসায়নে অধ্যাপক ডি ডি শর্মা, পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপক অজয় সুদ ভালো কাজ করছেন। দেখা যাক, তরুণদের মধ্য থেকে আরও অনেকে উঠে আসতে পারেন।
  • আপনারা সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং এই ধরণের বিষয়গুলিতে মনোযোগ দেন। বিজ্ঞানের দিকে কে মনোযোগ দেয়? যখন আমি ড্যান ডেভিড পুরস্কার পেলাম, যা নোবেলের মতোই এবং ইজরায়েল কয়েক বছর পর পর একবার দেয়, তখন কেউ এ নিয়ে কথা বলেনি। কেউ আমাকে এ বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করেনি। এমনকি কেউ এটা জানেও না এবং বোঝেও না। বিজ্ঞানের জগতে এটি এত মর্যাদাপূর্ণ একটি পুরস্কার, কিন্তু এটা নিয়ে কেউ লেখেনি কেন?

চিন্তামণি নাগেশ রামচন্দ্র রাও সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]