জসীম উদ্দিন আহমেদ
অবয়ব
জসীম উদ্দিন আহমেদ (জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৩৩) বাংলাদেশের একজন ভাষা সৈনিক, পরমাণুবিজ্ঞানী ও লেখক। ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে তাকে একুশে পদক প্রদান করা হয়েছিল।[১]
উক্তি
[সম্পাদনা]- কানের পাশ দিয়ে বেশ কয়েকটি গুলি ব্যারাকের বারান্দায় বাঁশের চালায় বিঁধে গেল
- 'দৈনিক ভোরের কাগজ' পত্রিকা, মুক্তচিন্তা পাতা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
জসীম উদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- ছেলেটি আমার চেয়ে লম্বা পরনে ছিল সদ্য ইস্ত্রি করা খাকি রঙের প্যান্ট আর ডোরাওয়ালা সাদা শার্ট। পূর্বে তাকে চিনতাম না। পুলিশের গুলিতে পড়ে যাওয়ার পর তার তাজা খুনে সিক্ত হয়ে তাকে চিনতাম না। নাম আবুল বরকত। এই সেই আবুল বরকত যার আহ্ শব্দটি আজ ৫১ বছর ধরে আমার কানে একই আওয়াজ ধ্বনিত হয়। যার উরু থেকে কলকল ধারায় নির্গত রক্ত প্রবাহ একই তাজা রঙে আমার মানসে অহরহ ভেসে ওঠে। এই সেই আবুল বরকত যার রক্তমাখা দেহের স্পর্শ আমার বুকের অণু-পরমাণুতে নিয়ত অনুভব করি।
- 'দৈনিক ভোরের কাগজ' পত্রিকা, মুক্তচিন্তা পাতা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ [২]
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল মাতৃভাষার রণক্ষেত্র। পুলিশ থেকে সরিয়ে নিয়ে গেল। মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের দ্বিতীয় ব্যারাকের বারান্দার সে রক্তলেখা মুছে গেছে। ব্যারাকগুলোও কবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কিন্তু সে স্মৃতি মুছেনি, আজো জেগে আছে স্মৃতিপটের স্তরে স্তরে। সেই আত্মত্যাগ বিলীন হয়নি, নবীন হয়ে জেগে ওঠে বাঙালির অন্তরে অন্তরে।
- 'দৈনিক ভোরের কাগজ' পত্রিকা, মুক্তচিন্তা পাতা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ [৩]
- কালক্ষেপণ না করে আমি এবং আমার সলিমুল্লাহ হলের রুমমেট শাহজাহান ঢিলাঢিলিতে মারাতে শরিক হই। পুলিশ যত ধাওয়া করছিল ছাত্রদের ঢিল ছোড়া ততই বেড়ে চলেছে। বেলা তিনটা কি সাড়ে তিনটার দিকে বন্দুকের গুলির আওয়াজ। মাত্র তিরিশ ফুট দূরে তিনজন পুলিশ হাঁটু গেড়ে বসে বন্দুকের ট্রিগার চেপে আমাদের লক্ষ্য করে অবিরাম গুলি ছুড়ছে।
- 'দৈনিক ভোরের কাগজ' পত্রিকা, মুক্তচিন্তা পাতা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ [৪]
- একদম ফ্রন্টলাইনের পুলিশের সর্ব সন্নিকটে আমরা তিনজন। আমার বাম পাশে শাহজাহান, আর গা ঘেঁষে আমার ডান পাশে আর একজন। মুহ‚র্তে ধপাস করে আমার ডান পাশের ছেলেটি বারান্দার মেঝেতে পড়ে গেল। গুলি চলছে। ডানে তাকালাম। একবার আহ্! শব্দ করে দুই হাতে ভর দিয়ে নিজেকে পিছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। গুলি তার বাম পায়ের উরুর গোড়ায় লেগেছে। ইস্ত্রি করা খাকি রঙের প্যান্টে গুলির ছিদ্র দিয়ে কলকল করে রক্ত বের হচ্ছে।
- 'দৈনিক ভোরের কাগজ' পত্রিকা, মুক্তচিন্তা পাতা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ [৫]
- কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পেছন থেকে আরো দুতিনজন এসে আবুল বরকতকে ধরে। তারা এবং শাহজাহান তাকে দ্রুত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে নিয়ে যায়। পুলিশের প্রতি ক্রোধে আমি পাগলপ্রায়। দুটি ঢিল হাতে নিয়ে ফ্রন্টে দাঁড়ালাম। বন্দুকের আওয়াজ তখন থেমে গেছে। নিচের দিকে তাকালাম। বারান্দায় মেঝেতে বেশ জায়গা ছড়িয়ে রক্ত জমে আছে। তাকিয়ে রইলাম। ঢিল দুটি হাত থেকে পড়ে গেল। আমার মনের অবস্থা? এ প্রশ্নের উত্তর কোনো ভাষায় দেয়া যাবে না।
- 'দৈনিক ভোরের কাগজ' পত্রিকা, মুক্তচিন্তা পাতা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ [৬]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় জসীম উদ্দিন আহমেদ সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
- ↑ "একুশে পদকপ্রাপ্ত সুধীবৃন্দ" (PDF)। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ "কানের পাশ দিয়ে বেশ কয়েকটি গুলি ব্যারাকের বারান্দায় বাঁশের চালায় বিঁধে গেল" (PHP)। দৈনিক ভোরের কাগজ। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ "কানের পাশ দিয়ে বেশ কয়েকটি গুলি ব্যারাকের বারান্দায় বাঁশের চালায় বিঁধে গেল" (PHP)। দৈনিক ভোরের কাগজ। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ "কানের পাশ দিয়ে বেশ কয়েকটি গুলি ব্যারাকের বারান্দায় বাঁশের চালায় বিঁধে গেল" (PHP)। দৈনিক ভোরের কাগজ। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ "কানের পাশ দিয়ে বেশ কয়েকটি গুলি ব্যারাকের বারান্দায় বাঁশের চালায় বিঁধে গেল" (PHP)। দৈনিক ভোরের কাগজ। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ "কানের পাশ দিয়ে বেশ কয়েকটি গুলি ব্যারাকের বারান্দায় বাঁশের চালায় বিঁধে গেল" (PHP)। দৈনিক ভোরের কাগজ। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২০।