জন মুয়ির
জন মুইর (২১ এপ্রিল, ১৮৩৮ – ২৪ ডিসেম্বর, ১৯১৪) ছিলেন একজন স্কটিশ-মার্কিন প্রকৃতিবিদ, লেখক এবং পরিবেশবাদী দার্শনিক। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বন্যপ্রকৃতি সংরক্ষণের একজন প্রাথমিক প্রবক্তা ছিলেন। প্রকৃতিতে বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাডায় তাঁর দুঃসাহসিক অভিযানের কথা নিয়ে লেখা চিঠি, প্রবন্ধ এবং বই কোটি কোটি মানুষ পড়েছেন। তাঁর সক্রিয়তা ইয়োসেমাইট উপত্যকা, সেকুয়া ন্যাশনাল পার্ক এবং অন্যান্য বন্য এলাকা রক্ষায় সাহায্য করেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সিয়েরা ক্লাব আমেরিকার একটি অন্যতম প্রধান প্রকৃতি সংরক্ষণকারী সংস্থা।
উক্তি
[সম্পাদনা]১৮৬০ দশক
[সম্পাদনা]- আমি ক্যালিপসোকে খুঁজে পেয়েছিলাম। তবে কেবল একবারই। কানাডার বন্যতম অন্ধকার বনের গভীরে, সেই উঁচুতে থাকা শীতল ও শ্যাওলা ঘেরা জলাভূমির কাছে তাকে দেখেছিলাম। ...আমার মনে হয়েছিল আমি এমন কোনো শ্রেষ্ঠ সত্তার উপস্থিতিতে আছি যারা আমাকে ভালোবাসে এবং কাছে আসার জন্য ইশারা করছে। আমি তাদের পাশে বসে আনন্দের অশ্রু বিসর্জন দিয়েছিলাম।
- মিসেস এজরা এস. কারের কাছে লেখা চিঠি (১৮৬৬)। ২১ ডিসেম্বর ১৮৬৬ তারিখে 'বস্টন রেকর্ডারে' প্রকাশিত। বনি জোহানা গিজেল সম্পাদিত 'কিনড্রেড অ্যান্ড রিলেটেড স্পিরিটস' (২০০১), পৃষ্ঠা ৪১।
- (এটি মুইরের প্রকাশিত প্রথম লেখা, যা মূলত ক্যালিপসো অর্কিড নিয়ে লেখা।)
- জন মুইর, পৃথিবী গ্রহ, মহাবিশ্ব
- মুইরের বাসার ঠিকানা, যা তাঁর প্রথম মাঠ ডায়েরির প্রচ্ছদের ভেতরের অংশে লেখা ছিল (১ জুলাই ১৮৬৭)।
'মাই ফার্স্ট সামার ইন দ্য সিয়েরা', ১৮৬৯
[সম্পাদনা]'মাই ফার্স্ট সামার ইন দ্য সিয়েরা' (১৯১১) [দ্রষ্টব্য: এই বইয়ের ঘটনাগুলো ১৮৬৯ সালের বসন্ত ও গ্রীষ্মকালের। ধারণা করা হয় সেই সময়ের ডায়েরিটি এখন আর নেই। ১৮৮০-এর দশকের শেষের দিকে মুইর তাঁর ১৮৬৯ সালের সেই ভ্রমণের স্মৃতি নিয়ে একটি নোটবই তৈরি করেন। সেই নোটবইটিই ১৯১১ সালে বই হিসেবে প্রকাশিত হয়।]
- আমরা এখন পাহাড়ের মধ্যে আছি এবং পাহাড় আমাদের মধ্যে মিশে আছে। এটি আমাদের উৎসাহকে জাগিয়ে তুলছে এবং আমাদের প্রতিটি স্নায়ু ও কোষে শিহরণ জাগাচ্ছে।
- টেরি গিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি, পৃষ্ঠা ১৯৫।
- সিয়েরা পর্বতমালার আরও একটি চমৎকার দিন। এই দিনে মনে হয় মানুষ যেন প্রকৃতির সাথে মিশে গিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে ভেসে চলেছে। জীবনকে তখন দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত কোনোটিই মনে হয় না। আমরা নক্ষত্র বা গাছের মতোই সময় বাঁচানোর বা তাড়াহুড়ো করার কোনো চিন্তা করি না। এটিই প্রকৃত স্বাধীনতা এবং এক ধরণের বাস্তব অমরত্ব।
- টেরি গিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি, পৃষ্ঠা ২০৪।
- পাহাড়ের সেই বিশাল, শান্ত এবং অপরিসীম দিনগুলো আমাদের একই সাথে কাজ ও বিশ্রামের প্রেরণা দেয়! এই দিনগুলোর আলোতে সবকিছুই পবিত্র মনে হয় এবং আমাদের সামনে স্রষ্টাকে জানার হাজারো পথ খুলে যায়। পাহাড়ের একটি দিনের আশীর্বাদ যে পেয়েছে, সে যতই ক্লান্ত হোক না কেন, জীবনের পথে কখনো জ্ঞান হারাবে না। তার ভাগ্য যেমনই হোক দীর্ঘ বা স্বল্প জীবন, উত্তাল বা শান্ত। সে চিরকালের জন্য সমৃদ্ধ।
- টেরি গিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি, পৃষ্ঠা ২১২।
- প্রকৃতি তার অমূল্য সম্পদ বিলিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদার। সে সূর্যের আলোর মতোই উদ্ভিদের সৌন্দর্যকে পাহাড়, সমুদ্র, বাগান আর মরুভূমিতে অকাতরে বিলিয়ে দেয়। আর তাই লিলির সৌন্দর্য দেবদূত ও মানুষ, ভালুক ও কাঠবিড়ালি, নেকড়ে ও ভেড়া এবং পাখি ও মৌমাছির ওপর সমানভাবে ঝরে পড়ে।
- টেরি গিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি, পৃষ্ঠা ২২৪।
- এবার এটি বাস্তব। সবাইকে মরতে হবে। একজন পর্বতারোহীর জন্য এর চেয়ে মহিমান্বিত মৃত্যু আর কোথায় হতে পারে!
- 'দ্য ওয়াইল্ড মুইর' আইএসবিএন 0-939666-75-8, পৃষ্ঠা ৩৮ এবং টেরি গিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি, পৃষ্ঠা ২৩৪।
- কয়েক মিনিট আগেও প্রতিটি গাছ উত্তেজিত ছিল। তারা গর্জমান ঝড়ের সামনে মাথা নত করছিল এবং প্রার্থনার মতো করে তাদের ডালপালা দোলাচ্ছিল। যদিও বাইরের কানে এই গাছগুলো এখন শান্ত, কিন্তু তাদের গান কখনোই থামে না। তাদের প্রতিটি কোষ সংগীত ও জীবনে স্পন্দিত হচ্ছে এবং প্রতিটি তন্তু সেতারের তারের মতো কাঁপছে। পাহাড় আর বনভূমি যে ঈশ্বরের প্রথম মন্দির ছিল তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু মানুষ যত বেশি এগুলো কেটে বড় বড় গির্জা বা ক্যাথেড্রাল তৈরি করছে, ঈশ্বরকে ততটাই দূরে আর অস্পষ্ট মনে হচ্ছে।
- টেরি গিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি, পৃষ্ঠা ২৪৩-২৪৪।
- আমরা যখন কোনো কিছুকে এককভাবে বেছে নেওয়ার চেষ্টা করি, তখন দেখি যে তা মহাবিশ্বের অন্য সবকিছুর সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে।
- টেরি গিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি, পৃষ্ঠা ২৪৮। ক্যাথেরিন টাটগে পরিচালিত ও লিখিত প্রামাণ্যচিত্র 'জন মুইর ইন দ্য নিউ ওয়ার্ল্ডের'প্রথম সংলাপ।
- আরও একটি চমৎকার দিন। জিহ্বার কাছে অমৃত যেমন সুস্বাদু, ফুসফুসের কাছে এই বাতাসও ঠিক তেমনই আরামদায়ক।
- টেরি গিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি, পৃষ্ঠা ২৫৩।
- সবকিছুই প্রবহমান। সবই কোথাও না কোথাও যাচ্ছে। প্রাণী এবং নির্জীব হিসেবে পরিচিত পাথরও পানির মতোই চলমান। তুষার দ্রুত বা ধীর গতিতে প্রবাহিত হয়ে চমৎকার হিমবাহ বা তুষারধস তৈরি করছে। বাতাস তার রাজকীয় প্রবাহে খনিজ, উদ্ভিদের পাতা, বীজ এবং রেণু বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। পানি পাথরের স্রোত বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নক্ষত্ররা প্রকৃতির উষ্ণ হৃদয়ে রক্তের কণিকার মতো চিরকাল মহাকাশে ছুটে চলেছে।
- টেরি ক্লিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি, পৃষ্ঠা ২৭৭।
- পুরো বন্যপ্রকৃতিকে জীবন্ত এবং পরিচিত মনে হয়। এমনকি পাথরগুলোকেও কথা বলা বন্ধু বা ভাইয়ের মতো সহানুভূতিশীল মনে হয়।
- টেরি ক্লিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি, পৃষ্ঠা ২৭৭।
- প্রকৃতির অসীম প্রাচুর্য ও উর্বরতা বারবার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে এখানে অপচয় বলে কিছু নেই। প্রকৃতির যেকোনো কাজ যখন আমরা আমাদের বুদ্ধি দিয়ে বিচার করি, তখন বুঝতে পারি যে তার কোনো উপাদানই নষ্ট বা ফুরিয়ে যায় না। এটি এক ব্যবহার থেকে অন্য ব্যবহারে এবং এক সৌন্দর্য থেকে আরও উচ্চতর সৌন্দর্যে চিরকাল প্রবাহিত হচ্ছে। তাই আমরা অপচয় বা মৃত্যু নিয়ে শোক করা বন্ধ করে বরং মহাবিশ্বের এই অবিনশ্বর সম্পদের আনন্দে মেতে উঠি। আমাদের চারপাশে যা কিছু ম্লান হয়ে যায় বা মারা যায়, আমরা বিশ্বস্ততার সাথে সেগুলোর পুনরায় ফিরে আসার অপেক্ষা করি। আমরা নিশ্চিত জানি যে তার পরের রূপটি আগের চেয়ে আরও ভালো এবং সুন্দর হবে।
- টেরি ক্লিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি, পৃষ্ঠা ২৭৯।
- এখানেই আমার চিরস্মরণীয় প্রথম হাই সিয়েরা অভিযানের সমাপ্তি। আমি আলোর পর্বতমালা (রেঞ্জ অব লাইট) অতিক্রম করেছি। এটি নিশ্চিতভাবেই স্রষ্টার তৈরি সবকিছুর মধ্যে উজ্জ্বলতম এবং শ্রেষ্ঠ। এর মহিমায় আনন্দিত হয়ে আমি কৃতজ্ঞচিত্তে প্রার্থনা করি যেন আমি একে আবার দেখতে পাই।
- টেরি ক্লিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি, পৃষ্ঠা ২৮৭।
১৮৭০ দশক
[সম্পাদনা]
- সামগ্রিকভাবে বন্যপ্রকৃতি এক ঐক্য ও আন্তঃসম্পর্কের মাধ্যমে জীবন্ত এবং পরিচিত... এমনকি পাথরগুলোকেও কথা বলা বন্ধু বা ভাইয়ের মতো সহানুভূতিশীল মনে হয়। ...প্রকৃতির কোনো উপাদানই কখনো নষ্ট বা ফুরিয়ে যায় না বরং এটি এক ব্যবহার থেকে অন্য ব্যবহারে চিরকাল প্রবাহিত হয়।
- লিনি মার্শ উলফ রচিত 'সন অব দ্য ওয়াইল্ডারনেস' (১৯৪৫) গ্রন্থে উল্লিখিত মুইরের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত।
- আমার হৃদয়ে অন্তত একটি জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গ আছে এবং এটি হয়তো রাজকীয় বাতাসের ছোঁয়ায় শরতের এই সোনালী আলোতে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। আমার পূর্বপুরুষদের কেউ নিশ্চয়ই কোনো বন্য প্রান্তরে জন্মেছিলেন। কারণ আমার ভেতরে হিদার ফুল আর জলাভূমির নির্যাস রয়েছে। এগুলোই আমাকে নক্ষত্রলোকের দিকে নিয়ে যায় এবং আমার শিরায় শিরায় বয়ে চলে। এটি আমাকে অন্তহীন হিমবাহের তৃণভূমিতে অবিরাম ছুটে চলতে বাধ্য করে।
- মিসেস এজরা এস. কারের কাছে লেখা চিঠি (১৮৭০)। উইলিয়াম ফ্রেডেরিক বাডে সম্পাদিত 'দ্য লাইফ অ্যান্ড লেটারস অব জন মুইর' (১৯২৪) প্রকাশিত।
- আমি আমার সহজাত প্রবৃত্তি অনুসরণ করব, ভালো বা মন্দের তোয়াক্কা না করে নিজের মতোই থাকব এবং দেখব শেষ পর্যন্ত কী হয়। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, জলপ্রপাত, পাখি এবং বাতাসের গান শুনব। আমি পাথরগুলোর ভাষা অনুবাদ করব, বন্যা, ঝড় এবং তুষারধসের ভাষা শিখব। আমি হিমবাহ এবং বন্য বাগানগুলোর সাথে পরিচিত হব এবং পৃথিবীর হৃদয়ের যতটা কাছে যাওয়া সম্ভব, ততটাই কাছে পৌঁছাব।
- লিনি মার্শ উলফ রচিত 'সন অব দ্য ওয়াইল্ডারনেস' (১৯৪৫) মুইরের একটি আত্মজীবনীমূলক নোটবই থেকে উদ্ধৃত।
- মানুষ যখন তার স্রষ্টার হাত থেকে এসেছিল, তখন তার মন ও শরীর উভয়ই ছিল কাব্যিক। কিন্তু সভ্যতার স্থূল পৌত্তলিকতা সাধারণত প্রকৃতি, কবিতা এবং আধ্যাত্মিক সবকিছুকেই ধ্বংস করে দিয়েছে।
- জে. বি. ম্যাকচেসনিকে লেখা চিঠি (১৯ সেপ্টেম্বর ১৮৭১)।
- পাথর এবং জলরাশি হলো ঈশ্বরের শব্দ, ঠিক যেমন মানুষও তাঁর শব্দ। আমরা সবাই এক পরমাত্মার উৎস থেকে প্রবাহিত হচ্ছি। সবাই এক ভালোবাসার প্রকাশ। ঈশ্বর কেবল বিশেষ কোনো জাতি বা স্থানে সীমিতভাবে প্রকাশিত হন না। তিনি কোনো সীমানা বা ধর্মমতের তোয়াক্কা না করে এক বিশাল অবিভক্ত স্রোতের মতো সভ্যতা, মানুষ এবং পশু—সবার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হন এবং সবাইকে সিক্ত করেন।
- ক্যাথরিন মেরিলকে লেখা চিঠি (৯ জুন ১৮৭২)। উইলিয়াম ফ্রেডেরিক বাডে সম্পাদিত 'দ্য লাইফ অ্যান্ড লেটারস অব জন মুইর' (১৯২৪) প্রকাশিত।
- আমি যখন ইয়োসেমাইট উপত্যকায় পৌঁছালাম, তখন সব পাথরকে কথা বলা বন্ধুর মতো মনে হলো এবং তাদের আগের চেয়েও বেশি প্রিয় মনে হলো। তারা আমার প্রিয় বন্ধু এবং তাদের গ্রানাইট শরীরের ভেতর দিয়ে যেন উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘ ও নিবিড় সাহচর্যের কারণে আমি তাদের গভীরভাবে ভালোবাসি। ...আমি উজ্জ্বল নদীতে স্নান করেছি, তৃণভূমিতে ঘুরে বেড়িয়েছি, পাহাড়ের চূড়াগুলোর সাথে কথা বলেছি এবং পাইন গাছগুলোর সাথে খেলেছি।
- মিসেস এজরা এস. কারের কাছে লেখা চিঠি (ডিসেম্বর ১৮৭২)। 'ওভারল্যান্ড মান্থলি' (এপ্রিল ১৮৭৩) এবং পরবর্তীতে 'স্টিল ট্রেইলস' (১৯১৮) প্রকাশিত।
- আমি চাঁদের আলোতে লম্বা ও দৃঢ় কদমে দৌড়ে বাড়ি ফিরলাম। কারণ সূর্যের প্রতি ভালোবাসা আমাকে শক্তিশালী করেছিল। জুনিপার আর ফার গাছের বনের ভেতর দিয়ে কখনো গাঢ় ছায়ায়, কখনো সাদা আলোতে আমি ছুটে চলেছি। ক্যালিফোর্নিয়ার সেই বিশাল সাউথ ডোম পাহাড়টি ফার গাছের আড়াল থেকে এক ভূতের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। এই সবকিছুই ছিল আমার একদিনের পাহাড়ি খাবারের মতো!
- মিসেস এজরা এস. কারের কাছে লেখা চিঠি (ডিসেম্বর ১৮৭২)। 'ওভারল্যান্ড মান্থলি' (এপ্রিল ১৮৭৩) এবং পরবর্তীতে 'স্টিল ট্রেইলস' (১৯১৮) প্রকাশিত।
- আমি এক পাথর থেকে অন্য পাথরে, এক ঝরনা থেকে অন্য ঝরনায় এবং এক বন থেকে অন্য বনে ঘুরে বেড়িয়েছি। রাত যেখানে নেমেছে, সেখানেই আমি ক্যাম্প করেছি। যখনই কোনো নতুন উদ্ভিদ খুঁজে পেয়েছি, আমি তার পাশে এক মিনিট বা একদিনের জন্য বসেছি যেন তার সাথে পরিচিত হতে পারি এবং সে কী বলতে চায় তা শুনতে পারি। ...যে বড় পাথরগুলোর সাথে আমার দেখা হয়েছে, আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছি তারা কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় যাচ্ছে।
- 'এক্সপ্লোরেশনস ইন দ্য গ্রেট টুয়লামনি ক্যানিয়ন', 'ওভারল্যান্ড মান্থলি' (আগস্ট ১৮৭৩) এবং পরবর্তীতে 'জন অব দ্য মাউন্টেনস' (১৯৩৮) প্রকাশিত।
- আমি আমাদের পূর্বপুরুষদের ঈর্ষা করতাম কারণ তারা ইডেন গার্ডেনের নতুন গাছপালা ও মাঠের সংস্পর্শে বাস করতেন। কিন্তু এখন আর আমি ঈর্ষা করি না, কারণ আমি আবিষ্কার করেছি যে আমিও "সৃষ্টির ঊষালগ্নে" বাস করছি। ভোরের নক্ষত্ররা আজও একসাথে গান গায় এবং এই পৃথিবী, যা এখনো অর্ধেকও তৈরি হয়নি, প্রতিদিন আরও সুন্দর হয়ে উঠছে।
- 'এক্সপ্লোরেশনস ইন দ্য গ্রেট টুয়লামনি ক্যানিয়ন', 'ওভারল্যান্ড মান্থলি' (আগস্ট ১৮৭৩) এবং পরবর্তীতে 'জন অব দ্য মাউন্টেনস' (১৯৩৮) প্রকাশিত।
- শহরে কৃত্রিমভাবে বাস করে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি এবং নিজেদের কখনোই চিনতে পারছি না।
- 'এক্সপ্লোরেশনস ইন দ্য গ্রেট টুয়লামনি ক্যানিয়ন', 'ওভারল্যান্ড মান্থলি' (আগস্ট ১৮৭৩) এবং পরবর্তীতে 'জন অব দ্য মাউন্টেনস' (১৯৩৮) প্রকাশিত।
- পাহাড় আমাকে ডাকছে এবং আমাকে যেতেই হবে।
- বোন সারাহ মুইর গ্যালোওয়েকে লেখা চিঠি (৩ সেপ্টেম্বর ১৮৭৩)।
- বাতাসে ডানা যেমন সংগীত তৈরি করে, তেমনি জগতের সবকিছুই সংগীতের তালে চলে এবং তা লিখে রাখে। টিলার বালুর ওপর ইঁদুর, টিকটিকি আর ঘাসফড়িং ভোরের নক্ষত্রদের সাথে মিলে একসাথে গান গায়।
- মিসেস এজরা এস. কারের কাছে লেখা চিঠি (সেপ্টেম্বর ১৮৭৪)।
- প্রতি দুটি পাইন গাছের মাঝখানে একটি করে দরজা আছে যা জীবনের নতুন পথের দিকে নিয়ে যায়।
- রালফ ওয়াল্ডো এমারসনের 'প্রোজ ওয়ার্কস' বইয়ের প্রথম খণ্ডে মুইরের হাতে লেখা একটি নোট।
- এখন আর কোনো পাথর বা দূরের কোনো পাহাড় আমাকে ডাকছে না। নিশ্চিতভাবেই আমার জীবনের মার্সেড এবং টুয়লামনি অধ্যায় শেষ হয়েছে।
- মিসেস এজরা এস. কারের কাছে লেখা চিঠি (সেপ্টেম্বর ১৮৭৪)।
- আমি চিরকালের জন্য একজন পর্বতারোহী।
- মিসেস এজরা এস. কারের কাছে লেখা চিঠি (৭ অক্টোবর ১৮৭৪)।
- আমি কেবল মানুষকে প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিকে আকৃষ্ট করার জন্যই বেঁচে থাকতে চাই।
- মিসেস এজরা এস. কারের কাছে লেখা চিঠি (৭ অক্টোবর ১৮৭৪)।
- বর্তমান সভ্যতার কোনো শিক্ষাই মানুষের বন্যপ্রকৃতির সাথে সম্পর্কের সঠিক উপলব্ধির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি, যতটা পেরেছে এই ধারণাটি যে পৃথিবী কেবল মানুষের ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়েছে। প্রতিটি প্রাণী, উদ্ভিদ এবং পাথর এই ধারণাকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করে। তবুও শতাব্দী ধরে এটি শেখানো হচ্ছে এবং এই অন্ধকারের মধ্যে মানুষের বিশাল অহংকার অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে।
- 'ওয়াইল্ড উল', 'ওভারল্যান্ড মান্থলি' (এপ্রিল ১৮৭৫) এবং পরবর্তীতে 'স্টিল ট্রেইলস' (১৯১৮) প্রকাশিত।
- উদ্ভিদ, প্রাণী এবং নক্ষত্র সবই তাদের নির্ধারিত স্থানে এবং পথে একে অপরের সাথে মিশে আছে। তারা একে অপরকে হত্যা করছে বা নিজেরা শিকার হচ্ছে। এই সবকিছুই এক সুষম এবং ছন্দময় অনুপাতের মাধ্যমে ঘটছে।
- 'ওয়াইল্ড উল', 'ওভারল্যান্ড মান্থলি' (এপ্রিল ১৮৭৫) এবং পরবর্তীতে 'স্টিল ট্রেইলস' (১৯১৮) প্রকাশিত।
- যারা সমাজের কোমল কপটতায় অভ্যস্ত, তাদের কাছে ঝড় এবং ভূমিকম্পের গর্জন কতই না ভয়াবহ মনে হয়!
- 'ফ্লাড-স্টর্ম ইন দ্য সিয়েরা', 'ওভারল্যান্ড মান্থলি' (জুন ১৮৭৫)।
- আমি পরামর্শ দেব নদীর তীরে কোনো উইলো ঝোপের নিচে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থাকার জন্য যেখান থেকে চারপাশের দৃশ্য ভালোভাবে দেখা যায়। পাহাড়ের পথে দ্রুত ঘোড়ায় চড়ে ঘোরার চেয়ে এটি উপত্যকাকে চেনার জন্য অনেক বেশি কার্যকর। পুরো উপত্যকাটিই দর্শনীয় স্থানে ভরপুর।
- 'সান ফ্রান্সিসকো ডেইলি ইভনিং বুলেটিন' (২২ জুন ১৮৭৫)।
- পাহাড়ে যাওয়া মানে বাড়ি ফেরা।
- 'সান ফ্রান্সিসকো ডেইলি ইভনিং বুলেটিন' (৩ আগস্ট ১৮৭৫)।
- প্রতিটি দেশে পাহাড় কেবল নদীর উৎস নয়, বরং মানুষেরও উৎস। তাই আমরা সবাই জন্মগতভাবে পর্বতারোহী, আমরা পাথর আর সূর্যের আলোর সন্তান।
- 'সান ফ্রান্সিসকো ডেইলি ইভনিং বুলেটিন' (১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৫)।
- আমি প্রথমবার হাফ ডোম পাহাড়ে উঠেছিলাম। সেই বিষণ্ণ দিনগুলোর একটিতে যা শরৎ আর শীতের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে আসে, যখন মেঘগুলোকে জীবন্ত প্রাণীর মতো মনে হয়।
- 'সান ফ্রান্সিসকো ডেইলি ইভনিং বুলেটিন' (১৮ নভেম্বর ১৮৭৫)।
- প্রকৃতির সাথে প্রতিটি ভ্রমণে মানুষ যা খোঁজে, তার চেয়ে অনেক বেশি পায়।
- 'সান ফ্রান্সিসকো ডেইলি ইভনিং বুলেটিন' (১৯ জুলাই ১৮৭৭) এবং পরবর্তীতে 'স্টিল ট্রেইলস' (১৯১৮) প্রকাশিত।
- টেরি ক্লিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি,পৃষ্ঠা ৯৯৮।
১৮৮০ দশক
[সম্পাদনা]- পৃথিবীর কোনো অংশই এতটা অনুর্বর নয় যে সেখান থেকে ঐশ্বরিক সত্যের সমৃদ্ধ ও মূল্যবান ফসল পাওয়া যাবে না।
- "আর্কটিক কোল মাইনস দ্য ডায়োমিড বে আইল্যান্ডস", 'সান ফ্রান্সিসকো ডেইলি ইভনিং বুলেটিন' (২৫ অক্টোবর ১৮৮১)। পরবর্তীতে 'দ্য ক্রুজ অব দ্য করউইন' (১৯১৭) প্রকাশিত।
- কেবল নিঃশব্দে, একা এবং কোনো মালপত্র ছাড়া গেলেই বনের গভীরে প্রকৃতভাবে প্রবেশ করা সম্ভব। অন্য সব ধরণের ভ্রমণ কেবল ধুলোবালি, হোটেল, মালপত্র আর অর্থহীন কথাবার্তা ছাড়া আর কিছুই নয়।
- স্ত্রী লুই-কে (লুইসা ওয়ান্ডা স্ট্রেনজেল) লেখা চিঠি (জুলাই ১৮৮৮)। উইলিয়াম ফ্রেডেরিক বাডে সম্পাদিত 'দ্য লাইফ অ্যান্ড লেটারস অব জন মুইর' (১৯২৪) প্রকাশিত।
- আপাতদৃষ্টিতে প্রতিকূল ও ধ্বংসাত্মক মনে হওয়া শক্তির মাধ্যমেই প্রকৃতি তার কল্যাণকর পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করে। কখনো আগুনের প্লাবন, কখনো বরফের প্লাবন, আবার কখনো পানির প্লাবনের মাধ্যমে। এরপর সময়ের পূর্ণতায় প্রাণের এক বিশাল বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- 'পিকচারস্ক ক্যালিফোর্নিয়া' (১৮৮৮-১৮৯০) এবং পরবর্তীতে 'স্টিল ট্রেইলস' (১৯১৮) প্রকাশিত।
- বিশুদ্ধ পানি আর বাতাসের সান্নিধ্যে যাও। প্রকৃতির চিরযৌবনের স্পর্শে তুমি তোমার নিজের যৌবনকেও নবায়ন করতে পারবে। নিরিবিলিতে একা যাও। তোমার কোনো ক্ষতি হবে না।
- 'পিকচারস্ক ক্যালিফোর্নিয়া' (১৮৮৮-১৮৯০) এবং পরবর্তীতে 'স্টিল ট্রেইলস' (১৯১৮)-এ প্রকাশিত।
- মাউন্ট রেনিয়ারের চূড়া থেকে আমরা যে দৃশ্য উপভোগ করেছি তার মহিমা ও বিশালতা অতুলনীয়। তবে আকাশের এত উঁচুতে নিজেকে বাড়ি থেকে অনেক দূরে মনে হয়। তাই মনে হয় যে জ্ঞানার্জন এবং আরোহণের উত্তেজনা বাদ দিলে পাহাড়ের চূড়ার চেয়ে পাহাড়ের পাদদেশেই বেশি আনন্দ পাওয়া যায়। তবে সেই মানুষটি দ্বিগুণ সুখী যার নাগালের মধ্যে পাহাড়ের সুউচ্চ চূড়া রয়েছে। কারণ সেখানে যে আলো জ্বলে তা নিচের সবকিছুকে আলোকিত করে।
- 'পিকচারস্ক ক্যালিফোর্নিয়া' (১৮৮৮-১৮৯০) এবং পরবর্তীতে 'স্টিল ট্রেইলস' (১৯১৮) প্রকাশিত।
- যারা ক্ষমতা, ভালোবাসা এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে একটি উদ্যান (পার্ক) তৈরি করবেন, তারা সুখী হবেন। তাদের কখনোই বিস্মৃত হতে দেওয়া হবে না। গাছপালা এবং প্রকৃতিপ্রেমীরা তাদের প্রশংসা করবে এবং অনাগত প্রজন্মের মানুষ তাদের আশীর্বাদ জানাবে।
- 'পিকচারস্ক ক্যালিফোর্নিয়া' (১৮৮৮-১৮৯০) এবং পরবর্তীতে 'স্টিল ট্রেইলস' (১৯১৮) প্রকাশিত।
- মুইর নিজেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন। আমি একজন কবি-ভবঘুরে-ভূতত্ত্ববিদ-উদ্ভিদবিদ এবং পাখি-প্রকৃতিবিদ ইত্যাদি ইত্যাদি—!—!—! !
- রবার্ট আন্ডারউড জনসনকে লেখা চিঠি (১৩ সেপ্টেম্বর ১৮৮৯)।এটি অনেকবার প্রকাশিত হয়েছে, প্রায়ই বানান সংশোধন করে।
১৮৯০ দশক
[সম্পাদনা]- এক উজ্জ্বল সকালে পচেকো পাসের মাথায় দাঁড়িয়ে এমন এক প্রাকৃতিক দৃশ্য প্রকাশিত হলো যা আমার সমস্ত ভ্রমণের স্মৃতিকে ছাপিয়ে আজও সবচেয়ে পবিত্র এবং মহিমান্বিত মনে হয়। আমার পায়ের নিচে ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল কেন্দ্রীয় প্রান্তর বিছিয়ে ছিল। ত্রিশ বা চল্লিশ মাইল চওড়া এবং চারশ মাইল লম্বা এক হ্রদের মতো সমতল এই প্রান্তর, যা সোনালী কমপোজিটি ফুলের এক সমৃদ্ধ গালিচা। আর এই সোনালী হ্রদের পূর্ব তীরে জেগে ছিল সুবিশাল সিয়েরা পর্বতমালা, মাইলের পর মাইল উঁচু, শান্ত ও গম্ভীর মহিমায় দাঁড়িয়ে। এটি এতই উজ্জ্বল ছিল যে মনে হচ্ছিল তা যেন কেবল আলো দিয়ে তৈরি কোনো স্বর্গের প্রাচীর। এর চূড়ায় ছিল মুক্তোর মতো ধূসর বরফের স্তর। তার নিচে নীল ও গাঢ় বেগুনি বনের রেখা। আর পাহাড়ের পাদদেশে গোলাপী-বেগুনি রঙের আভা যেখানে খনিশ্রমিকদের সোনা আর পাহাড়ের বাগানগুলো অবস্থিত। সবগুলো রঙ চমৎকারভাবে মিশে গিয়ে স্ফটিকের মতো পরিষ্কার এক আলোর দেয়াল তৈরি করেছিল। তখন আমার মনে হয়েছিল এই সিয়েরা পর্বতমালাকে কেবল তুষারাবৃত পাহাড় (নেভাদা) না বলে 'আলোর পর্বতমালা' (রেঞ্জ অব লাইট) বলা উচিত। দশ বছর এই পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যের আলো, ভোরের রক্তিম আভা, দুপুরের উজ্জ্বলতা আর হাজারো জলপ্রপাতের জলকণায় তৈরি হওয়া রংধনু দেখার পর আজও এটি আমার কাছে সবার উপরে 'আলোর পর্বতমালা'।
- "দ্য ট্রেজারস অব দ্য ইয়োসেমাইট", 'দ্য সেঞ্চুরি ম্যাগাজিন', খণ্ড ৪০, সংখ্যা ৪ (আগস্ট ১৮৯০), পৃষ্ঠা ৪৮৩।
- সেই স্মরণীয় দিনটি বেগুনি এবং সোনালী আভায় ডুবে গিয়েছিল। সূর্যাস্তের শেষ রেশটুকু যখন পশ্চিমে মিলিয়ে গেল এবং আকাশে নক্ষত্ররা ফুটে উঠল, তখন পূর্ণিমার চাঁদ উপত্যকার কিনারায় উঁকি দিল। চাঁদের সেই রূপালী আলোয় বিশাল পাথরগুলো অন্ধকার থেকে কোনো পবিত্র আত্মার মতো বেরিয়ে এল।
- "এ রাইভাল অব দ্য ইয়োসেমাইট", 'দ্য সেঞ্চুরি ম্যাগাজিন', খণ্ড ৪৩, সংখ্যা ১ (নভেম্বর ১৮৯১), পৃষ্ঠা ৮৬।
- আমাদের আইনপ্রণেতারা যেন দেরি না করে, অনেক দেরি হওয়ার আগেই এই অসাধারণ অঞ্চলটিকে মানবজাতির কল্যাণ ও বিনোদনের জন্য সংরক্ষিত করেন। তবে পুরো বিশ্ব তাদের আশীর্বাদ জানাবে।
- "এ রাইভাল অব দ্য ইয়োসেমাইট", 'দ্য সেঞ্চুরি ম্যাগাজিন', খণ্ড ৪৩, সংখ্যা ১ (নভেম্বর ১৮৯১), পৃষ্ঠা ৯৭।
- সিয়েরা ক্লাব প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে: আশা করি আমরা বন্যপ্রকৃতির জন্য কিছু করতে পারব এবং পাহাড়গুলোকে আনন্দিত রাখতে পারব।
- হেনরি সেনজারকে লেখা চিঠি (২২ মে ১৮৯২)।
- এই সংরক্ষিত বনভূমিগুলো কেবল পাশের মানুষের সুবিধার জন্য নয়, এগুলো পুরো জাতির সম্পদ এবং বৃহত্তর কল্যাণের জন্য সংরক্ষিত। স্থানীয় কোনো একটি শিল্পের বর্তমান লাভের জন্য এগুলোকে ধ্বংস করা বা বিপন্ন করা একদমই অযৌক্তিক।
- পোর্টল্যান্ড 'মর্নিং অরিগনিয়ান' পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন (৩১ মে ১৮৯৯)।
'দ্য মাউন্টেনস অব ক্যালিফোর্নিয়া' (১৮৯৪)
[সম্পাদনা]- যখন আমি প্রথম এপ্রিলের এক উজ্জ্বল দিনে পচেকো পাসের চূড়া থেকে এই দৃশ্য দেখেছিলাম, তখন কেন্দ্রীয় উপত্যকাটি ছিল সোনালী ফুলে ঢাকা এক বিশাল চাদরের মতো। তখন থেকেই আমার মনে হয়েছিল সিয়েরা পর্বতমালাকে 'আলোর পর্বতমালা' বলা উচিত। পাহাড়ের মাঝখানে কাটানো দশ বছর এবং এর বরফাবৃত চূড়ায় সূর্যের আলো আর জলপ্রপাতের জলকণায় তৈরি হওয়া রংধনু দেখার পর আজও এটি আমার কাছে 'আলোর পর্বতমালা'।
- ১ম অধ্যায়: 'দ্য সিয়েরা নেভাদা'।
- প্রকৃতি তার কাজ করার হাতিয়ার হিসেবে ভূমিকম্প বা বজ্রপাতকে বেছে নেয়নি। বরং সূর্যের আলো আর সাগরের কোল থেকে জন্ম নেওয়া কোমল তুষার-ফুলগুলোকে বেছে নিয়েছে, যা কয়েক শতাব্দী ধরে নিঃশব্দে ঝরে পড়েছে।
- ১ম অধ্যায়: 'দ্য সিয়েরা নেভাদা'।
- সূর্য পাহাড়গুলোকে কত চমৎকার অভিবাদন জানায়!
- ৪র্থ অধ্যায়: 'এ নিয়ার ভিউ অব দ্য হাই সিয়েরা'।
- সভ্যতার বিষাদময় ঘরের তুলনায় পাহাড়ের এই অট্টালিকাগুলো মৃত্যুর জন্য অনেক বেশি পবিত্র ও মনোরম জায়গা। এই পৃথিবীতে ঘরের চেয়ে বিপজ্জনক জায়গা খুব কমই আছে। তাই পাহাড়ের পথগুলোতে চলতে ভয় পাবেন না। এগুলো আপনার মনের দুশ্চিন্তা দূর করবে, আপনাকে একঘেয়েমি থেকে মুক্তি দেবে এবং আপনার প্রতিটি প্রতিভাকে উজ্জীবিত করবে। এমনকি অসুস্থদেরও এই পথে আসা উচিত। কারণ পাহাড় হয়তো একজনকে মারে কিন্তু হাজার জনকে সুস্থ করে তোলে।
- ৫ম অধ্যায়: 'দ্য পাসেস'।
- অবর্ণনীয় আনন্দের সাথে আপনি ঘাসযুক্ত রোদেলা প্রান্তরে যখন হাঁটবেন, তখন মনে হবে আপনি প্রকৃতির সবচেয়ে পবিত্র কক্ষে আছেন। সেখানে পাহাড়ের কঠোরতা নেই, নেই কোনো অনুপ্রবেশের ভয়। আপনি সেখানে নিজেকে খুঁজে পাবেন এবং মহাজাগতিক সৌন্দর্যের মাঝে মুক্ত বোধ করবেন। যদিও দৃশ্যটি অত্যন্ত আধ্যাত্মিক, তবুও এর সবকিছুই মানুষের ভালোবাসার মতো অত্যন্ত পরিচিত ও বাস্তব।
- ৭ম অধ্যায়: 'দ্য গ্লেসিয়ার মিডোস'।
- সাধারণত মনে করা হয় এই ধরণের আনন্দ একজন শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞানচর্চার অনুপযুক্ত করে তোলে। কিন্তু এর প্রভাব সম্পূর্ণ উল্টো। এটি মনকে বিচ্যুত করার বদলে রোদে পুষ্ট উদ্ভিদের মতো আরও উর্বর ও বিকশিত করে।
- ৭ম অধ্যায়: 'দ্য গ্লেসিয়ার মিডোস'।
- সুগার পাইন গাছ প্রসঙ্গে: এর কাঠ চমৎকার সুগন্ধিযুক্ত এবং এর গঠন খুব সুন্দর। এটি দেখতে উজ্জ্বল ক্রিম-হলুদ বর্ণের, যেন সূর্যের রশ্মিগুলো জমাট বেঁধে এটি তৈরি হয়েছে।
- ৮ম অধ্যায়: 'দ্য ফরেস্টস'।
- হেমলক স্প্রুস বা মাউন্টেন হেমলক প্রসঙ্গে: হরিণরা এর ডালপালার নিচে শুতে পছন্দ করে। তুষারগলা স্বচ্ছ জলের ধারা এর বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যায়। এর সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। পাহাড়ে আসুন এবং নিজেই দেখুন।
- ৮ম অধ্যায়: 'দ্য ফরেস্টস'।
- বাতাস যা কিছু স্পর্শ করে তার বার্তা বহন করে আনে, তা আমরা পড়তে পারি আর নাই পারি। এমনকি কেবল সুগন্ধ দিয়েই বাতাস তার ভ্রমণের গল্প বলে দেয়।
- ১০ম অধ্যায়: 'এ উইন্ড-স্টর্ম ইন দ্য ফরেস্টস'।
- গাছ এবং মানুষ আমরা সবাই আকাশগঙ্গার যাত্রী। ঝড়ের দিনে বাতাসের তোড়ে দোলার সময় আমার প্রথম মনে হয়েছিল যে গাছগুলোও সাধারণ অর্থে পর্যটক। আমাদের যাতায়াত বা আসা-যাওয়া গাছদের দোলার চেয়ে খুব বেশি কিছু নয়।
- ১০ম অধ্যায়: 'এ উইন্ড-স্টর্ম ইন দ্য ফরেস্টস'।
- ওয়াটার আউজেল বা আমেরিকান ডিপার পাখি প্রসঙ্গে: সাধারণ অর্থে তার গান হলো ঝরনার সুরের এক আধ্যাত্মিক রূপ। জলপ্রপাতের গম্ভীর গর্জন, স্রোতের কলকল শব্দ আর শ্যাওলার ডগা থেকে টুপটুপ করে শান্ত পুকুরে পড়া পানির শব্দের মিষ্টি সুর তার গানের মধ্যে মিশে থাকে।
- ১৩শ অধ্যায়: 'দ্য ওয়াটার-আউজেল'।
- নতুন সৌন্দর্য আমাদের চোখ খুলে দেয়। তাই মাঝে মাঝে সমুদ্রের নিচে প্রবাল দেখতে যাওয়া বা মেঘের উপরে পাহাড়ের চূড়ায় ভ্রমণ করা ভালো। এমনকি অন্ধকারের সুড়ঙ্গে হামাগুড়ি দিয়ে দেখাও উচিত সেখানে কী ঘটছে। এতে যখন আমরা আবার ফিরব, তখন সাধারণ দিনের সৌন্দর্যকেও নতুন করে চিনতে পারব।
- ১৫শ অধ্যায়: 'ইন দ্য সিয়েরা ফুট-হিলস'।
'দ্য ন্যাশনাল পার্কস অ্যান্ড ফরেস্ট রিজার্ভেশনস' (১৮৯৫)
[সম্পাদনা]- বন রক্ষার জন্য আমরা যে লড়াই করেছি এবং করছি, তা হলো ন্যায় ও অন্যায়ের চিরন্তন দ্বন্দ্বের একটি অংশ। আমরা এর শেষ দেখতে পাব কি না জানি না। তবে এই গাছগুলোর জন্য আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে এবং মহৎ কোনো লক্ষ্যের জন্য লড়তে পারাটাও আনন্দের বিষয়।
- ২৩ নভেম্বর ১৮৯৫ তারিখে সিয়েরা ক্লাবে দেওয়া বক্তব্য।
- পাইন গাছের বাণী শোনার ক্ষমতা নেই এমন মানুষ খুব কমই আছে। যদি সাধারণ মানুষকে একবারও বনে নিয়ে গিয়ে গাছদের কথা শোনানো যেত, তবে বন রক্ষার সব বাধা দূর হয়ে যেত।
- সিয়েরা ক্লাবে দেওয়া বক্তব্য (১৮৯৫), পৃষ্ঠা ২৮২-২৮৩।
- ঈশ্বর কখনোই কোনো কুৎসিত প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করেননি। বন্য অবস্থায় সূর্যের আলো যার ওপর পড়ে, তার প্রতিটি জিনিসই সুন্দর।
- সিয়েরা ক্লাবে দেওয়া বক্তব্য (১৮৯৫), পৃষ্ঠা ১৬।
১৯০০ দশক
[সম্পাদনা]
'আওয়ার ন্যাশনাল পার্কস' (১৯০১)
[সম্পাদনা]- হাজার হাজার ক্লান্ত, স্নায়বিক চাপে ভোগা এবং অতি-সভ্য মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে পাহাড়ে যাওয়া মানে বাড়ি ফেরা; তারা বুঝতে পারছে যে বন্যপ্রকৃতি একটি প্রয়োজনীয়তা। পাহাড়ের উদ্যান বা সংরক্ষিত এলাকাগুলো কেবল কাঠ বা সেচের পানির উৎস নয়, বরং এগুলো হলো জীবনের উৎস।
- ১ম অধ্যায়: 'দ্য ওয়াইল্ড পার্কস অ্যান্ড ফরেস্ট রিজার্ভেশনস অব দ্য ওয়েস্ট'।
- যারা মানসিকভাবে সুস্থ এবং স্বাধীন, তাদের কাছে বন্য সৌন্দর্য খোঁজার জন্য পুরো মহাদেশ পাড়ি দেওয়া খুব একটা জরুরি মনে হবে না। কারণ তারা যেখানেই থাকুক না কেন, সেখানেই প্রচুর পরিমাণে সৌন্দর্য খুঁজে পায়।
- ১ম অধ্যায়: 'দ্য ওয়াইল্ড পার্কস অ্যান্ড ফরেস্ট রিজার্ভেশনস অব দ্য ওয়েস্ট'।
- প্রকৃতির কোনো দৃশ্যই কুৎসিত নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত তা বন্য অবস্থায় থাকে।
- ১ম অধ্যায়: 'দ্য ওয়াইল্ড পার্কস অ্যান্ড ফরেস্ট রিজার্ভেশনস অব দ্য ওয়েস্ট'।
- বনের আড়ালে উষ্ণ লাল রক্ত নিয়ে কত শত হৃদয় স্পন্দিত হচ্ছে, কত চোখ আর দাঁত উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে! আমাদের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত এক বিশাল প্রাণীজগত তাদের নিজেদের কাজে আমাদের মতোই ব্যস্ত, অথচ আমরা তাদের জীবন সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানি না।
- ১ম অধ্যায়: 'দ্য ওয়াইল্ড পার্কস অ্যান্ড ফরেস্ট রিজার্ভেশনস অব দ্য ওয়েস্ট'।
- সম্ভব হলে পুরো একটি গ্রীষ্ম এখানে ঘুরে বেড়ান। ঈশ্বরের হাজার হাজার বন্য আশীর্বাদ আপনাকে স্পঞ্জের মতো সিক্ত করবে এবং বড় দিনগুলো হিসাব ছাড়াই কেটে যাবে। আপনি যদি ব্যবসায়িক কাজে জড়িয়ে থাকেন বা কর্তব্যের ভারে এতটাই মগ্ন থাকেন যে সারা বছরে মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় বের করতে পারেন... তবুও অন্তত এক মাস এই মূল্যবান সংরক্ষিত এলাকায় কাটান। এই সময়টুকু আপনার জীবনের মোট আয়ু থেকে কমে যাবে না। বরং এটি জীবনকে ছোট করার বদলে অনির্দিষ্টকাল বাড়িয়ে দেবে এবং আপনাকে সত্যিকারের অমরত্ব দান করবে। সময়কে তখন আর ছোট বা বড় মনে হবে না এবং দুশ্চিন্তাগুলো আর কখনোই আপনার ওপর ভার হয়ে চেপে বসবে না।
- ১ম অধ্যায়: 'দ্য ওয়াইল্ড পার্কস অ্যান্ড ফরেস্ট রিজার্ভেশনস অব দ্য ওয়েস্ট'।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে একসময় বাতিঘরের মতো জ্বলে ওঠা সব আগ্নেয়গিরির মধ্যে মাউন্ট রেনিয়ার হলো শ্রেষ্ঠ।
- ১ম অধ্যায়: 'দ্য ওয়াইল্ড পার্কস অ্যান্ড ফরেস্ট রিজার্ভেশনস অব দ্য ওয়েস্ট'।
- নিরিবিলিতে যেকোনো দিকে হাঁটতে শুরু করুন এবং একজন পর্বতারোহীর স্বাধীনতা উপভোগ করুন। হিমবাহের তৃণভূমিতে ঘাস আর নীল ফুলের মাঝে অথবা প্রকৃতির প্রিয় সন্তানদের দিয়ে ঘেরা পাথুরে কোণে ক্যাম্প করুন। পাহাড়ে চড়ুন এবং তাদের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। সূর্যের আলো যেমন গাছের মধ্যে মিশে যায়, প্রকৃতির শান্তিও ঠিক তেমনি আপনার মধ্যে প্রবাহিত হবে। বাতাস আপনার মধ্যে সতেজতা এবং ঝড় শক্তি বয়ে আনবে, আর দুশ্চিন্তাগুলো শরতের পাতার মতো ঝরে পড়বে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে উপভোগের এক একটি উৎস বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু প্রকৃতির উৎসগুলো কখনোই ফুরিয়ে যায় না। ...একজন আনাড়ি পর্যটকের ছোটখাটো অস্বস্তিগুলো দ্রুতই হারিয়ে যায়, আর যা কিছু মূল্যবান তা থেকে যায়। বন্যপ্রকৃতিতে মুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই মনের সব ভয় কেটে যায়।
- ২য় অধ্যায়: 'দ্য ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক'।
- প্রকৃতি সবসময়ই কিছু তৈরি করছে আবার কিছু ভাঙছে। সে সবকিছুকে একটি ছন্দময় গতির মাধ্যমে সচল রাখছে এবং অন্তহীন সংগীতের ছলে একটি সুন্দর রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তন করছে।
- ৩য় অধ্যায়: 'দ্য ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্ক'।
- আমি ইয়োসেমাইটে একটি ছোট কেবিন তৈরি করেছিলাম। পানি পাওয়া এবং সংগীত ও সঙ্গ পাওয়ার সুবিধার জন্য আমি ইয়োসেমাইট খাঁড়ি থেকে একটি ছোট পানির ধারা কেবিনের ভেতর দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। দেয়ালের একপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সেই ধারাটি চলার পথে মিষ্টি সুরে গান গাইত, যা বিশেষ করে রাতে যখন আমি জেগে থাকতাম তখন খুব চমৎকার সঙ্গ দিত। তারপর সেখানে কিছু ব্যাঙ এবং একটি সাপও আস্তানা গেড়েছিল।
- ৬ষ্ঠ অধ্যায়: 'অ্যামাং দ্য অ্যানিম্যালস অব দ্য ইয়োসেমাইট'।
- সব ধরণের ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প বা প্রকৃতির প্রবল আলোড়ন প্রথম দর্শনে রহস্যময় বা বিশৃঙ্খল মনে হলেও আসলে এগুলো সৃষ্টির সংগীতের এক একটি সুর এবং ঈশ্বরের ভালোবাসার বিচিত্র প্রকাশ।
- ৮ম অধ্যায়: 'দ্য ফাউন্টেনস অ্যান্ড স্ট্রিমস অব দ্য ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্ক'।
- তাড়াহুড়ো করে পর্যটকদের ভ্রমণে খুব কমই শেখা যায়। যেখানে একজন গাইডের সাথে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে মাত্র এক ঘণ্টা সময় কাটানো হয়। এর বদলে বছরের সব ঋতুতে বন্য বনভূমি আর উদ্যানের ভেতর দিয়ে একা হেঁটে দেখা এবং শোনা উচিত। বসন্তে বাতাস হয় সুগন্ধি আর মিষ্টি... গ্রীষ্মে দিনগুলো উজ্জ্বলতায় কাটে... শরতে বাতাসের দীর্ঘশ্বাস আরও কোমল হয়... আর শীতকাল হঠাৎ করেই ঝড়ের সাজে হাজির হয়।
- ৯ম অধ্যায়: 'দ্য সেকুয়া অ্যান্ড জেনারেল গ্র্যান্ট ন্যাশনাল পার্কস'।
- অনেক বিশৃঙ্খল রহস্য অদৃশ্য হয়ে যায় এবং সেখানে এক চমৎকার সামঞ্জস্য জায়গা করে নেয়।
- ৯ম অধ্যায়: 'দ্য সেকুয়া অ্যান্ড জেনারেল গ্র্যান্ট ন্যাশনাল পার্কস'।
- আমেরিকার বনভূমিগুলো মানুষের কাছে অবহেলিত হলেও ঈশ্বরের কাছে নিশ্চয়ই তা বড় আনন্দের বিষয় ছিল। কারণ এগুলো ছিল তাঁর লাগানো শ্রেষ্ঠ বন।
- ১০ম অধ্যায়: 'দ্য আমেরিকান ফরেস্টস'।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার সবসময়ই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভালো মানুষদের স্বাগত জানানোর বিষয়ে গর্ববোধ করে, যারা স্বাধীনতা, ঘর আর অন্নের সন্ধানে এখানে আসে।
- ১০ম অধ্যায়: 'দ্য আমেরিকান ফরেস্টস'।
- যেকোনো নির্বোধ মানুষ গাছ ধ্বংস করতে পারে। গাছেরা পালিয়ে যেতে পারে না। আর যদি পারতও, তবুও তাদের রেহাই মিলত না। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ছাল বা কাঠ থেকে অর্থ পাওয়া যেত, ততক্ষণ তাদের শিকার করা হতো। যারা গাছ কাটে তারা খুব কমই গাছ লাগায়। আর গাছ লাগালেও সেই আদিম বনের মহিমা ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। ...এই পশ্চিমা বনের কিছু গাছ তৈরি হতে তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় লেগেছে—যে গাছগুলো আজও সিয়েরা বনের মধ্যে পূর্ণ শক্তি আর সৌন্দর্য নিয়ে গান গায়। এই দীর্ঘ শতাব্দী ধরে... ঈশ্বর এই গাছগুলোর যত্ন নিয়েছেন, তাদের খরা, রোগ আর হাজারো ঝড়-ঝাপটা থেকে বাঁচিয়েছেন। কিন্তু তিনি তাদের নির্বোধদের হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন না—কেবল আঙ্কেল স্যাম (সরকার) তা করতে পারেন।
- ১০ম অধ্যায়: 'দ্য আমেরিকান ফরেস্টস'।
'স্টিকিন' (১৯০৯)
[সম্পাদনা]- গভীর অভিজ্ঞতা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নিচু স্তরের প্রাণীদের বুদ্ধিমত্তা আর জ্ঞান পরিমাপ করা সম্ভব নয়। কষ্টের মাধ্যমেই যেমন সন্তরা বিকশিত হন, তেমনি কুকুরদের মধ্যেও পূর্ণতা আসে।
- টেরি গিফোর্ড, এলএলও, পৃষ্ঠা ৬৮৫।
- প্রকৃতির ঝড়গুলোর মধ্যে অনেক চমৎকার শিক্ষা লুকিয়ে থাকে। আমরা যদি সেগুলোর সাথে সঠিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারি, তবে আমরা নিরাপদে তাদের সঙ্গী হতে পারব এবং তাদের কাজের মহিমা ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারব।
- টেরি গিফোর্ড, এলএলও, পৃষ্ঠা ৬৮৬-৬৮৭।
- আমি কখনো মৃত্যুকে অবজ্ঞা করিনি। তবে আমার অভিযানের সময় প্রায়ই মনে হয়েছে যে কোনো রোগে বা কোনো তুচ্ছ দুর্ঘটনায় মরার চেয়ে একটি মহিমান্বিত পাহাড় বা হিমবাহের বুকে মৃত্যুবরণ করা অনেক বেশি আশীর্বাদের। তবে সবচেয়ে সুন্দর এবং স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়াও কঠিন, যদিও আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে জানি যে এক জীবনেই আমরা ডজন খানেক জীবনের সমান সুখ পেয়ে গেছি।
- টেরি গিফোর্ড, এলএলও, পৃষ্ঠা ৬৯৩।
- এই রুক্ষ পৃথিবীতে কোনো সঠিক পথই সহজ নয়। আমাদের জীবনকে রক্ষা করতে হলে মাঝে মাঝে জীবন বাজি ধরতে হয়।
- টেরি গিফোর্ড, এলএলও, পৃষ্ঠা ৬৯৩।
- আমি অনেক কুকুর দেখেছি এবং তাদের বুদ্ধিমত্তা ও ভক্তির অনেক গল্প বলতে পারি। কিন্তু স্টিকিনের কাছে আমি যতটা ঋণী, ততটা আর কারো কাছে নই। প্রথমে সে ছিল আমার সবচেয়ে কম পরিচিত কুকুর-বন্ধু, কিন্তু পরে সে সবার চেয়ে প্রিয় হয়ে ওঠে। জীবনের জন্য আমাদের সেই লড়াই তাকে আমার কাছে পরিচিত করে তুলেছিল। তার মাধ্যমেই আমি অন্য সব প্রাণীর প্রতি আরও গভীর সহমর্মিতা নিয়ে তাকাতে শিখেছি।
- টেরি গিফোর্ড, এলএলও, পৃষ্ঠা ৬৯৬।
১৯১০ দশক
[সম্পাদনা]- নিশ্চিতভাবেই ঈশ্বরের সব সৃষ্টি, তারা যতই গম্ভীর বা বন্য হোক, বড় বা ছোট হোক, সবাই খেলতে ভালোবাসে। তিমি আর হাতি, নাচতে থাকা মশা, এমনকি অদৃশ্য ক্ষুদ্র জীবাণু সবাই ঐশ্বরিক শক্তিতে উজ্জীবিত এবং সবার মধ্যেই অনেক আনন্দ লুকিয়ে আছে।
- 'দ্য স্টোরি অব মাই বয়হুড অ্যান্ড ইউথ' (১৯১৩)।
- এক উজ্জ্বল সকালে পচেকো পাসের চূড়া থেকে পূর্ব দিকে তাকিয়ে এমন এক প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখেছিলাম যা আমার সমস্ত ভ্রমণের স্মৃতিকে ছাপিয়ে আজও সবচেয়ে সুন্দর মনে হয়। আমার পায়ের নিচে ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল কেন্দ্রীয় উপত্যকাটি ছিল সূর্যের আলোর হ্রদের মতো সমতল ও ফুলে ভরা। আর এই সোনালী হ্রদের পূর্ব তীরে জেগে ছিল সুবিশাল সিয়েরা পর্বতমালা, যা দেখতে কোনো স্বর্গের প্রাচীরের মতো। আমার তখন মনে হয়েছিল এই সিয়েরা পর্বতমালাকে কেবল তুষারাবৃত পাহাড় (নেভাদা) না বলে 'আলোর পর্বতমালা' (রেঞ্জ অব লাইট) বলা উচিত। দশ বছর এই পাহাড়ের হৃদয়ে বিচরণ করে আজও এটি আমার কাছে সবার উপরে 'আলোর পর্বতমালা'।
- 'দ্য ইয়োসেমাইট' (১৯১২), ১ম অধ্যায়।
- প্রকৃতির সমস্ত বন্যতা একই গল্প বলে: ভূমিকম্পের কম্পন, আগ্নেয়গিরি, গিজার, সমুদ্রের গর্জন, বন্যা কিংবা উদ্ভিদের ভেতরে রসের নীরব প্রবাহ—সবকিছুই প্রকৃতির হৃদয়ের ছন্দবদ্ধ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
- 'দ্য ইয়োসেমাইট' (১৯১২), ৪র্থ অধ্যায়।
- ইয়োসেমাইটে কাটানোর জন্য যদি আমার হাতে মাত্র একদিন সময় থাকত, তবে আমি খুব ভোরে (গ্রীষ্মকালে ভোর তিনটায়) পকেটে কিছু শুকনো খাবার নিয়ে গ্লেসিয়ার পয়েন্ট, সেনটিনেল ডোম, নেভাদা ফল এবং রিভার ক্যানিয়নের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়তাম।
- 'দ্য ইয়োসেমাইট' (১৯১২), ১২শ অধ্যায়। ৭৪ বছর বয়সে মুইরের দেওয়া পরামর্শ।
- রুটির মতো সবারই সুন্দরের প্রয়োজন আছে। খেলার এবং প্রার্থনা করার মতো জায়গার প্রয়োজন আছে, যেখানে প্রকৃতি শরীর ও আত্মা উভয়কেই সুস্থ ও আনন্দিত করতে পারে।
- 'দ্য ইয়োসেমাইট' (১৯১২), ১৫শ অধ্যায়।
- সুন্দরের প্রতি আমাদের এই স্বাভাবিক ক্ষুধা আমাদের চমৎকার জাতীয় উদ্যানগুলোতে প্রকাশ পায়... যা প্রকৃতির এক একটি স্বর্গরাজ্য এবং সারা বিশ্বের বিস্ময় ও আনন্দের উৎস।
- 'দ্য ইয়োসেমাইট' (১৯১২), ১৫শ অধ্যায়।
- এই মন্দির-বিনাশকারীরা (বাণিজ্যিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী) প্রকৃতিকে অবজ্ঞা করে; তারা পাহাড়ের ঈশ্বরের দিকে না তাকিয়ে 'সর্বশক্তিমান ডলার'-এর দিকে তাকায়। হেচ হেচি উপত্যকায় বাঁধ দেওয়া আর মানুষের গির্জা বা উপাসনালয়ে পানির ট্যাঙ্ক বসানো একই কথা, কারণ মানুষের হৃদয়ে এর চেয়ে পবিত্র কোনো মন্দির আর নেই।
- 'দ্য ইয়োসেমাইট' (১৯১২), ১৫শ অধ্যায়। বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতায়।
- যখন আমরা পুরো পৃথিবীটাকে মহাকাশে উড়তে থাকা একটি বড় শিশিরবিন্দুর মতো কল্পনা করি, যেখানে মহাদেশ আর দ্বীপগুলো বিন্দুর মতো ফুটে আছে, তখন পুরো মহাবিশ্বকে সৌন্দর্যের এক অনন্ত প্রবাহ মনে হয়।
- 'ট্রাভেলস ইন আলাস্কা' (১৯১৫), ১ম অধ্যায়।
- মাঝরাতে আমার জ্বালানো আগুন পূর্ণ মহিমায় জ্বলছিল। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে এবং কাপড় শুকানোর জন্য আমি গাছের ছাল দিয়ে একটি আশ্রয় তৈরি করেছিলাম। সেখানে বসে বসে গাছদের সাথে তাদের সংগীত আর প্রার্থনায় যোগ দেওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না।
- 'ট্রাভেলস ইন আলাস্কা' (১৯১৫), ২য় অধ্যায়।
- মানুষ শিখতে পারে যে পৃথিবী তৈরি হয়ে গেলেও এটি এখনো তৈরি হচ্ছে। এটি আজও সৃষ্টির ঊষালগ্ন। হিমবাহগুলো পাহাড়ের জন্ম দিচ্ছে, ভবিষ্যতের নদীগুলোর জন্য পথ তৈরি করছে এবং হ্রদগুলোর জন্য অববাহিকা তৈরি করছে।
- 'ট্রাভেলস ইন আলাস্কা' (১৯১৫), ৫ম অধ্যায়।
- রাত যখন ঘনিয়ে এল, আমি প্রফুল্ল মনে ফুলের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে এলাম এবং এই সুন্দর দিনটির জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানালাম। অস্তগামী সূর্য মেঘগুলোকে রাঙিয়ে দিয়েছিল। মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবীটাই নতুন করে জন্মেছে। এমনকি সাধারণ জিনিসগুলোকেও এমন নতুনভাবে দেখছিলাম যেন আগে কখনোই দেখিনি।
- 'ট্রাভেলস ইন আলাস্কা' (১৯১৫), ৭ম অধ্যায়।
- আলাস্কার অরোরা বা মেরুপ্রভা প্রসঙ্গে: ক্যালিফোর্নিয়া সিয়েরার চূড়ায় একা দাঁড়িয়ে সকালের যে শুভ্র আলো আমি দেখেছি, তা সবসময়ই আমার কাছে ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ মনে হতো। কিন্তু এখানকার পাহাড়গুলো যেন নিজেই পবিত্র হয়ে উঠেছে এবং আরও গভীরভাবে তাঁর মহিমা প্রচার করছে।
- 'ট্রাভেলস ইন আলাস্কা' (১৯১৫), ৯ম অধ্যায়।
- আলাস্কার এই বাগানের কথা ভাবলেই মন আনন্দে ভরে ওঠে। শীতল অন্ধকার আর হিমবাহের ঘর্ষণের ভেতর থেকে এই উষ্ণ ও প্রচুর সৌন্দর্য এবং জীবন বেরিয়ে আসে আমাদের শেখানোর জন্য যেটাকে আমরা আমাদের অজ্ঞতা আর ভয় দিয়ে 'ধ্বংস' বলি, তা আসলে আরও সূক্ষ্ম ও সুন্দর কোনো 'সৃষ্টি'।
- 'ট্রাভেলস ইন আলাস্কা' (১৯১৫), ১৬শ অধ্যায়।
- আমি যদি বরফ-জগতের সেই মাসগুলোর মহিমা বর্ণনা করতে পারতাম সেই সুন্দর ও ভয়ংকর হিমবাহের ফাটল, চূড়াগুলো আর স্ফটিকের মতো পাহাড়ের ওপর সূর্যের আলোর উজ্জ্বলতা! কিন্তু এর জন্য একটি বিশাল বই প্রয়োজন। এখানে শুধু এটুকু যোগ করতে পারি। আলাস্কায় যান এবং নিজেই দেখুন।
- 'দ্য আমেরিকান জিওলজিস্ট' (মে ১৮৯৩), আলাস্কা ভ্রমণ প্রসঙ্গে।
- প্রকৃতির একটি ছোঁয়া পুরো বিশ্বকে আত্মীয়তায় বেঁধে দেয়।
- 'দ্য ক্রুজ অব দ্য করউইন' (১৯১৭)।
- প্রকৃতির হৃদয়ের খুব কাছে থাকুন... মাঝেমধ্যে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পাহাড়ে চড়ুন অথবা এক সপ্তাহ বনে কাটান। আপনার আত্মাকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে নিন।
- স্যামুয়েল হল ইয়াংয়ের স্মৃতিচারণ থেকে (১৯১৫)।
- যখন 'হাইক' শব্দটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো: আমি এই শব্দ বা কাজ কোনটিই পছন্দ করি না। মানুষের উচিত পাহাড়ে 'সাঁটার' (ধীরে সুস্থে ঘুরে বেড়ানো), হাইকিং নয়! আপনি কি জানেন সাঁটার শব্দের অর্থ কী? মধ্যযুগে মানুষ যখন পবিত্র ভূমিতে তীর্থযাত্রায় যেত, তখন গ্রামের মানুষ জিজ্ঞেস করলে তারা বলত 'আ লা সাঁত তের' অর্থাৎ 'পবিত্র ভূমির উদ্দেশ্যে'। এভাবেই তারা 'সাঁটারার্স' হিসেবে পরিচিত হয়। এখন এই পাহাড়গুলোই আমাদের পবিত্র ভূমি, তাই আমাদের উচিত ভক্তিভরে এর মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করা, 'হাইকিং' করা নয়।
- অ্যালবার্ট ডব্লিউ পামারের স্মৃতিচারণ থেকে (১৯১১)।
- আমি মনে করি না মিস্টার হ্যারিম্যান খুব ধনী। তাঁর আমার মতো অত টাকা নেই। আমার যা প্রয়োজন তার সবই আমার আছে, কিন্তু তাঁর নেই।
- 'এডওয়ার্ড হেনরি হ্যারিম্যান' (১৯১১) গ্রন্থ থেকে।
- পৃথিবীটা অনেক বড় এবং অন্ধকার হয়ে যাওয়ার আগেই আমি একে একবার ভালোভাবে দেখে নিতে চাই।
- লিনি মার্শ উলফ রচিত মুইরের জীবনী থেকে (১৯৪৫)।
- কিছু সময়ের জন্য পাইন গাছের নিচে শুয়ে পড়ুন, তারপর মানুষের আর এই জগতের কল্যাণে ভালোবাসা দিয়ে কাজ শুরু করুন।
- মিসেস জে.ডি. হুকারকে লেখা চিঠি (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯১১)।
- আমার পুরো জীবনে দেখা সবচেয়ে আকর্ষণীয় বন।
- দক্ষিণ ব্রাজিলের 'অ্যারাউকেরিয়া' বন নিয়ে মুইরের ডায়েরির পাতা (২৪ অক্টোবর ১৯১১)।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের এই ভ্রমণ আমি শেষ করলাম... যা আমি চেয়েছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি দেখেছি। লক্ষ লক্ষ একর প্রাচীন গাছ দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে। প্রতিটি গাছের চেহারায় যেন লক্ষ বছরের অভিজ্ঞতার ছাপ লেগে আছে।
- মিসেস জে.ডি. হুকারকে লেখা চিঠি (৬ ডিসেম্বর ১৯১১)।
- দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় আমার চমৎকার সময় কেটেছে। প্রকৃতপক্ষে এই বন্য এবং উষ্ণ দুটি মহাদেশে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে ফলপ্রসূ বছরটি কাটিয়েছি।
- উইলিয়াম কোলবিকে লেখা চিঠি (৪ ফেব্রুয়ারি ১৯১২)।
- ভালো হাঁটু থাকলে এই বন্ধুসুলভ পাহাড়গুলোতে কৃত্রিম পথ ছাড়াই যেকোনো জায়গায় যাওয়া সম্ভব।
- হাওয়ার্ড পামারের কাছে লেখা চিঠি (১২ ডিসেম্বর ১৯১২)।
- সারা দিন মেঘলা ছিল। সন্ধ্যায় চমৎকার বজ্রপাতসহ ঝড় হলো। ...এল্ক ফার্মে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রায় ষাটটি ছোট-বড় হরিণ ছিল। বড় এল্ক হরিণগুলো তাদের শিং নিয়ে খুব রাজকীয় ভঙ্গিতে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
- আইডাহোর আইল্যান্ড পার্কে মুইরের ডায়েরির শেষ পাতা (২৬ আগস্ট ১৯১৩)।
'এ থাউজেন্ড মাইল ওয়াক টু দ্য গাল্ফ' (১৯১৬)
[সম্পাদনা]এ থাউজেন্ড মাইল ওয়াক টু দ্য গাল্ফ (১৯১৬) টেরি গিফোর্ড, ইডব্লিউডিবি।
- মৃত্যুর মতো অন্য কোনো বিষয়েই আমাদের ধারণা এত বেশি বিকৃত এবং শোচনীয় নয়। ...শিশুদের প্রকৃতির সাথে চলতে দিন, তাদের জীবন ও মৃত্যুর সুন্দর মেলবন্ধন এবং মিলন দেখতে দিন; বন-বাদাড়, তৃণভূমি, সমতল, পাহাড় আর আমাদের এই ধন্য গ্রহের জলধারাগুলো যেভাবে শেখায়—তাদের সেই আনন্দময় অবিচ্ছেদ্য ঐক্য দেখতে দিন। তবেই তারা শিখবে যে মৃত্যু আসলে দংশনহীন এবং জীবনের মতোই সুন্দর। তারা জানবে যে কবরের কোনো জয় নেই, কারণ সে কখনো লড়াই-ই করে না। সবকিছুই এক ঐশ্বরিক সামঞ্জস্য।
- ৪র্থ অধ্যায়: 'ক্যাম্পিং অ্যামাং দ্য টম্বস', পৃষ্ঠা ১৪০।
- একটি ফুলের দৃষ্টির মধ্যে এমন কিছু আছে যা মাঝেমধ্যে সৃষ্টির সবচেয়ে বড় অহংকারী অধিপতিদেরও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
- ৫ম অধ্যায়: 'থ্রু ফ্লোরিডা সোয়াম্পস অ্যান্ড ফরেস্টস', পৃষ্ঠা ১৫১।
- আমাদের বলা হয় যে এই পৃথিবীটা বিশেষভাবে মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি ধৃষ্টতা যা সব তথ্য দ্বারা সমর্থিত নয়।
- ৬ষ্ঠ অধ্যায়: 'সিডার কিস', পৃষ্ঠা ১৬০।
- মানুষ কেন নিজেকে সৃষ্টির এই বিশাল এককের একটি ছোট অংশের চেয়ে বেশি মূল্যবান মনে করবে? আর প্রভু পরম যত্নে যা কিছু তৈরি করেছেন, তার মধ্যে কোন প্রাণীটি এই মহাবিশ্বের পূর্ণতার জন্য অপরিহার্য নয়? মানুষকে ছাড়া মহাবিশ্ব যেমন অপূর্ণ থাকবে, তেমনি আমাদের অহংকারী চোখ আর জ্ঞানের অগোচরে থাকা ক্ষুদ্রতম অণুবীক্ষণিক প্রাণীটি ছাড়াও এটি অপূর্ণ থেকে যাবে। পৃথিবীর ধূলিকণা থেকে, সাধারণ মৌলিক উপাদান থেকেই স্রষ্টা 'হোমো সেপিয়েন্স' (মানুষ) তৈরি করেছেন। একই উপাদান দিয়ে তিনি অন্য প্রতিটি প্রাণী তৈরি করেছেন, তারা আমাদের কাছে যতই ক্ষতিকর বা তুচ্ছ হোক না কেন। তারা আমাদের মর্ত্যের সঙ্গী। ...মানুষ আসার অনেক আগে থেকেই আমাদের এই পৃথিবী মহাকাশে সফলভাবে বহুবার পরিভ্রমণ করেছে এবং মানুষ এর ওপর মালিকানা দাবি করার আগে প্রাণীদের পুরো রাজ্য অস্তিত্ব উপভোগ করে আবার ধূলিতে মিশে গেছে। সৃষ্টির পরিকল্পনায় মানুষের ভূমিকা পালন শেষ হওয়ার পর, তারা হয়তো কোনো বড় অগ্নিকাণ্ড বা অস্বাভাবিক আলোড়ন ছাড়াই একদিন নিঃশব্দে অদৃশ্য হয়ে যাবে।
- ৬ষ্ঠ অধ্যায়: 'সিডার কিস', পৃষ্ঠা ১৬০-১৬১।
- সমগ্র প্রকৃতিতে বিচ্ছিন্ন বা ভগ্নাংশ বলে কিছু নেই; কারণ একটি জিনিসের প্রতিটি আপেক্ষিক অংশ নিজেই নিজের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ এবং সুসংগত একক।
- ৭ম অধ্যায়: 'এ সোজার্ন ইন কিউবা', পৃষ্ঠা ১৬৪।
'জন অব দ্য মাউন্টেনস' (১৯৩৮)
[সম্পাদনা]জন অব দ্য মাউন্টেনস: দ্য আনপাবলিশড জার্নালস অব জন মুইর। লিনি মার্শ উলফ সম্পাদিত (১৯৩৮)।
- মানুষ যে প্রাণীকে স্পর্শ করেছে, তার প্রতিটিকেই সে আঘাত করেছে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৯, পৃষ্ঠা ২৩।
- সূর্য আমাদের ওপর কিরণ দেয় না বরং আমাদের ভেতরে কিরণ দেয়। নদীগুলো আমাদের পাশ দিয়ে বয়ে যায় না, আমাদের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আমাদের দেহের প্রতিটি তন্তু ও কোষকে আন্দোলিত করে, তাদের সংগীতময় করে তোলে। আমাদের দেহের ভেতরেও গাছেরা দোলে এবং ফুল ফোটে, ঠিক যেমন আমাদের আত্মায়। পাহাড়ের হৃদয়ে পাথরের সেই প্রচণ্ড ঝড়ের গান আসলে আমাদেরই গান, আমাদের একান্ত নিজস্ব।
- ১৮৭২(?), পৃষ্ঠা ৯২।
- পাহাড়ে কাটানো একটি দিন এক গাড়ি বইয়ের চেয়েও ভালো। দেখে নিন প্রকৃতি কত সানন্দে নিজেকে ফটোগ্রাফারের প্লেটে তুলে ধরে। মানুষের আত্মার চেয়ে সংবেদনশীল কোনো রাসায়নিক এই পৃথিবীতে নেই।
- ১৮৭২(?), পৃষ্ঠা ৯৫।
- পৃথিবীর এমন কোনো দুঃখ নেই যা পৃথিবী নিজে অথবা স্বর্গ নিরাময় করতে পারে না। পাহাড়ের নির্মল বন্যতায় পৃথিবীকে দেখলে মনে হয় এটি মানুষের হৃদয়ে কল্পিত যেকোনো কিছুর মতোই ঐশ্বরিক!
- ১৮৭২(?), পৃষ্ঠা ৯৯।
- তুষার গলে সংগীতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
- ১৫ জানুয়ারি ১৮৭৩, পৃষ্ঠা ১০৭।
- 'ঈশ্বর' শব্দের জন্য 'সৌন্দর্যের' চেয়ে নিখুঁত সমার্থক শব্দ আর নেই। হিমবাহ দিয়ে পাহাড় খোদাই করা হোক কিংবা নক্ষত্রদের সাজানো সবই হলো সৌন্দর্য!
- ২৬ জুন ১৮৭৫, পৃষ্ঠা ২০৮।
- বনভূমি মৃত আর মৃতপ্রায় গাছে পূর্ণ, তবুও জীবিতদের সৌন্দর্য পূর্ণ করতে তাদের সৌন্দর্যেরও প্রয়োজন আছে... মৃত্যু কতই না সুন্দর!
- আগস্ট বা সেপ্টেম্বর ১৮৭৫, পৃষ্ঠা ২২২।
- আমাদের স্থূল সভ্যতা অসংখ্য অভাবের জন্ম দেয়। কেন আমরা বিশ্রামের জন্য আইন করছি না? আমাদের পূর্বপুরুষরা কর্তব্য আর অভ্যাসের যে শৃঙ্খল তৈরি করেছেন তা আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। তবুও খুব কম মানুষই প্রকৃতির নিরাময়ী শক্তির কথা চিন্তা করে।
- ১২ নভেম্বর ১৮৭৫, পৃষ্ঠা ২৩৪।
- বনে চলে আসুন, কারণ এখানেই বিশ্রাম।
- পৃষ্ঠা ২৩৫।
- মহাবিশ্বে প্রবেশের সবচেয়ে পরিষ্কার পথ হলো বনের গভীর নির্জনতার মধ্য দিয়ে।
- জুলাই ১৮৯০, পৃষ্ঠা ৩১৩।
- ঈশ্বরের বন্যতার মধ্যেই বিশ্বের আশা লুকিয়ে আছে—সেই বিশাল সতেজ, অক্ষয় অরণ্য। সভ্যতার জোয়াল তখন খুলে পড়ে এবং অজান্তেই সব ক্ষত সেরে যায়।
- জুলাই ১৮৯০, পৃষ্ঠা ৩১৭।
- আমি কেবল হাঁটতে বেরিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখলাম যে বাইরে যাওয়া মানে আসলে ভেতরে প্রবেশ করা।
- পৃষ্ঠা ৪৩৯।
- গাছেরা আকাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ঝড় মোকাবিলা করে, ফুলেরা একটি দিন বা ঘণ্টার জন্য আলোর দিকে মুখ তুলে থাকে সবাই জীবনের ভোজ উপভোগ করে মৃত্যুর আইনের অধীনে চলে যায়। তবুও তারা সবাই আমাদের ভাই। তারা আমাদের মতোই জীবন উপভোগ করে এবং পবিত্র ভূমিতে সমাহিত হয়। তারা আমাদের সাথেই অনন্তকাল থেকে আসে এবং অনন্তকালেই ফিরে যায়। 'আমাদের এই ছোট জীবন একটি ঘুম দিয়ে ঘেরা।'
- পৃষ্ঠা ৪৩৯-৪৪০।
জন মুইর সম্পর্কে
[সম্পাদনা]- মানুষ অবশ্যই ধ্বংসাত্মক এবং অদূরদর্শী হতে পারে। তবে তারা একইসাথে দূরদর্শী এবং পরোপকারীও হতে পারে। মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় যাকে র্যাচেল কারসন "অন্যান্য প্রাণীদের সাথে আমাদের পৃথিবী ভাগ করে নেওয়ার সমস্যা" বলে অভিহিত করেছিলেন। মানুষ সেই প্রাণীদের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত। ক্যালিফোর্নিয়ার পাহাড়গুলোতে যে ক্ষতি হচ্ছিল তা নিয়ে জন মুইর লিখেছিলেন। তাঁর সেই লেখা থেকেই ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্ক তৈরি হয়েছিল।
- এলিজাবেথ কোলবার্ট, 'দ্য সিক্সথ এক্সটিংশন: অ্যান আনন্যাচারাল হিস্ট্রি' (২০১৫)।
- "সেই রাখাল", "একজন সাধারণ মেষপালক", "একজন অজ্ঞ ব্যক্তি"
- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্বের অধ্যাপক এবং ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট জিওলজিস্ট জোসিয়া ডি. হুইটনিকে এই উক্তিগুলোর কৃতিত্ব দেওয়া হয়। তিনি ভুলভাবে বিশ্বাস করতেন যে ইয়োসেমাইট উপত্যকাটি এর ভূতল দেবে যাওয়ার ফলে তৈরি হয়েছে। লিনি মার্শ উলফ রচিত 'সন অব দ্য ওয়াইল্ডারনেস: দ্য লাইফ অব জন মুইর' (১৯৪৫), পৃষ্ঠা ১৩৩।
- জন মুইর, এস্কোয়ায়ার একজন বিশিষ্ট প্রকৃতিবিদ এবং অভিযাত্রী।
- ১৯১১-১৯১২ সালে মুইরের দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা সফরের সময় তাঁকে সাহায্য করার জন্য রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম এইচ. ট্যাফ্টের পক্ষ থেকে ৮ জুলাই ১৯১১ তারিখে মার্কিন কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের প্রতি জারি করা একটি বার্তা। মাইকেল পি. ব্রাঞ্চ সম্পাদিত 'জন মুইরস লাস্ট জার্নি' (২০০১), পৃষ্ঠা ৪৫।
- সাধারণত যারা বন, পাহাড়, গাছপালা, ফুল এবং বন্যপ্রাণীকে ভালোবাসেন, তাদের মধ্যে এক ধরণের অবর্ণনীয় আকর্ষণ থাকে। এটি সভ্য সমাজের সেই মানুষদেরও মুগ্ধ করে যারা ইটের দেয়াল আর পাকা রাস্তা ছাড়া আর কিছুর খোঁজ রাখে না। জন মুইর ছিলেন এই নিয়মের এক চমৎকার উদাহরণ। জন্মসূত্রে তিনি ছিলেন একজন স্কট। তিনি ছিলেন লম্বা এবং রোগা গড়নের মানুষ। দীর্ঘ সময় একাকী পরিশ্রম ও ঝুঁকির মধ্যে বাস করায় তাঁর মধ্যে এক ধরণের স্বাভাবিক স্থিরতা ও সাবলীলতা ছিল। তিনি ছিলেন এক নির্ভীক আত্মা এবং তাঁর মধ্যে বন্ধুত্ব ও দয়ার কোনো কমতি ছিল না।
তিনি নিঃসন্দেহে একজন সুনাগরিক ছিলেন। কেবল তাঁর বইগুলোই আনন্দদায়ক নয় বরং সিয়েরা পর্বতমালা, উত্তরের হিমবাহ কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল গাছগুলোর কথা ভাবলে সবাই তাঁর লেখারই আশ্রয় নেয়। তিনি সেই বিরল প্রকৃতিপ্রেমীদের একজন যিনি নিজের প্রিয় বিষয়ের ওপর সমসাময়িক চিন্তা ও কাজে প্রভাব ফেলতে পেরেছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়া এবং পুরো দেশের মানুষের চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে তিনি বড় ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার অসাধারণ গিরিখাত, বিশাল গাছ এবং ফুলেভরা পাহাড়গুলো রক্ষা পায়। জন মুইর তাঁর লেখার চেয়েও চমৎকার কথা বলতেন। যারা তাঁর সংস্পর্শে আসতেন, তাদের ওপরই তাঁর প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে তিনি লেখাতেও ছিলেন দক্ষ। তাঁর বইগুলো দীর্ঘকাল টিকে থাকবে। বর্তমান প্রজন্ম জন মুইরের কাছে অনেক ঋণী।
- থিওডোর রুজভেল্ট, 'জন মুইর: অ্যান অ্যাপ্রিসিয়েশন' (১৯১৫)।
- সিয়েরা পর্বতমালার অখণ্ডতা রক্ষায় জন মুইরের চেয়ে প্রভাবশালী আর কেউ ছিলেন না। হল অব ফেমের জন্য যদি আমাকে একজন ক্যালিফোর্নিয়ানকে বেছে নিতে বলা হয়, তবে আমি এই দৃঢ়চেতা স্কটকেই বেছে নেব। তাঁর জ্ঞান ও উৎসাহের কারণেই মানুষ ও সরকার ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমাইট ও সেকুয়া, অ্যারিজোনার পেট্রিফায়েড ফরেস্ট ও গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এবং আলাস্কার হিমবাহ অঞ্চল আজ যে অবস্থায় আছে, তা মূলত এই একজন মানুষের জন্যই সম্ভব হয়েছে। স্যাক্রামেন্টোর কোর্ট বিল্ডিংয়ে একটি আহ্বান লেখা আছে: "আমার পাহাড়গুলোর সাথে মানানসই মানুষ আমাকে দাও।" মুইর ছিলেন সেই আহ্বানের যোগ্য উত্তর।
- লরেন্স ক্লার্ক পাওয়েল।
- স্বাধীনতা থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের সমাজ যা কিছু অর্জন করেছে, তার পেছনে সরকার নয় বরং সক্রিয়তাবাদের ভূমিকা ছিল। মানুষ ভাবে, "ওহ, টেডি রুজভেল্ট ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্ক প্রতিষ্ঠা করেছেন, তিনি কত বড় একজন রাষ্ট্রপতি!" এটি বাজে কথা। জন মুইরই রুজভেল্টকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং নিরাপত্তা ছেড়ে তাকে নিয়ে ক্যাম্পিং করতে গিয়েছিলেন। মুইর ছিলেন একজন সক্রিয়তাবাদী এবং একজন সাধারণ মানুষ।
- প্যাটাগোনিয়ার প্রতিষ্ঠাতা এবং আউটডোর প্রেমী ইভন চুইনার্ড (২০০৪)।
- জন মুইর ক্যালিফোর্নিয়ার প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মানুষের কাছে এবং বিশ্বজুড়ে প্রকৃতি সংরক্ষণবাদীদের কাছে একজন আদর্শ। তিনি আমাদের সক্রিয় হতে শিখিয়েছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে আমাদের পার্ক, সমুদ্র সৈকত এবং পাহাড়গুলোকে উপভোগ করার পাশাপাশি রক্ষা করতে হয়।
- ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার (২০০৪)।
- মুইরের গল্প বলার সময় সম্পাদনা কক্ষে কাজ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে আমার চোখ জলে ভরে উঠত। তাঁকে আরও ভালোভাবে জানতে পেরে আমি আনন্দিত।
- কেন বার্নস, চলচ্চিত্র নির্মাতা, 'দ্য ন্যাশনাল পার্কস: আমেরিকাস বেস্ট আইডিয়া' (২০০৯)।
'সিয়েরা ক্লাব বুলেটিন' - স্মরণ সংখ্যা
[সম্পাদনা]- তিনি ছিলেন আমেরিকান পাহাড়প্রেমীদের প্রধান পুরুষ। প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতি কেবল তাঁর আবেগই ছিল না বরং প্রকৃতির ভাষাকে মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করার এক অদ্ভুত ক্ষমতাও ছিল। সিয়েরা পর্বতমালায় তাঁর একাকী ভ্রমণের বর্ণনা পড়লে আমাদের মনে হয় আমরাও সেই গ্রানাইট চূড়া আর গভীর অরণ্যের সুবাস পাচ্ছি। ক্যালিফোর্নিয়া এমন একজনকে সম্মান জানাতেই পারে যিনি দেশটির সৌন্দর্য রক্ষা করতে এবং একে পরিচিত করতে এত কিছু করেছেন। সিয়েরা ক্লাবের সদস্যরা এমন এক পবিত্র ও সহজ চরিত্রের মানুষকে মনে রাখবে, যিনি প্রকৃত অর্থেই একজন প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন।
- জেমস ব্রাইস, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত (১৯১৫)।
- আমাদের জাতীয় উদ্যান ব্যবস্থার অগ্রদূত হিসেবে দেশবাসী তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। ...ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য যাতে ইয়োসেমাইটের আরও ভালো যত্ন নেয়, সেজন্য তাঁর পরিচালিত লড়াই থেকেই এই ব্যবস্থাটি আরও বড় করার দাবি ওঠে। অনেক ব্যক্তি ও সংস্থা এতে অবদান রাখলেও মুইরের লেখা ও উৎসাহই ছিল এই আন্দোলনের প্রধান শক্তি। তাঁর মাধ্যমেই অন্য সব মশাল জ্বলে উঠেছিল।
- রবার্ট আন্ডারউড জনসন।
- যারা কেবল অর্থ উপার্জন এবং আধুনিক জীবনের জাগতিক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত, তারা কখনোই জন মুইরকে পুরোপুরি মূল্যায়ন করতে পারবে না। তাদের কাছে মুইর একজন রহস্যময় বা অদ্ভুত মানুষ একগুঁয়ে, কাল্পনিক এবং বাস্তবজ্ঞানহীন। তাদের সাথে মুইরের মিল পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একজন মানুষ কীভাবে তাঁর পুরো জীবন প্রকৃতির মৌলিক সত্যগুলো জানতে ব্যয় করতে পারেন, তা অনেকের কাছেই বোধগম্য নয়। পাহাড়ের ঝড় বা নির্জন বনভূমিকে ভালোবেসে কোনো অস্ত্র ছাড়াই বছরের পর বছর একাকী কাটানো এক বিস্ময়কর ব্যাপার যা খুব কম মানুষই বুঝতে পারে। এই নির্জন অভিযানগুলো বর্তমানের সব সরঞ্জামসহ আধুনিক অভিযানের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। মুইর তাঁর লক্ষ্য পূরণের জন্য জীবনের অন্য সব কিছু ত্যাগ করতে রাজি ছিলেন, আর তাই তিনি তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছিলেন।
- উইলিয়াম ই. কোলবি।
- আমার প্রিয় বন্ধু জন মুইরকে নিয়ে লেখা সহজ নয়। তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রভাব যারা তাঁকে জানতেন তাদের ওপর এতটাই প্রবল ছিল যে যেকোনো শব্দই এখন সস্তা মনে হয়। যারা তাঁকে কখনোই জানতেন না, তারা আমাদের কথার মাধ্যমে কখনোই বুঝতে পারবেন না যে তারা কী হারিয়েছেন। ...তাঁর কথা বলার ধরণ ছিল কিছুটা অদ্ভুত ও ঝরঝরে। বড় এবং সুন্দর জিনিসের সামনে অনুভব করার ক্ষমতা যাদের আছে, তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ।
- ডেভিড স্টার জর্ডান, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সভাপতি।
- প্রকৃতির প্রতি মুইরের মতো এমন একাগ্রতা আমি আর কোনো মানুষের মধ্যে দেখিনি। তিনি প্রকৃতির একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে বেঁচে ছিলেন। ...তিনি নিজের প্রতি খুব কমই খেয়াল রাখতেন, কিন্তু প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর উৎসাহ ছিল যেকোনো ধর্মপ্রচারকের চেয়েও বেশি। তাঁর কাছে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার মানে ছিল প্রকৃতির নিয়মগুলোকে বুঝতে পারা। পাহাড়ের পাথর আর গাছপালার সাথে তিনি একাত্ম হয়ে যেতেন। তিনি মানুষের আগ্রহ জাগানোর জন্য সুন্দর সুন্দর গল্প বলতেন যাতে তারা নিজেরাও প্রকৃতির কাছে যেতে চায় এবং এর রহস্যগুলো জানতে আগ্রহী হয়। ...তাঁর কাছে প্রতিটি গাছ, ফুল, পাখি আর পাথর ছিল এক অদৃশ্য জগতের অংশ।
- চার্লস কিলার।
- সরলতাই ছিল তাঁর শক্তি। প্রকৃতির প্রতিটি বিষয় তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একটি সাধারণ পাইন গাছের পাতার প্রতি তাঁর ভালোবাসা কোনো সুন্দর ফুল বা বিশাল গাছের চেয়ে কম ছিল না। তুষারপাত বা গ্রানাইট পাথরের কণা। প্রতিটি বিষয়কেই তিনি প্রকৃত জীবনের অংশ মনে করতেন। তিনি সেগুলোকে এমনভাবে বর্ণনা করতেন যেন তারা জীবন্ত কোনো সত্তা এবং তারা তাঁর সাথে কথা বলে। ...মানুষ যেমন মাউন্ট রেনিয়ার বা গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকে ভাষায় বর্ণনা করতে পারে না, জন মুইরও তেমনই ছিলেন। তাঁর প্রভাব মানবজাতিকে প্রভাবিত করেছে এবং আগামী প্রজন্মও তাঁর কাজ থেকে অনুপ্রেরণা পাবে। এই অসাধারণ মানুষটি তাঁর মানবিক সহানুভূতি এবং প্রতিভা দিয়ে চিরকাল পৃথিবীকে প্রভাবিত করবেন।
- রবার্ট বি. মার্শাল।
- জন মুইর কাজের মধ্যে চিরন্তন আনন্দ খুঁজে পেতেন। এর রহস্য ছিল তাঁর হৃদয়ে, যেখানে একটি শিশু, একজন কবি এবং একজন শক্তিশালী মানুষের সত্তা মিলেমিশে এক হয়েছিল। ...প্রকৃতি বা জীবনের যা কিছু মহৎ, তার প্রতি মুইরের সম্মানবোধ তাঁর বন্ধু ও পরিচিতদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলত। আধ্যাত্মিক এবং বাস্তব—উভয় জগতেই তিনি যেখানে যেতেন সেখানেই সুন্দরের ছোঁয়া লেগে থাকত। মুইরের মতো মানুষেরাই আমাদের আধ্যাত্মিক বোধগুলো জাগিয়ে রাখেন যা আমাদের মহাবিশ্বের সৌন্দর্য বুঝতে সাহায্য করে। যারা জন মুইরকে ঘনিষ্ঠভাবে জানতেন, তারা তাঁর নম্রতা এবং প্রকৃতির সব প্রাণীর প্রতি তাঁর মমত্ববোধকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। প্রকৃতির একজন ব্যাখ্যাকারী হিসেবে তিনি যে নৈতিক ও কাব্যিক উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তা চিরকাল মানুষের প্রশংসার দাবিদার হয়ে থাকবে।
- উইলিয়াম ফ্রেডেরিক বাডে।
ভুলভাবে আরোপিত
[সম্পাদনা]- যখন কেউ প্রকৃতির কোনো একটি জিনিসকে আলাদা করে টান দেয়, সে দেখতে পায় যে এটি পৃথিবীর বাকি সবকিছুর সাথে যুক্ত।
- ভিন্ন রূপ: যেকোনো কিছু ধরে টান দিলেই দেখা যাবে যে তা মহাবিশ্বের অন্য সবকিছুর সাথে সংযুক্ত।
- এগুলো মূলত ১৯১১ সালে প্রকাশিত মুইরের 'মাই ফার্স্ট সামার ইন দ্য সিয়েরা' বইয়ের একটি উক্তির সারসংক্ষেপ। তাঁর প্রকৃত উক্তিটি উপরে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে: "আমরা যখন কোনো কিছুকে এককভাবে বেছে নেওয়ার চেষ্টা করি, তখন দেখি যে তা মহাবিশ্বের অন্য সবকিছুর সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে।" বিস্তারিত ব্যাখ্যা সিয়েরা ক্লাবের লিঙ্কে পাওয়া যাবে।
- বন্যপ্রকৃতির সাথে সঠিক সম্পর্ক তৈরি হলে... মানুষ বুঝতে পারত যে ব্যক্তিগত প্রয়োজনের বাইরে পৃথিবীর সম্পদ দখল করা কেবল ভারসাম্যহীনতাই তৈরি করবে। এটি শেষ পর্যন্ত সবার জন্য চরম ক্ষতি ও দারিদ্র্য বয়ে আনবে।
- এই বক্তব্যটি মুইরের নয়। এটি তাঁর জীবনীকার লিনি মার্শ উলফ রচিত 'সন অব দ্য ওয়াইল্ডারনেস: দ্য লাইফ অব জন মুইর' (১৯৪৫) গ্রন্থের ১৮৮ পৃষ্ঠায় পাওয়া যায়।
- মানুষ ঘোড়া কেনার সময় খুব সাবধানতা অবলম্বন করলেও বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে চরম অবহেলা করে।
- এটি জন মুইরের নয় বরং জন মেয়ারের উক্তি। আর্থার গ্রে সম্পাদিত 'টোস্টস অ্যান্ড ট্রিবিউটস' (১৯০৪) বইয়ের ১৫৪ পৃষ্ঠায় এটি রয়েছে।
- সমাজ কথা বলে আর সব মানুষ শোনে, পাহাড় কথা বলে আর জ্ঞানী মানুষ শোনে।
- এটি প্রায়ই কোনো উৎস ছাড়াই মুইরের নামে চালানো হয়। মুইরের প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত লেখাগুলোতে সমাজ নিয়ে অনেক তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ পাওয়া গেলেও এই বাক্যটি কোথাও পাওয়া যায়নি।
- বন্যপ্রকৃতি কেবল দেশীয় গাছপালা বা প্রাণীদের নিরাপদ আবাস নয়, এটি সমাজ থেকেও এক ধরণের মুক্তি। এটি এমন এক জায়গা যেখানে বাতাসের শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না। সেখান থেকে নক্ষত্র ও গ্যালাক্সি দেখা যায়, পাইন গাছের ঘ্রাণ নেওয়া যায় এবং একই সাথে আকাশ ও মাটি স্পর্শ করা যায়। এটি মরুভূমির বালুর ওপর দিয়ে হাঁটা এবং শহরের বাইরের জগত কেন এত সুন্দর তা উপলব্ধি করার জায়গা। সৌভাগ্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ শহরের ঠিক বাইরেই এমন বন্যপ্রকৃতি রয়েছে।
- এটি মুইরের উক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ এডুইন হাবল ১৯২৯ সালে একাধিক "গ্যালাক্সি"র অস্তিত্বের কথা প্রকাশ করেন, যা মুইরের মৃত্যুর ১৫ বছর পরের ঘটনা।
- "জীবনের সব পথের মধ্যে অন্তত কয়েকটা পথ যেন মাটির হয়।"
- তাঁর বইগুলো এবং 'মুইর অব দ্য মাউন্টেনস' ডিজিটাল কপিতে অনুসন্ধান করেও এই লেখাটি পাওয়া যায়নি। প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির 'জন মুইর পেপারসে' অনুসন্ধান করেও কোনো তথ্য মেলেনি। ইন্টারনেটে এটি মুইরের নামে প্রচলিত থাকলেও অনেক জায়গায় একে "বেনামী" হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই উক্তিটি মুইরের লেখার শৈলীর সাথে একদমই মেলে না।
- "আমি বনের গভীরে যাই নিজের মস্তিষ্ককে হারাতে এবং আত্মাকে খুঁজে পেতে।"
- এটিও মুইরের লেখার শৈলী থেকে অনেক দূরে। জন মুইরের ডায়েরি বা সিয়েরা ক্লাবের ওয়েবসাইটে তাঁর প্রকাশিত কোনো লেখায় এই উক্তিটি পাওয়া যায় না। এটি মূলত টি-শার্টের ওপর বেশি দেখা যায়, কোনো গবেষণামূলক উৎসে এর অস্তিত্ব নেই।
- "একটি বইকে মৌমাছির মতো ব্যবহার করো; ফুল থেকে মধু নেওয়ার মতো এর নির্যাসটুকু নাও কিন্তু বইটির কোনো ক্ষতি করো না।"
- এটিও মুইরের নিজস্ব কোনো উক্তি নয়। তাঁর কোনো গবেষণাপত্র বা প্রকাশিত লেখায় এর অস্তিত্ব নেই। এটি কেবল সোশ্যাল মিডিয়া, মৌমাছি পালন সংক্রান্ত একটি বই এবং একটি ব্লগে দেখা যায়। কোথাও কোথাও একে এমিলি ডিকিনসনের উক্তি হিসেবে দাবি করা হলেও কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস দেওয়া হয়নি।
- "নির্জনে বসে থাকা এবং স্রোত আর দেবদারু গাছের সুরের মাঝে নির্জনে চিন্তা করার মধ্যেই বন্যপ্রকৃতির সার্থকতা লুকিয়ে আছে।"
- এই উক্তিটি ইন্টারনেটে এবং কিছু বইয়ে মুইরের নামে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। তবুও মুইরের কোনো প্রকাশিত লেখায় এটি পাওয়া যায়নি। এটি সম্ভবত মুইরের চিন্তাধারা সম্পর্কে অন্য কারো বর্ণনা ছিল যা পরবর্তীতে ভুলভাবে তাঁর উক্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
জন মুইরের ভুল উদ্ধৃতিগুলো সম্পর্কে আরও জানতে এই পৃষ্ঠাটি দেখতে পারেন: http://vault.sierraclub.org/john_muir_exhibit/writings/misquotes.aspx
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]
- স্কটল্যান্ডের প্রবন্ধকার
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবন্ধকার
- স্কটল্যান্ডের দার্শনিক
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দার্শনিক
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃতিবিদ
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভিদবিজ্ঞানী
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশবাদী
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয়তাবাদী
- ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যক্তি
- উদ্ভাবক
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযাত্রী
- চিত্রশিল্পী
- ১৮৩৮-এ জন্ম
- ১৯১৪-এ মৃত্যু